নিজস্ব প্রতিনিধি: শনিবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির বিশেষ সাধারণসভা সমিতির সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালস্থ প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম এবং সভা পরিচালনা করেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোরশেদ স্মাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে সভায় ১৯৩ জন বাস মালিক/সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভায় সমিতির আগামী ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ১৭ মার্চ-২০১৮ নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন হয়। আহবায়ক কমিটির আহবায়ক মো. গোলাম মোরশেদ, সদস্য যথাক্রমে শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, শেখ আলমগীর হাসান, শাহজাহান কবির ও একেএম মোতাহারুল হক সজল। সভায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিটির সদস্য এড. আ. বারী, এড. শেখ সাঈদুর রহমান ও আব্দুল কাদির ময়না।
এদিকে সাতক্ষীরা বাস টার্মিনালে সন্ত্রাসী হামলা ও অগঠনতান্ত্রিকভাবে সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে দাবী করে প্রতিবাদ সভাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় শহরের খুলনা রোড মোড়স্থ এলাকায় এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সাতক্ষীরা বাস মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সমিতির সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাণ নাথ দাশ, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান মহব্বত, সহ-সভাপতি শেখ মিরাজুল ইসলাম, জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, জেলা তাঁতীলীগের সভাপতি মীর আজহার আলী শাহিন, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হাসানসহ বাস মালিক ও শ্রমিকবৃন্দ। এসময় বক্তারা বলেন, ছাইফুল করিম সাবু’র নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সাতক্ষীরা বাস টার্মিনালের মালিক সমিতিতে একের পর হামলা ও ভাংচুর চালায়। ওই সাবু সমিতির কর্মকর্তাদের জিম্মি করে জোরপূর্বক সাধারণ সভা দিতে বাধ্য করেছে। যা অগঠনতান্ত্রিক ও অনিয়ম। গঠনতন্ত্রের ২৫(খ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বক্তারা আরো বলেন, অগঠনতান্ত্রিকভাবে সাধারণ সভায় ৩০/৩২জন মালিক নিয়ে তারা ওই সভা শেষ করেন। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মালিক সমিতির দুই তৃতীয়াংশ মালিকদের উপস্থিত রেখে সাধারণ সভার নিয়ম থাকলেও সাবু তা করতে দেয়নি। বক্তারা বলেন, সাধারণ সভা ডাকতে হলে কম করে ১৫দিন আগে আহবান করতে হয়। কিন্তু ওই মোনায়েম খান গত বৃহস্পতিবার সমিতিকে জিম্মি করে জোরপূর্বক সাধারণ সভার আহবান করেছিল। তা সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক বলে বক্তারা জানান। এছাড়াও কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলার এক আসামির ভাইকেও আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে বলে জানান তারা।

অনীকের নাগরিক স্মরণ সভায় কন্ঠশিল্পী আবু আফফান রোজ বাবুর কন্ঠে উচ্চারিত হলো তোমার সমাধি ফুলে ফুলে ঢাকা। স্তব্ধ স্থির একাডেমি মিলনায়তন যেনো আরেক বার ডুকরে কেঁদে উঠলো। শিল্পী মঞ্জুরুল হক গাইলেন যাবার আগে কিছু বলে গেলে না। কবিতার ভাষায় মিনা মিজানুর রহমান বললেন আকাশের অগনিত নক্ষত্রের মেলা থেকে খসে পড়লো একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র, সে তো অনীক আজিজ স্বাক্ষর। কেউ গাইলেন তুমি রবে নীরবে। কবি তৃপ্তি মোহন মল্লিক বললেন পৃথিবীর ধ্রুব সত্য বানী চিরন্তনী, সাম্যবাদ মৃত্যুতে প্রকট। তুমি ছিলে তুমি আছো। সংস্কৃতিকর্মী মুশফিকুর রহমান মিল্টন কবিতার শব্দে বললেন অনীক আজিজ স্বাক্ষর এমন যার নাম। ক্ষনিকের ছোঁয়া পেয়ে মোরা হারিয়ে ফেললাম।
ফুলে ফুলে ভরে উঠা অনীক আজিজের প্রতিকৃতি ঘিরে শিল্পকলা একাডেমির প্রবেশ পথ যেনো প্রস্ফুটিত বাগানে পরিনত হয়েছিল। অগনিত মানুষের পদচারনায় যেনো জীবন্ত হয়ে উঠেছিল প্রবেশ দ্বার। ২১ জানুয়ারি আত্মহননের অবিশ্বাস্য ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে ওঠা মানুষ কেবলই নীরবে অশ্রু মুছেছেন। হৃদয়ের গভীরে ক্ষত নিয়ে বারবার কেঁেদছেন। বাবা মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন ‘আমার আক্ষেপ আমার ছেলে মিছিলে আন্দোলনে সংগ্রামে মারা যায়নি কেনো। কেনো সে লড়াইয়ের ময়দানে একজন সৈনিক হিসাবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেনি। মা নাসরিন খান লিপি বলেন আমার ছেলের কোনো চাহিদা ছিল না। ছিল আমার প্রতি পাগলের মতো অফুরান ভালবাসা। বোন অদিতি আদৃতা সৃষ্টি কান্না জড়িত কন্ঠে জানালো আমাদের জীবন ছিল রাখী বন্ধনের মতো। আমাদের জীবন ছিল বন্ধুর মতো। স্মরণ সভায় শামীম পারভেজের ‘অনীক মানে যোদ্ধা’ ডকুমেন্টারিতে ফুটে উঠেছে অনীকের জীবন, তার সংগ্রাম, তার চলার পথ, তার আদর্শ, তার প্রকৃতি ও জীবনবোধ ও মানবপ্রেম। মাসুদুল হকের ছবিতে প্রস্ফুটিত হয়েছে প্রকৃতির প্রতি অনীকের ভালবাসার অন্তরঙ্গ চিত্র। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে এসে দৈনিক সত্যপাঠ সম্পাদক হারুনার রশীদ বলেন অনীক নিজেই প্রগতির সকল কাজে স্বাক্ষর করে গেছে। অনীক নিজেই একটি শিক্ষা, নিজেই একজন শিক্ষক। সাংবাদিক হাফিজুর রহমান মাসুম বলেন অনীক ছিল গনজগরণ মঞ্চের সম্মুখ সারির সংগঠক ও সার্বক্ষণিক কর্মী। অনীকের নিরহংকার চরিত্র আমাদের তরুণদের জন্য আদর্শ হতে পারে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.মোসলেমউদ্দিন বলেন অনীকের আদর্শের পথ প্রলম্বিত। অনীক একজন নিবেদিত সৈনিক। তার স্মরণে তৈরি হবে অনীক ট্রাস্ট। অনুভূতি ব্যক্ত করতে এসে কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন বলেন মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য। তুমি রবে নীরবে। ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ বলেন ‘আমরা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অভিন্ন অঙ্গিকারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। অনীকের আদর্শ আমাদের আদর্শ, অনীকের গনজাগরন মঞ্চ আমাদের মঞ্চ, অনীকের সব অঙ্গিকার আমাদের অঙ্গিকার, তা থেকে আমরা যেনো কেউ সরে না যাই। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন অনীক ছিল আমার নিকট প্রতিবেশি। ঢাকার মিছিলে সংগ্রামে তার পায়ে স্যান্ডেল নেই, হাতে ছিল ক্যামেরা। তাকে দেখে সাহস জাগে, কারণ অনীকরাই তো সমাজ পরিবর্তনের শক্তির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তিনি বলেন ‘তোমার স্বপ্ন গুলো পূরন হবে। দেশে বিপ্লব হবে। লাল পতাকার জয় হবে’।
