সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় দুর্গাপূজার নবমীতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আশরাফুল আলমআশাশুনিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজসাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সাবেক মেয়র চিশতিউপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ: চারা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের অঙ্গীকারপ্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শ্যামনগরের বিএনপি নেতা আদম আলীএখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরের

ভাঙাগড়ায় অস্থির রাজনীতি

দেশের খবর: ভোটযুদ্ধের দামামা বাজছে। টালমাটাল রাজনীতির মাঠ। একদিকে কোমর বেঁধেই আছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন জোট। আরেক দিকে তুমুল প্রস্তুতি বিএনপির নেতৃত্বে সরকারবিরোধী জোটে। তাল মিলিয়ে চলছে ভাঙাগড়ার খেলা। গতকালও ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে এনডিপি ও বাংলাদেশ ন্যাপ। আরো চারটি দল বেরোনোর পথে।

মিত্র বাড়তে পারে আওয়ামী লীগের
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ নতুন করে মিত্রের সন্ধানে নেমেছে। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে নির্বাচনী মহাজোটের কলেবর বৃদ্ধির। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে আসছে—এমনটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ক্ষমতাসীন মহলে। তারা আশা করছে, তাদের নির্বাচনী মহাজোটে কয়েকটি দল যোগ দেবে। নতুন দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে মহাজোটগতভাবে নির্বাচন, নাকি আওয়ামী লীগ এককভাবে মাঠে নামবে, সে বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির সিদ্ধান্তের ওপর। বিএনপি নির্বাচনে এলে মহাজোটগতভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট সূত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছে।

মহাজোটের কলেবর বৃদ্ধি করার চেষ্টার বিষয়টি স্বীকার করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মঙ্গলবার বলেন, ‘নতুন দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে রাজনৈতিক মেরুকরণের ওপর।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে এলে এক ধরনের চিন্তা, না এলে ভিন্ন চিন্তা রয়েছে। বিএনপি এলে মহাজোটগতভাবেই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। নতুন কয়েকটি দলের সঙ্গে এ নিয়ে যোগাযোগ হচ্ছে।’

আজ বুধবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেও নতুন মিত্রদের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পেতে পারে।
আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, তারা চেষ্টা করছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এলডিপি ও বিকল্পধারাও মহাজোটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত যদি তা না হয়, তাহলে নির্বাচনী সমঝোতা হবে। অলি আহমদ তিনটি আসন চান। বি চৌধুরী তাঁর ছেলে মাহী বি চৌধুরী ও মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের আসন দুটি চাইতে পারেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এর বাইরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সলের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতারা কথা বলেছেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়েম আমীর ফয়সল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে এলে দুই দলের নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়।

ইসলামী দলগুলো ছাড়াও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সিপিবিসহ বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সিপিবিসহ বেশ কয়েকটি বামপন্থী দল দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে। এবারও নির্বাচনে যাবে কি যাবে না সে ব্যাপারে সিপিবি নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। আওয়ামী লীগ চাইছে বিএনপি বর্জন করলেও তারা যেন নির্বাচনে অংশ নেয়।

দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বাম জোট নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে একটি বিষয় ভালো লাগছে যে বামপন্থীরা এক সুরে কথা বলছেন। সেটি হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে তাঁরা নেই। এই উচ্চারণ যাঁরা করেছেন, আসুন না আমরা মিনিমাম পয়েন্টে ম্যাক্সিমাম ইউনিটি গড়ে ফেলি।’
এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের সঙ্গেও আওয়ামী লীগের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি মহাজোটের প্রধান শরিক। বিএনপি নির্বাচনে এলে জাতীয় পার্টি মহাজোটগতভাবেই নির্বাচন করবে—এমন দাবি ক্ষমতাসীনদের। তাদের কৌশল নিজেদের ঐক্য সুসংহত করার পাশাপাশি বিএনপির ঐক্যে ভাঙন সৃষ্টি। এরই মধ্যে এ বিষয়ে অনেকটা সফল হয়েছে ক্ষমতাসীনরা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যায়নি বিকল্পধারা। গতকাল ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক মেরুকরণের ওপর নির্বাচনী জোট, মহাজোট গঠনের বিষয়টি নির্ভর করছে। বিএনপি নির্বাচনে এলে নিশ্চয় তাঁরা জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানান।

আওয়ামী লীগ বেশ আগেভাগেই মিত্র খুঁজে বের করতে অনেকগুলো দলের সঙ্গে আলোচনা করেছিল। গত ১৮ জুলাই ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তৃণমূল বিএনপি চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাতীয় জোটের প্রধান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের আলমগীর মজুমদার, সম্মিলিত ইসলামিক জোটের মাওলানা জিয়াউল হাসান, ইসলামিক ফ্রন্টের সৈয়দ বাহাদুর শাহ, কৃষক শ্রমিক পার্টির ফারহানা হক চৌধুরীসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জাগো দল, একামত আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা। বৈঠকে নির্বাচনী মহাজোটে অন্তর্ভুক্তির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের পক্ষে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দিলীপ বড়ুয়া, শরীফ নূরুল আম্বিয়া, শিরীন আখতার প্রমুখ।

এ বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা জানান, একসঙ্গে নির্বাচন করার পরিকল্পনা থেকেই তিনি ২৫ জন প্রার্থীর একটি নামের তালিকা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়েছেন। মহাজোটে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিএনপি জোট বাড়ার সঙ্গে কমছেও
ক্ষমতাসীন জোট ও বলয়ের বাইরে থাকা সব দলকে এক কাতারে আনতে দীর্ঘদিনের চেষ্টার ফসল হিসেবে বিএনপি কয়েকটি দলকে নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোট গড়েছে। কিন্তু নতুন জোট গড়ার তিন দিনের মাথায় ভাঙন দেখা দিয়েছে পুরনো জোটে। মঙ্গলবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)। জোটের শরিক আরো কয়েকটি দল একই পথে হাঁটতে পারে বলে জানা গেছে।
জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বর্তমান জোটেই থাকছে নাকি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে যাচ্ছে, নাকি এলডিপির নেতৃত্বে নতুন কোনো জোট হচ্ছে—এসব নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা রয়েছে। এমনও শোনা যাচ্ছে, দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম আসন্ন নির্বাচনকালীন সরকারেও থাকতে পারেন।

২০ দলীয় জোটের শরিক একটি দলের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা জানান, আরো অন্তত চারটি দল এই জোট ছাড়ার চিন্তা করছে। ওই চারটি দলের মধ্যে আছে ধর্মভিত্তিক একটি দল। এ ছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিক যে চারটি দলকে এরই মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যেও একটি দল জোট ছাড়ার পথে আছে। ওই দলেরই এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ার পক্ষপাতী চারটি দলের নেতারা গতকালই নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। এর কারণ জানতে চাইলে ওই নেতা বলেন, বিএনপি তার পুরনো মিত্রদের অবমূল্যায়ন করায় সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ছিল আগে থেকেই। সম্প্রতি এই ক্ষোভ আরো বেড়েছে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘সকলেরই নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আছে। তাই কে থাকবে আর কে থাকবে না এটা তাদের একান্তই নিজস্ব ব্যাপার।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে এটা ঠিক। আর ২০ দলীয় জোট থেকে দলগুলোকে বের করতে সরকার তো বসেই আছে।’
এদিকে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০ দলীয় জোটে ভাঙনের সুর নিয়ে চিন্তিত নয় বিএনপি। বরং দুটি দল চলে যাওয়ায় বিএনপি কিছুটা ক্ষুব্ধ। দল দুটিকে ফেরাতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না বলেও জানান বিএনপির নেতারা।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা (বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপি) যেসব কারণ দেখিয়ে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে, তা সঠিক নয়। আমরা সব সময় ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে আলোচনা করেই সব সিদ্ধান্ত নিই। কাউকে অবমূল্যায়ন করা হয়নি। আসন ভাগাভাগি নিয়ে আমরা এখনো কোনো আলোচনাই করিনি। আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করতে নানা ধরনের চক্রান্ত চলছে।’ নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, ‘আশা করি ন্যাপ ও এনডিপি তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘আমরা গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য ফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। এই ফ্রন্টের সবাই তো এক অনুসারী নয়। তার পরও এক হয়েছি, কারণ এই সরকারকে হটাতে হবে। এই পরিস্থিতিতে দুটি দল কেন চলে গেল তা পরিষ্কার নয়। হয়তো তারা সরকারি তরফ থেকে কোনো প্রপোজাল পেয়েছে বা নিজেরাই থাকতে চাচ্ছে না। তবে যাই হোক, আমরা তাদের নিয়ে চিন্তিত নই এবং তাদের জোটে ফেরাতে উদ্যোগও নেওয়া হবে না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক আগে থেকেই ২০ দলীয় জোটের বেশ কয়েকটি নিবন্ধিত দল নির্বাচনে তাদের আসন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে আসছিল। কিন্তু বিএনপি সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে বরং নতুন ফ্রন্ট গঠনে ব্যস্ত থাকে। বিশেষ করে বিকল্পধারার সঙ্গে বিএনপির ঐক্যের চেষ্টা ভালোভাবে নেয়নি ২০ দলীয় জোটের শরিক কয়েকটি দল। এ ছাড়া তাদের অভিযোগ ছিল, জোটের বৈঠক হয় শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য। এই পরিস্থিতিতে দুটি দল বেরিয়ে গেছে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর জোটের বৈঠকে বিকল্পধারার সঙ্গে জোট বাঁধার চেষ্টা নিয়ে নানা কথা হয়। সর্বশেষ গত সোমবার ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ‘এক-এগারো’কালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছিলেন। এখন কিভাবে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন?’ এ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদ হয়। মির্জা ফখরুল ন্যাপের মহাসচিবকে তাঁর বক্তব্য শেষ করতে দেননি। তাঁকে থামিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এখন এসব প্রশ্ন তোলার, দোষত্রুটি খোঁজার সময় নয়।

গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত আমরা নিজেরা কোনো জোটের সঙ্গে যাচ্ছি না। তফসিল ঘোষণার পর আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে। এর আগে একলা চলো নীতিতে আমরা আমাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব।’

জোট ছাড়ার ঘোষণা দুই দলের: গতকাল বিকেলে রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছড়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপি। দল দুটির নেতারা জানান, জোটের বিভিন্ন বৈঠকে শরিক দলগুলোর মনোনয়নের বিষয়টি সামনে আনতে চাইলেও বিএনপি কৌশলে তা এড়িয়ে যায়। ‘এক-এগারোর কুশীলব, মাইনাস টু ফর্মুলার বাস্তবায়নকারীরা’ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় বিএনপি তার সব নৈতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া এবং এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা ও মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসাসহ দুই দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।

লিখিত বক্তব্যে জেবেল রহমান গানি বলেন, ‘‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটকে সম্প্রসারণ করে ১৮ দলীয় জোটে রূপান্তরের সময় থেকে বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপি এই জোটের অংশীদার, যা পরবর্তী সময়ে ২০ দলীয় জোটে রূপান্তরিত হয়। বিএনপির নেতৃত্বে শরিক হিসেবে আমরা আমাদের সাধ্যমতো অবদান রাখায় সচেষ্ট ছিলাম। নিজেদের মতবিরোধ ও মতপার্থক্য থাকলেও জোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সকল সময়ই ছিলাম আন্তরিক। এমনকি ২০১৪ সালের নির্বাচনে নানা ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব থাকার পরও জোটের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো কেউ তৎকালীন ১৮ দলীয় জোট ত্যাগ করেনি। এই ত্যাগকে প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি কোনো রকম মূল্যায়ন করেছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়নি। বরং তাদের ভাবখানা এ রকম—‘তারা যাবে কোথায়?’ গত সোমবার ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও বিএনপির উপস্থিত নেতারা বলেছেন, তাঁদের ওপর আজকে যে ঝড় কিংবা রাজনৈতিক চাপ তা শুধু ২০ দলীয় জোটের কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। এই জোট না থাকলে তাঁরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখোমুখি হতো না।”

জেবেল রহমান বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের কারণে কেউ চাপে থাকুক সেটা আমরা প্রত্যাশা করি না। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, এই দলগুলো তাদের পাশে ছিল বলেই তারা তাদের অনেক ব্যর্থতার কিছু ভাগ দিতে পারে। না থাকলে তাও পারত না। ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত থাকলে আমরা তা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যের নামে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামক একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আত্মপ্রকাশ করতে গিয়ে বিএনপি ও তার বন্ধুরা যেসব ঘটনার অবতারণা করেছে তা সত্যিই দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক।’

জেবেল রহমান আরো বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের নায়কদের আচরণ সমগ্র জাতির সঙ্গে আমাদেরও হতাশ করেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ ধরনের আচরণ রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব বা বিএনপির নেতৃস্থানীয় প্রবীণ নেতাদের কাছে জাতি বা কোনো রাজনৈতিক কর্মী এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন করে পথ চলতে চাই। প্রকৃত দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্য চাই। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানের। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে একটি কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আপনি অবিলম্বে সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করুন।’

পরে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জেবেল রহমান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লোভে বা চাপে পড়ে ২০ দলীয় জোট ছিন্ন করছি না।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারি দল আমাদের কোনো অফার দেয়নি। ২০ দলীয় জোট বিলুপ্ত হলো কি না তাও বলতে পারছি না।’

অলির ২০ দলে থাকা না থাকা নিয়ে গুঞ্জন: নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা যায়, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ সম্প্রতি ঘোষিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। আবার নানা বিষয়ে সরকারেরও সমালোচনা করছেন। জোটের প্রধান দল বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে গেলেও সেখানে অলি আহমদকে দেখা যায়নি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জোটের প্রধান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই জোটের সভাগুলোতে দেখা যাচ্ছে না অলি আহমদকে। তবে তাঁর পরিবর্তে ওই সভাগুলোতে মহাসচিব অথবা যুগ্ম মহাসচিবরা যাচ্ছেন।

এলডিপি নেতারা জানান, তাঁদের রাজনৈতিক কোনো অবস্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সময়ই বলে দেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি। তবে জোট ছাড়া হবে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। আপাতত বর্তমান জোটেই তাঁরা রয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে নিয়ে আলোচনার কমতি ছিল না। তখন বলা হয়েছিল, ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তৎকালীন সরকার থেকে অলি আহমদকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় থাকার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু অলি আহমদ সরকারের এসব প্রস্তাবে রাজি হননি।

বর্তমানে ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এলডিপির আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার গুঞ্জন সম্পর্কে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম সোমবার বলেন, ‘আওয়ামী জোটে যাওয়ার বিষয়টি শতভাগ ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক কোনো অবস্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।’

সম্প্রতি অলি আহমদ জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ায় বিকল্পধারাকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টার বিষয়ে যে কঠোর মন্তব্য করেন সে সম্পর্কে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। বিকল্পধারা ও বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে উদ্দেশ করে আমাদের দলীয়প্রধান ওই মন্তব্য করেছিলেন।’ তিনি (অলি) কী এখন প্রধান দুই জোটে পা রাখছেন কি না এই প্রশ্নে সেলিম বলেন, ‘আমরা ২০ দলীয় জোটে আছি। আসলে নির্বাচন আসন্ন। তাই গুঞ্জন, প্রলোভন, আমন্ত্রণ থাকে, থাকবে। তবে নির্বাচন যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে আমরা কিংবা ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে যাব কি না তা এখনো বলতে পারছি না।’

২০ দলীয় জোটের সভাগুলোতে এলডিপি প্রধানকে দেখা যাচ্ছে না কেন—এই প্রশ্নের উত্তরে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আসলে আগে তিনি সব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতেন। ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর পর ২০ দলের সভাগুলোতে তিনি যাচ্ছেন না। উনার প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের মহাসচিব অথবা আমি যাচ্ছি।’

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা এলডিপি সাধারণ সম্পাদক আখতার আলম প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমাদের দলের সভাপতি কেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে যাবে? এই জোটে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা ২০ দলীয় জোটেই আছি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে তো সরকারের অবস্থা কিছুটা ভালো ছিল। ওই সময় তিনি সরকারের প্রস্তাবে রাজি হননি। এখন তো সরকারের পায়ে মাটি নেই। বর্তমান সরকার বেকায়দায় আছে।’

প্রসঙ্গত, নবম সংসদে এলডিপি এককভাবে ৪২টি আসনে নির্বাচন করেছিল। দলীয়প্রধান অলি আহমদ নিজ নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম-১৪) থেকে নির্বাচিত হন। এ ছাড়া আর কোনো আসন পায়নি এলডিপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনের জন্য দলটির শতাধিক আসনে প্রার্থী ঠিক রয়েছে। এসব আসনে এককভাবে নির্বাচন করার জন্যও প্রস্তুতি রয়েছে। জোটের কাছে অর্ধশতাধিক আসন চাইতে পারে দলটি। তবে নির্বাচন এককভাবে নাকি জোটগতভাবে হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রাজনীতির মাঠে আলোচনায় থাকা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে গত সোমবার ঢাকায় অবস্থান করা অলি আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোনে এ নিয়ে আলাপ করতে রাজি হননি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর অলি আহমদ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ আসন থেকে ছয়বার নির্বাচিত হন। এর মধ্যে পাঁচবার বিএনপি থেকে এবং ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে নিজ দল এলডিপি থেকে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে নির্বাচনে তিনি এমপি হলেও ওই আমলে মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। একপর্যায়ে তিনি ২০০৬ সালে বিএনপি থেকে বেরিয়ে নতুন এ রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এর আগে বিএনপিতে থাকাকালে তিনি সব শেষ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, রাজনীতির মাঠে এখন আলোচনা চলছে অলি আহমদ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) এবং চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) এই দুটি আসনে নির্বাচন করতে পারেন। এ ছাড়া দলের মহাসচিবসহ আরো কয়েকজনের জন্য আওয়ামী জোট আসন ছেড়ে দিতে পারে। তবে সরকারের পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটেও আসন নিয়ে দেনদরবার চলছে বলে জানান কয়েকজন নেতা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সোমালিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘হামলায় ৬০ জঙ্গি নিহত’

বিদেশের খবর: সোমালিয়ার মধ্যাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ৬০ জন নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ খবর জানিয়েছে। তাদের দাবি, নিহতরা জঙ্গি সংগঠন আল শাবাবের সদস্য।
শুক্রবার চালানো বিমান হামলাটিকে ‌‘নির্ভুল’ দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এতে কোন বেসামরিক লোকের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এ তথ্য দিয়েছে। আল শাবাবকে প্রতিরোধে সোমালিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই হামলা চালায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি ২০১৭ সালের নভেম্বরের বিমান হামলার পর সবচেয়ে বড় হামলা। ২০১৭ সালে বিমান হামলায় আল শাবাবের ১০০ জন সদস্য নিহত হয়। সোমালিয়ায় এ জঙ্গি গোষ্ঠীর আধিপত্য বেশ প্রবল। ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করছে দেশটির সেনাবাহিনী।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা চলতি বছর দুই ডজনেরও বেশি ড্রোন হামলাসহ বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমালিয়ার মানুষের ওপর আল শাবাবের হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
উত্তরখানের আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার উত্তরখানে চার দিন আগে গ্যাসের চুলা থেকে লাগা আগুনে দগ্ধ আরও দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আফরোজা আক্তার পূর্ণিমা (৩০) মঙ্গলবার রাতে মারা যান। আর তার চাচাতো বোনের স্বামী ডাবলু মোল্লার (৩৩) মৃত্যু হয় সকাল ৮টার দিকে।
পূর্ণিমার শরীরের ৮০ শতাংশ এবং ডাবলুর ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। গত ১৩ অক্টোবর ভোরের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ নিয়ে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হল। ওই ঘটনায় দগ্ধ আরও তিনজন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন। উত্তরখানের ব্যাপারীপাড়ার তিনতলা ওই ভবনের নিচতলায় পাইপ লাইনের ছিদ্র থেকে গ্যাস জমে গিয়েছিল। সেদিন ভোর ৪টার দিকে রান্নাঘরের চুলা জ্বালতে গেলে পুরো ঘরে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আটজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন সকালেই মো. আজিজুল ইসলাম (২৭) নামে একজনের মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় মারা যান তার স্ত্রী মুসলিমা বেগম (২০)। আজিজুলের ফুফু সুফিয়া বেগম মারা যান রোববার।
এরপর মঙ্গলবার রাতে সুফিয়ার মেয়ে পূর্ণিমা এবং বুধবার সকালে আজিজুলের বোন আঞ্জু আরার স্বামী ডাবলু মোল্লাও মারা গেলেন।
এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, পূর্ণিমার ছেলে সাগর (১২), আজিজুলের বোন আঞ্জু আরা (২৫), এবং তার ছেলে আব্দুল্লাহ সৌরভ (৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে সাগরের শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে গেছে। বাকি দুজনের অবস্থা কিছুটা ভালো বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এই পরিবারের সদস্যরা গত মাসে ওই বাসার নিচতলায় ওঠেন। সেখানে তিনটি কক্ষে তারা থাকতেন। তাদের বাড়িপাবনার ভাঙ্গুরায়।
মুসলিমা ও পূর্ণিমা উত্তরখানের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। আজিজুল একটি মাছের খামারে কাজ করতেন এবং ডাবলু অটোরিকশা চালাতেন। ডাবলুর ছেলে আব্দুল্লাহ ময়নারটেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বলিউডে লুলিয়ার অভিষেক, বিশেষ বার্তা সালমানের

বিনোদনের খবর: ক্যাটরিনা কাইফ থেকে আয়ুশ শর্মা, সালমান খানের হাত ধরে বলিউডে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন অনেকেই। নিজের প্রিয়জনদের জন্য তিনি যেভাবে ছবির প্রচার করেন, সে বিষয়ে তার জুড়ি মেলা ভার। এবার বলিউডে পা রাখতে চলেছেন সালমানের প্রেমিকা লুলিয়া ভান্তুর। ইতিমধ্যেই তার অভিষেক ছবি ‘রাধা কিউ গোরি ম্যায় কিউ কালা’র পোস্টার প্রকাশ্যে এসেছে। আর পোস্টার লঞ্চ হওয়ার পরই বান্ধবীর ছবির প্রচার শুরু করে দিলেন দাবাং খান।

সালমান বিয়ে করবেন কিংবা আদৌ করবেন কিনা, তা লাখ টাকার প্রশ্ন। কিন্তু তার জীবনে প্রেমিকার অভাব কখনও হয়নি। ৫০-এর গণ্ডি পেরিয়েও সালমান বলিউডের এলিজিবল ব্যাচেলার। সেই সালমান লুলিয়া ভান্তুরের সঙ্গে প্রেম করছেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। তবে লুলিয়া যে তার কাছের মানুষ তা বোঝা গেল সুপারস্টারের পোস্ট দেখেই। ছবির পোস্টারটিই মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পোস্ট করেছেন সালমান। ছবির জন্য বান্ধবীকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। ছবিতে শ্রী কৃষ্ণের ভক্তের ভূমিকায় অভিনয় করছেন লুলিয়া। পোস্টারেও সেই বেশেই দেখা যাচ্ছে তাকে। হলুদ শাড়ি ও গলায় ফুলের মালা।

লুলিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টারটি পোস্ট করে লিখেছিলেন, নিজের প্রথম ছবির প্রথম পোস্টারটি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম। এই প্রজেক্টে কাজ করতে পেরে দারুণ লাগছে। একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা দেওয়া হয়েছে এই ছবির মধ্যে দিয়ে। না বলা কথা বলার বার্তা রয়েছে। আশা করি, সকলকে আমার পাশে পাব।

পরিচালক প্রেম আর সোনির এই ছবি একটি সত্যি ঘটনা অবলম্বনে তৈরি। পোল্যান্ড, মথুরা এবং দিল্লিতে হয়েছে ছবির শুটিং। আগামী বছর মে মাসে মুক্তি পাবে এই ছবি। এর আগে সালমানের ‘রেস থ্রি’ ছবির জন্য দুটি গান গেয়েছিলেন লুলিয়া। এবার তার ছবির প্রচার শুরু করে দিলেন সালমান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আতা ফলের কিছু ঔষধি উপকারিতা

স্বাস্থ্য কণিকা: বাংলাদেশে খুব সাধারণ ও জনপ্রিয় একটি ফল আতা। ধারণা করা হয়, স্বাদের দিক থেকে কিছুটা নোনতা হওয়ার কারণেই এর এমন নামকরণ হয়েছে। তবে, হিন্দিতে এর নাম ‘রাম ফল’। আর আমেরিকার উষ্ণমণ্ডল ও পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ আতার আদি নিবাস।

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফলটির প্রতি ১০০ গ্রামে পাওয়া যায় শর্করা ২৫ গ্রাম, পানি ৭২ গ্রাম, প্রোটিন ১.৭ গ্রাম, ভিটামিন এ ৩৩ আইইউ, ভিটামিন সি ১৯২ মিলিগ্রাম, থিয়ামিন ০.১ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাবিন ০.১ মিলিগ্রাম, নিয়াসিয়ান ০.৫ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড ০.১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৭ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৩৮২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৪ মিলিগ্রাম। আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে গুণে ভরা আতাফল। চলুন জেনে নেই সাধারণ আতা ফলের ঔষধি উপকারিতা সম্পর্কে।

১. হজমশক্তি বৃদ্ধিতে
খাবারের হজম শক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে আতাফলে থাকা ফসফরাস উপকারী ভূমিকা পালন করে। এর খাদ্যআঁশ হজমশক্তি বৃদ্ধি করে ও পেটের সমস্যা দূর করে। তাই যাদের হজমের সমস্যা তারা এই আতা ফল খেলে অনেক উপকার পাবেন।

২. দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে
আতাফলে রিবোফ্লাভিন ও ভিটামিন সি আছে। আর এই ভিটামিন উপস্থিতির কারণে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে। সেক্ষেত্রে আতা ফল অনেক সহায়ক। যাদের চোখের সমস্যা তারা আতা ফল খাবেন, এতে আপনার চোখের উপকার হবে।

৩. আমাশয়ে
আতা গাছের মূলের ছালের রস ২০/২৫ ফোঁটা ৭/৮ চা চামচ দুধ সহ খেতে হবে, তবে ছাগলের দুধ হলে ভাল হয়। আথবা আতা গাছের মূলের ছাল চূর্ণ ২০০ মিলিগ্রাম একবার বা দুইবার খেতে হবে। এর দ্বারা ২/৩দিনের মধ্যে আমাশয় ভালো হয়ে যাবে।

৪. হাড় মজবুত করতে
আতা ফলে প্রচুর ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। আর শরীরের হাড় গঠন ও মজবুত রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে ক্যালসিয়াম সরবারহ করতে সক্ষম এই আতা ফলটি। তাই হাড় মজবুত করতে আতা ফল খাওয়া উচিত।

৫. রক্তে নিস্তেজ ভাব কমে গেলে
ঠাণ্ডার কোনো ব্যধি না থাকলে তাহলে পাকা আতাফলের শাঁসের রস ২/৩ চা চামচ করে সকালে ও বিকালে ২ বার খেলে রক্তের নিস্তেজ ভাবটা সেরে যায়। আবার যদি রস করা সম্ভব না হয় তাহলে পাকা আতা এমনি খেলেই চলবে।

৬. চুল ও ত্বকের যত্নে
আতা ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা একটি উন্নতমানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফ্রি রেডিক্যাল নিয়ন্ত্রণে রক্ষা করে। এছাড়া ত্বকে বার্ধক্য বিলম্বিত করে। এতে উপস্থিত ভিটামিন এ চোখ, চুল ও ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।

৭. অপুষ্টিজনিত কৃশতায়
শিশু, যুবক যুবতী বৃদ্ধ যে কোনো বয়সেরই হোক এ ক্ষেত্রে পাকা আতাফলের রস ২/৩ চা চামচ করে একটু দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়ালে ধীরে ধীরে পুষ্টি সঞ্চার হয় এবং কৃশতাও দূর হয়। অপুষ্টিজনিত কৃশতায় আতা ফলের রস অনেক উপকারি।

৮. উকুনে
মাথায় উকুন হলে নির্বংশ করতে আতাপাতার রস ২ চা চামচ তার সঙ্গে ২/১ চা চামচ পানি মিশিয়ে চূলে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখলে উকুন মরে যাবে। একদিনে না গেলে ২/৩ দিন পর আবার লাগাতে হবে। এ ছাড়া পাতা বেটে লাগালেও উকুন মরে যাবে। তবে সাবধানে ব্যবহার করতে হবে যেন চোখে না লাগে, তাহলে চোখ জ্বালা করবে ও লাল হয়ে যাবে। তাছাড়া এই রস লাগানোর পর মাথা ঘুরতে থাকলে না লাগানো উচিৎ। তবে প্রথমে আধা চামচ পানি মিশিয়ে লাগিয়ে দেখা ভালো।

৯. রক্তপিত্তজনিত দাহরোগে
আতাফলের শাঁসের রস রক্তের শক্তি বৃদ্ধিকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অল্প রক্তচাপের কারণে মাঝে মাঝে বমির সংগে রক্ত বের হয় আবার বন্ধ হয়ে স্বাভাবিক মনে হয়, আবার কারো কারো আগ্নির বলও থাকেনা। এ ক্ষেত্রে পাকা আতার রস ২/৩ চা চামচ করে খাওয়ালে সেরে যাবে।কারো কারো দেহে সর্বোদা একটা দাহ ভাব আসে তাদের জন্য আতাফল খেলে সেটাও চলে যাবে।

১০. খনিজ পদার্থসমূহ সরবরাহে
আতাফল শরীরের ডিএনএ ও আরএনএ সংশ্লেষণ, শক্তি উৎপাদনের জন্য ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি ও খনিজ পদার্থসমূহ সরবরাহ করে থাকে।

১১. হৃৎপিণ্ডের রোগ প্রতিরোধে
আতা ফলের ম্যাগনেসিয়াম মাংসপেশির জড়তা দূর করে এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এর পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ রক্তের উচ্চচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

১২. রোগ-প্রতিরোধে
আতাফলে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। দুরারোগ্য ব্যাধিকে তাড়িয়ে আপনাকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে। এছাড়া আতাফলের খাদ্যউপাদান এনিমিয়া প্রতিরোধ করে থাকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ বাংলাদেশে আসছে বিশ্বকাপ ট্রফি

খেলার খবর: ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ট্রফি আসছে বাংলাদেশে। আজ বুধবার সকালে সোনালী রঙের ট্রফিটি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এসে পৌঁছবে। এরপর বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি একাডেমির সামনে রাখা হবে ট্রফিটি।

২০১৯ বিশ্বকাপ ওয়ানডে ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্য বাংলাদেশ অন্যতম। মোট ৪ দিন বাংলাদেশে থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফি। আজ প্রথম দিন মিরপুরের পর ১৮ অক্টোবর বসুন্ধরার যমুনা ফিউচার পার্কে ট্রফিটি সর্বসাধারণের দেখার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

১৯ অক্টোবর ঢাকা থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি যাবে সিলেটে। সেখানে পাহাড়ের কোলে মনোমুগ্ধকর ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও ক্যাডেট কলেজে সর্বসাধারণের দেখার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ২০ অক্টোবর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রদর্শিত হবে ট্রফিটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে অনশনে শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়ার দাবিতে আমরণ অনশন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী। প্ল্যাকার্ডে হাতে আখতার হোসেন নামের ওই ছাত্র ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের জিয়া হলের শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভার্স্কযের পাদদেশে সাড়ে ১২টা থেকে অনশন শুরু করেন তিনি।
অনশনের সময় তার হাতে কিছু প্রতিবাদী লেখা সংবলিত প্লাকার্ড দেখা গেছে। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, যদি পরীক্ষা শুরুর ১ মিনিট আগেও প্রশ্ন পাওয়া যায়, তবুও সেটা প্রশ্নফাঁস, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা চাই, জালিয়াতদের বহিষ্কার চাই, হোতাদের বিচার চাই, অনশন, প্রশ্নফাঁস!!!, মেধাবীদের গলায় ফাঁস এ দায় নেবে কে?
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আখতার হোসেন অনশনে বসে আহম্মদ ছফার ‘গাভী বিত্তান্ত’ বইটি পড়ছেন। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী। তখন তার পাশে একটি ছাতা, একটি ব্যাগ, পায়ের নিচে একটি গামছা, পিছনে কিছু প্রতিবাদী লেখা সংবলিত প্লাকার্ড।
এদিকে, অনশনের বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘ঘ ইউনিটে যে প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সেটা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, এটা আমি মেনে নিতে পারছি না। কারণ আমরা অনেক কষ্ট করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি। সেখানে অযোগ্য এবং মেধাহীনরা টাকার বিনিময়ে প্রশ্নফাঁস করে এখানে ভর্তি হবে- তা মেনে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

উল্লেখ্য, চলতি শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ঘ ইউনিটের ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ অবশেষে স্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এরপরও ফাঁসকৃত প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ করে সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে রেকর্ড সংখ্যক পাশের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল বাম ছাত্র সংগঠনসমূহের মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র জোট প্রশ্নফাঁসের দায়ে ঘ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী সাদেকা হালিমের পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবি জানিয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেহের বিনিময়ে ঋণের প্রস্তাব : ব্যাংক কর্মকর্তাকে পিটুনি

অনলাইন ডেস্ক: ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন এক নারী। আবেদনের জবাবে ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছ থেকে এমন এক প্রস্তাব পান তিনি; যা রীতিমতো ক্ষিপ্ত করে তোলে তাকে। একটি শর্ত জুড়ে দেন ম্যানেজার। ওই নারীকে বলেন, তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলেই কেবল ঋণের ব্যবস্থা করে দেবেন তিনি।
এই প্রস্তাবে ক্ষিপ্ত ওই নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে রাস্তায় ধরে এনে রীতিমতো পিটিয়েছেন লাঠি, জুতা দিয়ে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বেঙ্গালুরু প্রদেশ থেকে ২৬০ কিলোমিটার দূরের দক্ষিণ কর্ণাটকের দেভাঙ্গীরি শহরে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তাকে রাস্তায় শার্টের কলার ধরে কখনো লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন। আবার কখনো কিল-ঘুষি কিংবা জুতা দিয়ে গালে আঘাত করছেন।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই বলছে, সোমবার দেভাঙ্গীরির ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাচ্ছেন কেন তিনি ১৫ লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে তাকে এই কুপ্রস্তাব দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়া ৫০ সেকেন্ডের এ ভিডিওতে শোনা যায়, ওই নারী ব্যাংক কর্মকর্তার শার্টের কলার চেপে জুতা, লাঠি দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি আশ-পাশের পুরুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। ব্যাংকের ওই কর্মকর্তাকে থানায় নিতে সহায়তা করার জন্য তিনি এ আহ্বান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest