সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধন

তালা ডেস্ক: আজ বুধবার তালা সরকারি কলেজ এর আয়োজনে অধ্যক্ষ প্রফেসর গোলাম মোস্তফার সভাপত্বিতে মেধাবিকাশের মাধ্যমে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা তালা সরকারি কলেজের রূপকার সৈয়দ দিদার বখ্ত।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তালা সরকারি কলেজের সকল সহকারী অধ্যাপক, সহোযোগী অধ্যাপক, প্রভাষকবৃন্দ, উপজেলা জাপার সভাপতি, সাংবাদিক এস এম নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
ছাত্রনেতাদের মধ্যে জাতীয় ছাত্র সমাজের কলেজ কমিটির সদস্য সচিব এস এম হাসান আলী বাচ্চু, বিএম আলামিন, মাসুদ পারভেজ, ছাত্রলীগ নেতা সরদার মামুন।
উল্লেখ্য যে, সৈয়দ দিদার বখ্তের কন্যা সৈয়দা তপা হাশেমী ১০ ছাত্র ছাত্রীদের প্রতিজনকে ২০০০(দুইহাজার) করে মোট ২০০০০(বিশহাজার) টাকা বৃত্তি প্রদান করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মোস্তফা কামাল : সাতক্ষীরার শ্যামনগর সদরে মাই ওয়ান ও মাই চয়েস শো রুমের উদ্বোধন করা হয়েছে। ১২ জুলাই ২০১৭ রোজ বুধবার এ শো রুমটি উদ্বোধন করেন-সাতক্ষীরা জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের স্পেশাল পিপি এ্যাডঃ জহুরুল হায়দার বাবু। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন – মাই ওয়ান ও মাই চয়েস এর কর্মকর্তা সালেহ আহমদ সুমন(এজিএম), ইব্রাহিম হোসেন (এডিএম), শ্যামনগর প্রেসক্লাব উপদেষ্টা প্রকৌশলী শেখ আফজালুর রহমান, সেক্রেটারী জাহিদ সুমন, সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা কামাল, বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক সোহেল রানা বাবু, বিশিষ্ট বই ব্যবসায়ী রোকন উদ্দীন বাবু, মুফতী মাওঃ আব্দুল খালেক, নকিপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সেক্রেটারী শেখ ফিরোজ হোসেন, এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহল ও সমাজ সেবক প্রমূখ। এ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন-রফিকুল ইসলাম(এনএসএম)। শ্যামনগর সদর সাউথ বাংলা ব্যাংক সংলগ্ন মাই ওয়ান ও মাই চয়েস শো রুমে ফ্রিজ, টেলিভিশন, এসি,রাইস কুকার ,কারি কুকার,বেলেন্ডার, বৈদ্যুতিক ফ্যান, ইনজেকশন চুলা, গ্যাসের চুলা, মটর, আইপিএস, ইউপিএস, স্টাবলাইজারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় করার জন্যে স্থান পেয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এ ধরণের পণ্য ক্রয় করতে সহজেই হাতের নাগালে পাওয়ায় সময় ও অর্থ অপচয় রোধ হবে এবং শ্যামনগরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে সুশীলসমাজ মনে করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তাকে আজ সকাল ১০টায় ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন কে প্রধান করে ৮ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পর্যায়ক্রমে মুক্তাকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং মুক্তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে ।
এদিকে আজ দুপুর ১ টা সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা .আ ফ ম রুহুল হক এমপি বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তাকে দেখতে আসেন। এসময় তিনি মুক্তার স্বাস্থ্য বিষয়ে খোজ খবর নেন এবং তার বাবা মার সাথে কথা বলেন। মুক্তা কে দেখে তিনি মন্তব্য করে বলেন, “মুক্তা রক্তশূন্যতা ও পুষ্টিহীনতায় ভুগছে, সেই সাথে বহুমুখী চর্ম রোগে আক্রান্ত বলে মনে হয়।তিনি আরো বলেন আমি যখন মুক্তার কথা শুনতে পেয়েছি তখন থেকেই তার খোজ খবর নিয়েছি এবং তার বাড়িতে আমার প্রতিনিধি হিসেবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আ ‘লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবু, ডেইলি সাতক্ষীরা’র সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এর সহকারী অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীন ও সদর উপজেলা আ ‘লীগের প্রচার সম্পাদক হাসান হাদীকে পাঠাই তার খোঁজ নিয়ে দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য। তাদের উপস্থিতিতে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. তহিদুর রহমান মুক্তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে আমাদের সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম নিজে গিয়ে মুক্তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। সেদিনই রাতে মুক্তাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। আমরা এক মূহুর্তও সময় নষ্ট না করে মুক্তার চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছ।”

মুক্তার চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন রুগীর চিকিৎসার সকল ব্যয় বহনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে দেখভাল করছেন। সেই সাথে আমি সাতক্ষীরার একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছি এবং মুক্তার সু-চিকিৎসার জন্য ডাক্তারদের নির্দেশ দেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক আ. হ.ম. তারেক উদ্দীন, আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক শম্ভুজিত মণ্ডল, নলতা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম ও জবি ছাত্রলীগের সাবেক উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ও সাংবাদিক তোষিকে কাইফু।

মুক্তার রোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী সামন্ত লাল সেন জানান, শিশুটির অবস্থা তেমন ভালো না। দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে এমন অবস্থা হয়েছে। এখনও রোগটি শনাক্ত করা যায়নি।তাকে রক্ত ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। তাকে অপারেশনের জন্যে ফিট করতে আগামী দুই-তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হলেন- ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, ইউনিটের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, একই ইউনিটের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ খন্দকার, ঢামেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলাম, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রায়হানা আউয়াল এবং ঢামেক হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রাশেদ মোহাম্মদ খান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তাকে আজ সকালে পর্যবেক্ষণ করেছেন ৮ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। বুধবার সকালে বোর্ডের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে মুক্তাকে পর্যবেক্ষণ করেন।
বোর্ডের সদস্যরা বর্তমানে বৈঠকে বসেছেন। বৈঠক শেষে মুক্তার রোগ ও চিকিৎসার বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তাকে ঢামেক বার্ন ইউনিটে আনা হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, মুক্তা রক্তশূন্যতা ও পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তাকে রক্ত ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। তাকে অপারেশনের জন্যে ফিট করতে আগামী দুই-তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।
মুক্তার চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবারই ৮ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ঢামেক কর্তৃপক্ষ। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হলেন- ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, ইউনিটের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, একই ইউনিটের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ খন্দকার, ঢামেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলাম, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রায়হানা আউয়াল এবং ঢামেক হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রাশেদ মোহাম্মদ খান।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই মুক্তার যাবতীয় চিকিৎসার দায়ভার বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ফরহাদ মজহারের জবানবন্দির সঙ্গে প্রাপ্ত তথ্যের অসংগতি আছে। তদন্ত শেষে শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

আজ বুধবার ডিএমপির সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন আছাদুজ্জামান মিয়া।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ফরহাদ মজহারের অপহরণ রহস্যের সমাধান শিগগির হবে।

কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার গত ৩ জুলাই ভোর ৫টায় শ্যামলীর নিজ বাসা থেকে বের হন। ১৮ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে একটি বাস থেকে নামিয়ে আনে।

ফরহাদ মজহার জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। তাঁকে একটি মাইক্রোবাসে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যান।

গত ৮ জুলাই মাদকবিরোধী এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছিলেন, ফরহাদ মজহার সম্ভবত অপহরণের স্বীকার হননি।

সূত্র: প্রথম আলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের নাশকতা ও মাদক বিভিন্ন অভিযোগে জামায়াতের একজন কর্মীসহ ৪১ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় ২৫ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সকল ঘটনায় ০৯ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১১ জন, কলারোয়া থানা ০৫ জন, তালা থানা ১০ জন, কালিগঞ্জ থানা ০৩ জন, শ্যামনগর থানা ০২ জন, আশাশুনি থানা ০৫ জন, দেবহাটা থানা ০৩ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ০২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং গুম হওয়া পরিবার থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে বিএনপি জানিয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৪৩৫ ব্যক্তি গুম হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫২ জনের এখনও হদিস পাওয়া যায়নি। ৩৯ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। আর ৩৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং ২৭ জন বিভিন্ন সময়ে মুক্তি পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির কাছে গুম ও নিখোঁজদের তালিকা চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ তালিকা প্রকাশ করে বিএনপি। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা প্রকাশ করেন।

এসময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ পান না অথচ গুম হওয়া মানুষদের পরিবারের নীরব কান্না থেমে নেই। আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীদের চোখে পানি না আসলেও গুম হওয়া, খুন হওয়া, নির্যাতনের শিকার হওয়া স্বজন ও সহকর্মীদের চোখের পানিতে এখন বাংলাদেশ ভাসছে।

রিজভীর দেয়া তথ্য মতে, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরে কেবলমাত্র ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে কমপক্ষে ৫০ জনকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। গুম হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বিএনপি বা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনই অপেক্ষায় থাকেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য চৌধুরী আলম, সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হীরু, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির পারভেজ, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল সভাপতি আমিনুল ইসলাম জাকির, তেজগাঁও থানা বিএনপি নেতা সাজেদুল হক সুমন, সাজেদুলের খালাতো ভাই জাহিদুল করিম (তানভীর), পূর্ব নাখালপাড়ার আবদুল কাদের ভূঁইয়া (মাসুম), পশ্চিম নাখালপাড়ার মাজহারুল ইসলাম (রাসেল), মুগদাপাড়ার আসাদুজ্জামান (রানা), উত্তর বাড্ডার আল আমিন, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদল নেতা এ এম আদনান চৌধুরী ও কাওসার আহমেদ, সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের সভাপতি মাহাবুব হাসান, খালিদ হাসান (সোহেল) ও সম্রাট মোল্লা, জহিরুল ইসলাম (হাবিবুর বাশার জহির), পারভেজ হোসেন, মো. সোহেল (চঞ্চল), নিজাম উদ্দিন (মুন্না), তরিকুল ইসলাম (ঝন্টু), কাজী ফরহাদ, সেলিম রেজা (পিন্টু), ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন কুসুমসহ অনেকের হতভাগ্য পরিবার।

তিনি আরো বলেন, গুম হওয়া বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি এম এ আদনান চৌধুরীর বাবা রুহুল আমিন ছেলের অপেক্ষায় চোখের পানি ফেলতে ফেলতে অসুস্থ হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের নেতাকর্মীদের লুটপাটের টাকায় সুইস ব্যাংক জোয়ারের পানির মতো উপচে উঠেছে। তাই অন্যের আহাজারিতে আপনাদের মনে আনন্দ ধরে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বাব-মা, জমজ বোন হীরামনি ও ছোট ভাইসহ ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনেটে মুক্তামনি।

ডেস্ক রিপোর্ট : অজানা রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি দীর্ঘদিন ধরে অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছে। মেয়ের এ কষ্টের জন্য চিকিৎসকদের অবহেলাকেই দায়ী করলেন তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে মেয়ের পাশে বসে ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ে এতদিন চিকিৎসকদের অবহেলার শিকার হয়েছে। গত কয়েক বছরে যত ডাক্তারের কাছে গিয়েছি, তাদের বেশিরভাগই মেয়েটাকে ঠিকমতো দেখতেও আগ্রহী হতেন না। মেয়েটা যদি সঠিক চিকিৎসা পেতো তাহলে রোগটা এত বেশি হতো না, মেয়েটা এত কষ্টও পেতো না। তিন বছর আগে খুলনার এক ডাক্তার বলেছেন, ‘আপনার বাচ্চার ক্যান্সার, বেশিদিন আয়ু নাই, ফাও ট্রিটমেন্ট করাইয়েন না।’
সাতক্ষীরার কামারপাশা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘ডাক্তারের এই কথা শুনে মেয়ের চিকিৎসাটা বন্ধ রাখছিলাম। কিন্তু সেই ডাক্তারের বলা ১৫ দিন যেতে যেতে যখন আজ তিন বছর পার হলো, তখন আবার মেয়েটাকে নিয়ে আশার আলো দেখছি; আমার আর কিছু চাওয়ার নেই, আল্লাহ যেন আমার মেয়েটাকে সুস্থ করে তোলেন।’ বলতে বলতে গলা ধরে আসে ইব্রাহীম হোসেনের, চোখ মুছতে মুছতে তিনি পাশে শুয়ে থাকা মুক্তামনির মাথায় হাত রাখেন। ‘অবহেলার শিকার’ আশামনি এখন চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে ঢামেকে। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী। ছোট্ট মেয়েটি আবার সুস্থ হয়ে উঠবে এমন আশা এখন করতেই পারেন ইব্রাহীম হোসেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা আমার মেয়ের খবরটি প্রকাশ করল, তারপর আমরা আজ এখানে।’
মুক্তামনিকে ঢাকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালসহ সাতক্ষীরা ও খুলনার নানা হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেখিয়েছিলেন ইব্রাহীম হোসেন। কিন্তু চিকিৎসার পরিবর্তে হতাশ হতে হয়েছে। মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে তিনি বলেন, ‘এখন আর আমি হতাশ নই, দেরিতে হলেও ঠিক জায়গায় আমি আসতে পেরেছি, এটাই এখন সান্ত্বনা।’ সাতক্ষীরা থেকে সোমবার (১০ জুলাই) রাতে মুক্তামনির পরিবার ঢাকায় এলে মঙ্গলবার সকালেই তাকে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসায় ইতোমধ্যেই ৮ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মুক্তামনি কী রোগে আক্রান্ত তা বুধবার (১২ জুলাই) নাগাদ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন বার্ন ইউনিটের সম্বন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। মঙ্গলবারই শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিরল এক রোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ বছরের মুক্তামনি এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি আছে। তার এক হাত ফুলে গিয়ে দেহের চেয়েও ভারী হয়ে গেছে। সাদা রঙের শত শত পোকা ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই ফুলে যাওয়া অংশে। চার বছর ধরে এই ‘বোঝা’ বয়ে বেড়াচ্ছে ছোট্ট শিশুটি। শরীরের অসহ্য ব্যথা ও যন্ত্রণায় খেলাধুলা তো দূরের কথা, ঠিকমতো বসতেও পারে না মুক্তামনি। স্কুলেও যাওয়া হয় না তার।
মুক্তামনি বার্ন ইউনিটে ভর্তি হওয়ার পর মঙ্গলবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুই বেডের একটি কেবিনের এক বেডে মুক্তামনি শুয়ে শুয়ে পরোটা দিয়ে ডাল খাচ্ছে। তার গায়ে একটি কাঁথা জড়ানো। কিছুক্ষণ আগে হাসপাতালে আসার ধকল পরিবারটি তখনও সামলে উঠতে পারেনি। মুক্তার সঙ্গে হাসপাতালে এসেছেন তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন, মা আছিয়া খাতুন, চাচা আহসান হাবীব, মুক্তামনির জমজ বোন হীরামনি ও দেড় বছর বয়সী ছোট ভাইটি। ‘পুরো পরিবার চলে এসেছেন’ বলতেই মুক্তামনির চাচা আহসান হাবীব বলেন, ‘এই পুরো পরিবারটি বিগত বছরগুলোতে মুক্তার পাশেই রয়েছে আপা।’
মুক্তামনি কবে থেকে এই রোগে আক্রান্ত জানতে চাইলে তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘জন্মের দেড় বছর পরপরই তার ডান হাতের কুনইয়ের উপরের অংশে চামড়ার নিচে এক ধরনের গোটা হয়।তখন থেকেই ডাক্তারদের কাছে ঘুরছি। প্রথমে সাতক্ষীরার এক চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি হাড়ে টিউমার হয়েছে বলে জানান। তার ওষুধ খাওয়ালে গোটা কমে যায়, আবার হয়। এরপর গেলাম সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে খুলনা হাসপাতাল। খুলনায় এক্সরে করার পর তারা বলে হাড়ে ইনফেকশন। ওষুধ খাওয়ার পরও কোনও উন্নতি না হওয়াতে যশোর যাই। সেখানে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ খাওয়ানোর পর চামড়ার নিচের গোটা আর দেখা যায় না। কিন্তু একমাস পর আবার গোটা দেখা গেলে ফের হাসপাতালে যাই। ঢাকা থেকে তখন একজন অর্থোপেডিকসের চিকিৎসক যান যশোরের মা ও শিশু হাসপাতালে। তিনি বলেন, ‘এই বাচ্চার বুকের নিচের হাড়ে গোটা, পিঠে গোটা, হাতে গোটা-অপারেশন কয় জায়গায় করব।’ ইব্রাহীম হোসেন বলেন, এই কয়েক বছরে ডাক্তারদের কী পরিমাণ অবহেলা যে আমদের দেখতে হয়েছে। যেখানে গেছি সেখানেই আমরা অবহেলিত হয়েছি।’ ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘আমার নিজের স্পাইনাল কর্ডের সমস্যা ছিল, কিন্তু মেয়েটার জন্যই হয়তো আল্লাহ আমাকে সুস্থ করেছেন।’ এসময় পাশ থেকে মুক্তামনি বলে ওঠে, ‘আব্বু যদি সুস্থ না হতো, তাহলে আমারে দেখতো কে?’
মুক্তামনিকে সাভারের সিআরপি, ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়ে গেছেন ইব্রাহীম হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা ঘুরে খুলনার আদদ্বীন হাসপাতালে গেলে সেখানকার একজন ডাক্তার বলেন, “বাচ্চার ক্যান্সার, বেশিদিন আয়ু নাই, ফাও ট্রিটমেন্ট করাইয়েন না।” তারপর থেকেই ডাক্তারদের কাছে যাওয়া বন্ধ করে দেই। কারণ, মেয়েটাকে নিয়ে ঘুরলে তারও খুব কষ্ট হতো। ভেবেছি, যে কটা দিন বাঁচে, মেয়েটা যেন কষ্ট না পায়। তারপর কতশত হোমিওপ্যাথি আর কবিরাজের ওষুধ খাইয়েছি, তার ঠিক নেই। কিন্তু এরই মধ্যে মেয়েটার হাতের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। বাসা বেঁধেছে পোকা। হাত শরীরের চেয়েও ভারী হয়ে উঠেছে।’
মেয়েকে এভাবে দেখে কী ভাবতেন জানতে চাইলে মু্ক্তামনির মা আছমা খাতুন বলেন, ‘এত বছর ধরে দেখতে দেখতে এখন আর কিছু মনে হয় না, এটা স্বাভাবিক বিষয় হয়ে গেছে।’ পাশে থাকা মুক্তামনির জমজ বোন হীরামনি বলে, ‘আমাদের টিভি ছিল না। কিন্তু বোনের সময় কাটে না, খালি কান্না করে- এজন্য আব্বু টিভি কিনে দিছে। ওর জন্য আমার খুব কষ্ট হয়, আপনারা আমার বোনটারে ভালো কইরা দেন।’
এদিকে, এতোগুলো বছর ধরে মুক্তামনি সঠিক চিকিৎসা পায়নি বলে বিস্ময় প্রকাশ করেন ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে এসেও একটি মেয়ে এভাবে চিকিৎসার অভাবে পড়ে আছে, এটা ভেবে আমি যারপরনাই বিস্মিত, এটা কী করে হতে পারে।’ মেয়েটির সুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘মুক্তামনি রক্তশূন্যতা ও পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তাকে রক্ত ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। তাকে অপারেশনের জন্যে উপযুক্ত করতে দুই-তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে আমরা হতাশ নই, দেখা যাক কী হয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest