খামেনীকে ‘নতুন হিটলার’ বলে অভিহিত করলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘নতুন হিটলার’ বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে ক্ষমতাধর এই যুবরাজ ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক ইরানকে প্রতিরোধ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কথা বলছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। সাক্ষাৎকারটি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ বিন সালমান আরও বলেন, ‘আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর নেতৃত্বাধীন এই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কথিত আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে হবে। আমরা ইউরোপের কাছ থেকে বুঝেছি, কেবল ‘প্রশমনে’ কাজ হবে না। আমরা চাই না ইউরোপে যেটা হয়েছে, তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি ঘটুক ইরানের নতুন হিটলারের হাতে। ’

সৌদির ভবিষ্যৎ বাদশাহ বলেন, ভবিষ্যতে যদি রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে কোনো সংগ্রাম হয়, তবে সৌদি নিশ্চিত করবে যেন ‘তার খেসারত ইরানকেই দিতে হয়’।

এই দ্বন্দ্বের মধ্যে সম্প্রতি খামেনী সৌদি রাজপরিবারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘সৌদদের বাসভবন অভিশপ্ত বৃক্ষের মতো’। তার আগে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেন, রিয়াদই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা ফেরতের চুক্তিকে ‘স্টান্টবাজি’ বলছে এইচআরডব্লিউ

নির্যাতনের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পারসন্স ফ্রম রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক এ সমঝোতা সই হয়।
তবে এই চুক্তিকে ‘স্টান্ট’ বলে অভিহিত করেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শীর্ষ এক কর্মকর্তা। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম ব্রিসবেন টাইমস ও সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে সে মন্তব্য উঠে এসেছে।

এ ব্যাপারে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটির শরণার্থী অধিকার বিষয়ক পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভস্ম হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোতে বার্মা এখন তাদের উন্মুক্ত বাহুডোরে ফেরত নেবে এমন ধারণা হাস্যকর। ’ তিনি আরও বলেন, ‘পাবলিক রিলেশনের একটি স্টান্টবাজিতে সমর্থন না দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এটা স্পষ্ট করা উচিত যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষন ছাড়া কোন প্রত্যাবাসন হবে না। ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের ক্যাম্পে রাখার ধারণার ইতি টানতে হবে। এছাড়া, জমিজমা ফেরত দেয়া এবং ধংস করা বাড়িঘর, গ্রাম পূনর্গঠনসহ আরও অনেক শর্ত দিতে হবে। ’

বিল ফ্রেলিক বলেন, ‘এগুলো করা হলেও, বার্মিজ আর্মি যদি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কয়েক দশকের নির্যাতন ও বৈষম্যের চর্চাকে পাল্টানোর বিরাট কাজটা শুরু না করে, তাহলে স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে বহু রোহিঙ্গার মধ্যে পর্যাপ্ত আস্থা তৈরি করা কঠিন হবে। ’

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার টার্নবুল সরকার প্রথববারের মতো রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হওয়া নৃশংসতাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনকে জাতিগত নিধনের সমতুল্য বিভৎস অপরাধ আখ্যা দেয়ার একদিন পর অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ফেয়ারফ্যাক্স মিডিয়াকে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বার বার বলে আসছে, গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে দোষীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
আর আমরা জাতিগত নিধনযজ্ঞের খবর নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ’

উল্লেখ্য, বিশ্বচাপের নতি স্বীকারের পর বুধবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের উচ্চ পর্যায়ের দুই দিনের বৈঠক শুরু হয় মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোয়। পরে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দফতরের মন্ত্রী কিয়াও তিন্ত সোয়ে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাটকেলঘাটায় পানিতে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

সমীর দাশ, পাটকেলঘাটা : সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় পানিতে ডুবে এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে থানার জুজখোলা গ্রামের ভুট্ট মোড়লের পুত্র শিশু শ্রেনির ছাত্র রিফাত(৬) পুকুরে পানি আনতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায়। তার বাড়ি আসতে দেরী দেখে তার মা পুকুর ঘাটে যেয়ে পানিতে তার পুত্রকে ভাসতে দেখে। সাথে সাথে বাড়ির লোকজন রিফাতকে উদ্ধার করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। তার পিতা ভুট্ট মোড়ল জানান, রিফাতের মা তার মেয়েকে পানি আনতে বললে তার শিশু পুত্র পানি আনতে যায়। অসাবধনাতাবশত সে পানিতে পড়ে ডুবে যায়। এদিকে শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রংপুরকে হারিয়ে খুলনার হ্যাটট্রিক জয়

শেষ পর্যন্ত দারুণভাবে লড়াই করেছিল রংপুর রাইডার্স। খুলনার দেওয়া ১৫৮ রানের জবাবে জয়ের দ্বারপ্রান্তেই পৌঁছে যায় মাশরাফির দল। তবে শেষ দিকে জুনায়েদ খানের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে ৯ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে রংপুর। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটানস। খুলনার সংগ্রহ করা ১৫৮ রান তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৪৯ রানে থামে রংপুর রাইডার্স।

খেলতে নেমে শুরুটা ভয়াবহ হয়েছিল রংপুরের। ২০ রানের মধ্যে দলের প্রধান দুই ভরসা ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ক্রিস গেইলকে হারিয়ে বসে রংপুর রাইডার্স। আজ মাত্র দুই রান করেন ম্যাককালাম। আগের ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান গেইল বিদায় নেন ৯ বলে ১৬ রান করে।

দলীয় ২৯ রানে মোহাম্মদ মিঠুন আউট হলে একেবারে খাদের কিনারে নেমে যায় মাশরাফির দল। এরপর ফজলে মাহমুদ আরো বিপদে ঠেলে দেন দলকে। এখান থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দেশের উত্তরের দলটি। রবি বোপারা ও তরুণ ক্রিকেটার নাহিদুল হক মিলে যোগ করেন ১০০ রান।

৩৪ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন নাহিদুল। পরে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বোপারাও। তবে শেষ ওভারগুলোতে বোলারদের ওপর সেভাবে শাসন করতে পারেননি তাঁরা। ৪৩ বলে ৫৮ রান করেন নাহিদুল। ৪৩ বলে ৫৯ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হন রবি বোপারা। খুলনার আফিফ দেন দুটি উইকেট।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৫৮ রান তোলে খুলনা টাইটানস।

ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই রিলে রুশোকে হারায় খুলনা। ৪ বলে ১১ রান করেন রুশো। তৃতীয় ওভারে আফিফ হোসেন ধ্রুব ফিরলে চাপে পড়ে যায় দলটি। এরপর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত ইনিংসটা সামলানোর দায়িত্ব নেন। ২০ রানের বেশি করতে পারেননি শান্ত। দলীয় ৫৯ রানে মাহমুদউল্লাহকে একা রেখে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান।

এরপর লড়াইটা একাই নিজের কাঁধে তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। নিকোলাস পুরানকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকাটা সচল রাখেন তিনি। ২০ বলে ১৬ রান করে পুরান ফিরলেও হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মাহমুদউল্লাহ। দলীয় ১৩০ রানে তিনি যখন ফিরে যান, তখন তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ৩৬ বলে ৫৯ রানের দারুণ একটি ইনিংস।

এরপর কার্লোস ব্রার্থওয়েট-আরিফুল হকরা স্কোর বাড়ানোর চেষ্টা করলেও ১৫৮ রানের বেশি করতে পারেনি খুলনা টাইটানস। ব্রার্থওয়েট ১১ ও আরিফুল ১৬ রান করেন। রংপুরের রুবেল তিনটি ও মালিঙ্গা নেন দুটি উইকেট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক-৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের সন্ত্রাস, নাশকতা ও মাদক বিরোধী বিশেষ আভিযানে ৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১৭ জন, কলারোয়া থানা ৪ জন, তালা থানা ৩ জন, কালিগঞ্জ থানা ৩ জন, শ্যামনগর থানা ১৪ জন, আশাশুনি থানা ৩ জন, দেবহাটা থানা ২ পাটকেলঘাটা থানা থেকে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার তালার পানিতে ডুবে রিফাত হোসেন (৬) নামের এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। সে তালা উপজেলার জুজখোলা গ্রামের ভুট্ট মোড়লের ছেলে। শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে ডুবে সে মারা যায়। পরে তাঁর লাশ ওই পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখে তার স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে। এদিকে, শিশুর রিফাত হোসেনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ধর্ষণ মামলায় ব্রাজিলিয়ান রবিনহোর জেল

শেষ পর্যন্ত ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হলেন ব্রাজিলের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার রবিনহো। অভিযুক্ত হওয়ায় রিয়াল-ম্যানসিটির সাবেক এই ফরোয়ার্ডকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ইতালির একটি আদালত।

আদালতের রায়ে একই ঘটনায় রবিনহো সহ আরও চারজন দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। তবে রায়ের সাথে নিজের পক্ষে রবিনহোকে আপিল করার সুযোগ দিয়েছেন আদালত। ফলে এখনই জেলে যেতে হচ্ছে না রবিনহোকে। তবে আপিলের পর সাজা মওকুফ না হলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হবে ।

ইতালির ক্লাব এসি মিলানের হয়ে খেলার সময় ২০১৩ সালে মিলানের একটি নৈশক্লাবে ২২ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে রবিনহোর বিরুদ্ধে। আলবেনিয়ান ওই নারীকে অন্যানদের সঙ্গে গণধর্ষণের সময় রবিনহোও ছিলেন বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সি গায়ে ১০০টি ম্যাচ খেলেছেন রবিনহো। ইংলিশ লিগের অন্যতম সেরা ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে দুই বছরে ৪১ ম্যাচে ১৪ গোল করেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্রদ্ধাঞ্জলি : শুয়াচান পাখির অমর বাঁশুরিয়া বারী সিদ্দিকী

সাধক সংগীতশিল্পী ও নন্দিত বংশীবাদক বারী সিদ্দিকী আমাদের শিল্পভুবনে শোকের ছায়া ফেলে গেলেন সত্য। কিন্তু মাত্র ছয় দশকের স্বল্পজীবন পেয়েও আলোয় ভুবন ভরিয়ে দিয়েছেন গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ঘরানার এই শিল্পী। দুই বছর ধরে বিকল কিডনির দুঃসহ যন্ত্রণা সয়েও কী মোহময়ভঙ্গিতে গান শুনিয়ে গেছেন, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়!’ শেষ পর্যন্ত হৃদযন্ত্রের দুর্বলতার সঙ্গে পেরে না ওঠে ভক্তের মণিকোঠায় স্মৃতি হয়ে গেলেন তিনি। গভীর শোক ও প্রাণান্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রিয় শিল্পী বারী সিদ্দিকী।

বারী সিদ্দিকী একনিষ্ঠ সংগীত অন্তপ্রাণ মানুষ ছিলেন। সংগীতে হাতেখড়ি পেয়েছিলেন পরিবার থেকেই। নিজের জন্মস্থান নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের সান্নিধ্য পান মাত্র ১২ বছর বয়সেই। তার পর একে একে ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষের কাছে সংগীতের মৌলিক প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তী সময়ে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং বাঁশির ওপর উচ্চাঙ্গসংগীতে প্রশিক্ষণ নেন। ভারতের পুনের পণ্ডিত ভিজি কার্নাড ছিলেন বারী সিদ্দিকীর শিক্ষক। নব্বইয়ের দশকে পুনে থেকে দেশে ফিরে লোকসংগীতের সঙ্গে উচ্চাঙ্গসংগীতের ফিউশনে স্বল্প পরিসরে গান গাওয়া শুরু করলেও বাঁশি বাজিয়ে জয় করেন শ্রোতা ও ভক্তের মন।

ক্লাসিক্যাল মিউজিকের ওপর পড়াশোনা করা বারী সিদ্দিকী নেত্রকোনার মানুষ। ১৯৯৯ সালে নেত্রকোনার আরেক কিংবদন্তি কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের নজরে পড়েন এই শিল্পী। ওই বছর মুক্তি পাওয়া হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’-এ ছয়টি গানে কণ্ঠ দেন বারী সিদ্দিকী। সেই সিনেমায় গাওয়া ‘শুয়াচান পাখি আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘ওলো ভাবিজান’, ‘মানুষ ধর মানুষ ভজ’ গানগুলো এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

এর আগে ১৯৯৫ সালে হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত টিভি ম্যাগাজিন ‘রঙের বাড়ই’-তে জনসমক্ষে প্রথম সংগীত পরিবেশন করে ওই লেখকের দৃষ্টি কাড়েন অকালপ্রয়াত এই শিল্পী। এরপর আর বারী সিদ্দিকী পেছন ফিরে তাকাননি। হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরে বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় বংশীবাদক হয়ে উঠলেন সাধারণ মানুষের প্রিয়তর শিল্পী। একে একে অন্য চলচ্চিত্রেও তিনি বেশ কিছু গান গেয়ে নিজের কণ্ঠপ্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। বেরিয়েছে বারী সিদ্দিকীর একক অ্যালবামও।

১৯৯৯ সাল বারী সিদ্দিকীর জন্য দুদিক থেকে পয়মন্ত ছিল। ওই বছর তিনি হুমায়ূন চলচ্চিত্রে যেমন ব্রেকথ্রু পান, তেমনি সে বছর জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাঁশি সম্মেলনে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করার গৌরব অর্জন করেন।

সর্বশেষ গেল ১৩ নভেম্বর কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মবার্ষিকীতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি অনুষ্ঠানে নিজের জনপ্রিয় গানগুলো গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন বারী সিদ্দিকী।

জীবনের শেষদিকে নিজের একটি টুপি পরে দর্শক-শ্রোতাদের সামনে হাজির হতেন এই শিল্পী। গান গাইতে গাইতে এক আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্য রচনা করে ঐশ্বরিক বন্দনায় মেতে উঠতেন তিনি। সুরের সাধনায় মহান স্রষ্টার আরাধনা করবার ভঙ্গিমাটা বারী সিদ্দিকীর একান্ত নিজস্ব। সুর ও সংগীতের ইন্দ্রজালে নিজে কাঁদতেন আর ভক্তদেরও সমান কাঁদাতেন। মহামুণি অ্যারিস্টটলের ট্র্যাজিক বিমোক্ষণ কিংবা গ্রন্থিমোচনের সত্যিকারের স্বাদ পাওয়া যেত বারী সিদ্দিকী উপস্থাপিত মৃত্তিকাসংলগ্ন সংগীতে।

বাংলার হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়া বারী সিদ্দিকী যদি তাঁর মোহন বাঁশিতেই মেতে থাকতেন, তবু শিল্পাকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়েই বিরাজ করতেন। তার ওপর তিনি এমন কিছু সুর সৃষ্টি করে গেছেন, যা তাঁকে যুগের পর যুগ সূর্যের মতোই দেদীপ্যমান রাখবে। তাঁরই উদ্দেশে আমরা গাইতে থাকব :

তুমি আমি জনম ভরা
ছিলাম মাখামাখি,
আজ কেন হইলে নীরব
মেলো দুটি আঁখি।
শুয়াচান পাখি আমার শুয়াচান পাখি
আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি।

প্রত্যেক প্রাণকেই চিরায়ত ঘুমের সকাশে যাত্রা করতে হয়, এটা অবশ্যম্ভাবী। হাজার ডাকেও অনন্তরের পা রাখা সেই ঘুমকাতুরের জাগরণ হয় না। প্রেমাস্পদ জীবিত প্রাণের সঙ্গে অশেষ মাখামাখিতেও আর ঘুচে না বিচ্ছেদের বিয়োগব্যথা। শিল্পী বারী সিদ্দিকী নিজের গানেরই আজ ট্র্যাজিক নায়ক। আমাদের হৃদয় বিদীর্ণ করে দিয়ে শিল্পী নিজেই আজ শুয়াচান পাখি। স্মরণের আলোয় যাঁকে আমরা ডেকে ফিরব, কিন্তু তিনি আর বাঁশের বাঁশরি হাতে আর সাড়া দেবেন না।

কলাজ্ঞ শ্রোতার শ্রবণ কুহরে বাংলা সংগীতের যে বর্ণিল তরঙ্গ ধ্বনি দিয়ে গেলেন বারী সিদ্দিকী, তার প্রাপ্তিতেই স্বস্তি ও আনন্দ খুঁজব আমরা। বাংলা গানের সহস্র বছরের সাধনায় বারী সিদ্দিকী প্রশান্তির বারি বর্ষণ করে যাক। বাংলা শিল্প রুচির সামগ্রিক অধঃপতন ঠেকাতে বারী সংগীত হোক অনন্য অনুপ্রেরণা।

আমাদের আকাশে বাতাসে বারী সিদ্দিকীর সুর ধ্বনিত হতে থাকবে অনেক অনেক দিন। তাঁর গানের সুর-সংগীত হবে শোক ভোলানোর মন্ত্র।

লেখক : ফারদিন ফেরদৌস, সংবাদকর্মী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest