নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় আহত সাংবাদিক জুলফিকার((২৪)এর বাবা রাহাতুল্ল সরদার বাদি হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এস এম মোশাররফ হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নামে গত সোমবার সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা করেছে। মামলা নং ০৪। মামলা সত্বেও প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে সন্ত্রাসী মোশাররফ বাহিনী। বিভিন্ন নম্বর থেকে বাদিকে হুমকি-ধামকিও দিয়ে যাচ্ছে তার লোকজন।
আসামিরা হল ইউপি চেয়ারম্যান এস এম মোশাররফ হোসেন(৪০), তার ভাই এস এম মোকাররম হোসেন(৩০), সুলতান আহম্মেদের ছেলে নাদিম হোসেন ফয়সাল(২২), আরিজুল সরদারের ছেলে তারিকুর রহমান(২৪),মৃত উজির আলীর ছেলে মিঠু(৩০),মৃত রহমান মোল্লার ছেলে শহিদুল ইসলাম(৫০),শফিউর রহমানের ছেলে শহিদ হোসেন(২৩), রফিকের ছেলে রিংকু(২০),পাঁচরখী গ্রামের আমের আলীর ছেলে খোকা(৪০), রেউই গ্রামের খোকনের ছেলে সাজু(২৮)। ইউপি চেয়ারম্যান এস এম মোশাররফ হোসেন নির্বাচনে জয়লাভ করেই শুরু করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি। তার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা সহ একাধিক পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়। মাস দুয়েক আগেও হতদরিদ্রের ১০ টাকা কেজি দরের চাউল বিতরণের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম করেন ইউপি চেয়ারম্যান এস এম মোশাররফ হোসেন। সেই অনিয়মের সচিত্র সংবাদ আজকের সাতক্ষীরা পত্রিকায় প্রকাশ করেন সাংবাদিক জুলফিকার আলী। সেই থেকে চেয়ারম্যানের টার্গেটে ছিল সাংবাদিক জুলফিকার আলী। গত রবিবার রাত ৯ টার সময় গোপনে ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ ও ইউপি মেম্বর শহিদুল ইসলাম গোপনে উপজেলা থেকে প্রাপ্ত কম্বল অসহায় ও দুস্থদের না দিয়ে গোপনে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করছিলেন। এটি জানতে পেরে ওই সাংবাদিক শহিদুলের কাছে ফোন দিয়ে কম্বলের বিষয়ে জানতে চান। তখন ইউপি চেয়ারম্যান তার মেম্বরের কাছ থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে সাংবাদিক জুলফিকার কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং জুলফিকার কোথায় আছে জানতে চাইলে জুলফিকার রেউইবাজারে কাপড়ের দোকানে থাকার কথা বলে। দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাবার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফসহ আসামীরা লোহার রড, ক্রেস, বাঁশের লাঠি নিয়ে মটরসাইকেল যোগে সাংবাদিক জুলফিকারকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা জুলফিকারের হাতের নখ প্লাস দিয়ে তুলে নেয়। সাংবাদিক জুলফিকারের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে রাত ১২ টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এখনও তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার এস আই শরিফ এনামুল বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আসামিদের বাড়িঘর তল্লাশী চালিয়েছি। অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কোন অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। যদিও ইউনিয়নবাসী বলছেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এ চেয়ারম্যান নিজেই নারী-শিশু নির্যাতনের একটি মামলায় ১৪ বছরের কারাদ- প্রাপ্ত আসামি। বর্তমানে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আছেন। তার রয়েছে একটি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী। সে সব সময় বেআইনি অস্ত্র বহন করে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সাংবাদিক হত্যা চেষ্টা মামলার ২নং আসামি মোকাররম রেউই বাজারের লাল গোলাপ একতা সংঘ নামক একটি ক্লাবের পিছনে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ইয়াবা সেবন ও বেচা-কেনার হাঁট বসায় আর প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে আসছে দিনের পর দিন। যা বেপরোয়া করে তুলেছে মোশারফ চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনীকে। মামলার ৩ নং আসামি(চেয়ারম্যানের আপন ভাগ্নে) নাদিম কয়েকমাস আগে ৮ম শ্রেণি পড়–য়া শিশু বিপ্লবের মুখে লাথি মেরে তার ৫টি দাঁত ভেঙে দেয়। বিপ্লব ৮/১০ দিন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এখনও তাকে চিকিৎসকের কাছে আসতে হয় নিয়মিত। অথচ শিশু নির্যাতনের এ ঘটনায় বিপ্লবের বাবা সদর থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোন মামলা নেয়নি বরং মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করে দরিদ্র পিতার উপর। এক দরিদ্র ভ্যানওয়ালার ছাগল ক্ষেতে ঢুকেছিল বলে তার স্ত্রীকে প্রকাশ্যে মারধর করে ও কাপড় ছিঁড়ে দেয় এই নাদিম। এ ঘটনায়ও কোন ন্যায়বিচার পায়নি ওই দরিদ্র নারী।

নিজস্ব প্রতিবেদক: চেয়ারম্যানের নির্যাতনে হাতের নখ উপড়ে যাওয়া সাংবাদিক জুলফিকার আলীকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন জেলা তথ্য অফিসার শেখ শাহানওয়াজ করিম। মঙ্গলবার দুপুরের পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান তিনি। এসময় তিনি আহত সাংবাদিক জুলফিকারের সার্বিক খোঁজ খবর নেন এবং তার সঠিক সেবা প্রদানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজকের সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও ডেইলি সাতক্ষীরার সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, দৈনিক আজকের সাতক্ষীরার বিশেষ প্রতিনিধি শেখ শরিফুল ইসলামসহ অনেকে।
সেলিম হায়দার: রেশমা বেগম (১৫)। দুই বছরের ছেলে জিসানকে নিয়ে ইটের ভাটায় কাজ করছে সে। ছেলেকে কখনো কোলে, কখন কাঁধে নিয়ে চলছে তার কাজ। সাথে আছে ছোট ভাই মালেক (৬)। সেও ইট ভাটার শ্রমিক। ভাই-বোনে ১০ টাকা হাজার চুক্তিতে ইট উল্টানোর কাজ করছে ইটের ভাটায়। খেয়ে না খেয়ে দিন চলে রেশমা-মালেকের। যে বয়সে রেশমা ও মালেকের বিদ্যালয়ে থাকার কথা ছিল, তাদের কাঁধে এখন সংসারের বোঝা। যে হাতে রঙ-পেন্সিলে ছবি আঁকার কথা ছিল, সে হাতে উল্টাতে হচ্ছে ভাটার ইট। যে চোখ স্বপ্ন দেখতো এক সোনালী আগামীর, সে চোখ শুধুই রোজগারের পথ খুঁজে বেড়াচ্ছে। শৈশব-কৈশোরের উল্লাস-উচ্ছাসের আনন্দ ওদের কাছে মলিন হয়ে গেছে। এ বয়সেই তাদের সংসারের ঘানি টানতে হচ্ছে। রেশমা ও মালেক সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জেঠুয়া গ্রামের কুদ্দুস শেখের মেয়ে ও ছেলে। হত দরিদ্র পরিবারে জম্ম তাদের। বাড়ির পাশর্^বর্তী গোনালী এলাকার আরবিএস ইটের ভাটায় ভাই-বোন মিলে এখন কাজ করছে। ঢাকার এক বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতো রেশমা। সেখানে কুমিল্লার ছেলে সবুজ ভুইয়ার সাথে পরিচয় হয় তার। পরিচয়ের পর গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। তিন বছর আগে সবুজের সাথে বিয়ে হয় রেশমার। তাদের সাংসারিক জীবনে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। নাম তার জিসান (২)। কিন্তু পাঁচ মাস আগে রেশমার স্বামী ফেলে রেখে চলে যায় তার নিজ বাড়ি কুমিল্লায়। এখন কাজ না করলে কে দিবে তার ছেলে জিসানের মুখে ভাত এমন প্রশ্ন রেশমার। সোমবার (২ জানুয়ারী) বিকালে তালা উপজেলার গোনালী আরবিএস ইটের ভাটায় গিয়ে দেখা হয় রেশমার সাথে। ছেলে জিসান কখনও কোলে, কখন কাঁধে। কখনও পিঠে। আর ইট উল্টানোর কাজ তার। এক হাজার ইট উল্টালে পাবে ১০ টাকা। ছোট ছেলেকে নিয়ে কি করবে রেশমা। ভেবেই পারছে না সে। ছোট ভাই মালেক আর রেশমা মিলে ইট উল্টানো কাজ করছে। সাথে সহযোগীতা করছে তার বৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগম। রেশমা জানান, কাজ না করলে কে ক্ষেতে দিবে তাদের। স্বামী চলে গেছে প্রায় পাঁচ মাস। দরিদ্র বাবার সংসারে কত সময় বসে খাওয়া যায়। বাধ্য হয়ে ইটের ভাটায় কাজ নিয়েছি। ছোট ভাইকেও সাথে নিয়ে এসেছি। ও আমার সাথে যা সহযোগিতা করে তা অনেক। ছেলেকে মানুষের মত মানুষ করতে আজ কাজ বেছে নিয়েছি। কাজ করে ছেলেকে মানুষ করবো। ওর বাপ এখন আর কোন খোজ নেয় না। ছোট মালেকের কাছে প্রশ্ন তুমি স্কুলে যাও না ? উত্তরে মালেক বলে,‘আমি কাজ করছি দেখেন না। আপার সাথে কাজ করছি। কখন যাবো স্কুলে।’ রেশমার মা আনোয়ারা বেগম জানান, তার পাঁচ ছেলে মেয়ে। বড় মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। মেজো মেয়ে তার কাছে। ছোট মেয়ে ঢাকায় একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে। দুই ছেলে আর মেজো মেয়ে আমার কাছে থাকে। ওর বাবা এখন আর কাজ করতে পারে না। অনেক কষ্টের মধ্যে দিন পার করতে হয় তাদের। কখনও খাওয়া হয়, কখনও খাওয়া হয় না। শ্রমিক সর্দ্দার ছাত্তার হোসেন জানান, ১০ টাকা হাজারে তারা ইট উল্টানোর কাজ করছে। সপ্তাহে তারা ৬০০/৭০০ টাকা পাবে। ওরা নতুন কাজ শুরু করেছে। সপ্তাহে ওদের টাকা পরিশোধ করা হবে। আরবিএস ভাটার মালিক মুন্না হোসেন জানান, তারা শ্রমিক সর্দার সাত্তারের সাথে চুক্তি করে কাজে এসেছে। কম-পেল কী বেশি পেল সেটা আমাদের বিষয় না।
ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর এবার বাংলাদেশের সামনে টি-টোয়েন্টি মিশন। নিউজিল্যান্ড সফরে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আজ সকালে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রথম টি-টোয়েন্টির জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের দল থেকে বাদ পড়লেন ওয়ানডে স্কোয়াডের মিরাজ ও তানভীর, ঢুকলেন তাইজুল ও শুভাগত হোম। ওয়ানডেতে প্রত্যাবর্তনের পর ২০ ওভারের সিরিজেও আছেন মুস্তাফিজুর রহমান।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কানাডাতে বেগমপল্লি তৈরি হচ্ছে। শুনতে পাই, ক্ষমতাসীনদের সহধর্মিণীরা সেখানে বাড়ি তৈরি করছেন। সিঙ্গাপুরে, ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে, ব্যাংককে, মালয়েশিয়ায় হচ্ছে। এখন টাকা রাখার নাকি জায়গা নেই।’