সর্বশেষ সংবাদ-
কালিগঞ্জের মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির হেমায়েত স্থায়ী বহিষ্কারসাতক্ষীরায় পৌরসভার বিল্ডিং কোড অমান্য করে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণের অভিযোগবাড়িতেই মজুত ছিল নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশ : র‌্যাবের অভিযানে ধরাসাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযানসাতক্ষীরায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে মতবিনিময় সভাসাতক্ষীরা জেলা বিএনপিতে টুটুলকে ঘিরে তৃণমূলে তৎপরতাসাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক দুই দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণের সমাপনীসাতক্ষীরায় টেপা মাছ খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অসুস্থ : ব্যবসায়ীর মৃত্যুডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিসাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক দুই দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

লাবসা জামাতের আমির নাশকতার আসামি শহিদুল মাদ্রাসার সুপার হতে চান !

মাহাফিজুল ইসলাম আককাজ: লাবসা ইউনিয়নের জামাতের আমীর মানিকহার দাখিল মাদ্রাসার সহকারি মৌলভী নাশকতা মামলার আসামী মো. শহিদুল ইসলাম এবতেদায়ী জুনিয়র অভিজ্ঞতা দেখিয়ে রাজনগর দাখিল মাদ্রাসার সুপার পদে চাকুরী নেওয়ার পায়তারা করছে। ইতিমধ্যে সে অভিজ্ঞতার সনদ জালিয়াতি করে সিনিয়র টাইম স্কেল গ্রহণ করেছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। বিগত কয়েক বছর আগে মাল্টি মিডিয়া পারপার্স নির্ভরতা গ্রুপের নাম করে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ ও হয়রানী করার অভিযোগ রয়েছে। সদরের লাবসা ইউনিয়নের থানাঘাটা গ্রামের রাজ মিস্ত্রী আব্দুস সামাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে সুকৌশলে ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এধরনের অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা ও দীর্ঘদিন হয়রানী করে আসছে। স্থানীয় কিছু আওয়ামীরীগ নেতাকে ম্যানেজ করে নাশকতা মামলার আসামী লাবসা ইউনিয়নের জামাতের আমীর হওয়া সত্বেও গা ফুলিয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সে নানা কুকর্ম করেও কিভাবে রাজনগর দাখিল মাদ্রাসার সুপার পদে যোগদান করার পায়তারা চালাচ্ছে? বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে রাজনগর দাখিল মাদ্রাসায় ম্যানেজিং কমিটি থেকে আওয়ামীলীগ নেতাদের বাদ দিয়ে জামাত নেতারা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কুঙ্খিগত করে রেখেছে এবং গোপনে শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদের উস্কানীমুলক প্রচারনার অভিযোগ ও রয়েছে। এব্যাপারে মাদ্রাসা কতৃপক্ষ ও সচেতন মহল নাশকতা মামলার আসামী ও জামাতের আমীর শহিদুলকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে জেলা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘বাঘি ২’ ছবির প্রথম গানেই বাজিমাত (ভিডিও)

শুরু থেকেই ছবিটি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। আর এর অন্যতম কারণ বলিউডের নব্য সেনসেশন টাইগার শ্রফ। অভিনেতার অতিমানবীয় পারফর্মেন্স ছবিটিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। পোস্টার আর টিজার-ট্রেলারেই অর্ধেক বাজিমাত। এবার রিলিজ হলো ছবিটির প্রথম গান। আর তাতেই পুরো বাজিমাত।

টাইগার শ্রফ আর দিশা পাটানির এই ছবিটির প্রথম গান ‘মুন্দিয়া’। যা ধারণা করা হয়েছিল, তা-ই। বিখ্যাত ভারতীয় ভাঙড়া গায়ক, গীতিকার ও কম্পোজার লাভ জানজুয়ার সুপারহিট ভাঙড়া নাম্বার ‘মুন্দিয়া তো বাচ কে’র রি-মিক্স এটা। দেশি পার্টি নাম্বার এর মতো করে করা হয়েছে এই মুম্বাইয়া কম্পোজিশনটি।

গানটি নতুন করে লেখা হয়েছে। নতুন কথা সাজিয়েছেন গিনি দিওয়ান আর রি-কম্পোজ করেছেন সন্দ্বীপ শিরোদকার। কোরিওগ্রাফি করেছেন রাহুল শেট্টি। দারুণ এই পার্টি নাম্বারটি সবার ভালো লাগবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট সবাই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র’

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে পরমাণু হামলা চালাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

জাতিসংঘের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তৃতায় বুধবার লাভরভ এসব কথা বলেন।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী ইউরোপজুড়ে কৌশলগত ও প্রচলিত অস্ত্র মোতায়েন করেছে। সেগুলোকে নিয়ে ন্যাটো জোটের বাইরের দেশগুলোসহ ইউরোপের অন্য দেশের সঙ্গে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি জানান, এ ধরনের তৎপরতা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির লঙ্ঘন। পরমাণু অস্ত্র নেই এমন দেশকে মহড়ায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করে তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ল্যাভরভ আরও বলেন, ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে পরমাণু হামলা চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনী ইউরোপের দেশগুলোকে প্রস্তুত করেছে। ইউরোপের দেশগুলোতে মার্কিন পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন কেবল স্নায়ুযুদ্ধের সূত্রপাত নয় বরং আগ্রাসী অবস্থান।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশের নতুন কোচ রিচার্ড পাইবাস

ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা ভালোভাবেই বুঝেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য একজন কড়া হেডমাস্টারই দরকার। যিনি শক্তহাতে ক্রিকেটারদের নিয়ন্ত্রণ করবেন। যেমনটা করেছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। শ্রীলঙ্কা সিরিজের পরপরই বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছিলেন, ‘খুব দ্রুতই জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ করা হবে।’

বিসিবি প্রেসিডেন্টের সেই ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কোচ নির্ধারণ করে ফেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সাবেক কোচ রিচার্ড পাইবাসকেই আবার নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বিসিবি। বোর্ডের একটি বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে এ খবর। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে বোর্ডের তরফ থেকে। নিদাহাস ট্রফির পরই বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেয়ার সম্ভাবনা বেশি পাইবাসের।

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে পদত্যাগ করার পরই কোচের খোঁজে নামে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। শুরুতেই বিসিবির পছন্দের তালিাকয় ছিলেন রিচার্ড পাইবাস। সঙ্গে ক্যরিবীয় ক্রিকেট কোচ ফিল সিমন্সও আসেন সাক্ষাৎকার দিতে। বিসিবি রিচার্ড পাইবাসকেই প্রায় নির্দিষ্ট করে ফেলেছিল; কিন্তু ক্রিকেটারদের ঘোর আপত্তি ছিল তাকে নিয়ে। কারণ, চন্ডিকা হাথুরুসিংহের মতই কঠোর প্রকৃতির মানুষ পাইবাস। কড়া হাতে শাসন করেন তিনি ক্রিকেটারদের।

এ কারণে বোর্ডের কাছে ক্রিকেটাররা পাইবাসের সম্পর্কে আপত্তি জানায়। তারা চেয়েছিল ফিল সিমন্সকে। যিনি কি না ক্রিকেটারদের বন্ধুতে পরিণত হন। মিশে যান ক্রিকেটারদের সঙ্গে। পাইবাস কিংবা হাথুরুসিংহের পুরোপুরি উল্টো চরিত্রের। একেবারে নরম প্রকৃতির। বিসিবিও হঠাৎ করে তাই এমন কোচ নিয়োগ দেয়া থেকে বিরত থাকে।

এরই মধ্যে চলে আসে ত্রিদেশীয় সিরিজ, টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ক্রিকেটাররা বিসিবি সভাপতির কাছে আবেদন জানান, এই সিরিজ এবং টুর্নামেন্টগুলো তারা নিজেরাই নিজেদের পরিচালিত করতে চায়। তারা দেখিয়ে দিতে চায়, দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সাফল্য আনা সম্ভব। যে কারণে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে খালেদ মাহমুদ সুজনকে দায়িত্ব দিয়ে কোচের ভুমিকা দিয়ে দেয়া হয় মাশরাফি এবং সাকিব আল হাসানকে।

ফলাফল, ঘরের মাঠে পুরোপুরি ভরাডুবি ঘটেছে বাংলাদেশের। ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতে কিছুটা দুর্বার থাকলেও শ্রীলঙ্কার কাছে এক ম্যাচে ৮২ রানে অলআউট হয়ে ১০ উইকেটে হারার পর পুরো এলোমেলো হয়ে যায় টিম বাংলাদেশ। যেখান থেকে বের হতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে ফাইনালে হার, টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে  চূড়ান্ত ভরাডুবি ঘটেছে বাংলাদেশের।

বিসিবি সভাপতি এই সিরিজ দিয়েই বুঝেছেন, বাংলাদেশের জন্য কেমন কোচ দরকার। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, একজন কড়া কোচ না হলে দলকে ঠিক রাখা যাবে না। সে মতেই রিচার্ড পাইবাসকেই পরবর্তী কোচ হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

পাইবাস এর আগেও ছিলেন বাংলাদেশের কোচ। তবে মাত্র ৫ মাসের জন্য। ২০১২ সালের ৩০ মে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান পাইবাস। ৫ মাস কাজ করার পর চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তিনি সরে দাঁড়ান বাংলাদেশের কোচিংয়ের চাকরি থেকে। এবার নিশ্চয় তার চুক্তির বিষয়াধি কঠোরভাবে ঠিক করেই তিনি আসছেন বাংলাদেশে! সে সঙ্গে সাকিব-মাশরাফিরাও পেতে যাচ্ছেন আরেকজন কঠোর হেড মাস্টার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদ বৈধ

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নিজাম উদ্দিন হাজারীর পদে থাকার বৈধতা নিয়ে রিটের ওপর জারি করা রুল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার সংসদ সদস্য পদে থাকতে বাধা নেই। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর একক বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নিজাম উদ্দিন হাজারীর পদে থাকা নিয়ে রুল নিষ্পত্তির রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এদিন ঠিক করেন আদালত।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর একক বেঞ্চে মামলাটি কার্যতালিকায় উঠে। পরবর্তীতে ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি এই কয়েকদিন শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়।

আদালতে নিজাম হাজারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও নুরুল ইসলাম সুজন। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন কামরুল হক সিদ্দিকী ও সত্যরঞ্জন মন্ডল।

গত ৩০ জানুয়ারি রিট আবেদনকারীর আইনজীবী সত্য রঞ্জন মন্ডল জানিয়েছেন, বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে নিজাম হাজারীর আইনজীবী শুনানি করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বিচারপতি বিব্রতবোধ করেন।

এরপর রিটের নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর পর তিনি বিচারপতি মো.আবু জাফর সিদ্দিকীর বেঞ্চে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য পাঠিয়েছেন বলে জানান সত্য রঞ্জন মন্ডল।

গত ১৫ জানুয়ারি বিচারপতি ফরিদ আহমেদের হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এ মামলার শুনানিতে বিব্রতবোধ করেন।

২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর নিজাম হাজারীর পদে থাকার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের বিভক্ত রায় দেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. এমদাদুল হক তার রায়ে রুল মঞ্জুর করে নিজাম হাজারীর পদে থাকাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আর কনিষ্ঠ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান এ বিষয়ে করা রিট ও রুল খারিজ করে দেন। অর্থাৎ তার রায়ে নিজাম হাজারীর এমপি পদ বৈধ।

এরপর আইন অনুসারে রিট আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে গেলে তিনি একক বেঞ্চের কাছে পাঠান। পরবর্তীতে কয়েকটি একক বেঞ্চ বিব্রতবোধ করেন। ২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু দুই বছর ১০ মাস কম সাজা খেটে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি’।

পরে এই প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।

রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ৮ জুন রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট এ রুলের শুনানি শেষে ১৭ আগস্ট সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর পদ থাকবে কি-না, সে বিষয়ে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

তবে বিচারিক আদালতের একটি নথি না আসায় রায়ের দিন পিছিয়ে ২৩ আগস্ট ধার্য করা হয়। পরে কয়েক দফা পিছিয়ে ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।

সে হিসেবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য হতে পারেন না। অথচ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় জামায়াতের ২কর্মীসহ আটক ৩৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় নাশকতার পরিকল্পনাকালে জামায়াত ২ কর্মীসহ ৩৯জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১১ জন, কলারোয়া থানা ৪ জন, তালা থানা ২ জন, কালিগঞ্জ থানা ৩ জন, শ্যামনগর থানা ৫ জন, আশাশুনি থানা ৪ জন, দেবহাটা থানা ৪ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৩জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে, জামায়াতের ২ জন নেতাকর্মী রয়েছে। এসময় ১০০ বোতল ফেন্সিডিল এবং ২০০ গ্রাম গাজা উদ্ধার করে পুলিশ।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান। আটককৃত অন্যান্যদের বিরুদ্ধে নাশকতা, মাদকসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সমাপনী পরীক্ষায় চার পরিবর্তন

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ী পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে শতভাগ কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতিতে (সৃজনশীল) প্রশ্ন প্রণয়ন, নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা বাতিল, নতুন সফটওয়ারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে প্রশ্ন বিতরণ, আগের চেয়ে প্রশ্নসেট বেশি ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার প্রায় প্রতিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে সারাদেশে সৃষ্টি হয়েছে বির্তক। এ কারণে সমাপনী-ইবতেদায়ি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আরও সর্তকতা অবলম্বন করছে মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাসিক সমন্বয় সভায় পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নপত্র থেকে এমসিকিউ (নৈর্ব্যক্তিক) বাদ দিয়ে রচনামূলক কী কী প্রশ্ন যুক্ত করা যায় সে বিষয়েও কাজ শুরু হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষানীতি অনুযায়ী শতভাগ সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা আয়োজন, প্রশ্ন বিতরণের সময় প্রশ্নপত্র যেন ফাঁস না হয় সে কারণে সফটওয়ারের মাধ্যমে ৮ দিনের মধ্যে প্রশ্ন বিতরণ (আগে ২৫ দিন সময় প্রয়োজন ছিল) করা হবে, ৬ সেট প্রশ্নপত্রের বদলে ৮ সেট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরসহ প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি সভায় মন্ত্রী মোস্তফিজুর রহমান ফিজার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় নৈর্ব্যত্তিক বা বহু নির্বাচনী প্রশ্ন তুলে দেওয়া সমীচীন হবে উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রশ্নপত্র ছাপানোর ক্ষেত্রে বিজি প্রেসের বিকল্প আরেকটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চলতি বছরের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) থেকে চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার এমসিকিউসহ (নৈর্ব্যতিক) প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বিভাজের রূপরেখা সারাদেশের স্কুলগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এই আদেশ জারির মাত্র ৮ দিন পর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে এমসিকিউ (নৈর্ব্যতিক) পদ্ধতি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, নানা পর্যবেক্ষণে নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্নফাঁস হওয়ার ঘটনা জানা গেছে। এ কারণে আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ (নৈর্ব্যত্তিক) অংশ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নৈর্ব্যত্তিক বাদ দিয়ে কোন ধরনের রচনামূলক প্রশ্ন যুক্ত হবে তা নির্ণয় করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুয়ায়ী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর নেপকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠকে পাবলিক পরীক্ষা থেকে এমসিকিউ বাদ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। সেই মোতাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পিইসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে এমসিকিউ অংশ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে এমসিকিউ অংশ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. কায়কোবাদ এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে না পেরে এমসিকিউ পদ্ধতি উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হয়নি। সারা পৃথিবী যেখানে এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হয় সেখানে আমরা এটা পারছি না। কেন পারছি না?

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে পরীক্ষায় এমসিকিউ অংশ রয়েছে এবং ভালো ফলাফলও দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এটি ভালো নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি এ পদ্ধতি মুখস্থবিদ্যাকেও বাড়িয়ে তুলছে। এখন এ পদ্ধতি (নৈর্ব্যত্তিক) তুলে দেওয়ায় ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনতে পারে।

তথ্যমতে, প্রাথমিকের ৬টি বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ২০, গণিতে ২৪, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০, প্রাথমিক বিজ্ঞানে ৫০ এবং ধর্ম বিষয়ে ৫০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র রয়েছে। কিন্তু নতুন নির্দেশনার আলোকে এমসিকিউ বাদ দিয়ে এসব জায়গায় রচনামূলক প্রশ্ন যুক্ত করা হবে।

এদিকে অন্যান্য সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও সমাপনী পরীক্ষায় নৈব্যত্তিক বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষকসহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পড়ছেন বিপাকে। তারা বলছেন, বুঝে ওঠতে পারছি না, ৯ মাস পরে ঠিক কোন পদ্ধতিতে চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

একাধিক শিক্ষক বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ভেবেচিন্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না। আর ভুলের খেসারত দিতে হয় আমাদের মতো শিক্ষকদের। ৯ মাস আগে পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার হলে আমরা এই সময়ের মধ্যে বাচ্চাদের কিভাবে গড়ে তুলব?

রাজধানী মতিঝিল এলাকার বাসিন্দা অভিভাবক জহিরুল ইসলাম বলেন, গত বছর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা হবে না। এই সিদ্ধান্ত জানানোর তিনদিন পরে মন্ত্রণালয় থেকে আবারও ঘোষণা দেয়া হয়, সমাপনী পরীক্ষা হবে। এবার বলছে এমসিকিউ থাকবে না। এমসিকিউ পরীক্ষা হবে না ভালো কথা, কিন্তু এটি ৯ মাস আগে কেন বলবে? ভেবেচিন্তে আরও আগে বলা উচিত ছিল। এমসিকিউ বাদ দিলেই কি প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না?

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মন্ত্রীর টেবিলে ঘুষবাণিজ্যে চিহ্নিত ১১৭ কর্মকর্তা-শিক্ষকের নাম

অনলাইন ডেস্ক:  কতিপয় অসাধু শিক্ষক, জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং দালালদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ঘুষ-বাণিজ্যে সিন্ডিকেট চিহ্নিত হয়েছে। এমপিওভুক্তিতে জড়িত এই সিন্ডিকেটভুক্ত ১১৭ জন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারির তালিকা তৈরি করেছে সরকারের একটি তদন্ত সংস্থা। যথাযথ ব্যবস্থার সুপারিশসহ ওই প্রতিবেদনটি এখন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের টেবিলে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সম্প্রতি তালিকা করে ব্যবস্থা নিতে নামগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। একটি কপি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককেও দেয়া হয়েছে। তালিকা পেয়ে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে বদলি করা হয়েছে। বাদবাকীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।

সংস্থার প্রতিবেদনে  উল্লেখ রয়েছে, এমপিওর কাজে এক একজন শিক্ষক বা কর্মচারীকে ন্যূনতম ৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দেয়ার তথ্য। টাকা না দিলে হয়রানির শিকার হতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে এমপিওভুক্তির কাজ মাঠ প্রশাসনে ছেড়ে দেয়ার পর এই ঘুষ বাণিজ্য রাতারাতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

শিক্ষকরা উৎকোচের শিকার হওয়ায় প্রকারান্তরে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা আনতে তদন্ত সংস্থাটি ৫ দফা সুপারিশ করেছে। চিহ্নিত ১১৭ জনের মধ্যে ৮৬ জন জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। ৬ জন বিভাগীয় উপপরিচালক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন দফতরের ১৬ জন কর্মচারীও আছে। সিন্ডিকেটে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রধানরাও আছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার এক মাস পর এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে বদলি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তালিকা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাভেদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এমপিওভুক্তিতে দুর্নীতি করার দায়ে কিছু কর্মকর্তার নামের একটি তালিকা আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পেয়েছি। তালিকাটি পর্যালোচনা করছি। অপরাধী কেউ রেহাই পাবে না। অপরাধ অনুযায়ী অভিযুক্তদের ক্লোজড, বদলি, ওএসডি, শোকজসহ নানারকমের ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সংস্থাটির প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী এমপিও প্রার্থীর নাম-পরিচয় এবং প্রমাণ হিসেবে মোবাইল নম্বরও দেয়া হয়েছে। উল্লেখ আছে ঘুষের পরিমাণ। দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় কতদিন ঘোরানো হয় ইত্যাদি বিষয়ও এতে বলা হয়েছে। তবে ব্যতিক্রমও আছে। কিছু জায়গায় কে অভিযুক্ত তা অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। সেসব ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট অফিস যে দুর্নীতিপ্রবণ সে বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, শিক্ষা খাতে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নানা মাধ্যমে শিক্ষা বিভাগের বড় কর্তাদের কাছে পৌঁছায়। কিন্তু তারা কারও বিরুদ্ধে তেমন ব্যবস্থা নেন না। গত ৯ বছরে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার তেমন নজির নেই। এক বছর আগে মাউশির কয়েকজন আঞ্চলিক পরিচালকের বিরুদ্ধে এমপিও-দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও ‘তিরস্কার’র মতো লঘুদণ্ড দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, কয়েক মাস পর সেই লঘুদণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে একজনকে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। শিক্ষা প্রশাসনে বদলিকে শাস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে কোনো বিষয়ে বড় ধরনের সমালোচনা উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বদলি ছাড়া অন্য কোনো ‘শাস্তি’ না দেয়ার রেওয়াজই চলে আসছে শিক্ষা প্রশাসনে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘আমি এবারের (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তালিকা ধরে) পদক্ষেপ নেয়ার আগে ঘোষণা করেছি, যে বা যারা তদবির করাবেন, তার বা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো তালিকায় ১৮ জন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নাম আছে। এদের মধ্যে দু’জন আছেন যারা বর্তমানে পিআরএলে আছেন। একজন আছেন সাবেক ডিইও। এই তালিকায় আরও ৬৮ জনের নাম আছে। যাদের মধ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা অফিসের পরিদর্শক, একাডেমিক সুপারভাইজার, প্রোগ্রামারসহ বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নামও আছে। এ তালিকায় রংপুরের একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, গোপালগঞ্জের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং বরিশালের একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের নাম আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিসের সিন্ডিকেটে বড় ভূমিকা পালন করেন সেখানের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, স্টেনো-টাইপিস্ট ও অফিস সহকারী, নৈশপ্রহরী পর্যায়ের কর্মচারীরা। কোথাও আবার একশ্রেণীর অসাধু অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক এমনকি শিক্ষক নেতা এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য দালালের ভূমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এমন ১৬ কর্মচারীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তারা কোথায় কি করেছেন সে বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest