সর্বশেষ সংবাদ-
এখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরেরসাতক্ষীরা সদরের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমির গাছ কাটার অভিযোগতালায় মাছ চুরির অভিযোগে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগসাতক্ষীরায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস উদযাপিতশ্যামনগরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে চাচিকে হ#ত্যা: ঘাতক আটকভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন

এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি, আইজিপি পৌঁছালেই অভিযান শুরু

দেশের খবর: নরসিংদীর মাধবদী ও শেখেরচরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা দুটি বাড়ির আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে এলাকাবাসীকে সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
অভিযান পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। এছাড়াও পুলিশের আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরই অভিযান শুরু হবে বলে জানা গেছে।
সোমবার রাত ১০টার থেকে মঙ্গলবার সকাল ১০টা পযর্ন্ত বাড়ি দুটি ঘিরে রেখেছে বাহিনীর সদস্যরা।
মাধবদী পৌরসভার গাংপাড় এলাকার আফজাল হাজির ‘নিলুফা ভিলা’ নামে একটি ভবনে গত ৬ মাস আগে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকার বাসিন্দা হাফিজ ভূইয়া নামে এক ব্যক্তি বাসাটি ভাড়া নেন।
ভবনটিতে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার ভেতর থেকে লাইট বন্ধ করে দেয় তারা।
এ দিকে সদর উপজেলার শেখেরচরের দিঘিরপাড় চেয়ারম্যান বাড়ি সড়কে বিল্লাল মিয়ার ৫তলা বিশিষ্ট আরেকটি ভবনে জঙ্গি আস্তানার খবর পায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা।
পুলিশের একটি বিশেষ সূত্রে জানা যায় পুলিশের আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অভিযান শুরু হবে বলে জানা গেছে।
ঘিরে রাখা বাড়ি দুটিতে নারী-পুরুষসহ পাঁচজন জঙ্গি রয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। এ দিকে রাতেই ওই দুটি বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের সড়িয়ে নেয়া হয়েছে।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) থান্ডার খায়রুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, সাত তলা বাড়িটির এক তলা থেকে তিন তলা পর্যন্ত মিততাহুল জান্নাহ হমিলা মাদরাসা। আমরা গোপন সূত্রে তথ্য পেয়েছি দুটি বাড়িতে ৫ জন জঙ্গি অবস্থান করছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘মি টু’ আন্দোলন : মুখ খুললেন লতা মুঙ্গেশকর

বিনোদনের খবর: নারীদের যৌন হয়রানির প্রতিবাদে শুরু হওয়া হ্যাশট্যাগ ‘মি টু’ (#me too) আন্দোলন নিয়ে বিশ্বের দেশে দেশে চলছে তোলপাড়। অনেকেই এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, সমর্থন জানিয়ে কথা বলছেন। এবার এনিয়ে মুখ খুলেছেন শিল্পী লতা মুঙ্গেশকরও।
উপমহাদেশের এই প্রবাদপ্রতিম কণ্ঠশিল্পী মনে করেন, প্রত্যেক নারীকেই সম্মান জানানো উচিত। এটি তার জন্মগত অধিকার।
তিনি জানিয়েছেন, যদি তার সঙ্গে কখনও যৌন হযরানির ঘটনা ঘটত, তবে অপরাধী কোনোদিন পার পেতেন না।
তার মতে, একজন চাকরিজীবী নারীকে অবশ্যই সম্মান জানানো উচিত। তাকে প্রাপ্য স্থান দেয়া প্রয়োজন। যদি কেউ কোনো নারীকে অপমান করেন, তার উচিত সেই ব্যাক্তিকে সবক শেখানো।
এ সময় নিজের বায়োগ্রাফি নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আত্মজীবনীতে সব কথা লেখা যায় না। সব মানুষ আত্মজীবনীতে সত্যি কথা জানাতে পারেন না। কারণ এর সঙ্গে অন্য মানুষের জীবনও জড়িয়ে থাকে। মিথ্যা বলা হলে পাঠকদের ঠকানো হয়। আমি তা করতে চাই না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চলে গেলেন মাইক্রোসফটের সহ প্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেন

অনলাইন ডেস্ক: টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের সহ প্রতিষ্ঠাতা ও বিল গেটসের দীর্ঘকালের সহকর্মী পল অ্যালেন আর নেই। স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ মার্কিন উদ্যোক্তা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘নন-হজকিন লিম্ফোমা’ রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। এই মার্কিন উদ্যোক্তার মৃত্যুতে প্রযুক্তির দুনিয়ায় বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার বিকেলে তার পরিবারের সদস্যরা এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা কৃতজ্ঞ যে, তার প্রজ্ঞা, সহমর্মিতা, বদান্যতার সঙ্গে আমরা পরিচিত হতে পেরেছি।
১৯৭৫ সালে স্কুল বন্ধু বিল গেটসের সঙ্গে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন পল অ্যালেন। কাজে এ দুজন বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। বিল গেটস স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। বলেন, আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করেছি। তার প্রয়াণে আমি মর্মাহত। লেকসাইড স্কুলের সেই পুরনো দিনগুলো, মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠার সহকর্মী, আমাদের অনেক দিনের মানবকল্যাণমূলক কাজে পল ছিলেন একজন বিশ্বস্ত ও সত্যিকার বন্ধু।
বেশি দিন পেরোয়নি অ্যারেন তার এ রোগ সম্পর্কে সবাইকে জানিয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশাও করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রোগমুক্তি ঘটল না তার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ রাতের ম্যাচে যেমন হবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার একাদশ

খেলার খবর: দক্ষিণ আমেরিকার এল ক্ল্যাসিকোটা এবার একটু আনকোরা। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফুটবলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে এবারই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সৌদি আরবের আবু আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে। জেদ্দায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচ দেখতে মুখিয়ে আছে সৌদি আরবের ফুটবল ভক্তরা। এমনকি স্বাগতিক সৌদির বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচের থেকেও এ ম্যাচে আরবের দেশটির মধ্যে আলাপ-উত্তেজনা বেশি থাকার কথা।

কাগজের শক্তির হিসেবে এই ম্যাচে ব্রাজিল বেশ শক্তিশালী দল। নেইমার, কুতিনহো, জেসুস, আর্থার কিংবা অ্যালিসন, মারকুইনোস, মিরান্ডাদের নিয়ে শক্তিশালী দল ব্রাজিলের। অন্যদিকে মেসি-ডি মারিয়াবিহীন আর্জেন্টিনা কিছুটা হলেও দুর্বল। কিন্তু তারা আত্মবিশ্বাসী। দিবালা-ইর্কাদিসহ তরুণ দল নিয়ে নিশ্চয় আশাবাদী আর্জেন্টিনা ভক্তরাও।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় মুখোমুখি হবে দু’দল। ওই লড়াইয়ের আগে দু’দলই বাজাচ্ছে যুদ্ধের দামামা। শক্তির বিচারে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও তারা যেমন নির্ভার থাকতে পারছে না। তেমনি তরুণ দল নিয়েও আর্জেন্টিনার বলার উপায় নেই ব্রাজিল এগিয়ে। বরং নেইমার তার সর্তীথদের বলেছেন, ম্যাচটা আমাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে সেভাবে প্রস্তুতি নাও। আর আর্জেন্টিনা তারকা ইর্কাদি বলেছেন, ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে প্রীতি ম্যাচ বলে কিছু নেই।

চিরপ্রতিদ্বিন্দ্বী দুই দলের লড়াইয়ে তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ খুব কম। দু’দলই তাদের শুরুর একাদশ সাজাবে হাতে থাকা সম্ভব্য সেরা খেলোয়াড় নিয়ে। ব্রাজিলে যেমন এ ম্যাচে গোলবারের নিচে ফিরিয়ে আনবেন অ্যালিসনকে। ফেরাবেন আগের ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার মিরান্ডাকে। তেমনি মাঝমাঠে এ ম্যাচে দেখা যেতে পারে ২১ বছর বয়সী বার্সা মিডফিল্ডার আর্থার মেলোকে। দুই উইং দিয়ে আক্রমণ শানবেন কুতিনহো-নেইমার। গোলবারের সামনে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে পারেন বিশ্বকাপে হতাশ করা ব্রাজিল স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল জেসুস।
ব্রাজিলের সম্ভব্য একাদশ

অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও এ ম্যাচে হাতে থাকা সম্ভব্য সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নামবে। পাউলো দিবালার সঙ্গে এ ম্যাচে উইংয়ে দেখা যেতে পারে ইর্কাদিকে। আর গোলের সামনে থাকতে পারেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়াগো সিমিওনের ছেলে জিওভান্নি সিমিওনে। মাঝমাঠ সামলাবেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো মেজা এবং পেরেইরা। অন্যদিকে রক্ষণভাগে ওটামেন্ডে এবং আকুইনাদের সঙ্গে থাকতে পারেন ফিউন্স মোরি এবং বাস্টস। ইরাকের বিপক্ষে দলে ফেরা সার্জিও রোমেরো গোলবারের নিচে থাকবেন এ ম্যাচেও।
আর্জেন্টিনার সম্ভব্য একাদশ

ব্রাজিলের সম্ভব্য একাদশ: অ্যালিসন, মিরান্ডা, মারকুইনোস, অ্যালেক্স সান্দ্রো, ফ্যাবিনহো, কাসেমিরো, আর্থার মেলো, রেনাতো আগুস্তো, কুতিনহো, নেইমার, জেসুস।

আর্জেন্টিনার সম্ভব্য একাদশ: সার্জিও রোমেরো, ওটামেন্ডি, ফিউন্স মোরি, মার্কোস আকুইনা, বাস্টস, লিও চেলসো, মেজা, পেরেইরা, দিবালা, ইর্কাদি, সিমিওনে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডা. জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে এবার দখল, ভাঙচুর ও হত্যা চেষ্টার মামলা

অনলাইন ডেস্ক: সেনাবাহিনীর প্রধান আজিজ আহমেদকে নিয়ে বক্তব্যের জের ধরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার পরপরই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এবার রাষ্ট্রদ্রোহ নয়, জমি দখলের চেষ্ঠা, ভাঙচুর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ অক্টোবর) রাতে আশুলিয়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন মানিকগঞ্জ জেলার হরিরাম পুরের মোহাম্মদ আলী (৫৬) ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আনিছুর রহমান (৫৫)।
এজহার অনুযায়ী, মামলায় জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছাড়াও আরো তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন-গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দেলোয়ার হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিশির (৫৫) ও নূর মোহাম্মদের ছেলে আওলাদ হোসেন (৪৮)। আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জিয়াউল হক
মামলাটি রেকর্ড করেন।
মামলার এজহারে বলা হয়, আশুলিয়া থানাধীন পাথালিয়া মৌজায় ৪.২৪ একর জমির ক্রয় সূত্রে মালিক মোহাম্মদ আলী, আনিছুর রহমান ও তাজুল ইসলাম। তাদের মালিকানাধীন জমিতে কাটা তারের বেষ্টনী দিয়ে টিনশেডের ঘর বানিয়ে গাছপালা রোপণ করেছেন। কিন্তু আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এ জমি দখল করার চেষ্টা করছে।
সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর আসামিরা ওই জমিতে হাজির হয়ে বলেন, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নির্দেশে এ জমি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে অথবা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে এক কোটি টাকা জরিমানা দিতে হবে। বাদীরা এ টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা জমিতে ভাঙচুর করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জোট-ফ্রন্ট নিয়ে উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ

দেশের খবর: এখনও তফসিল ঘোষণা হয়নি। তবুও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ। সরকার বিরোধী জোটের নানা দাবি আর ক্ষমতাসীনদের পাল্টা যুক্তিতে সরগরম দেশের রাজনীতি।
এ অবস্থায় ‘আতঙ্কিত’ সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চান। তারা কোনো সংঘাত চান না। রাজনৈতিক দলগুলোও জনগণের এই চাওয়াকে বিবেচনা করেই নির্বাচনে অংশ নেবে।
বিএনপিসহ বিরোধী জোট বলছে, এবার জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে তারা। তবে তাদের সেই বক্তব্যের পাত্তা দিচ্ছে না ক্ষমতাসীনরা।
আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আন্দোলনের নামে যারা নৈরাজ্য করবে, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। বিশৃঙ্খলাকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় সবকিছু করবে সরকার।
অন্যদিকে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন।
সরকারকে ‘অবৈধ’ অ্যাখা দিয়ে তারা বলেছেন, আর ছাড় নয়, এবার রাজপথ দখলের পালা। যেকোনো মূল্যে সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো হবে।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে রাজনীতিতে চলছে নতুন মেরুকরণ। কৌশলগত কারণে একটি জোট রেখে আরেকটি নতুন জোট গড়ে তুলেছে বিএনপি। ভোটের হিসাব-নিকাশ ও নিজ নিজ স্বার্থ থেকে বিএনপি এবং জামায়াত একে অপরকে ছাড়ে দেবে না, এটা অনেকটাই নিশ্চিত।

ফলে ২০ দলীয় জোটের বাইরে নতুন ঐক্যের ক্ষেত্রে বিএনপি ভিন্ন কৌশল নিয়ে এগিয়েছে। জোটের অন্যদলগুলোকে না নিয়ে বিএনপি এককভাবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে’ অংশ নিয়েছে। ফলে বিএনপি এখন দু’টি জোটেই থাকছে।

যদিও জাতীয় ঐক্যের উদ্যোক্তারা প্রথমে বলেছিলেন, সাম্প্রদায়িক দল ছাড়া সব গণতান্ত্রিক দলই তাদের সঙ্গে যোগ দেবে। বিশেষ করে জামায়াত। কিন্তু জামায়াত ওই জোটে আছে কিনা তা এখনও পরিষ্কার করে কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না ও সুলতান মনসুরও। এক সময় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন তারা। জেএসডি সভাপতি আ স ম রব স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী। ওই সময়ও তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

দলের একাধিক সূত্র বলছে, ডা. একিউএম বদরুদোজ্জার বিকল্পধারা বাংলাদেশকে নিয়ে জোটে সন্দেহের দানা বাধায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে না রাখার সিদ্ধান্ত নেন নতুন জোটটির শীর্ষ নেতারা।

যদিও ১৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সরাসরি সে রকম কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।তবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বি চৌধুরী ও মাহি বি চৌধুরী দাবি করেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে বিনষ্ট করার প্রচেষ্টা চলছে। এমনকি মাহি এও বলেন, মান্না ও রবের বিয়ে যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে আর ড. কামালের সঙ্গে পরকীয়া রয়েছে।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা বলছেন, তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে ঐক্য গড়েছেন। এটা জনগণের দাবি। জনগণ যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই জন্য তাদের এ জোট।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা এখনও আশাবাদী, সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়ে সকলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।
সরকারি দল বরাবরই বলে আসছে, দাবি মানা সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে আপনারা কী করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা তো কোনো অন্যায় করি নাই, কেন আমাদের সঙ্গে বসবে না? আমরা এখনও আশা ছাড়িনি। আমরা মনে করি, ক্ষমতাসীন দলের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। তখনই আপনারা জানতে পারবেন সব কিছু।
‘জনগণ শান্তি চায়, আমরাও শান্তি চাই। আশা করি সরকার জনগণের মনের কথা বুঝে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। দেশে তামাশার নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না। এমনটা হলে জনগণই তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির আন্দোলন করার কোনো শক্তি কিংবা সামর্থ্য নেই। যদি সেই সক্ষমতা থাকত তাহলে জনবিচ্ছন্ন ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের মতো লোকজনের সঙ্গে যুক্ত হতো না।
‘যতই তারা আন্দোলনের হুমকি দিক না কেন, তারা ব্যর্থ। কাজেই আমরা তাদের আন্দোলন নিয়ে চিন্তিত নই।’
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। এখন দেশে অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করে নির্বাচন বন্ধ করে চেষ্টা করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদরে সকল অপতৎপরতা প্রতিহত করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চার পন্থায় বশে হেফাজত; আ. লীগ হলেও আপত্তি নেই আল্লামা শফীর

দেশের খবর: শাপলা চত্বর অবরোধ করে সরকার পতনের চেষ্টা করেছিল হেফাজতে ইসলাম। সেই হেফাজত এখন সরকারের পক্ষে কথা বলছে। সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীও এখন ‘শেখ হাসিনাতে মুগ্ধ’। শাপলা চত্বরের ঘটনার পর শেখ হাসিনার সরকারকে ‘নাস্তিক-মুরতাদের দোসর’ বলে অভিহিত করলেও এখন আল্লামা শফী বলছেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ হলেও কোনো আপত্তি নাই। এ দলে এমন মানুষ আছে, যারা দ্বীনকে ভালোবেসে মোটা অঙ্কের টাকা মাদ্রাসায় সাহায্য করে।’
হেফাজতকে বশে আনার জন্য চারটি পন্থা প্রয়োগ করেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। শেষ পর্যন্ত সফলতাও মিলেছে তাতে। হেফাজতে ইসলাম এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ জন্য সংগঠনটি ১৫ সদস্যের কমিটিও গঠন করেছে।
এ প্রসঙ্গে হেফাজতের আমির মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, কওমি সনদের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি দিয়ে হেফাজতের প্রতি দরদ দেখিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা তাই তাকে সংবর্ধনা দেবেন।
এদিকে নির্বাচনের আগে হেফাজতে ইসলামের এমন অবস্থান টেনশন বাড়িয়েছে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির। কারণ হেফাজতের ভোট ব্যাংক টার্গেট করে আল্লামা শফীর সঙ্গে এ দুটি দলের নীতিনির্ধারকরাও অনেকদিন হলো যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি ও ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সিকান্দার খান বলেন, ‘ভোটের মাঠে হেফাজতকে ফ্যাক্টর মনে করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তাই নীতিগত মিল না থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। হেফাজতের হঠাৎ সুর পাল্টানো এ রাজনীতিরই অংশ।’
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তবে তাদের একটি বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সমর্থন প্রত্যাশা করে।’

বশে আনতে চার পন্থা: পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চারটি পন্থা প্রয়োগ করে হেফাজতে ইসলামকে আওয়ামী লীগ বশে এনেছে। এগুলো হলো- কওমি সনদকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি দেওয়া, হেফাজতের বিরুদ্ধে সারাদেশে দায়ের করা ৮৩টি মামলার সবগুলো নিষ্ক্রিয় করে রাখা, সংগঠনটির তহবিলে নিয়মিত দান-খয়রাত করা ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি করা। হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগও রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বার্তা নিয়ে আল্লামা শফীর সঙ্গে দেখাও করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নাল আবেদিন। এসব কারণে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি নানাভাবে চেষ্টা করেও হেফাজতকে নিজেদের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তুলতে পারেনি।

বিএনপির হয়ে হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন। জাতীয় পার্টির হয়ে যোগাযোগ রাখেন হাটহাজারীর সাংসদ ও বনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। শাপলা চত্বরের ঘটনার পর আল্লামা শফীর সঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজে দেখা করেছেন। হেফাজতের ভোট ব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতেই কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা যোগাযোগ রেখেছেন হেফাজতের আমিরের সঙ্গে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চমক দেখাতে পেরেছে আওয়ামী লীগ।

হেফাজতের ভোট ব্যাংক: বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে ১৩ হাজার ৯০২টি কওমি মাদ্রাসায় প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু হেফাজতের হিসাবে সারাদেশে তাদের ৩০ হাজার মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী রয়েছে ৫০ লক্ষাধিক। কওমি মাদ্রাসা উত্তীর্ণ সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৮৫ লাখ। তাদের প্রত্যেকের পরিবারে গড়ে তিনজন সদস্য ধরে প্রায় আড়াই কোটি ভোটার থাকার দাবি করছেন হেফাজতের আমির মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

মাওলানা আজিজুল বলেন, আসন্ন নির্বাচনে হেফাজতে ইসলামের ভোট ব্যাংক বড় ফ্যাক্টর। এটি বুঝতে পেরে বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। কিন্তু তারা শত প্রলোভন উপেক্ষা করে রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন। তবে কোনো মুসলমান যদি তাদের সঙ্গে দেখা করতে চান, তারা তাদের না করেন না। কে কোন রাজনৈতিক দল করে, সেটি তাদের বিবেচ্য বিষয়ও নয়।

শেখ হাসিনাতে মুগ্ধ আল্লামা শফী: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী জানান, কওমি সনদের স্বীকৃতি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। বিশাল সম্মানের বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটি তাকে দিয়ে সম্মান দেখিয়েছেন। এ জন্য তারা তার কাছে কৃতজ্ঞ। আল্লামা শফী বলেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) এটা আমাকে এমনি মহব্বত করে দিয়েছেন। আমি আওয়ামী লীগ হই নাই। আপনাদের এ রকম কথাবার্তা ভুল। কথাবার্তা বলার সময় সত্য-মিথ্যা যাচাই করে বলবেন। কী করে বলেন আমি আওয়ামী লীগ হয়ে গেছি?’ তিনি এ কথাও বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ হলেও কোনো আপত্তি নাই। এ দলে এমন মানুষ আছে, যারা দ্বীনকে ভালোবেসে আমাদের মোটা অঙ্কের টাকা মাদ্রাসায় সাহায্য করে।’

গত ১ অক্টোবর দারুল উলুম হাটহাজারীর ছাত্র মিলনায়তনে বেফাকুল মাদারিসিল আরবিয়া বাংলাদেশ ও আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের ২০১৮ সালের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মুমতাজ (জিপিএ ৫) প্রাপ্ত চট্টগ্রাম বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ এবং ‘কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য ও অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা শফী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দিতে কমিটি গঠন: দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান দিয়ে বিল পাস করা হয়। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দেবে আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কাওমিয়া বাংলাদেশ। হেফাজত দুর্গ বলে খ্যাত দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় গত সোমবার অনুষ্ঠিত হাইয়াতুল উলইয়ার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য গঠন করা হয়েছে ১৫ সদস্যের একটি গণসংবর্ধনা বাস্তবায়ন কমিটি। হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীকে এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। তবে কবে বা কখন এ সংবর্ধনা দেওয়া হবে, তা এখনও ঠিক করা হয়নি। উল্লেখ্য, হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নিষ্ফ্ক্রিয় সেই ৮৩ মামলা: ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধ করেছিল। এক পর্যায়ে সরকার পতনের দাবিতে ব্যাপক তাণ্ডবও চালায় তারা। এ ঘটনায় চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ৮৩টি মামলা হয়। এসব মামলায় হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীসহ তিন হাজার ৪১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৮৪ হাজার ৯৭৬ জনকে আসামি করা হয়। এসব মামলার মধ্যে এখন তদন্তাধীন আছে ৬২টি। গত পাঁচ বছরে এসব মামলার আসামির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। ৮৩টি মামলার মধ্যে কেবল বাগেরহাটের একটি মামলায় বিচার শেষ হয়েছে। রায়ে খালাস পেয়েছেন প্রত্যেক আসামিই। দুটি মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে না পেরে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে শেষ করে দিয়েছে। ১৮টি মামলার অভিযোগপত্র দায়ের হলেও বিচার শুরু হয়নি এখনও। হেফাজতকে বশে আনার ক্ষেত্রে কওমি সনদের পাশাপাশি এসব মামলার নিষ্ফ্ক্রিয়তাও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর বলে মনে করেন বিশ্নেষকরা।
তথ্যসূত্র: সমকাল অনলাইন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ট্রাম্পের পথে হাঁটছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

বিদেশের খবর: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, তেল আবিবের দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়া। গতকাল সোমবার তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পথ অনুসরণ করে দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে কথা বলেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে পবিত্র জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দ্য গার্ডিয়ান ও স্টার ট্রিবিউনের খবরে জানানো হয়, স্কট মরিসন বলেছেন, জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের ধারণাটি তাঁকে দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেভ শর্মা। তিনি ইহুদি-অধ্যুষিত ওয়েন্টওর্থ এলাকা থেকে নির্বাচন করছেন।
এর আগে গত জুন মাসে অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে ইসরাইলের তেল আবিব থেকে দখলকৃত জেরুজালেমে দূতাবাস সরিয়ে নেবে না তারা। দেশটির তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ ওই ঘোষণা দেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী মরিসন বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের সংঘর্ষের দ্বিপক্ষীয় সমাধান খোঁজার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে অস্ট্রেলিয়া।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি সম্প্রতি মরিসনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার নীতি পরিবর্তনকে স্বাগত জানান।
এক টুইটে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘মরিসন তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেছেন এবং সেখানে অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস স্থানান্তরের কথাও বলেছেন। এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা অস্ট্রেলিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
মরিসন ঘোষণা দিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট গ্রুপ অব ৭৭ (জি ৭৭) চেয়ার পদে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের বিরোধিতা করবে এবং ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়টিও পর্যালোচনা করবে।
এদিকে লেবার পার্টির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ওয়েন্টওর্থ ইলেকট্রোরেটে বাই-ইলেকশন জেতার জন্য মরিয়া প্রচেষ্টা হিসেবে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইহুদি-অধ্যুষিত ওই এলাকায় লিবারেল পার্টি থেকে ডেভ শর্মা নির্বাচন করছেন। শর্মা ভোটে না জিতলে বর্তমান হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে।
ইসরায়েল জেরুজালেমকে তাদের চিরন্তন ও অবিভক্ত রাজধানী মনে করে। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে। ১৯৬৭ সালে যুদ্ধের সময় জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest