সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় -৭নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৮ দফার বার্তাসাতক্ষীরা জেলা রোভার স্কাউটসের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতাসাতক্ষীরায় তারেক রহমানের ৮ দফার লিফলেট ছড়িয়ে দিল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’সাতক্ষীরায় রাইচ মিলের কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে অতীষ্ট এলাকাবাসী: ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সড়ক অবরোধপ্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদসাতক্ষীরায় মাদক এবং মাদক বিক্রির অবৈধ টাকাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারতালায় বাস মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিতআশাশুনিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলার তদন্তে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারদেবহাটায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

মাংখুটের তাণ্ডব চীনেও, ফিলিপাইনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯

বিদেশের খবর: প্রলয়ঙ্কারী টাইফুন মাংখুটের কবলে ফিলিপাইনে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর এবার সেটি চীনে আঘাত হেনেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এর আঘাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দু’জন নিহত হয়েছে। এদিকে মাংখুটের আঘাতে ফিলিপাইনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ হয়েছে।
টাইফুন মাংখুট গত কয়েক দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গুয়ানদংয়ে মাংখুটের আঘাতে দু’জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া এর কবল থেকে বাঁচাতে গুয়াংদন এবং হাইনান দ্বীপ থেকে ২৫ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার বিকেল নাগাদ এটি চীনের উপকূলে আঘাত হানে।
এ ছাড়া সুপার টাইফুন মাংখুটের কবলে পড়ে হংকংয়ের অনেক ভবন ধসে পড়েছে এবং শহরটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। প্রধান প্রধান সড়ক বন্ধ, ট্রেন চলাচল স্থগিত এবং ফ্লাইট বাতিলের মধ্যে দিয়ে শহরটির যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার ফিলিপাইনে আঘাত হানে মাংখুট। শেষ খবর পাওয়া ফিলিপাইনে ৫৯ জন নিহত হয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যৌতুকের মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে পাঁচ বছরের জেল

অনলাইন ডেস্ক: যৌতুক দেওয়া-নেওয়া এবং যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলার ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে সংসদে ‘যৌতুক নিরোধ বিল-২০১৮’ পাস হয়েছে। রবিবার মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
কারও ক্ষতি করার জন্য যৌতুকের মামলা বা অভিযোগ করলে পাঁচ বছরের জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে পাস হওয়া বিলে। আগের আইনে যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলার জন্য কোনও দণ্ডের বিধান ছিল না।
বিলে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনও এক পক্ষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য পক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করে তবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কিন্তু সর্বনিম্ন এক বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকার জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যৌতুক গ্রহণ বা প্রদান করলেও একই ধরনের সাজা হবে।’
এতে বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য হবে। তবে আপসযোগ্য হবে।’
এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি হয়। গত ২৫ জুন বিলটি সংসদে তোলার পর তা পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
১৯৮০ সালের এ সংক্রান্ত আইন বাতিল করে নতুন করে আইন করতে বিলটি তোলা হয়েছে সংসদে। ১৯৮০ সালের ওই আইন ১৯৮২, ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধন করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জের জলিল ডাকাতের লাশ দাফনে বাধা, নেয়নি পরিবারও

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি গণপিটুনিতে নিহত আবদুল জলিল গাইনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কৃষ্ণনগর ইউপি সদস্য জলিলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

এদিকে ময়নাতদন্ত হওয়ার পর জলিলের মরদেহ নিতে রাজি হয়নি তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য। অপরদিকে গ্রামবাসী তাঁর লাশ গ্রামে ঢুকতেও দেয়নি। তারা জলিলকে গ্রামে দাফন করতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত রাত ৮টার দিকে জলিলের লাশ নেওয়া হয় কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি কবরস্থানে। সেখানে তাঁর দাফনের কাজ শুরু হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার রাতে গণপিটুনিতে নিহত জলিল গাইনের লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে রোববার। দিনভর পরিবারের কেউ তাঁর লাশ গ্রহণ করতে আসেনি। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর লাশ পুলিশ পাহারায় গ্রামের বাড়ি কৃষ্ণনগরের শংকরপুরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গ্রামবাসী তাতে বাধা দেয়। জলিলকে গ্রামে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে তারা জানিয়ে দেয়। এমনকি তাঁর জানাজাও করতে দেয়নি। এ অবস্থায় জলিলকে কালীগঞ্জ উপজেলা সদরে সরকারি কবরস্থানে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জলিলকে নিয়ে কৃষ্ণনগরে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ লোক তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। স্থানীয়ভাবে তাঁর নাম ছিল ডাকাত জলিল ওরফে খুনি জলিল।

ওসি হাসান হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও তিনবারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুল জলিল গাইনকে গতকাল শুক্রবার রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে সাতক্ষীরায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জলিলকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কৃষ্ণনগরে যাওয়া মাত্র হাজার হাজার লোক এসে জোর করে তাঁকে ছিনিয়ে নেয়। ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকটি ফাঁকা গুলি করে।

ওসি জানান, চেয়ারম্যান মোশাররফকে যেখানে হত্যা করা হয়েছিল সেখানেই তাঁর হত্যা মামলার প্রধান আসামি জলিলকে পিটুনি দিয়ে হত্যা করে লোকজন। গণপিটুনি থেকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

জলিলের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ ডাকাতি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য বহন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ঘের দখল এবং ধর্ষণের অভিযোগে ১২টি মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি হাফিজুর।

গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে কৃষ্ণনগর বাজারে যুবলীগ কার্যালয়ে বসে থাকাকালে চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেনকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় একই ইউপির সদস্য আবদুল জলিল গাইন ওরফে ডাকাত জলিল ওরফে খুনে জলিলকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন নিহতের মেয়ে সাথিয়া পারভিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গোপন প্রতিবেদনে ১৩ মন্ত্রী সরকারে প্রশংসিত

দেশের খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। দেশকে এ অবস্থায় উন্নীত করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কোন সদস্য দায়িত্ব পালনে কতটা দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন, সেই আমলনামা এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। বিভিন্নভাবেই তিনি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সাফল্য মূল্যায়ন করেছেন। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই গঠিত হতে পারে নির্বাচনকালীন সরকার। এমনকি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করলে তৃতীয় মেয়াদের সরকারে কারা থাকবেন তাও হতে পারে এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বর্তমান মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজনের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তাঁরা কেন সফল তা উল্লেখ করা হয়েছে ওই সব গোপন প্রতিবেদনে।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় ৩৩ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী আছেন। এ ছাড়া মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মন্ত্রীর মর্যাদায় উপদেষ্টা আছেন আরো পাঁচজন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত: অর্থমন্ত্রী হিসেবে সফলতার সঙ্গে টানা ১০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। পর পর দুই মেয়াদে টানা ১০ বার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করে রেকর্ড গড়েন তিনি। প্রতিবারই বাজেটের আকার বেড়েছে। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট দেন মুহিত। এটি তাঁর ১২তম বাজেট। কারণ শেখ হাসিনার সরকারের দুই মেয়াদের আগেও এরশাদ আমলে অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১৯৮২-৮৩ এবং ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে দুই দফা বাজেট পেশ করেছিলেন তিনি।

২০০৯ থেকে শুরু করে ১০ বছরে দেশের অগ্রযাত্রা কেবল শক্তিশালী নয়, জনকল্যাণকরও বটে। এই ১০ বছরে উন্নয়নশীল অর্থনীতির গড় প্রবৃদ্ধির হার যেখানে ৫.১ শতাংশ, তখন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার হচ্ছে ৬.৬ শতাংশ। সরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে ৪.৩ শতাংশ থেকে ৮.২ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ৭৫৯ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৫২ ডলারে। মূল্যস্ফীতি ১২.৩ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৫.৮ শতাংশ। রাজস্ব জিডিপির অনুপাত বেড়েছে ৯.২ শতাংশ থেকে ১০.৩ শতাংশে।
স্পষ্টবাদী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী মুহিত পরিবেশ সচেতনও।

আমির হোসেন আমু: পরিবেশ অধিদপ্তরের কালো তালিকায় থাকা হাজারীবাগের সব ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর করতে আদালতের নির্দেশ থাকলেও এক যুগের বেশি সময় ধরে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছিল না। আমির হোসেন আমু শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তাঁর কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে হাজারীবাগ থেকে সব ট্যানারি সাভার চামড়া শিল্পনগরে স্থানান্তর সম্ভব হয়। চামড়া খাতের বিকাশে দেশে আরো দুটি চামড়া শিল্পনগরী গড়ারও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

এ সময়ে দেশে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। কোথাও সারের ঘাটতি হয়নি। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার সব সার কারখানা সচল রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুরো শিল্প খাতে গতিশীলতা আনতে যথাসময়ে শিল্পনীতি চূড়ান্ত করা হয়। প্রায় ১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সহায়ক মোটরসাইকেল নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাহাজ নির্মাণশিল্প নীতিমালা এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। এ নীতিমালা চূড়ান্ত হলে নতুন কর্মসংস্থান হবে। আমির হোসেন আমু শিল্পমন্ত্রী হওয়ার পর ইলিশ মাছের স্বত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আরো ২১টি পণ্যের স্বত্ব অর্জন চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

তোফায়েল আহমেদ: দেশে বেসরকারি খাতের সার্বিক উন্নয়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব ‘লিয়াজোঁ মিনিস্ট্রি’ হিসেবে খ্যাত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে এ মন্ত্রণালয় রয়েছে মুখ্য ভূমিকায়। ফলে এই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করাটাও এক রকম চ্যালেঞ্জেরই। নানা সীমাবদ্ধতা নিয়েও এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গত পাঁচ বছরে দেশে ব্যবসা উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে দারুণভাবে সফল হয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়ীদের পুঞ্জীভূত বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানে বেশি নজর দেন। এতে বেসরকারি খাতের দ্রুত উন্নতি ঘটেছে। বেড়েছে পণ্য উৎপাদন ও শ্রমিকের দক্ষতা। পণ্যের জোগান বাড়ায় দ্রব্যমূল্যও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে।

রপ্তানিপণ্যে প্রণোদনা অব্যাহত রাখায় চার বছরের ব্যবধানে রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় চার হাজার ১০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও পণ্যের গুণগত মানোন্নয়নে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর নগদ সহায়তা ২৭ খাত থেকে বাড়িয়ে ৩৬টি করা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির কার্যক্রম সচল আছে। সাস্টেইনেবল কমপ্যাক্ট ও কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পাওয়া জিএসপি হাত ছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাণিজ্যমন্ত্রীর কৌশলী অবস্থান, গ্রহণযোগ্যতা ও দৃঢ়তার কারণে তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রাথমিক স্বীকৃতি লাভের পর বাংলাদেশ এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে।

মতিয়া চৌধুরী: নতুন আবাসন গড়া, শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ নানা কারণে প্রতিবছর কৃষি জমি কমে যাচ্ছে ১ শতাংশ হারে। এ অবস্থায় ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। গত ১০ বছরে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে। এ সময়ে মতিয়া চৌধুরীর একক নেতৃত্বে কৃষি খাত একটি স্থিতিশীল অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। এই স্থিতিশীলতা শুধু কৃষিপণ্য উৎপাদনে নয়, এসেছে পণ্যের পুষ্টিতেও। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই খাতকে স্থিতিশীলতা দেওয়ার জন্য কৃষিমন্ত্রী সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন। জোট সরকারের আমলের সার ব্যবস্থাপনা নীতি পাল্টে তিনি সমন্বিত নীতিমালা করেছেন। আগে ইউনিয়ন পর্যায়ে সারের ডিলার ছিল। নতুন নীতিমালায় ওয়ার্ড পর্যায়ে ডিলারদের ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নীতিমালার পরই দেশ থেকে সার সংকট দূর হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রীর উদ্যোগে কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো হয়েছে। সার ছাড়া ভর্তুকি চালু করা হয়েছে রবিশস্য চাষে উৎসাহিত করার জন্য। কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানি করতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, পাওয়ার থ্রেসারের মতো যন্ত্রপাতি ২৫ শতাংশ কম দামে কৃষকদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। কৃষি যন্ত্রপাতির প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সেচ, গবেষণাসহ বিভিন্ন সেক্টরে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য দেশের বৃহত্তম বীজবর্ধন খামার স্থাপন করা হয়েছে মন্ত্রীর উদ্যোগে। তাঁর সময়ে উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনসহ নানামুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে পাটের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ছত্রাক ও পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনে সহায়তা দিয়ে তিনি যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছেন।

মতিয়া চৌধুরীর উদ্যোগে মাত্র ১০ টাকা জমা করে কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গত ১০ বছরে মতিয়া চৌধুরী কৃষি খাতকে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত করেছেন। মতিয়া চৌধুরীর এ সাফল্য কৃষিবান্ধব সরকারের একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

ওবায়দুল কাদের: ২০১২ সালে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের (নতুন নাম সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম আড়াই বছরেই দেশের ৬৪ জেলার ২০৪ উপজেলায় ৩৮১ দিন সড়ক-মহাসড়ক পরিদর্শন করেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি শুধু ঢাকার বিভিন্ন সড়কই পরিদর্শন করেছেন ৩৯ দিন। মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে বসে না থেকে তিনি ছুটে যান মাঠে। সড়কের কাজ পরিদর্শন করে নজির সৃষ্টি করেন তিনি। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে শেষ হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ। সড়কে শৃঙ্খলা আনতে যাত্রীবেশে নিজেই গাড়িতে চড়েছেন, লাইসেন্স পরীক্ষা করেছেন। হঠাৎ হানা দিয়েছেন বিআরটিসি কিংবা বিআরটিএ কার্যালয়ে।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা। এই প্রকল্পের কাজ ৫৭ শতাংশ এগিয়েছে। ঢাকার যানজট নিরসনে নেওয়া মেট্রো রেল প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে আগামী বছরের ডিসেম্বর থেকেই। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে বিমানবন্দর সড়ক থেকে বনানী পর্যন্ত। সেটি যাবে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত। দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ের (ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা) কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেলের কাজ এগোচ্ছে। ৮০ শতাংশ মহাসড়কই চলাচলের উপযোগী। প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন সংসদে উঠেছে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কে বলা হয়, বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য যে টাকা দেওয়া হয়, সে টাকা পানিতেই চলে যায়। গত জানুয়ারিতে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মানুষের দীর্ঘদিনের এমন নেতিবাচক ধারণা বদলাতে কাজ করছেন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। প্রতিবছর সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য বাড়তি টাকা চাওয়ার রেওয়াজ ভেঙে এবারই প্রথম মন্ত্রণালয়ের জন্য বাড়তি টাকা চাননি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তাঁর মতে, এডিপিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে যে টাকা দেওয়া হয়েছে, সেটিই যথেষ্ট। গত ১০ মাসে বেড়িবাঁধ নির্মাণ আর ফোল্ডার ছাড়া নতুন কোনো প্রকল্পে হাত দেয়নি মন্ত্রণালয়। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতে, সরকারের শেষ সময়ে নতুন কোনো প্রকল্প নেওয়া ঠিক নয়। বরং পুরনো প্রকল্প যেগুলো ধীরগতিতে চলছে, সেগুলোতে গতি আনাই মুখ্য। সে অনুযায়ী কাজ করছেন তিনি। ‘সীমান্ত নদী সংরক্ষণ’ নামের একটি প্রকল্প দুই বছর ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি আগামী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উঠানোর প্রক্রিয়া করে দিয়েছেন মঞ্জু। অপচয়ের বদনাম ঘুচিয়ে মন্ত্রণালয়কে নিয়ম-কানুন ও কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছেন তিনি।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এর আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন চার বছর। তখন সেখানে কর্মকর্তাদের ‘গাছ চোর’ হিসেবে যে বদনাম ছিল, তা ঘুচিয়েছেন তিনি।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন: পেশায় প্রকৌশলী ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বাংলাদেশের সীমানার বাইরেও চাকরি করেছেন জাতিসংঘের অধীনে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন অবকাঠামো উন্নয়ন বিশেজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। এখন তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। এ মন্ত্রণালয়ের অধীন সবচেয়ে বড় সংস্থা এলজিইডির প্রতিষ্ঠাতা তিনি। চাকরিজীবনের মতো তিনি সফল মন্ত্রী হিসেবেও।

তিন বছর আগে খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর বাজেট ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকায়। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতার কারণেই বাজেট বেড়েছে। তাঁর সময়ে ১০ হাজার কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকা হয়েছে। বর্তমানে ২৮৫টি পৌরসভায় মাস্টার প্ল্যানের আওতায় উন্নয়নকাজ চলছে।

খন্দকার মোশাররফ মন্ত্রী হিসেবে যোগদানের পর এলজিইডি ফ্লাইওভার নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। রাজধানীর মগবাজার ফ্লাইওভার এলজিইডির অর্থ ও তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে।

ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া ঠেকাতে খন্দকার মোশাররফ হোসেন পদ্মা নদীর যশোলদিয়া, মেঘনার গন্ধব পয়েন্ট ও সায়েদাবাদ ফেজ-৩ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকায় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেন। ঢাকার খাল উদ্ধারে পৌনে দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া এখন সারা দেশে জমি আছে, ঘর নেই এমন লোকদের গৃহনির্মাণ করে দিচ্ছে এ মন্ত্রণালয়।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন: গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রী হওয়ার পর। দপ্তর, অধিদপ্তরগুলোর কাজে গতি এসেছে। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সুসম্পর্ক বেড়েছে। মন্ত্রণালয়ের সাফল্য দৃশ্যমান হওয়ায় সরকারের সর্বত্র এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রশংসা আছে।

এ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে ২৬টি প্রকল্পের আওতায় ৩০ হাজার ২২০টি প্লট উন্নয়ন করে বরাদ্দ দিয়েছে। ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরীতে ১৩টি অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার ৭৭৫টি অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দিয়েছে। চলমান ২৯টি প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ৮৫৫টি প্লট তৈরি করা হবে। এ ছাড়া ২১টি প্রকল্পের আওতায় ৩৩ হাজার ১৯১টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে চারটি প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৫১২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯টি প্রকল্পের আওতায় আট হাজার ১৯০টি ফ্ল্যাট নির্মাণকাজ চলছে। ঢাকায় বস্তিবাসীদের জন্য ১১ হাজার ৮৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। মাসিক ভাড়ায় বস্তিবাসীদের এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ দায়িত্ব নেওয়ার পর বেগুনবাড়ীখালসহ হাতিরঝিল এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে গতি পায়। গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক বাঁচাতে বিশেষ উদ্যোগ নেন তিনি।

নুরুল ইসলাম নাহিদ: গত ১০ বছরে শিক্ষা খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বছরের প্রথম দিন বিনা মূল্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন বই। ১০ বছরে একবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিবছর দেওয়া বইয়ের সংখ্যা ৩৫ কোটিরও বেশি। সারা বিশ্বের চোখেই এটা বিস্ময়। প্রতিবছর দুই কোটি ৬৭ লাখ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের বৃত্তি, যা অনেক দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। অনেক দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশে এরই মধ্যে শিক্ষায় অর্জিত হয়েছে জেন্ডার সমতা। বিনা মূল্যের বই, উপবৃত্তিসহ সরকারের নানা পদক্ষেপের সুফল মিলছে এখন। সব শিশু স্কুলে যাচ্ছে। শিক্ষায় মেয়েদের আগ্রহ বেড়েছে। এ কারণে কমেছে ঝরে পড়া এবং বাল্যবিয়ে। শিক্ষা খাতে এই বিপ্লবের পেছনে ১০ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

২০০৯ সালে দেশে কারিগরিতে শিক্ষিতের হার ছিল ১ শতাংশেরও কম। বর্তমানে এই হার ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। গত ১০ বছরে ২৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মিত হয়েছে। প্রণীত হয়েছে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০। পাবলিক পরীক্ষায় ফিরেছে শৃঙ্খলা। নির্দিষ্ট তারিখেই অনুষ্ঠিত হয় পরীক্ষা, প্রকাশিত হয় ফল। স্কুলে স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এখন স্বপ্ন নয়। মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। একের পর এক সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে উচ্চশিক্ষায় দেখা দিয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। গবেষণায়ও এসেছে যুগান্তকারী সাফল্য।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দক্ষ ও সফল নেতৃত্বে ১০ বছর ধরে দেশ পরিচালনা করছেন। আমি তাঁর একজন একনিষ্ঠ কর্মী মাত্র। তাই শিক্ষা খাতে যা সাফল্য এর অবদান একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের জনগণও এই সাফল্যের ভাগীদার।’

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি এর মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তখন মন্ত্রণালয়ের নাম ছিল ‘পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়’। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাজ এ মন্ত্রণালয়কে করতে হয় বলে মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর আনিসুল ইসলাম অনুধাবন করেন যে মন্ত্রণালয়ের নামের সঙ্গে ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ বিষয়টি সংযোজন করা হলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। তাঁর হস্তক্ষেপে মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করার প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন হয়। তাঁর ত্বরিত সিদ্ধান্তের কারণে মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে গতিশীলতাও অনেক বেড়েছে। বন বিভাগের নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের দীর্ঘ ও জটিল পদোন্নতি প্রক্রিয়া তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে শেষ করে এনেছেন।

আসাদুজ্জামান খান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সফলতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন আসাদুজ্জামান খান। প্রথমে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তখন মন্ত্রণালয়ে কেউ পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দক্ষ পরিচালনার পুরস্কার হিসেবে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই আসাদুজ্জামান খানকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সময়ে কাজের সুবিধার জন্য স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ে জননিরাপত্তা এবং সুরক্ষা-সেবা বিভাগ গঠন করা হয়।

এ সময় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) এলআইসি শাখা গঠন করা হয়। বিশেষ অপরাধ তদন্তের জন্য গঠন করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পুলিশের পদমর্যাদা বাড়ানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অভিযানে আসে একের পর এক সাফল্য। নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার কিংবা নিহত হয়। আলোচিত মামলাগুলোর তদন্তও সফলভাবে শেষ করছে পুলিশ। এতে কমেছে জঙ্গি তৎপরতা। সংঘবদ্ধ অপরাধ, হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই ও দস্যুতার হারও কমেছে অনেকখানি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে বন ও জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

আনিসুল হক: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আনিসুল হক। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অপসারণ বিষয়ে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ১৯৭২ সালের আদি সংবিধানে ফিরে যেতে ২০১৪ সালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়েছে।

১৭৯৯ থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রণীত সব আইন হালনাগাদ করে কালানুক্রমিক সূচিপত্রসহ ৪২ খণ্ডে বাংলাদেশ কোড প্রকাশ করা হয়েছে ২০১৭ সালে। লজ অব বাংলাদেশ নামে একটি ওয়েবসাইট বানানো হয়েছে, যাতে দেশের প্রচলিত আইনগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

সন্ত্রাসবিরোধী মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে। আরো ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করে সেগুলোতে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় একটি সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে।

দরিদ্র-অসহায় মানুষকে সরকারিভাবে আইনি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে টোল ফ্রি জাতীয় হেল্প লাইন ১৬৪৩০ চালু হয়েছে। নিবন্ধন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী নিবন্ধন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করা হয়েছে।

নসরুল হামিদ বিপু: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে গত পাঁচ বছরে। আর বিদ্যুতের এই অগ্রগতির পেছনের কারিগর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি হচ্ছে তাঁর হাত ধরেই। ভারত থেকে এক হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হয়েছে নসরুল হামিদের আমলে। এলপিজির দাম সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন বিপু। দেশের ৯২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে গত পাঁচ বছরে। চলতি বছরের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে। মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পটুয়াখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজে গতি আনতে কাজ করেছেন বিপু। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশ ঘটেছে তাঁর সময়ে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সারা দেশে বিদ্যুতের শতাধিক প্রকল্প চলমান। মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু নসরুল হামিদের হাত ধরেই। বিদ্যুৎ বিভাগ ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এ ছাড়া দেশে ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাজ করছেন নসরুল হামিদ।

দশ বছর আগে দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক ছিল এক কোটি আট লাখ, উৎপাদনক্ষমতা ছিল চার হাজার ৯৩২ মেগাওয়াট। এখন গ্রাহক তিন কোটিতে উন্নীত হয়েছে। উৎপাদনক্ষমতা বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৯০২ মেগাওয়াট অর্থাৎ চার গুণ। বিদ্যুতের প্রকৃত উৎপাদন দশ বছর আগে ছিল তিন হাজার মেগাওয়াট, সেটি এখন ১১ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুই বাংলায় রাতারাতি তারকা জামালপুরের অবন্তী!

বিনোদনের খবর: গত শনিবার রাতে ফেসবুকের ওয়ালজুড়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেটে তামিম-মুশফিকদের বন্দনার পাশাপাশি প্রশংসায় ভেসেছেন জামালপুরের মেয়ে অবন্তী সিঁথিও। ভারতের জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা’য় অংশ নিয়ে একেবারে চমকে দিলেন বাংলাদেশের এই মেয়ে। ।

কণ্ঠের জাদুর সঙ্গে হৃদয় কাঁপানো শিস আর গানের ভিন্ন রকম উপস্থাপনা দিয়ে তিনি বাজিমাত করেছেন। তার পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছেন প্রতিযোগিতার মূল বিচারক শ্রীকান্ত আচার্য, শান্তনু মৈত্র, কৌশিকী চক্রবর্তী, মোনালী ঠাকুর। তাদের সঙ্গে নিজেদের মুগ্ধতা প্রকাশ করেন অতিথি বিচারক পণ্ডিত তন্ময় বোস, রূপঙ্কর বাগচী, জয় সরকার ও শুভমিতাও।

শিস দেয়ার ধরনে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বিচারক পণ্ডিত তন্ময় বোস তো অবন্তীর নামটাই পাল্টে দিলেন। তাকে বলেন, ‘আপনার নাম শিস প্রিয়া।’
ফেসবুক জুড়ে দেখা যাচ্ছে ‘সারেগামাপা’য় অবন্তীর পরিবেশনার ভিডিওটি। শত ইস্যুর ভিড়ে এদেশের নতুন ইস্যু তিনি। সবাই জানতে চাইছেন, কে এই ভাইরাল হওয়া অবন্তী? এই শিল্পীর ফেসবুক আইডি ঘেঁটে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেল, জামালপুরের মেয়ে অবন্তী সিঁথি। সেখানেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা। জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক আর দিগপাইত শামসুল হক ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেছেন। এর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন।
বর্তমানে ঢাকারই বাসিন্দা তিনি। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যুক্ত। তবে অবন্তীর নেশায় রয়েছে গান। স্কুল কলেজে থাকতেই গান গেয়ে পরিচিতি পান তিনি। গিটার আর হারমোনিয়াম বাজানোও শিখেছেন ছোটবেলায়।
২০০৩ ও ২০০৪ সালে লোকগান ও নজরুলসংগীত গেয়ে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০৫ সালে ক্ল্যাসিক্যাল ও লোকসংগীত গেয়ে অর্জন করেছেন ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান স্বর্ণপদক’। ২০১২ সালে তিনি ‘ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতাতে অংশ নিয়ে সেরা ১০ জনের তালিকায় ছিলেন।
পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। সেখান থেকে নিয়মিত গান করতেন।
গান গাওয়ার পাশাপাশি ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা অবন্তীর মূল আকর্ষণ। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘কাপ সং’। এই বাদ্যের তালে ইউটিউবে অবন্তীর বেশ কিছু গানের ভিডিও রয়েছে যেগুলো বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানে তিনি ইউটিউবে ‘ব্যালুন সং’ নিয়ে নিরীক্ষামূলক কাজ করছেন।
তিনি ইনস্ট্রুমেন্টাল ব্যতিক্রমী কাজ করে মানুষকে ভিন্ন মাত্রার বিনোদন দিতে চান। স্বপ্ন দেখেন সিনেমার গানে নিয়মিত হবেন।
প্রতিভা লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়। সে তার আপন গতিতে বিকশিত হয়। তারই নতুন নজির গড়লেন জামালপুরের মেয়ে অবন্তী সিঁথি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পরবর্তী আইপিএলে নতুন দল কাশ্মীর!

খেলার খবর: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে এবার নতুন চমক। জম্মু কাশ্মীর থেকে নাকি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি আসছে! জঙ্গি-পুলিশ যুদ্ধ ক্ষতবিক্ষত ভূস্বর্গ ক্রিকেটের হাত ধরেই মূলস্রোতে ফেরার চেষ্টা করছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
শ্রীনগরে ‘স্বচ্ছ হি সেবা’ প্রকল্পে এসে জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক বলেছেন, ‘আইপিএল চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লার সঙ্গে যোগাযোগ করছি যাতে জম্মু-কাশ্মীরের কোনো দলকে আইপিএলে নেওয়া হয়। খুব শীঘ্রই কাশ্মীরে আইপিএল খেলা হবে।’
সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত ভারতের এই রাজ্য অবশ্য রনজি ট্রফিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে। কয়েক বছর আগে তারকাখচিত মুম্বাই দলকে হারিয়ে সকলকে চমকেও দিয়েছিল। কাশ্মীরের বেশ কিছু তারকা বিশ্ব ক্রিকেটের পরিচিত মুখ। রাজ্যের তিন ক্রিকেটার আইপিএলে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেললেও কাশ্মীর থেকে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল না আইপিএলে।
পারভেজ রসুল জাতীয় দলের হয়ে খেলে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। মঞ্জুর পাণ্ডবকে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ২০ লক্ষ রুপিতে কিনে নিয়েছে। বিগ হিটার হিসেবে এমনিতেই সুনাম রয়েছে মঞ্জুরের। মিঠুন মানহাস ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ। একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে আইপিএলে অংশ নিয়েছেন তিনি।
এখানেই অবশ্য ক্রিকেটের সঙ্গে কাশ্মীরের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি। গত আগস্টেই ১৭ বছরের কামরান ইকবাল ভারতীয় অনুর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা পেয়েছেন। চলতি সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখেই শুরু হওয়া আফগানিস্তান, নেপাল এবং ভারতের অন্য এক দলের মধ্যে হওয়া এক প্রতিযোগিতায় খেলছেন কামরান। এবার আইপিএলে কাশ্মীর ফ্র্যাঞ্চাইজি আসলে তা সত্যিই বড় চমক হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘২০০ কোটি টাকা’ হলেই বাঁচবে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি : আলমগীর

বিনোদনের খবর: ঢাকাই সিনেমার সোনালী দিন এখন আর নেই। এখন নানা সংকটের মধ্যে বেঁচে আছে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি। মাত্র ২০০ কোটি টাকা হলেই এই ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চিত্রনায়ক আলমগীর। বাংলা চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে ২০০ কোটি টাকাও চাইলেন তিনি।
‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিশন হোটেলে অর্থমন্ত্রীর কাছে চলচ্চিত্রের জন্য এই বাজেট চান তিনি।
এ সময় এখানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, তথ্য সচিব আবদুল মালেক, সংস্কৃতি সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
আলমগীর বলেন, ‘মাত্র ২০০ কোটি টাকা আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য বরাদ্দ দিয়ে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচান। আমাদের অর্থমন্ত্রী ১২ থেকে ১৩ বার বাজেট ঘোষণা করেছেন। কোন জায়গা থেকে আমাদের কোথায় এনেছেন আমাদের দেশকে। তিনি চাইলে সবকিছুই সম্ভব। তার কাছে ২০০ কোটি টাকা কোনো ব্যাপার না।’
আলমগীরের পরে অর্থমন্ত্রীও সেখানে বক্তব্য রাখেন। তিনি এই বিষয়ে বলেন, ‘আমি কোনো অনুষ্ঠানে গিয়ে ওয়াদা করি না। সেখানে গিয়ে সবার কথা শুনি, বুঝি। পরে চিন্তাভাবনা করে কাজ করি। আমি কোনো ওয়াদা করছি না। একটা কথা বলি, টাকার জন্য কোনো কিছু আটকে থাকবে না।’
দীর্ঘ ২৭ বছর পর চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির উদ্যোগে শুরু হচ্ছে চলচ্চিত্রে নতুন শিল্পী খোঁজার আয়োজন ‘নতুন মুখের সন্ধানে’।
১৯৮৪ সালের ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রম দিয়েই চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেছিলেন চিত্রনায়ক আসলাম তালুকদার মান্না, সোহেল চৌধুরী, আমিন খান, চিত্রনায়িকা দিতি, খালেদা আক্তার কল্পনা, রাশেদা চৌধুরী, খল অভিনেতা মিশা সওদাগরসহ অনেকেই। এখন ইন্ডাস্ট্রি নতুন মুখের অপেক্ষায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মনোনয়ন দৌড়ে একঝাঁক ক্রীড়াবিদ-সংগঠক

দেশের খবর: তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে ধরে নেয়া হচ্ছে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের যে কোনো দিন হবে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন। সে হিসেবে দেশের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনও ৩ মাসেরও বেশি সময় বাকি। তবে এরই মধ্যে দেশে নির্বাচনী উত্তাপ শুরু হয়ে গেছে। শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ।
শহর, বন্দর আর গ্রাম-গঞ্জে বইছে নির্বাচনী বাতাস। কাগজ-কলমে এখনও প্রার্থী ঠিকঠাক না হলেও সম্ভাব্যরা নিজের ছবি দিয়ে দলের প্রতীকে ভোট চেয়ে পোস্টার, ব্যানার লাগানোও শুরু করে দিয়েছে নিজ নিজ এলাকায়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেন অনেক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, যাদের মধ্যে ক্রীড়া সংগঠকই বেশি। আছেন অনেক সাবেক তারকা ক্রীড়াবিদও। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বিভিন্ন সেক্টরের মতো ক্রীড়াঙ্গনের অনেক মানুষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যাদের বেশিরভাগই বর্তমান সংসদ সদস্য। আছেন কিছু নতুন মুখও, যারা প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে চান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে।
কেবল ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠকই নন, বিভিন্ন সময়ে ক্রীড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন অনেকেই আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। যাদের কেউ নিজ নিজ দলের প্রভাবশালী নেতা, অনেকে মাঝারি গোচের। অনেকে আবার মনোনয়ন পাবেন না ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নিজেকে মানুষের কাছে নেতা হিসেবে উপস্থাপন করার।

দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক হারুনুর রশিদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির যুব ও ক্রীড়া সংগঠক জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক বলেছেন, তাদের দলের অনেকেই মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। তবে কাগজ-কলমে কেউই চূড়ান্ত নন। সবাই মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

হারুনুর রশিদ নিজে নির্বাচন করতে চান লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে। এই আসন থেকে তিনি ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ‘আমি এই আসন থেকে আগে নির্বাচিত হয়েছিলাম। দল মনোনয়ন দিলে এবারও নির্বাচন করতে চাই। আমি সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি’- বলছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক।

সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক দলীয় মনোনয়ন পেলে এই প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। তিনি মনোনয়ন চাইবেন ঢাকা-১৬ আসন থেকে। দেশের ফুটবলে উজ্জ্বল মুখ আমিনুল হক। দীর্ঘদিন খেলেছেন লাল-সবুজ জার্সি গায়ে, নেতৃত্বও দিয়েছেন দেশকে। খেলা ছেড়ে রাজনীতিতে নেমেছেন সুদর্শন এ ফুটবলার। বিএনপির যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। ‘আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো’- বলেন আমিনুল হক।

বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও ক্লাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই আছেন যারা বর্তমান সংসদ সদস্য। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন অনেকে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত এদের অনেকের মনোনয়ন পাওয়া নিশ্চিত। অনেকে বাদ পড়বেন। তবে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনয়ন চূড়ান্ত না করা পর্যন্ত তাদের অপেক্ষায় থাকতেই হবে। যদিও প্রকাশ না হলেও অনেকে দলীয় হাই কমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন।

এবারের সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে জাতীয় দলের বর্তমান দুই ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং সাকিব আল হাসান যদি অংশ নেন। তারা দু’জন নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না- সেটা নিজ মুখে একবারও বলেননি। তবে, কয়েক মাস আগে এক অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা আ হ ম মোস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন মাশরাফি এবং সাকিব। হয়ত এ লক্ষ্য সামনে রেখেই নিজ এলাকা নড়াইলে বেশ কিছু জনকল্যাণমূলক কাজও করে যাচ্ছেন মাশরাফি। সাকিব যদিও এ ব্যাপারে পুরোপুরি উদাসীন।

যদি মাশরাফি এবং সাকিব নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে তারা দু’জন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যানারে প্রার্থী হবেন মাগুরা এবং নড়াইল থেকে। সাকিব আল হাসান অংশ নেয়ার কথা রয়েছে মাগুরা সদর এবং মাশরাফির অংশ নেয়ার কথা রয়েছে নড়াইল সদর আসন থেকে।

বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য। ওই আসনে তার মনোনয়ন পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত। যেমন নিশ্চিত সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নোয়াখালী-৫ আসন থেকে। বীরেন শিকদারের আগে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আহাদ আলী সরকার তার আসন নাটোর-২ থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ নিয়ে এলাকায় কাজ করছেন। ‘আমি বেশ ভালোভাবেই এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যাচ্ছি। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে’-বলছিলেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফ খান জয় গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন নেত্রকোনা-৩ আসন থেকে। এবারও তিনি ওই আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আরিফ খান জয় ও গোলরক্ষক আমিনুল হক নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পেলে একই সঙ্গে খেলা দুই ফুটবলারদের দেখা যাবে ভিন্ন ভিন্ন আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে।

আবাহনী লিমিটেডের পরিচালক, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি শাহরিয়ার আলম গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন রাজশাহী-৬ আসন থেকে। তিনি বর্তমানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এবারও ওই আসন থেকে তার মনোনয়ন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত বলেই জানা গেছে।

বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে নির্বাচন করবেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক ফুটবলার আবদুস সালাম মুর্শেদী। তিনি কিছুদিন আগে খুলনা-৪ আসনের উপ-নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি ওই আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন, তা প্রায় নিশ্চিত।

আবাহনীর পরিচালক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে। একই আসন থেকে এবারও তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দুই সাবেক সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল ও সাবের হোসেন চৌধুরী এবারও নিজ নিজ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন কুমিল্লা-১০ আসন থেকে। সাবের হোসেন চৌধুরী ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। শোনা যাচ্ছে তার আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বিশিষ্ট ফুটবল সংগঠক মোজাফফর হোসেন পল্টু।

সাবেক ফুটবলার ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। একই আসন থেকে এবারও তিনি নিজ দল জাতীয় সমাজতাতিন্ত্রক দল (জাসদ) থেকে নির্বাচন করবেন তা এক প্রকার নিশ্চিত।

ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক গোলাম দস্তগীর গাজী গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ থেকে। তিনি এবারও একই আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাবেক অ্যাথলেট মাহবুব আরা বেগম গিনি গাইবান্দা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। একই আসন থেকে এবারও তিনি ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন।

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক, বিসিবির পরিচালক নাঈমুর রহমান দুর্জয় গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে। এবারও একই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন চাইবেন সাবেক ফুটবলার, বিসিবির সাবেক পরিচালক দেওয়ান সফিউল আরেফীন টুটুল। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগেরও সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক। ওই আসনে মনোনয়ন দৌড়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী মমতাজ।

জাতীয় সংসদের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জাহিদ আহসান রাসেল গাজীপুর-২ আসন থেকে গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। একই আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন তিনি।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও আবাহনীর ভারপ্রাপ্ত ডাইরেক্টর ইনচার্জ কাজী নাবিল আহমেদ যশোর-৩ আসনে সংসদ সদস্য। এবারও তিনি একই আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন।

বাফুফের সাবেক সদস্য ও চট্টগ্রাম আবাহনীর মহাপরিচালক শামসুল হক চৌধুরী সংসদ সদস্য চট্টগ্রাম-১২ আসনের। একই আসন থেকে এবারও তিনি নির্বাচন করতে চান। মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়েও আছেন বিশিষ্ট এ ফুটবল সংগঠক।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সহ-সভাপতি বীর বাহাদুর বান্দরবান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও তার একই আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে জানিয়ে বিভিন্ন সূত্র।

বিএনপির সিনিয়র নেতা, সাবেক ফুটবলার ও বাফুফের সাবেক সভাপতি মেজর হাফিজ উদ্দিন (অব.) ভোলা থেকে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। বাফুফের আরেক সাবেক সভাপতি এসএ সুলতান একবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন চাঁদপুর-৩ আসন থেকে। এসএ সুলতান ওই আসন থেকে এবারও নির্বাচন করবেন বলে শোনা গেলেও তিনি নিজে অবশ্য জোর দিয়ে কিছু বলেননি।

সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদ জাকের পার্টির প্রার্থী দুইবার নির্বাচন করেছিলেন ঢাকা-৫ ও ১৪ থেকে। এবারও নিজ দল থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছে প্রকাশ করে কায়সার হামিদ বলেছেন, ‘আমি এলাকায় কাজ করছি। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। জানি না, আমার দল এককভাবে নাকি কোনো জোটের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেবে।’

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন ব্রাহ্মবাড়িয়া থেকে। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রকীব মন্টু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সিলেট-৩ আসন থেকে।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য সাইদুর রহমান প্যাটেল মনোয়ন চাইবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। তিনি ঢাকা-৬ আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন পুরান ঢাকা থেকে।

সাবেক ফুটবলার একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালী-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। তিনিও আওয়ামী লীগের ব্যানারে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest