সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে জনসভা- গণমিছিলের মধ্য দিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুতালা–কলারোয়ার উন্নয়নে ঐক্যের ডাক হাবিবুল ইসলাম হাবিবেরআদালত চত্বরে কেরোসিন ঢেলে মাটি চাপা দেওয়া হলো জব্দকৃত হরিণের মাংসসাংবাদিক আকরামুলের উপর হামলা : সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দাপাইকগাছায় বাসস চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীনের উদ্যোগে দশ গ্রামের দুস্থদের মাঝে তিন সহস্রাধিক কম্বল বিতরণবিএনপি থেকে ডা: শহীদুল আলম বহিস্কারসংগ্রামের গল্পে ঢাবি জয় দিহানেরতালায় লার্নিং শেয়ারিং ওয়ার্কশপসাতক্ষীরায় ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার : ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৮সাতক্ষীরায় খাদ্য মোড়কে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবিতে স্মারকলিপি

‘মাশরাফী সারাবিশ্বেই সম্মানিত’

বিশ্বের হাই-প্রোফাইল কোচদের একজন টম মুডি। বিপিএলে রংপুর রাইডার্সকে কোচিং করাবেন এবার। অস্ট্রেলিয়ান কোচের দলটির নেতৃত্বে থাকছেন তিনবার বিপিএলের শিরোপা উঁচিয়ে ধরা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। সেটা নির্ভারতাই যোগাচ্ছে মুডিকে। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছেন তিনি।

দল প্রসঙ্গে অনেক কথার মাঝে তাই মুডির কণ্ঠে ঝরল মাশরাফী বন্দনাও, ‘শুধু এ দেশেই নয়, সারাবিশ্বেই মাশরাফী সম্মানিত একজন। মাশরাফী অনেক অভিজ্ঞ। আগে তার সঙ্গে কাজ করা হয়নি। আমি তার সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছি।’

বুধবার মিরপুরের একাডেমি মাঠে প্রথমবার অনুশীলন করেছে রংপুর রাইডার্সের ক্রিকেটাররা। সাউথ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজ খেলে ফেরা মাশরাফী ছিলেন না অনুশীলনে। স্থানীয় ক্রিকেটাদের বাকি সবাই অবশ্য ছিলেন। শাহরিয়ার নাফীস, আব্দুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজী, ইলিয়াস সানি, শামসুর রহমান শুভর মত অভিজ্ঞরা ছিলেন।

অভিজ্ঞতায় পুষ্ট একটি দল দেখে খুবই খুশি মুডি, ‘যেকোনো ফরম্যাটেই খেলুন না কেন, অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার জন্য ভাল যে মাশরাফী ছাড়াও দলটাতে অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেটীয় জ্ঞান তারা কতটা পুরো দলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারে।’

বিদেশি ক্রিকেটার সংগ্রহেও সবার চেয়ে এগিয়ে রংপুর। টি-টুয়েন্টি স্পেশালিষ্ট ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, লাসিথ মালিঙ্গা খেলবেন রংপুরের হয়ে। বড় নামের খেলোয়াড় টানতে পারায় বিপিএলের প্রশংসা করলেন মুডি, ‘শুধু আমাদের দলই নয়, সব দলেরই সামর্থ্য আছে। এটাই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সার্থকতা। এটা এমন একটা টুর্নামেন্ট যেখানে বেশকিছু সেরা খেলোয়াড় আছে।’

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও বাংলাদেশে এবারই প্রথম কাজ করতে এসেছেন ৫২ বছর বয়সী মুডি। চ্যালেঞ্জ নিতে উৎসাহী বলেই বিপিএলে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন, ‘আমি সবসময়ই উপমহাদেশে কাজ করতে পছন্দ করি। ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব নিয়েছিলাম। আমি সহজেই অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে স্বস্তিদায়ক পরিবেশে কাজ করতে পারতাম। কিন্তু ভিন্ন পরিবেশ ও সংস্কৃতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। শ্রীলঙ্কা এবং আইপিএলে সময়টা উপভোগ করেছি।’

এক মৌসুম আগেই বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) সানরাইজার্স হায়দরাবাদ মুডির কোচিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। অভিজ্ঞ এই কোচ এবার রংপুর রাইডার্সের ডেরায়। শিরোপার স্বপ্ন তো দেখতেই পারে রংপুর!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইরান-তুরস্ক ঐক্য: অস্বস্তিতে ইসরাইল

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন শক্তি তুরস্ক-ইরান সম্পর্ক এখন সহযোগিতার দিকে যাচ্ছে। সম্পর্কের ‘নতুন অধ্যায়’ রচনায় দেশ দু’টি অত্যন্ত আগ্রহী হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক বিভিন্ন সঙ্কট নিরসনে তেহরান-আঙ্কারা ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করছে, যৌথ উদ্যোগে মনোযোগী হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় রচনা করছে প্রতিবেশী দেশ দু’টি।

তুরস্ক-ইরানের সম্পর্কের নতুন মেরুকরণের প্রমাণ- তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের ইরান সফর, ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্যকে ভবিষ্যতে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা, ইরাক ও সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ও আঞ্চলিক সঙ্কট সমাধানে অভিন্ন নীতি, ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন ঠেকাতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একতা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সর্বাত্মক উন্নয়ন ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কাতারের সাথে বাণিজ্য সুবিধার লক্ষ্যে বিকল্প স্থলবাণিজ্য পথ তৈরি, সিরিয়ায় দীর্ঘমেয়াদে শান্তির জন্য সঙ্কট নিরসনে সহযোগিতা করতে একমত হওয়া, পারস্পরিক মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে সংলাপের সদিচ্ছা, রাশিয়ার সাথেও একসাথে কাজ করতে প্রস্তুতি গ্রহণ, কাতারে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো কর্তৃক অর্থনৈতিক অবরোধের ঘটনায় একই ধরনের প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন ইত্যাদি।

ইসলামিক স্টেট-বিরোধী (আইএস) যুদ্ধ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিস্তারের ক্ষেত্রে ইরান ও তুরস্কের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। ইরান-তুরস্ক সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যেও দুই দেশকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলিতে ইরান ও রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তুরস্কও সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চায়; ইতোমধ্যে তা প্রমাণ হয়েছে।

সুন্নি মতাবলম্বী কাতার ও শিয়া মতাবলম্বী ইরানের সাথে সম্পর্ক স্থাপন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব প্রশমিত হবে। তুরস্ক ব্যবসার স্বার্থে মধ্যস্থতা করায় তিন দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে সামরিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। তুরস্ক-ইরান স্থলপথ চালুর ফলেই কাতারবিরোধী অবরোধ ব্যর্থ হয়। কাতারকে একঘরে করার চেষ্টার কঠোর নিন্দা করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, কাতারের ওপর এই অবরোধ অমানবিক এবং অনৈসলামিক। তাদের বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা ইসলামি মূল্যোধের বিরোধী। এটা কাতারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার শামিল।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে ইরান ও তুরস্কের সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে। চলমান আঞ্চলিক সমস্যা ইরান ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারেনি এবং তেহরান-আঙ্কারার সম্পর্ক বাড়ানোর পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। কাতারের সাথে আরব বিশ্বের সাতটি দেশের কূটনৈতিতক সম্পর্ক ছিন্নের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অন্য দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের তিক্ততা থেকে তুরস্ক-ইরানের দিকে ঝুঁকছে কাতার। কাতারের দুর্দিনে পাশে থেকেছে তুরস্ক। সমুদ্রপথে কাতারে খাবার পাঠিয়েছে ইরান।

আরব বিশ্বের এ রকম সিদ্ধান্তে কাতারের সাথে ইরান ও তুরস্কের সম্পর্ক আরো গাঢ় হয়েছে। তুরস্ক, ইরান ও কাতার যদি গ্যাস নিয়ে ভিন্ন চিন্তা করে, তাহলে অনেকটাই চাপে পড়ে যাবে আরব বিশ্বের দেশগুলো। কুর্দিস্তানের সদ্য সমাপ্ত গণভোট নিয়ে নতুনভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মধপ্রাচ্য। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান এলাকার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একজোট হয় ইরাক-ইরান-তুরস্ক। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা খামেনি বলেছেন, ‘কিছু বিদেশী শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের মতো আরেকটি অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই সম্প্রতি ইরাকের কুর্দিস্তানে বিচ্ছিন্নতাকামী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

এ দিকে ইরান-তুরস্কের ঘনিষ্ঠতাকে উদ্বিগ্ন ইসরাইল ভালো চোখে দেখছে না। তুরস্কের সাথে ইরানের সম্পর্ক উন্নয়নে তেলাবিব যথেষ্ট অস্বস্তির মধ্যে পড়েছে। ইরান এ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারকে আরো শক্তিশালী করতে চাচ্ছে এবং হিজবুল্লাহ এবং লেবাননকে সহযোগিতা করতে ইরাক ও সিরিয়ার সাথে স্থলযোগাযোগ স্থাপন করতে চাচ্ছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে যদি ইরান সামরিক সম্পর্ক গভীর করতে সফল হয়, যার শীর্ষে রয়েছে আঙ্কারা; তাহলে তা ইসরাইলের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ের হুমকি হবে। সমরশক্তিতে প্রভাবশালী ইরান-তুরস্ক রাশিয়ার সাথে হাত মিলিয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। তুরস্ক সরকার পাশ্চাত্যঘেঁষা নীতি থেকে সরে এসেছে। নানা দিক থেকেই ইরান-তুরস্ক-রাশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। ইরান-রাশিয়ার কৌশলগত সহযোগিতায় তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় আমেরিকাও কিছুটা চিন্তিত। যেকোনো বিচারেই ইরান-তুরস্কের একসাথে পথচলায় আন্তরিকতা ও আগ্রহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেন নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কারাগারে বসে ল্যাপটপে খাবার অর্ডার দিচ্ছে বন্দিরা!

যুক্তরাজ্যের ওয়েল্যান্ডের এইচএমপি কারাগারে মিলছে ডিজিটাল সেবা। সেখানকার বন্দিরা ল্যাপটপ ব্যবহার করে জেলে বসেই নানা রকম সুযোগ সুবিধা নিতে পারছে। এমনকি, আপনজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তাদের কক্ষে দেয়া হয়েছে টেলিফোন ব্যাবহারের সুযোগ।

এ খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী অনলাইন দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট। নরফোকে অবস্থিত ক্যাটাগরি সি ফ্যাসিলিটির এই কারাগারে প্রায় ১০০০ বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামী।

কারগারটি আধুনিকায়নের নমুনা উল্লেখ করেছে দ্য প্রিজন ওয়াচডগ। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এইচএম ইন্সপেক্টরেট অব প্রিজন্স (এইচএমআইপি)।

এ প্রতিবেদনে একজন কারাপরিদর্শক বলেন, এসব আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ফলে কারাবন্দিদের জীবনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। গতি পেয়েছে প্রাত্যহিক কাজকর্ম। তারা এখন কারাকক্ষে বসেই ল্যাপটপে খাবারের মেন্যু নির্বাচন করা থেকে কাপড়চোপড়ের ফরমায়েশ পর্যন্ত দিতে পারছে। ইন্টারনেটের সংযোগ ছাড়াই এসব সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও, ২০১৩ সাল থেকে প্রতিটি কারাকক্ষে টেলিফোন সংযোগ দেয়া হয়েছে।

অবশ্য, যাতে কারাবন্দিদের কাজের সময় মনোযোগ ব্যাহত না হয় সে দিকে খেয়াল রেখে মূল কার্যদিবসগুলোতে ফোনের ব্যবহার সীমিত করে দেয়া হয়। এসব উদ্যোগে কারাবন্দিদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। এ ধরনের ইতিবাচক উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে কারাব্যবস্থাপনা আরো গতিশীল হয়েছে বলে মত দেন তিনি।

এ বছরের কোন এক সময়ে সীমিতভাবে কারাবন্দিদের জন্যে ভিডিও কলের সুবিধা উন্মুক্ত করা হবে বলেও এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈশ্বিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সুধীজনরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মুক্তি পেল ‘পদ্মাবতী’র প্রথম গান

শুটিং থেকে শুরু করে পোস্টার, ট্রেইলার, পদ্মাবতী চলচ্চিত্রের সবকিছুই সমানভাবে আলোচিত হয়েছে। আর এসবের পর ভক্তদের অপেক্ষা ছিল চলচ্চিত্রটির গানের জন্য।

অবশেষে ভক্তদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল। জুম ইন্ডিয়ার খবরে প্রকাশ, আজ মুক্তি পেয়েছে পদ্মাবতী চলচ্চিত্রের প্রথম গান।

পদ্মাবতী চলচ্চিত্রের প্রথম গানটি রাজস্থানী লোকসংগীত। যার শিরোনাম ‘ঘুমার’। গানটির চিত্রায়নের জন্য মুম্বাইয়ের মেহবুব স্টুডিওতে গোটা চিত্রগড়ের দুর্গ নির্মাণ করেন বানসালি। ভারতীয় একটি দৈনিক পত্রিকা জানায়, প্রায় ১০০ জন লোক ৪০ দিনের প্রচেষ্টায় গোটা সেটটি নির্মাণ করেন। গানটির চিত্রায়নে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৪০০টি প্রদীপ।

গানটির তালে নাচের প্রতিটি ধাপ মেলানোর জন্য ভারী গয়না এবং লেহেঙ্গা পরে প্রায় ৬৬টি দিন অনুশীলন করতে হয়েছে দীপিকাকে। গানটি সম্পর্কে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দীপিকা বলেন, ‘ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার আগের কয়েক মাস ধরেই আমি ছবিটি এবং চরিত্রের জন্য অনুশীলন করছিলাম। কিন্তু আমি শুটিং স্পটে প্রথম পা রাখি ‘ঘুমার’ গানটির চিত্রায়নের জন্য। ছবির শুটিং এই গান দিয়েই শুরু হয় এবং আমি দিনটি কোনোদিনও ভুলতে পারব না। আমার মনে আছে প্রথম শটের কথা। আমার মনে হচ্ছিল প্রায় পদ্মাবতীর আত্মা যেন আমার ভেতরে প্রবেশ করছে। আমি তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করছি এমনকি আমি এখনো করি। এটা আসলে একজন অভিনেত্রীর জন্য দুর্লভ একটি মুহূর্ত।’

সাধারণত রাজস্থানের রানি এবং রাজকুমারীদের ‘ঘুমার’ নামের এই ঐতিহ্যবাহী নাচ তাদের গুণ ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। তাই গানটির জন্য একচুলও ছাড় দেননি বানসালি। হিন্দুস্তান টাইমসের একটি সূত্র জানায়, ‘গানটির শুটিংয়ের জন্য গাঙ্গুর ঘুমার ডান্স একাডেমির সহকারী পরিচালক এবং ট্রাস্টি জ্যোতি ডি তোম্মার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন দীপিকা। ছবিটির জন্য গানটি গেয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল। গানটি সম্পাদনা করেছেন বানসালি নিজেই। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ছবিটির মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডিপজলের ‘দুলাভাই জিন্দাবাদে’ বৃষ্টির উৎপাত

শুত্রবার দেশের ১২৮টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ডিপজল অভিনীত চলচ্চিত্র ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মনতাজুর রহমান আকবর। ছবিতে আরো আছেন মৌসুমী, বাপ্পী ও মিম। শুরু থেকেই বৃষ্টির জন্য দর্শক হলে আসতে পারেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সিনেমা হল মালিক সমিতির সভাপতি ও মধুমিতা সিনেমা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘আমরা অনেক আশা করেছিলাম ছবিটি নিয়ে। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পেয়েছে, এমন সময় বৃষ্টি শুরু হলো। গত শুত্রবার থেকেই সারা দেশে দিনভর বৃষ্টি শুরু হয় যা শনিবার, রোববারও ছিল। যে কারণে এই ছবিটি ভালো ব্যবসা করতে পারেনি। আসলে এই সময়টা মানুষ সিনেমা দেখবে কি, বাসা থেকেই তো বের হতে পারছিল না। আর আমাদের সিনেমা হলে ব্যবসা হয় সাধারণত শুক্র, শনি, রবি এই তিনদিন। তারপর দর্শক তুলনামূলকভাবে কম হয়।’

ছবিটি ভালো হয়েছে জানিয়ে নওশাদ বলেন, ‘আমি নিজে ছবিটি দেখেছি। ডিপজল সাহেব অনেক ভালো অভিনয় করেছেন, ছবির গল্পটা সুন্দর। সাথে মৌসুমী, বাপ্পী, মিমের মতো শিল্পী আছে। সবকিছু মিলে ছবিটি ভালো ব্যবসা করতে পারত। এটা আসলে ছবিটার ভাগ্য খারাপ মনে হচ্ছে।’

বাংলাদেশ প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘মনোয়ার হোসেন ডিপজল সাহেব অনেক গুণী অভিনেতা, পাশাপাশি তিনি জনপ্রিয়। এই ছবিতে তিনি অনেক ভালো অভিনয় করেছেন। তা ছাড়া এই ছবিটি তারকাবহুল। আমরা আশা করেছিলাম ভালো ব্যবসা হবে। কিন্তু বৃষ্টিতে লোকজন হলে আসেনি। গত সোমবার থেকে কিছু দর্শক হলে আসছে।’

রাজেস ফিল্ম প্রযোজিত এই ছবিতে মনোয়ার হোসেন ডিপজল, মৌসুমী, বাপ্পী, মিম ছাড়াও অভিনয় করেছেন আহমেদ শরিফ, অমিত হাসান, দিলারা, অরুণা বিশ্বাস, নাদির খান, শবনম পারভিন, ইলিয়াস কোবরা, সুব্রত প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আগ্রা-লক্ষ্ণৌ এক্সপ্রেসওয়েতে ভারতীয় যুদ্ধবিমানের মহড়া

যুদ্ধের সময় আপতকালীন ভিত্তিতে যাতে যুদ্ধবিমানগুলো বড় এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠানামা করতে পারে, সেজন্য ভারতের আগ্রা-লক্ষ্ণৌ এক্সপ্রেসওয়ের ওপরেই ভারতীয় যুদ্ধবিমানের মহড়া চলল। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত লক্ষ্ণৌ আগ্রা এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ রেখে বিমানবাহিনীর এই মহড়া চলে।

এদিন এক্সপ্রেসওয়েতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বেশ কয়েকটি বিমান অবতরণ করে এবং আকাশে ওড়ে। প্রায় ২০টির মতো যুদ্ধবিমান এদিন নামে আগ্রা-লক্ষ্ণৌ যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে। এত সংখ্যক যুদ্ধবিমান এর আগে কোনো এক্সপ্রেসওয়েতে অবতরণ করেনি।

এক্সপ্রেসওয়েতে প্রথমে কসরত দেখায় বিশ্বের বৃহত্তম পণ্যবাহী বিমান সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস। যে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রকে চিহ্নিত করতে সক্ষম এই বিমান। এরপর নামে মিরাজ ২০০০ বিমান। এই বিমানের গতিবেগ ঘণ্টায় দুই হাজার ৪৯৫ কিলোমিটার। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী এই বিমান আকাশেই শত্রুপক্ষের বিমান ধ্বংস করতে সক্ষম। মিরাজের পর চার হাজার ৭৫০ কিলো ওজন নিয়ে অবতরণ করে জাগুয়ার। দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই বিমানের গতিবেগ ঘণ্টায় এক হাজার ৩৫০ কিলোমিটার। এ দিনের মহড়ায় অংশ নেয় সুখোই ৩০ এমকেআই বিমানও। সুখোইয়ের গতিবেগ ঘণ্টায় পাঁচ হাজার ২০০ কিলোমিটার। রেডারই এই বিমানের সবচেয়ে বড় শক্তি। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী বিমান এটি। দূর থেকেই শত্রুপক্ষের বিমানের অবস্থান জানতে পারে এই বিমান। তিন হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম সুখোই। আট হাজার কিলো গোলাবারুদও রাখা যায় এই বিমানে।
মূলত, যুদ্ধের সময় জরুরি অবতরণের জন্য এক্সপ্রেসওয়েতে যুদ্ধবিমানগুলোর অবতরণের অনুশীলন করানো হয় এদিন। এই নিয়ে তৃতীয়বার ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান কোনো এক্সপ্রেসওয়েতে এই ধরনের মহড়া চালাল। যুদ্ধের সময় যুদ্ধবিমানের অবতরণের ক্ষেত্রে হাইওয়ে বা এক্সপ্রেসওয়েগুলো যাতে ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সেজন্যই ভারতীয় বিমানবাহিনী এদিন খোলা এক্সপ্রেসওয়ের ওপর এই মহড়ার আয়োজন করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দক্ষতা ‘কমছে’ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের

অনলাইন ডেস্ক : বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ থেকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ সার-সংক্ষেপ পাঠানো হচ্ছে। এমনকি মন্ত্রিসভা বৈঠক ও মন্ত্রিসভা কমিটির সভার জন্য পাঠানো প্রস্তাবও নিয়মনীতি অনুসরণ করে পাঠাতে পারছেন না অনেক কর্মকর্তা। বিষয়টি তুলে ধরে সঠিকভাবে সার-সংক্ষেপ ও প্রস্তাব পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে বারবার তাগাদা দিয়ে চিঠিও পাঠানো হচ্ছে।

বারবার তাগাদার পরও সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এভাবে নিয়ম না মেনে ত্রুটিপূর্ণ প্রস্তাব পাঠানোর কারণে কর্মকর্তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দক্ষতার ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, কাজ করতে গেলে ছোটখাটো ভুলত্রুটি হতেই পারে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দক্ষতা কমেনি বরং আগের চেয়ে বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়। তবে কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি। অনেকেই বলেছেন, প্রশাসনে এখন দলীয়করণের প্রভাব অনেক বেশি। তাই পদোন্নতি, ভালো পদায়নের ক্ষেত্রে এখন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এ কারণে কর্মকর্তাদের দক্ষতা কমছে- এটাই স্বাভাবিক।

কার্যবিধিমালা (রুলস অব বিজনেস) ও সরকারি কাজসংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সম্পর্কে অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই বলেও মনে করেন অনেকে।

কেউ কেউ বলছেন, অনেক অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম-সচিব আছেন যারা ইংরেজি বলতে পারেন না। বিদেশি ডেলিগেটদের মুখোমুখি হয়ে ইংরেজি বলার ভয়ে কর্মকর্তার ছুটি নেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

 ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কীভাবে সামারি পাঠাতে হবে সেটা রুলস অব বিজনেস ও বিভিন্ন বিধি-বিধানে বলা আছে। কেউ সেটা না মেনে সামারি পাঠালে দক্ষতার প্রশ্ন তো আসবেই।’

সাবেক কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল হাফিজ উদ্দিন আরও বলেন, ‘নানা কারণে বর্তমানে প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে এমনিতেই প্রশ্ন আছে। বারবার তাগাদা দেয়ার পরও কোনো কর্মকর্তা ভুল বা অদক্ষতার পরিচয় দিলে তাকে শোকজ করা বা ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করি।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘ভালো বা উৎকর্ষতার কোনো শেষ নেই। এভাবে চিঠি না পাঠালেও হয়, মিটিংয়ে বললেও হতো। চিঠি পাঠালে আমাদের টনক নড়ে। ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। পারফরমেন্স কমার কোনো কারণ নেই। আরও ভালো করার জন্য এ ধরনের তাগিদ দিয়ে চিঠি দেয়া হয়, যাতে কোনো শৈথিল্য না আসে, কেউ হেয়ালিভাবে কোনো কাজ করতে না পারে।’

সিনিয়র সচিব আরও বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন কর্মকর্তারা। এখন সরকারে যারা আছেন মাননীয় মন্ত্রীরা তারাও খুব সূক্ষ্মভাবে কাগজপত্র বোঝার চেষ্টা করেন। আমলারা যতটুকু সূক্ষ্ম রাখা যায় সে চেষ্টা করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফাইলের লাইন বাই লাইন পড়েন। তার চোখে ধরা পড়লে আমাদের জন্য বিব্রতকর অবস্থা হয়। সেটা মনে করে অনেকেই সাবধানে কাজ করেন।’

‘আমি মনে করি আগের চেয়ে আমাদের দক্ষতা অনেক বেড়েছে’ দাবি করেন মোজাম্মেল হক খান।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ সার-সংক্ষেপ

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের (সিনিয়র সচিব/ভারপ্রাপ্ত সচিব) কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ সার-সংক্ষেপ (সামারি) প্রস্তুতের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধান (যেমন-কার্যবিধিমালা-১৯৯৬, সচিবালয় নির্দেশমালা-২০১৪, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন সময়ে জারি করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনা) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ সার-সংক্ষেপ পাঠানো হচ্ছে। এমন সার-সংক্ষেপ নিষ্পত্তিতে অনাকাঙিক্ষত বিলম্ব ঘটছে, যা কাম্য নয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরিত সার-সংক্ষেপ প্রস্তুতের সময় বিধিবিধান ও নির্দেশনাবলি আবশ্যিকভাবে অনুসরণের জন্য অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে কিছু বিষয় তুলে ধরে সে বিষয়ে যত্নশীল হওয়ার জন্যও বলা হয় ওই চিঠিতে।

‘সার-সংক্ষেপের বিষয় সূত্রে খ্রিস্টিয় তারিখের পাশাপাশি অবশ্যই বঙ্গাব্দ উল্লেখ করতে হবে। দীর্ঘ বাক্য ও পুনরুক্তি পরিহার করে সংক্ষিপ্ত অথচ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সুস্পষ্ট ও যুক্তিপূর্ণ ভাষায় সার-সংক্ষেপ প্রণয়ন করতে হবে।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘সংযোজিত সংলাপগুলো সুবিন্যস্ত ও সঠিক হওয়ার পাশাপাশি ছায়ালিপি/প্রতিলিপিগুলো স্পষ্ট পঠনযোগ্য হওয়া আবশ্যক। বিষয় ও বরাত সূত্রের সঙ্গে সংলাপের প্রাসঙ্গিক অংশ মার্কার দিয়ে দৃশ্যমান করা সমীচীন। পত্রাংশ যথানিয়মে পৃষ্ঠা নম্বর সম্বলিত হওয়া অপরিহার্য।’

‘স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থানে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ সিদ্ধান্ত/মন্তব্য/পর্যবেক্ষণ/আদেশাবলি লিপিবদ্ধ করার জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় পরিসর রাখতে হবে।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলা বানানের শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী বাংলা একাডেমি প্রণীত বানানরীতি অনুসরণ করতে হবে।’

সার-সংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর জারি করা নির্দেশনা অনুসরণেরও অনুরোধ করা হয় ওই চিঠিতে।

ভুল সার-সংক্ষেপ পাঠানো হচ্ছে মন্ত্রিসভায়

চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল ‘মন্ত্রিসভার জন্য সার-সংক্ষেপ প্রণয়ন, প্রেরণ, মন্ত্রিসভা বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিধি-বিধান, রীতি ও পদ্ধতি’ শিরোনামে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের (সিনিয়র সচিব/সচিব/ভারপ্রাপ্ত সচিব) কাছে একটি নির্দেশনা পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এতে বলা হয়, মন্ত্রিসভার জন্য সার-সংক্ষেপ প্রণয়ন ও প্রেরণ, মন্ত্রিসভা বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে বিধি-বিধান, রীতি ও পদ্ধতি প্রচলিত আছে, যা যথাযথভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানিয়ে ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পত্র দেয়া হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলোর ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর করণীয় বিষয় সম্বলিত একটি তালিকা এবং মন্ত্রিসভার জন্য সার-সংক্ষেপ প্রণয়ন ও পাঠানোর সময় একটি চেকলিস্টও ফের চিঠির সঙ্গে দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

নিয়ম না মেনে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে মন্ত্রিসভা কমিটিতে

সর্বশেষ গত ৭ আগস্ট ‘মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য সার-সংক্ষেপ প্রণয়ন, প্রেরণ, মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অংশগ্রহণ এবং মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিধি-বিধান, রীতি ও পদ্ধতি’ শিরোনামে আরেকটি চিঠি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এতে বলা হয়, মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য সার-সংক্ষেপ প্রণয়ন ও প্রেরণ, মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অংশগ্রহণ এবং মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে বিধি-বিধান, রীতি ও পদ্ধতি প্রচলিত আছে। এসব বিধি-বিধান, রীতি ও পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানিয়ে ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পত্র দেয়া হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলোর ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর করণীয় বিষয়ের একটি তালিকা এবং মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য সার-সংক্ষেপ প্রণয়ন ও পাঠানোর সময় একটি চেকলিস্ট ফের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শাহবাগের ৪১ ওষুধের দোকানে অভিযান, ৪১ লাখ টাকা জরিমানা

রাজধানীর শাহবাগের ওষুধের দোকানগুলোতে অভিযান চালিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শাহবাগের মোট ৪১টি ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে প্রত্যেক দোকানকেই জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় মোট ৪১ লাখ টাকা জরিমানা করেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। এ ছাড়া তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযানে র‍্যাবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আটজন ড্রাগ সুপার।

যেসব অভিযোগে জরিমানা করা হয় সেগুলো হলো অনুমোদনহীন বা অবৈধ ওষুধ বিক্রি, ওষুধের পাতায় ডিআর নম্বর না থাকা এবং মানহীন ওষুধ রাখা।

এ বিষয়ে সারোয়ার আলম বলেন, দেশের রোগীদের জন্য মোট সাতটি দেশ থেকে ক্যানসার প্রতিরোধের ওষুধ বা অ্যান্টি ক্যানসার মেডিসিন আমদানি করার নিয়ম রয়েছে। তবে অনেক দোকানে বিশ্বের অন্য দেশ থেকেও আমদানি করা ওষুধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের জরিমানা করা হয়।

সারোয়ার আলম আরো জানান, তাঁদের অভিযান অব্যাহত আছে। ভবিষ্যতেও এই অভিযান চলবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে আরো অনেক তথ্য আছে। সেগুলোর ভিত্তিতে অভিযান চালানো হবে। অপরাধীদের যথাযথ সাজা দেওয়া হবে।’

অভিযানে প্রায় এক ট্রাক ওষুধ জব্দ করা হয়। এগুলো সিটি করপোরেশনে ডাম্পিং জোনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানেই এগুলো ধ্বংস করা হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাবের অভিযানে মেসার্স মেডিকোর্স ফার্মেসির এক মালিক আজিজুর রহমান মঞ্জুকে দুই বছর এবং মোর্শেদুল করিম মানিককে এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভিআইপি ড্রাগের মালিক মশিউর রহমানকেও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest