সর্বশেষ সংবাদ-
বাগেরহাটে নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বর ও নববধূসহ প্রাণ গেল ১৪ জনেরসখিপুর হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ: রোগীদের পচা খাবার- সময়মতো মিলছে না খাবারসাতক্ষীরা জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা কমিটির ত্রৈমাসিক সভাসাতক্ষীরায় কর্মের প্রতিশ্রুতি: বাংলাদেশে সরাসরি তহবিল এবং ঝুঁকি ভাগাভাগি এগিয়ে নেওয়া শীর্ষক সেমিনারশ্যামনগরে স্থানীয় অভিযোজন মেলা ও জলবায়ু সংলাপবিশিষ্টজনদের নিয়ে সাতক্ষীরা জামায়াতের ইফতার মাহফিলকালিগঞ্জে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে ১০ লাখ টাকা ছিনতায়ের অভিযোগসাতক্ষীরার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের সংগঠন স্বপ্নসিড়ির ইফতারজেনেভায় প্রবীনদের অধিকার সংক্রান্ত ওয়াকিং গ্রপের সভার অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় আশেক-ই-এলাহীসাতক্ষীরা ল স্টুডেন্টস ফোরাম এর ইফতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক আর নেই

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক আর নেই (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় আগস্ট থেকে হাসপাতালটিতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ১৩ ডিসেম্বর থেকে তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। মন্ত্রী প্রোস্টেট গ্লান্ডের সংক্রমণে ভুগছিলেন।

মৃত্যুকালে ছায়েদুল হক স্ত্রী ও পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মোহাম্মদ ছায়েদুল হক ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার নিয়ে মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত সে দায়িত্বপালন করেন। এর আগে তিনি খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালের ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জন্ম নেওয়া ছায়েদুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে মোট পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় সাইকেল চালকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। জনতা ঘাতক ট্রাকটি আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
নিহতের নাম আকবর আলী গাজী (৬০)। তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত সামাতুল্লাহ গাজীর ছেলে।
মৃতের স্বজনরা জানান, আকবর আলী গাজী শনিবার সকালে বাই সাইকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে উজিরপুর বাজারে যাচ্ছিলেন। সকাল আটটার দিকে পথিমধ্যে তেঁতুলিয়া বাজারে পৌঁছালে কালিগঞ্জ থেকে আশাশুনিগামী একটি পণ্যবাহি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় রাজাপুর নামক স্থান তেকে জনতা ঘাতক ট্রাকটি আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল মোমিন জানান, নিহতরে লাশ উদ্ধার ও ঘাতক ট্রাকটি আটক করে থানায় আনা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।#

১৬.১২.১৭

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালন

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস ২০১৭। শনিবার সকালে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে বিজয় দিবস উদ্যাপন কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে এবং শান্তির প্রতিক পায়রা উড়িয়ে মহান বিজয় দিসের উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা ০১ আসনের সংসদ সদস্য এড. মুুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য মিসেস রিফাত আমিন, জেলা পুলিশ সুপার মো.সাজ্জাদুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এন.এম মঈনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)মো.আব্দুল হান্নান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিশ^াস সুদেব কুমার, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমান, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল খালেক, এন.এস.আই সাতক্ষীরা উপ-পরিচালক আনিসুজ্জামান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম আনিছুর রহমান, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী জেলা প্রশাসক পত্মী মিসেস সেলিনা আফরোজ, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস.এম আব্দুল্লাহ আল-মামুন, আব্দুল করিম বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন খান লিপি, জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দীক, সদর উপজেলা কমান্ডার মো. হাসানুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার এস.এম ছায়েদুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম, সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেবাশিস সরদার, সাতক্ষীরা নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আমিনুর রহমান উল্লাস, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আবু জাফর মো. আসিফ ইকবাল, জেলা স্কাউটসের সম্পাদক এম ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, জেলা শিল্পকলা একাডেমী’র সদস্য সচিব শেখ মুসফিকুর রহমান মিল্টন, পৌর কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ- দৌলা সাগরসহ সরকারি- বেসরকারি অফিস আদালতের প্রতিনিধিগণ। দিবসটি উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর শনিবার প্রত্যুষে সাতক্ষীরা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৩১ বার তোপধনির মাধ্যমে কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮.১৫ মিনিটে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক কর্র্তৃক অনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। পুলিশ, বিএনসিসি, ব্য্টালিয়ান আনসার, কারারক্ষি, রোভার স্কাউট, বয়স্কাউট ও গালর্স গাইড ও শহরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের সমন্বয়ে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শণী, সকাল ১০টায় এবং স্টেডিয়াম ভবনে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ১০-১৫ মিনিটে শহিদ আব্দুর রাজ্জাকের মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন, সাড়ে ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস-২০১৭ উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সন্তানদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা, বেলা সাড়ে ১১টায় পৌর দীঘিতে সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জোহর নামাজের পর দেশের অব্যাহত সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মসজিদ, মন্দির গীর্জা ও প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, হাসপাতাল, জেলখানা, এতিমখানাসহ শিশুকেন্দ্রে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়, বিকালে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে প্রদর্শনী ভলিবল প্রতিযোগিতা ও কাবাডী প্রতিযোগিতা, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মহিলাদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক আলোচনা ও ক্রীড়ানুষ্ঠান, সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন একাদশ ও পৌরসভা একাদশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে, সৌখিন ফুটবল প্রতিযোগিতা। টেনিস মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বিজয় দিবস টেনিস প্রতিযোগিতা, মুক্তিযযুদ্ধ ভিত্তিক চলচিত্র প্রদর্শনী, আলোকসজ্জা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ,পুরষ্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ মহান বিজয় দিবস

আজ মহান বিজয় দিবস

কর্তৃক Daily Satkhira

ডেস্ক রিপোর্ট : আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবের দিন। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙ্গার এমন অনন্য ইতিহাস আর কোনো জাতির নেই।
ঢাকায় ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে এ দিনেই হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সেনা-শিরোমণি জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন, অস্ত্র সমর্পণ করে তার অনুগত সেনারা। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রথম প্রকাশ্য আত্মসমর্পণের ঘটনাও এটি।
পরাজয় মানতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। যাত্রা শুরু হয় মুক্ত-স্বাধীন লাল-সবুজ পতাকার বাংলাদেশের। কাল প্রবাহে কেটে গেছে ৪৬ বছর।
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে পূর্ব আকাশে যে সূর্যটি উদিত হয়েছিল তা ছিল বাংলাদেশের। বাঙালি জাতির বিজয়ের সূর্য। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণায় ২৬ মার্চ থেকেই বাংলাদেশ স্বাধীন আর যুদ্ধের ডাক। এ ভূখ-কে শ্বাপদ-সংকুল করে তুলেছিল যে হানাদার পাকিস্তানিরা, তাদের বিতারিত করতেই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে জাতি।
১৬ ডিসেম্বরের বিজয়ে সেই যুদ্ধে চিরশত্রুকে পরাজিত করার গৌরব। হাজার বছরের শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি। পদ্মা-মেঘনা-ব্রম্মপুত্র-যমুনাবাহিত বাংলা ব-দ্বীপের ৪ হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবের-অহঙ্কারের দিন আমাদের বিজয় দিবস।
অন্ধকার থেকে আলোর পথের সফল অভিযাত্রী, এ ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের মুক্তিকামী মানুষ, সেদিন প্রমাণ করেছিল, পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির চেতনা, প্রবল দেশপ্রেম আর সাহসের কাছে পরাক্রমশালী কোনো সশস্ত্রবাহিনীই কিছু নয়।
আর এমন অর্জনের পেছনের ইতিহাস মোটেই সুখকর ছিল না। শান্তিপ্রিয় ও নিরীহ মানুষের এই জনপদ কখনো মুঘল, কখনো পাঠান, আবার কখনো ছিল ব্রিটিশ শাসনের অধীন। ১৯৪৭-এ ব্রিটিশের কবলমুক্ত হয়েও, ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর শোষণ নিপীড়নের শিকার হয় বাঙালি। শুরু হয় দীর্ঘ সংগ্রাম।
প্রথমে ভাষার দাবিতে, তারপর স্বাধিকার, ধীরে ধীরে স্বাধীনতার আন্দোলন ও সবশেষ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে চূড়ান্ত মুক্তি সংগ্রামে এক সাগর রক্ত ঢেলে দেয় বীর বাঙালি। একাত্তরে দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বাঙালির কাছে নত হয় পাকিস্তানিরা।
বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত রাস্তায় নেমে আসে মানুষ। এক আওয়াজ.’জয় বাংলা’। সবার মাঝে বিজয়ের হাসি আর আনন্দাশ্রু। জনস্রোত ছুটছে এক গন্তব্যেÑ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে। যেখান থেকেই নয় মাস আগে জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব উচ্চারণ করেছিলেন মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সেই অঙ্গীকার।
রক্ত দিয়ে কেনা সেই মুক্তি, সেই স্বাধীনতা, পল্লবিত হলো রেসকোর্স ময়দানে। আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করলেন পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি। দেশময় ছড়িয়ে পড়লো বিজয়ের আনন্দ। আর এ বিজয়ই সারা বিশ্বে অনন্য।
সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে মুক্তিপাগল বাঙালির স্পৃহা একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণতা পায়, তা অবিনশ্বর রাখার দায়িত্বও লাল -সবুজের দেশের প্রতিটি নাগরিকের। এর সঙ্গে মিশে আছে মাতৃভূমির মুক্তি, দেশের জন্ম-ইতিহাস। সে চেতনাতেই উজ্জীবিত হতে হবে বারবার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৪৬ বছরে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে বাংলাদেশ

একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধে গৌরবদীপ্ত বিজয় অর্জিত হয়। কেড়ে আনা হয় লাল-সবুজের পতাকা, একটা মানচিত্র। ৫৫ হাজার বর্গমাইলের যে ভূখণ্ড স্বাধীন করা হয়, তা ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত বেহাল দশার এক বাংলাদেশ। মাঠ-ঘাট ছিল ফসলশূন্য, বিরানভূমি। ছিল ভাঙাচোরা কল-কারখানা, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জনশূন্য শহর-গ্রাম আর ঘরে ঘরে অনাহারক্লিষ্ট মানুষের শীর্ণ মুখ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে পা রেখেই বলেছিলেন, ‘এবার সোনার বাংলা গড়ে তোলার নতুন বিপ্লবের সূচনা করতে হবে। ’ কিন্তু দেশ গড়ার বিপ্লব ছিল প্রায় অসাধ্য ব্যাপার। একাত্তরে সদ্য স্বাধীন যে ভূখণ্ডকে পশ্চিমারা তলাবিহীন ঝুড়ি বলে টিপ্পনী কাটত, সেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের আশ্চর্য প্রদীপ। চার লেন মহাসড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, এলএনজি টার্মিনাল, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, পরিকল্পিত বহুমুখী বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে দেশজুড়ে। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরুর পর থেকেই একের পর এক মেগা প্রকল্প নিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে দেশ। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন গোটা দেশবাসীর জন্য গর্ব আর অহঙ্কারের পুঁজি এনে দেয়।

এ দেশেই আছেন ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। রয়েছেন এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীম, ওয়াসফিয়া নাজরীন, নিশাত মজুমদার, এম এ মুহিতরা। এভাবেই সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, পৌঁছে যাচ্ছে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে।এশিয়ার নতুন বাঘ বাংলাদেশ : বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উড়ন্ত সূচনায় রয়েছে। শিগগিরই দেশটি এশিয়ার নতুন বাঘ হিসেবে আবির্ভূত হবে। ’ দেশে রাজনৈতিক শান্তি বিদ্যমান থাকার পাশাপাশি জনপ্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবহন খাত ভিত গড়েছে উন্নয়নের। সমস্যা ছিল বিনিয়োগে। সেখানেও বইছে সুবাতাস। মাথাপিছু জাতীয় আয় বেড়ে ১,৩১৬ ডলার থেকে ১,৪৬৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে। উন্নতির রকম দেখে চমকে গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। বিশ্বের প্রভাবশালী সাময়িকী ইকোনমিস্ট বলেছে, ‘কী করে উন্নয়নের মডেলে পরিণত হওয়া যায় তা দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ’ এখন সারা বিশ্বই সমীহ করছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের এই বিপুল সম্ভাবনার নেপথ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ। চাষাবাদের জমি দিন দিন কমলেও ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির মতো বাড়তি ফসল উৎপাদন করছেন এ দেশের কৃষকরা। বিভিন্ন খাতে নিয়োজিত বিপুল শ্রমশক্তি তাদের শ্রমে-ঘামে বিনির্মাণ করছে বিস্ময়কর উত্থানের পটভূমি। প্রিয়জনদের ফেলে রেখে প্রবাসের নির্বাসনে শ্রম বিক্রি করে দেশে উন্নয়নের স্বপ্ন বুনছেন কোটি বাংলাদেশি। সামাজিক উন্নয়নে ভারতকেও পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বিদেশি বিনিয়োগের গতি সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এফডিআই বাড়ার মূল কারণ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ। প্রায় আড়াই বছর ধরে হরতাল-অবরোধ নেই। বিদ্যুৎ সরবরাহেরও উন্নতি হয়েছে। রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন হয়েছে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অনেক ভালো। এসব কারণে দেশের মেগা প্রকল্পগুলোও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করে তুলেছে।

চারদিকে সুখবরের ছড়াছড়ি : চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাগরের বুক চিরে জেগে উঠছে নতুন নতুন ভূখণ্ড। এর পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার। ১৪৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সন্দ্বীপের তিন পাশেই গড়ে ওঠা নতুন ভূমির পরিমাণ মূল সন্দ্বীপের প্রায় দ্বিগুণ। আবার নিঝুম দ্বীপ ছাড়াও চরকবিরা, চরআলীম, সাগরিয়া, উচখালী, নিউ ডালচর, কেরিং চরের আশপাশে আরও প্রায় ৫০ হাজার একরের জেগে ওঠা নতুন ভূমি স্থায়িত্ব পেতে চলেছে। নতুন এ ভূমি খুলে দিচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ ক্রমেই রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। রপ্তানি ক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি অপ্রচলিত পণ্যও রপ্তানি হচ্ছে দেদার। চা, চামড়া, সিরামিক থেকে শুরু করে মাছ, শুঁটকি, সবজি, পেয়ারা, চাল, টুপি, নকশিকাঁথা, বাঁশ ও বেতশিল্পের তৈরি পণ্য, মৃিশল্প রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। কয়েক বছর ধরে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পও বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে। খুলনার শিপইয়ার্ডে যুদ্ধজাহাজ পর্যন্ত নির্মাণ হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারসের (পিডব্লিউসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে শীর্ষ তিনটি দেশের একটি হবে বাংলাদেশ। শুধু তা-ই নয়, এ সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ভিত্তিতে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৩তম বড় অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চীন ও জাপান বাংলাদেশকে দেখছে ভবিষ্যতের বড় বিনিয়োগের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে।

নীরব বিপ্লব কৃষিতে : স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের যত অর্জন আছে, এর মধ্যে কৃষিতে অর্জন উল্লেখ করার মতো। একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে দিনদিনই কমছে আবাদযোগ্য জমি। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর চাল ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে। ধান, গম ও ভুট্টা উৎপাদনে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দেশের বিজ্ঞানীদের সফলতাও বাড়ছে। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) বেশ কয়েকটি জাত ছাড়াও পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা মোট ১৩টি প্রতিকূল পরিবেশসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন।

গড়ে উঠছে বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল : অর্থনৈতিক অঞ্চল সমুদ্র উপকূলীয় ফেনীর সোনাগাজী ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের চরাঞ্চলে গড়ে উঠছে সম্ভাবনার আরেক বাংলাদেশ। সেখানে চলছে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ। প্রায় ৩৫ হাজার একর আয়তনের এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ লাখেরও বেশি লোকের কর্মস্থানের সুযোগ হবে।

ক্ষুদ্র ও হালকা শিল্পে নজিরবিহীন বিপ্লব : সারা দেশেই নাগরিক চোখের আড়ালে ঘটে চলেছে এক অভাবনীয় বিপ্লব। দেশীয় প্রযুক্তির ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ উদ্ভাবন, উৎপাদন ও বাজারজাতে বদলে গেছে দৃশ্যপট। কদিন আগেও অতিপ্রয়োজনীয় যেসব যন্ত্রপাতি-মেশিনারিজ শতভাগ আমদানিনির্ভর ছিল, আজ দেশের চাহিদা মিটিয়ে সেসব রীতিমতো রপ্তানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত মেশিনারিজ এখন চীন-ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশ্ববাজারে ঠাঁই করে নিচ্ছে। ব্যক্তিপর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিজ নিজ প্রচেষ্টায় অভাবনীয় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ক্ষুদ্র ও হালকা শিল্পে ব্যতিক্রমী সাফল্যের মাধ্যমে কয়েক যুগ ধরেই দৃষ্টান্ত হয়ে আছে জিঞ্জিরা। এখানকার ঝুপড়ি বস্তির অজস্র কারখানায় খুদে ইঞ্জিনিয়ারদের তৈরি করা হাজারো পণ্যসামগ্রীর কদর রয়েছে সর্বত্র। দেশ-বিদেশে ‘মেইড ইন জিঞ্জিরা’ হিসেবে এর ব্যাপক পরিচিতিও আছে। রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর তীরঘেঁষা জিঞ্জিরা-শুভাঢ্যা জুড়ে দুই হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও হালকা শিল্প কারখানায় চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। সেখানে ১২ লাখ কারিগর-শ্রমিকের উদয়াস্ত পরিশ্রমে গড়ে উঠছে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত।

‘ধোলাইখাল ব্র্যান্ড’ : ইঞ্জিন-যন্ত্রাংশ, গাড়ির ছোট পার্টসসহ প্রায় ২০০ ধরনের মেশিনারিজ উৎপাদন ও বাজারজাতের বিরাট সম্ভাবনার খাত হয়ে উঠেছে ‘ধোলাইখাল ব্র্যান্ড’। এ শিল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত পাঁচ লক্ষাধিক লোকের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে এর মাধ্যমে। ধোলাইখাল ব্র্যান্ডের কারিগররা বাইসাইকেল থেকে শুরু করে সব ধরনের গাড়ি, ট্রাক্টর, ক্রেইন, রি-রোলিং মিল, এমনকি ট্রেনের বগিসহ যাবতীয় যন্ত্রাংশ অনায়াসে প্রস্তুত করছেন। বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহাবুবুল আলম বলেন, দেশের এ হালকা প্রকৌশল শিল্পে প্রায় তিন হাজার ৮০০ রকমের যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে ১৩৭টি আইটেম বিশ্বের ১৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

বিশাল সাফল্যের আউটসোর্সিং : ইন্টারনেটভিত্তিক অনলাইন আউটসোর্সিং বিশ্বব্যাপী শিক্ষিত তরুণ সমাজের কাছে জনপ্রিয় পেশা। বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে এ খাতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পাঁচ লাখের বেশি বাংলাদেশি আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত। আয় হচ্ছে প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আউটসোর্সিং থেকে বাংলাদেশের আয় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয় ৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ডলার হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আউটসোর্সিং থেকে আয় বেড়েছে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার। আয় বাড়ার এ হার ২৮ শতাংশের ওপরে। আউটসোর্সিংয়ের পাশাপাশি কম্পিউটার সেবা থেকেও আয় বাড়ছে।

স্বপ্নের দুয়ার খুলেছে ওষুধশিল্প : ওষুধশিল্প সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের স্বপ্নের স্বর্ণদুয়ার খুলে দিয়েছে। ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন। রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে এ শিল্প। এ খাতের প্রবৃদ্ধি বিস্ময়কর। এক সময়ের আমদানিকারক বাংলাদেশ এখন ওষুধের রপ্তানিকারক দেশের গৌরবে গৌরবান্বিত। দেশের উৎপাদিত ওষুধ অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে বিশ্বের ১৩৩টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

বিশ্বনেতৃত্বে বাংলাদেশ : দারিদ্র্য, অশিক্ষা, অপুষ্টিকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন শুধু এগিয়েই যাচ্ছে না, আন্তর্জাতিক নানা ক্ষেত্রে নেতৃত্বও দিচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের সংগঠন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি নির্বাচিত হন সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। ১২৫ বছরের বনেদি এ সংগঠনটি বিশ্বের সংসদীয় রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত। একইভাবে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর এমপিদের সংগঠন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টরি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ১৯৭৩ সালে কমনওয়েলথে যোগদানকারী বাংলাদেশ এবারই প্রথম নেতৃত্ব দেওয়ার কর্তৃত্ব পেয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের ৪৭ সদস্যের মর্যাদাপূর্ণ মানবাধিকার কাউন্সিল নির্বাচনেও উত্তীর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে ২০১৫-২০১৭ মেয়াদে নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল স্যাটেলাইট অর্গানাইজেশনের (আইএমএসও) মহাপরিচালক পদে নির্বাচিত হন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ক্যাপ্টেন মঈন উদ্দিন আহমেদ। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও রোমানিয়ার প্রার্থীদের পরাজিত করে নির্বাচিত হন তিনি।

বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বরাবরের মতো নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর হয়ে বিশ্বব্যাপী শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বাংলাদেশ। বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইসমত জাহান ‘নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য বিলুপ্ত কমিটি’র (সিডো) সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক ইনস্টিটিউট ফর ব্রডকাস্টিং ডেভেলপমেন্টের (এআইবিডি) নির্বাচনে দুই বছরের জন্য সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। রাসায়নিক অস্ত্রনিরোধী বিশ্ব সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনেরও নেতৃত্ব লাভ করেছে এ দেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ওপিসিডব্লিউসিতে স্থায়ী প্রতিনিধি শেখ মোহাম্মদ বেলাল ৪১ সদস্যের এই নির্বাহী পরিষদে ‘সর্বসম্মতভাবে’ নির্বাচিত হন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তেজগাঁওয়ে নিজ বাড়িতে বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা
রাজধানীর তেজ-গাঁওয়ের আরজত পাড়ায় নিজ বাড়িতে মিলু মিলরেট গোমেজ (৬৫) নামে এক খ্রিস্টান বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে খ্রিস্টান গলির ৩৮, আরজত পাড়ার তিন তলা বাড়ির তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটলেও পুলিশ খবর পায় চার ঘন্টা পরে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। এ ঘটনার পর নিহতের স্বামী ও বাড়ির মালিক হিউবার্ড অনিল গোমেজ (৭৮) কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অনিল গোমেজ ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাসের স্টোর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক।
পুলিশ জানিয়েছে ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে সে বিষয়ে ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী অনিল গোমেজ অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন বলে। আট কাঠা জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি দখলে নিতে কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। অনলি-মিলু দম্পতির চার ছেলের মধ্যে ৩ জন কানাডা ও ১ জন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। ওই ফ্ল্যাটে তারা দুজনই থাকতেন।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী সকাল ৭টায় ঘটনা ঘটলেও আমরা খবর পেয়েছি আনুমানিক ১১টার দিকে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই বাড়ির ছুটা বুয়া খুরশী বেগম এসে কাজ করার জন্য ভিতরে ঢুকতে ফ্ল্যাটের কল বেল চাপেন। দীর্ঘ সময় ধরে কল বেল বাজলেও ফ্ল্যাটের দরজা কেউ খোলেনি। অনেক ডাকাডাকির পর শব্দ পেয়ে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া অ্যাডভোকেট সুভাস চন্দ্র সাহা এসে ওই দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন।  এক পর্যায়ে অনি গোমেজ দরজা খুলে দেওয়ার পর ড্রইং রুমের মেঝেতে রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এরপর সকাল ১১ টার দিকে এক ব্যক্তি পুলিশের হ্যালো ৯৯৯ এ ফোন করে হত্যার ঘটনাটি জানায়। পুলিশ গিয়ে দেখতে পায় ড্রইং রুমের মেঝেতে রক্তাক্ত লাশ। নিহতের গলায় কাটা চিহ্ন ছাড়াও বুকে ছুরিকাঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। লাশের পাশ থেকে হত্যায় ব্যবহূত ধারালো ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জের উলুখোলা গ্রামে।
হত্যার খবর পেয়ে মিলু গোমেজের গ্রামের বাড়ি থেকে ভাই ও বোনের পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই সেখানে ছুটে আসেন। মিলুর ছোট বোন রিটা পেরেরা শেলী বলেন, ৭ বোন ও ৫ ভাইয়ের মধ্যে মিলু ছিলেন চতুর্থ। মিলুর চার ছেলের মধ্যে স্ট্যানলি গোমেজ, রবার্ট ক্লাইভ গোমেজ ও লিংকন গোমেজ কানাডা প্রবাসী। তারা সবাই বিয়ে করে সেখানে স্থায়ী নাগরিকত্ব নিয়েছেন। ছোট ছেলে মোজেস গোমেজ বছর দুয়েক আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিলু গাজীপুরের উলুখোলার পাউরান এলাকায় গিয়েছিলেন তাদের একটি নির্মানাধীন বাড়ি দেখতে। গতকাল সকাল পৌণে ৬ টার দিকে মিলু তার মোবাইল ফোনে কল করেছিলেন। ওই সময় তিনি চার্চে ছিলেন। তখন তার নাতি ফোন ধরেছিল। মিলু বলেছিলেন যে দুপুরে তিনি গাজীপুরের বাসায় আসবেন। তার আগেই তিনি খুন হয়ে গেলেন।
মিলুর ছোট ভাই হেনরি গোমেজ বলেন, মিলু ও তার স্বামী ৯ মাস কানাডায় থাকার পর গত অক্টোবরে দেশে ফিরেন। কানাডায় তাদের তিন ছেলে বার বার অনুরোধ করেছে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য। আগামী বছরের মধ্যে তাদের সব সম্পদ বিক্রি করে করে কানাডায় যাওয়ার কথা ছিল।
মিলুর ভাগ্নী অঝর পেরোরা বলেন, ফার্মগেটে ৭৯, গ্রিন রোডের ইউসিসি মার্কেটে তৃতীয় তলা তার খালার নামে ২টা ফ্ল্যাট কেনা আছে। আরজত পাড়ার ৮ কাঠা জমির ওপর তিন তলা বাড়িটি অনিলের নামে। এসব সম্পদ নিয়ে কারো সঙ্গে কোন দ্বন্দ্ব আছে কিনা- তা তারা জানেন না।
নিহতের নিকটাত্মীয় দুলাল ডি কস্তা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে তারা বাসায় মিলু ও অনিলের পাসপোর্ট ও জমির দলিল খুঁজে পাচ্ছেন না।
গতকাল বিকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে যায়, তিন তলার ওই ফ্ল্যাটে নিহতের পরিবারের নিকট আত্মীয়দের ভীড়। ড্রইং রুমের সোফায় বসে ছিলেন অনিল গোমেজ। বয়সের বারে একেবারে ন্যূব্জ হয়ে পড়েছেন। তার ডান চোখের নীচে রক্তের দাগ লেগে আছে। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন, ‘আমি সোফার এক দিকে বসেছিলাম। একজন এসে আমার মুখমণ্ডল কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে দেয়। পরে ছুরি দিয়ে মেঝেতে তাকে (মিলু) জবাই করা হয়। কল বেল চাপলে আমি দরজা খুলে দিই।’ আবার এ ব্যাপারে আরেক প্রশ্ন করা হলে তিনি অসংলগ্ন উত্তর দেন।
পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া অ্যাডভোকেট সুভাস চন্দ্র সাহা বলেন, তিনি এক বছর আগে এই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসাবে আসেন। বাড়িতে কোন সিকিউরিটি গার্ডও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কোন সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়নি।
পুলিশের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, অনিলের শরীরের রক্তের দাগ রয়েছে। ঘাতকরা যদি তার সামনে স্ত্রীকে হত্যা করে, তাহলে কেনইবা অনিলকে ছেড়ে দিল। আবার হত্যার ঘটনা ঘটার পরও অনিল কেনইবা বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করেছিল-তা নিয়েও রহস্য রয়েছে। এছাড়া বাহির থেকে কেউ ঢুকে হত্যা করেছে কিনা তা নিয়েও স্পষ্ট কোন তথ্য অনিল দিতে পারেননি। বয়স বিবেচনায় অনিলকে পুলিশের নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অনিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ট্রাম্প আন্তর্জাতিক গুণ্ডা : মাহাথির

ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতির ঘোষণা দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তর্জাতিক ভাড়াটে গুণ্ডা আখ্যা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

শুক্রবার মাহাথিরের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

মাহাথির বলেন, ‘আজ আমরা একজন আন্তর্জাতিক মাস্তানকে দেখছি। ট্রাম্প, যান, নিজের মতো কাউকে খুঁজে বের করুন। এ সিদ্ধান্ত (জেরুজালেমের স্বীকৃতি) কেবল মুসলিম ক্ষোভকেই বাড়িয়ে দেবে। ’

সব মুসলিম দেশকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়ে মাহাথির বলেন, ‘এ খলনায়ক যিনি কিনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, তাকে ঠেকাতে আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের সব ক্ষমতা ব্যবহার করতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যৌন নিগ্রহের অভিযোগে আত্মঘাতী রিপাবলিকান নেতা

পাঁচ বছর আগে এক কিশোরীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’র সদস্য কেন্টাকির রিপাবলিকান সেই নেতা ড্যান জনসন মারা গিয়েছেন। তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

কেন্টাকির বুল্লিট কাউন্টির মাউন্ট ওয়াশিংটনের কাছে তার দেহ উদ্ধার হয়েছে। তার দেহে ছিল একটা গুলির আঘাত। মরদেহের পাশে পড়ে ছিল ৪০ ক্যালিবারের সেমি অটোম্যাটিক হ্যান্ডগান।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ড্যান লুইসভিলের দক্ষিণপূর্বের একটি এলাকায় গিয়েছিলেন গাড়ি চালিয়ে। তার পর সেখানে গাড়ি পার্ক করেন। গাড়ির সামনেই গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হন। তার কিছু ক্ষণ আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ এবং খাপছাড়া এক বার্তায় জানান, তিনি যৌন নিগ্রহ করেননি।

পরিবারের বাকিদের বলেন, তার স্ত্রীর পাশে থাকতে।
এই পোস্ট দেখেই আত্মীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশকে জানান। সেই খবরে পুলিশ খোঁজ শুরু করে তার দেহ উদ্ধার করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest