সর্বশেষ সংবাদ-

অস্থিতিশীল রাখাইনে জাতিসংঘের নিবিড় পর্যবেক্ষণ চায় বাংলাদেশ

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতার সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে জাতিসংঘ ‍নিরাপত্তা পরিষদকে সেখানকার ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ’র আওতায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার রাখাইন সহিংসতা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উত্তর ও মধ্য রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে আবারও আগুন দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন। এর মাধ্যমে ওই এলাকার পরিস্থিতির স্বাভাবিকতা ও স্থিতিশীলতা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।

২৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে একটি চুক্তিতে সই করেন। এতে বলা হয়, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে ২ মাসের মধ্যে প্রত্যাবর্তন শুরু করা হবে। নাম-পরিচিতিমূলক ফরম পূরণ করে, পরিচয়ের প্রমাণপত্রসহ তা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। প্রত্যাবাসনের ভিত্তি হবে ১৯৯২-৯৩ চুক্তি।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তিতে খুবই কম সুযোগ রাখা হয়েছে। যে কারণে এমন ‘পরিকল্পিত জাতিগত নিধন’ হয়েছে সেই দীর্ঘস্থায়ী সংকটটির আসল কারণ বিষয়ে কিছুরই উল্লেখ নেই। এমনকি চুক্তিটি যদি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়ে থাকে তাহলেও সেখানে ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য বা দীর্ঘ মেয়াদে থাকার কোনও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি। বক্তব্যে স্বাধীনভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের চাহিদা নিরুপণ করে সহায়তা ও নিরাপত্তা দিতে আক্রান্ত এলাকায় মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে অবাধ ও দীর্ঘমেয়াদে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার দাবিও জানান জাতিসংঘের বাংলাদেশ দূত।

এ বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ চালানো শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই সেনা অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেছে। নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ও মানবতার পক্ষের মানুষেরা। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সরকার ও সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের বৈঠকেও মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মানবাধিকার রক্ষার নামে বিভিন্ন কৌশলে তাদের বিরুদ্ধে ‘বৈষম্যমূলক ও একতরফা’ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে আপত্তি তোলেন।

জাতিসংঘ বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাউ দো সুয়ানের উদ্দেশে মোমেন বলেন, বাংলাদেশ সরকার যে কোনও ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিপক্ষে পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছে। ‍তিনি বলেন, ‘যদি কোনও অপরাধীর বিরুদ্ধে সঠিক প্রমাণ থাকে তাহলে যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মোমেন বলেন, রাখাইন রাজ্যের সমস্যার মূল কারণ নির্ধারণ করে টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশগুলো মিয়ানমার সরকার মেনে নিয়েছে। সরকার উপদেষ্টা কমিশন ও মঙগু আঞ্চলিক তদন্ত কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নেও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের সহকারী রাষ্ট্রদূত জোনাথান অ্যালেন বলেন, ‘শরণার্থীদের স্বেচ্ছায় ফিরে আসার বিষয়ে ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই স্বাধীনভাবে চলাফেরা, মৌলিক সুবিধা ও জীবিকাসহ রোহিঙ্গাদের সব অধিকারকে সম্মান করতে হবে। তাদের দীর্ঘদিন শরণার্থী ক্যাম্পে না রেখে বাড়িতে ফিরে যেতে দিতে হবে। তাদেরকে নাগরিকত্বও দিতে হবে।’ এই ব্রিটিশ কূটনীতিক বলেন, সেখানকার পরিস্থিতি উন্নয়নের প্রাথমিক দায়িত্ব মিয়ানমার সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর। তাদেরকে অবশ্যই এই কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়া প্রেসিডেন্সিয়াল বিবৃতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংঘাতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা পাটেল তার বক্তব্যে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনের বর্ণনা আবার তুলে ধরেন। তিনি জানান, গণহারে বিতাড়িত করার জন্য রোহিঙ্গাদের বিরুরেদ্ধ যৌন সহিংসতাকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিষয়ক জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেফরি ফেল্টম্যান নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, রাখাইনে সংহিসতা কমে আসলেও এখনও নতুন নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে আসছে। এর মধ্যে ৩৬ হাজার এতিম শিশু রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার চুক্তিকে তিনি স্বাগত জানান। জানুয়ারির মধ্যেই উপদেষ্টা কমিশন ও কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ঘোষণা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও জানান ফেল্টম্যান।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি রাখাইনে সব মানবাধিকার কর্মীদের অবাধে প্রবেশের সুযোগ দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১ মণ আলুর দামে ১ কেজি পেঁয়াজ
পেঁয়াজের দামে মুরগি পাওয়ার খবর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মিডিয়াতে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। এরইমধ্যে দেশের বাজার ব্যবস্থায় চরম অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায়। এখানে এক কেজি পেঁয়াজের দামে পাওয়া যাচ্ছে এক মণ আলু।
বৈরী আবহাওয়া, অতিবৃষ্টি ও অসময়ে বন্যা কাটিয়ে পরবর্তী শীতের জয়পুরহাটের কালাই উপজেলাতে গত বছরের চেয়ে এবার চাল ও সবজির উত্পাদন বেশি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সব ধরনের সবজির দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে থাকলেও ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ ও চালের দাম আকাশছোঁয়া। প্রকার ভেদে চালের মূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার সকল পর্যায়ের মানুষেরা। প্রতি কেজি চাল ৬০ থেকে ৬২ টাকা দরে এবং প্রতি কেজি বিদেশি পেঁয়াজ ৭৮ থেকে ৮০ টাকা দরে আর প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৯২ থেকে ৯৫ টাকা দরে। অন্যদিকে, আলুর বাজারে চরম ধস নেমেছে। হিমাগারে আলু রেখে লোকসানের মুখে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বর্তমান উপজেলা বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতি মণ আলু ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভাসহ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে আমন মৌসুমে ১৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে চাল উত্পাদন হয় ৭১ হাজার ৯১ মেট্রিক টন। গত মৌসুমে ১২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উত্পাদন হয় ১ হাজার ২০ মেট্রিক টন ও চলতি মৌসুমে ১৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে এবং গত মৌসুমে ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু উত্পাদন হয় ৩ লাখ ১০ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে উপজেলাতে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, এর মধ্যে গ্যানোলা, ডায়মন্ড, মিউজিকা, রোমানা, পাকড়ী, এস্টোরিক, কার্ডিনাল, কারেজ ও লরা জাতের আলু আবাদ হচ্ছে। তবে, বর্তমান উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পুরাতন জাতের বিভিন্ন আলু প্রতি মণ গ্র্যানুলা আলু ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মিউজিকা আলু ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, অ্যাসটোরিক আল ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং কারেজ আলু ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম নিম্নমুখী হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়েছে। আলুর দাম কম হওয়ায় অনেক গরু খামারিরা গরুকে খাওয়াচ্ছেন আলু।
অন্যদিকে, উপজেলাতে বর্তমান বিভিন্ন হাট-বাজার প্রকারভেদে চাল বিক্রি হচ্ছে  প্রতি কেজি ৪৯ জাতের চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে, প্রতি কেজি কাঠারীভোগ ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা দরে, প্রতি কেজি নাজিরশাইল ৫৭ থেকে ৫৯ টাকা দরে, প্রতি কেজি মিনিকেট ৬০ থেকে ৬২ টাকা দরে আর প্রতি কেজি বিদেশী পিঁয়াজ ৭৮ থেকে ৮০ টাকা দরে এবং প্রতি কেজি দেশী পিঁয়াজ ৯২ থেকে ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে লাগামহীন ভবে ও অস্বাভাবিকহারে পিঁয়াজ ও চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকার ভেদে পিঁয়াজ ও চালের দাম দফায় দফায় ও লাফিয়ে লাফিয়ে উর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে উপজেলার কৃষকসহ নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষেরা।
কালাই পৌরসভার থুপসাড়া মহল্লার আলু ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ বলেন, বর্তমান হিমাগারে আমার ১০০ বস্তা এস্টোরিক জাতের আলু আছে। ১০০ বস্তা আলুর পিছনে সব মিলে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। বর্তমান আলুর বাজারে যে অবস্থা তাতে করে ওই সব আলু বিক্রি করলে মাত্র ১৫ হাজার টাকা হবে। সেই কারণে আমি এখন এক বস্তাও আলু বিক্রি করেনি।
কালাই উপজেলার মাত্রাই গ্রামের ভ্যান চালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সারাদিন ভ্যান চালে আয় করি ৩০০ টাকা। আমার পরিবারে ৪ জন সদস্যর প্রতিদিন চাল ও পিঁয়াজ কিনতে আয়ের বেশিরভাগ খরচ হয়। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে অন্যান্য বাজার করতে হয়। যেভাবে প্রতিনিয়ত দফায় দফায় চাল ও পিঁয়াজের দাম বাড়ছে তাতে করে চাল ও পিঁয়াজ কিনে খাওয়া আমার পক্ষে সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
চালের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে কালাই উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, সারাদেশে অসময়ে বন্যার কারণে ইরি-বোরো ও আমন ধানের উত্পাদন কম হওয়ার কারণে বর্তমান বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীতে এই সমস্যা থাকবেনা।
পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি ও আলুর দাম নিম্নমুখীর বিষয়ে কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেজাউর করিম বলেন, গত মৌসুমে উপজেলাতে আলু উত্পাদন অনেক বেশি হয়েছিল, সেই অনুযায়ী আলুর চাহিদা তেমন ছিলনা। বর্তমান খুচরা বাজারের আলুর দাম অনেক বেশী আর পাইকারি বাজারেই দাম কম। খুচরা বাজারের সাথে পাইকারি বাজারের কোন মিল নেই। তিনি আরও বলেন, এই উপজেলার কৃষকেরা ধান ও আলুর চাষ করতে বেশী অগ্রহী হয়। তারা অন্য কোন ফসল আবাদ করতে চান না। চলতি মৌসুমে ১৫ হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ চাষ হয়েছে। বর্তমান উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পিঁয়াজের দাম বেশি, তবে বিভিন্ন হাট-বাজারে পাতাআলা বা মুড়িকাটা নতুন পিঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চার বছরে ৩৫ টেস্টসহ ১২২ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ

আইসিসির প্রস্তাবিত ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে (এফটিপি) ৩৫টি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। সব ফরমেট মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়াবে ১২২ ম্যাচে।

বাংলাদেশের জন্য সুখবর আছে। এই এফটিপিতে বেশিরভাগ টেস্ট খেলুড়ে দেশ আগের থেকে কম টেস্ট পেলেও বাংলাদেশ বছরে দুটি করে টেস্ট বেশি পাচ্ছে। বর্তমান এফটিপিতে পাঁচ বছরে বাংলাদেশের টেস্ট ৩৩টি। প্রস্তাবিত নতুন এফটিপিতে চার বছরেই ৩৫টি টেস্ট খেলবে টাইগাররা।

বিশেষ করে বিগ থ্রি-ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া আর ভারতের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে আছে পূর্ণাঙ্গ হোম এন্ড অ্যাওয়ে সিরিজও।

বিস্তারিত আসছে…

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাঁচবারের চারবারই ‘চ্যাম্পিয়ন’ মাশরাফি

তিনি নেতা, তিনি প্রেরণা, তিনি শক্তি। মাশরাফি বিন মর্তুজা একটি নাম, যার তুলনা তিনি শুধু নিজেই। মাশরাফি কেনো আর দশজনের থেকে আলাদা সেটা এর আগেও অনেকবার মানুষ দেখেছে। দেখলো আরও একবার। বিপিএলের সব মিলিয়ে পাঁচটি আসর শেষ হলো। এর মধ্যে চারবারই চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক মাশরাফি!

দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া, উজ্জীবিত রাখার সঙ্গে খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগানোর বেলায় মাশরাফির মত দ্বিতীয়টি কেউ নেই। তাই তো তার অধীনেও মন খুলে খেলতে পারেন গেইল-ম্যাককালামের মতো বিশ্ব ক্রিকেটের বড় তারকারা। অবলীলায় তারা মেনে নেন মাশরাফির শ্রেষ্ঠত্ব।

সহযোদ্ধাদের সাহস জোগানো, ফর্মহীন পারফরমারকে ফর্মে ফেরাতে সাহস, আস্থা ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলাই শেষ নয়। মাঠেও ‘ক্যাপ্টেন’ মাশরাফি দারুণ পারফরমার। বিপিএলেও অধিনায়ক মাশরাফি সবার সেরা।

বিপিএলের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি। প্রথম তিন আসরের চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক নড়াইলের সাহসী সেনাপতি। তার নেতৃত্বে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স বিপিএলে প্রথম দু’বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সও তৃতীয় বিপিএলে শেষ হাসি হাসে মাশরাফির হাত ধরেই। এবার হাসলো রংপুর রাইডার্স।

আর কোন অধিনায়কের এমন সাফল্য ও কীর্তি নেই। পরপর তিন বিপিএলের ফাইনালে প্রধান অতিথির হাত থেকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নেয়া গর্বিত অধিনায়ক মাশরাফি শুধু গতবারই শেষ হাসি হাসতে পারেননি। তার নেতৃত্বে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ২০১৬ সালে শেষ চারে নাম লেখাতে পারেনি।

এবার দল পাল্টে নতুন শিবিরে যোগ দেন মাশরাফি। দলের নাম নয়। শিরোপা জেতার জন্য যে তার নামটিই যথেষ্ট, সেটা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক। প্রথম ও একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে বিপিএলে চার চারবার শিরোপা জয়ী অধিনায়ক হলেন। মাশরাফির পক্ষেই এমন কীর্তি গড়া সম্ভব!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গানের ভিডিওতে ‘অশ্লীল ভঙ্গিতে’ কলা খাওয়ায় গায়িকার জেল (ভিডিও)

গানের ভিডিওতে ‘আপত্তিকর’ পোশাক পরা ও কলা খাওয়ার দায়ে শাইমা আহমেদ (২৫) নামের মিসরের এক গায়িকাকে দুই বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন দেশটির আদালত।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার শাইমাকে ‘অশ্লীলতা’ ছড়ানো ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ ভিডিও প্রকাশের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। শাইমার সঙ্গে একই মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করবেন গানের ভিডিওটির পরিচালকও।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ভিডিওটি প্রকাশের দায়ে গত নভেম্বরে শাইমাকে গ্রেপ্তার করে মিসরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তাঁর আগেই এ বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি।

ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শাইমা লিখেন, ‘আমাকে সবাই এবার আক্রমণের বিষয়বস্তু বানাবে।’

২০১৬ সালেও গানের ভিডিওর মাধ্যমে ‘অশ্লীলতা’ ছড়ানোর দায়ে মিসরে তিন নারী নৃত্যশিল্পীকে ছয় মাসের করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া নীল নদের পানি পান করলে রোগ-বালাই হতে পারে, গানের মধ্যে এমন উক্তি থাকায় কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় দেশটির আরেক গায়িকাকে।

শেরিন আবদেল ওয়াহাব নামের ওই গায়িকা বলেন, নীল নদের পানিতে বিলহারজিয়া নামে এক ধরনের পরজীবী রয়েছে। যার ফলে ওই পানি পান করলে সিসটোসোমিয়াসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে নিজের পক্ষে সাফাই দিয়েও পার পাননি শেরিন। আগামী দুই মাস তিনি কোনো কনসার্ট করতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিসরের মিউজিক সিন্ডিকেট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে ছয় খাবার

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বড়ই বিব্রতকর। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, আঁশজাতীয় খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে কাজে দেয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি।

১. তরমুজ

তরমুজের মধ্যে অনেক আঁশ নেই, তবে এর মধ্যে ৯২ ভাগ পানি রয়েছে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। তরমুজের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি কোষকে সুরক্ষা দেয়। এ ছাড়া তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি ও লাইকোপেন। এগুলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষতি রাখতে কাজ করে।

২. ওটমিল

ওটমিলের মধ্যে রয়েছে আঁশ। ওটস অনেক পানি শোষণ করে। এটি হজমে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি শরীরের বাজে কোলেস্টেরল কমায়। ওটমিল আপনার কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রনের চাহিদা পূরণে অনেকটাই সাহায্য করে।

৩. কাঠবাদাম

কাঠবাদাম আপনি সালাদ বা ডেজার্টের সঙ্গে খেতে পারেন। এই খাবারটিও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে অনেকটাই কাজে দেয়।

৪. দই

দই হজম পদ্ধতিকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে উপকারী ব্যাকটেরিয়া। দই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

৫. পানি

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে পানি বেশ উপকারী। এ ছাড়া তরল খাবার, যেমন—স্যুপ, ফলের রস ইত্যাদি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে খেতে পারেন।

৬. পপকর্ন

পপকর্ন সাধারণত আমরা সিনেমা দেখার সময়ই বেশি খাই। এর মধ্যে লবণ ও মাখন না যোগ করা হলে এটি একটি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস। তবে আপনি হয়তো জানেন না এর মধ্যে অনেক আঁশও রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আই অ্যাম দ্য বেস্ট : গেইল

আবার নিজেকে টি-টোয়েন্টির সেরা ব্যাটসম্যান বললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল। রংপুর রাইডার্সের হয়ে প্রথমবারের মতো বিপিএলের শিরোপা জেতার পর গেইল বলেন, আই অ্যাম দ্য বেস্ট।

হার্ডহিটার এই ব্যাটসম্যানের কল্যাণে এবার শিরোপা জিতেছে রংপুর। দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড় মাশরাফি বিন মুর্তজা। তাই তাঁকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি গেইল। তিনি মাশরাফির অসাধারণ নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেছেন।

খেলা শেষে আগামী বছর বিপিএলে খেলতে আসবেন কি না প্রশ্ন করলে গেইল বলেন, ইনশাল্লাহ, আগামী বছরও আপনাদের বিনোদন দিতে আসব। এবার টুর্নামেন্ট ভালো হয়েছে।

ভালো বলবেনই না বা কেন। এবারের বিপিএলের প্লেয়ার অব ম্যাচ ও প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট যে গেছে তাঁর ঝুঁড়িতে।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দারুণ আরেকটি রেকর্ড গড়েন গেইল। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে হার-না-মানা ১৪৬ রানের একটি ইনিংস খেলেন তিনি। যাতে রেকর্ড ১৮টি ছক্কার মার রয়েছে। শুধু আন্তর্জাতিক ম্যাচেই নয়, যে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজ আসরেও এটি একটি রেকর্ড।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এদিন গেইল এতটাই বেপরোয়া ব্যাটিং করেছেন, কোনো বোলারই পার পায়নি তাঁর হাত থকে। তাঁর এই ইনিংসে যেন ছিল ছক্কার বৃষ্টি। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বোলারদের একরকম শাসন করেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিপিএলে ছক্কার সেঞ্চুরি করেছেন গেইল। ২৬ ইনিংসে তাঁর ছক্কার মার ১০৭টি। ৫৪ ইনিংসে ৪৭ ছক্কায় দুইয়ে সাব্বির রহমান।

গেইলের এই রেকর্ডের ওপর ভর করে তাঁর দল রংপুর রাইডার্স এদিন ফাইনালে গড়েছে বিশাল সংগ্রহ। নির্ধারিত ওভারে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে গড়ে ২০৬ রানের বিশাল সংগ্রহ।

এ ছাড়া হাফ সেঞ্চুরি করেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ৪৩ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন এই কিউই ব্যাটসম্যান। ম্যাককালাম রয়েসয়ে খেললেও গেইল ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। ১৮ ছক্কায় ৬৯ বলে ১৪৬ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাইকগাছায় নানা সমস্যায় জর্জরিত পাবলিক লাইব্রেরি ও যাদুঘর

কৃষ্ণ রায়, পাইকগাছা, খুলনা : দক্ষিণ খুলনার ঐতিহ্যবাহী পাইকগাছা পাবলিক লাইব্রেরি ও যাদুঘরটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। জনবল, অবকাঠামো সংস্কার, আসবাবপত্র ও বই সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় পাঠক শূূূন্য হয়ে পড়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় এর কোন অভিভাবক নেই।
খুলনার পাইকগাছা সদরে ১৯৮৫ সালে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. স.ম. বাবর আলী পাবলিক লাইব্রেরি ও যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন। যার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয় শহিদ এম, এ গফুর মিলনায়তনের একটি কক্ষে। ১৯৮৫ সালে ৭ মার্চ প্রতিষ্ঠানের নামীয় সম্পত্তিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৮৭ সালে ডিসেম্বরে তৎকালীন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. নুরুল ইসলাম ৭২-৩০ ফুটের ২ কক্ষ বিশিষ্ট পাকা ভবনের কাজ উদ্বোধন করেন। ১টি কক্ষ লাইব্রেরি ও আর ১টি যাদুঘর বা সংগ্রহ শালা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। লাইব্রেরিটি পরিচালনার জন্য ১৯৮৮ সালে কল্লোল কুমার মল্লিককে গ্রন্থাগারিক নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৯১ সালে জাতীয় বেতন স্কেলে বেতনভাতা পান। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি পৌরসভা নিয়ন্ত্রণে নেয়। পৌরসভার বাজেটে লাইব্রেরির জন্য বাজেট ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে লাইব্রেরির অনুকুলে কোন বরাদ্দ থাকে না। অবকাঠামো সংস্কারের অভাবে লাইব্রেরি ভবনটি ধসে ধসে পড়ছে। বর্তমানে লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন বই সংযোজন করা হয় না এবং রয়েছে কয়েকটি ভাংগা চেয়ার, টেবিল ও আলমারী। ৫টি জাতীয়, ৩টি আঞ্চলিক দৈনিক, ১টি সাপ্তাহিক ও ১টি মাসিক পত্রিকা থাকলেয় বর্তমান রয়েছে মাত্র তিনটি। বইয়ের সংখ্যা ৫,৩৯১টি, থেকে বর্তমান আছে দু-তিনশ, মত। বর্র্তমান পাঠকের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কুঠায়। এক সময় প্রতিদিন পাঠকের সর্বনিম্ন আগমন ছিল ১৬০/১৮০জন। আজীবন সদস্য ১৪৬, সাধারণ সদস্য ছিল ১৫৫ জন। বর্তমান কোন সদস্য আছে কিনা তাঅনেকেই জানেনা। যাদুঘর ও সংগ্রহ শালায় রয়েছে বিশ্ববরণ্যে বিজ্ঞানী পি.সি. রায়ের তৎকালীন বৃটিশ সরকার কর্তৃৃক স্যার উপাধি পাওয়ার তরবারী, তার পড়ার টেবিল, পূজায় ব্যবহৃত ২টি খড়গ, বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, সাহিত্যিক স্বহস্তে লেখা পত্র। রায় সাহেব ললিনী কান্ড রায় চৌধুরীর তরবারী, রায় সাহেব বিনোদবিহারী সাধুর পবিত্র গীতা, ব্যবহৃত ভৈজষপত্র। ১৫০ বছরের পুরানো তিমি মাছের কংকাল, ২০০টি দেশের মুদ্রা, মোঘল আমলের মুদ্রা, স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যবহৃত কামানের সেল, মংলা বন্দরে নিক্ষেপকৃত ৪০গ গ মর্টারের সেল, গুলি বাক্সসহ ইত্যাদি।

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest