নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটির ঐতিহ্য বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। পড়ালেখা বাদ দিয়ে শুধু রাজনীতি করলে হবে না। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আগে পড়াশুনা তারপর রাজনীতি। ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মীদের সহনশীল আচরণ করতে হবে। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ছাত্রলীগের কাজ না।
মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় সাতক্ষীরা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি এসব কথা বলেন। এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহামান সোহাগ সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন।
সম্মেলনে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভির হুসাইন সুজনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনছুর আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সধারণ সম্পাদক এহসান হাবীব অয়ন প্রমুখ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে গর্বিত। ২০১৩ সালে এই সাতক্ষীরায় সিটি কলেজ শাখার সভাপতি এবিএম মামুনসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ১৭ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল জামায়াত শিবির। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সাতক্ষীরা এখন জামায়াত শিবির মুক্ত জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরায় চারটি আসনে আওয়ামী লীগের জয়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করে ছাত্রলীগকে প্রমান করবে তারা রাস্তায় ছিল আছে এবং থাকবে। তিনি আরও বলেন, আজকে এই সম্মেলনের মাধ্যমে যারা কমিটিতে আসবে তারা জামায়াত শিবির মুক্ত সাতক্ষীরা জেলা উপহার দেবে। আগামী নির্বাচনে ছাত্রলীগ অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করবে।

সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি’র সভপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান, সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও হেলদি বাংলাদেশের আহবায়ক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এসময় তিনি বলেন, ‘এক পাশে ময়লা আর এক পাশে খাবার খাবো এটা কখনও হেলদি সাতক্ষীরা বা বাংলাদেশ হতে পারেনা। বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এগিয়ে নিয়ে স্বাস্থ্য সেবার মধ্য দিয়ে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে হবে। অনেকে মনে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন হচ্ছেনা। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। দেশের বিভিন্ন মফস্বল এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। অন্যান্য জেলার চেয়ে সাতক্ষীরা জেলা স্বাস্থ্য ও ক্রীড়াঙ্গনে অনেক উন্নত। মাদক নির্মূলে এ জেলা কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। এসময় তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সকল সুখের মুল তাই এ বিষয়ে জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে নারীদেরকে সকল কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমি ফিট তো দেশ ফিট।’ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্য্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান, শিশু শৈল চিকিৎসক প্রফেসর ডা. তাহমিনা বানু, ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেটেটিভ ডা. খায়রুল ইসলাম, প্রাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান, বিআইজিডি’র রিসার্চ এ্যাসোসিয়েটস কানেতা জিল্লুর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল, ডা. কাজী আরিফ আহমেদ, ডা. শামীমা পারভীন, এভারেস্ট বিজয়ী এম.এ মুহিত, এ করিম বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন খান লিপি, এইচ.এফজি’র কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট তানভীর হোসেন, হেলথ ফিন্যান্স এন্ড গর্ভনেন্স এর ড. কামরুল জাহিদ ও ড. সোহেল রানা প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ দৌলা সাগর, কাজী ফিরোজ হাসান, শফিকুল আলম বাবু, অনিমা রাণী মন্ডল, শেখ আব্দুস সেলিম, পৌরসভার সচিব সাইফুল ইসলাম বিশ^াস, প্রকৌশলী সেলিম সরোয়ারসহ সাতক্ষীরা পৌরসভা এবং পিপিআরসি’র কর্মকর্তারা।
