সর্বশেষ সংবাদ-
কালিগঞ্জে সঞ্জিব হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে কাকা গ্রেফতারসাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মোড় সংলগ্ন সরদার পাড়ায় ড্রেন সংস্কার কাজের উদ্বোধনসাতক্ষীরার কালিগঞ্জে যুবকের মরদেহ উদ্ধার: পরিবারের দাবি হত্যাকান্ডরাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া অন্ধ ঘোড়ার সেবা করা সাতক্ষীরার সোহানের পাশে প্রধানমন্ত্রীতালায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগশ্যামনগরের নীলডুমুরে ঘাটে হার্ডওয়্যার দোকান থেকে বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার‘অথবা তুমি আমি’ নাটকে আলোচনায় ইভানা২৯ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীকানাডা পশ্চিম বিএনপির বিতর্কিত কার্যক্রম ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভশ্যামনগরে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা : সরেজমিনে মিলল ভিন্ন চিত্র

বাজারের সব খাবারেই ভেজাল!

বাজার থেকে নিশ্চিন্তে কী খাবার কিনে খাবেন? সব খাবারেই ভেজাল! দেশের বাজারে বিক্রিত খাবারের মান সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এমনই সন্দেহ প্রকাশ করে থাকেন। তাদের এ সন্দেহ যে অমূলক নয়, তার প্রমাণ মিলেছে রাজধানীর মহাখালীর জনস্বাস্থ্যে ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল ফুড সেইফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) প্রায় পাঁচশ প্রকারের খাদ্য ও খাদ্য দ্রব্যের নমুনা পরীক্ষায়!

রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লা, রাজশাহী, ফরিদপুর, পাবনা ও যশোর এ পাঁচ শহর থেকে ঘি, সরিষা ও সয়াবিন তেল, সেমাই, লাচ্ছা সেমাই, ফুলকপি, বেগুন, শিম, কাঁচা মরিচ, টমেটো ও নুডুলসের প্রায় পাঁচশ নমুনা সংগ্রহ করে পেস্টিসাইড, রং, আফলা টক্সিনের উপস্থিতি ও মাইক্রোবায়োরজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। এসব খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্যের নমুনা পরীক্ষায় হাতেগোনা দু’একটি ছাড়া প্রায় সব খাদ্য ও খাদ্যসামগ্রীতে কম-বেশি ভেজাল থাকার প্রমাণ মিলেছে।

শনিবার দুপুরে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ‘মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অব হর্টিকালচার প্রোডাক্টস অ্যান্ড আদার ফুড কমোডিটিজ ফর কেমিক্যাল কন্টামিনেশন অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজিক্যাল অ্যাট এনএফএসএল: অ্যান অ্যাপ্রাইজাল অব ফুড সেফটি সার্ভে ইন বাংলাদেশ-সেকেন্ড রাউন্ড’ শীর্ষক জরিপের প্রাপ্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালক ডা. মো. আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে ল্যাবরেটরির প্রধান প্রফেসর ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী জরিপ ফলাফল উপস্থাপন করেন। এ সময় বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (এফএও) সিনিয়র ন্যাশনাল অ্যাডভাইজর প্রফেসর শাহমনির হোসেন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, খাদ্য নিরাপত্তা অধিদফতরের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক, বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) চেয়ারপারসন ড. এস কে রয় বিশেষ অতিথি ছিলেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৫-১৬ মেয়াদে প্রথম সার্ভে কার্যক্রম শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬-১৭ সালে নুডুলস, ঘি, সরিষা ও সয়াবিন তেল, সেমাই, লাচ্ছা সেমাই, ফুলকপি, বেগুন, শিম, কাঁচা মরিচ, টমেটোসহ সর্বমোট ৪৬৫টি নমুনা পেস্টিসাইড, রং, আফলা টক্সিনের উপস্থিতি মাইক্রোবায়োরজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়।

নমুনাসমূহ ফুড গ্রেড ব্যাগে সংগ্রহ এবং নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী এনএফএসএলে প্রেরণ, সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নির্ধারিত পরীক্ষা পদ্ধতি যা এনএফএসএলে ভেলিডেটেড এবং পাবলিশড পরীক্ষা পদ্ধতিতে করা হয়। মাইক্রোবায়েলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট ব্যাগে, নির্দিষ্ট নিয়মে নমুনা সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং পরীক্ষা করা হয়।

ফলাফল
নমুনা : ঘি, সরিষা ও সয়াবিন
৩৮টি ঘি পরীক্ষায় ২৭টিতে বিআর ও সাবানিমান, ১৭টিতে মুক্ত এসিডমান এবং ২০টিতে আর্দ্রতার মানের তারতম্য পাওয়া যায়। ৩১টি সরিষা তেল পরীক্ষায় ১৮টিতে সাবানিমান, ২৭টিতে মুক্ত এসিডের মান, ১২টিতে আয়োডিনের মান এবং ৮টিতে আয়রনের মানের তারতম্য পাওয়া যায়। ২৭টি সয়াবিন তেলের মধ্যে ১৭টিতে বিআর ১৩টিতে সাবানিমান এবং ১২টিতে আয়োডিনের মানের তারতম্য পাওয়া যায়।

টমেটো
মোট ৩০টি টমেটো নমুনার মধ্যে জেলা পর্যায়ের বাজার থেকে সংগৃহীত ২টিতে ক্লোরোপাইরিফস পেস্টিসাইড পাওয়া যায়। এর গ্রহণযোগ্য মাত্রা (ইইউ) ১০ পিপিবি (প্রতি কেজিতে ১ মাইক্রোগ্রাম)। সেখানে ২টি নমুনাতে ২০ এবং ২২ মাত্রায় উপস্থিতি পাওয়া যায়।

বেগুন
মোট ৩০টি বেগুনের নমুনার মধ্যে ঢাকার বাজারের একটিতে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে ডাইমেথয়েট পেস্টিসাইড পাওয়া যায়।

ফুলকপি
মোট ৩০টি ফুলকপি নমুনার মধ্যে জেলা পর্যায়ের ৭টি এবং ঢাকার বাজারের ৫টি মোট ১২টিতে ক্লোরোপাইরিফস পেস্টিসাইড পাওয়া যায়। তারমধ্যে জেলা পর্যায়ের ২টি নমুনায় গ্রহণযোগ্য মাত্রা (ইইউ) ৫০ পিপিবির বেশি পাওয়া গেছে। একটিতে ৬৭ পিপিবি অন্যটিতে ৬৬ পিপিবি মাত্রা। অন্যগুলোতে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে কম মাত্রায় পাওয়া যায়।

শিম
মোট ৩০টি শিমের নমুনার মধ্যে ১১টি জেলা পর্যায়ের, ৪টি ঢাকা শহরের বাজারের নমুনা মোট ১৫টিতে ক্লোরোপাইরিফস পেস্টিসাইড পাওয়া যায়। গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৫০ পিপিবির বেশি পাওয়া যায় ১টি নমুনায় (৫৩ পিপিবি)। বাকিগুলোতে গ্রহণযোগ্য মাত্রার মধ্যে পাওয়া যায়।

কাঁচা মরিচ
মোট ৩০টি কাঁচা মরিচের নমুনার মধ্যে ৮টি জেলা পর্যায়ের, ৭টি ঢাকার বাজারের নমুনায় মোট ১৫টিতে ক্লোরোপাইরিফস পেস্টিসাইড পাওয়া যায়। গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১০ পিপিবির বেশি পাওয়া যায় সব ক’টি নমুনায় (১২-১১৯ পিপিবি)।

পেস্টিসাইডের মাত্রা কমানোর জন্য ধৌতকরণ প্রক্রিয়া
মোট ১৫০টি বিভিন্ন সবজি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৫টিতে বিভিন্ন রকমের পেস্টিসাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পানিতে পাঁচ মিনিট করে ধৌত করার মাধ্যমে প্রথমবার এবং দ্বিতীয়বার ধৌত করার পর পেস্টিসাইডের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়।

প্রথমবার ধৌতকরার পর ২৯টি নমুনায় কোনো পেস্টিসাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় ধৌতকরার পর ১০টিতে কোনো পেস্টিসাইড পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়বার ধোয়ার পরও ৬টি নমুনার পেস্টিসাইডের উপস্থিতি থেকে যায়।

নুডুলস
ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাজার ও সুপার শপ থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৫টি নুডুলস নমুনার গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে ১৩টিতে নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে প্রোটিনের পরিমাণ কম পাওয়া যায়। লেডের পরিমাণ নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে অনেক কম ও অনেকগুলোতে শূন্যে মাত্রায় পাওয়া যায়।

সেমাই
অনুরূপভাবে ১৫টি সাধারণ ও ১৫টি লাচ্ছা সেমাই পরীক্ষা করা হয়েছে। ১টি সাধারণ সেমাইয়ে, ১০টি লাচ্ছা সেমাইয়ের মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে আর্দ্রতা পাওয়া যায়। ৩টি সাধারণ সেমাই, ১০টি লাচ্ছা সেমাইয়ে মাত্রার চেয়ে কম প্রোটিন পাওয়া যায়।

মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষায় ১টি সাধারণ সেমাইয়ে, ৮টি লাচ্ছা সেমাইয়ে ঈস্ট, মোল্ডের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

ঝালমুড়ি-ভেলপুরিতে টাইফয়েডের জীবাণু
এছাড়া একই প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকার প্রায় প্রতিটি স্কুল বা বিভিন্ন সড়কের সামনে প্রতিদিন ঝালমুড়ি, ভেলপুরি, আচারসহ নানা খাদ্যসামগ্রীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এসব নমুনা পরীক্ষায় টাইফয়েডবাহী সালমোনিলা রোগের জীবাণু পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন থানার ৪৬টি স্কুলের সামনে থেকে ৪৬টি ঝালমুড়ি, ৩০টি ফুসকা, ১৬টি ভেলপুরি ও ৪২টি আচারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত এসব নমুনাতে মাইক্রোটক্সিন, কৃত্রিম রঙের উপস্থিতি ও মাইক্রোবায়োলজিক্যাল, ঈস্ট-মোল্ড, কলিফর্ম, সালমোনিলা, ই-কলাইয়ের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, ১৬টি ভেলপুরি নমুনার সবগুলোতেই ঈস্ট-মোল্ড ও কলিফর্মের পরিমাণ স্বাভাবিকমাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আতা ফলের উপকারিতা

আতা আমাদের পরিচিত একটি ফল। এই ফলের গাছটি বসতবাড়ির আঙিনায়, ঝোপঝাঁড়ে সহজেই জন্মে থাকে। আতা গাছ উচ্চতায় শরিফার চেয়ে একটু বড়। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ফলটি সহজে পেট ভরাতেও দারুণ সাহায্য করে। অনেকের কাছে আতা খুব পছন্দের ফল। সহজলভ্য এ ফলটির প্রতি ১০০ গ্রামে পাওয়া যাবে শর্করা ২৫ গ্রাম, পানি ৭২ গ্রাম, প্রোটিন ১.৭ গ্রাম, ভিটামিন এ ৩৩ আইইউ, ভিটামিন সি ১৯২ মিলিগ্রাম, থিয়ামিন ০.১ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাবিন ০.১ মিলিগ্রাম, নিয়াসিয়ান ০.৫ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড ০.১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৭ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৩৮২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৪ মিলিগ্রাম। আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে গুণে ভরা আতাফল। চলুন জেনে নেই সাধারণ আতা ফলের অসাধারণ ঔষধি গুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে।

আতাফলে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। দুরারোগ্য ব্যাধিকে তাড়িয়ে আপনাকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে। এছাড়া আতাফলের খাদ্যউপাদান এনিমিয়া প্রতিরোধ করে থাকে।

আতা ফলে প্রচুর ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। আর শরীরের হাড় গঠন ও মজবুত রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে ক্যালসিয়াম সরবারহ করতে সক্ষম এই আতা ফলটি। তাই হাড় মজবুত করতে আতা ফল খাওয়া উচিত।

খাবারের হজম শক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে আতাফলে থাকা ফসফরাস উপকারী ভূমিকা পালন করে। এর খাদ্যআঁশ হজমশক্তি বৃদ্ধি করে ও পেটের সমস্যা দূর করে। তাই যাদের হজমের সমস্যা তারা এই আতা ফল খেলে অনেক উপকার পাবেন।

আতাফল শরীরের ডিএনএ ও আরএনএ সংশ্লেষণ, শক্তি উৎপাদনের জন্য ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি ও খনিজ পদার্থসমূহ সরবরাহ করে থাকে।

আতাফলে রিবোফ্লাভিন ও ভিটামিন সি আছে। আর এই ভিটামিন উপস্থিতির কারণে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে। সেক্ষেত্রে আতা ফল অনেক সহায়ক। যাদের চোখের সমস্যা তারা আতা ফল খাবেন, এতে আপনার চোখের উপকার হবে।

আতা ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা একটি উন্নতমানের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফ্রি রেডিক্যাল নিয়ন্ত্রণে রক্ষা করে। এছাড়া ত্বকে বার্ধক্য বিলম্বিত করে। এতে উপস্থিত ভিটামিন এ চোখ, চুল ও ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।

আতা ফলের ম্যাগনেসিয়াম মাংসপেশির জড়তা দূর করে এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এর পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ রক্তের উচ্চচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৯০ টাকার জন্য স্কুলেই দুই ছাত্রীকে বিবস্ত্র করা হলো!

স্কুলের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ৯০ টাকা (৭০ রুপি) হারিয়েছে। খুঁজে না পেয়ে সরাসরি এক শিক্ষিকার দ্বারস্থ হয় সে। অভিযোগ পেয়ে সব শিক্ষার্থীর ব্যাগ তল্লাশি করে দেখেন ওই শিক্ষিকা। তারপরও কিছু না পেয়ে তল্লাশির নামে ওই শ্রেণির দুই ছাত্রীকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করেন তিনি।

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের দামোহ জেলার রানি দুর্গাবতী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করে হয়রানির শিকার ওই দুই ছাত্রী।

অভিযোগকারী ছাত্রীরা জানায়, জয়তী গুপ্তা নামের ওই শিক্ষিকা তল্লাশির জন্য তাদের সব পোশাক খুলতে বাধ্য করে। অর্থ উদ্ধার করতে না পেরে একপর্যায়ে তিনি জাদুবিদ্যার আশ্রয় নেওয়ারও হুমকি দেন। তবে ছাত্রীদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জয়তী গুপ্তা।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজব সিং ঠাকুর বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি তাঁর নজরে আনা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে দুজন প্রধান শিক্ষিকাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেসির মাইলফলকের ম্যাচে বার্সার জয়

বার্সার হয়ে মেসির মাইলফলকের ম্যাচে লা লিগায় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে পাকো আলকাসেরের জোড়া গোলে সেভিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ভালভেরদের দল।

ঘরের মাঠে ক্যারিয়ারের ৬০০তম ম্যাচে শুরুতেই গোলের সুযোগ পান মেসি। তবে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে দুজনকে কাটিয়ে ছয় গজ বক্সের বাঁ-দিক থেকে তার নেওয়া কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান সেভিয়া গোলরক্ষক। এর দুই মিনিট পর গোলরক্ষককে একা পেয়ে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন সুয়ারেজ।

অবশেষে ম্যাচের ২৩ মিনিটে প্রতিপক্ষ দলের ডিফেন্ডার এসকুদেরোর ভুলে গোল করে দলকে লিড এনে দেন পাকো আলকাসের। বাঁ-দিক থেকে সুয়ারেসের বাড়ানো ক্রস এসকুদেরো ফিরালেও বল পেয়ে যান আলকাসের। তা থেকে নিচু শটে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড।

বিরতি থেকে ফিরেই সমতায় ফেরার সুযোগ পায় সেভিয়া। ডি-বক্সের বাইরে থেকে লুইস মুরিয়েলের জোরালো শট ক্রসবারের একটু উপর দিয়ে চলে যায়। তবে ম্যাচের ৫৯ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরায় পিসারো। কর্নার থেকে আসা বলে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।

ম্যাচের ৬৩ মিনিটে দূর থেকে জেরার্দ পিকের জোড়াল শট ক্রসবারে লাগলে হতাশা বাড়ে স্বাগতিকদের। এর দুই মিনিট পরই দলকে ফের এগিয়ে দেন আলকাসের। ডান দিক থেকে ইভান রাকিটিকের বাড়ানো দারুণ ক্রসে বল জালে পাঠান স্প্যানিশ এই তারকা। বাকি সময় আর গোল না হলে জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। এ জয়ে ১১ ম্যাচে ১০ জয় ও এক ড্রয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৩১।

এদিকে দিনের প্রথম ম্যাচে দেপোর্তিভো লেগানেসকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভালেন্সিয়া। আরেক ম্যাচে দেপোর্তিভো লা করুনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ২৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে। এক ম্যাচ কম খেলা রিয়াল মাদ্রিদ ২০ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নেইমারকে ছাড়াই পিএসজির গোল উৎসব

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আন্ডারলেখটের বিপক্ষে আঘাত পাওয়ায় লিগ ওয়ানের ম্যাচে অঁজির বিপক্ষে মাঠে নামেননি নেইমার। সঙ্গে ছিলেন না ডি মারিয়া, মার্কিনিয়োস ও মোত্তা। তবে তার অভাব বুঝতে দেননি পিএসজির হয়ে লিগ ওয়ানে শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা কাভানি ও এমবাপে। তাদের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে দুর্বল অঁজিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পিএসজি।

প্রতিপক্ষের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ চার সদস্যকে ছাড়া মাঠে নামলেও ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে দলকে লিড এনে দেন এমবাপে। ডান দিক থেকে দানি আলভেজের দারুণ ক্রসে ভলিতে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ব্যবধান দিগুণ করেন ড্রাক্সলার। আলভেজের বাড়ানো বল প্রথম ছোঁয়াতেই গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে বল জালে পাঠান জার্মান এই মিডফিল্ডার।

ম্যাচের ৩০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে পিএসজির হয়ে শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন কাভানি। এমবাপে ব্যাকহিল থেকে পাওয়া বলে ডান পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন মৌসুমের শুরু থেকেই দারুণ ফর্র্মে থাকা এই খেলোয়াড়। সুইডেনের জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পিএসজির জার্সিতে ফরাসি লিগে একশ গোল করলেন ৩০ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।

বিরতি থেকে ফিরে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কাভানি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে ড্রাক্সলারের বাড়ানো বলে লিগে নিজের ত্রয়োদশ গোলটি করেন কাভানি। এতে গোলদাতার তালিকার শীর্ষে থাকা মোনাকোর রাদামেল ফালকাওকে ছুঁয়ে ফেলেন উরুগুরের এই স্ট্রাইকার।

ম্যাচের ৮৪ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোল করেন এমবাপে। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার লুকাস মৌরার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে কোনাকুনি শটে লিগে নিজের চতুর্থ গোল করেন ফরাসি এই তারকা। বাকি সময় আর গোল না হলে জয়ের আনন্দেই মাঠ ছাড়ে এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত অপরাজিত পিএসজি। ১২ ম্যাচে ১০ জয় ও দুই ড্রয়ে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে উনাই এমেরির দল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মুনরোর সেঞ্চুরিতে ভারতকে হারাল নিউজিল্যান্ড

ভারতের সামনে ছিল ইনিংস জয়ের হাতছানি আর কিউইদের জয় দিয়ে সমতায় ফেরার লক্ষ্য। এ লড়াইয়ে কলিন মুনরোর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর ট্রেন্ট বোল্টের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে ৪০ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরেছে কিউইরা।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করেন দুই ওপেনার গাপটিল ও মুনরো। উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ১০৫ রান। মার্টিন গাপটিল ৪৫ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। এরপর অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন (১২) বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে না পারলেও তৃতীয় উইকেটে টম ব্রুসের সঙ্গে গড়েন ৫৬ রানের জুটি।

২৬ বলে ফিফটি করার পর ৫৪ বলে ৭টি করে চার-ছয়ে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে একই বছরের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান মুনরো। ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও এভিন লুইসের পর চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে একাধিক সেঞ্চুরির মালিক হলেন তিনি। তার অপরাজিত ১০৯ রানের উপর ভর করে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৬ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে ট্রেন্ট বোল্টের বোলিং তোপে পরে স্বাগতিক ভারত। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ফিরিয়ে দেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা (৫) ও শিখর ধাওয়ানকে (১)। এরপর শ্রেয়াস আইয়ারকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। কিন্তু চার বলের ব্যবধানে আইয়ার (২৩) ও হার্দিক পান্ডিয়ার (১) উইকেট হারায় ভারত।

এরপর ধোনিকে সঙ্গে নিয়ে ৫৬ রানের জুটি গড়েন কোহলি। তবে ৪২ বলে ৬৫ রান করা কোহলিকে ফিরিয়ে ভারতকে বড় একটা ধাক্কা দেন মিচেল স্যান্টনার। শেষ দিকে ৩৭ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৯ রান করেন ধোনি শুধু ব্যবধানই কমিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে দল দুটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাজশাহীকে হারিয়ে দারুণ শুরু রংপুরের

রাজশাহী কিংসকে হারিয়ে বিপিএলে দারুণ সূচনা পেয়েছে রংপুর রাইডার্স। মোহাম্মদ মিঠুন, শাহরিয়ার নাফিস ও রবি বোপারার ব্যাটে ভর করে ড্যারেন স্যামির দলকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। প্রথমে ব্যাটিং করে ১৫৪ রান তোলে রাজশাহী। জবাবে ৭ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রংপুর।

বিপিএলের পঞ্চম আসরের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় দেশের উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগ রাজশাহী ও রংপুর। টস হেরে ব্যাটিং করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৪ রান করেছে রাজশাহী কিংস। সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেছেন রনি তালুকদার। এ ছাড়া ড্যারেন স্যামি ২৯ ও জেমস ফ্রাঙ্কলিন করেছেন ২৬ রান।

১৫৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ রানেই অ্যাডাম লিথ ও জনসন চার্লসকে হারিয়ে বসে রংপুর। সেখান থেকে তৃতীয় উইকেচ জুটিতে ৭৫ রান যোগ করেন মিঠুন ও নাফিস। দলীয় ৯০ রানে কেসরিক উইলিয়ামসের বলে অবিশ্বাস্য ক্যাচ ধরেন লুক রাইট। ৩৩ বলে তিন ছয় এক চারে ৪৬ রান করে আউট হন মিঠুন।

দলীয় ১১৩ রানে ফ্রাঙ্কলিনের বলে বোল্ড হন শাহরিয়ার নাফিস। ৩৪ বলে ৩৫ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। এরপর বরি বোপারা ও থিসারা পেরেরার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে সহজ জয় পায় রংপুর। বোপারা ৪০ ও পেরেরা ১৯ রান করেন।

রাজশাহীর মেহেদী হাসান মিরাজ, ফ্রাঙ্কলিন, উইলিয়ামস ও ফরহাদ রেজা নেন একটি করে উইকেট।

এর প্রথম টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই মুমিনুল হককে ফেরান সোহাগ গাজী। এরপর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় রাজশাহী। দ্বিতীয় উইকেটে লুক রাইট ও রনি তালুকদার যোগ করেন ৪৯ রান। এতে রাইটের অবদান মাত্র ১১ রান। দলীয় ৬১ রানে লুক রাইটকে ফেরান নাজমুল ইসলাম অপু।

তবে রনি তালুকদারের ৪৭, শেষের দিক ড্যারেন স্যামির ১৮ বলে ২৯, ফ্রাঙ্কলিনের ২২ বলে ২৬ ও শেষ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের ৫ বলে ১৫ রানের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে ১৫৪ রান করে রাজশাহী কিংস।

রংপুর রাইডার্স একাদশ : জনসন চার্লস, শাহরিয়ার নাফীস, রবি বোপারা, ডেভিড উইলি, মোহাম্মদ মিঠুন, নাজমুল হোসেন, রুবেল হোসেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, অ্যাডাম লিথ, লাসিথ মালিঙ্গা।

রাজশাহী কিংস একাদশ : লুক রাইট, জেমস ফ্র্যাঙ্কলিন, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, ড্যারেন স্যামি, সামিট প্যাটেল, ফরহাদ রেজা, রনি তালুকদার, নিহাদ উজ জামান ও কেসরিক উইলিয়ামস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস: কমছে সঞ্চয়, বাড়ছে ঋণ

অনলাইন ডেস্ক : খরচের চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাকিতে কেনাকাটা বাড়ছে পাড়া বা মহল্লার মুদি দোকানগুলোতে। ডিপার্টমেন্ট স্টোরেও ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা বেড়েছে।
স্বল্প আয় দিয়ে কোনো রকমে মাস পার করতে পারলেও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা মোকাবেলার খরচ মেটানো বা সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য কিছু টাকা সঞ্চয়ের কথা ভাবতেও পারছে না সীমিত আয়ের লোকজন। ক্রেতারা বলছে, সব কিছুর দাম বেশি, খরচ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। তা ছাড়া নতুন নতুন খরচের খাতও তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অথচ আয় বাড়ছে না এক টাকাও। এই পরিস্থিতিতে সঞ্চয় করা তো দূরের কথা, জমানো টাকাই ভেঙে খেতে হচ্ছে অনেককে।
মোটা বা চিকন সব ধরনের চালের দাম বাড়তি কয়েক মাস ধরে। সরকারের পক্ষ থেকে খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি করা হয়ে থাকে কোথাও কোথাও। তবে সাধারণ চালের বদলে শুধু আতপ চাল বিক্রি করা হচ্ছে বলে উদ্যোগটি জনপ্রিয় হচ্ছে না। পেঁয়াজের দামও প্রায় তিন-চার মাস ধরে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় ওঠানামা করছে।
বেশির ভাগ সবজি ও তরিতরকারি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে যখন তখন, নানা অজুহাতে। সয়াবিন তেলের দামও কিছুদিন ধরে বাড়তি। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। জানুয়ারি মাস আসার আগেই বাসাভাড়া বাড়ানোর আলাপ পেড়ে রাখছেন কোনো কোনো বাড়িওয়ালা।
খরচের চাপে যে বেসামাল স্বল্প আয়ের লোকজন—এটা শহরের পাড়া বা মহল্লার মুদি দোকানগুলোতে কথা বললে যে কেউ বুঝতে পারবে। রাজধানীর গুলশান থানার ঘনবসতি এলাকা নদ্দা-কালাচাঁদপুরে স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের জন্য গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজারসহ ছোট-বড় বেশ কিছু বিপণিবিতান। পাড়া বা মহল্লার অলিগলিতে রয়েছে ছোট-বড় মুদি দোকান। নদ্দার মুদি দোকান বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আরিফ হোসেন বলেন, গত কয়েক মাসে তাঁর দোকানে বাকি কেনাবেচা বেড়েছে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। তা ছাড়া নগদ কেনাবেচাও কমে গেছে তাঁর দোকানে। ওই দোকানি বলেন, “আগে যে ক্রেতা মাসে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বাকি নিত এখন নিচ্ছে তিন থেকে চার হাজার টাকা। সময়মতো টাকা পরিশোধও করছে না। টাকা চাইলে বলে, ‘ভাই, কী করব, টাকা নাই। ’” ওই দোকানি আরো বলেন, ‘বেচাকেনা কমে যাওয়ায় আমার দোকানের মুনাফাও কমে গেছে। আগে যে ক্রেতা একবারে দুই কেজি করে পেঁয়াজ নিত এখন সে নিচ্ছে এক কেজি করে।’
বারিধারায় বিদেশি একটি কম্পানির কর্মকর্তাদের আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস চালান মো. আলফত আলী। জাপানি একটি সংস্থার কার্যালয়েও একটি গাড়ি ভাড়ায় খাটাতেন তিনি। কিন্তু গত বছর জঙ্গি হামলায় জাপানের নাগরিক কুনিও হোশি মারা যাওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে আর গাড়ি ভাড়ায় খাটাতে পারছেন না তিনি। তা ছাড়া বর্তমানে যে অফিসের কর্মকর্তাদের আনা-নেওয়া করছেন সেখান থেকেও আগের মতো আয় আসছে না তাঁর। একই সঙ্গে আয় কমে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উভয় সংকটে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষটি। আলফত আলী জানান, তাঁর একটি মাত্র মেয়েকে গত বছর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন। যাওয়া-আসার জন্য মেয়েকে রিকশাভাড়া দিতে হয় প্রতিদিন ১০০ টাকা করে। দুপুরের খাবারের জন্য আলাদা করে কিছু টাকাও দিতে হয় তাঁকে। এসব খরচের পাশাপাশি বর্তমানে সংসারে বাড়তি খরচের চাপ সৃষ্টি করছে তরিতরকারি, চাল, ডালসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি।
গত বৃহস্পতিবার দিলকুশায় একটি ব্যাংক শাখায় মাসিক সঞ্চয়ী স্কিম ডিপিএস ভাঙাতে আসেন আদর আলী। আড়াই বছর ধরে ৫০০ টাকা করে প্রতি মাসে জমা করেছেন তিনি। আদর আলী বলেন, ‘তিন বছর মেয়াদে জমা করতে পারলে ভালো মুনাফা পেতাম। কিন্তু টাকার টানাটানিতে মেয়াদপূর্তি হওয়ার আগেই ডিপিএসটা ভাঙিয়ে ফেলতে হলো আমাকে।’
ব্যাংকগুলো ঘুরে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, এই গ্রাহকের মতো অনেকেই এখন ডিপিএস ভাঙাচ্ছে। এর ফলে দেশের ব্যাংকগুলোতে ডিপিএসসহ অন্যান্য মেয়াদি আমানত আগের মতো আর বাড়ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাস শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে মেয়াদি আমানতের স্থিতি ছিল সাত লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে এর পরিমাণ ছিল সাত লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর মেয়াদি আমানত বেড়েছে মাত্র ৮.৭৩ শতাংশ। ২০১৬ সালের আগস্টে এই হার ছিল ১২.০৮ শতাংশ। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে মেয়াদি আমানত বৃদ্ধির হার কিভাবে কমছে। কেবল মেয়াদি আমানতই নয়, তলবি বা যেকোনো সময় তুলে নেওয়ার আমানত বৃদ্ধির হারও কমছে। গত আগস্টে তলবি আমানত বৃদ্ধির হার ছিল ১০.৮০ শতাংশ। অথচ এক বছর আগে (আগস্ট ২০১৬) তলবি আমানত বৃদ্ধির হার ছিল ২৩.৮২ শতাংশ।
ব্যাংকে সঞ্চয় প্রবণতা কমে যাওয়ার অন্য একটি কারণ হলো আমানতের সুদহার কমে যাওয়া। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমানতের বিপরীতে ৬ থেকে ৭ শতাংশ সুদ পাওয়া গেলেও চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাবের সুদহার মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ। দুই-তিন বছর ধরেই এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। যে কারণে অনেকেই এখন ব্যাংকে আমানত রাখতে চাচ্ছে না। যাদের আগে থেকেই মোটামুটি একটি সঞ্চয় রয়েছে তাদের অনেকেই এখন ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে। এতে ব্যক্তি বিনিয়োগের পথ সংকুচিত হচ্ছে, বেসরকারি খাতের উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে, কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি জনগণের প্রকৃত আয় কমিয়ে দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে তোলে এবং সঞ্চয় কমিয়ে ফেলে, যেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বন্যার পর থেকে চালের দামটা বেড়ে গেছে। তবে এর জন্য আমি সরকারের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাকেই দায়ী করব। কেননা সরকারের গুদামে যখন চাল না থাকে তখন ব্যবসায়ীরা এটা নিয়ে বড় ধরনের ব্যবসায় মেতে ওঠে। কিন্তু সরকারের গুদামে চাল থাকলে মূল্যস্ফীতির সময়ও চালের দাম বাড়ে না। ২০১০ সালে আমরা দেখেছি তখন মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের বেশি থাকলেও চালের দাম কম ছিল। কারণ সরকারের গুদামে পর্যাপ্ত চাল মজুদ ছিল। ’

এদিকে মুদি দোকানের মতো সুপারশপগুলোতে বাকিতে কেনাকাটা বাড়ছে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। গত আগস্টে স্থানীয় ডিপার্টমেন্ট স্টোর, সুপারশপসহ বিভিন্ন ধরনের বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেল বা পস মেশিনে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দুই কোটি ২১ লাখ ৯২ হাজার ৬২০টি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। টাকার পরিমাণ ছিল মোট ৬৩৬ কোটি টাকা। অথচ জুলাই মাসেও ক্রেডিট কার্ডে এত টাকা বাকিতে কেনাকাটা করা হয়নি। ওই মাসে কেনাকাটা হয় ৫৫০ কোটি টাকার মতো। তা ছাড়া লেনদেনের সংখ্যা ছিল খুবই কম, মাত্র আট লাখ ৭০ হাজার ২৬৭টি। অর্থাৎ জুলাই মাসে যে লেনদেনগুলো হয়েছিল সেগুলো মূলত বড় অঙ্কের কেনাকাটা। আজকাল অনেকেই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আসবাব, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে। তবে এখন অনেকেই সুপারশপ বা চেইনশপগুলো থেকে মুদিপণ্য কিনছে। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আগস্টে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা বেশি হলেও টাকার পরিমাণ সেই তুলনায় খুব বেশি নয়। একটি লেনদেনে গড় টাকার পরিমাণ ২৮৭ টাকা। দেশের সবচেয়ে বড় সুপারশপ স্বপ্নের (এসিআই লজিসটিকস লি.) হেড অব মার্কেটিং আফতাবুল করিম তানিম বলেন, ‘ক্রেডিট কার্ডে স্বপ্নের কেনাকাটার বিল পরিশোধ হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। এটা ধীরে ধীরে বাড়ছে। ’
দেশে সরকারি সঞ্চয় বরাবরই ঋণাত্মক। ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতির কারণে দেশকে ঋণ করে চলতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশজ সঞ্চয়ের অন্যতম জোগানদার হলো বেসরকারি খাত। কিন্তু আয় কম হওয়ার ফলে বেসরকারি খাতের সঞ্চয়ও কম। তবে বলিষ্ঠ রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির প্রভাবে ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে জাতীয় সঞ্চয় হার উৎসাহব্যঞ্জক গতিধারা বজায় রেখে চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতে ব্যাংকগুলোর অতিমাত্রায় বিনিয়োগের ফলে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর-পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট আর্থিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে দরপতন থেকে শুরু হওয়া বিশ্বমন্দায় উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রাথমিক অবস্থায় গুরুতর ধাক্কা না খেলেও পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের সংকটে পড়ে। বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। ২০০৯, ২০১০ সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার ঢেউ লাগতে শুরু করলেও বাংলাদেশ ছিল এর প্রভাব থেকে অনেকটাই মুক্ত। গবেষকরা বলছেন, উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির কারণে ওই সময় দেশের অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ভালো অবস্থানে ছিল, যা দেশটির সামষ্টিক অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে বেগবান করে। ব্যক্তিপর্যায়ে আর্থিক সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা থাকায় ওই বার মন্দার হাত থেকে বেঁচে যায় গোটা অর্থনীতি। অবশ্য কিছুটা হোঁচট খেয়েছিল রপ্তানি খাত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়োপযোগী পদক্ষেপে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণ গুটিয়ে নেওয়ায় মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণেও চলে এসেছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest