গাজী আল ইমরান, শ্যামনগর : সুন্দরবনের পাদদেশে মালঞ্চ নদীরকোলে বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলার নাম শ্যামনগর। এ উপজেলার সকল কর্মই যেন সুন্দরবনের সুন্দরের সাথে মিলেই তৈরি হয়েছে। লবণাক্ত পানি আর মিষ্টি পানির মিশ্রণে ফলে সকল প্রকারের ফষল। এ অঞ্চলের লোনা পানির সোনা খ্যাত চিংড়ি চাষ বহির্বিশ্বে পরিচয় ঘটিয়েছে এ উপজেলাকে। সত্তর দশক থেকে সাতক্ষীরাবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সাথে চিংড়ি সম্পদ বিশেষভাবে জড়িত।
বঙ্গোপসাগর থেকে চিংড়ি আহরণের পাশাপাশি সত্তর দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশে প্রথম বৃহত্তর খুলনা জেলায় বাগদা চিংড়ি চাষ শুরু হয়। তন্মধ্যে সর্বপ্রথম চিংড়ি চাষ শুরু হয় তৎকালীন বৃহত্তর খুলনা জেলার অন্তর্গত বর্তমান সাতক্ষীরা জেলার সদর, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর থানায়। তখন থেকেই দেশীয় (সনাতন) পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ হয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে চিংড়ি চাষ সনাতন পদ্ধতিকে পেছনে ফেলে শ্যামনগরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়িচাষ করে অধিক উৎপাদনে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। আধানিবিড় বা সেমিইন্টেসিভ বলা হয়। যেহেতু ঘেরে চিংড়ি চাষের জন্য বেশি জমির প্রয়োজন হয়, সে কারণে নানা সমস্যা তৈরি হয়। প্রয়োজনীয় উপযোগী জমিরও অভাব রয়েছে। তাই স্বল্প জমিতে পুকুর কেটে এ পদ্ধতির চাষ বেশ সুবিধা ও লাভজনক। অল্প জমিতে অধিক উৎপাদনের ফলে দিন দিন এই চাষ পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েই চলেছে। তবে সরকারি বেসরকারি সহায়তা পেলে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারে আরো আগ্রহী হবেন চাষিরা। এই পদ্ধতির ফলে চিংড়ির উপযোগী গুণগত মান সম্পন্নের পাশাপাশি এ খাত থেকে বছরে সন্তোষ্ঠ জনক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রযুক্তির মাধ্যমে অক্সিজেন, ঔষধ ও খাবার সরবরাহের কারণে সম্পূর্ণ ভাইরাসের ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় পদ্ধতিটি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ চাষের তুলনায় মুনাফার পরিমাণ অধিক হওয়ায় পার্শ¦বর্তী কয়েকটি জেলায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসাইন সাগর বলেন, অল্প জমিতে অধিক মুনাফা লাভের জন্য এই প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে আধানিবিড় পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করতে মৎস্য বিভাগও কাজ শুরু করছে। নওয়াবেকী শ্রিম্প কালচারের দেখাদেখি এলাকার অনেক চিংড়ি চাষি এই পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করতে আগ্রহী হয়েছেন। আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। একটি খামারে দুই শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। প্রতিটি পুকুরে বছরে ২ বার মাছ ধরা যাবে। সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অর্থাৎ যদি নিরোগ পোনা ছাড়া হয় তাছাড়া ঘেরে পানির পরিমাণ ৩ থেকে ৪ ফুট, ভালো পানি, ভালো পরিবেশ, জৈব নিরাপত্তা, ভালো মানের খাদ্য, মাছের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এসব সব ঠিক থাকলে ৫ মাসে একর প্রতি ১০ লক্ষ টাকা পাওয়া সম্ভব, যেখানে খরচের পরিমান ৫ লক্ষ টাকা। সনাতন পদ্ধতির অপেক্ষা আধা নিবিড় পদ্ধতিতে ১০গুণ মাছ উৎপাদন করা সম্ভব বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন এ পদ্ধতিতে চিংড়ি উৎপাদন করে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূল এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাগদাচিংড়ি চাষে ব্যাপক সফলতা এসেছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে অক্সিজেন, ওষুধ ও খাবার সরবরাহের কারণে সম্পূর্ণ ভাইরাসের ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় পদ্ধতিটি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ চাষের তুলনায় মুনাফার পরিমাণ বেশি হওয়ায় পাশের কয়েকটি জেলায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলার বাগদা চিংড়ির সেমি-ইনটেনসিভ খামারের ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শাওন ফিস প্রডাক্টস লিঃ প্রোঃ মোঃ আঃ সাত্তার, মোড়ল, ১৩৫.০০ হেক্টর জমিতে যার মধ্যে জলায়তন ৬৪.০০ হেক্টর, পকুরের সংখ্যা ১৮০টি, যার মধ্যে চাষকৃত ১৫৮টি, তার উৎপাদিত মাছের পরিমান ৯৫০.৫০ মেট্রিক টন। রেডিয়েন্ট শ্রিম্প কালচার-০১ প্রোঃ আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম নঁওয়াবেকী, ৪০.০০ হেক্টর জমিতে যার মধ্যে জলায়তন ১৯.৪০ হেক্টর, পকুরের সংখ্যা ৬০ টি, যার মধ্যে চাষকৃত ৪৮ টি, তার উৎপাদিত মাছের পরিমান ২৩০.০০মেট্রিক টন। সুন্দরবনমৎস্য প্রকল্প টাইগারপয়েন্ট, সুশীলন, মুন্সিগঞ্জ, ৩.৫০ হেক্টর জমিতে যার মধ্যে জলায়তন ১.৬২ হেক্টর, পকুরের সংখ্যা ৪ টি, তার উৎপাদিত মাছের পরিমান ২০.০০ মেট্রিক টন। সুন্দরবন শ্রিম্প কালচার লিঃ প্রোঃ আলঃ আবুল কালাম বাবলা, নঁওয়াবেকী, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা ০৫.০০ হেক্টর জমিতে, যার মধ্যে জলায়তন ৩.২৩ হেক্টর, পকুরের সংখ্যা ১০ টি, যার মধ্যে চাষকৃত ৯ টি, তার উৎপাদিত মাছের পরিমাণ ২৩.০০ মেট্রিক টন। মৎস্য বিভাগ অল্প পরিসরে হলেও এ পদ্ধতিতে চাষে এগিয়ে আসার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানায়।
স্থানীয় চাষিদের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তারা জানান, আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করতে আমরা আগ্রহী হলেও মূলত অর্থনৈতিক ঘাটতি থাকার কারণে আমরা এ চাষে অন্তর্ভূক্ত হতে পারছিনা। তবে আমরা জেনেছি এই পদ্ধতিতে চাষে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা পাওয়া সম্ভব।
তারা আরো বলেন, এই চাষ পদ্ধতিতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎ যেখানে নেই সেখানে ইঞ্জিনচালিত মেশিন অথবা প্রয়োজন মতো সোলারের সাহায্যে চাষ করা সম্ভব। চাষি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা গেলে এ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষিরা ব্যাপক লাভবান হবে বলে জানান তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় দুর্যোগ ঝুকিহ্রাস কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এ সময় তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলা একটি বড় ধরনের দূর্যোগ প্রবণ এলাকা। তাই শুধু আলোচনা ও কর্মশালা করলে হবেনা। যুগোপযোগি পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে দূর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। দূর্যোগ দু’ধরনের একটি প্রাকৃতিক আর একটি মানব সৃষ্ট। সুন্দরবনকে রক্ষা করতে পারলে সাইকোণের ক্ষতি থেকে জেলা কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে। যত্রতত্র অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের ও যত্রতত্র নকশা ও অনুমোদন ছাড়া ঘর-বাড়ি আর নির্মান জলাবদ্ধতার মূল কারণ। এই মানব সৃষ্ট দূর্যোগ মোকাবেলা করতে জরুরী পদক্ষেপ নিতে হবে। বড় দূর্যোগ সাইকোণ ও জলাবদ্ধতা থেকে সাতক্ষীরাকে বাঁচাতে বাস্তব মুখি কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। বৃষ্টির পানি ইছামতি ও সাগরে ফেলতে হবে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে’। অনুষ্ঠানের শুরুতে মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা আফসানা কাওসার।
নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘সুস্থ দেহ সুস্থ মন ক্রীড়া আনে বিনোদন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের আয়োজনে কলেজ মাঠে সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করেন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এ সময় তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরা জেলার ছেলেরা ও মেয়েরা সর্বক্ষেত্রে সুনামের সাথে অবদান রেখে চলেছেন। শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিতে জাতীয় পর্যায়সহ বহির্বিশ্বে সাফল্যের সাথে জেলার সুনাম অর্জন ধরে রেখে চলেছেন। নারীরা মায়ের জাত। তারা আজ বসে নেই পুরুষের সাথে সমান তালে দেশের উন্নয়নে কাজ কাজ করছে মেয়েরা’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সরকারি মহিলা কলেজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক সহযোগি অধ্যাপক শশী ভূষণ পাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মকসুমুল হাকিম, আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ হায়দার আলী তোতা, সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক পর্ষদ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর আলীসহ সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রভাষক মো. অলিউর রহমান ও প্রভাষক নাজমুল হোসেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা’র ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী ২০১৭ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : সোহরাওয়ার্দী কাপ জাতীয় অনুর্দ্ধ-১৮ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১৭-এ সাতক্ষীরা জেলা দল মাগুরা জেলা দল, নড়াইল জেলা দল খুলনা জেলা দলকে হারিয়ে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সাতক্ষীরা জেলা দল।
নিজস্ব প্রতিবেদক : সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কাঠেশ্বর খাল থেকে বনদস্যু জিয়া বাহিনী প্রধান জিয়া ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। ঘটনাস্থল থেকে র্যাব সদস্যরা দুটি ওয়ান-শুটারগান, দুটি পাইপগান ও ১৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। সোমবার ভোর রাত ৩ দিকে কাটেশ্বর খালে এ ঘটনাটি ঘটে।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের নৈঋত কোণে অবস্থিত সাতক্ষীরা। সাতক্ষীরা একটি সমৃদ্ধ জনপদ। এখানে আছে চিংড়ী চাষ, আছে সুন্দরবন এবং ফসলী মাঠ। জাতীয় আয়ের একটি অংশ এখান থেকে আসে। শত শত বছর থেকে সাতক্ষীরার আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং রাজনৈতিক অঙ্গন সমৃদ্ধশালী। যাতায়াত এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সাতক্ষীরা কম উন্নত নয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকারের আমলে সাতক্ষীরায় যথেষ্ট কাজ হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন থেকে ২০০১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এবং ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সাতক্ষীরার অলি, গলি, রাস্তাঘাট অনেক উন্নত হয়েছে। হয়েছে ব্রিজ, কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোনো কোনো রাস্তায় পিচ হয়েছে। আবার কোনো কোনো রাস্তায় ইট বসানো হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলায় মোট ৭৮টি ইউনিয়ন আছে। এই ৭৮টি ইউনিয়নের মধ্যে যে গ্রামগুলো আছে সেই গ্রামের অনেক রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় গ্রামীণ জনপদের যে রাস্তাগুলো পিচ করা হয় সেই রাস্তাগুলোতে মালবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে অতিদ্রুত ধ্বসে পড়ে এবং নষ্ট হয়ে যায়। রাস্তাগুলোর যে ধারণ ক্ষমতা তার চেয়ে অধিক ওজনের মালবাহী যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাগুলোর বেহাল দশা হয়েছে এবং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে যে রাস্তাগুলোর বেহাল দশা পাওয়া গেছে সেগুলো সংস্কারের নিমিত্তে তুলে ধরা হবে। সাতক্ষীরার সদর উপজেলার নারকেল তলা থেকে আখড়াখোলা বাজার পর্যন্ত ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাটি ক্ষত বিক্ষত হয়েছে। যা অতিদ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। আখড়াখোলা বাজার থেকে আমতলা পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন। আগরদাড়ী বাজার থেকে পরানদহা হয়ে আলীপুর চারাবটতলা পর্যন্ত রাস্তা মাঝে মাঝে ভালো থাকলেও মাঝে মাঝে খুবই খারাপ। এই পুরো রাস্তাটিই সংস্কার করা প্রয়োজন। সাতক্ষীরা সদরের বাঙালের মোড় থেকে মন্টু মিয়ার বাগানবাড়ী হয়ে খানপুর পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন। কলারোয়া উপজেলার একড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কয়লা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ঘোরিয়া থেকে ছাতিয়ানতলার দেবনগর পর্যন্ত রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। বুইতা থেকে বাটরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। কলারোয়া পাবলিক ইনস্টিটিউট থেকে শাকদহা বাজার পর্যন্ত রাস্তা পীচ করা প্রয়োজন। আশার আলো কুশোডাঙ্গার মধ্যে কিছুটা কাজ হচ্ছে। সাতক্ষীরা সদরের আখড়াখোলা বাজার থেকে তুজুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তার কাজ হচ্ছে। ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ঘোরিয়া থেকে বলাডাঙ্গা হয়ে আখড়াখোলা বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার আরো অনেক জায়গায় রাস্তার কাজ চলছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং এল জিইডি যে রাস্তাগুলো সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেয় তার দৈর্ঘ্য খুব কম থাকে। কোন কোন রাস্তা সংস্কার ২ থেকে ৩ কিলোমিটার না হয়ে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত করলে জনগণের সুবিধা হয়। রাস্তা মানবজীবনে শান্তির বারতা বয়ে আনে। মাতৃভূমি যেমন স্বর্গস্বরূপ তদ্রুপ চলার পথ প্রশান্তিময় হলে মানুষের জীবনও প্রশান্তিময় হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্য বলা যায় খুলনা বিভাগের মধ্যে মহাসড়কের বেহাল অবস্থার কথা। যশোর থেকে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত মহাসড়কটি সংস্কার করা আশু প্রয়োজন। রাস্তার যে প্রশস্ততা আছে তা আরো ৪ গজ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। রাস্তার মাঝখান দিয়ে সাদা চুন টেনে দিলে যানবাহন চালানো সুবিধা হয়। এতে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসে। যাহোক, গ্রামীণ জনপদের কথাই বলছিলাম। তাই আবারো বলতে চাই, সাতক্ষীরা সদরের পোড়ার বাজার থেকে নগরঘাটা হয়ে রাজনগর দিয়ে বিনেরপোতা পর্যন্ত রাস্তাটি ভেঙে পড়েছে। যা এক্ষুণি সংস্কার করা প্রয়োজন। সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া উপজেলাসহ সাতক্ষীরার প্রত্যেকটি উপজেলা এবং থানার গ্রামীণ জনপদগুলো অতিদ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পদ্মাসেতু নির্মাণ, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় তৈরিসহ অনেকগুরুত্বপূর্ণ কাজ বর্তমান সরকার করছেন। বর্তমান সরকারের কর্মী ব্যবস্থাপনাও যথেষ্ট ভালো। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাছে আমার আকুল আবেদন ও কিছু প্রাণের দাবি তা হলো- ১. বাংলাদেশ তথা বাঙালি জাতির দেয়ালে, অফিসিয়াল পদ-পদবীতে এবং পাঠ্যবইতে নমনীয় শব্দ ব্যবহার করলে ভালো হয়। ২. শিক্ষাকে অবশ্যই ধর্মনিরপেক্ষতার আলোকে সাজাতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের ছাটাই করে মহান ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতিসত্তায় বিশ্বাসী, সৎ, দেশপ্রেমিক, ন্যায়বিচারক, কর্তব্যনিষ্ঠ সন্তানদের শিক্ষক হিশেবে নিয়োগ দিতে হবে। অর্থাৎ সংবিধানের মূলনীতির আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। শিক্ষাঙ্গনগুলো সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক আঙ্গিকে ঢেলে সাজাতে হবে।