যশোর রোডের ভারতীয় অংশে গাছ টিকে আছে আদালতের স্থগিতাদেশে

বাংলাদেশের দিকে যশোর রোডে বহু প্রাচীন গাছ কেটে ফেলে যখন রাস্তা চওড়া করার পরিকল্পনা হচ্ছে আর তা নিয়ে বিরোধীতা করছেন পরিবেশবিদরা, তার বেশ কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের দিকেও ওই রাস্তায় শতাব্দী প্রাচীন গাছগুলি কেটে ফেলে রাস্তা চওড়া করার পরিকল্পনা নিয়েছিল সেখানকার সরকার।

কিন্তু পরিবেশবাদী এবং স্থানীয় মানুষের বিরোধীতায় বিষয়টি এখন আদালতে গড়িয়েছে। গাছ কাটার ওপরে জারি হয়েছে স্থগিতাদেশ।

গাছগুলিকে না কেটেই রাস্তা যশোর রোড চওড়া করা যেতে পারে বলে মত পরিবেশবিদ ও স্থানীয় মানুষের। তারা এই কয়েক হাজার গাছকে ঐতিহ্যশালী তকমা দেওয়ারও দাবী জানিয়েছেন।

দমদম বিমানবন্দরের পরে বারাসাত শহর ছাড়িয়ে কিছুটা এগোলেই যশোর রোডের ওপরে ছাতার মতো বিছিয়ে থাকে কয়েক হাজার প্রাচীনগাছের পাতা – ডালপালা। এই রাস্তা তৈরী হওয়ার পর থেকে একসময়ে গোটা রাস্তাতেই গাছের ছায়া থাকত.. কিন্তু নগরায়নের জন্য আগেই কেটে ফেলা হয়েছে অনেক গাছ।

তবুও পেট্রাপোল স্থল বন্দর অবধি রয়েছে চার হাজার ৩৬টি গাছ, সেগুলিকে মহীরূহ বলাটাই শ্রেয়।

আবার যশোর রোড চওড়া করার দাবীও অনেকদিনের – যাতে বারাসাত থেকে বনগাঁ পর্যন্ত গাড়ির যাতায়াত আর পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজতর হয়ে ওঠে।

সেই জন্যই পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিকল্পনা করেছিল গাছগুলি কেটে ফেলে চওড়া হবে রাস্তা।

কিন্তু বনগাঁর বাসিন্দা অজয় মজুমদারের মতো কিছু মানুষ বিরোধীতা শুরু করেন। মামলাও দায়ের হয়।

মজুমদার বলছিলেন, “আমরা কখনই রাস্তা চওড়া করার বিরোধী নই। আমরা শুধু বলেছিলাম গাছগুলোকে না কেটে পাশ দিয়ে রাস্তা হোক। বাঁধানো রাস্তা তো মিটার পাঁচেক, কিন্তু তার পাশে আরও প্রায় কুড়ি মিটার মতো জমি রয়েছে। যেভাবে সীমান্তের কাছে ভারতের দিকে শেষ দু কিলোমিটার রাস্তা হয়েছে – মাঝখানে গাছও আছে, আর পাশে রাস্তাও হয়েছে – সেভাবেই পরিকল্পনা করা যায়। সেটা আমরা হাইকোর্টকেও জানিয়েছি।”

পুরো রাস্তা চওড়া করার পরিকল্পনার বদলে প্রথমে যশোর রোডের ওপরে ৫টি উড়ালপুল তৈরীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার জন্য প্রায় সাড়ে তিনশো গাছ প্রথমেই কাটতে হবে।

ভারতের আইন অনুযায়ী কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য গাছ যদি একান্ত কাটতেই হয়, তাহলে প্রতিটি গাছের বিকল্প পাঁচটি করে গাছ লাগাতে হবে।

মজুমদার এবং কয়েকটি সংগঠনের করা মামলার ভিত্তিতে হাইকোর্ট খতিয়ে দেখতে বলে, যে গাছ কাটা হলে আইন অনুযায়ী প্রতিটি গাছের জন্য পাঁচটি করে গাছ লাগানোর জায়গা আছে কী না।

তবে মামলাকারী সংগঠনগুলির অন্যতম, এ পি ডি আরের নেতা মানস দাসের কথায়, সেই বৃক্ষরোপনের সেই বিকল্প জায়গা দেখাতে পারে নি সরকার।

“বারাসাত থেকে বনগাঁ পর্যন্ত চারদিন ধরে হাইকোর্ট নিযুক্ত কমিটি রাস্তার সার্ভে করেছিল। তখন সরকার যে বিকল্প গাছ লাগানোর জায়গা দেখিয়েছে, সেগুলো যে উপযুক্ত জায়গা নয়, তা কমিটির রিপোর্টেই আছে,” বলছিলেন মি. দাস।

দাস জানাচ্ছিলেন গাছ না কাটার আবেদন জানানোর সঙ্গেই তাঁরা আদালতের কাছে এই আর্জিও জানিয়েছেন যে দেড়শো বছরেরও প্রাচীন ওই গাছগুলিকে হেরিটেজ বলে ঘোষণা করা হোক।

পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত-ও মনে করেন যশোর রোড শুধু একটা রাস্তা নয় – এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস আর ঐতিহ্য।

“আগে যখন আমরা পেট্রাপোল সীমান্ত অবধি যেতাম, গোটা রাস্তার ওপরে তাঁবুর মতো হয়ে থাকত গাছগুলো। আসলে গাছের তো ভোটাধিকার নেই, তাই ওগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা খুব সহজ। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলই চায় না যে ভোট দেয় যারা – সেই জবরদখলকারীদের সরিয়ে ভোটব্যাঙ্কের ক্ষতি করতে। অথচ রাস্তা চওড়া করার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করাই যেত। যশোর রোড তো নিছক কোনও রাস্তা নয় – এর পেছনে রয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য। সেটা রক্ষা করতে পারলে পৃথিবীর কাছে একটা উদাহরণ হয়ে উঠত,” বলছিলেন সুভাষ দত্ত।

তবে উত্তর চব্বিশ পরগণার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলছিলেন ৫টি উড়ালপুলের জন্য যে গাছ কাটা পড়বে, তার বিকল্প বৃক্ষায়ণের জন্য জায়গা তৈরী আছে। যেসব এলাকায় দখলদার হঠাতে হবে, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা করেছে সরকার।

“আমাদের সরকার উচ্ছেদ করে কোনও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা করবে না – এটাই নীতি। তাই যাদের দোকানপাট রয়েছে রাস্তার ধারে, তাদের কয়েকটা জায়গায় বাড়ী তৈরী করে দেওয়া হবে। আর বিকল্প হিসাবে যে গাছ লাগানোর কথা, সেই জায়গাও আমাদের তৈরী রয়েছে। কিছু পরিবেশবিদ আর এন জি ও এই কাজে বাধা তৈরী করার চেষ্টা করছে,” বলছিলেন মল্লিক।

মন্ত্রী এটাও জানালেন যে প্রথমে ৫টি উড়ালপুলের পরিকল্পনা তৈরী হলেও এরপরে বারাসাত থেকে পেট্রাপোল পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার রাস্তা গোটাটাই ৪ লেনের রাস্তা হবে – এবং তার জন্য প্রায় চার হাজার গাছ কাটতে হবে। বিবিসি বাংলা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চুক্তির বিষয়ে চারটি গভীর সংশয়

বাংলাদেশ আর মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রত্যাবাসনের জন্য এক চুক্তি করেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বিবিসিকে জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার প্রতিদিন তিনশ করে প্রতি সপ্তাহে ১৫শ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে এবং দুই বছরের মধ্যে এই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শেষ করা হবে।

তবে কবে থেকে এই প্রত্যাবাসন শুরু হবে, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।

গত বছর ২৫শে আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর এক অভিযান শুরুর পর থেকে থেকে এ পর্যন্ত ছয় লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

তাদের কাছে শোনা গেছে হত্যা, ধর্ষণ, ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ভয়াবহ সব বর্ণনা।

জাতিসংঘ একে এথনিক ক্লেনজিং বা জাতিগত নির্মূল অভিযানের একটি দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছে। মিয়ানমার অবশ্য তা অস্বীকার করেছে।

এর পর ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এই রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেবার জন্য বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনা শুরু হয় নভেম্বর মাসে।

তবে এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধান সংশয় রয়েছে চারটি, বলছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তিতে কী আছে?

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকে বলেছেন, চুক্তিতে কি আছে তা নিয়ে তারা তেমন কিছুই জানেন না।

বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, দু দেশই একমত হয়েছে যে এই প্রত্যাবাসন হবে স্বেচ্ছামূলক।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব উ মিন্ট থু বলেছেন, প্রত্যাবাসন শুরু হবে ২৩শে জানুয়ারি।

পরিস্থিতি কি নিরাপদ?

মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক লরা হাই বলছেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফিরে যাবার মতো নিরাপদ নয়।

বিবিসির সংবাদদাতা জোনাথন হেড বলেন, রোহিঙ্গারা বলছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে, বাড়িঘর পুননির্মাণ হলে এবং নিপীড়ন বন্ধ হলেই তারা মিয়ানমারে ফিরবে। তবে তেমন অবস্থা এখনো তৈরি হয় নি।

ত্রাণ সংস্থাগুলোরও এ নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।

ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং মানবাধিকার কর্মী রোজেনা এলিন খান বলছেন, উপযুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো মানে তাদের মৃত্যুর মুখে আবার ঠেলে দেয়া।

রোহিঙ্গারা কি কখনো নাগরিকত্ব পাবে?

রোহিঙ্গা নেতা সিরাজুল মোস্তফা বলছেন, আমাদের প্রথম চাওয়া হলো নাগরিকত্ব।

এটা কি কখনো হবে?

বৌদ্ধ প্রধান মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয় না, এবং তাদের ২০১৪ সালের জনগণনাতেও অন্তর্ভক্ত করা হয়নি। তাদেরকে আসলে মিয়ানমারের বাসিন্দা বলেই স্বীকার করা হয় না।

তাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী বলে মনে করা হয়। নতুন চুক্তিতেও তাদের নাগরিকত্ব পাবার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

বাংলাদেশও তাদের স্বীকৃতি দিচ্ছে না। শরণার্থী শিবিরে জন্মানো শিশুদের জন্মের সনদপত্র দেয়া হচ্ছে না।

রোহিঙ্গারা কি তাদের জমি ফেরত পাবে?

সিরাজুল মোস্তফার কথা, “তাদেরকে আমাদের জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।”

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে কমপক্ষে ৩৫৪টি রোহিঙ্গা গ্রাম পুরো বা আংশিক পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গারা কি এ জমি ফেরত পাবে, বা তারা কি প্রমাণ করতে পারবে যে এ জমি তাদের ছিল?

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন চুক্তি তাদের আবাসনের কথা আছে, ফেরার পর তাদের নির্মাণাধীন ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হবে।

উ মিন্ট আরো বলেছেন , তারা ‘নতুন গ্রাম’ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। নতুন গ্রামের কথায় মনে হতে পারে যে রোহিঙ্গাদের পুরোনো জমি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নেই।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আমার এমপি ডটকমের সেরা এমপির পুরস্কার পেলেন এমপি রবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনী এলাকার জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়ে সাধারণ জনগণের দোর গোড়ায় গিয়ে সমস্যার সমাধান করে এবং সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য নিয়ে উঠান বৈঠকে মানুষের নজর কাড়ায় আমার এমপি ডটকম’র সেরা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান সদর-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মিলনায়তনে আমার এমপি ডটকমের সমন্বয়কারী সুশান্ত দাস গুপ্তার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং পুরস্কার প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, ‘আমার এমপি ডটকম জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করবে। এই স্বেছাসেবী সংগঠনটি সাধারণ জনগণ এবং এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগের দূরত্ব ঘোচাবে এবং একটি অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করবে এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিয়ে যেসব সংগঠন কাজ করে তাদের কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এখন, বাংলাদেশের নাগরিকরা তাদের এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সম্পর্কে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে প্রশ্ন করতে পারেন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি আমার এমপি মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া বা প্রশ্নের উত্তর জানাতে পারেন। আগামী দিনে আমার এমপি ডটকম আরো বেগবান হয়ে জাতি গঠনে কাজ করতে সবাইকে এ অগ্রযাতার পাশে রাখার প্রত্যাশা করছে।’ আলোচনা ও প্রেজেন্টেশন উপাস্থাপন শেষে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এসময় আমার এমপি ডটকম’র সাথে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন

মাহফুজুর রহমান তালেব : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা গত ১৬ জানুয়ারি শ্যামনগর উপজেলার ৯নং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। তিনি ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনের উপর লাগানো দৃষ্টিনন্দন ছাদ বাগান, ভার্মি-কম্পোস্টসহ জৈব সার প্রস্তুত প্রক্রিয়া, অর্গানিক সব্জি চাষ এবং কৃষি প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করেন। সুন্দরবন সংলগ্ন লোনা পানিতে চিংড়ি চাষ এলাকার জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার এ ধরনের ব্যতিক্রমী কর্মকান্ড দেখে মুগ্ধ হন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা ঘুরে বিভিন্ন জাতের বৃক্ষ দেখেন এবং বলেন, সমগ্র ইউনিয়ন পরিষদ এলাকাটি এত সুন্দর পরিষ্কার-পরিছন্ন ইউনিয়ন আমি আর কোথাও দেখি নাই। তিনি ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। সিইসি ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল, সদস্য আব্দুর রউফসহ অন্যান্যদের সংগে ফটো-সেশনেও অংশ নেন। এসময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, সিইসির সহধর্মীনি, নির্বাচন কমিমনের যুগ্ম সচিব মো. ফারুক হোসেন, জেলা নির্বাচন অফিসার মো.আজহার হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মহসিন উল মুলক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান, উপজেলা সহকারি কমিশার (ভূমি) সুজন সরকার, সহকারি পুলিশ সুপার কালিগঞ্জ সার্কেল, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আব্দুল মান্নান প্রমুখ। এরপূর্বে তিনি গত ১৫ জানুয়ারি সাতক্ষীরা হতে সুন্দরবন সংলগ্ন ভ্রমণ স্পট আকাশ লীনাতে রাত্রী যাপন করেন। সকালে সুন্দরবন ভ্রমণ করেন এবং বরসা টুরিস্টজম-এর গেস্ট হাউজে মধ্যাহ্ন ভোজের পর যশোর বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় বিভিন্ন করাত কলে ইউএনওর অভিযান, জরিমানা

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ও কুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন করাত কলে অভিযান পরিচালনা করেন। করাত কলে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ইউএনও এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনাকালে করাত কল গুলিতে বিভিন্ন অনিয়ম ও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ইউএনও জরিমানা দ- প্রদান করেন। ইউএনও হাফিজ-আল আসাদ জানান, করাত কল গুলোতে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পারুলিয়া ও কুলিয়ার ৩টি করাত কলে এসময় বিভিন্ন অপরাধের কারনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দ- প্রদান করেন। অভিযানকালে এসময় ইউএনওর সাথে দেবহাটা থানার এসআই আল আমিন ও উপজেলা বনবিভাগের ফরেস্টার এম.এ হাশেম উপস্থিত ছিলেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বহেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি বহেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বহেরা এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার বিষয়ে খোজখবর গ্রহণ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে কম্বল বিতরণ

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটায় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সোমবার ও মঙ্গলবার ২ দিন উপজেলার বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ¦ আব্দুল গনি এবং দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ। দেবহাটাসহ আশপাশ এলাকার মানুষ গত কয়েকদিন যাবৎ একদিকে শৈত্য প্রবাহ আর অন্যদিকে শিরশিরে বাতাসের কারনে তীব্র শীতে কাঁপছে দেবহাটাসহ আশপাশ এলাকার হতদরিদ্র মানুষেরা। গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত পড়েছে সারাদেশের ন্যায় দেবহাটা এলাকায়। ঘনকুয়াশার কারনে কোনদিন সারাদিন সূর্যের দেখা মেলে আবার কোনদিন মেলেনা। হিমশীতল বাতাসে কাবু হয়েছে পড়ছে মানুষ। গত দুইদিন উপজেলার ১শত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আব্দুল গনি ও দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ কম্বল বিতরণ করেন। এসময় দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জসিমউদ্দীন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিসেস নাজমুন নাহার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অধীর কুমার গাইন, দেবহাটা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী ইদ্রিস, দপ্তর কমান্ডার আব্দুর রউফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খেজুর গাছ হচ্ছে ইটের ভাটার গুল, হারিয়ে যাচ্ছে রস ও গুড়

সমীর দাশ : পৌষ মানে বাঙ্গালীর পিঠা কুলির মাস,শীতের কনকনানি উত্তরের হিমেল হাওয়া কুয়াশার চাদরে ঢাকা ভোরবেলাটা সবকিছু উপেক্ষা করে বাঙ্গালী ছুটে চলে খেজুর গাছের মূলে, কেন? কারণ তার রস চায়। খেজুরের রস ছাড়া খেজুরের গুড় ছাড়া বাঙ্গালীর পিঠা পায়েস যে স্বাদহীন। কিন্তু কালের বিবর্তনে আমাদের মানুষ গুলো শুধু ছুটছে আর ছুটছে লক্ষ তাদের শুধু অর্থ, আর সেই সুযোগে কিছু কাঠ ব্যাবসায়ী কৃষককে ফাঁদে ফেলে তার জমির আইলে বেড়ে ওঠা খেজুরের গাছগুলোকে বানিয়ে দিচ্ছে ইট পোড়ানোর গুল।
জানুয়ারী ১৬ মঙ্গলবার সকালে দেখামেলে এমনি এক ব্যাবসায়ীর যার নাম মোঃমোসলেম উদ্দিন (৫৫)বাড়ি আচিমতলা গ্রামে বছরের প্রায়টা সময় যে একাজে যুক্ত থাকে, সে মজবুত সিকড় বিছিয়ে দাড়িয়ে থাকা খেজুর গাছটাকে গোড়াকেটে শুইয়ে দিয়েছে, এখন ব্যবস্থা হচ্ছে তাকে ইট প্রস্তুত কাজে উপযুক্ত করে তোলার জন্য খ- খ- করার প্রক্রিয়া, তার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায় প্রতি হাত গাছের মূল্য সে ৩০ থেকে ৪০টাকা নির্ধারণ করে, ৩.৫০ হাত মাপে খ- করে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা খ- দরে সে বিক্রি করে। ইট পোড়ানো প্রতিষ্ঠান গুলো তার খরিদদার। এমনি ভাবে চলতে থাকলে কোন একদিন হয়তোবা দেখাযাবে খেজুরের রস খেজুরের গুড়ের স্বাদটাই বাঙ্গালী ভুলে গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবার যুবলীগের আহবায়ক মান্নানের বিরুদ্ধে যুগ্ন-আহবায়কের সংবাদ সম্মেলন!

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে অন্যের রেকর্ডীয় সম্পত্তি ও বসতবাড়ি দখলসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। আর মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক জহিরুল ইসলাম নান্টু।
সংবাদ সম্মলনে তিনি তার লিখিত বক্তব্য বলেন, আহবায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর জেলায় তিনি একের পর এক জমি দখল, চাঁদাবাজি, নদী দখল ভুমি দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িত। তিনি বিভিন্ন থানায় যুবলীগের কমিটিও বিক্রি করে চলেছেন। তিনি এসব অভিযোগে এর আগে বহুবার দল থেকে বহিস্কারও হয়েছিলেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, যুবলীগ আহবায়ক মান্নানের কোন বৈধ ব্যাবসা নেই। বর্তমানে তিনি যে বাড়িতে বসবাস করছেন সেটি একটি আলিশান বাড়ি। সেটাও প্রতিবন্ধির দিন মজুর ফয়জুর শেখের জায়গা দখল করে তার বাড়ি তৈরি করা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ বাংলদেশের একটি ঐতিহ্যবাহি সংগঠন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। গত ৩০নভেম্বর’১৪ তারিখে বাংলদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাতক্ষীরা জেলা শাখার ২৯ সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির আহবায়ক নির্বাচিত হন আব্দুল মান্নান। এই কমিটির মেয়াদ তিন বছর দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও জেলা যুবলীগের সম্মেলন না দিয়ে আব্দুল মান্নান গায়ের জোরে এই কমিটি চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই মেয়াদ উত্তীর্ণ যুবলীগের এই আহবায়ক কমিটি বিলুপ্তি ও দখলবাজ মান্নানের হাত থেকে জেলা যুবলীগকে রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য মীর মহিতুল আলম, শেখ সফি উদ্দিন, কাজী আক্তার হোসেন, জিয়াউর বিন যাদু, শেখ আসাদুজ্জামান লিটু প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest