ন্যাশনাল ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে ভাতা চালু থাকলেও তার সরকার ভাতানির্ভর জাতি গড়তে চায় না। কর্মোক্ষম সবাই কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করবে এটাই তার চাওয়া। তবে সমাজে যেন কোনো বৈষম্য না থাকে সে ব্যাপারে সচেষ্ট তার সরকার।
মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় সমাজসেবা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। পরে শেখ হাসিনা এই দিবসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
সরকার বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ সমাজে বিভিন্ন স্তরে ভাতা দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভাতা দেয়ার একটি লক্ষ্য আছে। কেউ যেন এই ভাতার ওপর নির্ভরশীল না হয়। এজন্য আমরা বেশি পরিমাণে ভাতা দিতে চাই না যার কারণে হাত গুটিয়ে বসে থাকে।’ তবে কেউ যেন ক্ষুধার্ত কিংবা অবহেলার শিকার না হয় সে দিকে তার সরকার বিশেষ লক্ষ্য রাখছে বলে জানান তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সুশীল সমাজের যারা ভাতার পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তাদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলেন এই সামান্য ভাতা দিয়ে সংসার কীভাবে চলে। আমরা কারও সংসার চালানোর দায়িত্ব নেব না। সংসার যার চালাবে সেই। আমরা শুধু অসহায়দের সহযোগিতা করতে চাই। কেউ যেন অভুক্ত ও অবহেলার শিকার না হয় সে দিকে আমাদের লক্ষ্য।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই সবাই কর্মমুখর হয়ে উঠুক। কেউ যেন ভাতার দিকে তাকিয়ে না থাকে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগে প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেয়া হতো না। তিনি সরকারে আসার পর এই ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। সরকার ৮০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ভাতা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া শিশু-কিশোর, নারী, প্রতিবন্ধীসহ সমাবের সব স্তরের মানুষের সুরক্ষায় সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।
সমাজে কেউ অবহেলিত থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের মর্যাদা দিয়েছি। তাদের শিক্ষা, ট্রেনিং ও ভাতার ব্যবস্থা করেছি। হিজড়াদের সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে লাগানো যায় বলে মত দেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির জনকের দেখানো পথে আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই। তবে সেই উন্নয়নটা সবার জন্য হতে হবে সমানভাবে।’ এ সময় তিনি ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সোমবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, পাঠ্যপুস্তক দিবস ২০১৮ বই উৎসব বেলুল ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা- ০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে মোট ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৯ কপি পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বই ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪২৮ কপি এবং প্রাথমিক স্তরের বই ১১ কোটি ছয় লাখ এক হাজার ৫২১ কপি। সাতক্ষীরা জেলায় মাধ্যমিক স্তরে ২০লক্ষ ৫৭ হাজার ৯০ সেট বই এবং সদর উপজেলায় ৪লক্ষ ২০ হাজার সেট বই বিতরণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১লক্ষ ৪০ হাজার ৬শ’ ৬১ সেট বই এবং ৩৩ হাজার ৩শ সেট বই বিতরণ করা হচ্ছে। আজকে খুব আনন্দের দিন। নতুন বই মানে আলাদা আনন্দ। উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষাই একমাত্র পন্থা। বিশ্বে এমন কোন দেশ নেই যেখানে বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন।’
