সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরের

আইয়ুব বাচ্চুর জন্য কাঁদছে বাংলাদেশ

বিনোদনের খবর: ‘গিটারহিরো’কে শেষবারের মতো একবার দেখতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। গতকাল সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ আনা হয় শহীদ মিনারের পাদদেশে। সংগীতশিল্পী, অভিনয়শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদসহ সর্বস্তরের মানুষের চোখই ছিল অশ্রুসিক্ত। ঢাকার বাইরে থেকেও ছুটে এসেছেন বাচ্চুভক্তরা। দুপুর ১টায় আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। বাদ জুমা তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় হিমাগারে। আজ চট্টগ্রামে মায়ের কবরের পাশে কবর দেওয়া হবে এই কিংবদন্তিকে।
সহকর্মীর মৃত্যুর দিনেও তাঁকে গাইতে হলো। সরকারি আয়োজনে বরগুনা স্টেডিয়ামে হলো ‘উন্নয়ন কনসার্ট’। স্টেজে অন্য এক জেমসকেই দেখল উপস্থিত শ্রোতা ও টিভি দর্শক। আইয়ুব বাচ্চুর শোকে রীতিমতো ভেঙে পড়েছেন ‘নগর বাউল’। ‘আজকের শো উত্সর্গ করছি বাংলাদেশের কিংবদন্তি গায়ক আইয়ুব বাচ্চুকে’, বেদনাভরা কণ্ঠে থেমে থেমে বললেন। এরপর বলতে চাইলেন ১৫ বছর আগের একটি স্মৃতি, “বাচ্চুর সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে বললাম, ‘আমাদের মতো এই রকম শিল্পীদের…’ [গল্পটি আর বলতে পারলেন না]। ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, ‘শো মাস্ট গো অন’। তাই চেষ্টা করব।”
এর পরই টানা প্রায় ১০ মিনিট ধরে গিটারে তুললেন শোকের সুর। ‘ছয়টি তারে লুকিয়ে আছে ছয় রকমের কষ্ট আমার, ফুরিয়ে যাওয়া মানুষের মতো, নির্ঘুম রাত জেগে জেগে, গিটার কাঁদতে জানে’—জেমসেরই গান। সত্যিই গিটার কাঁদতে ও কাঁদাতে জানে। কেঁদে উঠল গিটার, হাউমাউ করে কাঁদলেন জেমস। সেই কান্নার ছবি মুহূর্তেই ভাইরাল। জেমসের কান্না ছুঁয়ে গেলে ভক্তদেরও।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশে এত বিপুলসংখ্যক শতকোটি টাকার মালিক কোথা থেকে এলো?

অনলাইন ডেস্ক: ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় সারা দেশে বড়জোর চার-পাঁচজন কোটিপতি ছিলেন। সে সময় সচ্ছল ধনী বলতে লাখপতিদের বোঝানো হতো।
আমি একটি মফস্বল শহরে শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছি। জেলা সদরের শহর হলেও এই জনপদে বিত্তবৈভবের কোনো ছাপ ছিল না। নোয়াখালীর মূল শহরটি মেঘনার ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হওয়ার কারণে মাইজদীতে জেলার সদর দপ্তর অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়েছিল। অস্থায়ী শহরে কেউ পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করেনি। টিন ও বাঁশের ঘরেই বসবাস করত শহরের গণ্যমান্য পরিবার। সরকারি অফিসগুলোর মধ্যে একমাত্র ট্রেজারি ভবন ছাড়া বাকি সব ছিল বাঁশ অথবা টিনের চালাবিশিষ্ট। কিছু ভবনের দেয়াল ছিল পাকা, কিছু ছিল আধাপাকা, বেশির ভাগের দেয়াল ছিল টিনের অথবা বাঁশের। বেসরকারি স্থাপনার মধ্যে একমাত্র উল্লেখযোগ্য পাকা ভবন ছিল জামে মসজিদ। বিশাল আকারের না হলেও ভবনটি যে চোখে পড়ার মতো ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ছোটখাটো আকারের আরো দু-একটি মসজিদও পাকা ভবনে অবস্থিত ছিল।

শহরে বিদ্যুৎ ছিল না। একটিমাত্র পাকা রাস্তা ছিল, যার সঙ্গে যুক্ত ছিল দু-একটি শাখা রাস্তা। সেগুলো ছিল সরু, তবে পাকা। জেলা প্রশাসক, এসপি, এডিসি, এসডিও, অ্যাডিশনাল এসপি এবং কয়েকটি বিভাগের প্রধান কর্মকর্তার সরকারি জিপগাড়ি ছিল। তবে কারো ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল না। ম্যাজিস্ট্রেট, মুনসেফ ও বিচারক, জিলা স্কুলের হেডমাস্টারসহ অনেক পদস্থ কর্মকর্তা রিকশায় চলাফেরা করতেন। বেসরকারি নাগরিকদের মধ্যে সচ্ছলতার বিচারে নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে যাঁদের টেনেটুনে মধ্যবিত্তের সারিতে ওঠানো যায়, তাঁরা হলেন হাতে গোনা কয়েকজন উকিল, মোক্তার—এককথায় আইনজীবী, সরকারি অফিসের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নন-গেজেটেড কর্মচারী, ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী দোকানদার। তাঁদের কারো কারো সচ্ছলতার পেছনে রয়েছে চর এলাকায় জমির মালিকানা; এর বেশির ভাগ হচ্ছে জেলা প্রশাসনের আনুকূল্যে পাওয়া খাসজমি। নিজ জেলা ও বছরে দু-একবার ঢাকা শহরে যাওয়ার মধ্যে তাঁদের চলাচল সীমিত। একটি আইনজীবী পরিবারের দুজন সদস্য ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য এবং একজন পর্যটক হিসেবে বিলেত গিয়েছিলেন। শহরে আর কোনো বিদেশফেরত লোককে আমি দেখিনি। হজে যাওয়া লোকজনের নাম-পরিচয় শুনেছি বলে মনে পড়ছে না। শহরতলির এক গ্রাম থেকে আমার এক আত্মীয় হজে গিয়েছিলেন। হজ থেকে ফিরে আসার পর মায়ের সঙ্গে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম।

শহরে টাকার ছড়াছড়ি দেখিনি। প্রাদেশিক পরিষদ কিংবা জাতীয় সংসদের নির্বাচনে প্রার্থীদের মোটরগাড়িতে চলাচল করতে দেখিনি। সাইকেল ও রিকশায় তাঁদের চলাফেরা করতে দেখেছি। আমাদের বাসার সঙ্গেই (একই সীমানাপ্রাচীর) জাতীয় সংসদের একজন গণ্যমান্য সদস্য বাস করতেন। তিনি বিভিন্ন সময় পিপি, জিপি, এমনকি জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান/ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনিও রিকশায় চলাফেরা করতেন। সহজ-সরল ও সাধারণভাবে জীবন যাপন করতেন। বাড়িতে ঘটা করে কোনো অনুষ্ঠান করতেন না। সম্পদ বা আয়ের চাকচিক্যময় প্রকাশ ঘটাতেন না। শহরের কারো মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা ছিল না। চলাফেরার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী-ঠিকাদারদের দুটি বৈশিষ্ট্য তাঁদের সচ্ছলতার ইঙ্গিত বহন করত—(১) তাঁরা এক গরুতে কোরবানি দেন (শেয়ারে নয়) এবং (২) না মুলিয়ে (দরদাম না করে) রিকশায় ওঠেন। দৃষ্টিকটুভাবে কেউ টাকার গরম দেখাতেন না। অত টাকা বোধ হয় তাঁদের ছিল না।

ষাটের একেবারে প্রথম দিকে ঢাকায় আসি এবং কলেজের পড়া শেষ করে ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হই। এ সময় শহরের কিছু মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের সঙ্গে জানাশোনা হয়। এ ছাড়া উচ্চ আয়ের বিত্তবান ব্যক্তিদের গল্প-কাহিনি বন্ধুবান্ধব ও সিনিয়র ছাত্রদের কাছে শুনতে পাই। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পূর্ববঙ্গের অভিজাত হিন্দু পরিবারগুলোর প্রায় সবাই ভারতে চলে যায়। হাতে গোনা কয়েকটি মুসলিম সামন্ত পরিবার; যেমন—ঢাকা, বগুড়া, ধনবাড়ী, দৌলতগঞ্জের নবাব পরিবার এই প্রদেশে বসবাস করছিল। তারা বিপুল সম্পত্তির মালিক ছিল। তবে তাদের হাতে রক্ষিত নগদ অর্থের পরিমাণ কত ছিল, তা সঠিকভাবে বলা যায় না। পঞ্চাশের দশকে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি কমে যায়। আয়-উপার্জনেও ভাটার টান পড়ে। ষাটের দশকেও তাদের সচ্ছল বিত্তশালী হিসেবে গণ্য করা যেত। তবে তাদের জীবনাচারে অর্থের ঝলকানি চোখে পড়ার মতো ছিল না। আমাদের সতীর্থদের মধ্যে নবাব পরিবারের ছেলে খাজা শামসুদ্দিনের একটি ছোট অস্টিন গাড়ি ছিল, সেই গাড়িতে আমরা ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেতাম। আর গাড়ি ছিল শেরেবাংলার ছেলে ফয়জুল হক বাবুর এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের ছেলে ওবায়দুর রহমানের। সতীর্থ ছাত্রীদের মধ্যে নিয়মিত গাড়িতে আসত মাত্র দু-তিনজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিদেশফেরত কয়েকজন অধ্যাপকের গাড়ি ছিল। তাঁদের অনেকেই ছিলেন হলের প্রভোস্ট।

ষাটের দশকের ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে যাঁদের নাম শুনেছি তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বড় কন্ট্রাক্টর জহুরুল ইসলাম ও চা-বাগানের মালিক সাইদুল হাসান। শিল্পপতিদের মধ্যে প্রখ্যাত ছিলেন এ কে খান, পূর্ব পাকিস্তানে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী সদরে ইস্পাহানি ও কালীগঞ্জের হাজি গুল বক্স। বাকি শিল্পপতি; যেমন—আদমজি, দাউদ, বাওয়ানি, তাঁরা সবাই আবাঙালি। বাঙালি শিল্পপতি; যেমন—মকবুলুর রহমান, আফিলউদ্দিন, আগা ইউসুফ সচ্ছলতার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করেছেন, তবে ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হননি। সে বিবেচনায় স্বাধীনতা লগ্নে বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা আধা ডজনের বেশি হবে বলে মনে হয় না। এক হিসাবে দেখা গেছে যে ১৯৭২ সালে ব্যাংকে কোটি টাকার আমানতধারীর সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ। এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৭৫ সালে ৪৭ এবং ১৯৮০ সালে মাত্র ৯৮। শুধু পাঠকের কৌতূহল নিবারণের জন্য জানাচ্ছি যে বর্তমানে এ সংখ্যা ৭০ হাজার ৪৬৩। কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা বৃদ্ধি নিশ্চয়ই অবাক করার মতো।

এ তো গেল শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা অর্থের হিসাব। আয় ও সম্পদের পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বিশাল। বিত্তহীন, নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের অবস্থার বিশেষ উন্নতি না হলেও উচ্চমধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের ধনসম্পদ বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বাংলাদেশে তাদের আছে সোনার খনি। তারা দেখতে পায় এখানে বাতাসে টাকা উড়ছে। একটু বৈষয়িক বুদ্ধি থাকলে, নৈতিকতাবোধ একটু কমিয়ে নিলে, সর্বোপরি ক্ষমতাধরদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে বাতাসে ভেসে বেড়ানো টাকা ধরে নেওয়া এবং ঠিক জায়গায় তা সরিয়ে ফেলা কঠিন কাজ নয়। এ দেশে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল, জবাবদিহির বালাই নেই বললেই চলে। দল পাকিয়ে বাজার ক্ষমতা সহজে কবজা করা যায়। নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ উল্টো নিয়ন্ত্রিত হতে পছন্দ করে। এমন অবস্থায় ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বাগিয়ে নিয়ে মহাসুখে টাকা বানানো যায়।

শিল্প-ব্যবসা, আর্থিক খাতের কোন এলাকা থেকে এবং কোন সময় টাকা আসা শুরু করল তা খতিয়ে দেখা প্রাসঙ্গিক হবে। পঞ্চাশের দশক থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড একই ধারায় প্রবাহিত হচ্ছিল। উৎপাদন কাঠামো, উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং অর্থনৈতিক পণ্য তথা ভোগ্যপণ্যের দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত ছিল। শ্রমিকের মজুরি, জোতদার-গৃহস্থের নগদ আয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কিংবা ব্যবসায়ীদের আয়ের পরিমাণ লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়নি। এ ধরনের থিতু অবস্থা ভোক্তাসাধারণের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও তা অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে না। দেশের উৎপাদন, আয়-উন্নতি, সম্পদ বাড়াতে হলে নতুন প্রক্রিয়া-পদ্ধতি, নতুন প্রযুক্তি, নব-উদ্যোগ এবং নতুন কর্মধারা নিয়ে এগোতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন হয় মনোজগতে একটা বিরাট আলোড়ন, যা গতানুগতিক জীবনধারাকে বড় রকমের ধাক্কা দিয়ে মানুষকে স্থবিরতা ঝেড়ে ফেলতে বাধ্য করে, বাঁচার প্রয়োজনে মানুষ নতুন নতুন পথ খুঁজে নিতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালায়। ইতিহাস বলে অবশেষে তারা সফল হয়।

১৯৭৩-৭৪-এর মন্বন্তর বাংলাদেশিদের মনোজগতে তেমনি একটি ধাক্কা দিয়েছিল। নানা প্রকার আন্তর্জাতিক উপধায়কের জটিল সমীকরণে জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বৃৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষ তথা নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। দ্রব্যমূল্যের চাপে বিত্তহীনরা সরাসরি পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারাতে শুরু করে, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়। উচ্চমধ্যবিত্তরাও মূল্যস্ফীতির আঁচ অনুভব করে। নগণ্যসংখ্যক উচ্চবিত্ত, যারা কোনোভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ভাগীদার হতে পেরেছিল অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছিল, শুধু তাদের গায়ে দ্রব্যমূল্যের আঁচ লাগেনি। তবে সাধারণ মানুষের দুর্বিষহ যন্ত্রণা এত দৃশ্যমান ছিল যে তারাও পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুভব করতে পেরেছিল। এ সময় সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষও বুঝতে পারল যে এভাবে চললে বাঁচা যাবে না। নতুন কিছু করতে হবে। নতুন পথে চলতে হবে।

প্রযুক্তির সন্ধান ও প্রয়োগে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করে এগিয়ে গেল। দেশি-বিদেশি এনজিওগুলো তাদের সাহায্য করল। তারা আগ্রহী কৃষকদের উন্নত বীজ, সার, কৃষি যন্ত্রপাতি ও বালাইনাশক সরবরাহ করল। চাষাবাদের উন্নত পদ্ধতি শিখিয়ে দিল। নতুন ফসল উৎপাদন শেখাল। কৃষি উৎপাদনে এর ইতিবাচক ফল দৃশ্যমান হলো। এক সফলতার হাত ধরে অন্য সফলতা কৃষকের দ্বারে হাজির হলো। কৃষিতে নতুন নতুন মাত্রা যোগ হতে শুরু করল। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উৎপাদন, মেরামতকরণ ও সংস্কার সাধনে মেকানিক, টেকনিশিয়ান ও স্বল্প শিক্ষিত দেশীয় উদ্ভাবকরা সম্ভাবনাময় নতুন পথের সন্ধানে এগিয়ে চলল। এসব ক্ষেত্রে সরকারের সাহায্য-সহযোগিতা ও পরিকল্পিত প্রণোদনা সীমিত ছিল। তবে সরকার কোনোরূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি।

স্বাধীনতার পরপরই সমাজতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি নিবেদিত থেকে সরকার রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। পরবর্তীকালে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রয়োজনে সরকার ব্যক্তি খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসারিত করতে থাকে। স্বাধীনতার সুফল হিসেবে সরকার বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সুযোগ লাভ করে। সরকার এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করে এসব দেশ এবং সংস্থার কাছ থেকে ঋণ, অনুদান, প্রকল্প ও কারিগরি সহযোগিতা বাবদ বিপুল আর্থিক সাহায্য জোগাড় করতে সক্ষম হয়। ব্যক্তি খাতের প্রতি সরকারের ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ করে পুঁজিবাদী দেশের সম্পদশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভিন্ন আঙ্গিকে এ দেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রোডলার-সমৃদ্ধ দেশ এবং তাদের প্রভাবশালী গোষ্ঠী এ দেশের ধর্মাশ্রিত সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গকে উদারভাবে সাহায্য করতে শুরু করে। বিদেশি সংযোগ থেকে এই শ্রেণির ব্যক্তিরাও বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার সুযোগ পায়।

সত্তরের শেষ দিকে বিদেশি সংযোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করার পথ-ঘাট আবিষ্কৃত হলেও প্রকৃতপক্ষে অর্থবহ বাস্তব কর্মকাণ্ড শুরু হয় আশির দশকে। এ সময় ব্যক্তি খাত লক্ষণীয়ভাবে প্রসারিত হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পেছনে পড়তে থাকে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তারা নানারূপ সুযোগ-সুবিধা লাভ করে, যার ফলে লাভের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে তাদের আর্থিক ভিত অনেক বেশি মজবুত হয়।

আশির দশকে সরকার ব্যক্তি খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গণ্য করতে শুরু করল। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পকে নানা রকম প্রণোদনা দিয়ে ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন প্রাণবন্ত সেক্টরে রূপান্তর করার প্রচেষ্টা চালাল। ফলোদয় হলো। নানা পেশার তরুণ উদ্যোক্তারা এ সেক্টরে ভিড় জমাল। রপ্তানিতে কাঁচা পয়সা, আকাশচুম্বী বিশাল লাভ। অল্প সময়ের মধ্যে এ খাতের উদ্যোক্তা-শিল্পপতিরা বিত্তবান হয়ে সমাজের ধনাঢ্য গোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করল। এ দশকে ব্যাংক, বীমাসহ অনেক লাভজনক খাতকে ব্যক্তিমালিকানায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো। এসব খাতে ঝুঁকিমুক্ত সীমাহীন লাভের সুযোগ রয়েছে। পথিকৃৎ উদ্যোক্তারা এ সুযোগ গ্রহণ করে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হলো। তারা একের পর এক নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলল।

একই প্রক্রিয়া নব্বইয়ের দশকে আরো জোরদার হলো। পোশাকশিল্প, ব্যাংক, বীমার সঙ্গে যোগ হলো মানবসম্পদ রপ্তানি, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, টেলিভিশন চ্যানেল, মোবাইল ফোন কম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউিট স্থাপন। এসব সেক্টরের পথিকৃৎ উদ্যোক্তারা বিপুল অর্থ উপার্জনের সুযোগ পেল। বিশাল অর্জন কাজে লাগিয়ে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারিত করল। শত শত, এমনকি হাজার কোটি টাকার সম্পদের জাল টেকনাফ থেকে টরন্টো পর্যন্ত বিস্তৃত হলো। এরপর এলো রেন্টাল পাওয়ার, মেগা প্রজেক্ট ও সাঙাত পুঁজির (Crony Capitalism) দশক। সম্পদের পাহাড় আরো উঁচু হলো। দেশি ধনীরা আন্তর্জাতিক ধনকুবেরের সারিতে উঠে এলো। দেশে তো বটেই, বিদেশেও তাদের নাম উচ্চারিত হলো।

স্বাধীনতা বাংলাদেশি জনগণকে বিদেশের সঙ্গে সংযোগের এক অভূতপূর্ব সুযোগ উপহার দিয়েছে। স্বাধীনতা-পূর্বকালে এতদঞ্চলে সচ্ছল, শিক্ষিত, উদ্যোগী নাগরিকের চলাফেরা ও যোগাযোগ সীমিত ছিল বড়জোর করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ পর্যন্ত। স্বাধীনতার পর, বিশেষ করে চুয়াত্তরের ধাক্কায় তারা বুঝতে পারল যে ভালোভাবে বাঁচতে হলে দেশের বাইরে যে সুযোগ-সম্পদ রয়েছে তার ওপর হাত রাখতে হবে। রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশের সম্পদ সংগ্রহ করতে হবে। যে চিন্তা সেই কাজ; এ প্রচেষ্টায় তারা সফল হলো। ঋণ, অনুদান, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স, ব্যক্তিপর্যায়ের সাহায্য সংগ্রহের মাধ্যমে লাখো কোটি টাকা দেশে এলো। এর একাংশ ব্যক্তি খাতে, ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে চলে গেল। শিথিল প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণের কারণে রাষ্ট্রীয় তথা জনগণের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বঞ্চিত করে লোভী সুযোগসন্ধানীরা ধনকুবের হওয়ার সুযোগ পেয়ে গেল। সঙ্গে যুক্ত হলো সাঙাত পুঁজিবাদের (Crony Capitalism) সুরক্ষণ। এসব সুবিধা যারা পেয়েছে তারাই এখন শতকোটি টাকার মালিক।
লেখক : ড. সা’দত হুসাইন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র জব্দ অভিযান

অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শিগগিরই সারা দেশে অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এরই মধ্যে অবৈধ অস্ত্রধারী ও চোরাকারবারিদের তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্র মতে, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ বাড়ছে বলে আঁচ পাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আর এ কারণে সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে অভিযানে নামতে যাচ্ছে তারা।
গত ১৫ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে। আগের দিন পুলিশ সদর দপ্তরে অর্ধবার্ষিকী অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচন ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা অরাজকতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজদের তালিকা করে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে নেমেছে। কিছুদিন আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ডিবি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নেমেছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘আমরা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশনা পেয়েছি। ডিবি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কাজ করছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরে হয়তো যৌথভাবে অভিযান শুরু হবে।’
গত ৭ অক্টোবর কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে অস্ত্র নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল দুই অস্ত্র ব্যবসায়ী। রাস্তায় যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়তে না হয় সে জন্য মাইক্রোবাসের (ঢাকা মেট্রো চ-১৩-৭৭৩৭) সামনে লাগিয়েছিল স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুয়া স্টিকার। কিন্তু র‌্যাব-৭-এর সদস্যরা চট্টগ্রাম শহর থেকে আলমগীর হোসেন ও আল শাহরিয়ার নামের দুই অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। গাড়ি থেকে আটটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ২০ হাজার পিস ইয়াবাও উদ্ধার করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা জানায়, সামনে নির্বাচনে অস্ত্রের দাম বেশি পাওয়ার কারণে তারা এ অস্ত্রগুলো মহেশখালী থেকে সংগ্রহ করে ঢাকায় মজুদ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এজাতীয় অস্ত্র ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের জন্য এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুতি নিয়েছে।
চট্টগ্রামের র‌্যাব-৭-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্র বেড়ে যায়। যাদের আমরা ধরেছি তারা জানিয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে অস্ত্র বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিল।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তৎপরতা অনেক বাড়ানো হয়েছে।’
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পূজায় নিরাপত্তা দেওয়ার পর আশা করা যাচ্ছে, এ সপ্তাহেই অবৈধ অস্ত্র, অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একসময় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করত। এখন আধিপত্য বিস্তার বা প্রতিপক্ষ দমন করার জন্যও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল পর্যন্ত সারা দেশে সাড়ে পাঁচ হাজার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারের বিপরীতে দুই হাজার ২০৮টি মামলা দায়ের হয়। তবে উদ্ধার বা আটকের বেশির ভাগ মামলাই বিচারাধীন। সূত্র বলছে, আইনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলার বিচারে ধীরগতি এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিচার হচ্ছে না।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, যারা মাদক ব্যবসায়ী বিশেষ করে ইয়াবা চোরাচালানে জড়িত, তাদের অনেকেই অস্ত্র ব্যবসায়ও জড়িত। নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করতে অবৈধভাবে অস্ত্র দখলে রেখেছে তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অদ্ভুত ও বিচিত্র যত মৃত্যু!

অনলাইন ডেস্ক: প্রতিদিনই পৃথিবীতে নতুন প্রাণের আগমন ঘটছে, সাথে সাথে পৃথিবী ছেড়ে মহাকালের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে কত মানুষ তারও হিসাব নেই। জন্ম নিয়ে মানুষের যতটা না কৌতূহল রয়েছে, মৃত্যু নিয়ে রয়েছে তার চেয়ে বেশি, সাথে আছে একটু ভয়ও। অধিকাংশই মৃত্যুকে ভয় পায় এবং সহজ উপায়ে মৃত্যু কামনা করে থাকে। তথাপি প্রতিদিন দুর্ঘটনাতেই বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। মৃত্যু তাই খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু স্বাভাবিক এই প্রক্রিয়া মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক এবং অদ্ভুত হয়ে ওঠে এর ধরনের জন্য। এমন কয়েকটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর কথা জেনে নেয়া যাক চলুন।

নিজের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দেখে হার্ট অ্যাটাক
ফাজিলিউ মুখামেতজায়ানভ, জটিল এই নামটি যার, তার মৃত্যু হয়েছে আরো জটিল পন্থায়। ৪৯ বছর বয়সী এই ভদ্রমহিলা রাশিয়ার কাজান শহরে বাস করতেন। হঠাৎ একদিন প্রচণ্ড বুকব্যথা নিয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে। কয়েক ঘন্টা পর ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে। ডেথ সার্টিফিকেটে লেখা হয়, বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাক থেকে মৃত্যু হয়েছে মুখামেতজায়ানভের।

যা-ই হোক, তার শেষকৃত্যের দিন ঠিক করা হয় মৃত্যুর দুদিন পর। চার্চে যখন পরপারে তার আত্মার শান্তি কামনা করা হচ্ছে, তখন আত্মীয় স্বজনের মৃদু কান্নার স্বর পরিবেশ ভারী করে তুলেছে। এরকম ভারী পরিবেশে সকলের সামনে রাখা খোলা কফিনে হঠাৎ উঠে বসলেন মুখামেতজায়ানভ! পাঠে মগ্ন ফাদার তা খেয়াল করেননি, তবে আত্মীয় স্বজন সকলে স্থির হয়ে গেল, চিৎকার জুরে দিল বাচ্চারা। আর এমন পরিস্থিতিতে নিজের আত্মার জন্য শান্তি কামনা, শিশুদের চিৎকার, পরিচিতজনের ভীত চোখ, মোমবাতি আর ফুল, সবকিছু মিলিয়ে এক গম্ভীর ও গুরুভার পরিবেশ দেখে নিজেও চিৎকার করে উঠলেন মুখামেতজায়ানভ। এরপরই ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে। এবারের হার্ট অ্যাটাক ঠিকই তাকে পরপারে পাঠিয়ে দেয়।

ছবি যখন মৃত্যুর কারণ
কানাডার মন্ট্রিলের অধিবাসী মারিয়া প্যান্টাজুপুলাসের সবচেয়ে বড় শখ জীবনের গুরুত্বপুর্ণ ঘটনাগুলোকে ছবির অ্যালবামে বন্দী করে রাখা। আর এই শখই দুর্ভাগ্যক্রমে তার মৃত্যু ডেকে আনে। ২০১২ সালের মে মাসে বিয়ে করেন মারিয়া। কিন্তু নানা কারণে বিয়েতে মনমতো ছবি তুলতে পারেননি তিনি। ছবি তোলার এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ পান সে বছর আগস্টে। একজন ফটোগ্রাফার ভাড়া করে নিয়ে, বিয়ের পোশাক পরে চলে গেলেন মন্ট্রিলের খরস্রোতা নদী কোয়ারুতে। ছবি তোলার একপর্যায়ে ‘ট্র্যাশ দ্য ড্রেস’ ট্রেন্ড অনুসরণ করার জন্য নেমে গেলেন ফুট দুয়েক গভীর পানিতে। সেখানে নানা ভঙ্গিমায় পোশাক ভিজিয়ে যখন ছবি তুলছেন, ততক্ষণে তার পোশাক ভিজে ভীষণ ভারী হয়ে গেছে। একসময় যখন বুঝতে পারলেন নিজের নিয়ন্ত্রণ রাখা কষ্টকর, তখন ফটোগ্রাফারকে ডাক দিলেন সাহায্যের জন্য। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। পা পিছলে পড়ে যেতেই স্রোতের টানে একদম নদীর মাঝে চলে গেলেন। প্রায় ৪ ঘন্টা খোঁজাখুঁজির পর ডুবুরিরা মারিয়াকে খুঁজে পায়। ততক্ষণে তিনি বিয়ের পোশাকে মৃত বধু হিসেবে পত্রিকার শিরোনাম হয়ে গেছেন।

আত্মহত্যার অদ্ভুততম উপায়?
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডার অধিবাসী ৭৭ বছর বয়সী ডেভিড পেন্ডেলটনের মৃত্যু নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা হলেও, অধিকাংশের মতে সেটি ছিল আত্মহত্যার ছক। ঘটনাটি ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসের। স্ত্রীর মৃত্যুর সপ্তাহখানেক পর পেন্ডেলটন নিকটবর্তী থানায় ফোন করে জানালেন তার বাড়ির সামনে একটি লাশ পড়ে আছে। পুলিশ সেখানে পৌঁছুতেই দেখা গেল পেন্ডেলটন পারিবারিক সমাধিক্ষেত্রে একটি শটগান নিয়ে বসে আছেন। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, পেন্ডেলটনের সদ্য মৃত স্ত্রীর সমাধির পাশে পেন্ডেলটনের সমাধিফলক, যেখেন পেন্ডেলটনের জন্মতারিখ লেখা তবে মৃত্যুর তারিখ লেখা ছিল না। পুলিশ কাছাকাছি পৌঁছুতেই হঠাৎ উদভ্রান্তের মতো আচরণ শুরু করেন পেন্ডেলটন। তিনি লোডেড শটগানটি একজন অফিসারের দিকে তাক করে বারবার গুলি করার হুমকি দিতে শুরু করলে একজন অফিসার তাকে গুলি করে হত্যা করেন। পেন্ডেলটনের ডাক্তারি ইতিহাস ঘেটে জানা যায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তাই অনেকের ধারণা, নিজের জন্য সমাধি বানিয়ে নিজেই পুলিশ ডেকে অভিনব উপায়ে আত্মহত্যা করেছেন পেন্ডেলটন!

পিরানহার পেটে জীবনদান
পিরানহা মাছের নাম কারোরই অজানা নয়। আকারে ছোট হলে কী হবে, এদের করাতে মতো দাঁত দেখলে এমনিই গা ছমছম করে। মাংসাশী এই মাছের পেটে যাওয়ার চেয়ে আগুনে পুড়ে মৃত্যুকেই অধিকাংশ গ্রহণ করে নেবে। এ মাছের খপ্পড়ে পড়ার কথা যেখানে স্বপ্নেও কল্পনা করা কষ্টকর, সেখানে কেউ ইচ্ছে করে পিরানহার পেটে গিয়েছেন, তা বিশ্বাস করাও কঠিন! এরকমই একটি ঘটনা ঘটেছিল ২০১১ সালে। বলিভিয়ার রোজারিও শহরে নাম না জানা কোনো এক কিশোর পিরানহা আছে এমন এক নদীতে লাফিয়ে আত্মহুতি দেয়। আধাখাওয়া লাশ উদ্ধারের পর পরীক্ষা করে দেখা যায় নদীতে লাফানোর পূর্বে সে ব্যাপক পরিমাণে মদ পান করেছিল। তাই ধরে নেয়া হয়, এটি একটি আত্মহত্যা।

দেহের ভেতরে আগুন লেগে পুড়ে ছাই!
ধরুন, আপনি ঘরে বসে আপন মনে মদ পান করছেন। অনেকটা পান করার পর সিগারেট ধরাতে গিয়ে আপনার মুখের মধ্যে চলে গেল জ্বলন্ত সিগারেটের খানিকটা ফুলকি। ব্যস আপনার গলা থেকে পেট অবধি জ্বলতে শুরু করলো, আপনি মাটিতে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন! খুব সম্ভবত এরকমটাই ঘটেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার বাসিন্দা ডেনি ভ্যানজান্ডটের ভাগ্যে। তার ফ্ল্যাটে যখন তার মৃতদেহ আবিষ্কৃত হয়, তখন তখন আর তাকে চেনার উপায় নেই। অটোপসি করার পর ডাক্তাররা জানান, ড্যানির মৃত্যু হয়েছে মৃদু আগুনে দীর্ঘক্ষণ ঝলসে, যার উৎপত্তি তার দেহের ভেতরেই! তাছাড়া মৃতদেহের আশেপাশে অক্ষত আসবাবপত্র দেখেও পুলিশের মনে হয়েছে বাইরে থেকে নয়, বরং ড্যানির সিগারেটই আগুনের উৎপত্তি ঘটিয়েছিল।

ইনজেকশনে স্যুপ প্রয়োগে রোগীর মৃত্যু!
ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো শহরের নামকরা এক হাসপাতালে ‘পালমোনারি এমবোলিজম’ সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন ৮৮ বছরের বৃদ্ধ ইলডা ভিতর মেসিয়েল। হাসপাতালে ভর্তির তৃতীয় দিন তিনি মারা যান। তার রোগের মাত্রা বেশ তীব্র ছিল এবং তার মৃত্যু হয়তো স্বাভাবিক বলেই ধরে নেয়া যেত। কিন্তু তা ঘটেনি এক নার্সের ভুলের কারণে। মৃত্যুর কয়েকঘন্টা পূর্বে ঐ নার্স ইলডাকে ফিডিং টিউবের স্থলে ভুলক্রমে ইনজেকশনেই স্যুপ দিয়ে দেয়! যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, স্যুপের জন্য ইলডার মৃত্যু হয়নি, তথাপি রক্তপ্রবাহে স্যুপ যে ইলডার মৃত্যু তরান্বিত করেছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইলডার পরিবার পরে হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়।

বিশ্বাসের পরীক্ষা দিতে গিয়ে মৃত্যু!
“তারা (বিশ্বাসীরা) সাপ হাতে তুলে নেবে কিন্তু (সাপ) তাদেরকে কাটবে না; তারা যদি কোনো প্রাণনাশক কিছু খেয়ে ফেলে, তা তাদের ক্ষতি করবে না; তারা রোগের কপালে হাত বুলালে রোগী সুস্থ হয়ে যাবে।”- পবিত্র বাইবেল, গসপেল অব মার্ক, অধ্যায় ১৬, অনুচ্ছেদ ১৮
ধর্মভীরু খ্রিস্টানদের মাঝে বাইবেলের বিশ্বাস কম-বেশি আছে। তবে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের যাজক ম্যাক উলফোর্ডের বিশ্বাস ছিল অবিশ্বাস্য রকমের শক্ত। তিনি নিজেকে খাটি বিশ্বাসী বলে পরিচয় দিতেন এবং সর্বদা বিশ্বাসের পরীক্ষা দিতে ভালোবাসতেন। ‘ওল্ড ইয়েলার’ নামক একটি বিষাক্ত র‍্যাটল স্নেক পুষতেন তিনি, যেটি হাতে নিয়ে কিংবা কাঁধে ঝুলিয়ে প্রায়ই এলাকায় হাঁটতে দেখা যেত তাকে। কারণ, যেহেতু তিনি বিশ্বাসী, তাকে তো সাপে কামড়াবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে একদিন সত্যিই কামড় দিয়ে দিল তার পোষা ওল্ড ইয়েলার। প্রাথমিক বিষক্রিয়ায় মুষড়ে পড়লেও তিনি কঠোরভাবে নিষেধ করেন ডাক্তার আনতে। কারণ, তার বিশ্বাস ছিল ঈশ্বর তাকে মরতে দেবেন না! তার অনুরোধ, আকুতি কিংবা আদেশ যা-ই হোক না কেন, তার সম্মানে প্রথমে কেউ ডাক্তার ডাকেননি। কিন্তু ৬/৭ ঘন্টা পর যখন উলফোর্ড নিস্তেজ হয়ে যেতে শুরু করলেন, তখন তার অনুরোধ উপেক্ষা করেই ডাকা হয় ডাক্তার। কিন্তু ততক্ষণে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে বিশ্বাসের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন উলফোর্ড।

যে মৃত্যু টাকা আনে!
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লরেন্সভিলের বাসিন্দা উইলিয়াম মার্টিনেজ এক অদ্ভুত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। আর তার মৃত্যুপরবর্তী ঘটনাবলী ছিল আরো অদ্ভুত। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পূর্বে, মাসাধিককাল বুকের ব্যথায় ভোগার পর ডাক্তারের শরণাপন্ন হন মার্টিনেজ। ডাক্তার তাকে আটদিন পর একটি ‘নিউক্লিয়ার স্ট্রেস’ টেস্ট করানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষার তারিখের একদিন আগে মৃত্যুবরণ করেন মার্টিনেজ। নিজের এক বান্ধবী ও বন্ধুর সাথে যৌনকর্ম করাকালীন তার মৃত্যু হয়। তদন্তে জানা যায় যে, যৌনকর্মে অতিরিক্ত শারীরিক শক্তি ব্যয়েই তার মৃত্যু হয়েছে। এজন্য তার পরিবার ডাক্তারকে দায়ী করে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করে, এজন্য যে ডাক্তার তাকে টেস্টের আগে সবধরনের শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দেননি! কিন্তু আদালতে দুই পক্ষের তর্ক-বিতর্কের পর ক্ষতিপূরণ ৩ মিলিয়নে কমিয়ে আনা হয়, যার কারণটি আরো অদ্ভুত। আদালতে প্রমাণিত হয় যে মৃত্যুর জন্য মার্টিনেজ নিজেও ৪০ শতাংশ দায়ী, তাই ক্ষতিপূরণের অর্থও ৪০ শতাংশ কমানো হয়!

ডুবে যায় যাক, তাকে ছোঁয়া যাবে না!
‘কুইন অব সিয়াম’ নামে পরিচিত হতেন থাইল্যান্ডের রানীগণ। সুনন্দা কুমারিরত্না ছিলেন এমনই একজন রানী। তিনি ছিলেন থাইল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন সময়ের রাজাদের একজন রাজা মোংকাটের মেয়ে। ১৮৮০ সালে সুনন্দার মৃত্যু হয় এরকমই এক পন্থায় যার জন্য বহুকাল থাইল্যান্ডবাসী আফসোস করেছে। সে বছর মেয়ে মাসে তিনি তার দু’বছর বয়সী কন্যাশিশুকে নিয়ে নৌকাভ্রমণে বের হন। হঠাৎ একটা বড় ঢেউয়ে নৌকা উল্টে দিলে শিশু সন্তান সহ সকলের চোখের সামনে ডুবে যান সুনন্দা। হ্যাঁ, সকলের চোখের সামনেই! তাকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আরো একাধিক নৌকা এবং রক্ষী থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি তাকে রক্ষা করতে। কারণ? রাজপরিবারের কঠোর হুকুম, সুনন্দা যদি মৃত্যুমুখেও পতিত হন, তথাপি তাকে কোনো রক্ষী ছুঁতে পারবে না! আর এরকম নিষ্ঠুর আইনের কারণে সেদিন অসহায় সুনন্দা আর তার শিশু কন্যাটি ডুবে মারা যায়।

তেলে ডুবে মৃত্যু
তামিল সিনেমা ‘অপরিচিত’ এর একটি দৃশ্যে একজন জীবন্ত মানুষের গরম তেলে পুড়ে যাওয়ার চিৎকার শুনে যে কারোর শরীরে ভয় ধরানো শিহরন জাগবে নিশ্চিত। গরম তেলের মধ্যে পুড়ে যাওয়া নিশ্চিতভাবেই সবচেয়ে কষ্টকর মৃত্যুর একটি। দুর্ভাগ্যক্রমে এরকমটি বাস্তবজীবনেও ঘটেছে ৬১ বছর বয়সী জন করোডি নামক এক শ্রমিকের সাথে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে একটি তেল আর গ্রিজ ভর্তি চৌবাচ্চার ভেতরে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় করোডির। তিনি ছিলেন ‘হারভেস্ট পাওয়ার’ নামক একটি খাদ্যবর্জ্য ও উচ্ছিষ্ট পুনর্ব্যবহার কোম্পানির শ্রমিক। ফ্লোরিডায় ওয়াল্ট ডিজনির একটি ট্রাক থেকে তেল ও গ্রিজ একটি বিশাল চৌবাচ্চার মধ্যে স্থানান্তর করছিলেন করোডি এবং আরো একজন শ্রমিক। দুর্ঘটনাবশত পিছলে চৌবাচ্চার ভেতরে পড়ে যান করোডি। তাকে ওঠানোর চেষ্টা করা হলেও প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। ফলে চৌবাচ্চার ভেতরেই মৃত্যু হয় তার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিটিভিতে প্রচারিত সেরা ৩ বিদেশি টিভি সিরিজ

বিনোদনের খবর: আশির দশকে বিটিভির যে দাপুটে সময় শুরু হয়েছিল তা নব্বইয়ের দশকেও অব্যাহত ছিল। সেই সময়ে কালজয়ী সব নাটকের আলোয় বিটিভি হয়েছিল আলোকিত। শুধুমাত্র দেশীয় নাটকে সীমাবদ্ধ না থেকে দর্শকদের ভিন্ন স্বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত এই চ্যানেলটি বিদেশি টিভি সিরিজ দেখানো শুরু করে। কিছু সিরিজ মূল ইংরেজি ভাষাতেই দেখানো হয় আর কিছু সিরিজ বাংলায় ডাবিং করেও দেখানো হয়। ভিন্নধর্মী এই উদ্যোগকে দর্শকরা সাদরে গ্রহণ করেছিল। দীর্ঘ সময়ে অনেকগুলো বিদেশি টিভি সিরিজ প্রচার করেছে বিটিভি। এদের মধ্য থেকে মাত্র তিনটিকে বেছে নেওয়া আসলেই কিছুটা কঠিন। তারপরও উল্লেখযোগ্য তিনটি টিভি সিরিজ নিয়ে আজকের আয়োজন।

১. ম্যাকগাইভার
প্রথম যে বিদেশি সিরিজটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল সেটি ম্যাকগাইভার। পুরো দেশকে অন্যরকম নেশায় বুঁদ করে রেখেছিল। আশির দশকে প্রচারিত এই সিরিজটির কাহিনীর মূলে ছিল ম্যাকগাইভার নামক এক যুবক। পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র ম্যাকগাইভার একজন বিজ্ঞানী, তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেন। পেশায় গুপ্তচর হওয়া সত্ত্বেও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে সবসময় অনীহা প্রকাশ করেছেন তিনি, শৈশবে অসাবধানতাবশত গুলি চালাতে গিয়ে এক বন্ধুর মৃত্যুই এর মূল কারণ ছিল।

আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে আগ্রহ না থাকলেও গুপ্তচরবৃত্তি করতে গিয়ে বহুবার আগ্নেয়াস্ত্রের সম্মুখীন হতে থাকেন তিনি। তাহলে কীভাবে এসব বিপদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে দেশের হয়ে কাজ করবেন? বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানোর ক্ষমতাই তার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখেও সেখান অতি অল্প সময়ে কীভাবে নানা ধরনের জটিল যন্ত্র তিনি উদ্ভাবন করতেন তা-ই এই সিরিজের মূল আকর্ষণ।
ম্যাকগাইভার চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন আমেরিকান অভিনেতা রিচার্ড ডিন অ্যান্ডারসন। ১৯৮৫ সালে শুরু হওয়া এই টিভি সিরিজ সাত মৌসুম চলার পর ১৯৯২ সালে শেষ হয়। বাংলাদেশে এই সিরিজটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা অন্যান্য বিদেশী টিভি সিরিজ প্রচারের পথ মসৃণ করে দেয়।

২. দ্য অ্যাডভেঞ্চার্স অব সিনবাদ
আটলান্টিস ফিল্ম ও অল আমেরিকান টেলিভিশন- এই দুই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মিলে ১৯৯৭ সালে তৈরি করে ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চার্স অব সিনবাদ’। কানাডীয় এই টিভি সিরিজের সাথে আলিফ লায়লার সিনবাদের একমাত্র মিল ছিল দুটিতেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাগদাদ শহর। বাকি সবকিছু আমূল বদলে ফেলা হয়েছিল।

গল্পের শুরুতে দেখা যায় বাগদাদের রাজার হবু পুত্রবধূকে তুরক নামের এক কালো জাদুকর অপহরণ করে ধরে নিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করার দায়িত্ব সিনবাদের উপরে এসে পড়ে। নিজের ভাই শক্তিশালী ডুবার, বন্ধু আবিষ্কারক ফিরোজ, ছোরা ছুঁড়তে ওস্তাদ রঙ্গারকে সাথে নিয়ে সেই কন্যাকে উদ্ধার করতে যাত্রা শুরু করেন সিনবাদ। পথিমধ্যে সাহায্যের জন্য সিনবাদ তার গুরু ভালো জাদুকর ডিমডিমের সাহায্য নেন। সেখানে দেখা হয় মেইভ নামক এক মেয়ের সাথে যিনি গুরু ডিমডিমের কাছে জাদুবিদ্যা শিখছিলেন।

কালো জাদুকর তুরককে শেষ করে দিয়ে হবু রাজবধূকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সেটা করতে গিয়ে সিনবাদের গুরু ডিমডিম অজানা এক রাজ্যে হারিয়ে যান। এদিকে তুরকের কন্যা রুমিনা বাবাকে হারানোর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সিনবাদের দলের উপর বার বার আঘাত হানতে থাকে। রুমিনার বাঁধা পার হয়ে সিনবাদ কি তার গুরু ডিমডিমকে ফিরে পাবে? মেইভের পোষা ঈগল পাখি ডারমটের রহস্যটাই বা কি? রুমিনার সাথে মেইভের কিসের শত্রুতা? এরকম নানা প্রশ্ন নিয়ে সিরিজটির কাহিনী এগিয়ে গেছে।

কাহিনীর মূল প্রেক্ষাপট ধরে রেখে প্রতিটি পর্বেই এক একটি নতুন গল্প উপস্থাপন করা হতো। সেই গল্পে রুমিনা ছাড়াও আরো অনেক শত্রুর সম্মুখীন হতো সিনবাদ ও তার বন্ধুরা। এসব রোমাঞ্চকর অভিযানের কারণে প্রতিটি পর্বই দর্শকরা খুব আগ্রহ নিয়ে দেখতো। এই অভিযানের সাথে সিনবাদ ও মেইভের দুষ্টু-মিষ্টি সম্পর্ক বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে যোগ হয়েছিল। সিনবাদ চরিত্রে জেন জেসনার ও মেইভ চরিত্রে জ্যাকুলিন কোলেনের মতো অসামান্য সুদর্শন দুইজন থাকায় এই জুটি প্রায় সবার মনেই আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল।

এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে জর্জ বুজা, টিম প্রগোশ, অরিস এরহুয়েরোর অভিনয়ও বেশ প্রশংসনীয় ছিল। বিশেষ করে খলনায়িকা রুমিনা চরিত্রে জুলিয়ান মরিস অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন। প্রথম মৌসুমের ২২টি পর্বের মধ্যে যেসব পর্বে রুমিনা থাকতো সেসব পর্বের গল্প অনেক বেশি জমজমাট হতো। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় মৌসুমে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন প্রথম মৌসুমের সেই উত্তেজনায় পানি ঢেলে দেয়। পারিবারিক সমস্যার কারণে জ্যাকুলিন কোলেন সরে যাওয়ায় সবার প্রিয় জুটি সিনবাদ-মেইভকে দ্বিতীয় মৌসুমে আর দেখা যায়নি। সে কারণে মেইভ চরিত্রটিকে সরিয়ে দিয়ে ব্রাইন নামক একটি চরিত্রকে গল্পে আনা হয়।
তবে ব্রাইন চরিত্রে মারিয়া শারলে দর্শকমহলে সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। তাছাড়া দ্বিতীয় মৌসুমে মূল খলনায়িকা রুমিনাও অনুপস্থিত থাকায় গল্পের জৌলুসও অনেকখানি কমে যায়। পরিকল্পনা ছিল তৃতীয় মৌসুমের মাধ্যমে সিরিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা হবে। কিন্তু দুই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্বের কারণে কাজ আর শুরু হয়নি। ফলে তুমুল জনপ্রিয় এই টিভি সিরিজটি অসমাপ্তভাবেই শেষ হয়ে যায়।

৩. দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চার্স অব রবিনহুড
ধনীদের কাছ থেকে সম্পদ লুটে নিয়ে নিপীড়িত সাধারণ মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া রবিনহুডের গল্প আমরা কমবেশি সবাই শুনেছি। সেই গল্পের সূত্র ধরেই ১৯৯৭ সালে নির্মাণ করা হয় ‘দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চার্স অব রবিনহুড’। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে প্রজারা নানাভাবে অত্যাচারিত হতো। সেই অত্যাচারী রাজদরবারের বিরুদ্ধে রবিনহুড নামের এক যুবক বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। অত্যাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে তিনি নিজেই একটা বাহিনী গঠন করে ফেলেন যেখানে তার সঙ্গী ছিলেন সুন্দরী ম্যারিয়ন, যোদ্ধা লিটল জন ও জ্ঞানী ফ্রায়ার টাক।

মূল রবিনহুড গল্পে জাদুবিদ্যার কোনো প্রয়োগ ছিল না কিন্তু টিভি সিরিজে কিছুটা বাড়তি আকর্ষণ যোগ করার জন্য জাদুবিদ্যার প্রয়োগ দেখানো হয়েছিল। অত্যাচারীদের বিভিন্ন কালো জাদুর হাত থেকে কীভাবে রবিনহুডের দল সাধারণ প্রজাদের রক্ষা করে সেটা নিয়েই মূল গল্প এগিয়ে গেছে। পৌরাণিক চরিত্র হিসেবে রবিনহুড এমনিতেই জনপ্রিয়, টিভি সিরিজে কিছুটা ভিন্নভাবে এই চরিত্রটিকে উপস্থাপন করায় দর্শকরা সিরিজটির ব্যাপারে আরো বেশি আগ্রহ অনুভব করে।

তাছাড়া রবিনহুড চরিত্রে ম্যাথু পোরেটাকে বেশ ভালো মানিয়েছিল। ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়ির সুদর্শন যুবক পোরেটা সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গিয়েছিল। তার সাথে সাথে ম্যারিয়ন চরিত্রে অভিনয় করা অ্যানা গ্যালভিনের জুটিটাও বেশ জমে উঠেছিল। কিন্তু সিনবাদের মতো এই সিরিজটিতেও অভিনেতা পরিবর্তনের কারণে অনেককিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় মৌসুমে ম্যারিয়ন চরিত্রে গ্যালভিনের পরিবর্তে বারবারা গ্রিফিনকে নিয়ে আসা হয়। গ্রিফিনের চেহারা কিছুটা গ্যালভিনের মতো হওয়ায় এই পরিবর্তনে তেমন ক্ষতি হয়নি।

আসল ধাক্কাটা আসে তৃতীয় মৌসুমে, সিরিজের মূল আকর্ষণ রবিনহুড চরিত্রের ম্যাথু পোরেটার বদলে নিয়ে আসা হয় জন ব্রাডলিকে। অত্যন্ত সুদর্শন যুবক পোরেটার বদলি হিসেবে কিছুটা বয়স্ক ব্রাডলিকে রবিনহুড চরিত্রে একদমই মানাচ্ছিল না। তাই সিরিজটির জনপ্রিয়তাও বেশ কমে যায়। শেষপর্যন্ত চার মৌসুম চলার পর সিরিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অমৃতসরে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

বিদেশের খবর: ভারতের অমৃতসরে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জন হয়েছে। অমৃতসর রেল স্টেশন থেকে তিন কিলোমিটার দূরে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। এ সময় ট্রেনটি জলান্ধর থেকে অমৃতসর যাচ্ছিল।
তিনি আরও জানান, আহত কমপক্ষে ৭৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে শুক্রবার সন্ধ্যায় অমৃতসরের যোধা ফটকের কাছে রেল লাইনের ধারে রাবণ বধের অনুষ্ঠান চলছিল। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে, রেললাইনের উপর উঠে অনুষ্ঠান দেখতে শুরু করেন অনেকে। এ সময় রাবণের কুশপুতুলে দাহের সময় বাজির শব্দে কোনো অন্য আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল না। এ কারণে ট্রেনের হুইসেল কেউ শুনতে পায়নি। ফলে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উপর দিয়ে চলে যায়। এতে শিশুসহ অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৪ জন। অমৃতসরে মহাকুমা ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ শর্মা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে অমৃতসর সিভিল হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসকরা আহত কমপক্ষে ৮০ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। সংবাদ সংস্থা আইএএসএস জানিয়েছে, ঘটনার সময় সেখানে ৭০০ মানুষ উপস্থিত ছিল।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই এক টুইটার বার্তায় ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ভারতীয় রেলওয়ে ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নিহতের পরিবার ও আহতদের সাহায্যের জন্য পদক্ষেপ দিতে বলেছেন। তিনি নিহতের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
অপর এক টুইটার বার্তায় তাৎক্ষণিক শোকপ্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এ দুর্ঘটনায় যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে আমি তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

এছাড়া কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীসহ অনেকে শোকপ্রকাশ এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা করেছেন।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং বলেন, আমি দুর্ঘটনার খবর শোনামাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছি। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের পাঁচ লাখ রূপি করে দেয়া হবে।
অপরদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অতিরিক্ত আরও দুইলাখ রূপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থেকে সংসদ নির্বাচন নয়

রাজনীতির খবর: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পদে থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা যাবে না। প্রার্থীর মনোনীত ব্যক্তিরাও এসব পদে থাকতে পারবেন না। নির্বাচনের সময় দলের পদধারীরাও পারবেন না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর্ষদে থাকতে। নির্বাচনের আগেই তাদের পদত্যাগ করতে হবে।
এসব বিধান যুক্ত করে সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি সংশোধনের সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশনের আইন সংস্কার কমিটি। আইন সংস্কার কমিটি আরও তিনটি ক্ষেত্রে সংশোধনের সুপারিশ প্রস্তুত করেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। রবিবার (২১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিতব্য কমিশন সভায় এসব বিধি চূড়ান্ত হতে পারে। ওই দিন বিকাল ৩টায় কমিশন সভা অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
বৈঠকের এজেন্ডা হচ্ছে, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা ২০০৮ সংশোধন, স্বতন্ত্র (প্রার্থী সমর্থন যাচাই) প্রার্থী বিধিমালা ২০১১ সংশোধন ও বিদেশি পর্যবেক্ষক বিধিমালা ২০১৮। কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান আচরণ বিধিমালার ৬ এর (১) এর খ দফায় পরিবর্তন আসছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নির্বাচনি সভার অনুমোদনের বিষয়টি সহজ করার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সভার অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। এ সময়ের মধ্যে না দেওয়া হলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে। অনুমোদন পাওয়ার নিশ্চয়তার জন্য এই প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সংস্কার কমিটি তাদের সুপারিশের কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
আচরণবিধির ৭ এর উপবিধি ৫ এর পর ৫ (ক) সন্নিবেশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে নির্বাচনে প্রচারণায় ডিজিটাল ডিসপ্লে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিধির ৯ উপবিধির পর ৯ (ক) যুক্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রার্থীর প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া বিধি ১৪ এর উপবিধি ৪ সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কোনও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কমিটির সদস্য/নেতা/কর্মী, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে আগে সভাপতি বা সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বা মনোনীত হয়ে থাকলে বা কোনও মনোনয়ন পেয়ে থাকলে নির্বাচনের আগে তিনি বা তদকর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারবেন না।’
এই সংশোধনী প্রস্তাবের যৌক্তিকতায় সংস্কার কমিটি বলেছে- ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। রাজনৈতিক দলের নেতারা সভাপতি বা সদস্য হিসেবে বহাল থাকলে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার রোধের জন্য এই সুপারিশ করা হয়েছে।
বিদ্যমান বিধিমালায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর্ষদে থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে তারা নির্বাচনের আগে প্রতিষ্ঠানের কোনও অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতে পারবেন না বা প্রতিষ্ঠানের কোনও কাজে জড়িত হতে পারবেন না বলে বিধান রয়েছে।
আচরণ বিধিমালার সংশোধন প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসির আইন ও বিধিবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ‘আচরণবিধিতে সামান্য কিছু সংশোধনের সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত নয়। কমিশন সভায় এটি উপস্থাপন করা হবে। কমিশন অনুমোদন দিলেই তা চূড়ান্ত হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যান্য নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতেই এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। তবে এগুলো না হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনও সমস্যা হবে না।
কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, রবিবারের (২১ অক্টোবর) কমিশন সভায় সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। তবে কী কী সংশোধনী প্রস্তাব আসছে তা তিনি দেখেননি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রে আগুনে পুড়ে নিহত ৬

দেশের খবর: মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬ রোহিঙ্গা মুসলিম আগুনে পুড়ে মারা গেছে। খবর এএফপির।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস বিভাগের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাতে ভোরে এই রোহিঙ্গা শিবিরে আগুন লাগে। যা প্রায় ভোররাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা হ্যান সোয়ে বলেন, অনডু চ্যা আশ্রয়শিবিরে প্রায় ৪ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

সেখানে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অনেক চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মধ্যরাতে লাগা এ আগুনে পুড়ে ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, মৃতের মধ্যে একজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী। অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫টি ঘর পুড়ে গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest