সর্বশেষ সংবাদ-
তালায় লার্নিং শেয়ারিং ওয়ার্কশপসাতক্ষীরায় ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার : ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৮সাতক্ষীরায় খাদ্য মোড়কে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবিতে স্মারকলিপিসাতক্ষীরায় দুর্ধর্ষ ডাকাত ইয়ার আলীর দুই সহযোগী গ্রেফতারসাতক্ষীরা‌র গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে‌ পিআইবির দুই দিনের নির্বাচনকালীন প্রশিক্ষণসাতক্ষীরায় -৭নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৮ দফার বার্তাসাতক্ষীরা জেলা রোভার স্কাউটসের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতাসাতক্ষীরায় তারেক রহমানের ৮ দফার লিফলেট ছড়িয়ে দিল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’সাতক্ষীরায় রাইচ মিলের কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে অতীষ্ট এলাকাবাসী: ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সড়ক অবরোধপ্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ পটভূমি ও লোকজ ধারার ছবি

বিনোদনের খবর: একসময় বাংলাদেশে গ্রামীণ পটভূমি ও ফোক তথা লোকজ ধারার চলচ্চিত্র ছিল বেশ জনপ্রিয়। নব্বই দশকেও এ ধরনের চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। ব্যবসায়িক লাভের কথা চিন্তা করে নির্মাতারা বেশ আগ্রহ নিয়ে এ ধরনের ছবি নির্মাণ করতেন।

কিন্তু কালক্রমে লোকজ ধারার ছবি ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে লুপ্তপ্রায়। কালেভদ্রে দু-একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হলেও এখনকার দর্শকরা সেভাবে এসব চলচ্চিত্র নিচ্ছেন না। কিন্তু কেন?

বাংলাদেশি তথা সার্বজনীন চলচ্চিত্রের বিভিন্ন রকমভেদ রয়েছে। যেমন- সামাজিক, অ্যাকশন, কমেডি কিংবা ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র। এর মধ্যে কিছু তৈরি হয় শহরকেন্দ্রিক। আবার কিছু গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত।

এরকম ভেদে একসময় সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র। এ ধরনের চলচ্চিত্রে নিখুঁতভাবে সমাজ ও পরিবেশ-মাটি ও মানুষের কথা চিত্রাকারে নিহিত থাকে।

গ্রামীণ মানুষের জীবনীগাথা এসব চলচ্চিত্রে দুঃখ-কষ্ট-সুখের সঙ্গে দর্শকরা নিজেদের একাত্ম করে নেন বলেই এসব ছবির জনপ্রিয়তা নব্বইয়ের দশকেও ছিল তুঙ্গে। ওই সময় ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে ১০টি ব্যবসাসফল ছবির মধ্যে অন্তত ৬টিই ফোক ধাঁচের চলচ্চিত্র। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ছবির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এর বড় একটা অংশজুড়ে আছে ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র। এক সময়কার জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের তালিকা করলে লোকজ ঘরানার নামই আসবে আগে।

বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের সূচনা যুগ অর্থাৎ ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত যেসব ছবি নির্মিত হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাই সে সময়কার গ্রামীণ আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্মিত।

এ সময়কার চলচ্চিত্রগুলোকে একার্থে সামাজিক ফোক ধাঁচের চলচ্চিত্র বলা যায়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ লোকজ ধারার চলচ্চিত্রের ধারা প্রচলিত হয় ‘রূপবান’ দিয়ে। ১৯৬৫ সালে পরিচালক সালাহউদ্দিন নির্মাণ করলেন বহুল প্রচলিত লোকগাথা নিয়ে চলচ্চিত্র ‘রূপবান’।

এটি বাংলা ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোকে ব্যর্থতার গহ্বর থেকে টেনে তুললেন এক নিমিষে। এ দেশের লোককাহিনী, কথামালা, লোকসঙ্গীত ও লোক বিশ্বাসগুলোই এ দেশের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। অসংখ্য লোকগানের মধ্য দিয়ে বিধৃত এ কাহিনী ছিল বাংলার প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে।

১২ বছরের রূপবানের সঙ্গে রাজপুত্র রহিম, যে কিনা সদ্য জন্মলাভ করেছে, তার বিয়ের মাধ্যমে এ কাহিনীর বিস্তৃতি লাভ ঘটে। তারপর দৈব বাণীর কল্যাণে ১২ দিনের স্বামী রহিমকে নিয়ে ১২ বছরের রূপবানের বনবাস। রূপবানের বনসংগ্রামী জীবন, রহিম বাদশার বেড়ে ওঠা, অপর রাজকন্যা তাজেলের প্রেমে পড়া, পরিশেষে অমোঘ সত্য প্রকাশিত হওয়ার বিষয়াদিই রূপবান লোককাহিনীর উপজীব্য।

রূপবানের সফলতায় শুরু হয় বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন একটি অধ্যায়। ১৯৬৬ সালে ইবনে মিজান ‘রূপবান’ চলচ্চিত্রের সিক্যুয়ালের মতো করে আবার ‘বনবাসে রূপবান’ নির্মাণ করেন ও ব্যবসায়িক সাফল্য পান।

ঠিক তখন থেকেই চলচ্চিত্রে কিস্তি অর্থাৎ সিক্যুয়াল ধারা শুরু হয়। আবার এ ধারাটির জন্মও কিন্তু লোকজ ঘরানার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এর পর ১৯৬৬ সালে নজরুল ইসলাম ‘আপন দুলাল’, ইবনে মিজান ‘জরিনা সুন্দরী’, সৈয়দ আউয়াল ‘গুনাই বিবি’, আলি মনসুর ‘মহুয়া’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। রূপবান ছবির অর্থনৈতিক সাফল্যের কারণে পরে ফোক ও ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসে একটি স্বকীয় জায়গা করে নিতে সমর্থ হয়েছে।

পরে ১৯৮৬ সালে নির্মিত মতিউর রহমান বাদলের ‘দুলারী’, জিল্লুর রহমানের ‘আয়নামতি’, আবদুস সামাদের ‘শিরি ফরহাদ’, মতিউর রহমান পানুর ‘নাগমহল’, ১৯৮৭ সালে নির্মিত এমএ মালেকের ‘চাঁদ সওদাগর’, এফ কবীর চৌধুরীর ‘বাহাদুর মেয়ে’, আবুল খায়ের বুলবুলের ‘জারকা’, মাহমুদ হান্নানের ‘মালা বদল’, মতিউর রহমান বাদলের ‘চন্দ্রাবতী’, নুর হোসেন বলাইয়ের ‘নাগ কন্যার প্রেম’, ইবনে মিজানের ‘রঙিন রাখাল বন্ধু’, ‘রাজবধূ’, এমএ মালেকের ‘রাজমাতা’, রফিকুল বারী চৌধুরীর ‘চণ্ডীদাশ রজকিনী’, শেখ নজরুল ইসলামের ‘দিদার’, ইবনে মিজানের ‘বাহাদুর নওজোয়ান’, ‘বসন্ত মালতী’, শামসুদ্দিন টগরের ‘সতী কমলা’, মিজান চৌধুরীর ‘রঙিন সাত ভাই চম্পা’, মতিউর রহমান বাদলের ‘শাহ জামাল’, শামসুদ্দিন টগরের ‘মহুয়া সুন্দরী’, আজিজুর রহমানের ‘কাঞ্চন মালা’, শফিউল আলমের ‘অরুণ বরুণ কিরণ মালা’, ১৯৮৮ সালে নির্মিত চাষী নজরুলের ‘বেহুলা লখিন্দর’ ১৯৮৯ সালে একই নির্মাতার ‘সোনার নাও পবনের বৈঠা’, সাইদুর রহমানের ‘আলোমতি প্রেম কুমার’ চলচ্চিত্রগুলোও দর্শকনন্দিত ও ব্যবসাসফল।

তবে তারও আগে, ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশি বাংলা ভাষার রোমান্টিক ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র ‘সুজন সখী’ ব্যবসায়িকভাবে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছবিটির কাহিনী ও সংলাপ লিখেছেন আমজাদ হোসেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে দুই ভাইয়ের আলাদা হয়ে যাওয়া ও তাদের মিলনের গল্প তুলে ধরা হয় এ চলচ্চিত্রে।

এতে নাম চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক ও কবরী। গ্রামীণ লোকগাথায় মৌলিক গল্পভিত্তিক নির্মিত এ চলচ্চিত্রের ‘সব সখীরে পার করিতে নেব আনা আনা’ গানটি এ চলচ্চিত্রকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়। এটি আজও দর্শক মহলে সাড়া জাগানোর দাবিদার।

উল্লেখ্য, ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরকে নিয়ে পরিচালক শাহ আলম কিরণ ১৯৯৪ সালে ছবিটি পুনর্নির্মাণ করেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের গল্পে নির্মিত হয় ‘সারেং বউ’।

চলচ্চিত্রটিকে ফোক ঘরানার ছবির তালিকায় সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ছবি বলেও থাকেন অনেকে। ছবিতে অভিনয় করেছেন ফারুক, কবরী, আরিফুল হক, জহিরুল হক, বিলকিস, বুলবুল ইসলাম, ডলি চৌধুরী প্রমুখ।

এ ছবিতে আবদুল জব্বারের গাওয়া ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি আজও মানুষের মুখে মুখে মুখরিত। তবে উপমহাদেশে সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যবসাসফল লোকজ ঘরানার চলচ্চিত্র হচ্ছে তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’।

এটি বাংলাদেশের নির্মল প্রেম ও ফোক ঘরানার চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এক বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ইলিয়াস কাঞ্চন ও অঞ্জু ঘোষ অভিনীত এ চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ব্যবসাসফল ছবি। তা ছাড়া উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসেও ব্যবসাসফল প্রথম দশটি চলচ্চিত্রের মধ্যে একটি।

পরে আরও বেশ কিছু ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। গল্প ও কাহিনীর দুর্বলতার কারণে অনেক চলচ্চিত্র তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। তবুও কিছু চলচ্চিত্র দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও লোকজ ঘরানার চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ছিল।

২০০৫ সালে জনপ্রিয় নাট্যনির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু নির্মাণ করেন গ্রামীণ মানুষদের সাধারণ জীবনযাপন ও লোকগাথা নিয়ে ‘মোল্লা বাড়ির বউ’ নামে ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র। সম্পূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক কুসংস্কার বেড়াজালের গল্প নিয়ে নির্মিত হয় এটি।

ছবিতে প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেন এটিএম শামসুজ্জামান, মৌসুমী, রিয়াজ, শাবনূর ও প্রাণ রায়। এতে হাসি আর কান্নার কিছু রেশ থাকার কারণে, বাংলাদেশের কৌতূহলী দর্শকদের দারুণ আনন্দ দিতে সক্ষম হয়।

২০০৭ সালে একে সোহেল পরিচালিত ‘খাইরুন সুন্দরী’ নামে ফোক ঘরানার একটি চলচ্চিত্রও দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন মৌসুমী। তার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস। ছবিটি ওই সময় রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করে।

একই সঙ্গে ছবিতে মমতাজের গাওয়া ‘খাইরুন লো তোর লম্বা মাথার কেশ’ শিরোনামের গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। অজপাড়া গাঁয়ের একজন নারীর প্রতি তার স্বামীর ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিয়ে নির্মিত এ ছবিতে গ্রামীণ নারীরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কেমন করে স্বামীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে করুণ পরিণতি বরণ করে নেয় তারই একটি গল্প ছিল এখানে।

২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ চলচ্চিত্রটিও লোকজ ধারার চলচ্চিত্রের ইতিহাসের আরেকটি মাইলফলক। গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটিও ব্যাপক ব্যবসাসফল হয়। এতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও ফারহানা মিলি।

এ চলচ্চিত্রের আরেক অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর কণ্ঠে ‘নিথুয়া পাথারে’ গানটিও এখনও শ্রোতাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়। বলা চলে, ৬০ থেকে ৯০ দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের এমন কোনো জনপ্রিয়, সফল তারকা নেই, যিনি ফোক ঘরানার ছবিতে অভিনয় করেননি। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে যত নায়কই সুখ্যাতি অর্জন করেছেন তার অধিকাংশই ফোক ঘরানার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে লোকজ সংস্কৃতি নেই বললেই চলে। কিছু কিছু চলচ্চিত্রে কয়েকটি দৃশ্যে সামাজিক চালচিত্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেখা গেলেও সেটা একেবারেই অপ্রতুল। গ্রামের সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় বেঁচে থাকা রূপকথাগুলোও গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ, মন ও সমাজতাত্ত্বিক নানা ব্যাখ্যা থাকলেও এসব চলচ্চিত্র নির্মাণ ও এর চাহিদা এ দেশে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

কিন্তু এ ধরনের ছবি নির্মাণে বর্তমান নির্মাতাদের মধ্যে কোনো আগ্রহই লক্ষ্য করা যায় না। দু-একটি যা-ও নির্মিত হয় সেগুলোও দেখার মতো হয় না। এখন বাংলাদেশে লোকজ ধাঁচের চলচ্চিত্র নির্মাণের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়। চলচ্চিত্রের বর্তমান যুগকে লোকজ ঘরানার চলচ্চিত্রের আকাল বলেও উল্লেখ করেছেন অনেকেই।

লোকজ ধারার চলচ্চিত্রের প্রতি নির্মাতা এবং দর্শকদের অনাগ্রহ কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে গুণী নির্মাতা ছটকু আহমেদ বলেন, ‘লোকগাথা ছবি মানে প্রাণের ছবি। এমন ছবি এখন নির্মাণ করার মতো নির্মাতা বা মানসিকতা কারও আছে বলে মনে হয় না। সবাই আধুনিক হয়ে গেছে।

ফোক ধাঁচের ছবি এখনকার দর্শকের কাছে হাস্যকর মনে হয়। এ ধরনের ছবি নির্মাণ করা মানে রীতিমতো গবেষণা করা। আর গবেষণা করার সময় এখন মানুষের নেই। সবাই এখন কপি পেস্টের মধ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে ফেলেছে। বর্তমানে যেসব ছবি নির্মিত হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে মাটির গন্ধ, জীবনের রস একেবারেই শূন্যের কাছাকাছি।

এ প্রসঙ্গে ইতিহাস সৃষ্টিকারী ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ ছবির নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘একটা ছবির গল্প এবং সে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে কয়েকটি গান একটি ছবিকে সব দিক দিয়ে সফলতা এনে দেয়। আর যে ছবি মাটি মানুষের কথা বলবে সে ছবি অবশ্যই মানুষ দেখবে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মানুষ ফোক ঘরানার ছবিই বেশি দেখে। আর এ যাবৎ জনপ্রিয় অভিনেতারা কিন্তু ফোক ঘরানার ছবিতে অভিনয় করেই খ্যাতি অর্জন করেছেন।

বর্তমানে নির্মাতাদের উচিত প্রযুক্তিগত সহজলভ্যতা কাজে লাগিয়ে মৌলিক ফোক ফ্যান্টাসি ছবি বানানো। নির্মাতাদের ভাবা উচিত আমাদের দেশে গ্রামের মানুষ এখনও ছবি দেখেন। আর গ্রামের মানুষ মূলত ফোক এবং এ ঘরানার প্রেমের ছবি দেখেন। দর্শকদের চাহিদার কথা ভেবে ফোক ঘরানার ছবি নির্মাণের দিকে নজর দিতে হবে সবাইকে।’

লোকজ ঘরানার ছবি প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘যুগ বদলে গেছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বেড়েছে। সে সঙ্গে ছবির ধারাও বদলে গেছে। সবাই এখন মুনাফার চিন্তা করেন। কিন্তু আমি বলব, ব্যবসা সফল ছবি মূলত ফোক ঘরানার ছবিই। হিসাব করলে দেখা যাবে, বেশিরভাগ পরিচালক ও নায়ক-নায়িকা ফোক ঘরানার ছবিতে কাজ করেই সুপরিচিত হয়েছেন। প্রযোজক তার লগ্নি করা টাকা ফোক ছবির মাধ্যমে উঠিয়েছেন।

এসব গোপন কিছু নয়। তবুও চলচ্চিত্রে ফোক ছবির আকাল পড়েছে। এখন লোকগাথা ছবি নির্মাণ করার মতো উপযুক্ত গল্পকার নির্মাতারও অভাব রয়েছে। দর্শকদের চাহিদা থাকলেও লোকগাথা ছবি নির্মিত না হওয়ার এটিও একটি কারণ।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
থানকুনি পাতা খেলে ১০টি রোগের উপশম হয়

স্বাস্থ্য কণিকা: থানকুনি পাতা। আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। এর ল্যাটিন নাম (centella aciatica)। গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার আদি আমল থেকেই চলে আসছে। ছোট্ট প্রায় গোলাকৃতি পাতার মধ্যে রয়েছে ওষুধি সব গুণ। থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময়ে অতুলনীয়।প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বহু রোগের উপশম হয় এর ভেষজ গুণ থেকে। খাদ্য উপায়ে এর সরাসরি গ্রহণ রোগ নিরাময়ে থানকুনি যথার্থ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলাবেগুন, নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে সবাই চেনে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করে, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন…

১. চুল পড়ার হার কমে:
নানা সময়ে হওয়া বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে ২-৩ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে চুল পড়ার মাত্রা কমতে শুরু করে। চুল পড়ার হার কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। কীভাবে? পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা নিয়ে তা থেঁতো করে নিতে হবে। তারপর তার সঙ্গে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা এবং আমলা মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। সবশেষে পেস্টটা চুলে লাগিয়ে নিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ১০ মিনিট পরে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে কম করে ২ বার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

২. টক্সিক উপাদানেরা শরীর থেকে বেরিয়ে যায়:
নানাভাবে সারা দিন ধরে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে, রক্তে প্রবেশ করে। এইসব বিষেদের যদি সময় থাকতে থাকতে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ! আর এই কাজটি করে থাকে থানকুনি পাতা। কীভাবে করে? এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বেরিয়ে যায়। ফলে একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়।

৩. ক্ষতের চিকিৎসা করে:
থানকুনি পাতা শরীরে উপস্থিত স্পেয়োনিনস এবং অন্যান্য উপকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এবার থেকে কোথাও কেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অল্প করে থানকুনি পাতা বেঁটে লাগিয়ে দেবেন। দেখবেন নিমেষে কষ্ট কমে যাবে।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:
থানকুনি পাতা হজম ক্ষমতারও উন্নতি হবে। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে টিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।

৫. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:
থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্য়াটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

৬. আমাশয়ের মতো সমস্যা দূর হয়:
এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে হবে। এমনটা টানা ৭ দিন যদি করতে পারেন, তাহলেই কেল্লাফতে! এই ধরনের সমস্যা কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। প্রথমে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা বেটে নিন। তারপর সেই রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মেশান। এই মিশ্রনটি দু চামচ করে, দিনে দুবার খেলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

৭. পেটের রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে:
অল্প পরিমাণ আম গাছের ছালের সঙ্গে ১ টা আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা ভাল করে মিশিয়ে ভাল করে বেটে নিন। এই মিশ্রনটি নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই যে কোনও ধরনের পেটের অসুখ সেরে যায়। সেই সঙ্গে ক্রিমির প্রকোপও কমে।

৮. কাশির প্রকোপ কমে:
২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যায়। আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে কাশির কোনও চিহ্নই থাকবে না।

৯. জ্বরের প্রকোপ কমে:
সিজন চেঞ্জের সময় যারা প্রায়শই জ্বরের ধাক্কায় কাবু হয়ে পারেন, তাদের তো থানকুনি পাতা খাওয়া মাস্ট! কারণ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে জ্বরের সময় ১ চামচ থানকুনি এবং ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরা যায়। সেই সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতাও কমে।

১০. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়:
অসময়ে খাওয়ার কারণে ফেঁসেছেন গ্যাস্ট্রিকের জালে? নো প্রবেলম! থানকুনি পাতা কিনে আনুন বাজার থেকে। তাহলেই দেখবেন সমস্যা একেবারে হাতের মধ্যে চলে আসবে। আসলে এক্ষেত্রে একটা ঘরোয়া চিকিৎসা দারুন কাজে আসে। কী সেই চিকিৎসা? হাফ লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রন তৈরি করে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রন থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা এক সপ্তাহ করলেই দেখবেন উপকার মিলবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দিশার ক্যারিয়ারের সিঁড়ি সালমান

বিনোদনের খবর: এখন পর্যন্ত ৫টি সিনেমা ক্যারিয়ারের ঝুলিতে জমা পড়েছে দিশা পাটানির। এরমধ্যে ‘ভাগি টু’ দিয়ে ক্যারিয়ারের মোড় কিছুটা ঘুরেছে তার। তবে বলিউড নায়িকাদের ক্যারিয়ারে ওপরে ওঠার অন্যতম সিঁড়ি ‘খান’রা।
আমির খান, শাহরুখ খান বা সালমান খান, যে কারো সাথে পর্দা ভাগাভাগি মানে ক্যারিয়ারে বাজীমাত। দিশারও ক্যারিয়ারের ৬ নম্বর ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে সালমান খানের সাথে। আর এ নিয়ে শুরু থেকেই দিশার কদর যেন বেড়ে গেল। সালমান খানের পরবর্তী সিনেমা ‘ভারত’-এ দেখা যাবে দিশাকে। সিনেমার শুটিংয়ে সালমানের সাথে অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে দিশা বলেন, ‘সালমান খান অসাধারণ একজন মানুষ। এছাড়াও দারুণ একজন সহ-অভিনেতা। পুরো শুটিং থেকে তার কাছ থেকে শেখার অনেককিছু ছিল। এটা এক কথায় চমৎকার অভিজ্ঞতা।’ ‘ভারত’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন আলী আব্বাস জাফর। যেখানে দিশা ছাড়াও আরো দেখা যাবে ক্যাটরিনা কাইফকে।
নিজের অভিনয় প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে দিশা বলেন, ‘আমি নিজের অভিনয় বিচার করতে পারবো না। অভিনয় নিয়ে কথা বলতে আমার লজ্জাও করে। তাই সবার সাথে বসে আমার সিনেমাও দেখি না।’ গণমাধ্যমে দেওয়ার এই সাক্ষাৎকারে দিশা তার ফ্যাশন বিষয়েও কথা বলেন। দিশা বলেন, ‘আমি ফ্যাশন সচেতন নই। যা পরে আরাম পাই সেটিই পরি। এ নিয়ে আমার বাড়তি কোনো সময় ব্যয় করি না।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা নির্মূলকে গণহত্যার স্বীকৃতি দাবি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের

অনলাইন ডেস্ক: মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও সরকার কর্তৃক সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংস অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি করেছেন মার্কিন আইন প্রণেতারা।
রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের দুদিন পর বুধবার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি এ আহ্বান জানান মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্যরা। কারণ ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরোচিত ও নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ওপর শুনানিকালে কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়সি বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে এ অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া। আন্তর্জাতিক গণসচেতনতা বৃদ্ধি, সমর্থন ও তাদের থামাতে এ নৃশংসতাকে সংজ্ঞায়িত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শুনানিতে এড রয়সির বিবৃতির ওপর মন্তব্য জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া দেয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের দুদিন পর বার্মিজ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা শিরোনামে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যা, গণধর্ষণ ও অন্যান্য নৃশংসতার জন্য সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযান চালিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। দেশটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ন্যায্যতা হিসেবে ওই প্রতিবেদন ব্যবহার করার সম্ভাবনা থাকলেও তাতে রাখাইনে অভিযানকে গণহত্যা কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি।
প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ইলিয়ট অ্যাঞ্জেল বলেন, মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বিচারের সুপারিশসহ প্রশাসনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
চলতি মাসের শুরুতে আইসিসি জানিয়েছে, জোরপূর্বক দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধ কিংবা গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানসহ কংগ্রেসের বহু সদস্য এ সংকটে জোরালোভাবে সাড়া দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন সরকার এ অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ওয়াশিংটনের আইনগত উপলক্ষ তৈরি হবে। কিন্তু এ ধরনের মূল্যায়ন দাঁড় করাতে ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকেই বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
কিন্তু প্রশাসনের ওপর কংগ্রেস সদস্যদের পক্ষ থেকে চাপ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রয়সির মতো রিপাবলিকানরা এ সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করতে সাহায্য করতে পারেন।
এ ছাড়া রয়টার্সের দুই প্রতিবেদক ওয়া লোন ও কেইয়াও সোকে মুক্তি দিতে চাপ প্রয়োগ করতে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
ঔপনিবেশিক আমলের গোপনীয়তা আইনে এ দুই সাংবাদিককে দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মিয়ানমারের একটি আদালত। যে ঘটনাকে দেশটির গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করা ওই সাংবাদিক বলেন, গ্রেফতার করার আগে পুলিশ তাদের হাতে কয়েকটি কাগজ ধরিয়ে দিয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ সাক্ষাও দিয়েছে যে এটি ছিল সাজানো ঘটনা।
বিদ্রোহীদের হামলার সামরিক বাহিনীর জবাবে ১০ রোহিঙ্গা পুরুষ ও কিশোরকে হত্যার ঘটনায় ওই দুই সাংবাদিক তদন্ত করেছিলেন।

গত বছরের ২৫ আগস্টের পর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছেন। কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন সময়ে আসা আরও চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আইসক্রিমের নামে বিষ খাচ্ছে শিশুরা

অনলাইন ডেস্ক: ময়মনসিংহের একাধিক ভেজালবিরোধী অভিযানে গ্রামের আইসক্রিম কারখানাগুলোতে নানা ধরনের বিষাক্ত উপাদান পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গরমের সময় জেলার বিভিন্ন উপজেলা সদরসহ গ্রাম এলাকার বিভিন্ন হাটবাজারে আইসক্রিম কারখানাগুলো তাদের ব্যবসা করে। মালাই, নারিকেল, দুধ, লেমন আইসক্রিম নামে কমবেশি দামে এসব দেদার বিক্রি হয়। গরমের কারণে বিদ্যালয় অথবা এলাকার শিশুরা এসব আইসক্রিম ব্যাপকভাবে খেয়ে থাকে।

বাস্তবে এসব আইসক্রিম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে। দূষিত পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, এগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে ঘন চিনি, কাপড়ের রং, চক পাউডারসহ নানা ক্ষতিকর উপাদান। সর্বশেষ নারিকেলি আইসক্রিমে পাওয়া গেছে প্লাস্টিকের গুঁড়া।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর গৌরীপুর উপজেলার গাজীপুরে জেলিট আইসক্রিম কম্পানিতে অভিযান চালায় জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সেখানে আইসক্রিমে ভয়ংকর ক্ষতিকর উপাদানের প্রমাণ মেলে। দেখা যায়, চিনির বদল ঘন চিনি ব্যবহার করা হচ্ছে। কাপড়ের সবুজ রং মেশানো হচ্ছে আইসক্রিমে। চক পাউডার দিয়ে দুধ বানানো হচ্ছে। নারিকেলের গুঁড়ার সঙ্গে মেশানো হচ্ছে প্লাস্টিকের গুঁড়া। ময়মনসিংহের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানাও করেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনবল স্বল্পতার কারণে ভেজাল আইসক্রিম কারখানায় নিয়মিত নজরদারি করা যায় না। আর সচেতনতার অভাবে শিশুরা এসব খাবার খেতে ভালোবাসে। তাই অসৎ ব্যবসায়ীরা দেদার এসব ক্ষতিকর আইসক্রিম বিক্রি করে যাচ্ছে। গত ছয় মাসে যতগুলো আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়েছে, এর সবগুলোতে ক্ষতিকর উপদান পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রব বলেন, ‘এসব আইসক্রিম ক্যান্সারসহ পেটের অসুখ, কিডনি ও লিভারের নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে। অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এ ছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে।’

ময়মনসিংহের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন আইসক্রিম কম্পানিতে ভেজালবিরোধী অভিযান চালাচ্ছি। ভবিষ্যতে এটা আরো জোরদার করা হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফাইনালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

খেলার খবর: ১৪তম এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে মাঠ নামবে বাংলাদেশ। এজন্য দল নির্বাচন নিয়ে চলছে চূড়ান্ত কাটাছেঁড়া।
প্রতি ম্যাচেই ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। এর ফলে মুশফিক, নয় মাহমুদউল্লাহকে এসে দলের হাল ধরতে হচ্ছে।
ওপেনিংয়ে নতুনরা বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন। এ কারণে সিনিয়র মুমিনুলকে দুই ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হলেও আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তিনি। অপরদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে সৌম্য সরকারকে ওপেনিংয়ে নামানো হলে তিনিও ব্যর্থ হন। তাই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এই দুই মুখের যেকোনো একজনকে বাদ পড়তে হতে পারে। সেক্ষেত্রে মুমিনুলের বাদ পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কারণ সৌম্যকে দিয়ে বল করাতে পারে বাংলাদেশ।

সূত্রে আরো জানা গেছে, একজন বোলার বেশি নিয়ে মাঠে নামতে পারে টাইগাররা। সেক্ষেত্রে মুমিনুলের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন আরিফুল হক। কারণ তিনি ব্যাট চালানোর পাশাপাশি বোলারও।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ
১. সৌম্য সরকার
২. লিটন কুমার দাস
৩. ইমরুল কায়েস
৪. মুমিনুল হক/আরিফুল হক
৫. মুশফিকুর রহিম
৬. মোহাম্মদ মিঠুন
৭. মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
৮. মেহেদি হাসান মিরাজ
৯. মাশরাফি বিন মর্তুজা
১০. মুস্তাফিজুর রহমান
১১. রুবেল হোসেন

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

দেশের খবর: পদ্মা নদীতে পানি কমে যাওয়ার ফলে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে কয়েকদিন ধরেই ব্যহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে এ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ শুক্রবার ফেরি চলবে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত নন কাঁঠালবাড়ী ফেরি ঘাটের বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জানা যায়, কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটের লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট, যে পথ দিয়ে কাঁঠালবাড়ী থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরিগুলো মূল পদ্মায় প্রবেশ করে শিমুলিয়ার পথ ধরে সেই স্থানগুলোতে পানির স্তর কমে গেছে। ফলে ধারণক্ষমতার চেয়েও কম পরিবহন নিয়ে
চলাচল করলেও ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে ফেরি।

এদিকে, চ্যানেলে নাব্যতা সংকট নিরসনে খননকাজ চললেও ফেরি চলাচলের জন্য স্বাভাবিকতা ফিরে আসেনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৭২-এ পা দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক: আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। আজ তার ৭২তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী তীরের টুঙ্গিপাড়ায় আজকের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি।
শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে মধুমতি নদীর তীরবর্তী গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায়। দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি তিনি। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেলসহ তাঁরা পাঁচ ভাই-বোন।
বর্তমানে শেখ হাসিনা ও রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালোরাতে পিতা বঙ্গবন্ধু এবং মাতা ফজিলাতুন্নেছাসহ সবাই ঘাতকদের হাতে নিহত হন।
টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায় শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে চলে আসেন। তখন পুরনো ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তাঁরা । এরপর ১৯৫৬ সালে তিনি ভর্তি হন রাজধানীর টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে। ১৯৬৫ সালে শেখ হাসিনা আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

ঢাকার বকশীবাজারের পূর্বতন ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমানে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে ১৯৬৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। সে বছরই তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় কিশোর বয়স থেকেই তার রাজনীতিতে পদচারণা। তিনি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে পড়ার সময় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন এবং ৬-দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ৬-দফা দাবিতে পূর্ববাংলায় এক অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। কারাবন্দী পিতা বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয় ১৯৬৮ সালে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দী অবস্থায় তাঁর প্রথম সন্তান ‘জয়’-এর মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যা সন্তান পুতুলের জন্ম হয়।

১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার আগে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা ইউরোপ যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নিহত হবার খবর পান। সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। এরআগে ১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা স্বপ্নদর্শী এই নেত্রী আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহনের পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন। এরপর ১৬ বছর ধরে সামরিক জান্তা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলে তার একটানা অকুতোভয় সংগ্রাম। ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সে বছরের ২৩ জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং পাঁচশ’ নেতা-কর্মী আহত হন।

আবার শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। ১/১১-এর পর শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য হাজির করা হয় ‘মাইনাস টু’ তত্ত্বের। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই নিজ বাসভবন সুধা সদন থেকে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। জাতীয় সংসদ এলাকায় একটি অস্থায়ী কারাগারে তাকে বন্দী করে রাখা হয়। পরে শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

তার নেতৃত্বে সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারের ভয়াবহ নির্যাতনে আশ্রয়হীন ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে নাড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বকে। আজ সারা বিশ্বেই তাঁর নাম আলোচিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মানবতার জননী’ হিসেবে। জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাঁর এই মানবিক দৃষ্টান্তের প্রশংসা করেছেন। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ়চেতা মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাঁকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে।

শেখ হাসিনার ডায়নামিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। স্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, আইসিটি এবং এসএমই খাতে এসেছে ব্যাপক সাফল্য। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।

বিশ্বের বুকে নতুন শতাব্দীতে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো মূলত সেখান থেকেই, যা গত কয়েক বছর ধরেই অব্যাহত রয়েছে। যদিও নয় বছর খুব বেশি সময় নয়; অথচ এ সময়েই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তিসহ সব সূচকে যেভাবে তিনি অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের ধারা সৃষ্টি করেছেন; তাতে সহজেই অনুমেয়-আগামীর বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই তাঁর নেতৃত্বে উন্নত দেশের সারিতে কাঁধ মেলাতে সক্ষম হবে।

এদিকে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে নানান কর্মসূচির আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার বিকাল ৩:৩০ মিনিটে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার বিষয়বস্তু ‘নবীনদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনা।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest