কালিগঞ্জে রোকেয়া দিবস পালিত

কালিগঞ্জ ডেস্ক : কালিগঞ্জে বেগম রোকেয়া দিবস ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে ৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালি শেষে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সন্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু’র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান। সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহফুজ আলম প্রমুখ। ২০১৭ সালের শ্রেষ্ঠ জয়িতারা হলেন অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জন কারী নারী জয়িতা মথুরেশপুর ইউনিয়নের নিজদেবপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী আছমা খাতুন।শিক্ষা ও চাকুরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন কারী নারী কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজারগ্রামের নিত্যানন্দ সরকারের স্ত্রী কণিকা সরকার।সফল জননী নারী হলেন মৌতলা ইউনিয়নের পূর্ব মৌতলা গ্রামের শেখ কহিনুরের স্ত্রী রৌউফা বেগম। নির্যাতনের বিভাষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্দ্যেমে জীবন আরম্ভ করলেন যে নারী মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী জেবুন্নেছা খাতুন। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছে যে নারী ধলবাড়ি ইউনিয়নের দাড়িয়ালা গ্রামের শুভাষ চন্দ্র মন্ডলের স্ত্রী শিখা রানী মন্ডল। এসময় পাঁচজন শ্রেষ্ট জয়িতার মাঝে সন্মাননা সনদ ও ক্রেষ্ট প্রদান করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

 

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে বিএনপি-সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপের সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কোন পার্টি ইলেকশনে অংশ নেবে, আর কোন পার্টি নেবে না, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। এত সাধাসাধির কি বিষয় হলো আমি তো বুঝলাম না।
তবে গতবার তারা (বিএনপি) যে ভুল করেছিল এবার হয়তো তা করবে না। এবার নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে, সেটাই মনে হচ্ছে। ’ আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোনো সময় নির্বাচন হতে পারে। তবে আমরা এমন কোনো দৈন্যদশায় পড়িনি যে এখনই নির্বাচন দিতে হবে। ’

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে তথ্য জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রশ্নোত্তর পর্বে ওই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে জানাতে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
এ সময় কম্বোডিয়া সফরের বাইরেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে প্রশ্ন উঠে আসে। আগাম নির্বাচন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসতে সরকারের তরফে উদ্যোগের সম্ভাবনা, রোহিঙ্গা সমস্যা, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রক্রিয়া, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতিসহ নানা বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

জেরুজালেম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমার কাছে মনে হয় এটা ইসলামিক ওয়ার্ল্ডে কারো কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এখানে জাতিসংঘের রেজল্যুশন রয়েছে। রেজল্যুশন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আমরা মনে করি, ফিলিস্তিনের একটা অধিকার রয়েছে। তাদের একটা নিজস্ব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে। ’

বিএনপিকে নিয়ে অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এখানে মাল্টিপার্টি সিস্টেম। কোন পার্টি ইলেকশনে অংশ নেবে আর কোন পার্টি নেবে না, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। তারা যদি নির্বাচনে আসতে চায় তো আসবে। যদি না করতে চায় তবে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। এখানে তো আমাদের কিছু বলার দরকার নাই। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে আসা প্রত্যেকটা দলেরই কর্তব্য। যে দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, যারা নিজেদের দলেও গণতন্ত্রের চর্চা করে না, তারা নির্বাচন করবে কি করবে না, এটা তাদের দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের করণীয় কিছু নেই। ’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বরণ ডালা পাঠাতে হবে? একবার তাঁর (খালেদা জিয়া) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে আমন্ত্রণ জানিয়ে ঝারি খেয়েছি, অপমানিত হয়েছি; আর ঝারি খাওয়ার-অপমানিত হওয়ার ইচ্ছে নেই। যাদের মধ্যে ভদ্রতা জ্ঞান নেই, তাদের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছে নেই। বিএনপিকে নির্বাচনে আনা নিয়ে যদি আপনাদের এতই আগ্রহ থাকে তাহলে তেলের টিন, ঘিয়ের টিন নিয়ে সেখানে যান। আমি অপাত্রে ঘি ঢালি না। তবে গতবার তারা (বিএনপি) যে ভুল করেছিল এবার হয়তো তা করবে না। এবার নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে, সেটাই মনে হচ্ছে। ’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এতিমের টাকা মেরে খাওয়া, মানি লন্ডারিং, সৌদিতে আরো সম্পদ পাওয়া এসবের বিচার হবে। তবে বিচারের হাত থেকে বাঁচার জন্য যদি জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর শুরু করে, এবার কিন্তু জনগণ ছাড়বে না। জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। জনগণকে পুড়িয়ে মারা কেউই বরদাস্ত করবে না। ’

আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোনো সময়ে কিন্তু নির্বাচন হতে পারে। তবে আমরা এমন কোনো দৈন্যদশায় পড়িনি যে এখনই আগাম নির্বাচন দিতে হবে। আমরা উন্নয়নের কাজগুলো দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই এগুলো দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে। কারণ আমরা না থাকলে উন্নয়নের কাজগুলোর যে কী দশা হয় তা আমরা অতীতে দেখেছি। ’

ক্ষমা করে দিয়েছেন, না ক্ষমা চাচ্ছেন : সম্প্রতি আদালতে একটি মামলার শুনানি চলাকালে খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষমা করে দিয়েছেন? উনি কিসের ক্ষমা করে দিয়েছেন? ২১ আগস্ট আমাকে যে হত্যার চেষ্টা করেছিল, গ্রেনেড মেরেছিল, বেঁচে গিয়েছি, সেই কথা বলছেন? ক্ষমা করে দিয়েছেন না ক্ষমা চাচ্ছেন সেটা স্পষ্ট না। আমি কোনো অপরাধ করেছি নাকি যে আমাকে ক্ষমা চাইতে হবে? বরং তার উচিত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া। তাদের সময়ে দুজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহ এম এস কিবরিয়া ও আহসানউল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করা হলো, কিন্তু সংসদে আমাদের আলোচনা পর্যন্ত করতে দিল না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর এতগুলো মানুষ হত্যা করা হলো, কিন্তু সংসদে আমাদের একটা কথা বলতে দেয়নি। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর (খালেদা) বিরুদ্ধে যে মামলা তার একটাও কিন্তু আমাদের সরকার দেয়নি। বরং তাঁদের আমলে আমার বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজনের মতো মামলা দেওয়া হয়েছিল। ’

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সব মামলা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দেওয়া জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার কারা? সবাই ওনার (খালেদা) লোক। ৯ জন ডিঙ্গিয়ে মঈন উকে সেনাপ্রধান করেছিল, বিশ্বব্যাংকে চাকরি করছিল ফখরুদ্দীন সাহেব, তাঁকে সেখান থেকে এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়। আর ইয়াজউদ্দিন তো উনারই ইয়েসউদ্দিন। সব ওই আমলের মামলা। ’

সম্পত্তি পাচারের বিচার হবে : সৌদি আরবে সম্পত্তি পাচারের দায়ে দেশের প্রচলিত আইনে খালেদা জিয়ার বিচার হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘জনগণের টাকা যারা এভাবে বাইরে নিয়ে গিয়ে বিলাসব্যাসনে ব্যয় করছে, আমার দেশের মানুষকে বঞ্চিত করছে, দেশের মানুষ তাদের বিচার করবে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের আইন অনুযায়ী নিশ্চয়ই তাঁর (খালেদা) বিচার হবে। কারণ এটা হওয়া উচিতও। দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়ে বাইরে সম্পত্তি বানানোর কী অধিকার আছে, সেটা আমারও প্রশ্ন। এই ব্যাপারে আমি মনে করি, আপনাদেরও আরো সোচ্চার হওয়া উচিত, জনমত সৃষ্টি করা উচিত। অবশ্যই এর বিচার হবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। ’

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলমান রয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আজ হোক কাল হোক একদিন না একদিন তাকে আসতেই হবে এবং কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। ’

মধ্যপ্রাচ্যে খালেদা জিয়ার সম্পত্তির খবর বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে তেমন জায়গা না পাওয়ায় সংবাদকর্মীদের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সৌদিতে বিশাল শপিং মল, সম্পদ পাওয়া গেছে—এটা তো আমরা কিছু করিনি। বিদেশ থেকেই সংবাদটাই এসেছে। বরং বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিউজটা করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখলাম না, রহস্যটা কী? আপনারা কি বিনা পয়সায় শপিং করার কোনো কার্ড পেয়েছেন? এ ধরনের নিউজ আমার ব্যাপারে হলে আপনারা তো হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। আমাদের অপরাধ কী? আমরা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বলে! আর খালেদা জিয়া সব কিছুতে মাফ পায় কেন? যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে, জাতির জনকের খুনিদের মদদ দিয়েছে, সে জন্য কি তাদের সাতখুন মাফ? আমি কোনো পত্রিকাতে এটা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করতে দেখলাম না। ’

এমপিরা রেড জোনে কেউ নাই : আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলের পক্ষ থেকে যেসব জরিপ চালানো হচ্ছে সেখানে বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে হারের শঙ্কা আছে কতজনের—এমন প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অন্তত রেড জোনে কেউ নাই। আমাদের এমপিরা কে কেমন কাজ করছে, কার পজিশন কেমন, কার গ্রহণযোগ্যতা কেমন, সেটা তো আমাকে দেখতে হবে। তবে সেটা এখানে বলার মতো নয়। আমি যদি কারো কোনো দুর্বলতা দেখি নিশ্চয়ই সঙ্গে সঙ্গে তাকে সতর্ক করি। এই যে আমরা সার্বিকভাবে উন্নয়নটা করে যাচ্ছি এটা কিন্তু সুষম উন্নয়ন। সকলেই এর সুফলটা ভোগ করছে। এখন মানুষ যদি দেশের উন্নয়নটা চায় নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে তারা বেছে নেবে। বরং আমরা আরো নতুন নতুন সিট পাব এটা আশা করি। এখনো তো আরো এক বছর। এক বছর পরে হয়তো নির্বাচন। এর তিন মাস আগে প্রক্রিয়া শুরু। কাজেই যেখানে যেখানে পরিবর্তন দরকার মনে করব, সেখানে পরিবর্তন হবে। এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার। ’

শত ফুল ফুটতে দাও : আগামী নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগের অসংখ্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শত ফুল ফুটতে দাও। অনেক প্রার্থী হোক ভালো কথা, কারণ এটা তো সবার রাজনৈতিক অধিকার। কেন সবাই প্রার্থী হতে পারবে না? হোক না! যেসব ফুল ফুটবে সেগুলোর মধ্যে কোনটা সবচেয়ে ভালো, সুন্দর, সেটা বেছে নেব। ’

আগামী দিনে যেমন সরকার দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তাদের সময়েই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপন হবে। সে সময়ে কেমন বাংলাদেশ, কেমন সরকার দেখতে চান—জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি চাইব এ দেশে যারা স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি, যারা ধারক-বাহক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা দেশকে গড়ে তুলতে চায়, তারাই ক্ষমতায় আসুক, তারাই সংসদে থাকুক। এ দেশে যেন কোনো যুদ্ধাপরাধী, কোনো খুনি, তাদের যেন স্থান না হয়। হলে দেশ আবার ধ্বংসের দিকে চলে যাবে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাইব যে উন্নয়নের গতিধারা সৃষ্টি হয়েছে সেটা অব্যাহত থাকুক। খুব স্বাভাবিকভাবে যারা এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে পারবে, যারা দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, দেশকে পেছনের দিকে টানবে না, সত্যিকারে জনগণের কল্যাণ চায়, তারাই নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করুক, ক্ষমতায় আসুক। সংসদে যেন নোংরা কথা, খিস্তিখেউড় না শুনতে হয়। একটা ভদ্র পরিবেশ, একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ আমরা চাই। ’

জেরুজালেমকে রাজধানীর স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য নয় : জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে স্বীকৃতি দিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকার রাষ্ট্রপতি সুয়োমোটো যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমার কাছে মনে হয় এটা ইসলামিক ওয়ার্ল্ডে কারো কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। জাতিসংঘের রেজুলেশনকে এভাবে অগ্রাহ্য করা কেউ বোধ হয় মেনে নেবে না। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মনে করি, ফিলিস্তিনের একটা অধিকার রয়েছে। তাদের একটা নিজস্ব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের (আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ) পরে তাদের যে ভূখণ্ডটা এবং যে সীমানাটা তাদের ছিল, যেটা তাদের রাজধানী হওয়ার কথা, সেটাই থাকা উচিত। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে এভাবে একতরফাভাবে করা মানে অশান্তি সৃষ্টি করা। যে শান্তিপ্রক্রিয়া আমেরিকাই শুরু করেছিল, যার জন্য নোবেল প্রাইজও দেওয়া হলো; এখন এই ঘোষণায় তা অশান্তির পথে ঠেলে দেওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ’ ফিলিস্তিনের জনগণ যাতে তাদের ন্যায্য অধিকার পায়, সে ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ : খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশ মোতাবেক কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন কলেজে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলার নলতা কলেজ ছাত্রলীগের উদ্যোগে মিছিল বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হোসেন, ছাত্রনেতা তারিকুল ইসলাম তারিক, নলতা কলেজ ছাত্রলীগের নেতা মামুন হোসেন, আজিজুর রহমান নয়ন, রূপমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া তারালী কাজী আলাউদ্দিন কলেজ ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত। মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সরদার আশরাফুল ইসলাম। এছাড়া উপজেলার কালিগঞ্জ কলেজ, রাজবাড়ী কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ছাত্রলীগের আয়োজনে ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সংগঠনকে আরো গতিশীল করতে আব্দুল্যাহ আল মামুনকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি রাশেদুজ্জামান রাশি ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সখিপুর আহ্ছানিয়া মিশন ভবনের ২য় তলা উদ্বোধন

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটার সখিপুর আহ্ছানীয়া শাখা মিশনের ২য় তলা ভবন উদ্বোধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় সখিপুর মোড়স্থ শাখা আহ্ছানীয়া মিশনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সখিপুর আহ্ছানীয়া শাখা মিশনের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সালামতুল্যাহ গাজীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নলতা পাক রওজা শরিফের খাদেম আলহাজ্ব মৌলভী আনছার উদ্দীন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আহ্ছানীয়া মিশনের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আলহাজ্ব সাঈদুর রহমান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ন-সচিব খলিলউল্যাহ্। অন্যান্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় মিশনের কর্মকর্তা ডাঃ আকবর হোসেন, আলহাজ্ব আবুল ফজল, খায়রুল হাসান, মহাসিন হালদার, শিক্ষক আলহাজ্ব মুজিবর রহমান, নলতা শরিফ শাহী জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব মাওলানা আবু সাঈদ রংপুরী ও পেশ ইমাম আলহাজ্ব হাফেজ শামছুল হুদা, কেন্দ্রীয় মিশনের আজীবন সদস্য ও নলতা শরীফ প্রেসক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মহসিন, সখিপুর আহ্ছানীয়া মিশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোখলেছুর রহমান মোখলেছ, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনছার আলী, সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মাদ, কার্যনির্বাহী সদস্য ও আইডিয়ালের পরিচালক ডাঃ নজরুল ইসলাম, সরদার আমজাদ হোসেন, মহিলা কলেজের অধ্যাক্ষ আবুল কালাম, কেবিএ কলেজের উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ, মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুর রহমান, দেবহাটা কলেজের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, আবুল হোসেন বকুল, আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ, সাবেক মেম্বার এবাদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, কামরুল ইসলাম, রিয়াজুল মোল্যা, আব্দুল গফুর, সখিপুর মিশনের জমিদাতা সিরাজুজ্জামান ও রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন মিশনের কর্মকর্তা, সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। শুরুতে ফিতাকেটে ভবনের উদ্বোধন করেন নলতা পাক রওজা শরিফের খাদেম আলহাজ্ব মৌলভী আনছার উদ্দীন আহমেদ। উদ্বোধন শেষে মিলাদ শরীফ পরিচালনা করেন নলতা শরিফ শাহী জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্ব হাফেজ শামছুল হুদা এবং দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন খতিব আলহাজ্ব মাওলানা আবু সাঈদ রংপুরী। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন সখিপুর শাখা মিশনের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আবু তালেব। এদিকে, রাতে সখিপুর শাখা মিশনের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নাবী(সঃ) উদ্যাপন উপলক্ষে ওয়াজ মাফিলের আয়োজন করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেবহাটা প্রতিনিধি : বিদেশে জিয়া পরিরাবের সদস্যরা অর্থ পাচার করে কালো টাকার সম্পত্তি গড়ে তোলার প্রতিবাদে মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেবহাটার ঈদগাহ বাজার হতে বিশাল র‌্যালী বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সাবুর আলী খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জীবন, দপ্তর হোসেন, দপ্তর সম্পাদক এনামুল ইসলাম সবুজ, কেবিএ কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাগর হোসেন, কুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আফজাল হোসেন, সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তৌহিদ হাসান, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম দেবহাটা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহছানউল্লা কল্লোল, সহ-সম্পাদক নুর মোহাম্মাদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য কবির হোসেন, ফরহাদ হোসেন, হাইস্কুল বিষয়ক সম্পাদক সোহাগ হোসেন, সুজন, পলাশ, হাবিব, ইব্রাহিম, ফয়সাল, আকরাম প্রমূখ। এসময় বক্তরা বলেন, জিয়া পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশের টাকা মধ্যপ্রাচ্যের ৪টি দেশে পাচার করেছে। খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে বিভিন্ন ব্যংকে টাকা জমা রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট, বিপণিবিতান, সুপারমার্কেট এবং বানিজ্যিক প্লটে বিনিয়োগ করেছে। যা এদেশ থেকে অর্থ চুরি করে বিদেশে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। তাই অতিদ্রুত বাংলাদেশের টাকা ফেরত এনে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয় সমাবেশে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা সিটি কলেজে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রকিবেদক : ‘বিদেশে অর্থ পাচার ও এতিমদের টাকা লুটপাট করার অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়াসহ তার পুত্র তারেক রহমানের গ্রেফতারের দাবীতে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১১ টায় সিটি কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভায় সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হাসানুজ্জামান শাওন। উপস্থিত ছিলেন সদর থানার ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মোখলেছুর রহমান চঞ্চল, সহ-সম্পাদক সোর্হাতো, পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আরাফাত হোসেন,সাধারন সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সিটি কলেজর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আলিফ খান, হাবিবুল্লাহ, জাহিদুল ইসলাম, শরিফুল, কাজী ফাহিম,মোকারাম,অনুপ বসু ,ইমরান হোসেন, কবির, সুমন, নাঈম,রানা, হৃদয়, শিমুল, নোমান, প্রমূখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ডিবি পুলিশের হয়রানি বন্ধে নবাগত পুলিশ সুপারের কঠোর পদক্ষেপ চাইলেন সাংবাদিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের উপর ডিবি পুলিশের অবর্ণনীয় অত্যাচার, আটক বাণিজ্য ও হয়রানির একের পর দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে নবাগত পুলিশ সুপারের কাছে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ চাইলেন সাতক্ষীরার সাংবাদিকবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি করলেন জেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। এসপি মো. সাজ্জাদুর রহমান এসময় সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে আমি সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষকে জানাতে চাই- পুলিশের দ্বারা কোন নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানি না হয় সে বিষয়ে আমি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
একই সাথে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল তাদেরকে বয়কট করার আহবান জানিয়ে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বলেন ‘তাদের মাথার ওপর থেকে রাজনৈতিক ছাতা সরিয়ে নিন’।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় পুলিশের দায়িত্ব গ্রহণ একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতার সাথে কাজ করবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন বিনা কারণে গ্রেফতার বন্ধ করা হবে। একই সাথে পুলিশ যাতে কেবলমাত্র সমাজের অপরাধীদের ভীতির কারণ হয় সেই দায়িত্বই পালন করা হবে।
সাতক্ষীরার ২৫তম পুলিশ সুপার হিসাবে বুধবার রাতে যোগদানের কয়েক ঘণ্টা পর এসপি সাজ্জাদুর রহমান বৃহস্পতিবার তার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতমিনিময় কালে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন সাধারণ মানুষ যাতে পুলিশের দ্বারা হয়রানি না হয় সে ব্যাপারে পুলিশবাহিনী সতর্ক থাকবে। ‘পেন ইজ মাইটার দ্যান সোর্ড’ একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ ও সাংবাদিকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের বর্তমান অবস্থান জিরো টলারেন্সÑ জানিয়ে তিনি আরও বলেন মাদকের ক্রেতা বিক্রেতা এবং ব্যবহারকারী একই অপরাধে অপরাধী। এ ছাড়া সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধের ক্ষেত্রেও পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয় বহন করে কেউ যাতে নিরীহ মানুষকে ফাঁদে জড়াতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক থাকবে বলে জানান তিনি। এসব ঘটনার সাথে পুলিশের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা থাকলে তাও কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
মতবিনিময় সভায় খুব দ্রুত শহরে ট্রাফিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনা হবে মন্তব্য করে সাজ্জাদুর রহমান বলেন, খুব শীঘ্রই গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র কর্মকা-ও সমন্বিত করা হবে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এ সময় আলোচনায় উঠে আসে সাতক্ষীরায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা এবং তাদের গ্রেফতারে কার্যকর পদেক্ষপ গ্রহণ না করা, সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়ে ঔদাসীন্য, কয়েকজন জঙ্গির নিখোঁজ থাকার বিষয়, শহরে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাধারণ পোশাকে রিভলবার প্রদর্শন করে ঘুরে বেড়ানো, মাদক ব্যবসায়ী ও নাশকতার মদদদাতাদের কারও কারও সাথে কোন কোন পুলিশ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠতা, ঢাকায় র‌্যাব পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত জঙ্গি মুকুল রানা, মতিয়ার রহমান, রোহান ইমতিয়াজের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায়, সুন্দরবনের জলদস্যুদের উৎপাত ও তাদের আত্মসমর্পণ, সীমান্তে ভারতীয় গরুর খাটাল পরিচালনা ইত্যাদি।
এ ছাড়াও সাংবাদিকেদের বক্তব্যে আরও উঠে আসে বিদায়ী পুলিশ সুপারের যোগদানের পরপরই পাটকেলঘাটা থানা এলাকা থেকে আটক তিন কেজি সোনা গায়েবের নেপথ্য তদন্ত কাহিনি, পুলিশের আচরণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়া, হরিণ শিকার করে এক পুলিশ কর্মকর্তার ফ্রিজে ৩৫ কেজি হরিণের মাংস রাখা, বিভিন্ন সময়ে পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগে দুর্নীতি, গাড়ি থামিয়ে বা ট্রাক আটকে পুলিশের চাঁদাবাজি, রাতে বহু জনকে আটক করে পরদিন আদালতে সামান্য কয়েকজনকে হাজির করা, যেকোনো ব্যক্তিকে ধরে তার পকেটে ফেনসিডিল ঢুকিয়ে দেওয়া, শহরের বিভিন্ন স্থানে মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ, মাদক সেবন, বিক্রি কিংবা বহন, পুলিশ পরিচয়ে গ্রেফতারের পর ৩৫ দিন রেখে পরে আদালতে দুটি নাশকতার মামলা দেওয়া, সাতক্ষীরার এক দরিদ্র নারীর কাছ থেকে দফায় দফায় ঘুষ আদায়, সাতক্ষীরার সাইফুল্ল্যাহ লস্কর হত্যা, স ম আলাউদ্দিন হত্যা, আলতাফ হত্যা এবং শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মতো পেছনের অনেক ঘটনাসহ নানা বিষয়। একই সাথে পুলিশের নানা সফলতার কথাও উঠে আসে। তবে ঘুরে ফিরে সাংবাদিকদের প্রায় সকলেই ডিবি পুলিশের লাগামহীন হয়রানির প্রসঙ্গ তোলেন। পুলিশ সুপার এসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন তিনি স্বচ্ছতা এবং সততার সাথে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চান।
বহু সাংবাদিকের সরব উপস্থিতিতে মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, আবু আহমেদ, কল্যাণ ব্যানার্জি, সুভাষ চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, মমতাজ আগহমেদ বাপী, হাফিজুর রহমান মাসুম, মনিরুল ইসলাম মিনি, আবদুল ওয়াজেদ কচি, আবদুল বারী, এম কামরুজ্জামান, রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, বরুন ব্যানার্জি, আবুল কাসেম, হাফিজুর রহমান মাসুম, ফারুক মাহবুবুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, অসীম চক্রবর্তী, আহসানুর রহমান রাজীব প্রমুখ সাংবাদিক। তারা জেলার নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে এর প্রতিকার দাবি করেন।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার, সদর থানার ওসি মারুফ আহমেদ, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের পরিদর্শক মিজানুর রহমানসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest