আলোচনায় একাদশ সংসদ নির্বাচন

ন্যাশনাল ডেস্ক : একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছর ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ। এ হিসাবে নির্বাচনের বাকি এখনও পুরো একবছর। তবেই ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়ে গেছে আলোচনা ও নির্বাচনি প্রচারণা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটসহ রাজনৈতিক দলগুলো প্রাকাশ্যে শুরু করেছে নির্বাচনি প্রস্তুতি। কোনও কোনও দল প্রার্থীর নামও ঘোষণা দিতে শুরু করেছে। দলগুলোর সম্ভাব্য ও প্রত্যাশিত প্রার্থীরাও চষে বেড়াচ্ছেন নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকা। নিয়মিত চালাচ্ছেন গণসংযোগ। অংশ নিচ্ছেন সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। অবশ্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে তাদের আলাদা কোনও প্রস্তুতি এই মুহূর্তে নেই। তবে, রাজনৈতিক দল হিসেবে সব সময়ই নির্বাচনমুখী প্রস্তুতি থাকে।
আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি
আওয়ামী লীগের আলোচনায় এখন জাতীয় নির্বাচন। সরকার গঠনে হ্যাট্রিকের রেকর্ড করতে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি দলটিতে। ক্ষমতাসীন দলটি আগামী নির্বাচন মাথায় রেখে সরকারের গৃহীত উন্নয়নমূলক কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। দলের পক্ষ থেকে জনগণের সঙ্গে সম্পর্কে উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মী ও এমপিদের জনসম্পৃক্ত হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। জনপ্রতিনিধিদের স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকা-গুলো দেখভাল করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলছে প্রার্থী যাচাই-বাছায়ের কাজ। নির্দিষ্ট সময়ের বিরতিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর জরিপ কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান এমপি ও মনোনয়ন-প্রত্যাশীরা নির্বাচনি এলাকায় বেশি বেশি সময় দিচ্ছেন। দলের শীর্ষপর্যায় থেকে বাড়ি-গ্রাম-গঞ্জ, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলায় উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমান এমপিসহ মনোনয়ন-প্রত্যাশীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এতে নির্বাচনি প্রচারণা উৎসবে পরিণত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি আওয়ামী লীগের সর্বস্তরে চলছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আর বেশি সময় বাকি নেই। রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রস্তুতি নিতেই হবে। তাই নির্বাচনের প্রস্তুতি আমাদের দলে চলছে।’
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগে সব সময়ই নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়েই রাখে।’ তিনি বলেন, ‘একটি নির্বাচন গেলেই আরেকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি মাথায় নিয়েই এগিয়ে যায় আওয়ামী লীগ। এটাই এই দলের বৈশিষ্ট্য।’
নির্বাচন নিয়ে ভাবনা বিএনপির
বিএনপির সূত্রগুলো জানায়, আগামী নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা আলোচনা, পর্যালোচনা শুরু হলেও মূলত আগাম আলোচনার মূল উদ্দেশ্য নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা। নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতেই বিদেশি সংস্থা বা বিদেশি রাষ্ট্রগুলো সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। এক্ষেত্রে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হবে।
এদিকে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন ও আন্দোলনÑ দুই প্রস্তুতিই শুরু করেছে বিএনপি। দলটির নেতারা জানান, বিগত ২০১৪ সালের আগে নির্বাচনি লিস্টে যাদের নাম ছিল, এর মধ্যে ১০০টি আসন পরিবর্তন হবে। বর্তমানে ভেতরে-ভেতরে নির্বাচনি প্রস্তুতি চলছে দলটিতে। যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে। মনোনয়ন-প্রত্যাশীরা ঘন ঘন যাতায়াত করছেন গুলশানে।
জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘নির্বাচনের আর মাত্র একবছর বাকি। এখনই নির্বাচনি আলোচনা শুরু হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল, নির্বাচনি প্রস্তুতি তো সারা বছরই থাকে। আর বড় দল হিসেবে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে বা বিদেশে যে বা যারাই কথা বলুক, এটা হচ্ছে সরকারের প্রতি আহ্বান যে গণতান্ত্রিক নিয়মেই নির্বাচন করতে হবে।’
সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, ‘যেকোনও দেশেই নির্বাচনের একবছর আগে থেকেই আলোচনা শুরু হয়। এটা তেমন ব্যতিক্রম নয়। আলোচনা হবে। আগামী দিনে আরও দেশে-বিদেশি সংস্থা, রাষ্ট্র কথা বলবে।’
সাখাওয়াত হাসান জীবন আরও বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি বিএনপিতে শুরু হয়েছে। এটা আলাদা করে দেখার কিছু নেই। রাজনৈতিক দল হিসেবে সবাই নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।’
জাতীয় পার্টির প্রস্তুতি
নির্বাচনি প্রস্তুতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তুলনায় এক ধাপ এগিয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। এর আগে নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘সমাঝোতার মাধ্যমে’ নির্দিষ্ট-সংখ্যক আসনে নির্বাচন করলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা এককভাবে ৩০০ আসনে নির্বাচন করার টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছে। দলটি ইতোমধ্যেই ৩০০ আসনের নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছে। বেশ কয়েকটি নির্বাচনি এলাকায় দলটির প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের মাঠের প্রার্থীরা যেন নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারেন, সে জন্যই তারা আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করছে। পর্যায়-ক্রমে তারা অন্যান্য আসনগুলোয়ও প্রার্থিতা ঘোষণা অব্যাহত রাখবে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান সংসদের এমপি কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। কিছু কিছু আসনে প্রার্থিতাও ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।’
আগেভাগে প্রার্থিতা ঘোষণার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘এর পেছনে অন্য কোনও কারণ নেই। আগে থেকে প্রার্থী ঘোষণা করলে ওই প্রার্থীর পক্ষে এলাকায় মাঠ গোছানোর কাজ সহজ হয়।’
প্রধান এই তিনটি দল ছাড়াও অন্য দলগুলোরও ভেতরে ভেতরে নির্বাচনি প্রস্তুতি চলছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শরিকরা আগামী নির্বাচনে ‘আসন ভাগাভাগি’র ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। শরিকরা যেসব এলাকায় নির্বাচন করতে চায়, সেগুলোর প্রাথমিক তালিকাও প্রধান শরিকদের কাছে দিয়ে সেগুলো নিয়ে দর কষাকষি শুরু করেছে।
এদিকে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন নতুন জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সম্প্রতি সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্প ধারা, কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য ও সাবেক মন্ত্রী আসম রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) যুক্তফ্রন্ট নামে নতুন জোট গঠন করেছে। এছাড়া কিছু দিন আগে ইসলামি ঘরানার দলগুলোকে নিয়ে ৫০ দলীয় জোট ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে বিএনএ নামে নতুন জোট গঠন হয়। এই জোটটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে সরব বিশ্ব ; বিক্ষোভের কেন্দ্রে মার্কিন দূতাবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রবিবার বিভিন্ন দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও। দেশে দেশে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সামিল হয়েছে বিভিন্ন জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষ। কোথাও রাজনৈতিক দল, কোথাও আবার স্থানীয় চার্চ, কোথাও মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগে এইসব বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোথাও সেই বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠেছে বলেও খবর মিলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের মানুষ জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন শত শত মানুষ। অনেকে আবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত জায়নবাদবিরোধী ইহুদিরাও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মিসিসিপিতে সিভিল রাইটস মিউজিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতির কথা শুনে অনেকে তা বর্জন করার ঘোষণা দেন। তারা ট্রাম্পকে বর্ণবাদী আখ্যা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংগঠন দ্য ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট ফর কালারড পিপল (এনএএসিপি) ট্রাম্পকে ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনিদের জন্য কিছু করেননি।
ব্রিটেনে হাজার হাজার মানুষ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহামসহ দেশটির প্রায় ১০টি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রার্থনার আয়োজন করে দক্ষিণ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি গির্জা। এ উদ্যোগ গ্রহণকারী গির্জার নেতাদের একজন রেভেরেন্ড নোতুথুকু নোকোসি। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার খ্রিস্ট ধর্মীয় গুরু হিসেবে আমরা আশা করছি ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের যে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে তার অবশ্যই নিরসন হতে হবে। আমরা ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানদের দুর্ভোগের কথা বললেও আমরা জানি একজন ফিলিস্তিনি যে ধর্মেরই হোক না কেন তাকে ইসরায়েলের দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়।
জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মিসরের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভের একটি অনুষ্ঠিত হয়েছে কায়রোতে জার্নালিস্ট সিন্ডিকেটের সামনে। সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হামদীন সাবাহি, মানবাধিকারকর্মী তারিক আল-আওয়াধি এবং কেফায়া আন্দোলনের প্রতিনিধিরাসহ উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা এ বিক্ষোভে অংশ নেন। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির সরব ভূমিকা না থাকায় নিন্দা জানিয়েছেন তারা। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোবকারীরা বলেন, ‘দুঃখিত ফিলিস্তিন, আমরা এক জায়নবাদী সরকারের শাসনাধীন আছি।’
জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে লেবানন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে রবিবার বিক্ষোভকারীরা দেশটির রাজধানী বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিয়েছে পুলিশ। এসময় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
জেরুজালেম ইস্যুতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে রবিবার ইন্দোনেশিয়ায়ও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দেশটির রাজধানী জাকার্তায় মার্কিন দূতাবাসের সামনে গিয়ে ট্রাম্পের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। ইন্দোনশিয়ার ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল পিকেএস এর আয়োজন করে।
শেহাব.পিএস এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট রমজান কাদিরভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জেরুজালেমকে জায়নবাদী রাষ্ট্রের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে ‘রক্তাক্ত সংঘাতের প্রান্তে’ ঠেলে দিচ্ছেন। কাদিরভের আশঙ্কা, এর মধ্য দিয়ে আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত ইন্তিফাদা শুরু হবে এবং তা বিস্তৃত হয়ে যুদ্ধে রূপ নেবে।
চলতি মাসের শেষের দিকে বৈঠক করার জন্য মিসরের কপটিক চার্চকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়ে সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে কপটিক চার্চ। মিসরে প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানদের নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রোটেস্ট্যান্ট কমিউনিটি অব ইজিপ্ট এর প্রেসিডেন্ট রেবেরেন্ড আন্দ্রিয়া জাকি শুক্রবার দৃঢ়ভাবে জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের শহর হিসেবে উল্লেখ করেন। এ প্রশ্নে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশ্বের দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার সিরিয়ার ইয়ারমুকের শরণার্থী শিবিরেও বিক্ষোভ হয়েছে। তারা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একইদিন তুরস্কের ৩৯টি এলাকায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।ট্রাম্পের ওই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বিশ্বে। প্রতিবাদ বিক্ষোভের মুখে তিউনিসিয়ায় মার্কিন দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্ক ছিন্নের প্রস্তাব দিয়েছে আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাশিয়া, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, লেবাননসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তুরস্কের প্রেসডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। শুধু প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ না থেকে জেরুজালেম ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলোকে গঠনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাতার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সোমবার আবারও মাঠে নামবে রংপুর-কুমিল্লা

বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যায় আবারও মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও রংপুর রাইডার্স। বৃষ্টির কারণে রবিবার দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কমিটি। তবে আজ যেখান থেকে খেলা বন্ধ হয়েছে, ঠিক সেখান থেকে আবারও খেলা শুরু হবে।

এর আগে, রবিবার সন্ধ্যায় টস জিতে রংপুর রাইডার্সকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় কুমিল্লা। তবে খেলা শুরুর ৭ ওভারের মাথায় বৃষ্টি বাগড়া দিলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ে জনসন জনসন চার্লসের ৪৬ রানের ওপর ভর করে এক উইকেট হারিয়ে রংপুর রাইডার্স তুলতে সক্ষম হয় ৫৫ রান। তবে ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইলকে হারাতে হয়েছে রংপুরকে। ফলে রংপুরের হয়ে আগামীকাল ব্যাটিংয়ে নামবেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান জনসন চার্লস ও ব্রান্ডন ম্যাককালাম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আদার অজানা গুণাগুণ!

নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাসে মারাত্মক বেশ কিছু রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আদার গুণাগুণ এবং শারীরিক সমস্যা নিরাময়ে আদার ব্যবহার সকলেরই জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। জেনে নিন আদার অজানা গুণাগুণ-

১. বমিভাব বা বমি হচ্ছে অনেক? আদা কুচি করে চিবিয়ে খান অথবা আদার রসের সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করুন। তাৎক্ষণিক সমাধান পেয়ে যাবেন।

২. উল্টাপাল্টা এবং বেশি ভাজাপোড়া খাবারের কারণে বুকজ্বলার সমস্যা হুট করেই শুরু হতে পারে। এক কাজ করুন, ২ কাপ পানিতে ২ ইঞ্চি আদা ছেঁচে জ্বাল দিয়ে চায়ের মতো তৈরি করে পান করুন। বুকজ্বলা কমে যাবে।

৩. আদার রস ব্যথানাশক ঔষধের মতো কাজ করে। সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন আদার রস অথবা পান করে নিতে পারেন, দুভাবেই ভালো উপকার পাবেন।

৪. নতুন আদার সাথে আধা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি করে।

৫. আদা হজমে সমস্যা সমাধান করে এবং পেটে ব্যথা দূর করতে সহায়তা করে।
প্রতিদিন সকালে ১ কাপ আদা চা পান করলে পুরোদিন পেট ফাঁপা বা বদহজম থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় বিভিন্ন আয়োজনে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অফ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এর জেলা শাখার উদ্যোগে এক মানববন্ধন, বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের পুরাতন কোর্ট আইনজীবী ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্ত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস এর সাতক্ষীরা জেলা শাখার চেয়ারম্যান মো: সাকিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য এ্যাডভোকেট শাহনওয়াজ পারভীন মিলি, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হোসেন, জেলা সৈনিক লীগের সভাপতি মাহমুদ আলী সুমন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বরসা এনজিও এর সহকারী পরিচালক নাজমুল আলম মুন্না, মানবাধিকার সংস্থা হেড এর নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাঈন, সাংবাদিক ইফরাদ হোসেন ইমন, চুপড়িয়া মহিলা সংস্থার সভানেত্রী মরিয়ম মান্নান, শিক্ষক আজিজুল ইসলাম বিশিষ্ট সমাজসেবিকা সালমা বেগম। এ সময় প্রধান অতিথিসহ সকল অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় প্রধান অতিথি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার রক্ষা করতে হলে সবার আগে নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে এবং সচেতন হতে হবে। বক্তব্য, সেমিনার, অনুষ্ঠান করে মানবাধিকার রক্ষা করা যাবে না এর জন্য চাই নিজ নিজ অবস্থান বজায় রেখে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
এ সময় জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সমাজ আজ দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ। আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি যেখানে দুর্নীতিতে প্রতিরোধ করার লোকসংখ্যা খুবই নগণ্য। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধ না করলে সমাজ পরিবর্তন হবে না। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ছেলে মেয়েরা পড়াশুনার নামে কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, একটু খবর নেন, তাদের চলাফেরায় লক্ষ রাখুন।
উক্ত আলোচনা সভায় এ্যাডভোকেট সরদার সাইফ এর সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান বিপুল, শোভাযাত্রার নেতৃত্বে ছিলেন জি. এম নাজমুল আরিফ সাহেদ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেষ রক্ষা হলো না জেলা পরিষদের মাহাবুবের! বদলি ঠেকাতে করা রিট খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের বহুল আলোচিত প্রভাবশালী প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস.এম মাহাবুবর রহমান বদলি ঠেকাতে হাইকোর্টে রিট করেও তার শেষ রক্ষা হলো না। মহামান্য হাইকোর্ট ডিভশনের বেঞ্চ তার রিটটি খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে তাকে পূর্বের বদলির অর্ডার বহাল থাকছে এবং তাকে বদলিকৃত কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে।
এদিকে, রবিবার বিকালে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের নোটিশ জারিকারক নোটিশটি নিয়ে জেলা পরিষদে গেলে নোটিশ জারীকারককে আটকে রেখে নোটিশটি ভূয়া বলে আখ্যায়িত করেন বিতর্কিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুব। এসময় মাহবুবুর রহমান জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এন.এম মঈনুল ইসলামকে বলেন, স্যার দেখেন নোটিশটি ভূয়া। এতে হাইকোর্ট বেঞ্চের সিলসহি নেই। এব্যাপারে জেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, জেলা পরিষদের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পরিচালিত হচ্ছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহরে মুক্তিযোদ্ধা চেয়ারম্যান স. ম আব্দুর রউফ কমপ্লেক্স ও এতিমাখানা। জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত এসএম মাহবুবুর রহমান একই স্থানে ২৭ বছর কাজ করার সুবাদে পেশি শক্তিকে ব্যবহার করে তিনি তার বাবার নামে এ প্রতিষ্ঠান তৈরি করে জেলা পরিষদ থেকে নেওয়া ও প্রকল্প বরাদ্দ বাবদ কয়েক কোটি টাকা শিক্ষক- কর্মচারিদের বেতন, শিক্ষার্থীদের বোর্ডিং খরচ ও অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বেআইনিভাবে এসব টাকা অপচয় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে নানা অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা ইন্টারমিডেট হয়েও তিনি ষাটলিপিকার থেকে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এখানেই শেষ নয় চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে নানা অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে একটানা ২৭ বছর চাকরি করছেন। তার এ খুটির জোর কোথায়? সচেতন মহলের দাবি ঐ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে আইনের আনতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক মামলা হওয়া উচিত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাইকিং ও হাইড্রোলিক হর্নে অতিষ্ঠ সাতক্ষীরার নাগরিক জীবন

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : আধুনিক যুগেও মধ্যযুগীয় প্রচারণার শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ সাতক্ষীরা শহরবাসী। প্রচারণার ক্ষেত্রে মাইকের ব্যবহার এখনো ব্যবসায়ীদের কাছে আস্থার প্রতীক। আর এ কারণে শব্দ দূষণ মাত্রারিক্তভাবে বেড়ে চলেছে। শব্দ দূষণের ক্ষেত্রে মাইকের পাশাপাশি গাড়ির হাইড্রোলিক হর্নও মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে জনজীবনে। জেলা শহর ছাড়াও মফস্বল শহরের অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তিগত গাড়ি অনেক বেশি। বছরের সকল সময়ে মাইক ও স্পিকার বাজিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রচার প্রচারণা চালানো, পোল্ট্রি মুরগী, গরু, মহিষের মাংস বিক্রয়ের বিজ্ঞাপন, মোবাইল কোম্পানির সিম বিক্রি, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের হর্নের শব্দে অতিষ্ঠ সাতক্ষীরাবাসী। এছাড়াও কোচিং নিয়ে মাইকে প্রচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, পৌরশহরে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২টি গাড়ি মাইক নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পোল্ট্রি মুরগী, গরু, মহিষ মাংস বিক্রয়ের বিজ্ঞাপন, স্লোগান নানা অফার, বিভিন্ন ক্লিনিকে ডাক্তারদের রোগী দেখার (বিএমডিসি’র নিয়ম অনুযায়ী এটা করার কোন সুযোগই নেই) বিজ্ঞাপনী প্রচার বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। এতে প্রতিনিয়ত মানুষজন নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বধির হওয়া থেকে শুরু করে মাথায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের উপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ বিজ্ঞাপনের জন্য মানুষ এখনও মাইক চালায়। আরকি কোন মাধ্যম নেই?
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের নাক, কান ও গলার চিকিৎসক ফারুকুজ্জামান বলেন, অতি উচ্চ মাত্রায় শব্দ দূষণের ফলে যে কোন বয়সে মানুষের শারিরীক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে শিশুদের মধ্যে এ ঝুঁকি বেশি।
শহরের একজন প্রবীণ নাগরিক বলেন- “বাবা শহরে শব্দ দূষণে খুবই অতিষ্ঠ। হয়তো কিছুদিন বাঁচতাম তা আর হবে নাÑ মাইকসহ গাড়ির হর্নের শব্দে। খালি আওয়াজ আর আওয়াজ। বাড়ির আশেপাশে রাস্তায় মাইকের আওয়াজ গাড়ির হর্নের শব্দে মানব জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।”
শহর ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে স্কুলগামী ছাত্র ছাত্রীরা গাড়ির হর্ন এর কারনে কানে হাত দিয়ে দাড়িয়ে যায়। তাদেরকে এসময় খুব আতংকিত মনে হয়। শুধু শহর নয় শব্দ দূষণের এ মাত্রা গ্রামের হাট-বাজার এলাকাসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু পৌরশহরে নয় গ্রামাঞ্চলে ও নানা ভোগান্তির সাথে শব্দ দূষণ একটি নিয়মিত ভোগান্তিতে রুপ নিয়েছে। সকাল বিকেল, রাত গভীর রাত পর্যন্ত শহরের হাট বাজার মাঠ, রাস্তা সর্বত্রই শব্দ দূষণ অনিয়ন্ত্রিত, মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এ শব্দ দূষণের মাত্রা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় ইবাদত, প্রার্থনারত, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী, মেডিকেল, ক্লিনিকের অসুস্থ রোগীদের জন্যে শব্দ যন্ত্রণায় অস্বস্থিকর অবস্থার পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। শহরে যান চলাচলে অযৌক্তিকভাবে হর্নের আওয়াজ হৃদরোগী, হার্টরোগী, নারী-শিশুদের মারাত্মকভাবে শব্দ দূষণের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল বলেন, মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাইকের শব্দ ও গাড়ির হাইড্রোলিক হর্নের দ্বারা শব্দ দূষণের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আমরা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
নাগরিকদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে রাস্তা মার্কেট, বাজারে বের হতে হয়, ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল কলেজে শিক্ষার উদ্দেশ্যে বের হতে হয়, পথে তাদের পড়তে হচ্ছে শব্দ দূষণের কবলে। গাড়ীর হর্নের বিকট আওয়াজ রাস্তায় গাড়ীতে যাত্রী চলাচলের অনিরাপদ হয়ে পড়ছে, প্রশাসন, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনসমূহ মাঝে মধ্যে দু’একটা কথা বললেও প্রশাসনের তেমন গরজ দেখা যায় না। শব্দ দূষণের ফলে হৃদরোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অতিমাত্রায় গাড়ীর হর্ন বাজানো, প্রয়োজন অপ্রয়োজনে গাড়ীর হর্ন, মাইকিং নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। আইন থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ মাঠে দেখা যাচ্ছে না। ফলে শব্দ দূষণের হাত থেকে নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ হয়ে আছে। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া চাই। অনুষ্ঠান আয়োজনকারীদেরকে আইনের মাধ্যমে যেখানে অনুষ্ঠান সেখানেই মাইকের ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাইকের ব্যবহার, হর্ন বন্ধ করতে হবে। আইনগতভাবে রাস্তায় একাধিক মাইক ব্যবহারে কঠোর হতে হবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে। মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পৌরসভা ও থানা পুলিশকে মাইকের সংখ্যা উল্লেখ পূর্বক অনুমতি থাকতে হবে। মানুষ জন চলাচলের বাইরে বিল বা স্কুল মাঠে অনুমতি সাপেক্ষে মাইক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে মাইক ব্যবহার করা যায়, এর পাশে রাস্তার পাশে মিটিংয়ের নামে দীর্ঘ এলাকা জুড়ে মাইকের ব্যবহার নাগরিকগণ ভালভাবে দেখছে না। এতে করে আয়োজনকারীদের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজনের দেখাদেখি অন্যজনেরাও লোকের চেয়ে মাইকের ব্যবহার বেশি করতে দেখা যাচ্ছে।
উচ্চস্বরে কথা বলা, আওয়াজ করা, মোবাইলে বিকট আওয়াজে বাক্য বিনিময় করা, হাঁটা চলায় অন্যের ক্ষতি করে হাত পা নেড়ে ফুটপাত দখল করে হাঁটা গাড়ীর হর্ন মাত্রাতিরিক্তভাবে বাজানো, যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং, ফুটপাত দখল করে যান চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করা সবকিছুই আইনগত অপরাধ। শব্দদূষণ, শব্দ সন্ত্রাস, শব্দ দিয়ে মানুষকে কষ্ট দেয়া অপরাধ। এ অপরাধ থেকে বিরত থাকতে হবে। হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ। তারপরও হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো হচ্ছে। সারাদেশের বিভিন্ন অংশে এ হর্নের বিকট আওয়াজে পথচারীরা অতিষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে শব্দ দূষণের ফলে শ্রবণ শক্তি ও মনোবল কমে যায়, রক্ত চাপ বেড়ে যায়। হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণির চালক তা মানছেন না। ১৯৮৬ সালের মোটরযান বিধিমালা এবং ২০০৬ সালের শব্দ দূষণ বিধিমালায় হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও তার ব্যবহার বিদ্যমান। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকদের চোখের সামনেই আইন ভঙ্গের এ কাজটি চলছে। তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। মসজিদ, মন্দির, গীর্জা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে সব ধরনের হর্ন বাদ্যবাজনা বাজানো নিষিদ্ধ। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। আশা করছি প্রশাসন আর দেরি না করে হাইড্রোলিক হর্নের যন্ত্রণা ও মাইকের আওয়াজ থেকে মুক্তি দিয়ে শব্দ দূষণ থেকে জাতিকে রক্ষা করবেন। জাতি সেটাই প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা করে।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইন্সপেক্টর মারুফ আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি আমাদের চিন্তায় রয়েছে। আমরা শহরের পরিবশে নষ্ট করে এমন মাইকিং নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শীতের শুরুতেই পর্যটকমূখর সুন্দরবন কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার

আসাদুজ্জামান : শীতের শুরু থেকেই পর্যটকমূখর সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক আসতে শুরু করেছে এখানে। আর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে মেতে উঠছে সবাই।

স্বল্প খরচে লোকালয় থেকে খুব কাছে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ভ্রমণ করেই পর্যটকরা উপভোগ করছেন বিশে^র সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের শ^াসমূলে ভরা গেওয়া, গরান, বাইন, পশুর, গোলপাতা, হোগলাপাতা, বানর, হরিণ, কুমির, মদন টাকসহ হাজারো প্রাণ-বৈচিত্র্য।
নৌকা যোগে কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারে নামতেই পর্যটকদের স্বাগত জানায় এক ঝাক বানরের দল। কারও হাতে খাবার দেখলে মাঝে মাঝে ছিনিয়েও নিয়ে যায় তারা। একই সাথে শত শত বানরের বাচ্চার খেলায় মেতে ওঠে সবাই।
ওয়াচ টাওয়ারে উঠে যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। কেউ বানরের সাথে খেলায় মত্ত, কেউবা ছবি কিংবা সেলফি তুলেই হারিয়ে যেতে চান প্রকৃতির মাঝে।
রাজধানীর উত্তরা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা এ্যানি আক্তার জানান, সুন্দরবন ভ্রমণের স্বপ্ন ছিল দীর্ঘদিনের। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। সুন্দরবনের সৌন্দর্যের গুণ বলে শেষ করা যাবে না। সব সময় বইতেই পড়েছি। আজ নিজ চোখে দেখার সুযোগ হলো।

ঢাকার একটি মার্চেন্ডাইং হাউজে কর্মরত পর্যটক আব্দুল্লাহ আল মামুন পরিবার পরিজন নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসেছেন। তিনি বলেন, এই দিয়ে ছয় বার সুন্দরবনে এসেছি। বার বার এখানে আসতে ইচ্ছে করে। তাই ছুটি পেলেই চলে আসি বাংলাদেশের সাহসের প্রতীক রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেশে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নীলডুমুর ট্রলার চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম বলেন, বাংলাদেশের যে পাঁচটি জেলার মধ্যে সুন্দরবন রয়েছে তার মধ্যে একমাত্র সাতক্ষীরা জেলা দিয়েই সড়ক পথে বাস থেকে নেমেই সুন্দরবন দেখা যায়। দেশের যে কোন এলাকা থেকে বাস যোগে শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে নামলেই সামনে পড়বে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। আর একটু ভিতরে যেতে চাইলে লোকালয় থেকে একেবারেই কাছাকাছি কলাগাছিয়া। খুব অল্প খরচে ট্রলারে যাওয়া যায় কলাগাছিয়া। শীতের শুরু থেকেই পর্যটকরা এখানে আসতে শুরু করেছেন।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন-সংরক্ষক শোয়েব খান বলেন, পর্যটন মৌসুম চলছে। সে কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা সুন্দরবনে আসতে শুরু করেছেন। প্রতিদিন শত শত পর্যটক সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ট্যুরিজম সেন্টারে যাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, সুন্দরবন ভ্রমণে বনবিভাগের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতাও করা হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest