সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের সংগঠন স্বপ্নসিড়ির ইফতারজেনেভায় প্রবীনদের অধিকার সংক্রান্ত ওয়াকিং গ্রপের সভার অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় আশেক-ই-এলাহীসাতক্ষীরা ল স্টুডেন্টস ফোরাম এর ইফতারসাতক্ষীরার সুমি খুলনায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ আটকজমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের ইফতারসাতক্ষীরায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ছাত্রদলের দোয়াআশাশুনির এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলাদ্রুত বিচার আইনের মামলায় জামায়াত নেতা আজহারুজ্জামান ‍মুকুল কারাগারেসাংবাদিক সামিউল মনিরের উপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর হামলা: আটক -০২

দুদকে র‌্যাবের প্রতিবেদন; ত্রাণের চালও চুরি-আনসার ভিডিপির ১৮৩ টন গায়েব

রক্ষকই ভক্ষক। প্রবাদ বাক্যটি খাদ্য অধিদফতরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে একেবারে প্রযোজ্য। কারণ তারা রক্ষক হয়েও সরকারি চাল আত্মসাৎ করেছেন। বস্তাপ্রতি ১০ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত চাল সরিয়েছেন। ত্রাণের চাল থেকে শুরু করে আনসার-ভিডিপির জন্য বরাদ্দ বিপুল পরিমাণ চাল চুরি করেন। এভাবে চুরি করা টন টন চাল বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা ভাগবাটোয়ারা করেছেন। গড়েছেন অঢেল সম্পদ। নমুনা হিসেবে রাজধানীর তেজগাঁও গুদামে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা একেবারে হাতেনাতে ধরে ফেলেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ নিয়ে র‌্যাবের তথ্যবহুল প্রতিবেদনে নামধামসহ বিস্ময়কর সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তেজগাঁও গুদামের ন্যায় দেশের খাদ্য গুদামগুলোতে একই কারচুপি হচ্ছে। আর বাস্তবে তাই যদি হয় তবে নীরবে এক ভয়াবহ দুর্নীতি ভর করেছে সরকারের খাদ্য বিভাগে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত হবে দ্রুত এ চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। যদিও ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে দুদকের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের অভিযানে তেজগাঁও খাদ্য গুদামে হাতেনাতে চাল চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। গুদামে কর্মরত সাত কর্মকর্তাকে ‘চাল চোর’ হিসেবে চিহ্নিত করে র‌্যাব। এ ঘটনার পর তেজগাঁও খাদ্য গুদাম থেকে তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে হাতেনাতে ধরা পড়া ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও তেজগাঁও খাদ্য গুদামে সরকারি চাল চুরির সঙ্গে জড়িত আরও অন্তত ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সন্দেহভাজন এসব চাল চোরদের অবৈধ সম্পদসহ ব্যক্তিগত নানা বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে জোরেশোরে।

চোরের খাতায় যাদের নাম : র‌্যাবের অভিযানে তেজগাঁও সরকারি গুদাম থেকে চাল চুরির ঘটনা ধরা পড়ার পর গুদামের ৭ সরকারি কর্মকর্তার মুখোশ খুলে যায়। তাদের বিরুদ্ধে চাল চুরির অকাট্য প্রমাণ মেলে। চাল চুরির টাকায় এদের অনেকে অঢেল সম্পদ গড়েছেন। কেউ কেউ রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে রাজকীয় জীবনযাপন করেন।

র‌্যাব জানায়, গুদামের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে নিজেরাই চোর সিন্ডিকেটের সদস্য। যাদের অনেকে বছরের পর বছর একই স্থানে কর্মরত। ৭ থেকে ১০ বছরেও তেজগাঁও গুদাম থেকে অন্যত্র বদলি হননি কয়েকজন কর্মকর্তা। বহু বছর একই স্থানে থাকার কারণে তারা শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। কয়েক কর্মকর্তা আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত।

সূত্র জানায়, চাল চোরদের চিহ্নিত করে র‌্যাবের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো হয়। ওই তালিকায় দুর্নীতিবাজদের একটি তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে এক নম্বরে আছে খাদ্য কর্মকর্তা নান্নু মিয়ার নাম। তিনি উপ-খাদ্য পরিদর্শক। তার পোস্টিং মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় হলেও বিশেষ সংযুক্তি নিয়ে বর্তমানে তিনি তেজগাঁও খাদ্য গুদামে কর্মরত। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ নম্বর গুদামের দায়িত্বে নিয়োজিত এ কর্মকর্তা ওজনে কম দেয়ার মাধ্যমে চাল চুরিতে সিদ্ধহস্ত। তবে তিনি একা নন। সরকারি চালের এ চৌর্যবৃত্তিতে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী উপ-খাদ্য পরিদর্শক মর্যাদার আরেক কর্মকর্তা। তার নাম মোহাম্মদ হোসেন মামুন। তিনি ১৩ নম্বর গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তবে এ দুই কর্মকর্তার উপরে আরও বড় চোর আছেন।

র‌্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্য পরিদর্শক পাপিয়া সুলতানা গুদামের ওজন সেতুর দায়িত্বে নিয়োজিত। তাই তাকে বাদ দিয়ে চুরি সম্ভব নয়। পাপিয়া নিজেও চাল চুরিতে সিদ্ধহস্ত। চোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চাল চুরির অভিনব উপায় বের করেন। গুদামের নির্ধারিত ডিজিটাল ওজন সেতু থাকলেও সেটি বেশিরভাগ সময় বিকল করে রাখেন তিনি। এরপর গুদামের পুরনো এবং বিকল অ্যানালগ ওজন সেতুর মাধ্যমে চাল ওজন করা হয়। বিকল মেশিনে ওজনে কম দিয়ে চাল চুরির অভিনব কৌশল রপ্ত করেছেন এ কর্মকর্তা। এভাবে বিকল মেশিনে চাল ওজন তার আরেকটি কৌশলী ফাঁদ। কারণ পরে ওজনে কম দেয়ার বিষয়টি ধরা পড়লে যাতে সোজাসাপ্টা বলে দিতে পারেন- ‘মেশিন নষ্ট থাকায় তিনি বুঝতে পারেননি।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, পাপিয়া সুলতানার পোস্টিং দোহার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে হলেও তিনি তেজগাঁও খাদ্য গুদাম ছাড়তে রাজি নন। তাই তিনিও সংযুক্তি নিয়ে তেজগাঁওয়ে কর্মরত আছেন। তবে শুধু গুদাম বা ওজন শাখার কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চাল চুরি সম্ভব নয়। গুদাম থেকে চাল বের করতে হলে আরও কয়েকটি শাখার সহযোগিতা দরকার হয়। এর মধ্যে ফটক শাখা অন্যতম। তাদের সহায়তা ছাড়া চোরাই চাল গুদাম থেকে বের করা অসম্ভব। র‌্যাবের তথ্যানুসন্ধানে বেরিয়ে আসে- চাল চোর সিন্ডিকেটে নাম লিখিয়েছেন ফটক শাখার দায়িত্বে নিয়োজিত খাদ্য পরিদর্শক ইউনুছ আলী মণ্ডল। তিনি কাগজপত্রে তারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে চোরাকারবারিদের সহায়তা করেন। ৫ সেপ্টেম্বর দুটি চাল ভর্তি ট্রাক বের হয় রাত ৮টায়। কিন্তু চোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইউনুছ আলী তার রেজিস্টারে ট্রাক বের হওয়ার সময় লেখেন বিকাল সাড়ে ৪টা। তেজগাঁও খাদ্য গুদামের প্রধান দারোয়ান মো. হারেজও কম যান না। বাইরের চাল চোরাকারবারিদের সঙ্গে গুদামের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়ার দায়িত্ব তার। অর্থাৎ তিনি চোরাই চালের কাস্টমার জোগানদাতা। নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিছুদিন আগে তাকে তেজগাঁও থেকে অন্যত্র বদলিও করা হয়। কিন্তু তিনি সেখানে যোগদান না করে বহালতবিয়তে আছেন। ওদিকে চাল চুরির পর লুকিয়ে রাখার কাজটি করেন উপ-খাদ্য পরিদর্শক আবু সাঈদ। তিনি তেজগাঁওয়ের ৪ ও ৩৪ নম্বর গুদামের ইনচার্জ।

র‌্যাব জানায়, কিছুদিন আগে আনসারের জন্য বরাদ্দ চালের একটি বড় অংশ ওজনে কম দেয়ার মাধ্যমে চুরি করা হয়। এ চোরাই চাল রাখা হয় আবু সাঈদের গুদামে। এছাড়া তার অধীনে থাকা দুটি গুদাম পরীক্ষা করে বড় ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়। দেখা যায়, এ দুটি গুদামের নির্ধারিত মজুদের চেয়ে অন্তত ১৫০ টন চাল কম রয়েছে।

সূত্র জানায়, দুদকে পাঠানো তালিকার ৭ নম্বরে থাকা উপ-খাদ্য পরিদর্শক আবদুল কাদের বকসি বিপুল বিত্তবৈভবের সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে তেজগাঁও খাদ্য গুদামের সবচেয়ে লাভজনক শাখা হিসেবে পরিচিত স্টক শাখায় দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি যথাক্রমে ১ ও ২ নম্বর গুদামেরও ইনচার্জ। র‌্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবদুল কাদের বক্সি চাল কালোবাজারির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। র‌্যাবের তল্লাশিতে তার অধীনস্থ ১ নম্বর গুদামে ২০ টন চাল কম পাওয়া যায়। অবৈধ উপায়ে তিনি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। চাল চুরির অবৈধ টাকায় তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিজাত ফ্ল্যাট কেনেন। রাজকীয় আসবাবে ঠাসা এ ফ্ল্যাটে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। এমনকি গুদামের ভেতরেও গভীর রাত পর্যন্ত তিনি নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

যেভাবে ধরা পড়ে চুরি : ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু হোসেন বাবলা তার এলাকার দুস্থ, অসহায় ও দুর্যোগ কবলিত পরিবারের জন্য ত্রাণ হিসেবে সরকারি চালের বরাদ্দ চেয়ে কয়েক মাস আগে আধা সরকারি পত্র (ডিও) দেন। ২৫ অক্টোবর তার ডিওর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ টন চাল বরাদ্দ দেয় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। বরাদ্দ পাওয়ার পর ৫ সেপ্টেম্বর বরাদ্দকৃত চাল আনতে তেজগাঁও খাদ্য গুদামে যান এমপি বাবলার প্রতিনিধি হায়দার আলী। ৩০ টন চাল আছে বলে তেজগাঁও খাদ্য গুদাম থেকে তাকে দুটি ট্রাক বুঝিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ট্রাকে চালের বস্তা কম দেখে হায়দার আলীর সন্দেহ হয়। তিনি বুঝতে পারেন নির্ধারিত চালের চেয়ে অনেক কম চাল দিয়ে তাকে ট্রাক বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। একপর্যায়ে তিনি খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাদের কাছে তার সন্দেহের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘প্রতেক্যটি বস্তায় আপনারা চাল কম দিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।’ অভিযোগ পেয়ে ট্রাক দুটি খাদ্য গুদামের ওজন সেতুতে তোলা হয়। দেখা যায় দুটি ট্রাকেই কম চাল রয়েছে। ওজনে কারচুপি ধরা পড়ে যাওয়ার পর গুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য তারা একটি ট্রাকে ৭ বস্তা এবং অপর ট্রাকে ৪ বস্তা করে মোট ১১ বস্তা চাল তুলে দেন। ততক্ষণে গুদাম কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চাল চুরির ঘটনা গোপনে র‌্যাবের কাছে পৌঁছে যায়।

সূত্র জানায়, গোপন সংবাদ আসার পর তাৎক্ষণিক গুদামের বাইরে অবস্থান নেয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাব-২ এর একটি দল। গুদাম থেকে দুটি ট্রাক বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আটক করে র‌্যাব। এরপর ট্রাক দুটি গুদামে নিয়ে কাগজপত্র যাচাই করতে শুরু করেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গুদামের ম্যানেজার হুমায়ুন কবিরকে ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু হুমায়ুন কবির লাপাত্তা। তেজগাঁও খাদ্য গুদামে র‌্যাবের অভিযানের খবর ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে একে একে আসতে শুরু করেন খাদ্য অধিদফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেষ পর্যন্ত হুমায়ুন কবিরও ঘটনাস্থলে হাজির হন। কিন্তু গভীর রাত হয়ে যাওয়ায় ট্রাক থেকে প্রতিটি বস্তা নামিয়ে ওজন করা সম্ভব হয়নি। রাত সাড়ে ১১টায় জব্দ তালিকা তৈরি করে চালসহ দুটি ট্রাক তেজগাঁও খাদ্য গুদামের ম্যানেজারের জিম্মায় দিয়ে আসে র‌্যাব। পরদিন দুপুর ২টায় খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ট্রাকের চাল নামিয়ে প্রতিটি বস্তা পৃথকভাবে ওজন করা শুরু হয়।

র‌্যাব জানায়, বস্তা খুলে ওজন করা শুরু হলে গুদামের কয়েকজন কর্মকর্তা রীতিমতো কাঁপতে শুরু করেন। কারণ প্রায় প্রতিটি বস্তাতেই চাল কম। কোনো বস্তায় ১২ কেজি কোনো বস্তায় ১৪ কেজি, আবার কোনো বস্তায় চাল আছে মাত্র ২০ কেজি। অথচ প্রতি বস্তায় চাল থাকার কথা ৩০ কেজি করে। মোট বরাদ্দ অনুযায়ী দুই ট্রাকে ৩০ হাজার কেজি চাল থাকার কথা। কিন্তু ত্রাণের জন্য বরাদ্দ ৩০ টন চালের প্রায় অর্ধেকই চুরি করেন গুদাম কর্মকর্তারা। প্রতিটি বস্তা ধরে ওজন করতে গিয়ে দেখা যায়, কারচুপির মাধ্যমে গুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ৯ হাজার ৪৯৫ কেজি চাল চুরি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, চাল চুরির এমন ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ার পর দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়। এরপর কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুদামে রক্ষিত বিভিন্ন নথিপত্র পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। কয়েকটি কাগজপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে আরও একটি বড়সড় চুরির ঘটনা ধরা পড়ে।

সূত্র জানায়, র‌্যাবের তল্লাশিতে আনসার ও ভিডিপিকে ২৫৮ টন চাল সরবরাহের একটি রেকর্ড পাওয়া যায়। দেখা যায় ৩, ৩৪ ও ৩৯ নম্বর গুদাম ঘর থেকে এ চাল সরবরাহ করা হয়েছে। গুদামের প্রধান ফটকে রক্ষিত গেট পাস রেজিস্টারেও এ চাল বের হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু আনসারকে এত বিশাল চাল সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে র‌্যাবের সন্দেহ হয়। ঘটনাস্থল থেকেই ২৫৮ টন চাল প্রাপ্তির বিষয়ে আনসার ও ভিডিপির উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে র‌্যাব। কিন্তু আনসারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৫৮ টন নয় তারা মাত্র ৭৫ টন চাল পেয়েছেন। আনসারের জন্য বরাদ্দকৃত চাল সরবরাহে এমন জালিয়াতি ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে র‌্যাব। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ২৫৮ টন চালের মধ্যে ৭৫ টন দেয়া হলে বাকি ১৮৩ টন চাল কোথায় আছে। কিন্তু এ বিষয়ে উপস্থিত কর্মকর্তাদের কেউই সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে জানা যায়, আনসারের জন্য বরাদ্দকৃত চালের মধ্য থেকে ১৮৩ টন চাল ৩৪ নম্বর গুদামে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এমন তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৩৪ নম্বর গোডাউনটি সিলগালা করে দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও খাদ্য গুদামের ম্যানেজার হুমায়ুন কবির বলেন, র‌্যাবের অভিযানের পর মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতর থেকে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে খাদ্য পরিদর্শক পাপিয়া সুলতানা, উপ-খাদ্য পরিদর্শক নান্নু মিয়া ও মোহাম্মদ মামুন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদের বিষয়েও তদন্ত চলছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, র‌্যাব যেসব অভিযোগ এনেছে তার সবগুলো সঠিক নয়। গুদামের ভেতর অনৈতিক কাজ ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপ-খাদ্য পরিদর্শক আবদুুল কাদের বকসি শুক্রবার রাতে বলেন, এসব অভিযোগ মোটেও সঠিক নয়। তবে গুদামের ক্লাবে জুয়া খেলা হয় এমন কথা তিনি বিভিন্ন সময় শুনেছেন। কিন্তু তিনি কখনও এসব কাজে জড়িত ছিলেন না।

সূত্র : যুগান্তর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : ‘সামাজিক অগ্রগতিতে প্রবীণদের মেধা, অবদান ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করুন’ এই সেøাগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় সিটিজেন ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০১৭ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে শহরের খুলনা রোড এলাকা থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মিলনায়তনে আলোচনা সভাস্থলে গিয়ে মিলিত হয়।

সিটিজেন ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সুশান্ত ঘোষের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা তালা-কলারোয়া-০১ আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এড. এস.এম হায়দার, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ, দৈনিক দক্ষিণের মশাল পত্রিকার সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই এলাহী, বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ড. মতিউর রহমান, সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ ও মো. হাদিউজ্জামান, সাবেক প্রভাষক ভূধর চন্দ্র সরকার, শেখ আজিজুল হক, কাজী হেলাল, শিরিনা পারভীন ও মনিরুল ইসলাম মীম। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পল্টু বাসার।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা
‘ভবিষ্যৎ অগ্রসরে সমাজে প্রবীণদের দক্ষতা, অবদান এবং অংশগ্রহন নিশ্চিত করুন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০১৭ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে র‌্যালিটি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা অফিসার্স ক্লাবে আলোচনা সভাস্থলে গিয়ে মিলিত হয়। প্রবীণ হিতৈষী সংঘ সাতক্ষীরা ও জেলা সমাজসেবা অধিদফতর সাতক্ষীরা এবং সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের অংশগ্রহণে সাবেক অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেবাষিস সরদার ও সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়া উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ, জেলা প্রবেশনাল অফিসার মিজানুর রহমান, শহর সমাজসেবা অফিসার শেখ সহিদুর রহমান ও আব্দুর রব ওয়ার্ছি। অনুষ্ঠানে প্রতিবছরের ন্যায় বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে সেবার জন্য দুইজনকে মমতা ও মমতাময়ী পুরস্কার দেওয়া হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোজাম্মেল হোসেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার তালায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার ভোর রাতে তালা উপজেলার খলিশখালি ইউনিয়নে বাগমারা গ্রামে এ ঘটনাটি। অগ্নিদগ্ধ গৃহবধুর নাম মুন্নি খাতুন (২৫)। তিনি ওই গ্রামের মুছা গাজীর স্ত্রী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুন্নির শরীরের ৭৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মুন্নি আতœরক্ষার চেষ্টা করলে তার স্বামীর শরীরও কিছুটা পুড়ে যায়।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ মুন্নি খাতুন জানান, প্রায় ৫ মাস আগে তার একটি শিশু সন্তানের জন্ম হয়। ওই শিশু জন্মের সময় তার সন্তানের নাড়ি ছিড়ে যায়। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো এবং তাকে মারধর করতো। এক পর্যায়ে তার স্বামী মুছা গাজী তাকে বাপের বাড়ি চলে যেতে বলেন। আর বাপের বাড়ি না গেলে তাকে হত্যা করবে বলে হুমকি প্রদান করতেন। এরই জের ধরে রোববার রাতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটি হয় এবং তাকে মারধর করে। এর পর রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়ার পর ভোর রাতে তার স্বামী মুছা তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় মুন্নি আতœরক্ষার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তার স্বামীর শরীরের কিছুটা পুড়ে যায়। পরে তার আত্মচিৎকারে এলাকাবাসি তাকে উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: ফরহাদ জামিল বলেন, গৃহবধুর শরীরের ৭৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, ঘটনাটি লোক মুখে শুনেছি। তবে, এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কেউ থানায় অভিযোগ দেননি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক, বক্তব্য দেবেন কফি আনান

ঘটা করে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক করা হলেও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উঠে আসেনি। চীন-রাশিয়ার মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের জোরালো সমর্থন মিয়ানমার সরকারের দিকেই।
ফলে কোনো সমাধানও বের করা যায়নি। এ অবস্থায় ফের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। এতে বক্তব্য দেবেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারই কফি আনানকে প্রধান করে আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করেছিল। মিয়ানমারের সিত্তু, মংডু, বুথিডং, ইয়াংগুন, নেপিদো ছাড়াও ব্যাংকক, ঢাকা, কক্সবাজার ও জেনেভায় অন্তত ১৫৫টি বৈঠকের পর ৮৮ সুপারিশ করেছিল আনান কমিশন। ২৪ আগস্ট রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পরপরই নতুন করে সহিংসতা শুরু হয় রাখাইনে। যার ফলে দেশান্তরী হয় পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। শত শত রোহিঙ্গা প্রাণ হারায়।

রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, লোকজনের অবাধ চলাচল ও নাগরিকত্ব আইনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছিলেন কফি আনান কমিশনের সদস্যরা। তারপরই রহস্যজনকভাবে রাখাইনের বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে ২৪ আগস্ট রাতে হামলা চালানো হয়। যার সূত্র ধরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযান শুরু করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পরীমণির ‘আই লাভ ইউ জান’ (ভিডিও)

যুগল নির্মাতা অপূর্ব-রানা পরিচালিত ‘ইনোসেন্ট লাভ’ সিনেমাটি সারাদেশে মুক্তি পাবে ২২ ডিসেম্বর। এতে পরীমণির বিপরীতে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক জেফ।
মুক্তিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ছবির ‘আই লাভ ইউ জান’ শিরোনামের গানটি ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়।

গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন এস আই টুটুল ও পড়শী। বাহাউদ্দিন রিমনের কথায় গানটির সুর করেছেন জাবেদ আহমেদ কিসলু।

বাতাসে উড়ছে দীঘল কালো চুল। লাল ঠোঁটে মিষ্টি হাসি আর নেশা ভরা চোখ দেখে চিত্রনায়ক জেফ গেয়ে উঠে ‘কত ভালোবাসি হায় আছো মিশে কলিজায়, তুমি আমারই প্রাণ, আই লাভ ইউ জান’। ভালোবাসার মানুষের কণ্ঠে এমন সুর শুনে পরীও গেয়ে উঠে।

২০১৪ সালের শুরুর দিকে রাজধানীর উত্তরায় মহরতের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এ সিনেমার শুটিং। এতে মোট পাঁচটি গান রয়েছে। এর মধ্যে একটি আইটেম গানও রয়েছে। জাবেদ আহমেদ কিসলু ও রুমী সেনের কম্পোজিশনে গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন এস আই টুটুল, পড়শী, রাজিব, মুন, লিজা, তানজিন রুমা ও রুপম।

জাহিন চলচ্চিত্রের ব্যানারে সিনেমাটিতে পরী-জেফ ছাড়াও অভিনয় করেছেন সোহেল রানা, সুচরিতা, মিজু আহমেদ, সুব্রত, আমির সিরাজী ও কাবিলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ব্যাট হাতেই উপেক্ষার জবাব দিলেন মাহমুদউল্লাহ

স্পোর্টস ডেস্ক : ওয়ানডেতে দেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন তিনি। ডুবতে বসা বাংলাদেশের ইনিংসকে অনেকবারই সামলেছেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দারুণ খেললেও টেস্টে কিছুটা ম্রিয়মান ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে হাফ সেঞ্চুরি করে ক্যারিয়ারটাকে শ্রীলঙ্কা সফর পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে গল টেস্টে ভালো করতে না পারায় বাদ পড়ে যান টেস্ট দল থেকে।
ওয়ানডেতে দারুণ খেললেও সেগুলো বিবেচনায় নেননি নির্বাচকরা। ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজেও তাঁকে নেওয়া হয়নি, বিবেচনায় ছিলেন না দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলেও। সাকিব আল হাসান শেষ মুহূর্তে ছুটি চেয়ে বসায় অভিজ্ঞতার কথা ভেবে অনেকটা বাধ্য হয়েই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে আফ্রিকাগামী বিমানে চড়িয়ে দেন কোচ-নির্বাচকরা। আর সুযোগটা পেয়ে কী দারুণভাবেই না কাজে লাগালেন এই ব্যাটসম্যান। হাফ সেঞ্চুরি করে নির্বাচকদের চোখে আঙুল দিয়ে নিজের অপরিহার্যতার কথা বুঝিয়ে দিলেন তিনি।
পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৬৬ রান করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ভাগ্য সহায় না হওয়ায় ইনিংসটাকে বেশি বড় করতে পারেননি। মরনে মরকেলের বলটা ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করলে হতাশ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় তাঁকে। এর আগে হাফ সেঞ্চুরি করে প্রায় মরতে বসা ক্যারিয়ারটাকে আরেকবার অক্সিজেন দেওয়ার কাজটি সেরে ফেলেছেন তিনি।
১২৪ বলে ৬৬ রানের ইনিংসটাতে দারুণ আতামবিশ্বাসী মনে হয়েছে মাহমুদউল্লাহকে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাট হাতে সাকিবের অভাবটা খুব একটা বুঝতে দেননি তিনি। ইনিংসটাকে সেঞ্চুরি পর্যন্ত টানতে পারলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ৪৯৬ রানটাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারতেন। সেটি না হলেও নিজেকে তো আরেকবার প্রমাণ করতে পারলেন মাহমুদউল্লাহ, এটিই বা কম কিসের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৩য় দিন শেষেও ব্যাকফুটে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক : পচেফস্ট্রুম টেস্টের তৃতীয় দিনেও অস্বস্তিতে রয়েছে বাংলাদেশ। আলোকস্বল্পতায় আগেভাগেই শেষ হয়েছে শনিবারের খেলা। ততক্ষণে অবশ্য টাইগারদের খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। ৮ উইকেট হাতে রেখে টাইগারদের চেয়ে ২৩০ রানে এগিয়ে রয়েছে প্রোটিয়ারা। লক্ষ্যটা যে আরো অনেক বাড়বে সেটা বলাই বাহুল্য। ১৭৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৫৪ রানে দুই উইকেট হারালেও ডু প্লেসিসদের চোখে এখন বড় লিডের স্বপ্ন। কারণ উইকেটে রয়েছেন টিম্বা বাভুমা-হাশিম আমলার মতো ব্যাটসম্যান। এরপর ব্যাটিং করবেন ডু প্লেসিস-কুইন্টন ডি ককদের মতো ব্যাটসম্যানরা। তাই চোখ বন্ধ করেই বলা যায়, এই টেস্টে ব্শে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। আমলা ১৭ ও বিভুমা ৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবেন।

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা বেশ ভালো করেছে বাংলাদেশ। শুরুতেই প্রথম ইনিংসে ১৯৯ রান করা ডিন এলগারকে ফিরিয়ে দিয়েছেন শফিউল ইসলাম। লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান এলগারকে। রিভিউ নিলেও বাঁচতে পারেননি প্রোটিয়া ওপেনার। দক্ষিণ আফ্রিকার রান তখন ৩০। এরপর দলীয় ৩৮ রানে মার্করামকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ। দিনের বাকি সময়টুকু নির্বিঘ্নেই পার করেছেন আমলা ও বিভুমা।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৯৬ রানের জবাবে ৩২০ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। টাইগারদের চেয়ে ১৭৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমেছে প্রোটিয়ারা। তামিম-মুশফিকদের সামনে রানের পাহাড় দাঁড় করাতে চেষ্টার কোনো কমতি রাখবে না এলগার-মার্করামরা। প্রথম ইনিংসের চেয়ে ভালো ব্যাটিং-বোলিং করতে না পারলে এই টেস্টে বাংলাদেশের হারটা মোটামুটি অবশ্যম্ভাবীই বলা যায়।

প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৯৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। এর জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি, ৩৬ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১২৭ রান। তারা উইকেট হারায় তিনটি।

তৃতীয় দিনের শুরুতে ভালোই খেলছিলেন তামিম ও মুমিনুল। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫৫ রান যোগ করেন তাঁরা। ৪৬তম ওভারে অভিষিক্ত ফেলুকায়োর বলটা তামিমের ব্যাটে লেগে জমা হয় কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসে। ৩৯ রান করেন দেশসেরা এই ব্যাটসম্যান। এরপর আবার প্রতিরোধ গড়েন মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৬৯ রান যোগ করেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারেননি মুমিনুল। কেশব মহারাজের বলে আউট হন তিনি।

এই ম্যাচে দারুণ খেলেছেন মাহমুদউল্লাহও। সাব্বির রহমানকে নিয়ে ৬৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। কিন্তু জুটিটা ভাঙেন অলিভেয়র। দলীয় ২৯২ রানে উইকেটের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া একটি বল টেনে আনতে গিয়ে বোল্ড হন সাব্বির। তখন তাঁর ঝুলিতে ছিল ৩০ রান। অল্প কিছুক্ষণ পর মাহমুদউল্লাহ ফিরে যান মরকেলের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে। তার আগে ৬৬ রানের একটি ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। মাহমুদউল্লাহ আউট হওয়ার তিন রানের ব্যবধানে দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩২০ রানের বেশি করতে পারেননি সফরকারীরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘১২ সেনা একের পর এক ধর্ষণ করে’

‘আমি আর আমার চার ননদ রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। তখন মিয়ানমারের সেনারা আমাদের বাড়িতে হামলা করে। তারা আমাদের ঘরে ঢুকে জোর করে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যায়। ওই সময় আমার সঙ্গে থাকা ছোট সন্তানকে ফুটবলের মতো লাথি মেরে ফেলে দেয় সেনারা।’

‘পরে আমাদের সবাইকে তারা নগ্ন করে। এক সেনা গলায় ছুরি ধরে আমাকে ধর্ষণ করতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা ধরে আমাদের সবাইকে ১২ জন সেনা একের পর এক ধর্ষণ করে।’

কথাগুলো বলছিলেন দুই সপ্তাহ আগে ধর্ষণের শিকার আয়েশা বেগম। সপ্তাহখানেক আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডংয়ের তামি গ্রাম থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে বালুখালী শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। সেখানে মিয়ানমারের সেনাদের বর্বরতার কথা আলজাজিরাকে জানান আয়েশা।

২০ বছর বয়সী আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমি বারবার ভাবছিলাম, তারা আমাকে মেরে ফেলবে। ওদিকে আমি ভয়ে ছিলাম, সেনাদের লাথি খাওয়ার পর আমার সন্তান বোধহয় মারা গেছে। এই ঘটনার পর আট দিন ধরে হেঁটে আমরা বাংলাদেশে আসি। বাংলাদেশে আসার পথে ধর্ষণের শিকার আমার দুই ননদ মারা যায়।’

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর রাষ্ট্রীয় সহিংসতা শুরু হলে খুন, অগ্নিসংযোগ, উচ্ছেদসহ নির্বিচারে রোহিঙ্গা নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণের পর অনেককেই হত্যা করে সেনা ও স্থানীয়রা। আবার অনেকেই শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশের কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরু পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ এক হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। বাসস্থান, খাবার, শৌচাগার ও চিকিৎসার সংকটে সেখানে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। আশ্রয় নেওয়া ওই কিশোরী ও নারীদের অনেকেই যৌন নির্যাতনের শিকার। ফলে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত তারা।

শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ধর্ষণের শিকার নারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেক কিশোরী ও নারীদের মিয়ানমারের সেনারা ধর্ষণ করেছে এবং ধর্ষণের পর ঘরের ভেতর তাদের আটকে রেখে আগুন লাগিয়ে দেয় সেনারা। শুধু ধর্ষণ নয়, উলঙ্গ করা ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গে পাশবিক নির্যাতন করেছে সেনারা। এখন তাদের দাবি, মিয়ানমারের সেনারা তাদের ওপর যে যৌন নির্যাতন করেছে, সেটার বিচার।

মিয়ানমারে যুদ্ধাপরাধ ও সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত করছেন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক পিটার বোকেট।

মিয়ানমারের সেনারা যুদ্ধাপরাধ করছে উল্লেখ করে পিটার বোকেট বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের এমন তথ্য-প্রমাণ আমার কাছে আছে যা মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক। বিশেষ করে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, আমার ২০ বছরের অভিজ্ঞতায় এ রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি খুব একটা হইনি।’

‘রোহিঙ্গা নারীরা ব্যাপক ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ধষণের পর অধিকাংশ নারীকেই যে হত্যা করা হয়েছে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

রোহিঙ্গা ধর্ষিত নারীদের চিকিৎসা দিচ্ছে মেডিসিনস স্যানস ফ্রান্ট্রিয়ারস (এমএসএফ)। রোহিঙ্গা নারীরা নিশ্চিতভাবে ব্যাপক ধর্ষণের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে এমএসএফের সমন্বয়ক কেইট হুয়াইট বলেন, ‘সহিংসতা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আমরা কমপক্ষে ২৩ জন ধর্ষিতাকে চিকিৎসা দিয়েছি। এদের মানসিক অবস্থা খুবই কাহিল।’

‘ধর্ষিতার লাশ দাফন না করেই পালাই’

তামি গ্রামের আরেক নারী মোহসিনা বেগম বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনারা ঘরে ঢুকে আমাদের ১৯ বছর বয়সী বোনকে তুলে নিয়ে যায়। সে দেখতে খুব সুন্দর ছিল। গ্রামের চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় তাকে ফিরিয়ে আনি। কিন্তু ফিরিয়ে আনার আগ পর্যন্ত তাকে সেনারা আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে। পরে যখন আমরা পালিয়ে আসতে থাকি তখন রাস্তায় সে মারা যায়। তার লাশ দাফন না করেই আমরা পালিয়ে আসি।’

‘ধর্ষণের পর পেটায়, তারপর আগুন দেয়’

৩০ আগস্ট সহিংসতার শিকার হয় তুলা তোলি গ্রামের রাজুমা বেগম (২০)। তিনি বলেন, ‘সেনারা আমার ছেলেকে কেড়ে নেয়। তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় মাটিতে। পরে তার গলা কেটে ফেলে সেনারা।’

‘এরপর আমাকেসহ আরো চার নারীকে একটি ঘরের নিয়ে যায় সেনারা। সেখানে তিনজন নারী, একজন কিশোরী এবং ৫০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ছিল। ওই বৃদ্ধাকে ছাড়া সবাইকে ধর্ষণ করে সেনারা। দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে দুই সেনা আমাকে ধর্ষণ করে।’

‘ধর্ষণের পর লাঠি দিয়ে তারা আমাদের পেটাতে থাকে। তারা ভাবে আমরা মারা গেছি। এর পরও মৃত্যু নিশ্চিত করতে ঘরের ভেতর আমাদের আটকে রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়।’

‌‘মনে হচ্ছিল, আমি মারা যাচ্ছি’

রাখাইনের বুথেডংয়ের চপ্রাং গ্রাম থেকে আসা ৪৫ বছর বয়সী ইয়াসমিন (ছদ্মনাম)। ১৯ দিন আগে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন স্বামীসহ ১১ সন্তান নিয়ে। প্রথমে তিনি ধর্ষিত হওয়ার বর্ণনা না দিতে চাইলেও স্বামীর অনুমতি নিয়ে জানান সেই ভয়ংকর মুহূর্তগুলোর কথা।

ইয়াসমিন বলেন, ‘গ্রামে ঢুকে সেনারা বলে তোমাদের কাছে অস্ত্র থাকলে আত্মসমর্পণ কর। যখন গ্রামবাসী বলে অস্ত্র নেই, সেনারা সবাইকে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন করতে শুরু করে।’

‘আট সেনা আমার ঘরে ঢুকে এবং চার, ছয় ও আট বছর বয়সী সন্তানদের লাথি ও ছুরি মারতে থাকে। সন্তানদের বাইরে ফেলার পর বিভিন্ন বয়সী পাঁচজন সেনা আমাকে ধর্ষণ করতে থাকে। আর তিন সেনা বাইরে প্রহরা দেয়। ওই ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা আমি মুখে বলতে পারব না। তখন মনে হচ্ছিল, আমি মারা যাচ্ছি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest