নিজস্ব প্রতিবেদক : শহরের কাটিয়ায় পৌরসভার জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাটিয়া এলাকার শেখ আজিজুর রহমান টনির স্ত্রী ২৩নং রাজার বাগান শান্তি নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রেহেনা খাতুন কাজল পৌরসভার জন বহুল, কর্মচঞ্চল, জনগুরুত্বপূর্ণ, পৌরসভার তিন রাস্তার মোড়ের জায়গা তড়িঘড়ি করে অতি দ্রুত বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। যা সম্পূর্ণ বে-আইনী, অবৈধ। ইতোমধ্যে তারা তাদের বসত: ঘরের বে-আইনি ভাবে পায়খানা ঘরের ছুপ ট্যাংক ও ঘরের বাড়তি সান সেট নির্মাণ করেছে। এই বে আইনিভাবে বহুতল ভবন নির্মাণে, বাড়ীর বাড়তি সানসেট ও পায়খানা ঘরের ছুপ ট্যাংক তৈরির কারণে, তিন রাস্তার মোড়ে টার্নিং পয়েন্টে যান বাহন ও লোকজন চলাচলের জন্য সব সময় দূর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। রেহেনা খাতুন কাজল, তিনি একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল শিক্ষক হয়ে, কিভাবে পৌরসভার জমি দখল ও আত্মসাৎ করে? কিভাবে আইন লংঘন করেঃ বেআইনি, আইন বহির্ভূত জন সাধারণের চলাচলের রাস্তার উপরে বহুতল ভবন নির্মাণ করে? এই দুর্নীতিবাজ লোভী রেহেনা খাতুন কাজল শিক্ষিকার নিকট থেকে কোমলমতি শিশুরা কি শিক্ষা পাইবে? জাতী কি পাইবে? তার আচারনে মনে হয় তিনি আইনের উর্দ্ধে। তার খুটির জোর নাকি খুবই শক্ত। এই সব বিষয় আমাদের বোধগম্য নয়। সেই কারণে তা এক্ষুনি সম্পূর্ণ ভাবে এই নির্মাণ কাজ জনস্বার্থে বন্ধ করিতে হইবে। নিরাপদে মানুষ জন ও যানবাহন চলাচলের জন্য পৌরসভার রাস্তার উপর থেকে অবৈধ নির্মাণ, পায়খানা ঘরের ছুপ ট্যাংক ভেঙে ফেলতে হবে। অপসারণ করতে হইবে। অবাধে সরকারি রাস্তার মোড়ের মাথায় টার্নিং পয়েন্ট দিয়ে এ্যম্বুলেন্স, ফায়ার ব্রিগেড, সাধারণ যানবাহন ও জন সাধারণের নিরাপদে চলাচলে ব্যবস্থা করিতে হইবে। সঠিক ও পুঙ্খনোপুঙ্খভাবে পৌরসভার রাস্তার জমি মানচিত্র অনুযায়ী সঠিক মাপ জরিপের মাধ্যমে, পৌরসভার সঠিক সীমানা নির্দ্ধারণ করে, জন সাধারণের অবাধে চলাচলের জন্য, আপনার একান্ত আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করিতেছি। এক্ষুনি অবিলম্বে জনসাধারণের নিরাপদে ও যান বাহন চলাচলের জন্য এই দুর্নীতিবাজ শিক্ষিকা রেহেনা খাতুন কাজল ও তার স্বামী শেখ আজিজুর রহমান টনির পৌরসভার জমি অবৈধ দখলবন্ধ করতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।




নাজমুল হক, পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি : পাটকেলঘাটার অদূরে বিনেরপোতার অধিকাংশ ইটভাটাগুলোতে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই আইনের তোয়াক্কা না করে ফলজ ও বনজ কাঠ পোড়ানোর মহোৎসবে মেতে উঠেছে। ফলে অত্র এলাকায় বায়ু দূষণ করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় জনজীবন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ তে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ইট পোড়ানোর জন্য কাঠের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়া কোন ব্যক্তি ইট ভাটায় ইট প্রস্তুত করতে পারবে না এবং ইট ভাটার ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৫০ ঘর বসতি এলাকায় ফলজ ও বনজ বাগান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলে ভাটার অনুমোদন হবে না। অথচ এ আইনের কোনটিই অনুসরণ করেনি বিনেরপোতার অধিকাংশ ভাটাগুলো। বিশেষ করে বিনেরপোতায় লিয়াকত আলীর ২টি একই স্থানে কামরান ব্রিকস ও হায়দার আলীর খোদেজা ব্রিকসে সরেজমিনে দেখা গেছে অবাধে কাঠ পোড়ানোর ভয়াবহ দৃশ্য। এমনকি লাইসেন্সও দেখাতে পারেনি মালিকপক্ষ। লাইসেন্সের কথা জানতে গিয়ে বেরিয়ে এলো আসল তথ্য। তারা বলেন, প্রতিবছর বিভিন্ন সংস্থাকে ম্যানেজ করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামকে ২০-৩০ হাজার টাকা দিতে হয় বলে লাইসেন্স লাগে না। লাইসেন্স নাকি সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পকেটে। শিক্ষা, শ্রম, বন ও পরিবেশ রক্ষা সোসাইটি সাতক্ষীরা জেলা ইন্সপেক্টর শেখ আফজাল হোসেন জানান, যেখানে ইটের মাপ দৈর্ঘ্য ১০ ইঞ্চি, প্রস্থ ৫ ইঞ্চি এবং পুরুত্ব থাকা উচিৎ ৩ ইঞ্চি। অথচ সেখানে দেখা গেছে এসকল ভাটা গুলিতে ইটের মাপ দৈর্ঘ্য ৮ ইঞ্চি, প্রস্থ ৪ ইঞ্চি ও পুরুত্ব ২ থেকে আড়াই ইঞ্চি। পরিবেশ আইনের কোনটিই তারা মানছে না। অবাধে কাঠ পোড়ানোর দৃশ্যটি ভিডিও ধারণ করেন সোসাইটির সাতক্ষীরা অফিস সহকারী শেখ মিন্টু হোসেন। এলাকাবাসীর আক্ষেপ এভাবে ভাটাগুলোতে ইটের মাপ ঠিক না থাকা, বসতি এলাকায় ভাটা, কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো সর্বপরি লাইসেন্স বিহিন এসকল অবৈধ ভাটাগুলি কি দেখার কেউ নেই ? একদিকে সরকার হারাচ্ছে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব অন্যদিকে পরিবেশের হচ্ছে মারাত্মক ক্ষতি। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দীন জানান, জেলার প্রায় ২ শতাধিক ইট ভাটার মধ্যে ৮০-৯০ টির মতো লাইসেন্স আছে। বাকি অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অচিরেই তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
