সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযানসাতক্ষীরায় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে মতবিনিময় সভাসাতক্ষীরা জেলা বিএনপিতে টুটুলকে ঘিরে তৃণমূলে তৎপরতাসাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক দুই দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণের সমাপনীসাতক্ষীরায় টেপা মাছ খেয়ে একই পরিবারের ৫ জন অসুস্থ : ব্যবসায়ীর মৃত্যুডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিসাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক দুই দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনসাতক্ষীরায় পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যুমানবকণ্ঠের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধির নিয়োগ পেলেন মুজাহিদুলদেবহাটায় প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ: সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সহজ জয় পেল ইংল্যান্ড

খেলার খবর: ক্যান্ডির পাল্লেকেলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার তৃতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে সহজেই হারাল ইংল্যান্ড। সাত উইকেটে জিতেছে মর্গ্যানের দল। ১৫১ রানের লক্ষ্য ১৫ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় তারা।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিরোশান ডিকভেলার টর্নেডো ইনিংসে উড়ন্ত সূচনা পায় শ্রীলঙ্কা। ২০ বলে ৮ চারে ৩৬ রান করা কিপার ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন কারান।
কুসল মেন্ডিসকে গোল্ডন ডাকের স্বাদ দেন রশিদ। পরে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে দেন সাদিরা সামারা্বিক্রমা ও থিসারা পেরেরাকে। লেগ স্পিনারের আঘাতে এলোমেলো হয়ে যায় লঙ্কান ব্যাটিং। দুই উইকেটে ৯৪ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড়ানো দল কোনো মতে যায় দেড়শ পর্যন্ত।
৩৬ রানে ৪ উইকেট নেন রশিদ।
জবাবে লাসিথ মালিঙ্গার প্রথম ওভার থেকে ১৭ রান তুলে নেন জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। তবে বেশিক্ষণ টিকেননি বেয়ারস্টো ও জো রুট।
ইংলিশ অধিনায়ক অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে। তার ৪৯ বলের ইনিংসটি গড়া ৭টি চারে। ছক্কায় ম্যাচ শেষ করা স্টোকস ২৪ বলে করেন ৩৫ রান। তাতেই ১৫ বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন

অনলাইন ডেস্ক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শহীদ শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন আজ বৃহস্পতিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকদের নির্মম বুলেট থেকে রক্ষা পাননি শিশু শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধুর সাথে নরপিশাচরা নির্মমভাবে তাকেও হত্যা করেছিল। তিনি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আগামীকাল সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বুধবার এক বিবৃতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি যথাযোগ্যভাবে পালন করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে তিনি দেশের সকল শাখা সংগঠনসমূহকেও অনুরূপ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিসিবি একাদশের নেতৃত্বে সৌম্য

খেলার খবর: তিন ওয়ানডের সিরিজে নামার আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে জিম্বাবুয়ে। শুক্রবার সাভারের বিকেএসপিতে হতে যাওয়া ৫০ ওভারের ম্যাচটিতে সফরকারী দলের প্রতিপক্ষ বিসিবি একাদশ। যে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়া সৌম্য সরকার।

প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য বুধবার ১২ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। ওয়ানডে দলে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে ফজলে রাব্বি, আরিফুল হক ও মোহাম্মদ সাউফউদ্দিন আছেন স্কোয়াডে। দলে জায়গা পেয়েছেন বিকেএসপির তরুণ দুই ক্রিকেটার আফিফ হোসেন ধ্রুব ও জাকির হাসান। দুজনই বাংলাদেশ দলের হয়ে টি-টুয়েন্টি খেলেছেন।

জায়গা পেয়েছেন মাত্র একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা রাজশাহীর পেসার মোহর শেখ অন্তরও। ২০১৬ সালে পেসার হান্ট দিয়ে আলোচনায় আসেন ২১ বছরের এ তরুণ। ৮ অক্টোবর জাতীয় লিগে অভিষেক হয় তার। নেন তিনটি উইকেট।

বিসিবি একাদশ
সৌম্য সরকার (অধিনায়ক), মিজানুর রহমান, ফজলে রাব্বি, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, জাকির হাসান, আরিফুল হক, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, ইয়াসিন আরাফাত মিশু, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, মোহর শেখ, নাঈম হাসান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাকিস্তানে শিশু ধর্ষণের পর হত্যা; ইমরানের ফাঁসি কার্যকর

বিদেশের খবর: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুরে ছয় বছরের শিশু জয়নাব আনসারি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ইমরান আলির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বুধবার লাহোরের কোট লাখপাট কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর- ডন নিউজ’র।

ওই সংবাদ মাধ্যম জানায়, ইমরান আলির ফাঁসি কার্যকরের সময় জয়নবের বাবা ও চাচা উপস্থিত ছিলেন। জয়নবের বাবা আমিন আনসারি বলেন, ‘হত্যাকারীকে আজ তার কর্মফল ভোগ করতে হলো।’

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি পাঞ্জাবের কাসুরের শিশু জয়নব আনসারি নিখোঁজ হয়। কয়েকদিন পর শহরের একটি আবর্জনার স্তুপে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

এক বছরের মধ্যে ১২তম শিশু হিসেবে ধর্ষণের শিকার হওয়া জয়নবের মৃত্যুতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে যায় সারা শহরে। ‘জাস্টিস ফর জয়নাব’ দাবিতে ১০ জানুয়ারি থেকে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সেখানকার মানুষ। ‘হ্যাশট্যাগ জাস্টিস ফর জয়নাব’ লিখে প্রতিক্রিয়া জানান জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও ক্রিকেট তারকারাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ।

পরে ফরেনসিক পরীক্ষায় জানা যায়, জয়নবের শরীরে পাওয়া সন্দেহভাজন অপরাধীর ডিএনএ নমুনাটি আগে ধর্ষণের শিকার হওয়া সাতটি শিশুর শরীরেও পাওয়া গিয়েছিল। পরে ইমরান আলীকে অপরাধী হিসেবে গ্রেফতার করা হলে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে শুরু হয় তার বিচার।

ফরেনসিক রিপোর্ট ও পলিগ্রাফিক পরীক্ষায় অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় তাকে শিশু হত্যা, শিশু অপহরণ, শিশু ধর্ষণ এবং শিশুর সঙ্গে অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত।

মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জয়নাবের বাবা আমিন আনসারি। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের চোখে তাঁর ভয়ংকর পরিণতি দেখেছি। তাকে ফাঁসি কাষ্ঠে নেয়া হয়। এক ঘণ্টা ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়।’

আমিন আনসারি এর আগে জনসম্মুখে এই ফাঁসি কার্যকরের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে লাহোর হাইকোর্টে তা নাকচ হয়ে যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশের সাহসী মানুষ পরাভব মানে না- সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এমপি রুহুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের মানুষ পরাভয় মানে না। তারা সব দুর্যোগ সব অনিয়মকে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে উল্লেখ করে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক এমপি বলেন ২০০৯ সালে সাতক্ষীরায় আছড়ে পড়া ভয়াবহ আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ নিজেরা দুই হাতে চরের মাটি তুলে বাড়ি তৈরী করেছে। তাদের পেটে খাবার নেই, পিপাসা নিবারনে পানিও নেই। সরকারি কোনো সাহায্য ততক্ষনে না পৌঁছালেও এর তোয়াক্কা না করেই তারা আইলা মোকাবেলা করার শক্তি ও সামর্থ দেখিয়েছে। তিনি বলেন বিশ্বব্যাপী এই ছবি ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। অথচ এই ঘটনার কিছুদিন পর হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সেখানকার মানুষ লুঠপাটে নেমেছিল। এমনকি আমেরিকায় আঘাত হানা ‘মাইকেল’এ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ট্রাম্প সরকারের সাহায্যের আশায় এখনও বসে রয়েছে। আমরা এমনই এক বাংলাদেশে বাস করি যেখানকার মানুষ সব আঘাত সহ্য করেও ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস দেখায়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ডা. আফম রুহুল হক বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক অনির্ধারিত কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন বাংলাদেশ প্রমান করেছে যে দেশটি আত্মনির্ভর হতে চায়। এই দেশ ও জাতির রয়েছে অগাধ আত্ম বিশ্বাস। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ থিম সে সময়কার মিডিয়া যথাযথভাবে প্রচার করেছিল। এমনকি মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন মিডিয়ার ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ন। আর একারনে জাতি হিসাবে আমরা বাঙ্গালিরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দ্রুত মুক্তি লাভ করতে পেরেছি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দেশের যুবসমাজ এখন উন্নয়নের ধারায় কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি টার্নিং পয়েন্ট। বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারাকে বুঝতে হবে , জানতে হবে এবং মিডিয়ার মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা বহুদূর এগিয়েছে। আরও কিছুদিনের মধ্যে সাতক্ষীরার মত প্রত্যন্ত এলাকায়ও মানুষ উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা লাভ করতে পারবে। তবে চিকিৎসালয়গুলিতে নানা অব্যবস্থাপনা, সেবা না পাওয়া সহ নানা সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন ডাক্তারের পদ রয়েছে। সরকার বেতন দিয়েছে অথচ সেখানে ডাক্তার নেই। এটা দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে। তবেই তাদের স্বাস্থ্যসেবা বহুলাংশে নিশ্চিত করা যাবে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ নিয়ে আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে অতি উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম এসেছে। তার পরও সেবা প্রদানে পশ্চাদপদতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন ধীরে ধীরে এসব ঘাটতি পূরনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শহীদ সম আলাউদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, প্রথম আলোর কল্যান ব্যানার্জী, প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আব্দুল বারী, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, সাবেক সাধারন সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, দৈনিক দক্ষিনের মশাল সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক লায়লা পারভিন সেঁজুতি, ডেইলি সাতক্ষীরার সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, দৈনিক দৃষ্টিপাতের নির্বাহী সম্পাদক আবু তালেব মোল্লা, দৈনিক ভোরের কাগজের ড. দিলীপ কুমার দেব, দৈনিক সুপ্রভাত এর নির্বাহী সম্পাদক তানজির আহমেদ প্রমুখ সাংবাদিক।
ডা. আ ফ ম রুহুল হক মতবিনিময় সভায় আরও বলেন, প্রেসক্লাবের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। ধীরে ধীরে আরও উন্নয়ন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমিও এই উন্নয়নের অংশীদার হতে চাই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

দেশের খবর: ২৩ অক্টোবর সিলেট, ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে এবং ৩০ অক্টোবরে রাজশাহীতে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় লেকশোর হোটেলে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।

বুধবার রাতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে ঐক্যের বৈঠক শেষে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া শিগগিরই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লিঁয়াজো কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. মোশাররফ হোসেন।

বুধবার রাতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে ঐক্যের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আ.স.ম রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাংবাদিকতায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে- সাতক্ষীরায় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘মেক মিডিয়া ফ্রী, জিডিপি উইল ইনক্রিস অ্যাট লিস্ট টু পার্সেন্ট’ নোবেল বিজয়ী ড. অমর্ত্য সেনের এই উক্তিকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় বক্তারা বলেন এর মধ্যে নিহিত রয়েছে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, সুশাসন, গণতন্ত্রকে শাণিত করা সহ নানা উদ্দেশ্য। এই লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ফ্রীডম অব প্রেস এখন এক চলমান আন্দোলন বলে উল্লেখ করেন তারা।
এ প্রসঙ্গে বক্তারা আরও বলেন রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ মিডিয়া ওয়াচ ডগের ভূমিকা পালন করে আসছে। তারা গেইটকীপার হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছে। এ জন্য সাংবাদিক ও মিডিয়া গেইটকীপারদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া দরকার। এর সাথে সাথে নারী সাংবাদিকতাকে জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব আারোপ করেন তারা।
‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা,ঝুঁকি চিহ্ণিতকরণ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রনয়ণ ও দায়মুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষন’ শীর্ষক কর্মসূচিতে এসব কথা তুলে ধরেন আয়োজকরা। বুধবার সকালে সাতক্ষীরার বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিকের সম্পাদক এবং সিনিয়র সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেসক্লাবের শহিদ সম আলাউদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এতে তারা বলেন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি যথাযথভাবে মোকাবেলা করা গেলে গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত হবে। দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। অচিরেই বাংলাদেশ এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
সাংবাদিকরা বহুমুখী নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে তারা বলেন এই পেশা ঝুঁকির পেশা। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারা বলেন ২০১৫ সালে বিশ্বে ৭১ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশে খুন হয়েছেন কমপক্ষে ৩ জন সাংবাদিক। এর আগে ২০০৬ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বে ৬৮০ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে বিচার হয়েছে মাত্র ৬ শতাংশের। বাকি ৯৪ শতাংশ হত্যাকান্ড দায়মৃুক্তির পর্যায়ে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তারা। সাংবাদিক হত্যা এবং তার বিচার না হওয়ার যে সংস্কৃতি বহমান তা থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে নিউজ নেটওয়ার্কসহ বহু সংগঠন।
নিউজ নেটওয়ার্কের সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক শহীদুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল ওরফে সাজ্জাদ বকুল। এ সময় নিউজ নেটওয়ার্কের মনিটরিং অফিসার শ্যামল সিংহ রায় এবং সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়কারী এম কামরুজ্জামান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে জানিয়ে আলোচকরা বলেন এই ঝুঁকি রাজধানী ঢাকায় অপেক্ষাকৃত কম হলেও ঢাকার বাইরে তা অনেক বেশি। হত্যা, হত্যার হুমকি, মানসিক চাপ, শারীরিক আঘাত, হামলা ও মামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে উল্লেখ করে তারা বলেন সরকার ও প্রশাসনের নানা অনিয়ম , দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে কথা বললেই এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে । দেশ যতোই উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ততই হত্যা হুমকি ও ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয় কর্মশালায়। এ চিত্র কেবল বাংলাদেশের নয় , সারা বিশ্বের বলে উল্লেখ করেন তারা। কর্মশালায় তারা বলেন মিডিয়ার কাজ কোনো উন্নয়ন বন্ধ করা নয়, মিডিয়ার কাজ কোনো গনমুখী কর্মকান্ডে বাধা দান নয় , কাউকে নিরুৎসাহিত করা নয়। বরং মিডিয়ার কাজ সবকিছু জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসা। নিয়মতান্ত্রিকতা নিশ্চিত করা। এ প্রসঙ্গে তারা দেশের স্বাধীনতা , সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা ছাড়াও জাতীয় সংগ্রাম ,মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ নানা বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে বলেন এসব যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
একজন সাংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। তাকে আটক করা, কারাগারে নিক্ষেপ করা, তার দেহ তল্লাশি করা, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া, দেশ থেকে নির্বাসন দেওয়া, তার রোগ সংক্রমন বৃদ্ধি পাওয়া, দুর্নীতিবাজ বা পাচারকারীদের শিকার হওয়া এমনকি নানাভাবে প্রলুব্ধ হবারও ঝুঁকি রয়েছে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে , বিক্ষোভ মিছিলে, আন্দোলনে, সহিংসতার সময় তিনি আক্রান্ত হতে পারেন। লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার ধরন পরিবর্তিত হতে পারে জানিয়ে তারা বলেন এমনকি একজন সাংবাদিকের সংবাদ বিষয়ক উপকরণ চুরি ও তা বাজেয়াপ্ত হতে পারে। তিনি ডিজিটাল হুমকি, লিখিত হুমকি এমনকি তিনি সন্ত্রাসী অথবা আইনশৃংখলা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেও পড়তে পারেন। সংবাদপত্রে অগ্নিসংযোগ, সংবাদপত্র ভবনে হামলা, ভাংচুর, ব্যবহার্য উপকরন বাজেয়াপ্ত, মাঠ পর্যায়ে ক্যামেরা ভাঙা, ই মেইল, ফেসবুক এবং অনলাইনে ট্রলসের মাধ্যমেও তিনি হুমকির মধ্যে পড়তে পারেন। সর্বত্র ডিজিটাল হয়রানি, সহিংস হামলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ নানা বিষয়ে একজন সংবাদকর্মী বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। এ প্রসঙ্গে আলোচক বক্তারা মিডিয়া ও গেটকীপারদের নিরাপত্তার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
রাজধানী ঢাকার বাইরে সাংবাদিকরা কেন বেশি ঝুঁকির মধ্যে এমন প্রশ্নের উত্তরে নিউজ নেটওয়ার্ক সম্পাদক শহীদুজ্জামান বলেন, সচরাচর ‘ভেস্টেট কোয়ার্টার’ (পরিত্যক্ত ভবন) এর লোকজন এই সুযোগ গ্রহন করে থাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোট ছোট শহরে সাংবাদিকরা নীতিগত বিষয়ে অনেকটা পশ্চাদপদ। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা সাংবাদিকতার সাথে সাথে ব্যবসা বানিজ্য এবং সামাজিক অর্থনৈতিক নানা বিষয়ে জড়িত থাকেন। তাদের মধ্যে দুর্নীতি আছে। তারা ফুল টাইমার সাংবাদিক নন। পেশাদার সাংবাদিকের সংখ্যাও কম। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিরোধও আছে। এসব কারনে চোরাচালানি, পাচারকারী এবং ডগলর্ডদের দ্বারা তারা আক্রান্ত হয়ে থাকেন। ঢাকা হাউজ থেকে নিয়োগ দেওয়ার সময় তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করাও এধরনের হামলার অন্যতম কারন বলে উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতায় নৈতিক চর্চা বাড়াতে হবে , রিপোর্টিংয়ে বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সম্পাদনার ক্ষেত্রে পক্ষপাতহীনতার গুরুত্ব দিতে হবে। নির্বাহী সম্পাদক ও সহ সম্পাদককে গেইটকীপারের সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। এমনটি করা গেলে ঝুঁকি অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তারা।
কোন ঝঁুঁকিপূর্ন ঘটনা নিয়ে রিপোর্টিংয়ের সময় সংবাদকর্মীদের গ্রুপগতভাবে কাজ করানো, তথ্য বিনিময়ের সুযোগ থাকা এবং শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্তদের রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে হবে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আলোচকরা আরও বলেন ২০০৬ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বিশ্বে ৫৯৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ২০১২ সালে ১২৩ জন এবং ২০১৩ সালে ৯৩ জনকে হত্যা করা হয় জানিয়ে আয়োজকরা আরও বলেন, প্রতি ১০ টি কেসের মধ্যে ৯টিই অনিষ্পত্তিকৃত রয়ে গেছে। এমনকি ইউরোপ ও আমেরিকাতেও এ ধরনের ৬০ শতাংশ ঘটনার বিচার হয়নি। তারা ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে) এর পরিসংখ্যান তুলে ধরে আরও বলেন, গত ২২ বছরে বাংলাদেশে ৩০ জন সাংবাদিক খুন হয়েছে। এ অবস্থা থেকে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে হলে তাদের নতুন পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। ঝুঁকি প্রশমনে নতুন নতুন উদ্যোগ নিতে হবে।
দেশে নারী সাংবাদিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না মন্তব্য করে কর্মশালার সভাপতি শহীদুজ্জামান বলেন, নিউজ নেটওয়ার্ক ১৯৯৮ সাল থেকে নারী সাংবাদিকদের ট্রেনিং করিয়ে ফেলোশিপ দিয়ে আসছে। ১৪ বছরে ৩৫০ জন নারীকে প্রশিক্ষন দেওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা এখন বড় বড় মিডিয়া হাউজের প্রতিনিধিত্ব করেন। অনেকে বিদেশে পিএইচডি করছেন এবং অনেকে মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকতায় খ্যাতি লাভ করেছেন। নারী সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তারা বলেন, তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হলে অন্যদের তুলনায় তারা ভালো কাজ দেখাতে পারেন। পেশাগত দক্ষতার ফলে তারা সর্বোচ্চ সফলতা দেখাতে পেরেছেন। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটন ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স মিডিয়া ফাউন্ডেশন এবং ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত লন্ডন ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল নিউজ সেফটির তথ্য তুলে ধরে তারা বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৯৭৭জন নারী সাংবাদিক যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ নারী তার অফিস বস, উর্ধতন কর্মকর্তা অথবা সহকর্মীর যৌন হয়রানির মুখে পড়েছেন। তারা মিডিয়া হাউসের বাইরের চেয়ে ভেতরে বেশি হয়রানির মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যে ৬০ ভাগ তার বস দ্বারা এবং ৪০ ভাগ অন্যদের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছেন তারা।
নারী সাংবাদিকদের ৪৬ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হয়েছেন জানিয়ে তারা বলেন, এরই মধ্যে বলিউড থেকে ছড়িয়ে পড়েছে ‘মি ঠু’ আন্দোলন। এ প্রসঙ্গে তারা ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দ্য এশিয়ান এজ এর প্রাক্তন সম্পাদক এমজে আকবরের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ মাথায় নিয়ে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তবে পরে তিনি কয়েকজন নারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। অপরদিকে কমপক্ষে ২০ জন নারী সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে ‘মি ঠু’ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
দুদিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় যোগ দেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, দৈনিক দক্ষিনের মশাল সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহি, দৈনিক পত্রদূতের উপদেষ্টা সম্পাদক অধ্যক্ষ আনিসুর রহিম, দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক লায়লা পারভিন সেঁজুতি, ডেইলি সাতক্ষীরার সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, দৈনিক দৃষ্টিপাত এর নির্বাহী সম্পাদক আবু তালেব মোল্লা, দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরার নির্বাহী সম্পাদক শেখ তানজির আহমেদ, সাপ্তাহিক সূর্যের আলো সম্পাদক আবদুল ওয়ারেশ খান চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আবদুল বারী, দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভির সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরী প্রমূখ।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সাংবাদিকতা পেশায় নারী সাংবাদিকদের আগ্রহী করে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয় এ জন্য সম্পাদকরা জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেন। তারা তাদের উৎসাহিত করলে নারী সাংবাদিকতা আরও বেগবান হতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন আলোচকরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে ঔষধি গুণসম্পন্ন বাসক পাতা

আসাদুজ্জামান: সাতক্ষীরার গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে ঘেরা বেড়া দেওয়ার কাজে বেশ জনপ্রিয় ঔষধি গুন সম্পন্ন বাসক গাছ। গ্রাম জুড়ে এর ছড়াছড়ি। এক ধরনের দুর্গন্ধের জন্য এর পাতায় গবাদি পশু মুখ দেয় না। ফলে সহজেই জমি ও বাড়ি ঘেরার কাজ চলে এই গাছ দিয়ে। অথচ দরিদ্র মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে ঔষধি গুন সম্পন্ন এই বাসক উদ্ভিদের পাতা। গ্রামাঞ্চলে বাসক পাতার বেশ কদর রয়েছে। সর্দি কাশি সারাতে সবুজ বাসক পাতা রস করে খেলে উপকার পাওয়া যায় এ বিশ্বাস রয়েছে সবারই। কিন্তু এই পাতা যে মানুষের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে তা ছিল ধারণার বাইরে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি গ্রামের গৃহবধূ বিউটি বেগম জানান, বাসক পাতা এখন তাদের কাছ থেকে ওষুধ কোস্পানিগুলো কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এর ঔষধিগুন এতো বেশি যে এই পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে কাশির সিরাপ। বাসক পাতার নির্যাস, রস বা সিরাপ শেষ্মা তরল করে নির্গমে সুবিধা করে বলে সর্দি, কাশি এবং শ্বাসনালীর প্রদাহ নিরাময়ে বেশ উপকারী।
তিনি আরো জানান, সাতক্ষীরা অঞ্চলে বাসক উদ্ভিদ জন্মায় প্রচুর পরিমানে। ঘেরা বেড়ায় ব্যবহার করা এই পাতা ছিড়লে গাছ মরে যায় না। আবারও নতুন নতুন পাতা গজায়। সারা বছর চলে নতুন পাতা গজানো। ডাল কেটে মাটিতে পুতে দিলে হয়ে ওঠে নতুন গাছ। আর্দ্র ও সমতল ভূমিতে এই উদ্ভিদ জন্মায়। বিকট গন্ধের কারণে এতে ছত্রাক জন্মায়না। এমনকি পোকা মাকড়ও ধরে না।
ফিংড়ি ইউনিয়নের কাঁচাপাকা রাস্তার দুই ধারে ছয় কিলোমিটার এলাকা বরাবর রয়েছে বিপুল পরিমান বাসক উদ্ভিদ। এখানকার কমপক্ষে দশ হাজার বাসক গাছ ব্যবহৃত হচ্ছে জমির চারধারে কিংবা বাড়ির ঘেরা বেড়ায়। প্রতি বছর একশ’ টন সবুজ পাতা সংগ্রহ হচ্ছে এখানে। এ থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২৬ টন শুকনো পাতা।
পানিউন্নয়ন বোর্ড প্রতিনিধি মো. শামীম আলম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প ব্লু গোল্ডের আওতায় ২৮৫ জন নারী এখানে বাসক পাতা সংগ্রহ করছেন। আর এই পাতা কিনে নিচ্ছে ওষুধ কোম্পানিগুলি । বাসক পাতা যেমন আনতে পারে অর্থনৈতিক বিপ্লব, তেমনি বিজ্ঞান সম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পাতা দেশের ওষুধ শিল্পে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখতে পারছে। তিনি আরো জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বানিজ্যিকভাবে বাসক উদ্ভিদের চাষ শুরু হয়েছে। ভারতেও রয়েছে এর ব্যাপক চাষ।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এর প্রতিনিধি মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আমরা শুকনো বাসক পাতা কিনে নিচ্ছি। জার্মান প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিতে বাসক পাতা কাশির সিরাপ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাতক্ষীরার গ্রামে এরই মধ্যে বেশ সাড়া পড়ে গেছে বাসক পাতা নিয়ে। গ্রামবাসী নিজ নিজ বাড়ির চারপাশে বাসক গাছ লাগাচ্ছেন। গ্রামের দরিদ্র নারীরা প্রতিদিনই সংগ্রহ করছেন বাসক পাতা। পরিচ্ছন্নভাবে রোদে শুকিয়ে তা বিক্রি করছেন ওষুধ কোম্পানির কাছে। এতে তারা অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করছেন।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. নাসরিন আক্তার জানান, বাসক এর বৈজ্ঞানিক নাম আঢাটোডা বাসিকা (Adhatoda Vasica)। এটি ঔষধিগুন সম্পন্ন। ভারতীয় উপমহাদেশের একটি উদ্ভিদ। গুনের কারণে বানিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বাংলাদেশেও।
তিনি আরো জানান, বাসক উদ্ভিদের জন্ম ও বৃদ্ধিতে সাতক্ষীরার মাটি অনুকূল। বেশি বেশি করে বাসক গাছ লাগালে এর পাতা দেশের ওষুধ শিল্পে অবদান রাখা ছাড়াও গ্রামীন অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest