অনলাইন ডেস্ক: বিখ্যাত চকোলেট নির্মাতা সংস্থা ক্যাডবেরি তাদের সংস্থার চকোলেট সায়েন্টিস্ট হেইলি কার্টিসের জিভের ১ মিলিয়ন পাউন্ডের বিমা করিয়েছে। সেই বিমার অর্থ টাকার হিসেবে প্রায় ৮ কোটি।
আসলে হেইলির টেস্ট বাডসের বিমা করিয়েছে সংস্থা। একটি বিখ্যাত বিমা সংস্থার থেকে এই বিমা করানো হয়েছে। বোর্নভিলে ক্যাডবেরির সদর দফতরে যে তিনশ জনের ইনোভেশন টিম রয়েছে, ওই তরুণী বিজ্ঞানী তারই অংশ।
ক্যাডবেরি বাজারে যে নতুন চকোলেট নিয়ে আসে, তার মধ্যে কী কী উপাদান কোন অনুপাতে থাকবে এবং ফাইনাল টেস্ট বা স্বাদ কেমন হবে, তা ঠিক করার দায়িত্ব থাকে ওই ইনোভেশন টিমের ওপরে।
যেহেতু হেইলি সেসব নতুন চকোলেটের স্বাদ পরীক্ষা করে দেখেন, তাই তার জিভের টেস্ট বাডের বিমা করিয়ে রাখল ক্যাডবেরি। টাকার অংকে যে বিমার পরিমাণ ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার কিছু বেশি।
এই বিমার শর্ত অনুযায়ী, নিজের জিভের টেস্ট বাডের কোনো ক্ষতি হয়, এমন কোনো কাজ ওই বিজ্ঞানী করতে পারবেন না।
হেইলি নিজে বলেছেন, চকোলেট তৈরির পুরো পদ্ধতিই অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত। নিজের জিভের বিমা হয়ে যাওয়ার পরে আগামী দিনে আমি আর নতুন স্বাদের চকোলেট সৃষ্টির ওপরে মনোনিবেশ করতে পারব।
বিমা কর্তারা বলছেন, বিখ্যাত ফুটবলারদের কাছে তাদের পা যতটা দামি, ক্যাডবেরি সংস্থার কাছে টেস্ট বাড ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। আর বিমার মূল্য থেকেই বোঝা যায়, নিজের সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে নতুন স্বাদ সৃষ্টি করতে হেইলি কতটা ভালো কাজ করছেন।

স্পোর্টস ডেস্ক: বছরের শুরুটাই হলো হার দিয়ে। আসলে ওয়ানডে খারাপ করার কারণে এই দলটার ওপর একটা প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের ওপর। কিছু ব্যাটসম্যান রান পাচ্ছেন সত্য; কিন্তু ধারাবাহিকতা নেই তাদের। শুরুতে দ্রুত তিনটা উইকেট পড়ে যাওয়াতে আমরা ব্যাকফুটে চলে যাই। যদি আরও ১৫-২০ রান বেশি করতে পারতাম, তাহলে অবশ্যই ভালো একটা পর্যায়ে যেতে পারতাম। কথাগুলো দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমের খোলা কলামে লিখেছেন আকরাম খান।
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরায় গ্রাহকের বিনিয়োগকৃত অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছে ট্রাষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ নাজমুল স্মরনীর হাসিনা ভিলায় তাদের ভাড়াকৃত অফিসে যেয়েকোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে না পেয়ে গ্রাহকরা সর্বশান্ত হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। ট্রাষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের ডিভিশনাল কোঅর্ডিনেটর রেহেনা পারভীন জানান, মাসিক ২০ হাজার চার’শ বেতন দেয়ার কথা বলে আমাকে এখানে চাকুরি দেন এই কোম্পানীর এমডি আব্দুল ওহাব দুলাল। একইসাথে আমাকে দিয়ে নগদ ২৪ হাজার টাকার একটি পলিসিও খুলে নেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জীবনের বেকারত্ব ঘোচাতে অনেক কষ্ট করে সেখানে টাকা ইনভেষ্ট করি। একমাস চাকুরীও করেছি। কিন্তু কোন বেতনও পাই নাই। সকালে এসে দেখি এমডি আব্দুল ওহাব দুলাল, এএমডি রিতা আক্তারসহ এই জেলার বাইরে থেকে যারা এখানে চাকুরী করতেন তারা সবাই পালিয়ে গেছেন। গ্রাহকরা কাউকে না পেয়ে এ সময় বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় অনেক গ্রাহকরা অফিসের চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন ফার্নিচার নিয়ে চলে যান। গ্রাহকরা এ সময় এমডি আব্দুল ওহাব দুলাল, এএমডি রিতা আক্তারসহ এই অর্থ আতœসাতের সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের শাস্তির দাবি জানান। এ ব্যাপারে জানার জন্য ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের এমডি আব্দুল ওহাব দুলালের কাছে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে বার বার ফোন দিলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। সাতক্ষীরার সদর থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্যা জানান, এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত থানায় কেউ কোন অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সেলিম হায়দার, তালা: সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় জেঠুয়ায় কপোতাক্ষ নদী কাটা মেশিনবহনকারী একটি ট্রাক উল্টে পুকুরের পানিতে পড়ে ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে আরও তিনজন। বুধবার ভোর চারটায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় আহত সাংবাদিক জুলফিকার((২৪)এর বাবা রাহাতুল্ল সরদার বাদি হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এস এম মোশাররফ হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নামে গত সোমবার সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা করেছে। মামলা নং ০৪। মামলা সত্বেও প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে সন্ত্রাসী মোশাররফ বাহিনী। বিভিন্ন নম্বর থেকে বাদিকে হুমকি-ধামকিও দিয়ে যাচ্ছে তার লোকজন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: চেয়ারম্যানের নির্যাতনে হাতের নখ উপড়ে যাওয়া সাংবাদিক জুলফিকার আলীকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন জেলা তথ্য অফিসার শেখ শাহানওয়াজ করিম। মঙ্গলবার দুপুরের পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান তিনি। এসময় তিনি আহত সাংবাদিক জুলফিকারের সার্বিক খোঁজ খবর নেন এবং তার সঠিক সেবা প্রদানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজকের সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও ডেইলি সাতক্ষীরার সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, দৈনিক আজকের সাতক্ষীরার বিশেষ প্রতিনিধি শেখ শরিফুল ইসলামসহ অনেকে।
সেলিম হায়দার: রেশমা বেগম (১৫)। দুই বছরের ছেলে জিসানকে নিয়ে ইটের ভাটায় কাজ করছে সে। ছেলেকে কখনো কোলে, কখন কাঁধে নিয়ে চলছে তার কাজ। সাথে আছে ছোট ভাই মালেক (৬)। সেও ইট ভাটার শ্রমিক। ভাই-বোনে ১০ টাকা হাজার চুক্তিতে ইট উল্টানোর কাজ করছে ইটের ভাটায়। খেয়ে না খেয়ে দিন চলে রেশমা-মালেকের। যে বয়সে রেশমা ও মালেকের বিদ্যালয়ে থাকার কথা ছিল, তাদের কাঁধে এখন সংসারের বোঝা। যে হাতে রঙ-পেন্সিলে ছবি আঁকার কথা ছিল, সে হাতে উল্টাতে হচ্ছে ভাটার ইট। যে চোখ স্বপ্ন দেখতো এক সোনালী আগামীর, সে চোখ শুধুই রোজগারের পথ খুঁজে বেড়াচ্ছে। শৈশব-কৈশোরের উল্লাস-উচ্ছাসের আনন্দ ওদের কাছে মলিন হয়ে গেছে। এ বয়সেই তাদের সংসারের ঘানি টানতে হচ্ছে। রেশমা ও মালেক সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জেঠুয়া গ্রামের কুদ্দুস শেখের মেয়ে ও ছেলে। হত দরিদ্র পরিবারে জম্ম তাদের। বাড়ির পাশর্^বর্তী গোনালী এলাকার আরবিএস ইটের ভাটায় ভাই-বোন মিলে এখন কাজ করছে। ঢাকার এক বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতো রেশমা। সেখানে কুমিল্লার ছেলে সবুজ ভুইয়ার সাথে পরিচয় হয় তার। পরিচয়ের পর গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। তিন বছর আগে সবুজের সাথে বিয়ে হয় রেশমার। তাদের সাংসারিক জীবনে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। নাম তার জিসান (২)। কিন্তু পাঁচ মাস আগে রেশমার স্বামী ফেলে রেখে চলে যায় তার নিজ বাড়ি কুমিল্লায়। এখন কাজ না করলে কে দিবে তার ছেলে জিসানের মুখে ভাত এমন প্রশ্ন রেশমার। সোমবার (২ জানুয়ারী) বিকালে তালা উপজেলার গোনালী আরবিএস ইটের ভাটায় গিয়ে দেখা হয় রেশমার সাথে। ছেলে জিসান কখনও কোলে, কখন কাঁধে। কখনও পিঠে। আর ইট উল্টানোর কাজ তার। এক হাজার ইট উল্টালে পাবে ১০ টাকা। ছোট ছেলেকে নিয়ে কি করবে রেশমা। ভেবেই পারছে না সে। ছোট ভাই মালেক আর রেশমা মিলে ইট উল্টানো কাজ করছে। সাথে সহযোগীতা করছে তার বৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগম। রেশমা জানান, কাজ না করলে কে ক্ষেতে দিবে তাদের। স্বামী চলে গেছে প্রায় পাঁচ মাস। দরিদ্র বাবার সংসারে কত সময় বসে খাওয়া যায়। বাধ্য হয়ে ইটের ভাটায় কাজ নিয়েছি। ছোট ভাইকেও সাথে নিয়ে এসেছি। ও আমার সাথে যা সহযোগিতা করে তা অনেক। ছেলেকে মানুষের মত মানুষ করতে আজ কাজ বেছে নিয়েছি। কাজ করে ছেলেকে মানুষ করবো। ওর বাপ এখন আর কোন খোজ নেয় না। ছোট মালেকের কাছে প্রশ্ন তুমি স্কুলে যাও না ? উত্তরে মালেক বলে,‘আমি কাজ করছি দেখেন না। আপার সাথে কাজ করছি। কখন যাবো স্কুলে।’ রেশমার মা আনোয়ারা বেগম জানান, তার পাঁচ ছেলে মেয়ে। বড় মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। মেজো মেয়ে তার কাছে। ছোট মেয়ে ঢাকায় একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে। দুই ছেলে আর মেজো মেয়ে আমার কাছে থাকে। ওর বাবা এখন আর কাজ করতে পারে না। অনেক কষ্টের মধ্যে দিন পার করতে হয় তাদের। কখনও খাওয়া হয়, কখনও খাওয়া হয় না। শ্রমিক সর্দ্দার ছাত্তার হোসেন জানান, ১০ টাকা হাজারে তারা ইট উল্টানোর কাজ করছে। সপ্তাহে তারা ৬০০/৭০০ টাকা পাবে। ওরা নতুন কাজ শুরু করেছে। সপ্তাহে ওদের টাকা পরিশোধ করা হবে। আরবিএস ভাটার মালিক মুন্না হোসেন জানান, তারা শ্রমিক সর্দার সাত্তারের সাথে চুক্তি করে কাজে এসেছে। কম-পেল কী বেশি পেল সেটা আমাদের বিষয় না।