ইন্টারনেট ও শিশু যৌন নিপীড়ন; চাই সংবেদনশীল সতর্কতা -হাফিজুর রহমান মাসুম

“পিরোজপুর সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক ইউনিয়নে ছয় বছরের এক মেয়েশিশুকে মুঠোফোনে পর্নো ছবি দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে এক তরুণকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে শিশুটির বাবা বাদি হয়ে ওই তরুণের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় মামলা করেন।

পুলিশ ও শিশুটির পরিবার বলছে, সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে শিশুটি বাড়ির উঠানে খেলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী ওই তরুণ শিশুটিকে তাঁর ঘরে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তরুণ শিশুটিকে মুঠোফোনে পর্নো ছবি দেখান এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান। শিশুটির চিৎকার শুনে তার বড় বোন সেখানে যায়। তখন তরুণ পালিয়ে যান। পরদিন পুলিশ ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে।” Ѭঅনলাইন নিউজ পোর্টাল ডেইলি সাতক্ষীরা’র ১৯ সেপ্টেম্বরের সংবাদ এটি।

এরকম এক বাস্তবতার মুখোমুখী আমরা এখন দাঁড়িয়ে আছি। নানাভাবে শিশু যৌন নিপীড়ন সমাজে নানা সময়ে ছিল, আছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এর সাথে নতুন অনুসঙ্গ হিসেবে যুক্ত হয়েছে ইন্টারনেট এর অপব্যবহার। ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগতে সেন্সরশিপ পারতপক্ষে নেই বললেই চলে। ফলশ্রুতিতে যে কারও অবাধ এক্সেস থাকছে অনভিপ্রেত সব কন্টেন্টে। অনেক ক্ষেত্রেই যা বিকৃত যৌনতা ও শিশু যৌন নিপীড়নের কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শিশু যৌন নিপীড়নের হার ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ইংল্যান্ডের মত দেশেও প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১৫টি শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে ইন্টারনেটে। ব্রিটেনভিত্তিক শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সংগঠন এনএসপিসিসি জানিয়েছে, বিগত এক বছরে ইন্টারনেটে শিশু নির্যাতনকারীরা এতই বেপরোয়া হয়েছে যে তিন বছরের শিশুকেও এর শিকার হতে দেখা গেছে।

সংস্থাটির হিসাব মতে, গত বছর পাঁচ হাজার ৬৫৩টি শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে ইন্টারনেটে বা এর সহায়তায়। আগের বছরের তুলনায় যা ৪৪ শতাংশ বেশি। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে অনলাইনে শিশুদের ধর্ষণে প্ররোচিত করা, ওয়েবক্যামে অশ্লীল ভিডিও ধারণ কিংবা যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলা। এই নিপীড়নকারীরা শিশুদের প্ররোচিত করে অশ্লীল ছবি ইন্টারনেটে শেয়ার করছে, পরবর্তীতে এই ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে শিশুদের।

এনএসপিসিসি এ বিষয়ের জন্য ইন্টারনেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলো বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করে। সংস্থাটি এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে।

নিপীড়নের শিকার কয়েকজন শিশুর সাক্ষাৎকার নিয়েছে সংস্থাটি। সেসব শিশুরা বলেছে, নিপীড়করা তাদের বয়স গোপন করে শিশুদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে যৌনতায় উৎসাহ দেয়। ইন্টারনেটে পরিচয়ের সূত্র ধরে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে ধর্ষিত হয়েছে এমন নজিরও খুঁজে পেয়েছে তারা। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে ইন্টানেটে শিশুদের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট চালুর দাবি জানিয়েছে এনএসপিসিসি, যার ফলে শিশুরা সমবয়সী ভেবে কারো ফাঁদে পড়বে না।

মানব সভ্যতা ক্রমশ উন্নত থেকে উন্নত হচ্ছে। মানুষের জীবনে নিত্যনতুন সব অনুসঙ্গ যোগ হচ্ছে। আধুনিক থেকে আধুনিকতর হচ্ছে প্রযুক্তি। আধুনিক থেকে উত্তরাধুনিক হচ্ছে ভাবনা-চিন্তা ও জীবনাচারণ। বর্তমান সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন ইন্টারনেট তথা অন্তর্জাল। এই বিষ্ময়কর প্রযুক্তির সহায়তায় সমগ্র বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এখন স্বল্পমূল্যে এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও সবার সামর্থের মধ্যে চলে এসেছে। এর ফলে একদিকে যেমন মানুষ অবাধে তথ্যের আদান-প্রদান করছে।

অনলাইনে বাড়ছে শিশু যৌন নিপীড়ন :
যৌন অপরাধীরা ক্রমবর্ধমান অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুদের লক্ষ্য করে চলেছে এবং এই সমস্যা সমাধানের জন্য অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে। এজন্য উপযুক্ত সামাজিক বিনিয়োগেরও প্রয়োজন।

ইউরোপোল তাদের সাইবার অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অপরাধীরা এখন এনক্রিপ্ট টুলের আশ্রয় নিচ্ছে, যা তাদের পরিচয় লুকিয়ে অপরাধ করতে সহায়তা করছে। বর্তমানে অনলাইনে লাখ লাখ শিশু ‘নিজেদের অজান্তেই’’ হয়রানির শিকার হচ্ছে।
শিশু যৌনবিষয়ক অপরাধীদের নিজেদের মধ্যে ইন্টারনেটে যোগাযোগ, ক্ষতিকর কনটেন্ট শেয়ার ও সংরক্ষণের বিষয়টিকে ‘ইন্টারনেটের সবচেয়ে ক্ষতিকর এবং জঘন্য দিক’ বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরাধীরা মূলত সামাজিক নেটওয়ার্ক, অনলাইন গেইম এবং শিশুদের ব্যবহৃত ফোরামগুলো শিশুদেরকে লক্ষ্য করতে ব্যবহার করছে। এসবের মাধ্যমে তারা শিশুদেরকে তাদের এনক্রিপটেড প্লাটফর্মে চ্যাট, ভিডিও আর ফটো শেয়ারিংয়ে উদ্বুদ্ধ করছে।
সম্প্রতি চালু হওয়া লাইভ স্ট্রিমিং পদ্দতিকেও ‘একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি’ বলে মনে করা হচ্ছে। উচ্চ মাত্রার দারিদ্র্য, অপেক্ষাকৃত নিরাপত্তাহীন পরিবেশে বেড়ে উঠা শিশুরাই যৌন অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি বাবা-মাকে সচেতন হতে বলা হয়েছে।

সংশয়-ভীতি নয়, প্রয়োজন সতর্কতা :
ইন্টারনেট হলো বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত অসংখ্য নেটওয়ার্কের সমম্বয়ে গঠিত একটি বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্বের এক বিশাল তথ্য ভা-ারে অনলাইনে সহজেই প্রবেশ করা যায়। এ প্রবেশ সুবিধা অবারিত। যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের এটি একটি অন্যতম মাধ্যম। এ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে তথ্য সঞ্চালন ও আহরণ করা যায়। সবার চোখের সামনে খুলে যাচ্ছে অনলাইনে অজানা বিস্ময় কিংবা অদেখা নতুন জগৎ।
শুরুতে শুধু তথ্যের আদান-প্রদানের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার হলেও যতই দিন যাচ্ছে, ততই এর ব্যবহারের বহুমুখিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের জন্য ইন্টারনেট এখন উন্মুক্ত। এর বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারও নতুন মাত্রা পাচ্ছে। সুতরাং তথ্যের আদান-প্রদান, তথ্য আহরণ, শিক্ষাক্ষেত্রে জ্ঞানার্জন, অনলাইন মিডিয়া, বিনোদন ও বাণিজ্যিক কাজে সর্বত্র ইন্টারনেট ব্যবহূত হচ্ছে।

কাজেই এ রকম এক অবারিত পরিস্থিতিতে কোনো একটি বিশেষ শ্রেণির জনগোষ্ঠীকে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হতে বিরত রাখার চিন্তা অবাস্তব। কারণ একদিকে স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধা ভোগের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন, অন্যদিকে যান্ত্রিকভাবে সে রকম ব্যবস্থা গ্রহণেও সমস্যা রয়েছে।

এখন মাঝে মাঝেই অনেককে বলতে শোনা যায়, “শিশু-কিশোররা ইন্টারনেটের অপব্যবহার করছে কিংবা শিশুরা এ অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে। তাই শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”

প্রশ্ন এসে যায়, শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করার চিন্তা কি সঠিক?
যারা শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট বন্ধ করার কথা বলেন তাদের যুক্তি হলো, সীমাহীন কৌতূহল নিয়ে নতুন কিছু জানার জন্য তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে আগ্রহী হয়। আর অনিরাপদ ব্যবহার তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে দেয়। অধিকন্তু অনেক শিশু-কিশোরই অনলাইনে যৌন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়। এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ঝুঁকির বিষয়টি। সেরকম অনিরাপদ পরিস্থিতিতেই কেবল নির্যাতন এবং হয়রানির বিষয়টি এসে যায় – এ কথা মনে রাখতে হবে।

শিশুরা অনেক সময় না বুঝে অনলাইনে বিভিন্ন সেক্স-সাইটে প্রবেশ করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় একটি অ্যাপস এর ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করার ফলে এতে প্রচুর এ্যাড থাকে। হয়ত কোন শিশু একটি গেম খেলছিল তার মধ্যে কোন একটি বিজ্ঞাপন চলে এলো, যা আদৌও শিশুর উপযোগী নয়। তখন সেখানে ক্লিক করার মাধ্যমে শিশুটি সহজেই কোন নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়তে পারে। উন্মুক্ত মাধ্যম বলেই তারা এসব সাইটে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে যায়। তাদের বয়সে যৌন সংক্রান্ত যেসব বিষয় দেখা অনুচিত, সে বিষয়ে তাদের কৌতূহল বা আগ্রহ বেশি থাকে। তাই উন্মুক্ত সুযোগ পেলেই তারা যৌন অনাচারে কিংবা সেক্সটিংয়ে জড়িয়ে পড়তে পারে মর্মে ঝুঁকি বিদ্যমান -একথাও সত্য।

কিন্তু শিশুদের “বোঝতে না পারার” দুর্বলতার সুযোগ নেয় দুষ্টু লোকেরা এবং তখন তারা কচিমনকে বিভিন্ন পন্থায় ভুলিয়ে-বুঝিয়ে তাদের নিকট হতে নগ্ন বা আপত্তিকর ছবি অনলাইনে নিয়ে নেয়। এভাবেই শুরু করে সেক্সটিং বা আপত্তিকর ছবির আদান-প্রদান। পরে এ রকম ছবির দ্বারাই দুষ্টুলোকেরা মানসিক নির্যাতন বা হয়রানি করে কিংবা সাইবার বুলিং করে থাকে। এ রকম হয়রানি বা নিপীড়ন এক পর্যায়ে সাইবার অপরাধ হিসেবে আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।

এ সংক্রান্ত আইনের সকল বিধি-বিধান সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার না থাকায় কিংবা মানুষের অজ্ঞতার কারণে কিংবা সংশ্লিষ্টদের অসতর্কতার কারণে এ ধরনের অপরাধ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা বিশেষ বিশ্বাস ও প্রবণতা হলো, ইন্টারনেট ব্যবহার করলে শিশু-কিশোররা ‘বখে’ যাবে বা খারাপ হয়ে যাবে, তাই তাদেরকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। সুতরাং প্রয়োজনে আইন করে তাদের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এ শ্রেণির মানুষের এ পরামর্শ হলো -‘মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার মতো’। তারা প্রকারান্তরে শিশুদের মানসিক ও মেধার বিকাশের পথটাই বন্ধ করে দিতে বলছেন -একথাটি ভাবছেন না। অন্যদিকে আর একটি বিষয় হলো আইন করলেই এ অবারিত এবং উন্মুক্ত মাধ্যমে শিশুদের প্রবেশ বন্ধ করা যাবে না। বরং নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি শিশুদের আরো বাড়তি কৌতূহলের সৃষ্টি হবে এবং তখন লুকিয়ে-চুকিয়ে আরো বেশি অন্যান্য অপরাধেও তারা জড়িয়ে পড়তে পারে-একথা মনে রাখা দরকার। এখানে চাইল্ড সাইকোলোজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সারা পৃথিবী এখন সাইবার জগতে সক্রিয় এবং উন্নতি করছে। দ্রুতগামী হচ্ছে যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং সেবা প্রদানের সার্বিক ব্যবস্থা। প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে কে কত বেশি উন্নতমানের সেবা অনলাইনে দিতে পারে। এ রকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম পিছিয়ে থাকুক- এটা কারোই কাম্য নয়। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বর্তমান সরকার “রূপকল্প ২০২১ : ডিজিটাল বাংলাদেশ” এর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করার জন্য ষষ্ঠ শ্রেণি হতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তথ্য প্রযুক্তির বিষয়কে আবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এখন তা চালু আছে। এ তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহার শিক্ষণ ও প্রয়োগ তাই বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। এটিকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখতে হবে। আর আমাদের শিশুদেরকেও সে স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ দিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিতে হবে। তবে সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কতাও অত্যন্ত প্রয়োজন।

আমাদের শিশু-কিশোরদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ নয়, বরং নিরাপদ করার জন্য কিছু সতর্কতামূলক ও সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তারা কি ধরনের সাইটে প্রবেশ করবে এবং কি ধরনের সাইটে প্রবেশ করবে নাÑ সে বিষয়ে কাউন্সেলিং করতে হবে। আজকাল অনেক শিক্ষণীয় বিষয় ইন্টারনেট ব্রাউজ করেই ছেলেমেয়েরা শিখছে -যা তাদের পাঠ্যপুস্তকের সাথেও সংশ্লিষ্ট। শিশুদের জন্য উপযুক্ত কিছু কনটেন্ট তৈরি করে তাদের বিনোদনের ক্ষেত্র বা সুযোগও করে দিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের জন্য কনটেন্ট ফিল্টার করা দরকার। অভিভাবকদের নজর রাখা উচিত যে, তাদের ছেলেমেয়েরা অনলাইনে কি পোস্ট করছে? তারা কিভাবে সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার করছে? তারা কার সাথে কথা বলছে? তারা কি একাউন্ট সেটিংস ব্যবহার করছে? তাদের তথ্যে প্রবেশ করার ক্ষমতা বা সুযোগ কার আছে? কোনো অসুবিধা হয়ে গেলে কোথায় সে বিষয়ে রিপোর্ট করতে হবে? এ সকল প্রশ্নের উত্তর অভিভাবকদের জানতে হবে। এছাড়া শিশুদের বোঝাতে হবে কারো কথোপকথন, অন্যের কিংবা নিজের অশ্লীল ছবি অন্যকে প্রেরণ করার ভয়াবহ পরিণতি কি? বাচ্চাদের বোঝাতে হবে যে, এমন কোনো ছবি তোলা উচিত নয়, যা সহপাঠী, শিক্ষক, পরিবারের সদস্যদের দেখানো যাবে না।

অভিভাবকদের উচিত বাচ্চাদের ইন্টারনেট তত্ত্বাবধান করা। সন্তানের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করা উচিত। সন্তানদের বিচ্ছিন্ন করা সমীচীন নয়। দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে হবে, ভালো-মন্দ বুঝিয়ে দিতে হবে। নিশ্চিত হতে হবে যে সন্তান যে ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, তার নিরাপত্তা ফিচার সক্রিয়। সন্তান যে অনলাইন এনভায়রনমেন্ট ব্যবহার করছে তা জানার চেষ্টা করতে হবে এবং কিভাবে অসঙ্গত বিষয় নিয়ে কাজ করবে তা শিখাতে হবে। মনে রাখতে হবে, সচেতন থাকা ও সতর্কতা অবলম্বন করা হলো নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি। সুতরাং আমাদের উচিত শিশুদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ না করে বরং নিরাপদ ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

শিশুদের অশ্লীল ছবি পোস্ট ঠেকাবে গুগল-ফেসবুক :
শিশুদের যৌন নিপীড়ন বন্ধের উদ্যোগে এক জোট হচ্ছে গুগল, ফেসবুক ও টুইটার। বিশ্বজুড়ে অনলাইনের দুনিয়ায় শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন বাড়ছে। সেখানে পোস্ট করা হচ্ছে শিশুদের কদর্য ছবি। এ ধরনের ছবি প্রকাশ ঠেকাতে কাজ করছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান জন্য ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ)। এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এক জোট হয়ে কাজ করতে যাচ্ছে গুগল, ফেসবুক ও টুইটার। এটি ইন্টারনেটের দুনিয়া থেকে শিশুদের লাখো অশ্লীল ছবি সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ হতে পারে।

এই কাজে সহায়তার জন্য দাতব্য সংস্থাটি অশ্লীল ছবিগুলোর একটি বিশেষ তালিকা দিচ্ছে, যাতে বিশেষ হ্যাস কোড দিয়ে অশ্লীল ছবিগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কম্পিউটার বিজ্ঞানে হ্যাস লিস্ট হচ্ছে একটি ফাইল বা এক সেট ফাইলের মধ্যে থাকা ডেটা ব্লকের হ্যাসের একটি তালিকা। এটিকে বিশেষ ফটো ট্যাগিং সিস্টেম বা ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেমও বলে। খবর বিবিসির।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থাটির দাবি, বিশেষ এই ফটো ট্যাগিং সিস্টেমটি ব্যবহার করা হলে শিশু যৌন নিপীড়কদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এটি এমন একটি পদ্ধতি, যাতে প্রতিটি ছবিকে একটি বিশেষ হ্যাস কোড দিয়ে শনাক্ত করা যায়। শিশুদের এ ধরনের অশ্লীল ছবিগুলোর হ্যাস লিস্ট পেলে গুগল, ফেসবুক ও টুইটার এগুলো তাদের সাইটে পোস্ট করা ঠেকাতে সক্ষম হবে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, ‘ডার্কনেটে’ ছড়িয়ে পড়া ছবি এই প্রক্রিয়ায় শনাক্ত করা বা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। ডার্কনেট হচ্ছে নিয়ন্ত্রিত সংযোগ সুবিধার একটি নেটওয়ার্ক। সাধারণত এই নেটওয়ার্কে যৌন নিপীড়কেদের অশ্লীল ছবি পোস্ট করতে দেখা যায়।

ইন্টারনেটের থাবা থেকে শিশু-কিশোরদের রক্ষা করুন :
প্রতিটি আবিষ্কারের রয়েছে দুটি দিক- ভালো এবং খারাপ। বর্তমানে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা চাইলে যে কোনো কিছু মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে দিতে পারেন। একজন সহজ-সরল মানুষের জীবনও নষ্ট করে দিতে পারেন। ইন্টারনেট অপব্যবহারের মধ্য দিয়ে শিশুরা নিজেদের ভবিষ্যৎকে কীভাবে ঝুঁকি ও ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তা নিয়ে আশংকার শেষ নেই। ১১ থেকে ১৪ বছরের যেসব ছেলেমেয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৬০ ভাগ নিজেদের মধ্যে এমনসব তথ্য ও চিত্র আদান-প্রদান করছে, যা তাদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। অর্ধেক শিশু এমন সব ছবি ইন্টারনেটে দেখছে এবং তা যে তাদের মানসিকভাবে আহত করেছে, তা তারা স্বীকারও করেছে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এখন কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোন নিয়ে সময় কাটায়। ইন্টারনেট এখন মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারনেটে কী আছে সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেয়ে কী নেই- তার উত্তর দেয়া সহজ। ইন্টারনেটকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা এখন প্রায় অসম্ভব। সংবাদ, তথ্য, যোগাযোগ, কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সোস্যাল নেটওয়ার্ক ও বিনোদন প্রভৃতির জন্য মানুষ এখন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল।

এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমান ইন্টারনেটের তথ্য ভা-ারের প্রায় ২৫ ভাগই পর্নোগ্রাফি। ইন্টারনেটে ২০ কোটির অধিক ওয়েবসাইটের মধ্যে ৫ কোটি পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট রয়েছে। শিশুদের নিয়ে তৈরি অশ্লীল ছবির ওয়েবসাইট রয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি। ১০ লাখের বেশি শিশুর ছবি রয়েছে এসব সাইটে। ১০ লাখের মতো অপরাধী এসব অবৈধ ব্যবসায়ে যুক্ত। পর্নোগ্রাফির ভয়ংকর থাবা থেকে আমাদের তরুণ সমাজকে মুক্ত রাখা এখন রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। ইন্টারনেটের অপব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের যৌন নির্যাতন নিয়ে কাজ করছে সাতক্ষীরার অগ্রগতি সংস্থা। অগ্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুর সবুর বিশ্বাসের বলেন, “প্রতিদিন ইন্টারনেটের মাধ্যমেই বিকৃত যৌন নির্যাতন এবং যৌন বাসনার শিকার হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে অগনিত শৈশব। অনেক ক্ষেত্রেই শিশুরা বুঝে উঠতে পারছেনা, বলে উঠতে পারছে না তাদের সেইসব অমানবিক নির্যাতনের কথা। তাই শিশুদের প্রতি বিকৃত যৌন আসক্তি মানুষগুলো থেকে যাচ্ছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। এজন্য আগাম সর্তক হতে হবে পরিবার এবং স্কুলগুলোকে। এধরণের ঘটনাকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করা দরকার। সরকারকে নিরাপদ ইন্টারনেটের ব্যবহারবিধি পাঠ্যপু¯তকে সংযুক্ত করতে হবে এবং বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। এভাবেই আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে শিশুর নিরাপদ শৈশব।”

হাফিজুর রহমান মাসুম : সম্পাদক ও প্রকাশক ডেইলি সাতক্ষীরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ সদস্য নিহত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আরিফ নামে এক পুলিশ সদস্য নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনায় আরো একজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সেতু টোল প্লাজার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৪২৪ রানের টার্গেট পেল বাংলাদেশ; তামি-মোমিনুলের দ্রুত বিদায়

ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে জয়ের জন্য ৪২৪ রানের টার্গেট পেয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা তাদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান করে। অবশ্য ব্যঅট করতে নেমেই দ্রুত তামি ও মোমিনুলের উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের কেইউ রানের খাতা খুলতে পারেননি। উইকেট দুটিই নিয়েছেন মরনে মরকেল। এ রিপোর্ট লেখার সময় বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ১১। ব্যাট করছেন মুশফিক ও ইমরুল।

এর আগে, ব্যাটিংয়ে দ্যূতি ছড়ানোর পর বল হাতেও আলো ছড়ান মুমিনুল হক। তিনি ৩টি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া ২টি মোস্তাফিজ এবং ১টি লাভ করেন শফিউল ইসলাম।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭৬ রানে এগিয়ে ছিল। এতে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৪২৪ রানের।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করে ৪৯৬ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে বাংলাদেশ ৩২০ রানে অলআউট হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জুটি ভাঙ্গলেন মমিনুল: বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ

মমিনুলের করা ৪৯ তম ওভারের পঞ্চম বলে সুইপ করতে গেলে এলবিডব্লিউয়ের ফাদে পড়েন ডু প্লেসিস। আউট হওয়া আগে ৮১ রান সংগ্রহ করে প্রোটিয়া অধিনায়ক। ডুপ্লেসিস আউট হওয়ার পরের ওভারেই পচেফস্ট্রুমে বৃষ্টি নেমে আসে। একারণে খেলা বন্ধ আছে। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২১২।

এদিকে চতুর্থ দিনের শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনে আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। দলীয় ৭০ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে হাশিম আমলাকে সাজঘরের পথ দেখান তিনি। মুস্তাফিজের বলে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ার আগে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আমলা করেছেন ২৮ রান। আমলার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন ডু প্লেসিস। তার আক্রমণাত্নক ব্যাটিংয়ে লাঞ্চ বিরতির আগেই ৩৫০ রানের লিড পেরিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এর আগে দুই উইকেটে ৫৪ রান নিয়ে রবিবার দুপুরে ফের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে প্রোটিয়ারা। শনিবার তৃতীয় দিনের শেষ বেলাটা মোটামুটি স্বস্তিতেই পার করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনারকে ফেরত পাঠিয়েছে সাজঘরে। তবে প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রানের বড় লিড পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

তিন উইকেটে ৪৯৬ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে করেছে ৩২০ রান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা নির্যাতনে জঙ্গিদের সুযোগ নেয়ার আশঙ্কা অস্ট্রেলিয়ার

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নির্যাতন চলতে থাকলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সহ অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ।

তার ধারণা, আইএস জঙ্গিরা রোহিঙ্গা নির্যাতনকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। রোহিঙ্গাদের ঢাল হিসেব ব্যবহার করে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে তারা।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আইএসসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন তাদের কাজে লাগাতে পারে। এ ব্যাপারে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি।

রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার অযুহাতে ২৫ আগস্টের পর থেকে রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে মিয়ানমার। জীবন বাঁচাতে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তাণ্ডবকে পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত জাতিগত নিধনের উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ইতোমধ্যেই রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চলমান সহিংসতায় বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যাও বাড়াতে পারে। সেকারণে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান করার কথাও বলেন জুলি বিশপ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেখ হাসিনা প্রাচ্যের নতুন তারকা : খালিজ টাইমস

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা ‘খালিজ টাইমস’ রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি মানবিক আবেদনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাচ্যের নতুন তারকা হিসেবে অভিহিত করেছে।

খালিজ টাইমসে প্রকাশিত ‘শেখ হাসিনা জানেন সহমর্মিতার নৈপুণ্য’ শীর্ষক নিবন্ধে কলামিস্ট অ্যালন জ্যাকব বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার জীবন রক্ষায় সীমান্ত খুলে দিয়ে শেখ হাসিনা তাঁর যে সহমর্মিতা ও সমানুভূতি দেখিয়েছেন, সে জন্য এ সপ্তাহে তাঁর চেয়ে বড় কোনো ‘হিরো’ দেখছি না।
জ্যাকব তাঁর কলামে লিখেন, লেখার বিষয় নির্বাচনের আগে সব সময়ে আমাকে কোনো বিষয় এবং ব্যক্তিবর্গের ব্যাপারে ভাবতে হয়, এখানে স্বীকার করতেই হয় যে এ সপ্তাহে আমার লেখার বিষয় দক্ষিণ ভারতের একজন অভিনেতা এবং রাজনৈতিক মাঠে তাঁর আশাবাদী কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখার বিষয় মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, কিন্তু আমি যখন বুঝতে পারলাম, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হচ্ছেন প্রাচ্যের নতুন তারকা, তখন আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলাম। তিনি বলেন, হ্যাঁ, মিয়ানমারে একজন নোবেল বিজয়ীর উজ্জ্বলতা হারানোর বিষয় নিয়ে মিডিয়া অধিক ব্যস্ত থাকায় আমরা এই মহৎ সুযোগটি হারিয়েছি। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক আবেদনটি অবজ্ঞা করায় একটি অপরাধের বোঝা আমাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বলেছেন, এতে তাঁর হৃদয় ভেঙে গেছে।
জ্যাকব বলেন, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি যখন কণ্ঠস্বর হারিয়েছেন, এমন সময় শেখ হাসিনার সোচ্চার হয়ে ওঠা এক বিরাট স্বস্তি। সু চি ও শেখ হাসিনা তাঁদের নিজ নিজ দেশের মুক্তিসংগ্রামের মহানায়কের কন্যা। দুজনই খুব কাছ থেকে ট্র্যাজেডি দেখেছেন। যদিও ফারাকটা বিশাল। মানবতা যখন বিপন্ন, তখন একজন নিছক দর্শক হয়ে থাকার পথ বেছে নিলেন, অপরজন দেখালেন অমায়িক দয়া। শেখ হাসিনার প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত ছোট্ট দেশটিতে একবারে ৪ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে অধিবেশন চলাকালে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে তিন লাখ শরণার্থী পেয়েছি, কিন্তু আমাদের স্থান সংকুলানের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আরও বেশি শরণার্থী গ্রহণের বিশাল হৃদয় আমাদের রয়েছে।’
জ্যাকব লিখেছেন, এটা স্রেফ কোনো অনুকম্পার বিষয় নয়, এতে ট্র্যাজিক পরিস্থিতিতে সাহস প্রদর্শিত হয়েছে।
তিনি বলেন, জার্মান চ্যান্সেলর অাঙ্গেলা ম্যার্কেল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে ১২ লাখ শরণার্থী গ্রহণের সাহস দেখিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যতিক্রম, এর সম্পদ সীমিত। এটি বাংলাদেশ সরকারের কারণে সৃষ্ট কোনো জনস্রোত নয়, তথাপি শেখ হাসিনা তাঁর মানবিকতার জায়গা থেকে সরে যাননি।
জ্যাকব বলেন, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর মতো নেতারা যখন কর্ণধার হন, তখন অভিবাসন সমস্যা নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত বিশ্বে আশার আলো জ্বলে উঠে। তাঁর কর্মকাণ্ড প্রথমে ক্ষীণ মনে হয়েছিল, তবে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা সমস্যা প্রত্যক্ষ করতে খালিজ টাইমস যখন একজন রিপোর্টার পাঠাল, তখনই প্রকৃত সমস্যাটি সামনে চলে আসে। রিপোর্টারের বর্ণনায় উঠে এসেছে, দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর অবর্ণনীয় দুর্দশার চিত্র। ক্ষুধার্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা খাদ্যের জন্য অপেক্ষা করছে, জীর্ণ কুটিরে বসবাস করছে। এ ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে।
জ্যাকব লিখেছেন, বিশ্ব গণমাধ্যম রোহিঙ্গা সংকটকে সু চির চোখে দেখার জন্য অপরাধী। দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দ্বারা দেশছাড়া হওয়া রোহিঙ্গাদের রক্ষা করতে সু চিকে অসহায় মনে হয়েছে। অনেকেই অনুধাবন করতে পারেনি যে দুই বছর আগে তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি নির্বাচনে বিজয়ী হলেও এখন পর্যন্ত দেশটির সামরিক জান্তাই মূল ক্ষমতায় রয়েছে।
সু চি তাঁর দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে দেশ থেকে বিতাড়ন রোধের পরিবর্তে যা করছেন, তা হচ্ছে তিনি নির্বাচনে সাফল্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন কিংবা বলা যায় তিনি ব্যালটের ফায়দা লুটছেন। সু চি এত দিন ধরে যে রাজনৈতিক সংগ্রামটি চালিয়ে এসেছেন, তা সামাজিক ও মানবিক অঙ্গনে সুপ্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় তা থেকে তিনি বিচ্যুত হয়েছেন। তার সামরিক বাহিনী যখন রোহিঙ্গা নিধনে মেতে আছে, তখন তিনি ফার্স্ট কাউন্সেলর হিসেবে ক্ষমতার জাঁকজমক ও সুযোগ-সুবিধায় আটকা পড়ে আছেন এবং এর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।
প্রকৃতপক্ষে তিনি নিজে একটি কোটরে আবদ্ধ হয়ে আছেন এবং প্রতীকী নেতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি যখন মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন তাঁর মধ্যে কোনো আবেগ ছিল না, তাঁকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। তিনি যখন সেনাবাহিনীর পক্ষসমর্থন করে কথা বলছিলেন, তখন তাঁকে তাঁর পূর্বের সংগ্রামী জীবনের ছায়ামাত্র মনে হচ্ছিল।
জ্যাকব বলেন, ‘যখন তাঁর সবচেয়ে বেশি উচ্চকণ্ঠ হওয়ার দরকার ছিল, তখন তিনি সোচ্চার হতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তথাকথিত এই আইকনের জন্য আমার সহমর্মিতা নেই বললেই চলে। গণতন্ত্র যখন পছন্দসই সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে যায়, তখন এটি ত্রুটিপূর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। আর জান্তা ও একনায়কদের সঙ্গে সন্ধি করা সহজ হয়ে যায়। রোহিঙ্গাদের নিয়ে সু চির সুচিন্তিত নীরবতা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। আমাদের একটি সম্পাদকীয়তে আমি এ কথা বলেছি; আরও বলব। যখন মানবতার জন্য চিৎকার করে কথা বলা উচিত, তখন কারও নিশ্চুপ থাকাটা আমার অপছন্দ।
সূত্র: প্রথম আলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘ছেলে-মেয়ের অ্যাপার্টমেন্ট আছে, অথচ বৃদ্ধাশ্রমে আছি ১৮ বছর ধরে’

‘অধ্যক্ষ ছিলাম,কলামও লিখতাম, ছবিও আঁকতাম। এখন এখানে বসে বসেই ছবি আঁকি। গত ১৮ বছর ধরে এখানেই আছি।’ বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের চারতলার বারান্দায় গ্রিলের ভেতর দিয়ে বৃষ্টি দেখতে দেখতে কথা বলছিলেন মুজিবুল হক। বললেন,‘ধানমন্ডিতে ছেলে-মেয়ের অ্যাপার্টমেন্টও আছে। অথচ আমি এখানে আছি গত ১৮ বছর ধরে।’

এত বছর ধরে এখানে কেন জানতে চাইলে-তিনি বলেন, ‘ভালো আছি তাই, অথবা থাকতে হবে তাই আছি। অন্য কোথাও নিরাপদ মনে করি না। স্ত্রী নেই, কিন্তু অন্য যারা আছে তাদের সঙ্গে থাকা যাবে না। আধুনিককালের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে তাল মেলাতে পারি না। তাই বোধহয় আমরা এখানে আছি।’

তিনি আরও বলেন,‘তবে খরচটা এখন বেড়ে গেছে। যেটা অনেকের পক্ষেই সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এখানে যখন প্রথম আসি তখন খাওয়া হয়ে যেত ৬০০-৬৫০ টাকায়। এখন আড়াই হাজার টাকায়ও খাওয়া হয় না। আমি এখানকার পুরাতন বাসিন্দাদের একজন।’

১৮ বছর ধরে একা থাকার কষ্টটা বোধহয় দেখাতে চাইলেন না এই শিল্পী। কথা পাল্টে বলেন, ‘তবে আরও বেশি ভালো লাগে তোমাদের মতো ছেলে-মেয়েরা মাঝে মাঝে এখানে বিরিয়ানি,মোরাগ পোলাও, আইসক্রিম খাওয়ায়। এগুলো আরও বেশি ভালো লাগে। আমি টিভি দেখি বেশি। টিভি দেখতে ভালোবাসি, নিজেকে দেখতেও ভালো লাগে আমার। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের সুখে ভরা, কিন্তু আমরা সেটি মনে রাখি না। কান্নাটাকে বেশি করে দেখি।’

১৮ বছর ধরে একা আছেন, কষ্ট লাগে না– আবার প্রশ্ন করতেই মুজিবুল হক বলেন, ‘আই কেইম অ্যালোন, আই হ্যাভ টু গো অ্যালোন-দ্যাটস ট্রু, দ্যাটস দ্য রিয়েলিটি, দেয়ার ইজ আল্লাহ, দেয়ার উইল বি আল্লাহ-তুমি এটা বিশ্বাস করো বা নাই করো। তাই আমার কোনও কষ্ট নেই। আমি ভালো আছি।’ বলে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মুজিবুল হক।

১ অক্টোবর প্রবীণ দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘে গিয়ে কথা হয় সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই উচ্চ শিক্ষিত, কেউ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন। নাম-ছবি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তাদেরই একজন বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা উচ্চ শিক্ষিত, কেউ কেউ অনেক উঁচু পদে চাকরি করছেন, সংসার করছেন। তাদের শান্তির জন্য সাজানো সংসার ছেড়ে বছরের পর বছর ধরে এই বয়সে একা আছি এখানে। তাই কথা বলতে পারি, কিন্তু নাম এবং ছবি দেওয়া চলবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের স্ত্রী-যিনি নিজেও একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে মানুষ আসে অসহায় হয়ে, সেই শিশু বয়স আর এই বৃদ্ধ বয়স-দুটোই এক সুতোয় গাঁথা। কারও সাহায্য ছাড়া চলা যায় না, অথচ আধুনিক কালের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে আজ আমি এখানে। কিন্তু সবাইকেই বুঝতে হবে, প্রত্যেকেরই বয়স হবে। আজ আমি যাদের জন্য এখানে-তাদেরও একদিন এখানে আসতে হতে পারে। কারণ প্রকৃতি কাউকে ক্ষমা করে না।’ সন্তর্পণে চোখ মুছেন তিনি।

এই নারী আরও বলেন, ‘অন্যের সন্তানকে স্কুলে নৈতিকতা শিক্ষা দিয়েছি, কিন্তু নিজের ঘরেই সেটা করতে পারিনি। কিন্তু একটা মানুষ একা থাকতে পারে না-এই সামাজিক মূল্যবোধগুলো জাগিয়ে তুলতে হবে। মানুষ সামাজিকতা ভুলে গেছে। গাদা গাদা বই পড়ে বড় অফিসার হয়তো হওয়া যায় কিন্তু মানুষ হওয়া যায় না।’

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ৭৮ বছরের চন্দনা শতদ্রু (মিনি মর্জিনা) লেখাপড়া করেছেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে এখানে আছেন। তিনি বলেন, ‘আগে তো এসব ওল্ড হোম ছিল না, কিন্তু এখন কেন হচ্ছে? আগে তো একান্নবর্তী পরিবার ছিল-এখন কেন থাকছে না। ছেলেমেয়েরা কি দুজন মানুষকে খরচ দিয়ে চালিয়ে রাখতে পারে না– প্রশ্ন করে তিনি বলেন, মানুষ সামাজিকতা ভুলে গেছে, প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে শিকড় ভুলে গেছে।’

ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো গান গাইতেন নাদিরা রহমান। তিনি বলেন, ‘গান গেয়েছি-ভাইয়ের মায়ের এত স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ। কই গেল সেই গানের কথা? এখন তো কোথাও কোনও ভালোবাসা নেই, স্নেহ নেই, শ্রদ্ধা নেই। তাই ছোটবেলা থেকে পাঠ্যপুস্তকে একটা অধ্যায় রাখতে হবে। যেখানে শেখানো হবে, বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেলেমেয়েদের দেখতে হবে, কী দরকার আমাদের দেশে এসব প্রতিষ্ঠানের (বৃদ্ধ নিবাস)।’

তিনি বলেন, ‘ছোটবেলার শিক্ষাটা মজ্জাগত হয়, সারাজীবন মনে থাকে। বিদ্যালয়গুলোয় সেমিনার করতে হবে, ছোটবেলাতেই তাদের বোঝাতে হবে, এ শিক্ষাটা দিতে হবে যে বৃদ্ধ হলে বাবা-মাকে তোমাদের দেখতে হবে। বংশ পরম্পরায় এটা দায়িত্ব হয়ে এসেছে সমাজে, সেই দায়িত্ববোধকে কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না। তাদের দেখতে হবে, ব্যবস্থা করতে হবে। কয়েক বছর পর যখন বৃদ্ধদের সংখ্যা বাড়বে তখন তারা যাবে কই। সরকার কতজনকে এরকম ওল্ডহোমে রাখবে।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত এপ্রিলে দেশে ফিরে এই নিবাসে আশ্রয় নিয়েছেন ফিরোজা বিশ্বাস। স্বামী মারা গেছেন। পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে দুজন যুক্তরাষ্ট্র, দুজন কানাডা আর একজন আছেন অস্ট্রেলিয়াতে। তিনি বলেন, ‘সবাই যে যার কাজে চলে যায়, একা খুব বোরিং লাগতো। ছেলে-ছেলের বউরা কাজে চলে যেত, কিছুদিন নাতি-নাতনিদের সঙ্গে কাটিয়েছি। তারাও এক সময় বড় হলো, যার যার নিজের জগৎ হলো। তখন আমি একা হয়ে গেলাম আবার। কিন্তু আমি কথা বলতে ভালোবাসি। চেয়েছিলাম স্বামীর কবরের পাশে আমার কবর হোক। সে ব্যবস্থাও আমি করে রেখেছিলাম আগেই। আমরা স্বামী-স্ত্রী যতোটা না ছিলাম, তার চেয়েও বেশি ছিলাম বন্ধু।’

তিনি বলেন, ‘ফেলে আসা জীবন আনন্দের, কিন্তু সেটা নিয়ে চোখের পানি ফেলি না আমি।’ আমেরিকার বিলাসি জীবন ছেড়ে এই প্রবীণ নিবাসে একা আছেন, আপনার ঘুম হয়– প্রশ্ন করলে অশ্রুসজল চোখে ফিরোজা বিশ্বাস বলেন, ‘স্বাধীন মানুষের ঘুম না হলে কার হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আটলান্টিকের ওপরে অচল হলো বিমানের ইঞ্জিন

আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর প্যারিস থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী একটি এয়ার ফ্রান্সের বিমানের ইঞ্জিনের কিছু অংশ ভেঙ্গে পড়লে বিমানটি জরুরী অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

গ্রিনল্যান্ড পার হয়ে উড়ে যাবার সময় এয়ারবাস এ৩৮০ উড়োজাহাজের চারটি ইঞ্জিনের একটি অচল হয়ে পড়ে।

এয়ার ফ্রান্সের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিমানটিতে ৪৯৬ জন যাত্রী এবং ২৪ জন ক্রু ছিলেন। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

ডেভিড রেহমার নামের একজন সাবেক উড়োজাহাজ ম্যাকানিক ঐ বিমানটিতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, তার কাছে মনে হয়েছে ইঞ্জিনের ফ্যান বিকল হয়ে পড়ায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি বলেন, হঠাৎ করেই বিমানটি নড়ে ওঠে এবং এরপর বিকট এক শব্দ শোনা যায়। যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।

রেহমার বলেন, কয়েক মুহূর্তের জন্য তার কাছে মনে হচ্ছিল বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়বে।

তবে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে উড়োজাহজটি স্থিতিশীল হবার পর তিনি বুঝতে পারেন যে বিমানের ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পাইলটরা খুব দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেন বলে তিনি জানান।

তিনটি ইঞ্জিনের সাহায্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা উড্ডয়নের পর কানাডার পূর্বাঞ্চলে ল্যাব্রেডর বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি।

যাত্রীদের তোলা ছবিতে দেখা যায় ইঞ্জিনের সামনের অংশটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং ডানার ওপরের অংশও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে কানাডার ছোট বিমানবন্দরটি এয়ারবাস এ৩৮০-র মত বড় বিমান দেখভাল করার মত উপযুক্ত না হওয়ায় যাত্রীরা বিমানের ভেতরেই আটকে রয়েছেন।

রেহমার বলেন, যাত্রীদের স্থানান্তরের জন্য মন্ট্রিয়াল থেকে দুটি এয়ার ফ্রান্স ৭৭৭ উড়োজাহাজ আসছে বলে তাদের জানানো হয়েছে।

এয়ার ফ্রান্স একটি বিবৃতিতে বলেছে, বিমানটির একটি ইঞ্জিন ‘মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে এবং তাদের কর্মীরা “ঘটনাটি সুচারুভাবে সামাল দিয়েছে”।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest