ন্যাশনাল ডেস্ক : টেন্ডার-চাঁদাবাজিসহ দখল দারিত্বের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠা ‘গডফাদার’ ও ‘জনবিচ্ছিন্ন’ সংসদ সদস্যদের আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্তদের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের তালিকা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আর এই তালিকা তৈরির কাজ তদারকি করছেন স্ব-স্ব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা। এসব তথ্য সরাসরি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার হাতেই যাবে। তবে সাংগঠনিক সম্পাদকরা তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি অস্বীকার করলেও আওয়ামী লীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ক্ষমতাসীন দলটির নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো জানায়, দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় সংসদ সদস্যদের কারা মনোনয়ন পাবেন, কারা পাবেন না, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, নেতাদের কোনোভাবেই জনবিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না। জনবিচ্ছিন্ন কোনও সংসদ সদস্যকে তিনি মনোনয়ন দিতে পারবেন না। তিনি এও জানিয়েছেন, প্রত্যেকের নির্বাচনী এলাকার ওয়ার্ড পর্যায় থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রাপ্ততথ্যের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। ওই সভায় সবাইকে স্ব-স্ব এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে কাজ করারও নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, কমপক্ষে একশ’ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে টেন্ডার-চাঁদাবাজি, দখল দারিত্ব, ‘গডফাদার’ ও ‘জনবিচ্ছিন্ন’ হয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। দলীয় কাঠামোর মধ্য দিয়ে তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। চলতি মাসের ২০ তারিখ জেলার নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে সংসদ সদস্যদের ব্যাপারে তথ্য জানার চেষ্টা করবেন দলীয় সভাপতি।
কেন্দ্রীয় নীতি-নির্ধারকরা আরও জানান, এবার শতাধিক নতুন নেতা মনোনয়ন পাবেন। কারণ যারা সংসদ সদস্য রয়েছেন, তাদের প্রতি এলাকার মানুষের বিভিন্ন কারণে ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে। এই ক্ষোভ যাদের বিরুদ্ধে বেশি, তাদের বাদ দিয়ে সেখানে নতুন মুখ মনোনয়ন দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে লাভবান হবে দল। কারণ নতুনের প্রতি আকর্ষণ থাকে সবার। এই আকর্ষণকে পুঁজি করে সুফল ঘরে তোলা যাবে। পাশাপাশি বিতর্কিতদের শাস্তিও দেওয়া হবে, নতুন মুখ দিয়ে সুফলও পাওয়া যাবে। এই হিসাব-নিকাশও রয়েছে সংসদ সদস্য বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে।
সম্প্রতি সংসদ সদস্যদের বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই জন মন্ত্রীও। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান, এবার বিতর্কিত সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। দলের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলেছেন, যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতোমধ্যে গডফাদারে পরিণত হয়েছেন, তাদের আগামীতে মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ। এরমধ্য দিয়ে দলের অভিযুক্ত সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন না পাওয়ারও বিষয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য এখন অনুতপ্ত হয়ে উঠেছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আগামীতে যাছাই-বাছাই করে মনোনয়ন দেওয়া হবে, এটি সত্য। এক্ষেত্রে নতুন মুখও আসবে। যেসব সংসদ সদস্য জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, তাদের ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায় একেবারেই কঠোর।’ তিনি বলেন, ‘দলের সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। কোনোভাবেই জনবিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না। জনবিচ্ছিন্ন হলে আমিও আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দিতে পারব না।’
জানতে চাইলে অন্য সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা হবে। বিতর্কিতরা মনোনয়ন পাবেন না। এটি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত।’
সভাপতিম-লীর আরেক সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘গডফাদার বনে যাওয়া, জনবিচ্ছিন্ন হওয়া, টেন্ডার-চাঁদাবাজিসহ দখল দারিত্বের গুরুতর অভিযোগ ওঠা সংসদ সদস্যদের আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ। এ ব্যাপারে সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের জানিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘উল্লেখযোগ্য নতুন মুখ আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন। এলাকায় যাদের ইমেজ ভালো, পরিচিতি রয়েছে, শিক্ষিত, মার্জিত ও মানুষের আপদ-বিপদে এগিয়ে আসেন, তাদের ভেতর থেকেই এবার বেশি মনোনয়ন দেওয়া হবে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘জনবিচ্ছিন্ন সংসদ সদস্যরা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না।’ মনোনয়ন পাওয়ার পর যারা দলের মর্যাদা ক্ষুণœ করেছেন, তাদের ব্যাপারে দলকে ভাবতে হবে, এটাই স্বাভাবিক বলেও মনে করেন তিনি।

আসাদুজ্জামান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটুক্তি করার অভিযোগে আশাশুনি থানায় দায়ের করা অভিযোগ পত্রটি অবশেষে তদন্ত সম্পন্ন করে পুলিশ এজাহার হিসেবে গণ্য করেছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় উক্ত অভিযোগ পত্রটি এজাহার হিসেবে গণ্য করা হয়।
কপিরাইট অধিকার ভঙ্গ ও চুক্তিনামা জাল করে অবৈধভাবে তার গান বিক্রয়ের অভিযোগে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেলের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলা করেছেন সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার প্রীতম আহমেদ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি এই মামলা করেছেন।

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : সাতক্ষীরায় হিজড়া জনগৌষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে করণীয় শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের কার্যালয়ে জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক দেবাশিষ সরদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিএসবি শাখার এএসপি শেখ মো. ইয়াছিন আলী। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেল সুপার আবু জাহেদ, বিআরডিবি’র উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তারাময়ী মুখার্জী, জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. হারুন অর-রশিদ, জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা তুনসি কুমার পাল, সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. রোকনুজ্জামান, আশাশুনি উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জামাল উদ্দিন, তালা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার অধির কুমার গাইন, সদর হাসপাতাল সমাজসেবা অফিসার আব্দুল আওয়াল প্রমুখ। সেমিনারে হিজড়াদের নেত্রী খুকুসহ ২০ জন হিজড়া তাদের জীবনমান উন্নয়নে ৫০ দিন ব্যাপী এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছে। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শহর সমাজসেবা অফিসার শেখ সহিদুর রহমান।
আল-কায়েদার অনুসারী জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সামরিক শাখার আইটি প্রধান আশফাকুর রহমান অয়নকে বেশ কিছুদিন ধরেই খুঁজছিল পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ। সিলেট থেকে ঢাকায় এসে গুলশানের কাছাকাছি এলাকায় তাদের গোয়েন্দা জালে ধরা পড়ে মোষ্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা মেজর জিয়ার প্রধান এ সহযোগী।
একেবারে যেন সিনেমার কাহিনী- গোয়েন্দা বাহিনী সদস্য এমন এক অপরাধীর প্রেমে পড়লেন, যার বিরুদ্ধে তিনি তদন্ত করছিলেন! সিনেমার কাহিনী মনে হলেও বাস্তবে এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম সিএনএন।