স্কোরবোর্ডে শ্রীলঙ্কার নামের পাশে ৭০ রান, উইকেট ৪টি। বাংলাদেশের শততম টেস্টের প্রথম সেশনে এরচেয়ে স্বস্তি কি হতে পারে।
শুরুটা ছিল মোস্তাফিজের হাত ধরে, মাঝে মিরাজের জোড়া আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয় লঙ্কান টপঅর্ডার। আর শুভাশিষ শিকার করেছেন চতুর্থটি।
কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে দিমুথ কারুনারত্নের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ওভারের প্রথম বলটি করলেন মোস্তাফিজুর রহমান। শততম মাইলফলকের ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখার বাড়তি উপলক্ষ যোগ হলো তার ক্যারিয়ারে। পরে প্রথম সাফল্যটি এসেছে তার বলেই। সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের জোড়া আঘাত, তাতে শুরুটা দারুণ হয়েছে বাংলাদেশের।
বুধবার টস জিতে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। দুই ওপেনার দিমুথ কারুনারত্নে ও উপুল থারাঙ্গা শুরুতে দেখেশুনেই খেলতে থাকেন। টাইগার বোলাররাও রানের গতিতে লাগাম দিয়ে রাখেন। মোস্তাফিজের দুর্দান্ত ডেলিভারিগুলো সামলাতে বেশ কয়েকবার পরাস্ত হন লঙ্কান ওপেনাররা।
লঙ্কানদের তখন ৮ ওভারে মাত্র ১১ রান। দুই ওপেনার ক্রিজে জমে থাকার মিশন নিয়েছেন। তাদের পণে রণভঙ্গ দিলেন কাটার মাস্টার। নবম ওভারে এসে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে কারুনারত্নেকে (৭) সাজঘরে পাঠান ফিজ। কাটার মাস্টারের স্টাম্পের বাইরের বলে শট খেলতে গিয়ে গালিতে তালুবন্দী হন স্বাগতিক উদ্বোধনী।
পরে ১১তম ওভারে থারাঙ্গাকে প্রায় ফাঁদেই ফেলেছিলেন। মিডল ও লেগস্টাম্পের মাঝে ফেলা কাটার থারাঙ্গার প্যাডে লাগলে জোরালো আবেদন করেন ফিল্ডাররা। আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান লঙ্কান ব্যাটসম্যান।
পরের ওভারেই দৃশ্যপটে মিরাজ। এই অফস্পিনার কুশল মেন্ডিসকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন। এক ম্যাচ পরেই গ্লাভস হাতে ফেরা মুশফিকের কল্যাণে সাজঘরে মেন্ডিস (৫)।
তৃতীয় সাফল্যটিও এসেছে মিরাজের হাত ধরেই। এই তরুণ স্পিনারের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে সৌম্যর তালুবন্দী হয়েছেন থারাঙ্গা (১১)।
ম্যাচে ৩৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে শ্রীলঙ্কা। মিডল অর্ডারে দুই ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমাল ও অ্যাসেলা গুনারত্নে ধাক্কা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন, ৩৫ রান যোগ করেন দুজনে। এরপরই পেসার শুভাশিষের আঘাত। লাঞ্চের আগে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন গুনারত্নেকে (১৩)।

ইতিহাসের প্রাপ্ত তথ্যাদি থেকে জানা যায়, যশোর, বুড়ন, সমতট, ব্যাঘ্রতট, বাগড়ি প্রভৃতি নামে নানা সময়ে এলাকাটিকে চিহিুত করা হয়েছে। আর সুলতান দাউদ খান কররানীর পতনের পর বিক্রামাদিত্য ও ভ্রাতা বসন্ত রায় স¤্রাট আকবরের বশ্যতা স্বীকার করে। এবং তারা ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে স¤্রাট আকবরের কাছ থেকে যশোর রাজ্যের সনদ নিয়েছিলেন। অত:পর বর্তমান কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুরে এসে রাজ প্রাসাদ গড়ে তুলেছিলেন। ঐ সময়ে বসন্ত রায় বঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে আতœীয়-স্বজনকে এখানে এনে যশোর সমাজ নামে এলাকা তৈরি করেছিলেন। আর রাজা প্রতাপাদিত্যের পতনের পর তাঁর বিশাল সৈন্য বাহিনীর এক অংশ শ্যামনগর – কালিগঞ্জ এলাকায় বসবাস শুরু করেছিলেন। পাঠান বিদ্রোহ দমনের জন্য মুঘলদের পক্ষে সামান্ত রাজা প্রতাপাদিত্য ১৫৯৩ খ্রিস্টাব্দে উড়িষ্যা অভিযান শেষ করে যশোর হয়ে বর্তমানে শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুরে এসে গোবিন্দ দেবের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং সে মন্দিরের সেবাইত বল্লাভট্টাচার্যকে নিযুক্ত করেন। ১৬৬৭ খ্রিষ্ট্রাব্দে ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে হযরত শেখ মুহাম্মাদ শাহ ওরফে দরগাহ শাহ নামে এক ব্যক্তি বাগদাদ থেকে সস্ত্রীক নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বর্তমান আশাশুনি উপজেলার দরগাপুরে সংসার জীবন শুরু করে। তারপর তাঁরই নামানুসারে গ্রামটির নামকরণ করা হয় দরগাপুর। মুঘল রাজত্বের অন্তিমকালে ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দে রাজকীয় চার্টারের বলে প্রেসিডেন্সী শহরের সৃষ্টি হয়েছিল। অত:পর ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে নদীয়ার জমিদার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর অধিকৃত জমিদারী পরগনাগুলো যখন নিলামে ওঠে তখন তাঁরই এক কর্মচারী বিষ্ণরাম চক্রবর্তী বুড়ন পরগনা নিলামে কিনে নেন। এবং পরে তিনি সাতঘরিয়া বা সাতক্ষীরায় এসে বসবাস শুরু করেন। তার আচার-আচারণ ও কর্মদক্ষতার কারণে ব্রিটিশরা তাকে রায় চৌধুরী উপাধি দিয়েছিলেন। ঐ সময়ে তাঁর বংশধরেরা সাত ঘরিয়ার আশে-পাশে জমি ক্রয়ের মাধ্যমে বসবাস শুরু করে। লর্ড ডালহৌসী (১৮৪৮-১৮৫৬) খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ ভারতের গভর্ণর জেনারেল হয়ে আসার পর তিনি সমগ্র বৃটিশ ভারতকে বিভিন্ন মহাকুমায় বিভক্ত করেন। তখন নীল বিদ্রোহ দমন ও স্থানীয় শাসন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যশোর জেলায় কয়েকটি মহাকুমা করার প্রয়োজন হয়েছিল। অত:পর ১৮৫১ সালে সাতক্ষীরাকে যশোর জেলার চতুর্থ মহাকুমা হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছিল। আর এ মহাকুমার প্রধান কার্যালয় কলারোয়াতে স্থাপিত হয়েছিল। জানা যায়, পাবনা জেলার অধিবাসী নবাব আব্দুল লতিফ খান সাতক্ষীরা মহাকুমার প্রথম মহাকুমা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেছিলেন। তিনি সাতক্ষীরা মহাকুমার ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন এ জনপদে নীল চাষীদের প্রতি অত্যাচার, জুলুম এবং শোষণের প্রতিকারের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে বৃটিশ সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ নিমাই চন্দ্র মন্ডল বলেন, এ অঞ্চলে ইংরেজ বিরোধী গণ আন্দোলন শুরু হলে কলারোয়া উপজেলার পিছলাপোল গ্রামের মওদুদ বরকন্দাজ নামে এক কৃষক নেতা এ এলাকায় নীল চাষকে কেন্দ্র করে নীল কুঠিয়ালদের অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছিলেন। ১৮৫২ -১৮৫৩ সালে সাতক্ষীরা মহাকুমা স্থাপিত হলেও ১৮৬১ সালে সাতক্ষীরা মহাকুমা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল। এবং তৎকালীন সাতক্ষীরার জমিদারদের প্রচেষ্ঠায় মহাকুমার প্রধান কার্যালয় কলারোয়া থেকে মহাকুমা কার্যালয় সাতক্ষীরাতে স্থানান্তরিত করেছিলেন। এবং সাতক্ষীরাকে মহাকুমা করে তা যশোর জেলার এবং ১৮৬৩ সালে চব্বিশ পরগনার অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। অত:পর জেলা শহর আইন অনুসারে শহর কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আর এই আইনের বলে ১৮৬৭ সালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টাউন কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। জানা যায়, এখানে বহু আগে কয়েক ঘর জমিদার বসবাস শুরু করেছিলেন। আর এখানে গ্যাসের আলো, উন্নত রাস্তাঘাট ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা সহ নগর জীবনের সকল সুযোগ-সুবিধা থাকায় এই এলাকার নামকরণ টাউন কমিটির নামানুসারে টাউনশ্রীপুর করা হয়েছিল। আর পরবর্তীতে টাউন কমিটির নাম পরিবর্তিত হয়ে পৌরসভায় রুপান্তরিত হয়। এবং এটিই প্রথম প্রতিষ্ঠিত পৌরসভা। যার নামকরণ করা হয়েছিল টাউনশ্রীপুর পৌরসভা। আর এ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান হলেন ফনীভূষণ সরদার। অত:পর ১৮৬৯ সালে সাতক্ষীরা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর এ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান হলেন প্রাণনাথ রায় চৌধুরী। এবং আরও পরে ১৮৮২ সালে খুলনা জেলার সাথে সাতক্ষীরা সম্পৃক্ত হয়েছিল। ১৮৮৫ সালে লোকাল সেলফ গভমেন্ট আইন অনুযায়ী ১৮৮৬ সালে তদানীন্তন খুলনা জেলায় প্রথম জেলা বোর্ড গঠিত হয়েছিল। অত:পর সাতক্ষীরা মহাকুমা পর্যায়ে লোকাল বোর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। আর প্রশাসনিক সুবিধার জন্য এলাকাকে মহাকুমা বা জেলা যাই বলা হোক না কেন, এর ইতিহাস অতি প্রাচীন? প্রাচীন এই জনপদে মহাকালের সাক্ষী হয়ে যে সকল মহাকুমা বা জেলা প্রশাসকগণ উন্নয়নের জন্য কাজ করে গিয়েছিলেন এবং বর্তমানে সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ভাবে অবদান রেখে অনন্য ভুমিকা পালন করেছেন, তা সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে জানানোর জন্য এই পত্রিকায় আজকের লেখা।
ডেস্ক: কালোযাদুর কথা শুনলেই আমাদের চোখে ভুতুড়ে পরিবেশের ছবি ভেসে ওঠে। দীর্ঘদিন থেকে মানুষ নিজের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য এই বিদ্যার ব্যবহার করে আসছে। এই বিদ্যা কতটুকু ফলপ্রসু তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এর উপরে অনেকেরই অগাধ আস্থা। কিন্তু তন্ত্র-মন্ত্রে ব্যবহৃত পণ্যের বাজার কোথায় সেটি জানেন কি?
নিজস্ব প্রতিবেদক : ৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বেলা ১টায় বাকাল মেডিকেল কলেজের সামনে। সে আলিপুর পাচানি এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে। মাদক বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা ইটাগাছা ফাড়ির এসআই বিল্লাল হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে আটক করে। এঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।
লাইফস্টাইল ডেস্ক: মুহূর্তের মধ্যেই গোপন দুর্বলতা থেকে শুরু করে গাঁটে ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, ঠাণ্ডা, ফ্লু, সর্দি ও ত্বকের সমস্যার সমাধান করতে মাত্র দু’তিন ফোটা তেল নাভিতে ঢেলে দেখুন কী হয়! যাদুর মতো অনেক রোগ কমে যায় এবং এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।
নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র উদ্যোগে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আয়োজনে মোজাফ্ফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্ট সেন্টারে এ দুই দিন ব্যাপি এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার সামপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা ০২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় তিনি বলেন, ‘যে কোন দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবতার সেবায় সর্বদা নিয়োজিত রেড ক্রিসেন্ট কর্মীবৃন্দ। সাতক্ষীরা জেলা একটি ঝুকিপূর্ণ জেলা। এ জেলায় নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ লক্ষ্য করা যায়। প্রশিক্ষণার্থীদের দলমত ও ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের সেবায় কাজ করতে হবে। আত্মমানবতার সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে হবে। আজকে যারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে আগামী দিনে তারাই মানব সেবায় নেতৃত্ব দেবে।’
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ঢাকা ইডেন কলেজের ছাত্রী শরীফা বেগম পুতুল (২২) কে জবাই করে হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-াদেশ প্রাপ্ত পলাতক আসামিকে সাতীরা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার ভোররাতে শহরের বাসট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব -৬ এর একটি দল।
বিচার বিভাগকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগ। বিচারিক আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশে বারবার সময়ের আবেদন করা এবং কালক্ষেপণ করার প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগ।