ক্যাডারভুক্তির সুযোগ পাবেন বঞ্চিত ৩ শতাধিক কলেজ শিক্ষক

২০১৬ সাল পর্যন্ত সরকারি হওয়া ৪২ কলেজের তিন শতাধিক কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তারা ক্যাডারভুক্তির সুযোগ পাবেন। ২০১২ সালের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদ সৃজনের শর্ত, ২০১৪ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) একটি সুপারিশ, ২০১৩ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সিদ্ধান্ত এবং চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি উচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশের পর ওই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আত্তীকরণের পর তিন বছরের মধ্যে কাম্য যোগ্যতা অর্জনের শর্তেই তারা এ সুযোগ নিতে পারবেন।
মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৮ সাল থেকে দেশের বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৩২৫টি কলেজ সরকারি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তবে ৩২৫টি কলেজের মধ্যে ১৭টি কলেজের সব শিক্ষকসহ ৪২টি কলেজের প্রায় তিনশ’ শিক্ষক, প্রদর্শক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক আত্তীকরণ থেকে বঞ্চিত হন।
বঞ্চিত শিক্ষকদের মধ্যে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ারা চৌধুরী ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক কাজী আমিনুল ইসলামসহ ছয় জন রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৪ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ কলেজ সরকারি হওয়ার পর একই বছর ১৯ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৭ জনের পদ সৃজন করে। পদ সৃজনের শর্তে বলা হয়, উপযুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা যদি কোনও শিক্ষকের না থাকে, তাহলে সরকারি চাকরিতে আত্তীকরণের তিন বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ কলেজের প্রভাষক কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বঞ্চিত এসব শিক্ষকদের মধ্যে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ারা চৌধুরীসহ আমরা ছয় জন শিক্ষক পদ সৃজনের পরও আত্তীকরণ বঞ্চিত হই। এর প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করি। ওই রিটের প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১১ মার্চ দুই মাসের মধ্যে স্বপদে আত্তীকরণের আদেশ দেন আদালত। আদেশে বলা হয়, আত্তীকরণের তিন বছরের মধ্যে কাম্য যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় আত্তীকরণ না করে প্রায় একবছর পর উচ্চ আদালতে আপিল করে। সরকার পক্ষের এই আপিল খারিজ হয়ে যায় ২০১৫ সালের ৮ মার্চ।’
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই সময়ের যুগ্ম-সচিব ড. মো. ফারুক হোসেন ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি শিক্ষকদের নিয়োগের পরামর্শ দেন। ওই পরামর্শে তিনি উল্লেখ করেন, ‘পিটিশনারকে আত্তীকরণ করা যেতে পারে।’ আইনি ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আপিল দায়েরের কোনও মেরিট না থাকায় তা খারিজ হয়ে যায়। বর্তমান স্তরে আপিল রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দায়ের করলে আইনত ফল লাভের বা সরকারের জয় লাভের সম্ভাবনা খুবই কম। উপরন্তু রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হলে রাষ্ট্রীয় অর্থ ও সময় অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে।’
এরপরও মাউশি-এর মহাপরিচালক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান (বিদায়ী সদস্য) আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটরকে (রিট) ২০১৬ সালের ৭ এপ্রিল চিঠি দিয়ে রিভিউ করার অনুরোধ জানান। ওই রিভিউ আবেদন চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি খারিজ করে দেন আপিল বিভাগের একটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। রিভিউ খারিজের কারণে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে। ফলে বঞ্চিত ওই ছয় শিক্ষককে ক্যাডারভুক্ত করে তিন বছরের মধ্যে কাম্য যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘রায়ের পর বঞ্চিত ছয় শিক্ষককে আত্তীকরণ করতে হবে।’ এই রায়ের প্রেক্ষিতে একই রকম বঞ্চিত অন্য শিক্ষকদের মন্ত্রণালয় সুযোগ দিতে বাধ্য কিনা, জানতে চাইলে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘এই রায়ের মধ্যদিয়ে একই রকম বঞ্চিত দেশের অন্যান্য শিক্ষকদেরও সরকারের কাছে আত্তীকরণের দাবি তোলার সুযোগ তৈরি হলো। মন্ত্রণালয় চাইলে আত্তীকরণ করতে পারবে। এছাড়া ভিন্ন রিট করে এই রায়কে রেফারেন্স হিসেবেও কাজে লাগাতে পারবেন অন্য শিক্ষকরা।’
এদিকে, মাউশি-এর একটি সুপারিশেও পদ সৃজনের মাধ্যমে বঞ্চিত বাকি শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্ত হওয়ার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ‘আত্তীকরণ বঞ্চিত শিক্ষক ও অশিক্ষক জাতীয় ঐক্যে’র সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ সাপলু।
এ ব্যাপারে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘২০১৪ সালের ২৪ মার্চ মাউশি-এর তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন পদ সৃজন থেকে বাদ পড়া শিক্ষকদের আত্তীকরণের সুপারিশ করেন।
ফাহিমা খাতুন স্বাক্ষরিত সুপারিশ থেকে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৪ মে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের পর নতুন শিক্ষকদের বাদ দিয়ে তালিকা পাঠানো হয় কলেজ থেকে। পরিদর্শনের সময় কাম্য যোগ্যতা না থাকায় ওইসব শিক্ষেকদের তালিকা পাঠানো হয়নি। কাম্য যোগ্যতা অর্জনের পর আবার নতুন করে পাঠানো তালিকা ধরে আরও সাত জন শিক্ষককে নতুন করে ক্যাডারভক্ত করার সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় (অধিশাখা- ৮) থেকে শেখ মুজিবুর রহমান কলেজের ১১ জন শিক্ষককে আত্তীকরণের জন্য তিন বছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়। উপ-সচিব মালেকা খায়রুন্নেছা স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, তিন বছরের মধ্যে সরকার অনুমোদিত যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগবিধি অনুসারে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করা সাপেক্ষে সরকারি চাকরিতে আত্তীকরণ করা হবে। এসব শিক্ষকদের পরে ক্যাডার হিসেবে আত্তীকরণ করা হয়েছে।
এভাবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সরকারি হওয়া ৩২৫টি কলেজের অনেক শিক্ষক আত্তীকরণের সুযোগ পান। তবে গত বছর নতুন করে ২৮৩টি কলেজ সরকারিকরণের আওতায় নেয় সরকার। এরপর শুরু হয় ‘নো বিসিএস, নো ক্যাডার’ আন্দোলন। পিছিয়ে পড়ে সরকারি হওয়া কলেজের আত্তীকরণ প্রক্রিয়া। আগের সরকারি হওয়া কলেজের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক ক্যাডারভুক্তি থেকে বঞ্চিত হন।
বঞ্চিত শিক্ষকদের আত্তীকরণ করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ড. মোল্লা জালাল সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, ‘কাম্য যোগ্যতা থাকলে সব শিক্ষকদের আত্তীকরণ করা হবে পর্যায়ক্রমে।’ কাম্য যোগ্যতা না থাকলে সেসব শিক্ষকদের আত্তীকরণ করা হবে না।’
সরকার পক্ষের এই বক্তব্যের পর গত ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগে করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। ফলে বহাল থাকে হাইকোর্টের রায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাউশি-এর আইন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন। মাউশি-এর আইন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যারা রিট করেছেন, তারাই বেনিফিট পাবেন। অন্যরা একই রকম হলেও মামলা করেই তাদের বেনিফিট নিতে হবে।’
‘আত্তীকরণ বঞ্চিত শিক্ষক ও অশিক্ষক জাতীয় ঐক্যে’র সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ সাপলুসহ অন্য শিক্ষক নেতারা বলেন, এই রায়ের সুফল পাবেন বঞ্চিত সব শিক্ষকরাই। যদি এক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তাহলে অন্যান্য শিক্ষকরাও তাদের দাবি আদায়ে উচ্চ আদালতে যাবেন।
তারা আরও বলেন, ২০১৭ সালে সরকারি হওয়া ২৮৩টি কলেজের আত্তীকরণও আটকে রয়েছে। যদি নতুন বিধিমালা তৈরির আগে এসব শিক্ষকদের নিয়োগে পদ সৃজন করা হয়, তাহলে যাদের কাম্য যোগ্যতা নেই, তাদেরও শর্তসাপেক্ষে ক্যাডারভুক্ত হওয়ার পথ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।
শিক্ষক আত্তীকরণ নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় দীর্ঘদিন থেকেই সরকার প্রস্তাবিত বিধিমালা চূড়ান্ত করতে পারছে না বলেও জানান শিক্ষক নেতারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কোপা দেল’রে থেকে রিয়ালের বিদায়

লা লিগার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও শেষ ষোলোতে মাঠে নামতে হবে শক্তিশালী পিএসজির বিপক্ষে। এরই মধ্যে ঘরের মাঠে দুর্বল লেগানেসের কাছে ২-১ গোলে হেরে কোপা দেল’রে থেকে বিদায় নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম লেগে ১-০ গোলে জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন ২-২ হলে অ্যাওয়ে গোলে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিল জিদানের শিষ্যরা।

লা লিগায় আগের ম্যাচে লা করুণার বিপক্ষে বড় জয়ের দুই নায়ক রোনালদো ও বেলকে ছাড়াই মাঠে নামে রিয়াল। দুই তারকাকে ছাড়া মাঠে নামা রিয়ালের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ শিবিরে আক্রমণ করে খেলতে থাকে দলটি। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে গোলেরও সুযোগ পান ইসকো। তবে ডি-বক্সে বল পেয়েও শট নিতে ব্যর্থ হন স্প্যানিশ এই তারকা।

পরের মিনিটেই গোল খেতে বসেছিল রিয়াল। তবে ফরোয়ার্ড ক্লাওদির ফ্রি-কিক পোস্টে লাগলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় দলটি। এরপর থেকে রিয়াল শিবিরে একের পর এক আক্রমণ করে খেলতে থাকে লেগানেস। ম্যাচের ৩১ মিনিটে গোলের দেখাও পায় দলটি। রিয়াল ডিফেন্ডারের ভুলে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে চমৎকার বাঁকানো শটে দলকে এগিয়ে দেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার হাভিয়ের এরাসো।

সাত মিনিট পর সমতায় ফেরার সহজ সুযোগ নষ্ট করেন বেনজামা। ইসকোর ক্রস গোল করার মতো পজিশনে পেয়ে বলে মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন ফরাসি এই তারকা। ফলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

বিরতি থেকে ফিরেই সমতায় ফিরে রিয়াল। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে লুকাস ভাসকেসের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে দুরূহ কোণ থেকে গোলরক্ষকের উপর দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন বেনজেমা।

সমতায় ফিরে খুব বেশিক্ষন স্বস্তিতে থাকা হয়নি রিয়ালের। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে স্বাগতিক শিবিরকে স্বব্ধ করে লেগানেসকে আবারও এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার গাব্রিয়েল। পিছিয়ে পরে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় রিয়াল। লুকা মদ্রিচ ও দানি কারভাহালকে মাঠে নামান জিদান। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা আর পায়নি দলটি। ফলে গত আসরের মত স্প্যানিশ ফুটবলের দ্বিতীয় সেরা এই প্রতিযোগিতার থেকে বিদায় নিল ১৯ বারের চ্যাম্পিয়নরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কথাসাহিত্যিক শওকত আলী আর নেই

কথাসাহিত্যিক শওকত আলী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

শওকত আলী দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসে সংক্রমণসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কর্মজীবন শুরু করেন সাংবাদিক হিসেবে। এর কিছুদিন পর শিক্ষকতায় যোগ দেন।

কথাসাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯০ সালে একুশে পদক পান শওকত আলী। পরে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার, অজিত গুহ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার পান।

শওকত আলীর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে, পিঙ্গল আকাশ, প্রদোষে প্রাকৃতজন, অপেক্ষা, গন্তব্যে অতঃপর, ও উত্তরের খেপ। প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাস তাকে এনে দিয়েছিল বিশেষ খ্যাতি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অনীকের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সরকারি শিশু পরিবারে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা-০১ আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ও এ করিম বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন খান লিপির একমাত্র পুত্র অনীক আজিজের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বুধবার দুপুর ২টায় সাতক্ষীরা সরকারি শিশু পরিবারের এতিম বালকদের উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করেন এড.মুস্তফা লুৎফুল্লা এমপি, তার সহর্ধমিনী নাসরীন খান লিপি ও মেয়ে অদিতি আদৃতা সৃষ্টি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চাম্পাফুল আ.প্র.চ. মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের ৯৪তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত
আমিনুর, চাম্পাফুল প্রতিনিধিঃ কালিগঞ্জের চাম্পাফুল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাম্পাফুল আ. প্র.চ. মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের ৯৪ তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হয়েছে। ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি দুই দিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের প্রথম দিন প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মাঈন উদ্দীন হাসান। প্রথম দিন সকাল ৯টার সময় পবিত্র কোরআন তেলোয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুচনা হয় এবং পর্যায়ক্রমে অতিথিবৃন্দের আসন গ্রহণ, স্কাউট ও গার্লস গাইড কর্তৃক বিভিন্ন মহড়া প্রদর্শন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। ২৪ জানুয়ারি ৯৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবসের শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলোয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে। ২য় দিন প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা, সাবেক সফল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ আ.ফ.ম.রুহুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার এস.এম.ছায়েদুর রহমান, জেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার অলোক কুমার তরফদার, আশাশুনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি নীলকণ্ঠ সোম, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চাম্পাফুল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক মোজাম, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিম ও সহকারি শিক্ষক মণ্ডলী। সব শেষে ২০১৬ সালের বৃত্তি প্রাপ্ত, ২০১৭ সালের এস.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ার জন্য পদকে ভুষিত করেন। সার্বিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারি শিক্ষক উদয় ভাস্কর বন্দোপাধ্যায়।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

পর্যটনের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে ‘দ্বীপের রানি’ খ্যাত ভোলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা চরফ্যাশন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সমুদ্র ছুঁই ছুঁই এই এলাকায় নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা ‘জ্যাকব টাওয়ার’। প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের আদলে নির্মিত উপমহাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার এই ওয়াচ টাওয়ারটি গতকাল বুধবার বিকেলে উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

অত্যাধুনিক স্থাপত্যকলার নান্দনিক বৈভব নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ২২৫ ফুট উচ্চতার টাওয়ারটির উদ্বোধনের পর সুধী সমাবেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জ্যাকব টাওয়ারটি বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সব উদ্যোক্তাকে এগিয়ে আসতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘চরফ্যাশনের রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়নের চিত্র দেখে আমি অভিভূত, আনন্দিত।’

চরফ্যাশন পৌরসভার এই টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। প্রায় ২০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। টাওয়ারটির ডিজাইন করেছেন স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন। গত বছর বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ নির্মাণাধীন প্রকল্পটি পরিদর্শন করে এর নামকরণ করেন ‘জ্যাকব টাওয়ার’।

ওয়াচ টাওয়ারটিতে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাইনোকুলার। এর সাহায্যে পর্যটকরা চরকুকরিমুকরি, তারুয়া সৈকত ও বঙ্গোপসাগরের একটি অংশসহ চারপাশের ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পর্যবেক্ষণ ও উপভোগ করতে পারবে। টাওয়ারে উঠতে জনপ্রতি প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।

সরকারি টিবি হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল হামিদ বলেন, ‘চরফ্যাশনের উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। আজ বাস্তবে দেখে আমি মুগ্ধ। আপনাদের ভোটে পর পর দুই দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের নেতৃত্বে এই এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে যাচ্ছে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের পর্যাপ্ত বিকাশ ঘটেছে। সেই চিন্তাধারায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বাধুনিক ও সুউচ্চ জ্যাকব টাওয়ারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে এক নতুন ধারা যোগ হয়েছে। এই টাওয়ার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।’ তিনি বলেন, ‘পর্যটনশিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করতে পর্যটকের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তাই দেশকে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে হলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। ২১ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে হবে। সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।’

সমাবেশে বিশেষ অতিথি আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে চলছিল নির্যাতন। আমাকে ও জ্যাকবকে এলাকায় আসতে দেওয়া হয়নি। কায়কোবাদ হত্যা মামলায় আমাদেরকে আসামি করে জেলে নির্যাতন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ভোলার চারটি আসনের মধ্যে চরফ্যাশন-মনপুরা উপজেলায় জ্যাকব সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন করেছে। চরফ্যাশন একদিন জেলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আমার সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সালমান খানকে বিয়ে করতে চান পপি

বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে বিয়ে করতে চান ঢালিউড নায়িকা পপি। বুধবার একুশে টিভির একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ ইচ্ছা পোষণ করেন।

নাজিম জয়ের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটির র‌্যাপিড প্রশ্নোত্তর পর্বে পপি বলেন, সালমান খানকে বিয়ে করতে চাই, তবে শাহরুখ খানকেও ভাল লাগে।

পপি অারও জানান, পর্দার বাইরে এখনও প্রেম করার সময় পাননি তিনি। তবে অভিনয় করতে করতে প্রেমের প্যাশন কিছুটা অনুভব করতে পারেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চলে গেলেন খেশরা আ.লীগের সেক্রেটারি লাভলু

তালা প্রতিনিধি: তালার খেশরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম লাভলু (৪৫) আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার সকালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি…..রাজেউন)। মরহুম তৌহিদুল ইসলাম সদালাপী, সৎ, বন্ধুসুলভ এবং ১০ নং খেশরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি উপজেলার দক্ষিন শাহাপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ মাষ্টারের ছেলে।
মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তৌহিদুল ইসলাম লাভলু রাজনীতির পাশাপাশি আশাশুনি উপজেলার গুনাকরকাটি আজিজিয়া ফাযিল মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। এছাড়া তার স্ত্রী আশাশুনি মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করতেন। চাকরির সুবাদে লাভলু পরিবার নিয়ে আশাশুনি সদরে বসবাস করতেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টি দিকে আশাশুনি বাসার পুকুরে গোছল শেষে রুমে ফেরার সময় আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং তৎক্ষনাৎ মৃত্যুবরন করেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় সহ তালার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি বৃদ্ধ পিতা, মাতা, স্ত্রী, ২ পুত্র, ভাই, বোন ও আত্মীয় স্বজন সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী এবং শুভাকাংখী রেখে গেছেন।
এদিন বিকালে মরুহম লাভলুর জানাযা নামাজ শেষে শাহাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে শোকাবহ পরিবেশের মধ্য দিয়ে দাফন করা হয়। এর আগে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, তালা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহা বিদ্যালয়ের অধক্ষ এনামুল ইসলাম, জেলা আ.লীগ নেতা প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু, নগরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপু, সরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি আজিজুর রহমান, তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারন সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সরদার, তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সরদার জাকির হোসেন, ইসলামকাটী ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র সেন, মাগুরা ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান গনেশ দেবনাথ, খলিশখালী ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক মোজাফ্ফর রহমান ও ইউনিয়ন আ.লীগ সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক সমীর কুমার দাশ, খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রাজিব হোসেন রাজু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস. এম. লিয়াকত হোসেন, খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আািজজুর রহমান রাজু, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য সাংবাদিক মীর জাকির হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম হিল্লোড়, আ.লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এম. ফজলুল হক, অধ্যাপক এম. এ গফ্ফার, জেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রব পলাশ ও তালা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সরদার মশিয়ার রহমান রহ রাজনৈতিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সহ¯্রাাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest