সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরের

পাইলস বোঝার উপায়

পাইলস বোঝার উপায়

কর্তৃক daily satkhira

স্বাস্থ্য কণিকা: পাইলস রোগটির সঙ্গে আমরা হাজার বছর ধরে পরিচিত। তবে এখনও এ রোগের বিষয়টি আমাদের কাছে অস্বচ্ছ, ভ্রান্ত ধারণায় পূর্ণ এবং কুসংস্কারের ঘেরাটোপে বন্দি।
পাইলস বলতে আমরা বুঝি মলদ্বারের ভেতরে ফুলে ওঠা রক্তের শিরার একটি মাংসপিণ্ড। রক্তের শিরার মাংসপিণ্ড বা ‘কুশন’ সব মানুষেরই রয়েছে। পাইলস বা ‘হেমোরয়েড’ আমরা তখনই বলি যখন এটি কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করছে। যেমন মলদ্বারের বাইরে ঝুলে পড়া মাংসপিণ্ড অথবা রক্ত যাওয়া।

বয়স: ৩০-৬০ বছর বয়সের ভেতর এ রোগের প্রকোপ বেশি। ২০ বছর বয়সের নিচে পাইলস খুব একটা দেখা যায় না। পাইলস শনাক্ত করা সহজ কাজ নয়। অভিজ্ঞ চিকিৎসক কেবল যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে পাইলস শনাক্ত করতে পারেন। কখনও কখনও টয়লেটে বসিয়ে কোঁত দিয়ে দেখতে হয়।

কারণ: পাইলসের প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হয়নি। কিছু কিছু রোগ পাইলস হওয়াকে ত্বরান্বিত করে যেমন, মলত্যাগে অতিরিক্ত কোঁত দেয়া, অনিয়মিত পায়খানার অভ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ইত্যাদি। অন্য কিছু কারণ আছে যার জন্য পাইলস হতে পারে যেমন : বংশগত, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, অনেকক্ষণ গরমে থাকা, ভারী ওজন তোলা, গর্ভাবস্থা, আঁটসাঁট পোশাক পরা, হরমোনের প্রভাব, আঁশ জাতীয় খাবারের অভাব ইত্যাদি।

উপসর্গ: পাইলসের শ্রেণীবিন্যাস : পাইলস দুই প্রকার।

বহিঃস্থিত পাইলস: এ ক্ষেত্রে মলদ্বারের বাইরে ফোলা থাকে এবং কিছুটা ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে।

অভ্যন্তরীণ পাইলস: এ ক্ষেত্রে টয়লেটে টাটকা লাল রক্ত দেখা যায়। কোনোরূপ ব্যথা থাকে না। মলত্যাগের শেষে রক্ত যায়। রক্ত ফোঁটায় ফোঁটায় যায় আবার কখনও তীরের বেগে যায়। রক্ত যাওয়ার পর যদি বেশি ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয় তাহলে এনাল ফিশার বা ক্যান্সার হতে পারে। রক্ত যাওয়া কখনও একটানা চলে না। প্রথমত বছরে একবার বা দু’বার যায় এরপর দু’মাস পরপর যায়। তারপর প্রতি মাসে যায়।

পাইলসে সাধারণত ব্যথা হয় না। থ্রম্বেসিস হলে বা পাইলস বাইরে অতিরিক্ত ঝুলে থাকলে ব্যথা হতে পারে। যেসব রোগে টয়লেটে রক্ত যায় তার মধ্যে রয়েছে পাইলস, এনাল ফিশার, পলিপ, ক্যান্সার, ফিস্টুলা, আলসারেটিভ কোলাইটিস, রেকটাল প্রোলাপস।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা: প্রকটস্কপি ও সিগময়ডস্কপি পরীক্ষা করা জরুরি। মলদ্বারের ভেতর এন্ডোস্কপি যন্ত্র দিয়ে এ পরীক্ষা ব্যতীত কখনও সঠিক রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়।

প্রতিরোধের উপায়: সময়মত কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়ার চিকিৎসা করা, টয়লেটে বসে বসে পেপার বা বই না পড়া, খাবারের সঙ্গে আঁশ জাতীয় জিনিস যেমন : ফল, সবজি, সালাদ পরিমাণমতো খাওয়া, দৈনিক ৬-৮ গ্লাস পানি পান করা, ভারী ওজন না তোলা, অতিরিক্ত গরমে বেশিক্ষণ না থাকা ইত্যাদি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হাড়ক্ষয় রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা

স্বাস্থ্য কণিকা: অস্টিওপরোসিস বা হাড়ক্ষয় বলতে শরীরে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে বুঝায়। অস্টিওপরোটিক হাড় অনেকটা মৌচাকের মতো হয়ে যায়। এতে হাড় ঝাজরা বা ফুলকো হয়ে যায়। এতে হাড় অতি দ্রুত ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। মারাত্মক হাড়ক্ষয়ে হাঁচি বা কাশি দিলেও তা ভেঙে যেতে পারে।

পঞ্চাশ বছর পেরোনোর পর থেকে শরীরের হাড়ক্ষয় বা এর লক্ষণগুলো প্রতিভাত হতে থাকে। এর শুরু অনেক আগে থেকেই হতে থাকে। পুরুষ বা মহিলার দেহের হাড় সাধারণত ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত ঘনত্বে বাড়ে; ৩৪ বছর পর্যন্ত তা বজায় থাকে। এরপর থেকে হাড়ক্ষয় হতে থাকে।

যাদের হাড়ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি তাদের হাড়ের ঘনত্ব দ্রুত কমতে থাকে। মহিলাদের মাসিক-পরবর্তী সময়ে হাড়ক্ষয়ের গতি বেগবান হয়। এছাড়া অনেক কারণ বা স্বাস্থ্য ঝুঁকি হাড়ক্ষয়ের আশঙ্কা বৃদ্ধি করতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০ শতাংশ রজঃনিবৃত মহিলা হাড়ক্ষয়ে আক্রান্ত। ইউরোপের চিত্রও অনেকটা এমনই। অন্ততপক্ষে ৪০ শতাংশ মহিলা ও ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পুরুষ তাদের জীবদ্দশার বাকি সময়ে স্বল্প আঘাতে হাড় ভাঙার শিকার হন (যা হাড়ক্ষয়ের কারণেই হয়ে থাকে)। যাদের একবার হাড় ভাঙার ঘটনা ঘটে, তাদের পরবর্তীতে হাড় ভাঙার ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। একবার পাঁজরের হাড় ভাঙলে কোমরের হাড় ভাঙার আশঙ্কা ২-৩ গুণ বৃদ্ধি পায় এবং ঊরু ও হাড় ভাঙার আশঙ্কা ১-৪ গুণ বাড়ে। বাংলাদেশে মহিলা-পুরুষের মাঝে হাড়ক্ষয়ের হার ও ঝুঁকির উপস্থিতির তথ্য অপ্রতুল।

হাড়ক্ষয়ের ঝুঁকি

অসংশোধনযোগ্য ঝুঁকি
* বয়োবৃদ্ধি
* স্ত্রী লিঙ্গ
* জিনগত ত্র“টি
* অপারেশনের কারণে ডিম্বাশয় না থাকা
* হায়পোগোনাডিজম (পুরুষ ও মহিলার)
* অতি খর্বাকৃতি

সংশোধনযোগ্য ঝুঁকি
* ভিটামিন ডি’র ঘাটতি
* ধূমপান
* অপুষ্টি (ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, কে ইত্যাদি)
* ক্ষীণকায় দৈহিক আকার
* আমিষনির্ভর খাদ্যাভ্যাস
* বেশি বয়সে অতিরিক্ত চা, কফি, চকোলেট গ্রহণের অভ্যাস।
* খাদ্যে বা বাতাসে ভারী ধাতু
* কোমল পানীয় ও মদ্যপান

মেডিকেল ঝুঁকি
* দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা
* স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন [বাংলাদেশের রোগীদের মাঝে এটি খুব ব্যাপক; বিশেষ করে অস্বীকৃত/ আস্বীকৃতদের দ্বারা নির্দেশিত হয়ে যারা ওষুধ সেবন করছেন। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির (কবিরাজি, আয়ুর্বেদি, হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ইত্যাদি) মাঝে স্টেরয়েডের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি।]
* অন্যান্য হরমোন জনিত রোগ : হাইপারথাইরয়ডিজম, হাইপারপ্যারাথাইরয়ডিজম, কুসিং সিন্ড্রম, ডায়াবেটিস, এক্রমেগালি, অ্যাডিসন রোগ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, এসএলই, কিডনি অকার্যকারিতা ইত্যাদি।

উপসর্গ
প্রথমত কোনো শারীরিক লক্ষণ নাও থাকতে পারে। কোমরে বা পিঠে বা অন্য কোথাও ব্যথা, বিশেষ করে তা ব্যথানাশকে কমেছে না, এমন চরিত্রের। কারও কারও দৈহিক উচ্চতা কমে যাবে, কুঁজো হয়ে যাওয়া বা সামনে ঝুঁকে থাকা। সঙ্গোপনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হল, মেরুদণ্ডে ফাটল বা চিড় ধরা এবং ঠুনকো আঘাতেই হাড় ভাঙা।

শনাক্তকরণ
অনেক রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার হতে পারে: কিছু ঘনত্ব পরিমাপের জন্য, কিছু আবার ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করার জন্য। বিএমডি পরীক্ষা এ কাজে সবচেয়ে ভালো।

চিকিৎসা
এ রোগে প্রধান ও প্রথম পদক্ষেপ হবে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, সম্ভব হলে তা রহিত করা। বেশ ওষুধ পাওয়া যায় সেগুলোর কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগিণী বা রোগীর জন্য প্রযোজ্য হতে পারে।
যেহেতু হাড়ক্ষয় (অস্টিওপরোসিস) একবার হলে আর পেছন দিকে যাওয়ার আশঙ্কা ক্ষীণ, তাই একে আগেভাগেই রোধ করার জাতীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি নিতে হবে। এর অংশ হিসেবে কারা কতটুকু ঝুঁকিতে আছেন বা কারা এরই মধ্যে হাড়ক্ষয়ে ভুগছেন, তা নির্ধারণ করতে হবে এবং উপযোগী চিকিৎসা নির্বাচন ও প্রয়োগ করতে হবে।

হাড়ক্ষয় রোধে নিুলিখিত পদক্ষেপগুলোর বিবেচনা করা যেতে পারে-
* নিয়মিত ব্যায়াম
* স্টেরয়েডসহ ক্ষতিকারক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকা
* পুষ্টি নিশ্চিতকরণ
* ধূমপান ত্যাগ
* প্রয়োজনে পরিমিত ক্যালসিয়াম সেবন

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যুবরাজের পদ থেকে সরানো হচ্ছে সালমানকে

বিদেশের খবর: সৌদি সরকার অসংখ্য বদনাম কুড়িয়ে ফেলা যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানকে সরিয়ে তার অপেক্ষাকৃত কম উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছোট ভাই খালিদ বিন সালমানকে যুবরাজের পদে অভিষিক্ত করার পরিকল্পনা করছে দেশটি।
ফ্রান্সের দৈনিক লা ফিগারো বৃহস্পতিবার প্যারিসের একটি কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে। দৈনিকটি জানিয়েছে, রিয়াদ-বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগির গুম হয়ে যাওয়া নিয়ে এরইমধ্যে সৌদি আরবের প্রভাবশালী এলিজেন্স কাউন্সিল গোপনে বৈঠক করেছে। ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে এরইমধ্যে যুবরাজ বিন সালমান বহু প্রিন্সের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে এই কাউন্সিলের বিরাগভাজন হয়েছেন।
খাশোগিকে মোহাম্মাদ বিন সালমানের নির্দেশে তুরস্কের ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি এলিজেন্স কাউন্সিল গত বছর দেশটির রাজতন্ত্রের প্রথা ভেঙে বিন সালমানকে নতুন যুবরাজ পদে নিয়োগ দিয়েছিল।

ফরাসি পত্রিকাটি বলছে, এই কাউন্সিল এখন ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মাদ বিন সালমানের ছোট ভাই খালিদ বিন সালমানকে উপ-যুবরাজের দায়িত্ব দিতে চাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তাকে যুবরাজের পদে অভিষিক্ত করা হবে। খালিদ বর্তমানে আমেরিকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন।

একটি সৌদি সূত্র লা ফিগারোকে বলেছে, খালিদকে উপ-যুবরাজের পদে বসানোর অর্থ হবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে যুবরাজের পদ হারাবেন মোহাম্মাদ বিন সালমান। এভাবে সৌদি রাজতন্ত্রের ক্ষমতা সালমান পরিবারের কাছেই রেখে দেয়া সম্ভব হবে। দেশে এবং দেশের বাইরে খালিদ বিন সালমান তার বড় ভাই মোহাম্মাদের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।
এর আগে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস গত সোমবার খবর দিয়েছিল, খালিদ বিন সালমানকে এরইমধ্যে রিয়াদে উড়িয়ে আনা হয়েছে। তিনি আর রাষ্ট্রদূত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছেন না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্বাচন নিয়ে কোনো পক্ষই স্বস্তিতে নেই

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে নির্বাচন যত কাছে আসছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে অস্থিরতা ততই বাড়ছে। নির্বাচন ঘিরে কোনো পক্ষই এখন স্বস্তিতে নেই।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বেশির ভাগ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বাদানুবাদ-দ্বন্দ্ব, কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কোনো কোনো ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপের পর বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ও প্রতিবাদ ওঠা এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে দেশে-বিদেশে চাপ থাকা আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলেছে। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষমতাসীনদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।

রাজনীতি ও ভোটের মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সংকট অন্য রকম। এই মুহূর্তে দলটি তাদের তৃণমূলে নির্বাচনে যাওয়া না–যাওয়া নিয়ে কোনো বার্তাই পৌঁছাতে পারেনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি বাস্তবায়নের কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না দলটির নেতারা। কোনো দাবি পূরণ ছাড়াই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে গত দশম সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না—এমন বার্তা দলের তৃণমূলে ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়েও সংশয়ে আছে বিএনপি। তা ছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির অংশগ্রহণের পর তাদের পুরোনো জোট ২০-দলীয় জোটে ভাঙন দলটিকে চাপে ফেলেছে। ২০ দলের ঐক্য ধরে রাখতে বিএনপির নেতারা এখন দৌড়ঝাঁপ করছেন।

রাজনীতির এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বসে নেই ছোট দলগুলো। তারা জোট করছে আবার ভাঙছেও। হিসাব কষছে কোন জোটে গেলে লাভ বেশি। ছোট দলগুলোর আচরণ এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় বৃহত্তম দল জাতীয় পার্টির কিছুটা ধোঁয়াশা অবস্থান নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থাকবে, নাকি আলাদা জোট করে ভোটে আসবে, সেটি এখনো দলটি স্পষ্ট করেনি।

অবশ্য ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অস্বস্তি, উত্তেজনা, সংকট থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কেননা নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকারসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। এসব বিষয়ে কোনো মীমাংসা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা নিয়ে সবাইকে শেষ দিন পর্যন্ত অস্বস্তিতে থাকতে হবে। তবে রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিবেশ ভারী হওয়া ও সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে সন্দেহ, উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের আচরণ। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারকে ঘিরে কমিশনের কাজে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আবার নির্বাচন কমিশনের কাজ কমিশনারদের অবহিত না করা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে মাহবুব তালুকদারসহ অন্য কমিশনারদের দূরত্ব তৈরি হয়। কমিশন সচিবালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়েও আপত্তি আছে কমিশনারদের। শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার কীভাবে হবে, কতটা হবে—এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে যেমন পক্ষ-বিপক্ষ আছে, তেমনি তাঁরা ইভিএমে ভোট নেওয়া নিয়ে আছেন অস্বস্তিতে। অস্বস্তির কারণ অল্প সময়ের মধ্যে যাঁরা ইভিএম পরিচালনা করবেন, তাঁদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটারদের ইভিএমে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে অভ্যস্ত করে তোলা।

অবশ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা মনে করছেন তাঁদের মধ্যে যে মতবিরোধ আছে তা নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা আছে। এ থেকেই অস্বস্তি সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বিগত সময়ে, বিশেষ করে দশম সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ভোট হতে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো ভোট নিয়ে ভাবছে, এবার কেমন ভোট হবে। আর ভোটাররা ভাবছেন, তাঁরা তাঁদের ভোট দিতে পারবেন কি না বা তাঁদের ভোটের প্রতিফলন ফলাফলে থাকবে কি না।

এই নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সুষ্ঠু ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলকে আশ্বস্ত করতে হবে। যেটা এই কমিশন পারছে না। ফলে সব দিকে, সব অংশীজন বা পক্ষের মধ্যে অস্বস্তি ভর করছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সম্পাদক মনে করেন, ভোটের আগে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা আছে। কোন্দলই মূলত আওয়ামী লীগের বড় সংকট। অবশ্য এ নিয়ে দলীয় সভানেত্রী সতর্ক আছেন। ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ের নেতাদের বিশৃঙ্খলা এড়াতে বলা হয়েছে। তা না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই দুই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের দিকে তাঁরা নজর রাখছেন। তবে কমিশনের যে সমস্যা তা সমাধান হয়ে যাবে বলে তাঁদের ধারণা। এতে ভোটে প্রভাব পড়বে না।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, ভোটের আগে কিছু চাপ সব সময়ই থাকে। বিদেশিরা যেমন সবার অংশগ্রহণে ভোট চায়, আওয়ামী লীগও তেমনটি চায়। আর এবার সব দল ভোটে আসবে বলেই তাঁরা মনে করেন।
বিএনপির সমস্যাটা নিজেদের নিয়ে। মূলত সরকার যদি কোনো দাবিই না মানে, তাহলে এবার ভোটে যেতে বিএনপির যুক্তি কী হবে তা নিয়ে দলটির মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। নেতাদের বিপরীতমুখী অবস্থান দলকে চরম অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছে। সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ের বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠক ও ২০-দলীয় জোটের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি শেষ পর্যন্ত ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তি হিসেবে খালেদার মুক্তি নিশ্চিত করা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফেরানো এবং সর্বোপরি দেশে দেশে গণতন্ত্র ফেরানোর কথা বলবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনে করেন, বিএনপির চেয়ে অস্বস্তি বা সংকট সরকারের বেশি। বিএনপি নির্বাচনে যেতেই সবকিছু করছে। তা ছাড়া এবার সরকার একতরফা নির্বাচন করে পার পাবে, সেটা ভাবার কারণ নেই। এটা সরকারও বোঝে। বিএনপির এই নেতা বলেন, তাঁদের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি সাধারণ মানুষ উপলব্ধি করেছে। বিদেশিরা মনে করছেন, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও বিএনপি তা কাটিয়ে উঠবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘যে গিটারে দেশ অপমানিত হয়, তা দ্বিতীয়বার বাজাই না’

অনলাইন ডেস্ক: ‘যে গিটারের জন্য দেশ অপমানিত হয়, সেই গিটার আইয়ুব বাচ্চু দ্বিতীয়বার বাজায় না।’ নিউইয়র্কের গিটার সেন্টারের ম্যানেজারকে বলেছিলেন বাংলাদেশের গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু। ২০ বছর আগে যখন এলআরবি প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরে যায়, তখন ঘটনাটি ঘটেছিল। আর এবার তা জানালেন এলআরবির ব্যবস্থাপক শামীম। গিটার নিয়ে এমন অস্বস্তিকর ঘটনার কথা আইয়ুব বাচ্চু এর আগেও বলেছিলেন।
আইয়ুব বাচ্চু সম্পর্কে যাঁরা একটু–আধটুও জানেন, তাঁদের কারোরই অজানা নয়, গিটার নিয়ে তাঁর পাগলামির কথা। এই গিটার বাজানোর জন্য সংগীতজীবনের শুরুর দিকে কত কষ্টই–না করতে হয়েছে তাঁকে। শুধু তা-ই নয়, নিত্যনতুন ব্র্যান্ডের গিটার সংগ্রহ করা ছিল নেশার মতো।
১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো এলআরবি শো করতে যায়। শো শেষে ব্যান্ডের অন্য সদস্যদের নিয়ে আইয়ুব বাচ্চু যান নিউইয়র্কের গিটার সেন্টারে। আইয়ুব বাচ্চু সেখানে সামনে থাকা গিটারগুলো নেড়েচেড়ে দেখছেন। হঠাৎ আইভানেজ গিটারের ওপর চোখ পড়ে তাঁর। কাচের বাক্সে বন্দী। দোকানের ব্যবস্থাপককে এই গিটারের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই লোকটি আইয়ুব বাচ্চুর দিকে ভালো করে তাকান। জানতে চান, কোন দেশ থেকে এসেছ? এরপর বললেন, এই গিটার তোমার মতো বাংলাদেশির জন্য নয়। এটা এখানে সবচেয়ে দামি গিটার, তুমি বরং অন্যটা দেখ। লোকটির কথায় আইয়ুব বাচ্চু কষ্ট পান। বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন দেশটাকে অপমান করা হয়েছে, তাই ভেবে।
আইয়ুব বাচ্চুর মনে জেদ চাপে। তিনি সেই ব্যবস্থাপককে অনুরোধ করেন, ‘গিটারটি একবার দেখার সুযোগ দাও। আমার আর টিমের সবার কাছে যত ডলার আছে, আশা করি এটা নিতে পারব।’ লোকটি অনিচ্ছাসত্ত্বেও গিটারটা দেখতে দেন আইয়ুব বাচ্চুকে।
গিটার হাতে পেয়ে আইয়ুব বাচ্চু বাজানো শুরু করেন। এমনভাবে বাজালেন, আশপাশে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। আইয়ুব বাচ্চুর বাজানো দেখে সবাই অবাক। এরপর গিটার ফেরত দিতে গেলে লোকটি আইয়ুব বাচ্চুকে বললেন, ‘তুমি অসাধারণ বাজাও, এই গিটার তোমার জন্যই। এটা আমি তোমাকে অর্ধেক দামে দেব।’ আইয়ুব বাচ্চু বিনয়ের সঙ্গে বললেন, ‘এটা তুমি আমাকে বিনে পয়সায় দিলেও আমি নেব না, তুমি আমার দেশকে অপমান করেছ। যে গিটারের জন্য দেশ অপমানিত হয়, সেই গিটার আইয়ুব বাচ্চু দ্বিতীয়বার বাজায় না।’

এলআরবি প্রথম দেশের বাইরের সফর ছিল ভারতের কলকাতা। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে যায় ১৯৯৮ সালে। এই দলে আইয়ুব বাচ্চু ছাড়াও ছিলেন রিয়াদ, স্বপন ও এস আই টুটুল।

গিটার নিয়ে পাগলামির অনেক কথাই শুরুর দিকে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকে বলেছেন কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু। তিনি নিজেকে বলতেন, ‘ভাড়াখাটা গিটারের ভাড়াখাটা প্রেমিক’। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘গান নয়, গিটার আমাকে ঘরছাড়া করেছিল। গিটারের জন্যই সংগীতযুদ্ধে নেমেছিলাম। সত্তরের দশকে আমি ভাড়ায় গিটার বাজাতে যেতাম। গিটারটাও ভাড়া নিয়ে যেতাম। ওই সময় ডিসকো কোম্পানির একটি গিটার আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে ৩০ টাকা দিনপ্রতি ভাড়ায় গিয়ে শো করতাম। ভাড়া হিসেবে ৩০ টাকা দেওয়ার পর আরও ৫০ থেকে ৬০ টাকা থেকে যেত। এটা দিয়েই দিন চালাতাম। এখন কিন্তু আমার নিজের দেশি-বিদেশি ৪০টা গিটার আছে। কিন্তু সেই ভাড়াখাটা গিটারের দিনগুলোর কথা আজও জীবন্ত হয়ে আছে আমার মনে।’

তবে জীবনের শেষ দিকেও তিনি তাঁর বাবা মোহাম্মদ ইসহাকের প্রথম কিনে দেওয়া গিটারের কথা মনে রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর নামীদামি ব্র্যান্ডের ৪০টা গিটার আমার সংগ্রহে আছে। তারপরও আফসোস করি, বাবার কিনে দেওয়া প্রথম গিটারটার জন্য। সেটা ১৯৭৪ সালের দিকে। তখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি। সেটা ছিল একটি অ্যাকুস্টিক গিটার। কে কবে সেই গিটার নিয়ে গেছে, তার কোনো হদিস পাইনি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খাসোগিকে কনস্যুলেটেই হত্যা করা হয়: সৌদি আরব

বিদেশের খবর: ‘নিখোঁজ’ সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করার কথা স্বীকার করল সৌদি আরব। দেশটির প্রধান কৌঁসুলি এক বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে কনস্যুলেটের মধ্যেই হত্যা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান আহমাদ আল-আসসিরি ও ক্রাউন প্রিন্স সালমানের নিরাপত্তারক্ষী সৌদ আল-কাহতানিকে বহিষ্কার করা হয়। সৌদি সরকারের টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সৌদি টেলিভিশনে দেওয়া ওই বিবৃতির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি কনস্যুলেটে দেখা করতে যাওয়া কয়েকজনের সঙ্গে খাশোগির লড়াই হয়ে। এর কিছু পরেই খাশোগির মৃত্যু হয়।
যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড এ ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি সৌদিকে অনেক বড় বন্ধু বলেও দাবি করেছেন তিনি।

২ অক্টোবর ঘটনার পর থেকে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার কথা অস্বীকার করে আসছিল সৌদি আরব। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি গত ২ অক্টোবর নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যান। সেখান থেকে তাঁকে আর বের হতে দেখা যায়নি। এর পর থেকে এ বিষয়ে সৌদি আরবের বক্তব্য ছিল, খাসোগি কনস্যুলেট ভবন থেকে বের হয়ে গেছেন। অন্যদিকে তুরস্ত খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে এবং কনস্যুলটের ভেতরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তুরস্কের পক্ষ থেকে কনস্যুলট থেকে খাসোগি বের বের হওয়ার বিষয়ে সৌদির কাছে প্রমাণ চাওয়া হয়। তারা তা দিতে ব্যর্থ হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবার বলিউডে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ইরানি নায়িকার

বিনোদনের খবর: এবার বলিউডে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুললেন ইরানি নায়িকা ইলনাজ নরৌজি। অভিযোগ গতকাল মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি ছবি ‘নমস্তে ইংল্যান্ড’ এর পরিচালকের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবারই সারা বিশ্বে মুক্তি পেয়েছে ‘নমস্তে ইংল্যান্ড’। তবে, ‘নমস্তে লন্ডন’-এর এই সিক্যুয়েলের সাড়া খুব ভাল নয়। বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার ইঙ্গিত চিত্র সমালোচকদের আলোচনাতে। কিন্তু তার আগেই #মিটু-র কাঠগড়ায় ছবির পরিচালক বিপুল অমৃতলাল শাহ। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুললেন ইরানি অভিনেত্রী ইলনাজ নরৌজি।
তাঁর অভিযোগ, ‘নমস্তে ইংল্যান্ড’ ছবিতে সুযোগ দেওয়ার কথা বলে অডিশনের নাম করে বার বার তাঁর যৌন হেনস্থা করেছেন পরিচালক। কখনও জড়িয়ে ধরা, কখনও বা চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
‘মিড ডে’ ম্যাগাজিনে একটি কলাম লিখেছেন ইলনাজ। সেখানেই তিনি বিপুল শাহর সঙ্গে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘বিপুল শাহ ‘নমস্তে ইংল্যান্ড’ ছবিতে আমাকে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মহিলা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু, কোনও চুক্তিতে সই করেননি। বার বার চুক্তির কথা বললেও এড়িয়ে গিয়েছেন পরিচালক। কিন্তু, ছবিতে সুযোগ দেওয়ার নাম করে বার বার অডিশনের জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন।’
ইলনাজ আরও লিখেছেন, ‘প্রথম সাক্ষাতেই বিপুল এমন ভাবে কথা বলছিলেন, যেন ওই চরিত্রে আমিই অভিনয় করছি। অথচ কোনও অডিশন নেওয়া হয়নি।’ এর কয়েক দিন পর ভারসোবা সৈকতে কাস্টিং ডিরেক্টরের সঙ্গে অডিশনের দিন ঠিক হয়। অথচ সেখানে গিয়ে ইনলাজ বুঝতে পারেন, কাস্টিং ডিরেক্টর জানেনই না, কী বিষয়ের অডিশন। অডিশনের পর বিপুল শাহ ইলনাজকে জানান, তিনি যেটা চেয়েছেন, সে রকম হয়নি।
এর পর ইলনাজ নিজেই বিপুলের অফিসে গিয়ে দেখা করেন। সেখানে বিপুল তাঁকে বলেন, খুব শীঘ্রই চুক্তি সই হবে। কিন্তু অফিস থেকে বেরনোর সময় ঘটে প্রথম ঘটনা। ইলনাজ লিখেছেন, ‘বিপুল আমার এত কাছে চলে এসেছিলেন যে, অস্বস্তি হচ্ছিল। তার পর আচমকাই চুমু খান।’ ওই বৈঠকের পর ইনলাজ তাঁর ম্যানেজারকে জানান, বিপুল শাহ তাঁকে ‘নমস্তে ইংল্যান্ড’ ছবিতে নিচ্ছেন। তাঁর ম্যানেজার বিপুলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিচালকের তরফ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে ইনলাজের দাবি।
ওই প্রতিবেদনে ইলনাজের বক্তব্য, ‘আবারও বিপুলের সঙ্গে দেখা করি আমি। কিন্তু তিনি এমন আচরণ করছিলেন, যেন এই গ্রহের সবচেয়ে খারাপ অভিনেত্রী আমি।’ এর পর আরও এক বার বিপুলের অফিসে গিয়ে দেখা করেন ইলনাজ। তাঁর অভিযোগ, সেখানে ফের তাঁকে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন বিপুল। তিনি পিছনে সরে যান। জানতে চান, শুটিং কবে শুরু হবে? প্রশ্নটা করতেই ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রী অর্জুন কপূর ও পরিণীতি চোপড়ার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন। কিন্তু শুটিংয়ের দিন ক্ষণ জানাননি।
এর পর আরও এক দফা অডিশন দিতে হয় তাঁকে, লিখছেন ইলনাজ। সেটা বিপুলের অফিসে। সেখানে ফের খারাপ ভাবে তাঁর গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন বিপুল। কিন্তু তিনি শরীর খারাপের অজুহাত দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।
পরের অডিশনের জন্য বিপুল শাহ তাঁকে পাটিয়ালায় যেতে বলেন। ইলনাজের বয়ান অনুযায়ী, ‘পাটিয়ালার যে হোটেলে আমরা ছিলাম, বিপুল সেখানে তাঁর রুমে ডেকে পাঠান আমাকে। বলেন স্ক্রিপ্ট শোনাবেন। রুমে যাওয়ার পর আমাকে পিছন থেকে ধরে তাঁর দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন বিপুল। কিন্তু আমি ঘর থেকে বেরিয়ে আমার রুমে চলে যাই।’
ইলনাজের দাবি, তার পরেও আরও প্রায় দুমাস ধরে অপেক্ষা করেন তিনি। কিন্তু বিপুলের তরফ থেকে কোনও সাড়া পাননি। প্রতিবেদনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এর মধ্যেই ওয়েব সিরিজ ‘সেক্রেড গেমস’-এর অফার পাই। বিপুলকে সে কথা জানাতেই তিনি বলেন, ওই চরিত্রে নগ্ন হয়ে অভিনয় করতে হবে। তাই ওঁরা আমাকে বাদ দিয়েছেন।’
‘আমি তিন মাস ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি নিশ্চিত যে, বিপুলের সঙ্গে বিছানা শেয়ার করলে ওই চরিত্রটা পেতাম। যত বারই আমি ওঁর অফিসে গিয়েছি, তত বারই আমাকে খারাপ ভাবে ছোঁয়া, গায়ে হাত দেওয়া ও চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেছেন’, ওই প্রতিবেদনে লিখেছেন ইলনাজ।
কিন্তু তখন না বলে এখন কেন এই বিষয় শেয়ার করলেন ইলনাজ? প্রতিবেদনেই ইলনাজ তার উত্তর দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমি বিদেশি। তার উপর বিপুল শাহ বলিউডে বেশ প্রভাবশালী। তাই তখন পুলিশে অভিযোগ করিনি। আর এই ধরনের লোকজন ক্ষমতার অপব্যবহার যাতে না করতে পারে, সে জন্যই এখন এই দুর্বিসহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি।’
সূত্র: আনন্দ বাজার

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চাপের মুখেও ধৈর্য রাখবে বিএনপি

দেশের খবর: নির্বাচন সামনে রেখে নানা দিক থেকে চাপের মুখে আছে বিএনপি। কিন্তু তা সত্ত্বেও দলটি উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করার কৌশল নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য একটাই—আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া। সে কারণে অন্য কোনো ইস্যুতে ‘হঠকারী’ আন্দোলন করে পরিস্থিতি প্রতিকূলে নিতে চাইছে না দলটি।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ড. কামাল হোসেন যে ভূমিকা রেখেছেন তাতে খুশি হয়েছেন তারেক রহমানসহ বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ড. কামাল হোসেন সঠিকভাবে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন। বিশেষ করে নির্বাচনে জয়লাভ করলে সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা কে—এ দুটি প্রশ্নের চমৎকারভাবে তিনি জবাব দিয়েছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোশাররফ বলেন, ‘বিএনপির লক্ষ্য নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই আন্দোলন। কিন্তু সরকার আমাদের সভা-সমাবেশ আটকে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চাইছে। আমরাও ধৈর্যের পরীক্ষায় আছি। সময় মতো সব কিছুর জবাব দেওয়া হবে।’
বিএনপি যাতে নির্বাচনে না যায় তেমন পরিস্থিতি তৈরি করতেই দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিককালে ‘গায়েবি’ মামলা দেওয়ার কারণও বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া ঠেকানো। আর সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া উদ্দেশ্য হলো বিএনপিকে আগাম আন্দোলনে নামানো, যাতে সহিংসতাকে কেন্দ্র করে মামলা দিয়ে দলটিকে পঙ্গু করা যায়। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মূল্যায়নও এমনই।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকার নানাভাবে উসকানি দিয়ে আমাদের মাঠে নামাতে চাইছে। এ জন্যই দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার সময় এবং ২১ আগস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু বিএনপি ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। কারণ আমাদের উদ্দেশ্য হলো—নিরপেক্ষ সরকারের অধীন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করা। বিএনপি সেই পথেই আছে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার যে কৌশল বিএনপি নিয়েছে, সেটাই অব্যাহত রাখা উচিত। তিনি বলেন, “সরকার নানাভাবে বিএনপিকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিএনপিকে নার্ভ ঠিক রেখে চলতে হবে। কারণ এটা হচ্ছে ‘ওয়ার অব নার্ভ’। এটাই এখন তাদের পরীক্ষা।” এক প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ড. কামাল হোসেন অনেক বিভ্রান্তি দূর করে দিয়েছেন। কারণ ফ্রন্টের নেতৃত্ব নিয়ে কেউ কেউ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে।
গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণার সময় থেকেই এর নেতৃত্ব নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। কারণ ফ্রন্ট ঘোষণার ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. কামাল হোসেন। ওই সময় সুলতান মোহম্মদ মনসুরসহ উপস্থিত কয়েকজন নেতা তাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহম্মদের সঙ্গে তুলনা করেন। পরে ফ্রন্টের আরো কয়েক নেতা সাংবাদিকদের জানান, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বেই ফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। এতে বিএনপিসহ ফ্রন্টের অন্য দলগুলোর মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এ কারণে গত ১৬ ও ১৭ অক্টোবর ফ্রন্টের বৈঠকে প্রসঙ্গটি আলোচনায় ওঠে।

এদিকে ফ্রন্টের নেতৃত্ব ড. কামাল হোসেনের দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঐক্যপ্রক্রিয়ার দু-এক নেতার ভূমিকা নিয়েও কথা ওঠে বিএনপি, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের মধ্যে। কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেখানোর বদলে বিএনপি ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ড. কামাল নিজেই বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোনো একক নেতৃত্বে নয়, যৌথ নেতৃত্বে চলছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সংবিধান প্রণেতা হিসেবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান তথা রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মাণ আরো সহজতর হবে বলে মনে করি। কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁর ভূমিকা আমাদের আরো আশাবাদী করে তুলেছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার অন্যতম উপাদান হচ্ছে সহনশীলতা, যেটি গত কয়েক বছরে বিএনপি প্রচুর পরিমাণে দেখিয়েছে। এখন সরকারি দলকেও এই চর্চার প্রমাণ দিতে হবে, নতুবা রাজনীতিতে সহিংসতা দেখা দেবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আগামী ২৩ অক্টোবর সিলেটে, ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে এবং ৩০ অক্টোবর রাজশাহীতে সমাবেশ করতে চায়। সিলেটে মেয়র আরিফুল হকের মাধ্যমে বিএনপি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে জানা যায়। প্রথমে অনুমতি দেওয়া হলেও পরে স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ২৩ অক্টোবর একই স্থানে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সমাবেশের জন্য আবেদন করেছে। ফলে প্রশাসন অনুমতি দিলে ঐক্যফ্রন্ট ২৪ অক্টোবর সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ২৪ তারিখও না দেওয়া হলে সে ক্ষেত্রে মনে করা হবে, সরকার ওই সমাবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপিসহ ফ্রন্ট নেতারা সিলেটে মাজার জিয়ারত করতে হলেও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইভাবে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে সমাবেশের বিষয়েও সরকারের মনোভাব দেখে বিএনপি পরবর্তী কৌশল ঠিক করবে। এর আগে দেশের সুধীসমাজ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে জনমত গড়ার চেষ্টা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করা হবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই। তার আগে আন্দোলন করে শক্তি ক্ষয় করতে রাজি নয় তারা।

জানা যায়, এমন কৌশলের কারণেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের যাবজ্জীবন সাজা হওয়ার পরও বড় ধরনের আন্দোলনে যায়নি বিএনপি। গত বছর একটি দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পরও বড় ধরনের আন্দোলনে যায়নি দলটি। তারেকের সাজা হওয়ার পরে সহিংসতা হবে, এমন গুঞ্জন ১০ অক্টোবরের আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও এ নিয়ে কিছু তৎপরতা ছিল। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কঠোর কিছু বলা হয়নি। তবে দলের মধ্যে ‘তারেক সমর্থকদের’ তৎপরতা থামাতে সিনিয়র নেতারা একটি কৌশল বের করেন। তারেক রহমানকে তাঁরা ফোন করে বলেন তিনি নিজেই যাতে পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য লন্ডনে বক্তৃতা করেন। সে অনুযায়ী ৯ অক্টোবর লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়ে তারেক কারো পাতা ফাঁদে পা না দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। এভাবেই সহিংসতা এড়াতে সক্ষম হয় বিএনপি। দলটির কৌশল হলো—আন্দোলন হবে নির্বাচনকেন্দ্রিক।  সূত্র: কা‌লেরকণ্ঠ

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest