কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানায় রোববার একই দিনে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেড়েছে লক্ষনীয়ভাবে। বেসরকারি হিসেবে চলতি বছর জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন বজ্রপাতে।
গত বছর সাড়ে তিনশো মানুষ মারা গিয়েছিল এবং সে বছরই বহু মানুষের প্রাণহানির পর প্রথম বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার।

এরপর বজ্রপাত রোধে নেয়া হয় বিশেষ পরিকল্পনা এবং শুরু হয় সতর্কীকরণ কর্মসূচি। কিন্তু তারপরও থেমে নেই এমন মৃত্যু।
রোববার কুষ্টিয়ায় বৃষ্টিপাতের সময় বজ্রপাতের কবল থেকে রক্ষা পেতে ভ্যান থেকে নেমে মাঠের মাঝে একটি কাঁচা ঘরে কয়েকজন আশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি, সেখানেই বজ্রপাতে প্রাণ গেছে শিশুসহ ৫ জনের।
তাদের মধ্যে এগারো বছরের একটি শিশুও রয়েছে বলে জানান কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার ওসি মো রফিকুল ইসলাম। বজ্রপাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে ফাউন্ডেশন ফর ডিজাস্টার ফোরাম। এর সদস্য সচিব গওহর নাঈম ওয়াহারা।
তাদের হিসেবে বাংলাদেশের গত বছর বজ্রপাতে মারা যান ৩৫০জন। তার আগের বছর মারা যান ২৭৪ জন। ২০১২ সালের পর থেকে প্রাণহানির সংখ্যা দুইশোর নিচে ছিল না।
ডিজাস্টার ফোরাম বলছে এ বছর মে মাস পর্যন্ত ৬৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। জুন মাসেও ত্রিশ জনের মতো প্রাণ হারায়। ফলেমোট সংখ্যা প্রায় একশো। এ সংখ্যা আরো বাড়ার আশংকা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন গওহর নাঈম ওয়াহারা।
বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যাটি একদিকে যেমন বাড়ছে তেমনি অন্যদিকে তার খবরও আগের তুলনায় প্রচার মাধ্যমে আসছে অনেক।
বজ্রপাতের ফলে প্রাণ হারাচ্ছেন মূলত কর্মক্ষম পুরুষেরা। গওহর নাইম ওয়াহারা বলছিলেন এর ফলে বহু পরিবার নি:স্ব হয়ে পড়ছে।
“বিভিন্ন সময় বজ্রপাতে হতাহতদের মধ্যে নারী ছিল, শিশু ছিল। কিন্তু কর্মক্ষম পুরুষের সংখ্যা প্রত্যেক মানুষের সংখ্যা কিন্তু সবচেয়ে বেশি। তারা কাজ করছিল। মাঠে কাজ করছিল, নৌকা চালাচ্ছিল, হয়তো কোনও একটা গাছের নিচে বসে বিশ্রাম ছিল।”
“বজ্রপাত কেড়ে নিচ্ছে গ্রামের কর্মঠ পুরুষদের তাদেরকে নিয়ে আমাদের কোন চিন্তা নেই। তারা এতই গরীব মানুষ” -বলছিলেন নাঈম ওয়াহারা।
ডিজাস্টার ফোরাম জানাচ্ছে- বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিদের হিসেব অজানা। তবে ধারণা করা হয় যে সংখ্যায় মানুষ নিহত হন তার চেয়ে চার থেকে ৫ গুণ মানুষ আহত হন।
সরকারের পক্ষ থেকে গত বছরই বজ্রপাতকে দুযোর্গ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং বিভিন্ন রকম সতর্কতামূলক প্রচার কার্যক্রম নেয়া হয়।
সরকারিভাবে বিভিন্ন এলাকায় ১০ লাখ তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। কারণ বজ্রপাত থেকে রক্ষার জন্য উঁচু গাছপালা সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
দুর্যোগও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: শাহ কামাল বলেন, “এখন একটা দুর্যোগ হিসেবে গ্রহণ করেছি। এতদিন পর্যন্ত এটা ছিল গ্রামীণ এলাকাতে। যেমন বিল এলাকা বা হাওর এলাকাতে ছিল, এখন এটা দেখা যাচ্ছে শহর এলাকাতেও হচ্ছে। এখন আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি দশ লাখ গাছ লাগাতে। এই গাছগুলো বড় হতে তো সময় লাগবে।”

“এই সময়ের মধ্যে আমরা চাচ্ছি টাওয়ার নির্মাণ করতে। তবে সবার চেয়ে বেশি দরকার সচেতনতা। আমরা টেলিভিশন রেডিওতে বিভিন্নভাবে সচেতন করার কাজ করছি। স্থানীয়ভাবে আরো কিছু প্রশিক্ষণ দেয়ার চিন্তা আছে। আর ১০৯০ নম্বরে ফোন করে যে কেউ কোথায় বৃষ্টি হবে কোথায় বিজলি চমকাবে সেটা জানতে পারবে”।
তবে গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া অল্প শিক্ষিত মানুষদের পক্ষে ফোন করে বৃষ্টি বাদলার খবর নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়া আসলে কতটা সম্ভব সে প্রশ্নটি এখনও বহাল।
কৃষিজীবী বা ক্ষেতমজুর -দিনমজুর, মাঝি, জেলে এই মানুষদের পক্ষে কাজ বাদ দিয়ে ঘরে বসে থাকা মানে একদিনের রোজগার কমে যাওয়া।
গবেষক বা পরিবেশবিদরা মনে করেন গ্রামে বা শহরে বাড়ি ঘরের ক্ষেত্রে আর্থিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেমন জরুরি তেমনি গাছ কেটে উজার করার ফলে বাড়ছে এ ধরনের মৃত্যু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যক গ্রামে যেভাবে মোবাইল টাওয়ার বসানো হচ্ছে তার সাথে আর্থিং সিস্টেম সংযুক্ত করতে পারলে বজ্রপাতে মৃত্যু রোধ করার কাজটাতে একটি ভূমিকা রাখতে পারে সেটি।
আর বজ্রপাতে মৃত মানুষদের পরিবারকে সরকারি তরফে আর্থিক কিছু সহায়তা দেয়া হলেও যে শত শত মানুষ অসহায় অবস্থায় বেঁচে থাকছে তাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার বিষয়টি এখনো অনেকটাই থেকে যাচ্ছে উপেক্ষিত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি : পাটকেলঘাটা হারুন-অর-রশিদ ডিগ্রী কলেজে গতকাল সকাল ১০টায় ২০৬ নং কক্ষে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির পরিচিতিমূলক ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াজিহুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক ফকির আহমদ শাহের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শেখ আব্দুল মালেক, অধ্যাপক সুব্রত কুমার দাশ, অধ্যাপক আব্দুল গফ্ফার, অধ্যাপক আরশাদ আলী, অধ্যাপক আহ্লাদ চন্দ্র, অধ্যাপক সরদার নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. নাজমুল হক, অধ্যাপক লক্ষ্মী রানী দাশ প্রমুখ। এ সময় নবাগত শিক্ষার্থীদের মাঝে রজনীগন্ধা ফুল বিতরণ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

dav

শ্যামনগর ডেস্ক : শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা গ্রামে ‘‘সরকারি নির্দেশনায় মানুষ ও গর” এক ঘরে’’ শীর্ষক একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়ায় গতকাল ০২ জুলাই সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: কামরুজজামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ আব্দুল¬াহ সাদীদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা , শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সার্ভেয়ার সাংবাদিকবৃন্দ জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন ‘‘সরকারি নির্দেশনায় মানুষ ও গর” এক ঘরে’’ শীর্ষক সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ফুলদাসী মুন্ডা (ফুলকি) তাঁর ছেলে চার” মুন্ডার পরিবারের সাথে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে। তাদের গর” রাখার জন্য আলাদা গোঁয়াল ঘর আছে এবং বর্তমানে সেখানেই গর” রাখা হচ্ছে। চার” মুন্ডাসহ স্থানীয়দেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা গর” গোঁয়াল ঘরে রাখা হয় বলে জানায়। তাদের বসবাসকৃত সরকারি খাস জমির পাশে রেকর্ডীয় জমির সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া তাদের যাতায়াতের পথের জন্য ৫ ফিট জায়গা প্রদানে সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ফুলদাসী মুন্ডা (ফুলকি) তার ছেলের পরিবারের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস) এর নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের সাজানো নাটকীয় ঘটনা ফেসবুকে প্রকাশ করায় উপস্থিত জনসাধারণ তাকে ধিক্কার জানান। স্থানীয়রা আরো বলেন উক্ত কৃষ্ণপদ মুন্ডা ও তার সহযোগীরা পরবর্তীতেও এ ধরনের কর্মকা- ঘটাতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী রেবেকা বেগম

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী তালা উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের আলতাব সরদারের স্ত্রী রেবেকা বেগম। তিনি বলেন,“আমার সংসারে অনেক মানুষ। ছেলেমেয়েদের দু’বেলা খাওয়ানোর মত টাকা আয় হত না। দু’জনে আয় করে যা আয় হত সকলে দু’বেলা খাওয়া চলত না। তখন একজনের কাছ থেকে একটা গরু নেই। নিজেদের খাওয়া যোগাতে পারি না, গরুর খাবার তারপরে গরুটা বড় করে সেটা থেকে একটা বাচ্চা হয় এবং মালিক সেটা আমাকে দিয়ে দেয়। সংসারে অভাবের কারণে বাড়ি থেকে সকলে মিলে কাজের জন্য ঢাকায় চলে যায়। একজনের আয়ে সেখানে আমাদের চলছিল না। দীর্ঘ ৫/৬ বছর আমরা ঢাকায় থাকি তারপর বাড়িতে এসে আমরা ঐ গরুটা পালন শুরু করি। আস্তে আস্তে আমার অনেক গরু হয়। মাসে অনেক টাকার দুধ ও মশাল বিক্রি করে। বছরে কমপক্ষে ৪/৫ শত মশাল বিক্রি করি। বর্তমানে আমার গোয়ালে কয়েক লক্ষ টাকার গরু রয়েছে। এভাবে আস্তে আস্তে আমার অবস্থার পরিবর্তন শুরু হয়। ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়েছি। তারা সকলে স্বামীর বাড়িতে ভাল আছে। আর সকল সমস্যা এর মাধ্যমে সমাধান করি। প্রায় ৫/৬ বিঘা জমি বন্ধক রেখে সেখানে ফসল ফলাচ্ছি। এখন আমার মাসে অনেক টাকা আয় হয়। বর্তমানে আমাদের সংসারে কোন অভাব নাই। আমি এভাবে আমার অবস্থার পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ আমার সকল আশা পূরণ করে দেন। আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।
দু’বেলা পেট ভরে খেতে পারতাম না। এখন বর্তমানে লক্ষ টাকার মালিক হতে পেরেছি। আমার বাড়িতে বর্তমানে অনেক গরু ছাগল রয়েছে। সংসার ভাল ভাবে চালাতে পারছি। তাই এখন আমি আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বি।”

শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্য অজর্নকারী নারী তন্নি রায়

শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্য অজর্নকারী নারী তালা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের রামপ্রসাদ রায়ের কন্যা তন্নি রায়। তিনি বলেন,“ আমি লেখাপড়া করতাম। আমি যখন একাদশ শ্রেণিতে পড়তাম, তখন আমার মা বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। তারা আমাকে কিছুদিন লেখাপড়ার সুযোগ করে দেয় পরে লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে বলে এবং গ্রামের বাড়িতে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। অনেক সহ্য করে স্বামীর বাড়িতে চেষ্টা করেও লেখাপড়া করতে পারিনি। পরে বাবার বাড়িতে আসি। অনেক ঝগড়া বিবাদের পরে আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তখন কোন দিশা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। লেখাপড়া শুরু করি। পরীক্ষায় এ গ্রেডে উত্তীর্ণ হই। পরে নার্সিং পেশা অর্থাৎ মানুষের সেবা করার জন্য এখানে লেখাপড়ার চেষ্টা করি ও চান্স পেয়ে যায়। পরে সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নার্সিং পড়া শুরু করেছি। নার্সিং শেষ করে হাসপাতালে যোগদান করে মানুষের সেবায় আমি নিয়োজিত থাকব। মানুষের সেবা করাই আমার ধর্ম। এটা মনে করে সামনের দিন গুলো কাটাতে চাই। বাবার আর্থিক অবস্থা অনেক খারাপ। তারপরও বাবা চেষ্টা করেছেন আমার লেখাপড়া করে মানুষ করার জন্য। পরম করুনাময় আমার আশা যেন পূরণ করেন। এটাই আমার একান্ত কাম্য। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে পুনরায় লেখাপড়া শুরু করেছি। এখন আমি অনেক ভাল অবস্থানে চলে এসেছি। আমাদের গরীব পরিবারের পক্ষে লেখাপড়া করানোর হচ্ছে না তারপরেও অনেক কষ্টা সহ্য করে পুনরায় লেখাপড়া শুরু করেছি। লেখাপড়া শেষ করে মানুষের সেবা করে যাব।”

সফল জননী অনিমা দেবনাথ

সফল জননী নারী তালা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত: দিলীপ দেবনাথের স্ত্রী। তিনি বলেন,“আমার স্বামী ছিল মানসিক প্রতিবন্ধী। আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। সংসার চালানোর মতই কিছুই ছিলন না। স্বামীর সাথে ঘর সংসার চলাকালীন আমার তিনটি কন্যা সন্তান হয়। শত প্রতিকূলতা দারিদ্রতার সাথে আমি আমার সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিগত ৫ বছর পূর্বে আমার স্বামী মারা যায়। আমার স্বামী মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় এলাকার মানুষ আমাকে অনেক অত্যাচার করেছে। যে আমি বাড়িঘর ছেলে অন্যত্র চলে যায়। কিন্তু শত প্রতিকূলতা ও দারিদ্রতার মাঝে ছেলেমেয়েদের মানুষ করার চেষ্টা করেছি। আমার সন্তানেরা পড়ালেখা ভালভাবে যাতে করতে পারে চেষ্টা করছি। সে জন্য আমি মাঠে কাজ করি। তিন সন্তানের লেখাপড়া, তাদের পোশাক পরিচ্ছদ, খাওয়া দাওয়া সুষ্ঠভাবে আমার পক্ষে পরিচালনা করা ছিল খুবই অসাধ্য। দু’মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ছোট মেয়েকে কুমিরা মহিলা কলেজে বাংলা বিভাগে ৪র্থ বর্ষে অনার্স পড়াচ্ছি। তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে সমাজে মানুষের উন্নয়নে কাজ করার আশা করছি। আমি সমাজের মানুষের জন্য কাজ করি। আমি ব্র্যাকের একজন সেবিকা হিসেবে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমি শত দুঃখ কষ্ট সহ্য করে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করতে পেরে আমি গর্বিত বোধ করি।”

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে কাজ করছেন তাসলিমা

তালা উপজেলার ভায়ড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ এর কন্যা তাসলিমা খাতুন। তিনি বলেন,“ আমার বিয়ের এক বছরের মধ্যে স্বামী আমাকে তালাক দেয়। আমার গর্ভে তখন বাচ্চা ছিল। তারপর এক তালাক করে আমার মা বাবা উভয়ই মারা যায় ছোট একটা ভাই রেখে। কিভাবে সংসার চলবে জানতাম না। কাজের জন্য বাড়ির বাহির হয়ে যায়। লোকের বাড়ি কাজ করতাম। যা পাইতাম তাতে তিন জনের দু’বেলা সংসার চলত না। লোকের বাড়ি থেকে চেয়েও এনে খেয়েছি। ছোট ভাই স্কুলে যাওয়ার মত ছিল সে লেখাপড়া করত। আমার মত যেন তার কপাল না পোড়ে সেজন্য তার লেখাপড়া বন্ধ করিনি। রাজমিস্ত্রীর সাথে জোগাড়ির কাজ করতাম। যেটা পাইতাম তা দিয়ে দু’বেলা কোন রকম সংসার চলত। থাকার মত কোন ভাল জায়গা ছিল না। তালায় এসে বাসা ভাড়া করে থাকতাম। এভাবে চলতে চলতে আমার ভাই ৫ম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করে। অষ্টম শ্রেণিতে গোল্ডেন এ প্লাস নিয়ে পাস করল। এসএসসি তে গোল্ডেন এ প্লাস ও এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়ছে। আমার ছেলে ও ভাইকে মানুষ করার চেষ্টা করে সফল হয়েছি। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে বর্তমানে নতুন উদ্যোগে কাজ শুরু করে এখন আমি সফল হয়েছি। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে বর্তমানে ভাই ও ছেলেকে মানুষ করে নিজেও পূর্বের তুলনায় অনেক ভাল অবস্থানে চলে আসতে পেরেছি। আমার মত অসহায় মেয়ে ভাইতে ঢাকা ভার্সিটিতে পড়াতে পারাটা কতটা কষ্টকর তারপরেও আমি সফল হয়েছি।”

সমাজ উন্নয়নে অসমান্য অবদান রেখেছেন জাকিয়া সুলতানা ইতি

সমাজ উন্নয়নে অসমান্য অবদান রেখেছেন তালা উপজেলার কলিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাকিয়া সুলতানা ইতি। ১৯৯৭ সালের ৪ এপ্রিল বিবাহ হয় কলিয়া গ্রামের মো: শামছুর রহমান মোড়লের পুত্র শামীম কবিরের সাথে। স্বামীর সাথে সংসার করে দু’টি কন্যা সন্তানের জননী হয়। স্বামীর সংসার সামলিয়ে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ায়। বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলা করে ও বাল্যবিবাহ রোধের জন্য সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে বহুমুখী কার্যসম্পাদন করে। দেখতে দেখতে স্বামীর সংসার ১১ বছর পার করতে না করতে হঠাৎ ২৮ ই জুন ২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গভীর রাতে স্বামীর মৃত্যুবরণ হয়। বিধবা জাকিয়া সুলতানার অবুঝ দুধের বাচ্চাসহ দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে মানসিক ও আর্থিক ভাবে নির্যাতনের মুখোমুখি হয়। তখন সে নারী উন্নয়ন সংস্থার সাথে বিভিন্ন ধরনের সমাজ উন্নয়ন মূলক কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে। অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সময় দিতে থাকে অসহায় মানুষের কল্যাণের জন্য। অদম্য পরিশ্রম করে প্রতিরোধ করেছে বাল্য বিবাহ। উৎসাহ দিয়েছে শতশত কিশোরী মেয়েদের। স্বপ্ন দেখিয়েছে তাদের উজ্বল ভবিষ্যতের। কখনো মা বাবাকে বুঝিয়েছে, কখনো কাজীকে বাল্য বিবাহ রোধের জন্য পরামর্শ দিয়েছে আবার কখনো কিশোরী মেয়েদের বাল্য বিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে গানের মাধ্যমে সচেতন করেছে। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ১৭ গ্রামের প্রতিটি বাড়ির কিশোরী মেয়েরা জাকিয়া আপাকে চেনে। পায়ে হেঁটে সময় পেলে সকলের বাড়িতে যায়।
কিন্তু ক্ষমতা ও আইনের ফাঁক ফোকরের অজুহাত দেখিয়য়ে গোপনে গোপনে বাল্য বিবাহ চলতে থাকে। এই বাল্য বিবাহের দৃশ্য দেখে হতাশ হন জাকিয়া সুলতানা। তখন সমাজের মানুষের কান কথাকে উপেক্ষা করে বিধবা জাকিয়া সুলতানা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি- নারী উন্নয়ন সংস্থার পরিচালনা পরিষদের সদস্য, শতদল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য, উত্তরণ সংস্থার বিনামূল্যে আইন সহায়তা প্রকল্পে ইউনিয়ন কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট তেঁতুলিয়া শাখার সদস্য। এ সকল প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পরিষদের দায়িত্বে থেকে সমাজ উন্নয়নের হাতকে শক্তিশালী করেন। কিন্তু বাল্য বিবাহ দৃষ্টিভঙ্গির অসচেতন ব্যক্তিরা বিভিন্ন অসাধু উপায়ে একের পর এক বাল্য বিবাহ দিয়ে থাকে। সমাজের বিভিন অনিয়ম প্রতিরোধ, সামাজিক উন্নয়ন ও বাল্য বিবাহ রোধে উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে নিজেকে দাঁড় করায়। তার অদম্য চেষ্টা, সাহসী, ত্যাগী, কর্মঠ মহিলার সদিচ্ছা দেখে বিপুল জনসমর্থন দিয়ে সমাজের মানুষ তাকে ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বর বানায় ২২ মার্চ ২০১৬ ইং তারিখে। বর্তমানে জাকিয়া সুলতানার হাত অনেক শক্তিশালী। ৫ নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কোথাও বাল্য বিবাহ হতে থাকলে এলাকার মানুষ জাকিয়া আপাকে জানায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বরগণ জাকিয়া আপার ডাকে সাড়া দেয়। ঝাঁপিয়ে পড়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে। অনেক বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছে। কিশোরী মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের সচেতনতা প্রশিক্ষনের মাধ্যমে উজ্বল ভবিষতের দিকে নিয়ে গেছে। তার বড় কন্যা এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও ছোট কন্যা ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত বর্তমানে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার SDG অর্জনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সূর্য উদয় থেকে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত বিরামহীনভাবে অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আর বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সমাজ উন্নয়নে অসামন্য অবদান রেখে চলেছেন। তাই তিনি নিজের ভাষায় বলতে চান- “মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই”।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আশাশুনি ব্যুরো : ডেইলি সাতক্ষীরা’য় আশাশুনি উপজেলার ১১নং কাদাকাটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য অনুকুল চন্দ্র বাছাড় কতৃক ভিজিএফ’র গম আতœসাতের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে এলাকায় বিষয়টি নিয়ে গুনজন শুরু হয়েছে। গরীবের হক মেরে খাওয়া ইউপি সদস্যের বিচার চেয়ে এলাকাবাসির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। বৈরমপুর গ্রামের মৃত গফুর আলি গাজীর পুত্র রবিউল ইসলাম, শ্রীরামকাটি গ্রামের কবির আহম্মদের ছেলে জিয়উর রহমান ও বৈরমপুর গ্রামের আঃ খালেকের ছেলে আব্বাস উদ্দিন এলাকাবাসির পক্ষে জেলা প্রশাষক বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রবিবার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আশাশুনি উপজেলার ১১নং কাদাকাটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য অনুকূল চন্দ্র বাছাড় পবিত্র ঈদুল ফিতরের ভিজিএফ’র গম আংশিক বিলি করেন এবং তার তালিকায় ভূয়া নাম দেখিয়ে বিশ থেকে ত্রিশ মন গম ভ্যানযোগে এনে তার বাড়ির পূর্বদিকে খেজুরয়ারডাংগা খালের পার্শ্বে রফিকুল ইসলাম (মধু) এর ঘেরের বাসায় রাখে। বিষয়টি জানাজানি হলে আশাশুনি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছাবার পূর্বে ইউপি সদস্য অনুকুল চন্দ্র বাছাড় তার লোক দিয়ে গম অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। অভিযোগ পত্রে মেম্বর কর্তৃক গত ঈদে ঐ একই বাসায় চাল এনে রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

শ্যামনগর ব্যুরো: শ্যামনগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত ফেনসিডিল ব্যবসায়ী আবুল কাশেম শেখ (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল রোববার ভোরের দিকে কৈখালী ইউনিয়নের শৈলখালী গ্রামে নিজ বাড়ী থেকে ফেনসিডিলসহ তাকে গ্রেপ্তার করে এস আই আশরাফুল ইসলাম। সে ওই গ্রামে সোবান শেখের ছেলে। এ সময়ে অপর সহযোগী কৈখালী গ্রামে মুজিবর রহমানের পুত্র মফিজুল ইসলাম পালিয়ে যায়। শ্যামনগর থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ফেনসিডিল বিক্রির সময় তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে ২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শ্যামরগর থানায় মামলা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটায় বিভিন্ন প্রকার সহযোগীতার চেক বিতরন ও বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল-আসাদ। রবিবার সকাল ১০টায় বিভিন্ন সহযোগীতার চেক বিতরন করা হয় এবং উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বরাদ্ধ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করা হয়। সহযোগীতার মধ্যে উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের প্রায়ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীর দাফন/কাফন ও লাশ পরিবহন বাবদ দুই স্ত্রীর হাতে ২,৪০০ টাকা করে মোট ৪ হাজার ৮ টাকা প্রদান করা হয়। অপরদিকে ধর্মমন্ত্রাণালয়ের অধিনে সহয়তার চেকা প্রদান করেছেন নির্বাহী কর্মকর্তা। উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের মাঝ-পারুলিয়া জামে মসজিদের সংস্কার বাবদ ২০ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। উক্ত প্রদান কালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ইয়াসিন আলী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হারুন অর রশীদসহ সহযোগীতা গ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত সখিপুর ইউনিয়নের কাজিমহল্যা দারুল উলুম কুরআন মাদ্রাসার মসজিদ সংস্কার বাবাদ প্রথম কৃস্তিতে ১ লাখ ৪৪হাজার ৫৭০ টাকার কাজ পরিদর্শন করা হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদ, উপজেলা ত্রাণ শাখার সহকারী প্রকৌশালী ওলিউল্লাহ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, মাদ্রাসার পরিচালক শফিকুল ইসলামসহ সকল শিক্ষক ও ছাত্ররা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটা উপজেলাধীন সখিপুরের ঐতিহ্যবাহী খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা কলেজের (জাতীয়করণের চূড়ান্ত পর্যায়ে) ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১ জুলাই শনিবার সকাল হতে ক্লাস শুরু হয়েছে। অত্র কলেজের প্রথা অনুযায়ী প্রথম বর্ষের প্রথম দিনের ক্লাসেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। তারই অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১০টা হতে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা কলেজের একাদশ শ্রেণিতে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভর্তিকৃত বিজ্ঞান বিভাগে ১০৬ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯২ জন ও মানবিক বিভাগে ২৬০ জন সহ মোট ৪৫৮ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্ব স্ব বিভাগে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকবৃন্দের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্র কলেজের সু-সজ্জিত রোভার ও গার্ল-ইন-রোভার সদস্যদের স্বত:স্ফূর্ত সহযোগিতায় এবং সহকারী অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান মহসিন ও শিক্ষক মো. আবু তালেবের যৌথ সঞ্চালনায় একাদশ শ্রেণির নবীনদের সাথে পরিচিতি অনুষ্ঠানে কলেজের উপাধ্যক্ষ আলহাজ্জ মো. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা কলেজের অধ্যক্ষ মো. রিয়াজুল ইসলাম। উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগীয় প্রধান পিযূষ কান্তি মল্লিক, ব্যবস্থাপনা বিভাগীয় প্রধান শেখ মিজানুর রহমান, হিসাববিজ্ঞান বিভাগীয় প্রধান মো. আকবর আলী, সহকারী অধ্যাপক আলহাজ্জ এস এম হারুন-অর রশিদ, মো. আব্দুল আজিজ, শংকর কুমার দাশ, মো. আজহারুল ইসলাম, মো. মইনুদ্দিন খান, ফেরদৌসি আক্তার পপি, মো. শহীদুল ইসলাম, মো. আকরাম হোসেন, মো. আজিজুর রহমান, স্বপন কুমার মন্ডল, আলহাজ্জ মো. মাসুদ করিম, মো. আব্দুর রহমান, রিতা রানী, পারভীন সুলতানা, মো. রোকনুজ্জামান, শাহজাহান কবীর, জি.এম আসাদুজ্জামান প্রমূখ। পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সভাপতি ও প্রধান অতিথি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন- উচ্চমাধ্যমিকের আগামী ২ টি বছর তোমাদের জীবনের সবচেয়ে মূলবান সময়। কারণ এইচএসসিতে নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশুনার মাধ্যমে ভাল ফলাফলই তোমাদেরকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা ভাল ভাল প্রতিষ্ঠানে ভর্তির পথ সুগম করবে। তাই আমরা প্রত্যাশা করবো বয়সের টানে বা অন্যের ধোকায় পড়ে খারাপ পথে ধাবিত না হয়ে সু-শৃঙ্খলভাবে লেখাপড়া করবে। জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী বা যে কোনো খারাপ কাজ থেকে নিজেদেরেকে বিরত রাখবে এবং অন্যদেরকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করবে। তাহলে ঠিকই তোমরা একদিন মানুষের মত মানুষ হয়ে শিক্ষকমন্ডলী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের নামীয় ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের মুখ উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবে বলে আমরা প্রত্যাশা রাখি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest