সর্বশেষ সংবাদ-
 শ্যামনগরে ছেলের গাড়ীর পেট্রোল নিতে জন্য দীর্ঘ লাইনে মাসাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়ি চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কর্মশালাকালিগঞ্জে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ- ২০ লাখ টাকার ক্ষতিসাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনের সুস্থতা কামনায় প্রেসক্লাবের বিবৃতিচ্যানেল ওয়ানে জাকিরের নিয়োগ : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দনসাতক্ষীরা’র শ্যামনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষে আহত ১৪কালিগঞ্জে বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখল ও লুটপাটের অভিযোগসাতক্ষীরার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনসাতক্ষীরায় মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল খাতে জ্ঞান বিনিময়-কৌশলগত সহযোগিতার সেমিনারসাতক্ষীরায় জলবায়ু সহনশীলতায় নারী নেতৃত্বের ভূমিকা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাছখোলা বেতনা নদীর বেড়িবাদে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেওয়া আতংকিত এলাকাবাসী। সরেজমিনে দেখা গেছে পারমাছখোলা গ্রামের মৃত জিয়াদ আলী মাস্টারের বাড়ির সংলগ্ন পাউবোর বেড়িবাধে ভয়াবহু ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন আতংকে দিন কাটাচ্ছে এলাকার মানুষ। আতংকিত এলাকাবাসী জানায়, প্রায় একযুগ পূর্বে একই জায়গায় বাঁধ ভেঙে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। সে সময় পাউবোর তত্ত্বাবধায়নে বাধটি সংস্কার করা হয়। সম্প্রতি সময়ে বেতনা নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় নদীর দুইপাশে নদীর উত্তর পাশে নদীর পানির প্রবল শ্রোত এর কারণে ভাঙন দেখা দেয়। ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান মতি বলেন, গত কয়েকদিন পূর্বে বাধের ভাঙন লক্ষ্য করা যায়। এখনি যদি বাধটি সংস্কার করা না হয় তাহলে ভাঙন আকার আরো বৃদ্ধি পাবে। জরুরি ভিত্তিতে বাধটি সংস্কার না হলে বাধ ভেঙে প্রায়ই ২০ গ্রামের মানুষ প্লাবিত হবে। এলাকাবাসী বাধ সংস্কার করার জন্য পাউবোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কলারোয়া প্রতিনিধি : কলারোয়া সীমান্তে পতাকা বৈঠকে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ বাংলাদেশীকে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ও বুধবার সন্ধ্যায় তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ার থানার গোবাদিয়া গ্রামের অভি শেখ সিং এর স্ত্রী কাজল সরকার (২৪), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়লিয়া গ্রামের আবু সরদারের স্ত্রী সুুখি সরদার (২৬) অবৈধ ভাবে ভারতে যাওয়ার সময় টহলরত বিএসএফ সদস্যদের হাতে আটক হয়। পরে তাদের গাড়াখালী সীমান্তের মেইন পিলার-১৩/৩ এসএর ২ আরবির নিকটে হস্তান্তর করে। এঘটনায় তলুইগাছা বিজপির হাবিলদার জাকির হোসেন বাদি হয়ে কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। অপরদিকে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার লাউতাড়া গ্রামের অমল কৃষ্ণ মন্ডলের ছেলে স্বপন কুমার মন্ডল (৪০) ও তার স্ত্রী শ্রী সুজাতা মন্ডল (৩০) অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় আটক হয়। পরে তাদের দু’জনকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে কেঁড়াগাছি মেইন পিলার ১৩/৩ এসআরবির জিরোপয়েন্টে হস্তান্তর করে। এঘটনায় কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এসএম, আহম্মাদ উল্যাহ বাচ্ছু : কালিগঞ্জে ৪৬তম জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসার গ্রীস্মকালিন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুুতি সভা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান। প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শেখ ইকবাল আলম বাবলু, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, পাইল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক সৈয়দ মোমেনুর রহমান, বিষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার মন্ডল, চৌমুহুনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ হোসেন, কুশুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন কুমার, হাজী তফিলউদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওঃ রমিজউদ্দিন, মৌতলা মাদ্রাসার সুপার মহসীন আলী, রতনপুর বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক অচিন্ত কুমার ঘোষ, শ্রীকলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিশির দত্ত, ভদ্রখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক শ্যামল কর্মকার, পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষিকা রওশানারা খানম প্রমুখ। সভায় উপজেলা পর্যায়ে ৪৬তম জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা গ্রীস্মকালিন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আগামি ২২ জুলাই থেকে উপজেলার ৪টি উপজোন বিটিজিআর হাইস্কুল মাঠ, ধুলিয়াপুর স্কুল মাঠ, কুশুলিয়া স্কুল মাঠ ও মৌতলা স্কুল মাঠে ৫৬টি হাইস্কুল ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলা উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় গ্রীম্মকালীন খেলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উপ-কমিটির গঠন করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরার সহকারী জজ আদালতের (কালিগঞ্জ) বিচারক হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যশোরের আমলী আদালতের (কেশবপুর) বিচারক শাহিনুর রহমান গ্রেফতারের এ আদেশ দেন।
সহকারী জজ হারুন অর রশীদের বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা গ্রামে। তার বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও প্রতারণার অভিযোগে স্ত্রী জবা খাতুন চলতি বছরের ১৯ ও ২৩ মার্চ যশোরের আদালতে দু’টি মামলা দায়ের করেন।
বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলা দু’টি গ্রহণ করে আদালত বিবাদির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার মামলার নির্ধারিত দিনে তিনি হাজির না হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
বাদী কেশবপুরের ভেরচি বুরুলিয়া গ্রামের জবা খাতুন জানান, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি হারুনের সাথে তার বিয়ে হয়। এরপর স্বামীর সাথে সাতক্ষীরার ভাড়াবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু কিছুদিন পর জানতে পারেন হারুনের আগে আরও একটি স্ত্রী রয়েছে। এ বিষয়টি গোপন রেখে তাকে বিয়ে করায় এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে উল্টো জবার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন হারুন। পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কলারোয়া ডেস্ক : কলারোয়া থানা পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযানে একটি মোটরসাইকেলসহ ২শ’পিচ ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা কালে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের পুটুনি গ্রামের রাস্তা দিয়ে খুলনা-হ-১১-৪৭২২ নং মোটরসাইকেল আহরহী দুই ব্যক্তি পুলিশ দেখে মোটরসাইলে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে থানার এসআই সোলাইমার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই ফেলে যাওয়া মোটরসাইল সহ একটি বস্তা উদ্ধার করে। পরে ওই বস্তায় তল্লাসী চালিয়ে ২শ’ পিচ ফেনসিডিল উদ্ধার করে। এঘটনায় কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এম বেলাল হোসাইন/মাহাফিজুল ইসলাম আককাজ : পায়ে সামান্য পেরেক ফুটে রক্তক্ষরণ, এরপর একের পর এক অপচিকিৎসা ও অন্ধ বিশ্বাসের ফলসরূপ আজ পা থেকে মাংস খসে পড়ছে বুধহাটার আকবর গাজীর। অবস্থা এতটাই খারাপ যে তার বাম পাটি রক্ষা করাই এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাম পা নাড়াতেই পারছেন না তিনি। গরিব অসহায় এই মানুষটির আজকের এই দুর্বিসহ পরিণতির প্রধান কারণ অসচেতনতা। এই অসুস্থ মানুষটির দুর্দশার খবর পেয়ে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করানো হয়েছে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন সাতক্ষীরা-০৩ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে জরুরি যাত্রা বিরতি করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতলে আকবর গাজীকে দেখতে যান ডা. রুহুল হক। এসময় তিনি বলেন, “মানুষ অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে যন্ত্রণায় কাঁদবে, এটা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে যারা আদর্শিত তারা কখনো ঘরে বসে থাকতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত দল আ ’লীগ ক্ষমতায় থাকতে বিনা চিকিৎসায় কোন মানুষ মারা যাবে না। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছেন। সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রেখেছেন। শুধু তাই নয় জননেত্রী সাতক্ষীরার মানুষের জন্য স্বপ্নের মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছেন। সদর হাসপাতাল আধুনিকায়ন করেছেন। চিকিৎসা সেবা যাতে করে মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে যায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. তাওহীদুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আ ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য সচিব ও ডেইলি সাতক্ষীরা’র সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, সাংবাদিক কামরুল হাসান, সদর উপজেলা আ ’লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাসান হাদী, সদর উপজেলা আ ‘লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শেখ মনিরুল ইসলাম মাছুম, যুবলীগ নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম রানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা সাংবাদিক তোষিকে কাইফু, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের স্টোর ইনচার্জ কামরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার ফেসবুকের মাধ্যমে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান বাবু বিষয়টি জানতে পেরে তিনি নিজ উদ্যোগে এ্যা¤ু^লেন্স নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
উল্লেখ্য, আকবার আলী ঢাকার নবীনগরে মজুরির কাজ করে সংসার নির্বাহ করতো। এসময় তার পায়ে একটি পেরেক ঢুকে যায়। পেরেক ঢুকার ৪/৫দিন পর থেকে তার পায়ের মাংস খসে পড়তে থাকে। ঢাকার একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে তিনি পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। কিন্তু তার স্ত্রী পা না কেটে তাকে নিয়ে বাড়ি আসেন। ঘটনার ৩ মাস অতিবাহিত হলেও তার পায়ের কোন উন্নতি হয়নি। বর্তমানে সে মৃত্যুশয্যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

শ্যামনগরে আদিবাসী মুন্ডারা তাদের ভোগদখলীয় সরকারি খাস জমি থেকে প্রভাবশালীদের দ্বারা অপসারিত হচ্ছেন। খবরটি জানতে পেরে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকসহ শ্যামনগরের বাদোঘাটায় চারু মুন্ডার বাড়িতে গেলাম। দেখলাম তারা তাদের দখলীয় জমিতে থাকা অবস্থায় ঝড়ে ভেঙে যাওয়া গোয়াল ঘরটি নতুন করে নির্মাণ করতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন। ফলে পালিত গরু ও মানবসন্তানকে এক সাথে বসতঘরে থাকতে হচ্ছে তাদের। পরদিন পত্রপত্রিকায় খবরটি পরিবেশিত হয়।
মূল আলোচনায় যাবার আগে এ বিষয়টি না বললেই নয়। কারণ যাতায়াতের পথে আমি পথেঘাটে গাছে গাছে বহু মানুষের হাসি দেখলাম। হাসি দেখে আমারও হাসি জাগলো। কিন্তু মুন্ডাদের দুঃসময়ের সাথে তাদের হাসি মেলাতে পারছিলাম না। ভেবেই নিলাম নেতাদের এই হাসির ঢেউ নিশ্চয়ই নির্বাচনের পর আছড়ে পড়বে মুন্ডাদের ওপর।
যাদের হাসি দেখলাম তাদের কথাই বলছি। জানলাম আগামি সংসদ নির্বাচনে তারা সবাই প্রার্থী হচ্ছেন। তাই ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে তারা ফেস্টুন প্লাকার্ডে থেকে দিব্যি গাছে ঝুলতে শুরু করেছেন। কেউ গাছে কেউ ভবনে কেউ খুঁটির মাথায়, কেউ বৈদ্যুতিক খুঁটিতে দখিনা বাতাসে দুলছেন আর হাসছেন। জানা গেল ৩০০ টাকা দিলে নিজের ছবিসহ এক একটি প্লাকার্ড অথবা ফেস্টুন পাওয়া যায়। ১২০০ টাকা খরচ করলে অনেক বড় এবং ভালো ছবি প্লাকার্ড মেলানো যায়। স্থানীয়রা বললেন যিনি যতো বড় মাপের তিনি ততো বেশি টাকা ব্যয়ে ফেস্টুন প্লাকার্ডগুলি তৈরি করে গাছে গাছে তুলে দিয়ে হাসছেন আর ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আমি আগামী সংসদ নির্বাচনে শ্যামনগর-কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা ৪) আসন থেকে যারা প্রার্থী হতে চান তাদের কয়েকজনের কথাই বলছি। মাত্র কয়েক ঘন্টা শ্যামনগরে ঘুরে ফিরে জানলাম তাদের কথা। নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঝড় বৃষ্টিতেও গাছে গাছে খুঁটিতে যারা দোল খাচ্ছেন তারা সবাই আমার তো বটেই আমজনতার পরিচিত প্রিয় মুখ। তাদের প্রত্যেকের সাথে রয়েছে রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সখ্য। হাসিমুখে দোল খাওয়া এসব নেতা নির্বাচনী প্রচার দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান সাংসদ এসএম জগলুল হায়দারের কথা বলি। তিনি জনগণের কাতারে মিশে নিজেকে একাকার করে ফেলেছেন। মাটি কেটে ঝুড়িতে তুলে মাথায় নিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করেছেন। ঈদে নিজের ব্যবহারের জন্য কেনা পাঞ্জাবিটা একজন দরিদ্র ভ্যান চালককে দিয়েছেন। ঘর্মাক্ত ভ্যান চালককে দাঁড় করিয়ে তাকে ডাব খাইয়েছেন। সর্বশেষ নিজ হাতে লাঙলের মুঠি ধরে জোড়া বলদ নিয়ে ঠাঁয় ঠাঁয় ডানে বাঁয়ে করে জমি চাষ করেছেন। বৃক্ষ শাখায় ঝুলন্ত আরেক নেতা আতাউল হক দোলন সংসদ নির্বাচন করার আগ্রহ নিয়ে বেশ জনসংযোগ করছেন। তিনি ছোটবড় সমাবেশ করছেন। মানুষের সমস্যা নিয়ে সালিশ বিচার করছেন। ছুটছেন গ্রামে গ্রামে। দলীয় নানা কর্মসূচি পালন করে নিজেকে জনঘনিষ্ট করে তুলছেন। গাছে দুলে ঝুলে হাসিতে ভরা আরেক নেতা এইচএম গোলাম রেজা। জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচন করে ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এরপর থেকে নিজ এলাকায় বারবার এলেও নানা কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় শ্যামনগরের মানুষ তাকে আর দেখতে পান না। সম্প্রতি তিনি এসেছিলেন শ্যামনগরে নিজ বাড়িতে। ঢাকাবাসী এই নেতা পবিত্র রমজানে নানা স্থানে ইফতারি দিয়ে মানুষকে জাগরিত করে গেছেন। প্রকারান্তরে ভোট চেয়েছেন। বলেছেন আবারও জোটের হয়ে প্রার্থী হবো। না হলে এককভাবে জাতীয় পার্টির। তবে জাতীয় পার্টির আরেক কেন্দ্রীয় নেতা সাত্তার মোড়ল একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনিও রমজানে কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরের বিভিন্ন স্থানে ইফতারি দিয়ে জনগনের কাতারে নিজেকে তুলে ধরেছেন। তবে তাকে আমি গাছে ঝুলতে দেখিনি। গাছে ঝুলতে দেখিনি এমন আরও এক রাজনীতিক ভোটের মাঠ বেশ গরম করে গেলেন। তিনি হলেন কাজী আলাউদ্দিন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি তৎকালিন সাতক্ষীরা ৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময়কার একটি কাহিনী আমার মনে পড়েছে। জাপা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন দেবহাটার সখিপুর কলেজ মাঠে। সেখানে ১৯৯৬ তে সাংসদ নির্বাচিত শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে তিনি বলেন ‘আমি শাহাদাতকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিলাম। তিনি জয়ী হলেন। কিন্তু তিনি ঈমান রাখেন নি।’ জেনারেল এরশাদ জনসভায় আরও বলেন ‘আজ এই আসনের জন্য একজন ঈমানদার লোককে রেখে গেলাম। হাসিতে ভরা আলাউদ্দিনের হাত উঁচিয়ে এরশাদ বলেন তিনি হচ্ছেন কাজী আলাউদ্দিন। তিনিই জাতীয় পার্টির প্রার্থী। কাজী আলাউদ্দিন সত্যিই নির্বাচনে জিতলেন। কিন্তু তিনি এরশাদকে ছেড়ে হঠাৎ যোগ দিলেন জাপা ( নাফি)তে। এরশাদের সেই ‘ঈমানদার ব্যক্তি’ কাজী আলাউদ্দিন কিছুদিন বাদে বললেন আমি বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। অথচ বিএনপির তখনকার জেলার শীর্ষ নেতারা তা জানতেনই না। কাজী সাহেব অবশ্য বলেছিলেন তিনি ঢাকায় দলের মহাসচিব প্রয়াত আবদুল মান্নান ভুঁইয়ার সাথে সাক্ষাত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। সেই এমপি কাজী আলাউদ্দিন জাতীয় সংসদে মোনাজাত পরিচালনাকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক’ হিসাবে আখ্যায়িত করে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এবার শুনছি তিনি আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হেলালের লোক। শেখ হেলালের আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে তিনি বলছেন এবার তিনি শ্যামনগর আসনে নির্বাচন করতে প্রস্তুত। যে কোনো জোট থেকে তিনি মনোনয়ন নেবেন। পাঠক আমি বড্ড ধন্দে পড়ে গেছি। এরশাদের কাছে সেই ঈমানদার ব্যক্তি কাজী আলাউদ্দিন এখন কোন দলের বিএনপি, জামায়াত, জাপা নাকি হেলাল সাহেবের লোক হিসাবে আওয়ামী লীগের? নির্বাচনে অন্য যে সব নেতা আসছেন তারাও বোধ করি ঠাওর করতে পারছেন না কাজী সাহেব কার। সময় ও প্রতীক হয়তো বলে দেবে তিনি কোন দলের। আমি শ্যামনগরের গাছে গাছে হাসিতে আরও ঝুলতে দেখেছি গাবুরা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা জিএম শফিউল আজম লেনিনকেও। লেনিন নানা ঘটন অঘটনের পর স্বেচ্ছা নির্বাসনে ঢাকায় গেছেন বেশ কিছুকাল আগে। এখন সামনে নির্বাচন, তাই তিনিও শ্যামনগরে ঢোল পিটিয়ে বলে গেলেন আমি প্রার্থী। আবারও বলছি নেতাদের হাসিতে আমারও হাসি লেগেছে। কারণ হাসিতে হাসি আনে, ক্রন্দনে আনে কান্না।
আমার প্রত্যাশা শ্যামনগরের মুন্ডাদের হাসি যেনো উবে না যায়। তারাও যেনো বৃক্ষ শাখে ঝুলন্ত নেতাদের মতোই হাসতে পারেন।
লেখক : সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি হলেন রামনাথ কোবিন্দ। বিজেপির এই প্রার্থী মোট ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়েছেন, যা মোট ভোটের ৬৫ শতাংশ। পার্লামেন্ট হাউস ও ১১টি রাজ্যের ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়।

রামনাথ কোবিন্দ হলেন ভারতের ১৪ তম রাষ্ট্রপতি।
আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা আগেই এরই মধ্যে উত্তর প্রদেশের কানপুরের কাছে পারাউখে কোবিন্দের বাড়িতে শুরু হয়ে গেছে আনন্দ উৎসব। গত সোমবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন ২৫ জুলাই।

রিটার্নিং কর্মকর্তা অনুপ মিশরা জানান, কোবিন্দের কাছে হেরে যাওয়া কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ প্রার্থী মীরা কুমার পেয়েছেন ২ লাখ ৪ হাজার ৫৯৪ ভোট।

সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফাত রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনে একটি ভোটের মূল্য এক। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদাতাদের ভোটের মূল্য এক জটিল পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয়। লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য যাঁরা, তাঁদের একেকজনের ভোটের মূল্য ৭০৮, রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের ভোটের মূল্য নির্ধারিত হয় সেই রাজ্যের বিধানসভার মোট আসন ও জনসংখ্যার নিরিখে। সবচেয়ে বেশি ভোট মূল্য উত্তর প্রদেশের বিধায়কদের, ২০৮। সবচেয়ে কম সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের বিধায়কদের, ৮। এবারের ভোটে সাংসদেরা ভোট দেন সবুজ ব্যালটে। বিধায়কেরা গোলাপি ব্যালটে। রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্যরা এই ভোটে অংশ নিতে পারেন না। এবারের ভোটে অংশ নেন লোকসভার ৫৪৩ ও রাজ্যসভার ২৩৩ জন সদস্য এবং দেশের মোট ২৯টি রাজ্য এবং দিল্লি ও পদুচেরি দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ৪ হাজার ১২০ জন বিধায়ক।

সব ভোটদাতার ভোট ধরলে এবারের নির্বাচনে মোট ভোট মূল্য ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯০৩। এর মধ্যে সাংসদদের ভোট মূল্য ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৮, বিধায়কদের ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৫।

দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ রামনাথ একজন কৃষকের সন্তান। ১৯৪৫ সালে উত্তর প্রদেশের কানপুর দেহাতে তাঁর জন্ম ।

২০১৫ সালের ৮ আগস্ট বিহারের রাজ্যপাল নিযুক্ত হন রামনাথ। কানপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাণিজ্য ও আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে এই দলিত নেতা উত্তর প্রদেশ থেকে রাজ্যসভার সদস্য হন। ২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত দুই মেয়াদে ১২ বছর তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেন।

রামনাথ পেশায় আইনজীবী। ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি দিল্লি হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী ছিলেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের স্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালের আগ পর্যন্ত তিনি দিল্লি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে ১৬ বছর ওকলাতি করেন।

রামনাথ ১৯৭১ সালে দিল্লির বার কাউন্সিলে নথিভুক্ত হন। তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রামনাথ দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করা বিজেপির ইউনিট ‘বিজেপি দলিত মোর্চা’র সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি অল ইন্ডিয়া সমাজের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি দলের জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের শীর্ষ সহযোগী হিসেবেও কাজ করেছেন রামনাথ।

রামনাথ লক্ষ্ণৌয়ের আমবেদকার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলকাতার অল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ২০০২ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেন। রামনাথের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

সূত্র : প্রথম আলো

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest