সর্বশেষ সংবাদ-
আশাশুনিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৪সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে মিয়াওয়াকি বনায়নের উদ্বোধনদেবহাটায় চোর সন্দেহে ধাওয়া : মালামাল ফেলে পালালেন কয়েকজনকালিগঞ্জের মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির হেমায়েত স্থায়ী বহিষ্কারসাতক্ষীরায় পৌরসভার বিল্ডিং কোড অমান্য করে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণের অভিযোগবাড়িতেই মজুত ছিল নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশ : র‌্যাবের অভিযানে ধরাসাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযানসাতক্ষীরায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে মতবিনিময় সভাসাতক্ষীরা জেলা বিএনপিতে টুটুলকে ঘিরে তৃণমূলে তৎপরতাসাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক দুই দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণের সমাপনী

মাশরাফি হওয়ার বার্তা দিলেন সাইফ

খেলার খবর: বাংলাদেশ দলের কোচ স্টিভ রোডস ক’দিন আগেই বলেছিলেন কথাটা। মাশরাফি বিন মুর্তজার যোগ্য বিকল্প হতে পারেন সাইফউদ্দিন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৫০ রানের ইনিংস খেলে গুরুর কথার যথার্থতাই কী প্রমাণ করলেন সাইফউদ্দিন? যেন মাশরাফি হওয়ার বার্তা দিলেন ২২ ছুঁই ছুঁই এই ক্রিকেটার।
রোববার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান করে বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েস সর্বোচ্চ ১৪৪ ও সাইফউদ্দিন খেলেন ৫০ রানের ইনিংস।
দলের শীর্ষ দুই ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল নেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে এই দু’জনের না থাকাকে সুযোগ হিসেবেই নিয়েছে বাংলাদেশ দল।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্যাকআপ ক্রিকেটার তৈরিতে তরুণদের সুযোগের পথ মিলেছে। সেই সুযোগের অংশ হিসেবেই প্রথম ওয়ানডের একাদশে সুযোগ পান ফজলে রাব্বী ও সাইফউদ্দিন।
অভিষিক্ত ফজলে রাব্বী অবশ্য শূন্য রানে ফিরেছেন। ১৩তম বাংলাদেশি হিসেবে অভিষেকে শূন্য রান করেন তিনি।

ফজলে মাহমুদ রাব্বী ও সাইফউদ্দিন দু’জনের দিকেই চোখ ছিল সবার। ৩০ বছর পেরিয়ে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামেন রাব্বী। ঘরোয়া ক্রিকেটে পরীক্ষিত সৈনিক হলেও আন্তর্জাতিক অভিষেক বিব্রত রেকর্ডেরই সঙ্গী তিনি।
তবে সাইফউদ্দিন খেলেছেন ৬৯ বলে ৫০ রানের ইনিংস। দলের বিপর্যয়ে ব্যাট করতে নেমে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে যা তার প্রথম ফিফটি। সপ্তম উইকেটে ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ১২৭ রানের জুটি উপহার দেন সাইফউদ্দিন। ১৩৯ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর, এক পর্যায়ে লড়াই করার পুঁজি নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
সাইফউদ্দিনের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে আগেই। একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে তার মধ্যে আশা দেখেছিলেন সবাই। কিন্তু, নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারায় দলে জায়গা হারান। কিন্তু, ফের সুযোগ পেয়ে দারুণভাবেই নিজেকে মেলে ধরলেন এই তরুণ।

বিশেষজ্ঞ একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের কাছে যে চাওয়া, সেটাই পূরণ করলেন সাইফ। বোলিংয়ে কী করেন সেটি অবশ্য দেখার বিষয়। তবে ব্যাটিংয়ে পূর্ণ মার্কসই পাচ্ছেন তিনি।
আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা একজন ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে ফিফটি। বাংলাদেশ তো এমন অলআউন্ডারের জন্যই অপেক্ষায়। এদিন সাইফউদ্দিনের ব্যাটে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কা।
সাইফউদ্দিন এভাবেই নিজেকে মেলে ধরতে পারলে শুধু পেস বোলিং অলরাউন্ডারের হাহাকারই ঘুচবে না, বাংলাদেশ দল পেয়ে যাবে মাশরাফির বিকল্পও। সাইফউদ্দিন পারবেন তো?

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুলাভাইয়ের কাছে ৩৭ কোটি

বিনোদন সংবাদ: প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আর নিক জোনাসের বিয়ে নিয়ে ভক্তরা অপেক্ষা করে আছে। অপেক্ষায় প্রিয়াঙ্কার চাচাতো বোন পরিণীতি চোপড়াও। কারণ এই বিয়েতে তাঁর ৩৭ কোটি রুপি আয় হবে! ভারতীয় রীতিতে বিয়ের আসরে শ্যালিকারা দুলাভাইয়ের জুতা চুরি করে, যা ফেরত পেতে বরকে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের ‘জরিমানা’। এ নিয়ে অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছেন পরিণীতি, ‘কিছুদিন আগে নিকের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ওকে সাফ জানিয়ে দিয়েছি, আগেই সমঝোতা করে রাখো, আমার ৫০ লাখ ডলার চাই [প্রায় ৩৭ কোটি রুপি]। ও বলেছে—ঠিক আছে, আমি এক কোটি দেব।’ প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিয়ের তারিখ আর স্থান নিয়ে অনেক দিন ধরেই নানা জল্পনা চলছে। গণমাধ্যমগুলোর দাবি, ২ ডিসেম্বর যোধপুরে বিয়ে হবে। বোনের বিয়ে নিয়ে অন্য প্রশ্নের উত্তর দিলেও এ প্রশ্নের উত্তর হাসি দিয়ে এড়িয়ে গেছেন পরিণীতি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কোহলি-রোহিতের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভারতের সহজ জয়

খেলার খবর: গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার শতরানে বিধ্বস্ত ক্যারিবিয়ান শিবির। ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। ৪৭ বল বাকি থাকতেই প্রথম ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বিরাট বাহিনী।

শিমরন হেটমায়েরের শতরান সঙ্গে ওপেনার কায়রন পাওয়েলের অর্ধশতরানে ভর করে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২২ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এদিন টস জিতে অবশ্য প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

অভিষেক ম্যাচে বড় রান করতে পারলেন না ওপেনার হেমরাজ। ৯ রানে মোহম্মদ শামির বলে বোল্ড হলেন তিনি। কিন্তু কায়রন পাওয়েল এবং শাই হোপ জুটি টেনে তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। পাওয়েল ৫১ এবং হোপ ৩২ রানে আউট হন। ক্যারিয়ারের ২০০ তম একদিনের ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না মার্লন স্যামুয়েলস। রানের খাতা না খুলেই সাজঘরে ফিরলেন তিনি।

এরপর ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন হেটমায়ের। তাকে যোগ্য সঙ্গত দেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার(৩৮) এবং রভম্যান পাওয়েল(২২)। ৭৮ বলে ঝোড়ো ১০৬ রানের ইনিংস খেলে আউট হন হেটমায়ের। ৬টি বাউন্ডারি ও ৬টি ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল তার ইনিংস। শেষ দিকে দেবেন্দ্র বিশু (২২) এবং কেমার রোচের (২৬) ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানকে ৩০০ রানের ওপরে নিয়ে যায়। ভারতের হয়ে যুজবেন্দ্র চাহাল ৩টি, রবীন্দ্র জাদেজা এবং মোহম্মদ শামি ২টি করে উইকেট নেন।

৩২৩ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই শিখর ধাওয়ানের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। ৪ রানে সাজঘরে ফেরেন শিখর। এরপর ভারতীয় ব্যাটিংয়ে হাল ধরেন অধিনায়রক বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা। কয়ারিয়ারের ৩৬ তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন বিরাট। ২১ টি বাউন্ডারি ও ২ টি ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো ১০৭ বলে ১৪০ রানের ইনিংস কোহলির।

শতরান করেন রোহিত শর্মাও। একদিনের ক্রিকেটে ২০ তম শতরানটি এদিন পূর্ণ করলেন রোহিত। কোহলি ১৪০ রান করে আউট হলেও আম্বাতি রায়ডুকে সঙ্গে নিয়ে রোহিত শর্মা ভারতকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান। ১১৭ বলে ১৫২ রানে অপরাজিত থাকেন রোহিত শর্মা। ১৫ টি বাউন্ডারি ও ৮ টি ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো রোহিতন ইনিংস। ২২ রানে অপরাজিত থাকেন রায়ডু। এদিন ভারতের হয়ে একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয় ঋষভ পন্থের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অভিষেক হল হেমরাজ ও থমাসের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সৌদি আরবকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ট্রাম্প

বিদেশের খবর: সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতম কৌশলগত মিত্র সৌদি আরবকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান সৌদি আরবের। সম্প্রতি ১১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও জোরালো করে ট্রাম্প প্রশাসন। সৌদি আরবের ওপর নির্ভর করেই মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনবিরোধী ‘শতাব্দীর চুক্তি’ বাস্তবায়নের আশাও করছেন তিনি। তবে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর সেই ঘনিষ্ঠ মিত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। প্রধান মিত্রদেশগুলোর পাশাপাশি দেশের আইনপ্রণেতারাও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাই খাশোগি ইস্যুতে প্রথম থেকেই সৌদি আরবকে সমর্থন করে গেলেও চাপের মুখে এখন প্রকাশ্যে আর সমর্থন জানাতে পারছেন না ট্রাম্প। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে সৌদি আরবের সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই সৌদি আরবকে নিয়ে রীতিমত বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার দুই সপ্তাহ পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দেয় সৌদি আরব। সৌদি পাবলিক প্রসিকিউটর শনিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, ‘স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা খাশোগিকে সৌদি আরবে ফিরিয়ে আনার জন্য সাধারণ নির্দেশনা জারি ছিল। যখন খবর আসে বিয়ের জন্য কিছু নথিপত্র নিতে ২ অক্টোবর খাশোগি ইস্তানবুল কনস্যুলেটে যাবেন তখন জেনারেল আসিরি ১৫ সদস্যের একটি দল পাঠান এ ব্যাপারে তার সঙ্গে আলোচনা করতে। সৌদি কনস্যুলেটে দেখা করতে যাওয়া কয়েকজনের সঙ্গে খাশোগির লড়াই হয়। আর তাতেই খাশোগির মৃত্যু হয়।’ তবে সৌদি আরবের এই বয়ান মানতে রাজি নয় ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্য মিত্ররা। এছাড়া খোদ যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারাই সৌদি আরবের এই ভাষ্য প্রত্যাখ্যান করে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছেন।

খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় ১১ জন রিপাবলিকান ও ১১ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটরের একটি দল ঊর্ধ্বতন সৌদি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে একটি চিঠি পাঠান। সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির একজন সদস্য বাদে বাকিরা সবাই ১০ অক্টোবর পাঠানো ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে ম্যাগনটস্কি আইন অনুযায়ী খাশোগি হত্যাকাণ্ড তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। ২০১৬ সালে মানবাধিকার হরণ প্রশ্নে প্রণীত এই আইন অনুযায়ী বিশ্বের যেকোন প্রান্তের দোষী সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। আইন অনুযায়ী চিঠি পাঠানোর ওই দিন (১০ অক্টোবর) পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। এবার হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা প্রশ্নে স্বীকারোক্তির পর রিয়াদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সেই দাবি জোরালো করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট সিনেটর রবার্ট মেনেনদেজ সৌদি বিবৃতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা সত্য থেকে অনেক দূরে। আমাদের আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখা দরকার।’ তিনি বলেন, বৈশ্বিক ম্যাগনিটস্কি আইন অনুযায়ী চিঠি পাঠিয়ে প্রেসিডেন্টকে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথ করে দিয়েছে কংগ্রেস। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবশ্যই এই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।’ সিনেটের বৈদেশিক কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান সিনেটর বব কর্কারও চান যুক্তরাষ্ট্র খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৈশ্বিক ম্যাগনিটস্কি আইন প্রয়োগ করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, তারা তাদের তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজস্ব স্বাধীন ও বিশ্বাস্য তদন্ত অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। বৈশ্বিক ম্যাগনিটস্কি আইনের প্রয়োজন অনুযায়ী খাশোগির হত্যাকারীকে চিহ্নিত করতে এই তদন্ত প্রয়োজন।

ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি কনোল্লি বলেন, শুরু থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে এই ঘটনা মোকাবিলা করছেন তা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা খুব ভালো হবে না যে, আমাদের প্রেসিডেন্ট সত্যিকার অর্থে খুনিদের পক্ষ নিচ্ছে।’ কংগ্রেসের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির শীর্ষস্থানীয় সদস্য ও ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিয়ট এল অ্যাঞ্জেল ‘একটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত’ চালানোর জন্য আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান।

শুধু দেশের মধ্যেই নয়, দেশের বাইরে সৌদি ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ইউরোপের পক্ষ থেকেও সৌদি বয়ান প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘারিনি একে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ভয়াবহ লঙ্ঘন আখ্যা দিয়েছেন। ঘটনার যথাযথ পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এ পর্যন্ত যা জানা গেছে, তা খুবই ভয়াবহ। এটি ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা চুক্তির লঙ্ঘন।’ এ ঘটনায় দোষীদের বিচার নিশ্চিতেরও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস তাদের বিবৃতিতে বলেছেন, ‘খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরবরাহকৃত সৌদি ব্যাখ্যা পর্যাপ্ত নয়। এখনও কিছুই পরিষ্কার হয়নি, কী ঘটেছে তা অনুসন্ধানের জোর দাবি জানাচ্ছি’। বিবৃতিতে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় নেওয়ারও জোর দাবি জানানো হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এআরডি-কে বলেছেন, ‘যতোক্ষণ পর্যন্ত বিয়ষটি তদন্তাধীন, যতোক্ষণ পর্যন্ত আমরা সবকিছু স্পষ্ট করে জানতে পারছি না, ততোক্ষণ পর্যন্ত সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির ব্যাপারে ইতিবাচক কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নাই।’

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন ইভস লে ড্রিয়ান বলেছেন, ‘অনেক প্রশ্নের উত্তরই এখনও অজানা এবং সেসব জানতে প্রয়োজন একটি পুঙ্খানুপুঙ্খু ও কার্যকর তদন্ত’। কানডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেছেন, ‘যে বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে তার ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ’। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, ‘জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডে আমরা মর্মাহত। এ ঘটনার যথাযথ তদন্তে তুরস্ককে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দিতে আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।’

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতম কৌশলগত মিত্র সৌদি আরব। ইসরায়েলের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থানই তাদের। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও জোরালো করে ট্রাম্প প্রশাসন। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার নামে ট্রাম্প প্রশাসন ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’র মোড়কে যে ফিলিস্তিনবিরোধী পদক্ষেপ নিতে চাইছেন, তা নিয়েও সৌদি দূতিয়ালির ধারাবাহিক খবর প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। তাই খাশোগি নিখোঁজের পর থেকেই তাই ট্রাম্পের সৌদি সখ্যের প্রশ্নটি বারবার আলোচনায় এসেছে। সংশয় দেখা দিয়েছে, এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে কিনা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি আরবের সরবরাহকৃত ব্যাখ্যাকে ‘গ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে সেই সংশয় আরও বাড়িয়ে তোলেন ট্রাম্প।

তবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সৌদি আরব প্রশ্নে নিজের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে খানিকটা সরে এসেছেন ট্রাম্প। শুক্রবার ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরবরাহকৃত সৌদি ব্যাখ্যাকে ‘গ্রহণযোগ্য’ দাবি করলেও শনিবার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে শামিল হয়ে ট্রাম্প বলেন, ব্যাখ্যাই যথেষ্ট নয়। সত্য উন্মোচনের আগ পর্যন্ত তিনি সন্তুষ্ট নন। তবে শেষ পর্যন্তও সৌদি আরবকে রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শনিবার সত্য উন্মোচনের দাবি জানানোর পাশাপাশি এটাও দাবি করেছেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতা নাও থাকতে পারে। এছাড়া রিয়াদের সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনাও নাকচ করেন তিনি। শনিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ নিষেধাজ্ঞা একটা পথ বটে, তবে অস্ত্র চুক্তি স্থগিত করলে তা তাদের চেয়ে আমাদের জন্য বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

খাশোগি হত্যাকাণ্ডে প্রথম দিকে কঠোর অবস্থান নিলেও সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সুর নরম করেন ট্রাম্প। সংকট মোকাবিলা করে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে তাৎক্ষণিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে সৌদি আরব ও তুরস্ক পাঠান তিনি। তবে খাশোগির ঘটনার তদন্তে অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সেই অবস্থান পাল্টাতে বাধ্য হন ট্রাম্প। নানামুখী চাপের কারণে সৌদি আরবকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে পারছেন তিনি। আবার সৌদি আরব বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লে তার মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই এই সময়ে এসে সৌদি আরকে নিয়ে বেশ বিপাকেই পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সেই ইমরুল যখন ত্রাতা!

সেই ইমরুল যখন ত্রাতা!

কর্তৃক Daily Satkhira

খেলার খবর: বাংলাদেশ জাতীয় দলে তাঁর অবস্থানটা এমন, যেন ‘ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো’। প্রয়োজন হলে নেওয়া হবে দলে, ফুরিয়ে গেলে আবার বাদ দেওয়া হবে। এই কদিন আগে এশিয়া কাপে ওপেনার তামিম ইকবাল ইনজুরিতে পড়ায় হঠাৎ দলে নেওয়া হয় ইমরুল কায়েসকে। উদ্বোধনীতে খেলে অভ্যস্ত এই ব্যাটসম্যান ছয় নম্বরে নেমে ৭২ রানের হার-না-মানা একটি ইনিংস খেলে দলের প্রয়োজনে বুক চিতিয়ে লড়েছেন। সে তিনিই এবার ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলে নিজের জাতটা ভালোভাবেই চিনিয়েছেন।

দলীয় ১৭ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন চাপের মুখে, তখনই ব্যাটহাতে দৃঢ়তা দেখান ইমরুল। দারুণ দুটি পার্টনারশিপ গড়ে দলের প্রয়োজনে চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ১৪০ বলে ১৪৪ রান করেন। যাতে ১৩ চার ও ছয়টি ছক্কার মার রয়েছে।

এর আগে ইমরুলের সর্বশেষ সেঞ্চুরি ছিল এই ঢাকায়, ২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেবার তিনি করেছিলেন ১১২ রান। প্রায় দুই বছর পর একই ভেন্যুতে আরেকটি সেঞ্চুরি করে নিজেকেই ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। সে সঙ্গে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণটাও ভালোভাবে দিয়েছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, সুযোগ পেলে নিজেকে তিনি ভালোভাবেই মেলে ধরতে পারেন।

ইমরুলের এই সময়োপযোগী ইনিংসের ওপর ভর করে এ দিন বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয়, করে ২৭১ রান। তা না হলে শুরুটা যেভাবে হয়েছিল, সে ধারাবাহিকতা থাকলে একেবারেই বেহাল দশা হতো দলের।

দলের চরম ব্যাটিং বিপর্যয় রক্ষা করার পাশাপাশি, নিজের ঝুলিটাও সমৃদ্ধ করেছেন ইমরুল। করেছেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে শতক। এর আগে ২০১০ সালে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছিলেন নিউল্যান্ডের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে। জাতীয় দলে খুব একটা নিয়মিত না হওয়ায় ক্যারিয়ারটাও হয়তো খুব একটা সমৃদ্ধ করতে পারেননি।

যেখানে সাকিব-তামিমরা প্রায় ২০০ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন, সেখানে ইমরুল খেলেন ৭৪টি ম্যাচ। নিয়মিত সুযোগ পেলে হয়তো আরো ভালো করতে পারতেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পুত্রের বদলে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন ৬৫ বছরের বাবা!

ভিন্ন স্বাদের সংবাদ: বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকল ভারতের বিহারের সমস্তিপুর এলাকা। ঘটনা হার মানাবে সিনেমার অতিনাটকীয় চিত্রনাট্যকেও। ৬৫ বছরের বৃদ্ধ নিজের হবু পুত্রবধূকেই বিয়ে করে ফেললেন। যা নিয়ে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া।

জানা গেছে, ৬৫ বছরের বৃদ্ধ রোশনলাল নিজের পুত্রের বিয়ের জন্য পাত্রী ঠিক করে ফেলেছিলেন। সেই মেয়েটির নাম স্বপ্না। কিন্তু সেই পুত্রের ভালবাসার সম্পর্ক ছিল অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে। ঠিক বিয়ের দিনে নিজের প্রেমিকার সঙ্গে ভেগে যায় সেই পুত্র।

কন্যার বাড়ি থেকে আত্মীয়স্বজন বিয়ের স্থানে উপস্থিত হয়ে জানা যায়, হবু বর ও তার প্রেমিকার কীর্তি। লগ্নভ্রষ্টা পুত্রবধূকে বাঁচাতে শেষমেশ ত্রাতা হয়ে ওঠেন শ্বশুর। তাই বৃদ্ধ রোশনলাল বিয়ে করে ফেলেন তার হবু পুত্রবধূকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তসলিমা নাসরিনের অভিযোগের জবাব লিখলেন মাসুদা ভাট্টি

দেশের খবর: একটি টিভি চ্যানেলের টক শোতে লেখিকা মাসুদা ভাট্টিকে অশালীনভাবে আক্রমণ করায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অনেক মানুষ মাসুদা ভাট্টির পাশে দাঁড়িয়ে মইনুল হোসেনকে ক্ষমা চাইতে বলছেন। দেশের ৫৫ জন বিশিষ্ট সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক তার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু বেশ আশ্চর্যজনকভাবেই প্রখ্যাত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন মাসুদা ভাট্টির কঠোর সমালোচনা করলেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মাসুদা ভাট্টিকে তিনি ‘চরিত্রহীন’ আখ্যা দিয়েছেন!

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তললিমা নাসরিনের দেওয়া স্ট্যাটাসের জবাবে পাল্টা একটি স্ট্যাটাস দেন মাসুদা ভাট্টি। কালের কণ্ঠের পাঠকের জন্য সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

মাসুদা ভাট্টি লিখেছেন, ‘তসলিমা নাসরিনকে আমি ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি এরকম একটি মোক্ষম সময়কে বেছে নিয়েছেন আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষোভকে প্রকাশ করে ২০ বছর আগে দেয়া আমার একটি বক্তব্যের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।

যে সকল ঘটনার উল্লেখ তিনি করেছেন তা ২০০০ সালের এবং তিনি সত্যিই আমাকে চিঠি দিয়েছিলেন কারণ তখন আমাকে ব্রিটেন থেকে বের করে দেওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। একটি আলোচিত সাক্ষাতকার গ্রহণের পর থেকে আমার সে দেশে টিকে থাকা মুস্কিল হয়ে পড়েছিল এবং তখনও অনেক সাংবাদিক আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, এখন যেমন দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু তসলিমা নাসরিন কখনোই আমাকে তার পাবলিশার হিসেবে চিঠি দেননি, দিয়েছিলেন তার একজন ‘ফ্যান’ বা সমর্থক হিসেবে বর্ণনা করে। খুঁজলে সে চিঠি আমি নিশ্চয়ই পাবো।
যখন তার প্রথম আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘ক’ বের হলো তখন এই বই নিয়ে প্রচারণার অংশ হিসেবেই আমি একটি পুস্তক সমালোচনা লিখি। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, আমার তখন নারীবাদ, নারীর প্রতি সহিংসতা, উদারনৈতিক ও সমতাভিত্তিক সমাজব্যাবস্থা সম্পর্কে খুব বেশি একাডেমিক লেখাপড়া ছিল না। আমি সমালোচনায় বইটি সম্পর্কে এই কথাই বলতে চেয়েছিলাম যে, একজন ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজন ব্যক্তির স্বেচ্ছা-সম্পর্কের দায় দু’পক্ষের সমান এবং তা প্রকাশের আগে অন্যপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন পড়ে – ‘ক’ বইটি পাঠে আমার তা মনে হয়নি। প্রায় কুড়ি বছর আগের লেখা এবং সেখানে আমি তসলিমা নাসরিনকে কোনো ভাবেই ব্যক্তিগত কোনো আক্রমণ করিনি। করতে পারি না কারণ আমি সবসময় একথাই বলে এসেছি যে, আজকে যে আমরা মেয়েরা অনায়াস-লেখা লিখতে পারছি তার মূলপথ আমাদের জন্য উন্মুক্ত করেছেন তসলিমা নাসরিন। অথচ গত কুড়ি বছর যাবত তসলিমা নাসরিন অন্ততঃ কুড়িবারেও বেশি এই প্রসঙ্গে আমাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন তার প্রকাশিত বইতে, লেখায় এবং তার ও আমার জানাশোনা ব্যক্তিবর্গের কাছে।২০০০ সালের পরে অসংখ্য লেখায় আমি তসলিমা নাসরিনের প্রশংসা করেছি এবং সে কারণে আমাকে সমালোচকরা ‘নতুন তসলিমা নাসরিন’ আখ্যা দিয়ে আমার বিচার, অপমান এবং ফাঁসিও চেয়েছে। তসলিমা নাসরিন এসব কথা কখনও উল্লেখ করেননি, তিনি সব সময় গত কুড়ি বছর ধরে বহুবার, বহু জায়গায় আমার এই পুস্তক-সমালোচনার কথা উল্লেখ করে আমাকে চরম আঘাত করেছেন। আমি বিরত থেকেছি জনসমক্ষে কিছু বলা থেকে কিন্তু তসলিমা নাসরিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে আমি বহুবার একথা বলেছি যে, তার বইয়ের সমালোচনায় আমি যা বলেছি সেটা একেবারেই তার বইয়ে সন্নিবেশিত তথ্যের সমালোচনা, তার ব্যক্তি-সমালোচনা নয়। আমি একথা ২০০৩ সালেই প্রকাশ্যেও লিখেছি, এমনকি যখন তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তখন আমি প্রতিবাদ করেছি, লেখকের বিরুদ্ধে মামলা বা বই নিষিদ্ধের দাবীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি। আমার সেসব প্রতিবাদ, প্রতিরোধ সব ভেসে গেছে, থেকে গেছে কেবল সমালোচনাটুকু। এমনকি এই সেদিনও বাংলা একাডেমীতে আয়োজিত লিট ফেস্ট ২০১৭ তে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছি যে, তিনি আমাদের পুরোধা লেখক যিনি পথ দেখিয়েছেন, অনেক শব্দকে ছাপার অক্ষরে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তিনি মুক্ত করে দিয়েছেন।

তসলিমা নাসরিনের প্রতি আমার কোনো ধরনের বিদ্বেষ, রাগ কখনোই ছিল না। বরং আমার দুঃসময়ে তিনি পাশে ছিলেন সেটা আমি ভুলিনি। তাই বলে তার প্রকাশিত বইয়ের সমালোচনা আমি করতে পারবো না সেটাতো হতে পারে না। হতে পারে তিনি মনে করেছেন যে, আমার সমালোচনাটি কুৎসিৎ ব্যক্তি আক্রমণ, কিন্তু আমি নিজে জানি যে, তখনও আমি সেটা করিনি আর এখনতো আরও করবো না। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি একটি লেখার জন্য আমাকে ক’বার শাস্তি দেবেন? এরতো কোথাও না কোথাও একটা শেষ হতে হবে, নয়? হয়তো এবারই সেই চরম শাস্তিটুকু তিনি আমায় দিলেন। আমি মাথা পেতে নিলাম।

তসলিমা নাসরিন তার মতামত দিয়েছেন আমার সম্পর্কে। আমি সে সম্পর্কে আমার ব্যাখ্যা দিতে পারি মাত্র, এর বেশি আর কীই বা করতে পারি? তবে এমন একটি সময়কে ২০ বছর আগে লেখা সমালোচনার (যার জন্য বহুবার তিনি প্রকাশ্যে আমায় গাল দিয়েছেন) জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন যখন আমি কেবল আক্রান্তই নই, আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নটিও তিনি আমলে আনেননি, আমার চেয়ে তার এই নিরাপত্তা-সংকটের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি বোঝার কথা ছিল। আজকে তার দেওয়া চারিত্রিক সার্টিফিকেট নিয়ে যারা আমাকে তুলোধনুা করছেন তারাই প্রতিদিন তার মাথা চায়, নোংরা আক্রমনে জর্জরিত করে, কখনও বা তাকে দেশছাড়া করতে চায়। কিন্তু আজ আমার বিরুদ্ধে তারই দেওয়া ‘ভীষণ চরিত্রহীন’ তকমার করাত দিয়ে আমাকে টুকরো টুকেরো করছে। জানি না, এতে কার লাভ কী হলো? কিন্তু কিছু একটা হলো নিশ্চয়ই।
এরকম একটি চরম সংকটকালে যখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার কবলে থেকে একদল মানুষ ন্যয়ের জন্য লড়ছে, তখন মইনুল হোসেনের দেওয়া তকমা “চরিত্রহীন”-কে একটি “ভীষণ” শব্দ জুড়ে দিয়ে আমার চরিত্রের সার্টিফিকেট-কে আরো শক্ত করেছেন তসলিমা নাসরিন – আমি এ জন্যও তার কাছে কৃতজ্ঞ। অগ্রজ লেখক হিসেবে হয়তো এটুকুই আমার প্রাপ্য তার কাছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নতুন বিজ্ঞাপনে তানহা

নতুন বিজ্ঞাপনে তানহা

কর্তৃক Daily Satkhira

ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ চিত্রনায়িকা তানহা তাসনিয়া। সম্প্রতি কাজ করলেন নতুন একটি বিজ্ঞাপনে। শহীদ রায়হান পরিচালিত নতুন এই বিজ্ঞাপনটি রংধনু গুড়া মসলার।

নতুন বিজ্ঞাপনে কাজ করা প্রসঙ্গে তানহা বলেন, ‘বিজ্ঞাপন সবসময় আমার খুব পছন্দের জায়গা। অনেকগুলো বিজ্ঞাপনের অফারই পেয়েছি তার মধ্যে যেগুলোর প্রোডাক্ট ও কনসেপ্ট ভালো সেগুলোতেই কাজ করছি। মানের ক্ষেত্রে আপোষ করছি না। আশা করছি রংধনু গুড়া মসলার বিজ্ঞাপনটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’

বিজ্ঞাপনটির নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে খুব শীগ্রই বিজ্ঞাপনটির প্রচার শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রথম বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছিলেন তানহা। এরপর এখন পর্যন্ত ৮/৯ টি বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছে তাকে। সর্বশেষ গেলো কোরবানি ঈদে ঈগলু আইসক্রিমের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছিলেন তানহা তাসনিয়া।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest