তালা প্রতিনিধি :
তালায় কপোতাক্ষ নদের উপর মাগুরায় নির্মিতব্য ব্রিজের পিলারের দূরত্ব বৃদ্ধিকরণের দাবিতে পানি কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশান্ত কুমার বিশ^াসের নিকট স্মারকলিপি প্রদানে সময় উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ময়নুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলাউদ্দীন জোয়ার্দ্দার, অধ্যাপক রেজাউল করিম, সাংবাদিক সেলিম হায়দার, এসএম নাহিদ হাসান, সেকেন্দার আবু জাফর বাবু, শিরিনিা খাতুন প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে তালা উপজেলার মাগুরা বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

ব্রিজটি নির্মিত হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। কিন্তু নির্মাণ কাজে যে দূরত্বে পিলার বসানো হচ্ছে তাতে বর্তমান এবং ভবিষ্যতে নদীর নাব্যতা রক্ষা করতে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা রয়েছে। নদীর মধ্যে পিলারের দূরত্ব আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে স্থানীয় জনগণ অভিমত ব্যক্ত করেন। যে কারণে ব্রিজের পিলারের দূরত্ব বৃদ্ধিকরণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নিকট উক্ত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

তালা প্রতিনিধি :
তালায় আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(২৮ ডিসেম্বর) সকালে তালা শিল্পকলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুরশীদা পারভীন পাঁপড়ী, তালা থানার ওসি চৌধুরী রেজাউল করিম,

পাটকেলঘাটা থানার ওসি কাঞ্চন কুমার রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলাউদ্দীন জোয়ার্দ্দার, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু,তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন,জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু, প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সাবেক স্বামীর দেওয়া মিথ্যা মামলার হাত রক্ষা পেতে এক কলেজ শিক্ষিকা সংবাদ সম্মেলন করেছে। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন, কলারোয়া শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতিমা নার্গীস।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, সাবেক স্বামী একই কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক মফিজুর রহমান।

তিনি কলারোয়া উপজেলার তুলশীডাঙ্গা গ্রামের মৃত ইছাক সরদারের পুত্র। তার লম্পট্য, পরসম্পদলোভী স্বভাবের কারনে শারিরীক, মানুষিক নির্যাতন এবং আর্থিক অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২২ তারিখে আদালতের মাধ্যমে তালাক প্রদান করেছি। মফিজুর রহমান সুদখোর হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। নিয়মিত কলেজ ফাঁকি দিয়ে ইচ্ছামত ঘুরে বেড়ায়। আমার মাতা একজন অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

মফিজুর রহমানকে তালাক দেওয়ার পর আমার মায়ের সম্পত্তির লোভে কৌশলে মফিজুর রহমান আমার মাতাকে নিজের বাড়িতে আটকে রেখেছে। তালাক দেওয়ার পর আমাকে জিম্মি করে চেকে স্বাক্ষর করিয়ে তার ডিজঅপনার করিয়ে এপর্যন্ত মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করে যাচ্ছে। ওইসব মামলায় তার ভাই, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং তার ভাড়াটিয়া বাহিনীর লোকজন সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

চেকের মিথ্যা মামলা গুলো হচ্ছে সিআর- ২৮৯/২২, সিআর ২৮৮/২২, সিআর-১৬২৫/২২, সিআর-১৪৯৭/২২ এবং সিআর ১৪৪৩/২২। মফিজুর রহমান ছাত্রজীবনে কলারোয়ার একটি বাড়িতে লজিং থাকতো। অসৎ উদ্দেশ্যে ওই বাড়ির ছাত্রীকে জোরপূর্বক জাপটে ধরলে তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে মফিজুর রহমানকে গাছের সাথে বেধে রাখে। পরে তার মেঝ ভাই আতিয়ার রহমান, ন ভাই আনিসুর রহমান ও ছোট ভাই ডা: শহিদুর রহমান তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে সাতক্ষীরাতে রেখে যান। আমার দুটি কন্যা সন্তানের মধ্যে বড় কন্যা (১৮) কে ২৯/০৭/২১ তারিখে বিবাহ প্রদান করি এবং ছোট কন্যা ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। মফিজুর রহমান আমার মেয়ের জামাতা, মেয়ের শ^শুর এবং আমার বিরুদ্ধে আদালতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে সিআর-১৭/২২ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে ২২২/২২ নং মামলা দায়ের করে হয়রানি করে যাচ্ছে। এছাড়া বিবাহ জালিয়াতি মামলা ননজিআর ১০২/২২(কলারোয়া) এবং ২১৯/২২(সাতক্ষীরা) দুটি মামলা দায়ের করে এবং আরো দুটি জমিজমা সংক্রান্ত মামলা দায়েরসহ মোট ১২টি মিথ্যা মামলা আমার বিরুদ্ধে দায়ের করে আমার মত এক কলেজ শিক্ষিকাকে দিশেহারা করে তুলেছে ওই মামলাবাজ মফিজুর রহমান। একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হওয়া ৭৫টি মামলার বাদী মফিজুর রহমান। তার নিজের ভায়ের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা দায়ের করেছে। তারমধ্যে ৪টি চলমান রয়েছে। মামলা গুলো হচ্ছে- সিআর-১৯৩/২১, সিআর- ৩১৭/২০, সিআর-২৮৭/২০ এবং ০৪/২১। এছাড়াও গতকাল আমার বিরুদ্ধে থানায় আরো একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে মামলাবাজ মফিজুর রহমান আমার মেয়ের জামাতাসহ আমাদের প্রাণনাশের হুমকি ধামকি প্রদশণ করে যাচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় ব্যক্তিকে ব্যবহার করে হয়রানি করে যাচ্ছে। একদিকে আমার বৃদ্ধা মাকে আটকিয়ে রেখেছে অন্যদিকে আমাকেসহ আমার কন্যা এবং তার পরিবারের সদস্যদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ওই মফিজুর রহমানের কবল থেকে আমার মাতাকে উদ্ধার, সকল মিথ্যা মামলার দায় থেকে অব্যহিত পাওয়াসহ নিরাপত্তার দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ক্যাব ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর সাতক্ষীরার যৌথ আয়োজনে ভোক্তার অধিকার শক্তিশালী করনে অংশীজন সভা ম্যানগ্রোভ সভাঘরে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিষয় ভিত্তিক আলোচনা পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: নাজমুল হাসান।

কনজ্যুমারস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ক্যাব সাতক্ষীরা সভাপতি অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অংশীজন সভায় ভোক্তার সার্থ সংরক্ষনে নিজস্ব কার্যক্রম তুলে ধরেন নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষ এর সহকারী পরিচালক মো: মোকলেসুর রহমান, জেলা কৃষি বিপনন কর্মকর্তা এস, এম আব্দুল্লাহ ও খুলনা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: জয়ন্ত সরকার ।

ক্যাব সাতক্ষীরা পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, দৈনিক প্রথম আলোর সাতক্ষীরার নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যান ব্যানার্জী, সনাক সাতক্ষীরার সভাপতি অধ্যক্ষ পবিত্র মোহন দাস, সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এস, এ. এম আব্দুল ওয়াহেদ প্রমুখ। সভায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষনে জনসচেতনা সৃস্টির জন্য যৌথ কর্মসূচির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার জেলা শাখার অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক দ্বীনবন্ধু দাস।

প্রধান অতিথি ছিলেন, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রাণ নাথ দাশ।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এস এম শফি আহমেদ কে সভাপতি এবং সাংবাদিক রশীদুল আলম (রশীদ) কে সাধারণ সম্পাদক ও বিশ^নাথ দাশকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট দেবহাটা উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়্
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বেলাল হোসেন (রাজা), আনোয়ার হোসেন, আ: কাদের, সহিদুল ইসলাম (বাবু), শেখ আছাদুজ্জামান বাবু, সোহরাব হোসেন, ইলিয়াস হোসেন,জিয়াউর রহমান(জিয়া), আফছার শাহাজী, আবু বক্কর, লালু সরদার, মফিজুল, আজগার আলী, আ: গফুর, আ: ছাত্তার, রিপন, আলাউদ্দীন, খোকন সরদার, ময়না ও ফয়সাল প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ প্রচার এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বঙ্গবন্ধু অবদান নতুন প্রজন্মকে অবগত করার জন্য বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত কে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীর উদ্যাত্ত আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

২৮ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখ রোজ বুধবার প্রেস ক্লাব ভবন সাতক্ষীরাতে হোপ ফর দি পুওরেষ্ট (এইচপি) এর সহযোগিতায় সাতক্ষীরা ওয়াস ব্যবসায়ী মহিলা সমবায় সমিতি কর্তৃক আয়োজিত ওয়াস এসডিজি প্রকল্পের অধীনে সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী উদ্যোক্তা জেসমিন আরা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিমা রানী মন্ডল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাবেয়া পারভীন, ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূরজাহান বেগম, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ওয়াস এসডিজি ফোকাল পার্সন মোঃ জিয়াউর রহমান, ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারি পরিদর্শক আসাদুজ্জামান।

পৌরসভার প্রান্তিক এলাকায় ওয়াস সুবিধা বাঞ্চিত মানুষের মাঝে ওয়াস সেবা প্রদানের লক্ষে নারী ওয়াস উদ্যোক্তাদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন বিষয়ে আলোচনা করা হয় সংগঠনের আয় ব্যয় হিসাব, পরবতী বছরের পরিকল্পনা, সদস্য বাড়ানো ও ঋণ বিতরণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া ওয়াস ব্যবসায়ীদের মধ্যে একতা, গুণগতমানের পণ্য উৎপাদন ও ওয়াস বিষয়ক সুবিধা গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সংগঠনের মাধ্যমে পৌরসভার ওয়াস সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মাঝে উন্নত সেবা নিশ্চিত হবে। সভায় এম বেলাল হোসাইন, পিংকী দাশ, তাহেরা পারভীন হীরা, নাছিরা খাতুন, সাবিনা খাতুন, রীমা খাতুন, ফতেমা খাতুন, শাহানারা, মনিরা, ফরিদা খাতুন, মনোয়ারা, ডলি, রাবেয়া, বৃষ্টিসহ অন্যান্য।

এইচপি সংস্থার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মৃনাল কুমার সরকার, ও নন্দিতা রানী দত্ত। উল্লেখ্য এইচপি নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক দাতা সংস্থা সীমাভীর অর্থায়নে সাতক্ষীরা ও কলারোয়া পৌরসভায় ওয়াস বিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ওয়াস উদ্যোক্তা তৈরী এবং সফল ওয়াস ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যা প্রত্যক্ষভাবে এলাকার ওয়াস ব্যবস্থার মান বৃদ্ধি করবে যেটি বাংলাদেশ সরকারের স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন অভিষ্ট ২০৩০ অর্জনে অবদান রাখবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে হিস্টোপ্যাথলজি ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় কলেজের এক্সাম হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ মো. রুহুল কুদ্দুছ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর-২আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি রবি বলেন, “সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের জনসভায় সাতক্ষীরার উন্নয়নে মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন ঘোষণা দিয়েছিলেন। উন্নত চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা এখন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে হিস্টোপ্যাথলজি ল্যাব উদ্বোধণের মধ্য দিয়ে উন্নত চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।

তিনি আরো বলেন, আমি একটি নান্দনিক সুন্দর সাতক্ষীরার স্বপ্ন দেখি। সকলের সহযোগিতায় একদিন এই সাতক্ষীরা হবে বাংলাদেশের সেরা জেলা। এসময় তিনি বিজয়ের মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারবর্গ, জাতীয় চারনেতা, ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ, ২১ ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহিদ, ২১ আগস্ট, ১৫ আগস্টের শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।” বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডাঃ কাজী আরিফ আহমেদ, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ সবিজুর রহমান, সাতক্ষীরা সাচিবের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মনোয়ার হোসেন, গাইনী বিভাগীয় প্রধান ডাঃ শঙ্কর প্রসাদ বিশ্বাস, ডাঃ অভিজিত গুহ, ডাঃ মো. দেলোয়ার হোসেন, হিস্টোপ্যাথলজি ল্যাব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন ডাঃ শাহারিয়ার মামুন ও ডাঃ প্রভাষক সাদিক প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের আরএমও ডাঃ আহমেদ আল- মারুফ, জুনিয়র কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট ডাঃ সুমন কুমার দাস, সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর বিন সেলিম যাদু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শেখ মাহফুজুর রহমান, জেলা মৎস্যজীবীলীগের আহবায়ক মীর শাহিন, যুগ্ম আহবায়ক শেখ তৌহিদ হাসান প্রমুখ। এসময় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তারগণসহ কলেজের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডাঃ সুতপা চ্যাটাজী ও ডাঃ আলমগীর হোসেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বিশেষ ডেস্ক: মেট্রোরেল এখন আর স্বপ্ন নয়। এটি বাস্তব। এক দশকের অপেক্ষার পর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে মেট্রোরেল। কিন্তু এর পেছনের কাহিনি সুখকর নয়। প্রকল্প এলাকায় জনদুর্ভোগ, যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। গন্তব্যে যেতে মানুষের রুদ্ধশ্বাস ছোটাছুটি। এ যেন ঢাকাবাসীর এক ভয়াবহ স্মৃতি। শুধু তাই নয়, মেট্রোরেল প্রকল্পে কর্মরত সাত জাপানির মৃত্যুও ছিল এক দুঃসহ ঘটনা। আজ এসব দুর্ভোগ ঠেলে আরও এক স্বপ্ন স্পর্শ করতে চলেছে বাংলাদেশ।

রাতের ঘুম ভেঙে বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে সেই স্বপ্ন বাস্তবে দেখবে ঢাকাবাসী। এদিন মেট্রোরেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে সাধারণ যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে মেট্রোরেল। প্রাথমিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে এটি। পুরোদমে চালু হলে মেট্রোরেল ঘণ্টায় ৬০ হাজার ও দৈনিক পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।

মূলত মেট্রোরেল নির্মাণ হবে রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত। এ জন্য ২০১২ সালের জুলাই মাসে মেট্রোরেল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এটি বাস্তবায়নের প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। যদিও পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু তার আগেই মেট্রোরেলের একটি অংশ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন:

২০১৭ সালের ৩ আগস্ট মেট্রোরেল প্রকল্পের পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনের সামনের সড়কে এর উদ্বোধন করা হয়। শুরুতে ওবায়দুল কাদের মেট্রোরেলের মূল কাজের ফলক উন্মোচন করেন। এরপর নিজেই চেপে বসেন পাইলিং মেশিনে।

মেট্রোরেল নির্মাণে অন্যতম সহযোগী জাপান:

এমআরটি লাইন-৬ এর উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার (২১,২৬ কিলোমিটার)। এর মোট ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকার ঋণ থেকে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

মেট্রোরেল প্রকল্পের মেয়াদকাল:

প্রথমে প্রকল্পটির মেয়াদকাল ছিল ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে কাজ বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প শেষ করতে সময় লাগবে আরও এক বছর ছয় মাস। সেক্ষেত্রে এটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেড়েছে।

মেট্রোরেলের স্টেশন সংখ্যা:

মেট্রোরেলের মোট স্টেশন ১৭টি। এগুলো হলো উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর ১১, মিরপুর ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, মতিঝিল এবং কমলাপুর।

মেট্রোরেলের প্রথম টিকিট কাটবেন প্রধানমন্ত্রী:

মেট্রোরেলের প্রথম টিকিট নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজে টিকিট কেটে উত্তরা থেকে আগারগাঁও আসবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মেট্রোরেলে চড়বেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী এবং জাইকার কর্মকর্তারা। এছাড়া মেট্রোরেল নিয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠান হবে, সেখানেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

মেট্রোরেলের টিকিট ও কার্ড সংগ্রহ করবেন যেভাবে:

মেট্রোরেলের টিকিটেও আধুনিকতার ছোঁয়া থাকছে। এখানে কাগজের টিকিট থাকবে না। স্টেশন থেকেই কার্ড কিনে যাতায়াত করতে হবে। প্রথম দিকে দুই ধরনের কার্ড পাওয়া যাবে। স্থায়ী ও এক যাত্রার (সিঙ্গেল জার্নি) কার্ড। শুরুতে উত্তরা ও আগারগাঁও স্টেশন থেকে কার্ড সংগ্রহ করা যাবে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ভাড়া ৬০ টাকা।

১০ বছর মেয়াদি স্থায়ী কার্ড কিনতে লাগবে ২০০ টাকা। এই কার্ড দিয়ে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনমতো টাকা রিচার্জ করা যাবে। তবে স্থায়ী কার্ড পেতে আগে থেকে নিবন্ধন করতে হবে। বৃহস্পতিবার ডিএমটিসিএলের ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের লিংক দেওয়া হবে। এদিন থেকে করা যাবে নিবন্ধন। নিবন্ধন করতে নিজের নাম, মাতা–পিতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বর, মুঠোফোন নম্বর ও মেইল আইডি লাগবে।

স্টেশনের টিকিট অফিস মেশিন (টিওএম) থেকে বিক্রয়কর্মীর সহায়তায় কেনা যাবে কার্ড। এছাড়া ভেন্ডিং মেশিন থেকে যাত্রী নিজেই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

এক যাত্রার (সিঙ্গেল জার্নি) কার্ডের জন্য নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না। স্টেশন থেকে এই কার্ড কিনে যাত্রা করা যাবে। ট্রেন থেকে নামার সময় কার্ড রেখে দেওয়া হবে। সিঙ্গেল রাইডের কার্ডে নির্ধারণ থাকবে সময়। এরপর এই কার্ড আর কার্যকর থাকবে না। তবে যারা এটিএম কার্ড নিয়মিত ব্যবহার করেন, তাদের জন্য মেট্রোরেলের সেবা নেওয়া সহজ হবে। কারণ মেট্রোরেলের টিকিট, কার্ড ও টাকা জমা দেওয়ার পদ্ধতি একই ধরনের।

থাকছে না হাফ ভাড়া:

মেট্রোরেলে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া থাকবে না। যারা র‌্যাপিড পাস কিনবেন তারা ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। তিন ফুটের কম উচ্চতার শিশুরা বাবা-মায়ের সঙ্গে ভ্রমণ করলে ভাড়া ফ্রি।

নারী ও বয়স্কদের জন্য আলাদা কোচ বরাদ্দ:

মেট্রোরেলে প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য একটি করে কোচ বরাদ্দ থাকবে। ওই কোচে সর্বোচ্চ ৩৯০ জন নারী একই সময়ে যাতায়াত করতে পারবেন। পাশাপাশি অন্য কোচেও যাতায়াত করতে পারবেন নারীরা। অন্তঃসত্ত্বা ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য মেট্রোরেলের কোচের আসন সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য মেট্রোর সব সেবায়ই রাখা হয়েছে বিশেষ সুবিধা।

মেট্রোরেলের আসন সংখ্যা:

আপাতত ছয় কোচবিশিষ্ট ২৪ সেট চালু থাকবে। তবে ভবিষ্যতে আট কোচে উন্নীত করা যাবে। মাঝের চারটি কোচের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৩৯০ জন, ট্রেইলর কোচের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৩৭৪ জন যাত্রী পরিবহন করা যাবে। ছয় কোচবিশিষ্ট মেট্রোরেলে মোট আসন সংখ্যা ৩০৬টি। মাঝের চারটি কোচের প্রতিটিতে আসন সংখ্যা ৫৪টি, ট্রেইলর কোচের প্রতিটিতে আসন সংখ্যা ৪৫টি।

মেট্রোরেলের যাত্রীদের জন্য বিআরটিসির বাস:

যাত্রীদের স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩০টি দ্বিতল বাসের ব্যবস্থা করেছে বিআরটিসি। যার মধ্যে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বিআরটিসির ২০টি দ্বিতল বাস চলবে। আর উত্তরার হাউজ বিল্ডিং থেকে ১০টি দ্বিতল বাস চলবে দিয়াবাড়ীর মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশন পর্যন্ত।

বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগর পরিবহনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যে ভাড়ার হার নির্ধারণ করে দিয়েছে, বিআরটিসির বাসে সেই ভাড়াই নেওয়া হবে।

নিহত জাপানি নাগরিকের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত:

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। সেদিন জঙ্গিরা ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। এর মধ্যে সাতজন জাপানি নাগরিক। তারা মেট্রোরেল প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। তাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ করা হয়েছে। এমআরটি লাইন-৬ এর উত্তরা ডিপো এলাকায় মেট্রোরেল এক্সিবিশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারে এই স্মৃতিস্তম্ভ করা হয়।

নিহত সাত জাপানি প্রকৌশলীরা হলেন তানাকা হিরোশি, ওগাসাওয়ারা, শাকাই ইউকু, কুরুসাকি নুবুহিরি, ওকামুরা মাকাতো, শিমুধুইরা রুই ও হাশিমাতো হিদেইকো।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের রুট বৃদ্ধি:

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার। কমলাপুর রেলস্টেশনের সঙ্গে মেট্রোরেলের সংযোগ স্থাপনের জন্যই প্রধানমন্ত্রী রুট বাড়ানোর নির্দেশনা দেন। এরই মধ্যে বাড়তি অংশে ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণ এবং ই অ্যান্ড এম সিস্টেম সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এদিকে এক সংবাদ সম্মেলন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আগারগাঁও থেকে দিয়াবাড়ী পর্যন্ত চলবে ট্রেন। এই রুটে মাঝের কোনো স্টেশনে আগামী তিন মাস যাত্রী ওঠানামা করানো হবে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest