সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযানসাতক্ষীরায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে মতবিনিময় সভাসাতক্ষীরা জেলা বিএনপিতে টুটুলকে ঘিরে তৃণমূলে তৎপরতাসাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক দুই দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণের সমাপনীসাতক্ষীরায় টেপা মাছ খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অসুস্থ : ব্যবসায়ীর মৃত্যুডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিসাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক দুই দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনসাতক্ষীরায় পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যুমানবকণ্ঠের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধির নিয়োগ পেলেন মুজাহিদুলদেবহাটায় প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ: সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

নির্বাচন নিয়ে কোনো পক্ষই স্বস্তিতে নেই

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে নির্বাচন যত কাছে আসছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে অস্থিরতা ততই বাড়ছে। নির্বাচন ঘিরে কোনো পক্ষই এখন স্বস্তিতে নেই।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বেশির ভাগ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বাদানুবাদ-দ্বন্দ্ব, কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কোনো কোনো ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপের পর বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ও প্রতিবাদ ওঠা এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে দেশে-বিদেশে চাপ থাকা আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলেছে। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষমতাসীনদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।

রাজনীতি ও ভোটের মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সংকট অন্য রকম। এই মুহূর্তে দলটি তাদের তৃণমূলে নির্বাচনে যাওয়া না–যাওয়া নিয়ে কোনো বার্তাই পৌঁছাতে পারেনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি বাস্তবায়নের কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না দলটির নেতারা। কোনো দাবি পূরণ ছাড়াই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে গত দশম সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না—এমন বার্তা দলের তৃণমূলে ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়েও সংশয়ে আছে বিএনপি। তা ছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির অংশগ্রহণের পর তাদের পুরোনো জোট ২০-দলীয় জোটে ভাঙন দলটিকে চাপে ফেলেছে। ২০ দলের ঐক্য ধরে রাখতে বিএনপির নেতারা এখন দৌড়ঝাঁপ করছেন।

রাজনীতির এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বসে নেই ছোট দলগুলো। তারা জোট করছে আবার ভাঙছেও। হিসাব কষছে কোন জোটে গেলে লাভ বেশি। ছোট দলগুলোর আচরণ এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় বৃহত্তম দল জাতীয় পার্টির কিছুটা ধোঁয়াশা অবস্থান নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থাকবে, নাকি আলাদা জোট করে ভোটে আসবে, সেটি এখনো দলটি স্পষ্ট করেনি।

অবশ্য ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অস্বস্তি, উত্তেজনা, সংকট থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কেননা নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকারসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। এসব বিষয়ে কোনো মীমাংসা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা নিয়ে সবাইকে শেষ দিন পর্যন্ত অস্বস্তিতে থাকতে হবে। তবে রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিবেশ ভারী হওয়া ও সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে সন্দেহ, উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের আচরণ। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারকে ঘিরে কমিশনের কাজে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আবার নির্বাচন কমিশনের কাজ কমিশনারদের অবহিত না করা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে মাহবুব তালুকদারসহ অন্য কমিশনারদের দূরত্ব তৈরি হয়। কমিশন সচিবালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়েও আপত্তি আছে কমিশনারদের। শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার কীভাবে হবে, কতটা হবে—এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে যেমন পক্ষ-বিপক্ষ আছে, তেমনি তাঁরা ইভিএমে ভোট নেওয়া নিয়ে আছেন অস্বস্তিতে। অস্বস্তির কারণ অল্প সময়ের মধ্যে যাঁরা ইভিএম পরিচালনা করবেন, তাঁদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটারদের ইভিএমে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে অভ্যস্ত করে তোলা।

অবশ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা মনে করছেন তাঁদের মধ্যে যে মতবিরোধ আছে তা নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা আছে। এ থেকেই অস্বস্তি সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বিগত সময়ে, বিশেষ করে দশম সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ভোট হতে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো ভোট নিয়ে ভাবছে, এবার কেমন ভোট হবে। আর ভোটাররা ভাবছেন, তাঁরা তাঁদের ভোট দিতে পারবেন কি না বা তাঁদের ভোটের প্রতিফলন ফলাফলে থাকবে কি না।

এই নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সুষ্ঠু ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলকে আশ্বস্ত করতে হবে। যেটা এই কমিশন পারছে না। ফলে সব দিকে, সব অংশীজন বা পক্ষের মধ্যে অস্বস্তি ভর করছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সম্পাদক মনে করেন, ভোটের আগে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা আছে। কোন্দলই মূলত আওয়ামী লীগের বড় সংকট। অবশ্য এ নিয়ে দলীয় সভানেত্রী সতর্ক আছেন। ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ের নেতাদের বিশৃঙ্খলা এড়াতে বলা হয়েছে। তা না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই দুই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের দিকে তাঁরা নজর রাখছেন। তবে কমিশনের যে সমস্যা তা সমাধান হয়ে যাবে বলে তাঁদের ধারণা। এতে ভোটে প্রভাব পড়বে না।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, ভোটের আগে কিছু চাপ সব সময়ই থাকে। বিদেশিরা যেমন সবার অংশগ্রহণে ভোট চায়, আওয়ামী লীগও তেমনটি চায়। আর এবার সব দল ভোটে আসবে বলেই তাঁরা মনে করেন।
বিএনপির সমস্যাটা নিজেদের নিয়ে। মূলত সরকার যদি কোনো দাবিই না মানে, তাহলে এবার ভোটে যেতে বিএনপির যুক্তি কী হবে তা নিয়ে দলটির মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। নেতাদের বিপরীতমুখী অবস্থান দলকে চরম অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছে। সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ের বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠক ও ২০-দলীয় জোটের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি শেষ পর্যন্ত ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তি হিসেবে খালেদার মুক্তি নিশ্চিত করা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফেরানো এবং সর্বোপরি দেশে দেশে গণতন্ত্র ফেরানোর কথা বলবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনে করেন, বিএনপির চেয়ে অস্বস্তি বা সংকট সরকারের বেশি। বিএনপি নির্বাচনে যেতেই সবকিছু করছে। তা ছাড়া এবার সরকার একতরফা নির্বাচন করে পার পাবে, সেটা ভাবার কারণ নেই। এটা সরকারও বোঝে। বিএনপির এই নেতা বলেন, তাঁদের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি সাধারণ মানুষ উপলব্ধি করেছে। বিদেশিরা মনে করছেন, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও বিএনপি তা কাটিয়ে উঠবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘যে গিটারে দেশ অপমানিত হয়, তা দ্বিতীয়বার বাজাই না’

অনলাইন ডেস্ক: ‘যে গিটারের জন্য দেশ অপমানিত হয়, সেই গিটার আইয়ুব বাচ্চু দ্বিতীয়বার বাজায় না।’ নিউইয়র্কের গিটার সেন্টারের ম্যানেজারকে বলেছিলেন বাংলাদেশের গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু। ২০ বছর আগে যখন এলআরবি প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরে যায়, তখন ঘটনাটি ঘটেছিল। আর এবার তা জানালেন এলআরবির ব্যবস্থাপক শামীম। গিটার নিয়ে এমন অস্বস্তিকর ঘটনার কথা আইয়ুব বাচ্চু এর আগেও বলেছিলেন।
আইয়ুব বাচ্চু সম্পর্কে যাঁরা একটু–আধটুও জানেন, তাঁদের কারোরই অজানা নয়, গিটার নিয়ে তাঁর পাগলামির কথা। এই গিটার বাজানোর জন্য সংগীতজীবনের শুরুর দিকে কত কষ্টই–না করতে হয়েছে তাঁকে। শুধু তা-ই নয়, নিত্যনতুন ব্র্যান্ডের গিটার সংগ্রহ করা ছিল নেশার মতো।
১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো এলআরবি শো করতে যায়। শো শেষে ব্যান্ডের অন্য সদস্যদের নিয়ে আইয়ুব বাচ্চু যান নিউইয়র্কের গিটার সেন্টারে। আইয়ুব বাচ্চু সেখানে সামনে থাকা গিটারগুলো নেড়েচেড়ে দেখছেন। হঠাৎ আইভানেজ গিটারের ওপর চোখ পড়ে তাঁর। কাচের বাক্সে বন্দী। দোকানের ব্যবস্থাপককে এই গিটারের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই লোকটি আইয়ুব বাচ্চুর দিকে ভালো করে তাকান। জানতে চান, কোন দেশ থেকে এসেছ? এরপর বললেন, এই গিটার তোমার মতো বাংলাদেশির জন্য নয়। এটা এখানে সবচেয়ে দামি গিটার, তুমি বরং অন্যটা দেখ। লোকটির কথায় আইয়ুব বাচ্চু কষ্ট পান। বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন দেশটাকে অপমান করা হয়েছে, তাই ভেবে।
আইয়ুব বাচ্চুর মনে জেদ চাপে। তিনি সেই ব্যবস্থাপককে অনুরোধ করেন, ‘গিটারটি একবার দেখার সুযোগ দাও। আমার আর টিমের সবার কাছে যত ডলার আছে, আশা করি এটা নিতে পারব।’ লোকটি অনিচ্ছাসত্ত্বেও গিটারটা দেখতে দেন আইয়ুব বাচ্চুকে।
গিটার হাতে পেয়ে আইয়ুব বাচ্চু বাজানো শুরু করেন। এমনভাবে বাজালেন, আশপাশে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। আইয়ুব বাচ্চুর বাজানো দেখে সবাই অবাক। এরপর গিটার ফেরত দিতে গেলে লোকটি আইয়ুব বাচ্চুকে বললেন, ‘তুমি অসাধারণ বাজাও, এই গিটার তোমার জন্যই। এটা আমি তোমাকে অর্ধেক দামে দেব।’ আইয়ুব বাচ্চু বিনয়ের সঙ্গে বললেন, ‘এটা তুমি আমাকে বিনে পয়সায় দিলেও আমি নেব না, তুমি আমার দেশকে অপমান করেছ। যে গিটারের জন্য দেশ অপমানিত হয়, সেই গিটার আইয়ুব বাচ্চু দ্বিতীয়বার বাজায় না।’

এলআরবি প্রথম দেশের বাইরের সফর ছিল ভারতের কলকাতা। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে যায় ১৯৯৮ সালে। এই দলে আইয়ুব বাচ্চু ছাড়াও ছিলেন রিয়াদ, স্বপন ও এস আই টুটুল।

গিটার নিয়ে পাগলামির অনেক কথাই শুরুর দিকে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকে বলেছেন কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু। তিনি নিজেকে বলতেন, ‘ভাড়াখাটা গিটারের ভাড়াখাটা প্রেমিক’। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘গান নয়, গিটার আমাকে ঘরছাড়া করেছিল। গিটারের জন্যই সংগীতযুদ্ধে নেমেছিলাম। সত্তরের দশকে আমি ভাড়ায় গিটার বাজাতে যেতাম। গিটারটাও ভাড়া নিয়ে যেতাম। ওই সময় ডিসকো কোম্পানির একটি গিটার আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে ৩০ টাকা দিনপ্রতি ভাড়ায় গিয়ে শো করতাম। ভাড়া হিসেবে ৩০ টাকা দেওয়ার পর আরও ৫০ থেকে ৬০ টাকা থেকে যেত। এটা দিয়েই দিন চালাতাম। এখন কিন্তু আমার নিজের দেশি-বিদেশি ৪০টা গিটার আছে। কিন্তু সেই ভাড়াখাটা গিটারের দিনগুলোর কথা আজও জীবন্ত হয়ে আছে আমার মনে।’

তবে জীবনের শেষ দিকেও তিনি তাঁর বাবা মোহাম্মদ ইসহাকের প্রথম কিনে দেওয়া গিটারের কথা মনে রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর নামীদামি ব্র্যান্ডের ৪০টা গিটার আমার সংগ্রহে আছে। তারপরও আফসোস করি, বাবার কিনে দেওয়া প্রথম গিটারটার জন্য। সেটা ১৯৭৪ সালের দিকে। তখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি। সেটা ছিল একটি অ্যাকুস্টিক গিটার। কে কবে সেই গিটার নিয়ে গেছে, তার কোনো হদিস পাইনি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খাসোগিকে কনস্যুলেটেই হত্যা করা হয়: সৌদি আরব

বিদেশের খবর: ‘নিখোঁজ’ সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করার কথা স্বীকার করল সৌদি আরব। দেশটির প্রধান কৌঁসুলি এক বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে কনস্যুলেটের মধ্যেই হত্যা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান আহমাদ আল-আসসিরি ও ক্রাউন প্রিন্স সালমানের নিরাপত্তারক্ষী সৌদ আল-কাহতানিকে বহিষ্কার করা হয়। সৌদি সরকারের টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সৌদি টেলিভিশনে দেওয়া ওই বিবৃতির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি কনস্যুলেটে দেখা করতে যাওয়া কয়েকজনের সঙ্গে খাশোগির লড়াই হয়ে। এর কিছু পরেই খাশোগির মৃত্যু হয়।
যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড এ ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি সৌদিকে অনেক বড় বন্ধু বলেও দাবি করেছেন তিনি।

২ অক্টোবর ঘটনার পর থেকে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার কথা অস্বীকার করে আসছিল সৌদি আরব। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি গত ২ অক্টোবর নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যান। সেখান থেকে তাঁকে আর বের হতে দেখা যায়নি। এর পর থেকে এ বিষয়ে সৌদি আরবের বক্তব্য ছিল, খাসোগি কনস্যুলেট ভবন থেকে বের হয়ে গেছেন। অন্যদিকে তুরস্ত খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে এবং কনস্যুলটের ভেতরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তুরস্কের পক্ষ থেকে কনস্যুলট থেকে খাসোগি বের বের হওয়ার বিষয়ে সৌদির কাছে প্রমাণ চাওয়া হয়। তারা তা দিতে ব্যর্থ হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবার বলিউডে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ইরানি নায়িকার

বিনোদনের খবর: এবার বলিউডে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুললেন ইরানি নায়িকা ইলনাজ নরৌজি। অভিযোগ গতকাল মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি ছবি ‘নমস্তে ইংল্যান্ড’ এর পরিচালকের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবারই সারা বিশ্বে মুক্তি পেয়েছে ‘নমস্তে ইংল্যান্ড’। তবে, ‘নমস্তে লন্ডন’-এর এই সিক্যুয়েলের সাড়া খুব ভাল নয়। বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার ইঙ্গিত চিত্র সমালোচকদের আলোচনাতে। কিন্তু তার আগেই #মিটু-র কাঠগড়ায় ছবির পরিচালক বিপুল অমৃতলাল শাহ। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুললেন ইরানি অভিনেত্রী ইলনাজ নরৌজি।
তাঁর অভিযোগ, ‘নমস্তে ইংল্যান্ড’ ছবিতে সুযোগ দেওয়ার কথা বলে অডিশনের নাম করে বার বার তাঁর যৌন হেনস্থা করেছেন পরিচালক। কখনও জড়িয়ে ধরা, কখনও বা চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
‘মিড ডে’ ম্যাগাজিনে একটি কলাম লিখেছেন ইলনাজ। সেখানেই তিনি বিপুল শাহর সঙ্গে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘বিপুল শাহ ‘নমস্তে ইংল্যান্ড’ ছবিতে আমাকে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মহিলা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু, কোনও চুক্তিতে সই করেননি। বার বার চুক্তির কথা বললেও এড়িয়ে গিয়েছেন পরিচালক। কিন্তু, ছবিতে সুযোগ দেওয়ার নাম করে বার বার অডিশনের জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন।’
ইলনাজ আরও লিখেছেন, ‘প্রথম সাক্ষাতেই বিপুল এমন ভাবে কথা বলছিলেন, যেন ওই চরিত্রে আমিই অভিনয় করছি। অথচ কোনও অডিশন নেওয়া হয়নি।’ এর কয়েক দিন পর ভারসোবা সৈকতে কাস্টিং ডিরেক্টরের সঙ্গে অডিশনের দিন ঠিক হয়। অথচ সেখানে গিয়ে ইনলাজ বুঝতে পারেন, কাস্টিং ডিরেক্টর জানেনই না, কী বিষয়ের অডিশন। অডিশনের পর বিপুল শাহ ইলনাজকে জানান, তিনি যেটা চেয়েছেন, সে রকম হয়নি।
এর পর ইলনাজ নিজেই বিপুলের অফিসে গিয়ে দেখা করেন। সেখানে বিপুল তাঁকে বলেন, খুব শীঘ্রই চুক্তি সই হবে। কিন্তু অফিস থেকে বেরনোর সময় ঘটে প্রথম ঘটনা। ইলনাজ লিখেছেন, ‘বিপুল আমার এত কাছে চলে এসেছিলেন যে, অস্বস্তি হচ্ছিল। তার পর আচমকাই চুমু খান।’ ওই বৈঠকের পর ইনলাজ তাঁর ম্যানেজারকে জানান, বিপুল শাহ তাঁকে ‘নমস্তে ইংল্যান্ড’ ছবিতে নিচ্ছেন। তাঁর ম্যানেজার বিপুলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিচালকের তরফ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে ইনলাজের দাবি।
ওই প্রতিবেদনে ইলনাজের বক্তব্য, ‘আবারও বিপুলের সঙ্গে দেখা করি আমি। কিন্তু তিনি এমন আচরণ করছিলেন, যেন এই গ্রহের সবচেয়ে খারাপ অভিনেত্রী আমি।’ এর পর আরও এক বার বিপুলের অফিসে গিয়ে দেখা করেন ইলনাজ। তাঁর অভিযোগ, সেখানে ফের তাঁকে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন বিপুল। তিনি পিছনে সরে যান। জানতে চান, শুটিং কবে শুরু হবে? প্রশ্নটা করতেই ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রী অর্জুন কপূর ও পরিণীতি চোপড়ার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন। কিন্তু শুটিংয়ের দিন ক্ষণ জানাননি।
এর পর আরও এক দফা অডিশন দিতে হয় তাঁকে, লিখছেন ইলনাজ। সেটা বিপুলের অফিসে। সেখানে ফের খারাপ ভাবে তাঁর গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন বিপুল। কিন্তু তিনি শরীর খারাপের অজুহাত দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।
পরের অডিশনের জন্য বিপুল শাহ তাঁকে পাটিয়ালায় যেতে বলেন। ইলনাজের বয়ান অনুযায়ী, ‘পাটিয়ালার যে হোটেলে আমরা ছিলাম, বিপুল সেখানে তাঁর রুমে ডেকে পাঠান আমাকে। বলেন স্ক্রিপ্ট শোনাবেন। রুমে যাওয়ার পর আমাকে পিছন থেকে ধরে তাঁর দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন বিপুল। কিন্তু আমি ঘর থেকে বেরিয়ে আমার রুমে চলে যাই।’
ইলনাজের দাবি, তার পরেও আরও প্রায় দুমাস ধরে অপেক্ষা করেন তিনি। কিন্তু বিপুলের তরফ থেকে কোনও সাড়া পাননি। প্রতিবেদনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এর মধ্যেই ওয়েব সিরিজ ‘সেক্রেড গেমস’-এর অফার পাই। বিপুলকে সে কথা জানাতেই তিনি বলেন, ওই চরিত্রে নগ্ন হয়ে অভিনয় করতে হবে। তাই ওঁরা আমাকে বাদ দিয়েছেন।’
‘আমি তিন মাস ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি নিশ্চিত যে, বিপুলের সঙ্গে বিছানা শেয়ার করলে ওই চরিত্রটা পেতাম। যত বারই আমি ওঁর অফিসে গিয়েছি, তত বারই আমাকে খারাপ ভাবে ছোঁয়া, গায়ে হাত দেওয়া ও চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেছেন’, ওই প্রতিবেদনে লিখেছেন ইলনাজ।
কিন্তু তখন না বলে এখন কেন এই বিষয় শেয়ার করলেন ইলনাজ? প্রতিবেদনেই ইলনাজ তার উত্তর দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমি বিদেশি। তার উপর বিপুল শাহ বলিউডে বেশ প্রভাবশালী। তাই তখন পুলিশে অভিযোগ করিনি। আর এই ধরনের লোকজন ক্ষমতার অপব্যবহার যাতে না করতে পারে, সে জন্যই এখন এই দুর্বিসহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি।’
সূত্র: আনন্দ বাজার

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চাপের মুখেও ধৈর্য রাখবে বিএনপি

দেশের খবর: নির্বাচন সামনে রেখে নানা দিক থেকে চাপের মুখে আছে বিএনপি। কিন্তু তা সত্ত্বেও দলটি উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করার কৌশল নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য একটাই—আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া। সে কারণে অন্য কোনো ইস্যুতে ‘হঠকারী’ আন্দোলন করে পরিস্থিতি প্রতিকূলে নিতে চাইছে না দলটি।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ড. কামাল হোসেন যে ভূমিকা রেখেছেন তাতে খুশি হয়েছেন তারেক রহমানসহ বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ড. কামাল হোসেন সঠিকভাবে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন। বিশেষ করে নির্বাচনে জয়লাভ করলে সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা কে—এ দুটি প্রশ্নের চমৎকারভাবে তিনি জবাব দিয়েছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোশাররফ বলেন, ‘বিএনপির লক্ষ্য নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই আন্দোলন। কিন্তু সরকার আমাদের সভা-সমাবেশ আটকে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চাইছে। আমরাও ধৈর্যের পরীক্ষায় আছি। সময় মতো সব কিছুর জবাব দেওয়া হবে।’
বিএনপি যাতে নির্বাচনে না যায় তেমন পরিস্থিতি তৈরি করতেই দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিককালে ‘গায়েবি’ মামলা দেওয়ার কারণও বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া ঠেকানো। আর সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া উদ্দেশ্য হলো বিএনপিকে আগাম আন্দোলনে নামানো, যাতে সহিংসতাকে কেন্দ্র করে মামলা দিয়ে দলটিকে পঙ্গু করা যায়। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মূল্যায়নও এমনই।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকার নানাভাবে উসকানি দিয়ে আমাদের মাঠে নামাতে চাইছে। এ জন্যই দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার সময় এবং ২১ আগস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু বিএনপি ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। কারণ আমাদের উদ্দেশ্য হলো—নিরপেক্ষ সরকারের অধীন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করা। বিএনপি সেই পথেই আছে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার যে কৌশল বিএনপি নিয়েছে, সেটাই অব্যাহত রাখা উচিত। তিনি বলেন, “সরকার নানাভাবে বিএনপিকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিএনপিকে নার্ভ ঠিক রেখে চলতে হবে। কারণ এটা হচ্ছে ‘ওয়ার অব নার্ভ’। এটাই এখন তাদের পরীক্ষা।” এক প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ড. কামাল হোসেন অনেক বিভ্রান্তি দূর করে দিয়েছেন। কারণ ফ্রন্টের নেতৃত্ব নিয়ে কেউ কেউ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে।
গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণার সময় থেকেই এর নেতৃত্ব নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। কারণ ফ্রন্ট ঘোষণার ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. কামাল হোসেন। ওই সময় সুলতান মোহম্মদ মনসুরসহ উপস্থিত কয়েকজন নেতা তাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহম্মদের সঙ্গে তুলনা করেন। পরে ফ্রন্টের আরো কয়েক নেতা সাংবাদিকদের জানান, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বেই ফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। এতে বিএনপিসহ ফ্রন্টের অন্য দলগুলোর মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এ কারণে গত ১৬ ও ১৭ অক্টোবর ফ্রন্টের বৈঠকে প্রসঙ্গটি আলোচনায় ওঠে।

এদিকে ফ্রন্টের নেতৃত্ব ড. কামাল হোসেনের দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঐক্যপ্রক্রিয়ার দু-এক নেতার ভূমিকা নিয়েও কথা ওঠে বিএনপি, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের মধ্যে। কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেখানোর বদলে বিএনপি ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ড. কামাল নিজেই বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোনো একক নেতৃত্বে নয়, যৌথ নেতৃত্বে চলছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সংবিধান প্রণেতা হিসেবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান তথা রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মাণ আরো সহজতর হবে বলে মনে করি। কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁর ভূমিকা আমাদের আরো আশাবাদী করে তুলেছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার অন্যতম উপাদান হচ্ছে সহনশীলতা, যেটি গত কয়েক বছরে বিএনপি প্রচুর পরিমাণে দেখিয়েছে। এখন সরকারি দলকেও এই চর্চার প্রমাণ দিতে হবে, নতুবা রাজনীতিতে সহিংসতা দেখা দেবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আগামী ২৩ অক্টোবর সিলেটে, ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে এবং ৩০ অক্টোবর রাজশাহীতে সমাবেশ করতে চায়। সিলেটে মেয়র আরিফুল হকের মাধ্যমে বিএনপি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে জানা যায়। প্রথমে অনুমতি দেওয়া হলেও পরে স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ২৩ অক্টোবর একই স্থানে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সমাবেশের জন্য আবেদন করেছে। ফলে প্রশাসন অনুমতি দিলে ঐক্যফ্রন্ট ২৪ অক্টোবর সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ২৪ তারিখও না দেওয়া হলে সে ক্ষেত্রে মনে করা হবে, সরকার ওই সমাবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপিসহ ফ্রন্ট নেতারা সিলেটে মাজার জিয়ারত করতে হলেও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইভাবে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে সমাবেশের বিষয়েও সরকারের মনোভাব দেখে বিএনপি পরবর্তী কৌশল ঠিক করবে। এর আগে দেশের সুধীসমাজ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে জনমত গড়ার চেষ্টা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করা হবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই। তার আগে আন্দোলন করে শক্তি ক্ষয় করতে রাজি নয় তারা।

জানা যায়, এমন কৌশলের কারণেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের যাবজ্জীবন সাজা হওয়ার পরও বড় ধরনের আন্দোলনে যায়নি বিএনপি। গত বছর একটি দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পরও বড় ধরনের আন্দোলনে যায়নি দলটি। তারেকের সাজা হওয়ার পরে সহিংসতা হবে, এমন গুঞ্জন ১০ অক্টোবরের আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও এ নিয়ে কিছু তৎপরতা ছিল। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কঠোর কিছু বলা হয়নি। তবে দলের মধ্যে ‘তারেক সমর্থকদের’ তৎপরতা থামাতে সিনিয়র নেতারা একটি কৌশল বের করেন। তারেক রহমানকে তাঁরা ফোন করে বলেন তিনি নিজেই যাতে পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য লন্ডনে বক্তৃতা করেন। সে অনুযায়ী ৯ অক্টোবর লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়ে তারেক কারো পাতা ফাঁদে পা না দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। এভাবেই সহিংসতা এড়াতে সক্ষম হয় বিএনপি। দলটির কৌশল হলো—আন্দোলন হবে নির্বাচনকেন্দ্রিক।  সূত্র: কা‌লেরকণ্ঠ

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আইয়ুব বাচ্চুর জন্য কাঁদছে বাংলাদেশ

বিনোদনের খবর: ‘গিটারহিরো’কে শেষবারের মতো একবার দেখতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। গতকাল সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ আনা হয় শহীদ মিনারের পাদদেশে। সংগীতশিল্পী, অভিনয়শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদসহ সর্বস্তরের মানুষের চোখই ছিল অশ্রুসিক্ত। ঢাকার বাইরে থেকেও ছুটে এসেছেন বাচ্চুভক্তরা। দুপুর ১টায় আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। বাদ জুমা তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় হিমাগারে। আজ চট্টগ্রামে মায়ের কবরের পাশে কবর দেওয়া হবে এই কিংবদন্তিকে।
সহকর্মীর মৃত্যুর দিনেও তাঁকে গাইতে হলো। সরকারি আয়োজনে বরগুনা স্টেডিয়ামে হলো ‘উন্নয়ন কনসার্ট’। স্টেজে অন্য এক জেমসকেই দেখল উপস্থিত শ্রোতা ও টিভি দর্শক। আইয়ুব বাচ্চুর শোকে রীতিমতো ভেঙে পড়েছেন ‘নগর বাউল’। ‘আজকের শো উত্সর্গ করছি বাংলাদেশের কিংবদন্তি গায়ক আইয়ুব বাচ্চুকে’, বেদনাভরা কণ্ঠে থেমে থেমে বললেন। এরপর বলতে চাইলেন ১৫ বছর আগের একটি স্মৃতি, “বাচ্চুর সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে বললাম, ‘আমাদের মতো এই রকম শিল্পীদের…’ [গল্পটি আর বলতে পারলেন না]। ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, ‘শো মাস্ট গো অন’। তাই চেষ্টা করব।”
এর পরই টানা প্রায় ১০ মিনিট ধরে গিটারে তুললেন শোকের সুর। ‘ছয়টি তারে লুকিয়ে আছে ছয় রকমের কষ্ট আমার, ফুরিয়ে যাওয়া মানুষের মতো, নির্ঘুম রাত জেগে জেগে, গিটার কাঁদতে জানে’—জেমসেরই গান। সত্যিই গিটার কাঁদতে ও কাঁদাতে জানে। কেঁদে উঠল গিটার, হাউমাউ করে কাঁদলেন জেমস। সেই কান্নার ছবি মুহূর্তেই ভাইরাল। জেমসের কান্না ছুঁয়ে গেলে ভক্তদেরও।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশে এত বিপুলসংখ্যক শতকোটি টাকার মালিক কোথা থেকে এলো?

অনলাইন ডেস্ক: ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় সারা দেশে বড়জোর চার-পাঁচজন কোটিপতি ছিলেন। সে সময় সচ্ছল ধনী বলতে লাখপতিদের বোঝানো হতো।
আমি একটি মফস্বল শহরে শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছি। জেলা সদরের শহর হলেও এই জনপদে বিত্তবৈভবের কোনো ছাপ ছিল না। নোয়াখালীর মূল শহরটি মেঘনার ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হওয়ার কারণে মাইজদীতে জেলার সদর দপ্তর অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়েছিল। অস্থায়ী শহরে কেউ পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করেনি। টিন ও বাঁশের ঘরেই বসবাস করত শহরের গণ্যমান্য পরিবার। সরকারি অফিসগুলোর মধ্যে একমাত্র ট্রেজারি ভবন ছাড়া বাকি সব ছিল বাঁশ অথবা টিনের চালাবিশিষ্ট। কিছু ভবনের দেয়াল ছিল পাকা, কিছু ছিল আধাপাকা, বেশির ভাগের দেয়াল ছিল টিনের অথবা বাঁশের। বেসরকারি স্থাপনার মধ্যে একমাত্র উল্লেখযোগ্য পাকা ভবন ছিল জামে মসজিদ। বিশাল আকারের না হলেও ভবনটি যে চোখে পড়ার মতো ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ছোটখাটো আকারের আরো দু-একটি মসজিদও পাকা ভবনে অবস্থিত ছিল।

শহরে বিদ্যুৎ ছিল না। একটিমাত্র পাকা রাস্তা ছিল, যার সঙ্গে যুক্ত ছিল দু-একটি শাখা রাস্তা। সেগুলো ছিল সরু, তবে পাকা। জেলা প্রশাসক, এসপি, এডিসি, এসডিও, অ্যাডিশনাল এসপি এবং কয়েকটি বিভাগের প্রধান কর্মকর্তার সরকারি জিপগাড়ি ছিল। তবে কারো ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল না। ম্যাজিস্ট্রেট, মুনসেফ ও বিচারক, জিলা স্কুলের হেডমাস্টারসহ অনেক পদস্থ কর্মকর্তা রিকশায় চলাফেরা করতেন। বেসরকারি নাগরিকদের মধ্যে সচ্ছলতার বিচারে নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে যাঁদের টেনেটুনে মধ্যবিত্তের সারিতে ওঠানো যায়, তাঁরা হলেন হাতে গোনা কয়েকজন উকিল, মোক্তার—এককথায় আইনজীবী, সরকারি অফিসের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নন-গেজেটেড কর্মচারী, ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী দোকানদার। তাঁদের কারো কারো সচ্ছলতার পেছনে রয়েছে চর এলাকায় জমির মালিকানা; এর বেশির ভাগ হচ্ছে জেলা প্রশাসনের আনুকূল্যে পাওয়া খাসজমি। নিজ জেলা ও বছরে দু-একবার ঢাকা শহরে যাওয়ার মধ্যে তাঁদের চলাচল সীমিত। একটি আইনজীবী পরিবারের দুজন সদস্য ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য এবং একজন পর্যটক হিসেবে বিলেত গিয়েছিলেন। শহরে আর কোনো বিদেশফেরত লোককে আমি দেখিনি। হজে যাওয়া লোকজনের নাম-পরিচয় শুনেছি বলে মনে পড়ছে না। শহরতলির এক গ্রাম থেকে আমার এক আত্মীয় হজে গিয়েছিলেন। হজ থেকে ফিরে আসার পর মায়ের সঙ্গে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম।

শহরে টাকার ছড়াছড়ি দেখিনি। প্রাদেশিক পরিষদ কিংবা জাতীয় সংসদের নির্বাচনে প্রার্থীদের মোটরগাড়িতে চলাচল করতে দেখিনি। সাইকেল ও রিকশায় তাঁদের চলাফেরা করতে দেখেছি। আমাদের বাসার সঙ্গেই (একই সীমানাপ্রাচীর) জাতীয় সংসদের একজন গণ্যমান্য সদস্য বাস করতেন। তিনি বিভিন্ন সময় পিপি, জিপি, এমনকি জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান/ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনিও রিকশায় চলাফেরা করতেন। সহজ-সরল ও সাধারণভাবে জীবন যাপন করতেন। বাড়িতে ঘটা করে কোনো অনুষ্ঠান করতেন না। সম্পদ বা আয়ের চাকচিক্যময় প্রকাশ ঘটাতেন না। শহরের কারো মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা ছিল না। চলাফেরার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী-ঠিকাদারদের দুটি বৈশিষ্ট্য তাঁদের সচ্ছলতার ইঙ্গিত বহন করত—(১) তাঁরা এক গরুতে কোরবানি দেন (শেয়ারে নয়) এবং (২) না মুলিয়ে (দরদাম না করে) রিকশায় ওঠেন। দৃষ্টিকটুভাবে কেউ টাকার গরম দেখাতেন না। অত টাকা বোধ হয় তাঁদের ছিল না।

ষাটের একেবারে প্রথম দিকে ঢাকায় আসি এবং কলেজের পড়া শেষ করে ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হই। এ সময় শহরের কিছু মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের সঙ্গে জানাশোনা হয়। এ ছাড়া উচ্চ আয়ের বিত্তবান ব্যক্তিদের গল্প-কাহিনি বন্ধুবান্ধব ও সিনিয়র ছাত্রদের কাছে শুনতে পাই। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পূর্ববঙ্গের অভিজাত হিন্দু পরিবারগুলোর প্রায় সবাই ভারতে চলে যায়। হাতে গোনা কয়েকটি মুসলিম সামন্ত পরিবার; যেমন—ঢাকা, বগুড়া, ধনবাড়ী, দৌলতগঞ্জের নবাব পরিবার এই প্রদেশে বসবাস করছিল। তারা বিপুল সম্পত্তির মালিক ছিল। তবে তাদের হাতে রক্ষিত নগদ অর্থের পরিমাণ কত ছিল, তা সঠিকভাবে বলা যায় না। পঞ্চাশের দশকে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি কমে যায়। আয়-উপার্জনেও ভাটার টান পড়ে। ষাটের দশকেও তাদের সচ্ছল বিত্তশালী হিসেবে গণ্য করা যেত। তবে তাদের জীবনাচারে অর্থের ঝলকানি চোখে পড়ার মতো ছিল না। আমাদের সতীর্থদের মধ্যে নবাব পরিবারের ছেলে খাজা শামসুদ্দিনের একটি ছোট অস্টিন গাড়ি ছিল, সেই গাড়িতে আমরা ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেতাম। আর গাড়ি ছিল শেরেবাংলার ছেলে ফয়জুল হক বাবুর এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের ছেলে ওবায়দুর রহমানের। সতীর্থ ছাত্রীদের মধ্যে নিয়মিত গাড়িতে আসত মাত্র দু-তিনজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিদেশফেরত কয়েকজন অধ্যাপকের গাড়ি ছিল। তাঁদের অনেকেই ছিলেন হলের প্রভোস্ট।

ষাটের দশকের ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে যাঁদের নাম শুনেছি তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বড় কন্ট্রাক্টর জহুরুল ইসলাম ও চা-বাগানের মালিক সাইদুল হাসান। শিল্পপতিদের মধ্যে প্রখ্যাত ছিলেন এ কে খান, পূর্ব পাকিস্তানে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী সদরে ইস্পাহানি ও কালীগঞ্জের হাজি গুল বক্স। বাকি শিল্পপতি; যেমন—আদমজি, দাউদ, বাওয়ানি, তাঁরা সবাই আবাঙালি। বাঙালি শিল্পপতি; যেমন—মকবুলুর রহমান, আফিলউদ্দিন, আগা ইউসুফ সচ্ছলতার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করেছেন, তবে ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হননি। সে বিবেচনায় স্বাধীনতা লগ্নে বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা আধা ডজনের বেশি হবে বলে মনে হয় না। এক হিসাবে দেখা গেছে যে ১৯৭২ সালে ব্যাংকে কোটি টাকার আমানতধারীর সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ। এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৭৫ সালে ৪৭ এবং ১৯৮০ সালে মাত্র ৯৮। শুধু পাঠকের কৌতূহল নিবারণের জন্য জানাচ্ছি যে বর্তমানে এ সংখ্যা ৭০ হাজার ৪৬৩। কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা বৃদ্ধি নিশ্চয়ই অবাক করার মতো।

এ তো গেল শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা অর্থের হিসাব। আয় ও সম্পদের পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বিশাল। বিত্তহীন, নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের অবস্থার বিশেষ উন্নতি না হলেও উচ্চমধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের ধনসম্পদ বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বাংলাদেশে তাদের আছে সোনার খনি। তারা দেখতে পায় এখানে বাতাসে টাকা উড়ছে। একটু বৈষয়িক বুদ্ধি থাকলে, নৈতিকতাবোধ একটু কমিয়ে নিলে, সর্বোপরি ক্ষমতাধরদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে বাতাসে ভেসে বেড়ানো টাকা ধরে নেওয়া এবং ঠিক জায়গায় তা সরিয়ে ফেলা কঠিন কাজ নয়। এ দেশে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল, জবাবদিহির বালাই নেই বললেই চলে। দল পাকিয়ে বাজার ক্ষমতা সহজে কবজা করা যায়। নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ উল্টো নিয়ন্ত্রিত হতে পছন্দ করে। এমন অবস্থায় ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বাগিয়ে নিয়ে মহাসুখে টাকা বানানো যায়।

শিল্প-ব্যবসা, আর্থিক খাতের কোন এলাকা থেকে এবং কোন সময় টাকা আসা শুরু করল তা খতিয়ে দেখা প্রাসঙ্গিক হবে। পঞ্চাশের দশক থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড একই ধারায় প্রবাহিত হচ্ছিল। উৎপাদন কাঠামো, উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং অর্থনৈতিক পণ্য তথা ভোগ্যপণ্যের দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত ছিল। শ্রমিকের মজুরি, জোতদার-গৃহস্থের নগদ আয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কিংবা ব্যবসায়ীদের আয়ের পরিমাণ লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়নি। এ ধরনের থিতু অবস্থা ভোক্তাসাধারণের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও তা অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে না। দেশের উৎপাদন, আয়-উন্নতি, সম্পদ বাড়াতে হলে নতুন প্রক্রিয়া-পদ্ধতি, নতুন প্রযুক্তি, নব-উদ্যোগ এবং নতুন কর্মধারা নিয়ে এগোতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন হয় মনোজগতে একটা বিরাট আলোড়ন, যা গতানুগতিক জীবনধারাকে বড় রকমের ধাক্কা দিয়ে মানুষকে স্থবিরতা ঝেড়ে ফেলতে বাধ্য করে, বাঁচার প্রয়োজনে মানুষ নতুন নতুন পথ খুঁজে নিতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালায়। ইতিহাস বলে অবশেষে তারা সফল হয়।

১৯৭৩-৭৪-এর মন্বন্তর বাংলাদেশিদের মনোজগতে তেমনি একটি ধাক্কা দিয়েছিল। নানা প্রকার আন্তর্জাতিক উপধায়কের জটিল সমীকরণে জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বৃৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষ তথা নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। দ্রব্যমূল্যের চাপে বিত্তহীনরা সরাসরি পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারাতে শুরু করে, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়। উচ্চমধ্যবিত্তরাও মূল্যস্ফীতির আঁচ অনুভব করে। নগণ্যসংখ্যক উচ্চবিত্ত, যারা কোনোভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ভাগীদার হতে পেরেছিল অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছিল, শুধু তাদের গায়ে দ্রব্যমূল্যের আঁচ লাগেনি। তবে সাধারণ মানুষের দুর্বিষহ যন্ত্রণা এত দৃশ্যমান ছিল যে তারাও পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুভব করতে পেরেছিল। এ সময় সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষও বুঝতে পারল যে এভাবে চললে বাঁচা যাবে না। নতুন কিছু করতে হবে। নতুন পথে চলতে হবে।

প্রযুক্তির সন্ধান ও প্রয়োগে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করে এগিয়ে গেল। দেশি-বিদেশি এনজিওগুলো তাদের সাহায্য করল। তারা আগ্রহী কৃষকদের উন্নত বীজ, সার, কৃষি যন্ত্রপাতি ও বালাইনাশক সরবরাহ করল। চাষাবাদের উন্নত পদ্ধতি শিখিয়ে দিল। নতুন ফসল উৎপাদন শেখাল। কৃষি উৎপাদনে এর ইতিবাচক ফল দৃশ্যমান হলো। এক সফলতার হাত ধরে অন্য সফলতা কৃষকের দ্বারে হাজির হলো। কৃষিতে নতুন নতুন মাত্রা যোগ হতে শুরু করল। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উৎপাদন, মেরামতকরণ ও সংস্কার সাধনে মেকানিক, টেকনিশিয়ান ও স্বল্প শিক্ষিত দেশীয় উদ্ভাবকরা সম্ভাবনাময় নতুন পথের সন্ধানে এগিয়ে চলল। এসব ক্ষেত্রে সরকারের সাহায্য-সহযোগিতা ও পরিকল্পিত প্রণোদনা সীমিত ছিল। তবে সরকার কোনোরূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি।

স্বাধীনতার পরপরই সমাজতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি নিবেদিত থেকে সরকার রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। পরবর্তীকালে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রয়োজনে সরকার ব্যক্তি খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসারিত করতে থাকে। স্বাধীনতার সুফল হিসেবে সরকার বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সুযোগ লাভ করে। সরকার এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করে এসব দেশ এবং সংস্থার কাছ থেকে ঋণ, অনুদান, প্রকল্প ও কারিগরি সহযোগিতা বাবদ বিপুল আর্থিক সাহায্য জোগাড় করতে সক্ষম হয়। ব্যক্তি খাতের প্রতি সরকারের ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ করে পুঁজিবাদী দেশের সম্পদশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভিন্ন আঙ্গিকে এ দেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রোডলার-সমৃদ্ধ দেশ এবং তাদের প্রভাবশালী গোষ্ঠী এ দেশের ধর্মাশ্রিত সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গকে উদারভাবে সাহায্য করতে শুরু করে। বিদেশি সংযোগ থেকে এই শ্রেণির ব্যক্তিরাও বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার সুযোগ পায়।

সত্তরের শেষ দিকে বিদেশি সংযোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করার পথ-ঘাট আবিষ্কৃত হলেও প্রকৃতপক্ষে অর্থবহ বাস্তব কর্মকাণ্ড শুরু হয় আশির দশকে। এ সময় ব্যক্তি খাত লক্ষণীয়ভাবে প্রসারিত হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পেছনে পড়তে থাকে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তারা নানারূপ সুযোগ-সুবিধা লাভ করে, যার ফলে লাভের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে তাদের আর্থিক ভিত অনেক বেশি মজবুত হয়।

আশির দশকে সরকার ব্যক্তি খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গণ্য করতে শুরু করল। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পকে নানা রকম প্রণোদনা দিয়ে ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন প্রাণবন্ত সেক্টরে রূপান্তর করার প্রচেষ্টা চালাল। ফলোদয় হলো। নানা পেশার তরুণ উদ্যোক্তারা এ সেক্টরে ভিড় জমাল। রপ্তানিতে কাঁচা পয়সা, আকাশচুম্বী বিশাল লাভ। অল্প সময়ের মধ্যে এ খাতের উদ্যোক্তা-শিল্পপতিরা বিত্তবান হয়ে সমাজের ধনাঢ্য গোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করল। এ দশকে ব্যাংক, বীমাসহ অনেক লাভজনক খাতকে ব্যক্তিমালিকানায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো। এসব খাতে ঝুঁকিমুক্ত সীমাহীন লাভের সুযোগ রয়েছে। পথিকৃৎ উদ্যোক্তারা এ সুযোগ গ্রহণ করে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হলো। তারা একের পর এক নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলল।

একই প্রক্রিয়া নব্বইয়ের দশকে আরো জোরদার হলো। পোশাকশিল্প, ব্যাংক, বীমার সঙ্গে যোগ হলো মানবসম্পদ রপ্তানি, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, টেলিভিশন চ্যানেল, মোবাইল ফোন কম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউিট স্থাপন। এসব সেক্টরের পথিকৃৎ উদ্যোক্তারা বিপুল অর্থ উপার্জনের সুযোগ পেল। বিশাল অর্জন কাজে লাগিয়ে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারিত করল। শত শত, এমনকি হাজার কোটি টাকার সম্পদের জাল টেকনাফ থেকে টরন্টো পর্যন্ত বিস্তৃত হলো। এরপর এলো রেন্টাল পাওয়ার, মেগা প্রজেক্ট ও সাঙাত পুঁজির (Crony Capitalism) দশক। সম্পদের পাহাড় আরো উঁচু হলো। দেশি ধনীরা আন্তর্জাতিক ধনকুবেরের সারিতে উঠে এলো। দেশে তো বটেই, বিদেশেও তাদের নাম উচ্চারিত হলো।

স্বাধীনতা বাংলাদেশি জনগণকে বিদেশের সঙ্গে সংযোগের এক অভূতপূর্ব সুযোগ উপহার দিয়েছে। স্বাধীনতা-পূর্বকালে এতদঞ্চলে সচ্ছল, শিক্ষিত, উদ্যোগী নাগরিকের চলাফেরা ও যোগাযোগ সীমিত ছিল বড়জোর করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ পর্যন্ত। স্বাধীনতার পর, বিশেষ করে চুয়াত্তরের ধাক্কায় তারা বুঝতে পারল যে ভালোভাবে বাঁচতে হলে দেশের বাইরে যে সুযোগ-সম্পদ রয়েছে তার ওপর হাত রাখতে হবে। রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশের সম্পদ সংগ্রহ করতে হবে। যে চিন্তা সেই কাজ; এ প্রচেষ্টায় তারা সফল হলো। ঋণ, অনুদান, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স, ব্যক্তিপর্যায়ের সাহায্য সংগ্রহের মাধ্যমে লাখো কোটি টাকা দেশে এলো। এর একাংশ ব্যক্তি খাতে, ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে চলে গেল। শিথিল প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণের কারণে রাষ্ট্রীয় তথা জনগণের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বঞ্চিত করে লোভী সুযোগসন্ধানীরা ধনকুবের হওয়ার সুযোগ পেয়ে গেল। সঙ্গে যুক্ত হলো সাঙাত পুঁজিবাদের (Crony Capitalism) সুরক্ষণ। এসব সুবিধা যারা পেয়েছে তারাই এখন শতকোটি টাকার মালিক।
লেখক : ড. সা’দত হুসাইন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র জব্দ অভিযান

অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শিগগিরই সারা দেশে অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এরই মধ্যে অবৈধ অস্ত্রধারী ও চোরাকারবারিদের তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্র মতে, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ বাড়ছে বলে আঁচ পাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আর এ কারণে সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে অভিযানে নামতে যাচ্ছে তারা।
গত ১৫ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে। আগের দিন পুলিশ সদর দপ্তরে অর্ধবার্ষিকী অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচন ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা অরাজকতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজদের তালিকা করে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে নেমেছে। কিছুদিন আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ডিবি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নেমেছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘আমরা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশনা পেয়েছি। ডিবি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কাজ করছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরে হয়তো যৌথভাবে অভিযান শুরু হবে।’
গত ৭ অক্টোবর কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে অস্ত্র নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল দুই অস্ত্র ব্যবসায়ী। রাস্তায় যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়তে না হয় সে জন্য মাইক্রোবাসের (ঢাকা মেট্রো চ-১৩-৭৭৩৭) সামনে লাগিয়েছিল স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুয়া স্টিকার। কিন্তু র‌্যাব-৭-এর সদস্যরা চট্টগ্রাম শহর থেকে আলমগীর হোসেন ও আল শাহরিয়ার নামের দুই অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। গাড়ি থেকে আটটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ২০ হাজার পিস ইয়াবাও উদ্ধার করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা জানায়, সামনে নির্বাচনে অস্ত্রের দাম বেশি পাওয়ার কারণে তারা এ অস্ত্রগুলো মহেশখালী থেকে সংগ্রহ করে ঢাকায় মজুদ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এজাতীয় অস্ত্র ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের জন্য এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুতি নিয়েছে।
চট্টগ্রামের র‌্যাব-৭-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্র বেড়ে যায়। যাদের আমরা ধরেছি তারা জানিয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে অস্ত্র বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিল।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তৎপরতা অনেক বাড়ানো হয়েছে।’
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পূজায় নিরাপত্তা দেওয়ার পর আশা করা যাচ্ছে, এ সপ্তাহেই অবৈধ অস্ত্র, অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একসময় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করত। এখন আধিপত্য বিস্তার বা প্রতিপক্ষ দমন করার জন্যও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল পর্যন্ত সারা দেশে সাড়ে পাঁচ হাজার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারের বিপরীতে দুই হাজার ২০৮টি মামলা দায়ের হয়। তবে উদ্ধার বা আটকের বেশির ভাগ মামলাই বিচারাধীন। সূত্র বলছে, আইনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলার বিচারে ধীরগতি এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিচার হচ্ছে না।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, যারা মাদক ব্যবসায়ী বিশেষ করে ইয়াবা চোরাচালানে জড়িত, তাদের অনেকেই অস্ত্র ব্যবসায়ও জড়িত। নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করতে অবৈধভাবে অস্ত্র দখলে রেখেছে তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest