সর্বশেষ সংবাদ-
এখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরেরসাতক্ষীরা সদরের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমির গাছ কাটার অভিযোগতালায় মাছ চুরির অভিযোগে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগসাতক্ষীরায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস উদযাপিতশ্যামনগরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে চাচিকে হ#ত্যা: ঘাতক আটকভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন

যৌন হেনস্তা: ভারতীয় ক্রিকেটে ‘মি টু’র ধাক্কা

অনলাইন ডেস্ক: ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ ঝড়ে এবার বেসামাল ভারতীয় ক্রিকেট। বোর্ডের সিইও রাহুল জহরির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন এক নারী। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বোর্ডের প্রশাসক কমিটি জহরির কাছে এই অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়েছে।
প্রায় দুই বছর আগে হলিউডে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ অভিযান শুরু হয়, যার জোয়ারে হলিউডের অনেক ব্যক্তির মুখোশ খুলেছে। তবে সে সময় ভারতে এ ক্যাম্পেইনে সেভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি। গত কয়েকদিন ধরে ভারতে নতুন করে বিষয়টি আলোচনার ঝড় তুলেছে।
জহরির বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে ২০১৭ সালে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। এবার তার বিরুদ্ধে একটি ভেরিফাইড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে বেশ কয়েকটি ইমেইল তুলে ধরা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি জহরির এক সাবেক সহকর্মীর কাছ থেকে এসেছে। তার নাম প্রকাশ না করে ওই ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছে, সাবেক এক নারী সহকর্মীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান জহরি। সেদিন তার স্ত্রী বাইরে ছিলেন। ওই নারী সেই সময় নতুন চাকরি খুঁজছিলেন। নিজের প্রতিষ্ঠানে জহরি তাকে ভালো বেতনের কাজ দিয়েছিলেন। বাড়িতে নিয়ে সেদিন জোর করে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন।
জহরি ওই সময় ভারতীয় বোর্ডে চাকরি করতেন না। ডিসকভারি চ্যানেলে একজিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পেলেন সিনহা

অনলাইন ডেস্ক: সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে (এসকে সিনহা) রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাকে ইচ্ছেমতো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং কাজের অনুমতিও দিয়েছে সে দেশের সরকার। রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে সিনহার করা একটি আবেদন শুক্রবার মঞ্জুর করে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর। একাধিক দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সম্প্রতি সিনহার আবেদনের ওপর একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধি, কংগ্রেস প্রতিনিধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তায় কাজ করা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে এস কে সিনহার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনটি গৃহীত হয়।
এর আগে ওয়াশিংটন প্রেসক্লাবে বহুল আলোচিত ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ বইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিনহা জানিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য পররাষ্ট্র দফতরে আবেদন করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘এই দেশে (যুক্তরাষ্ট্র) আমার কোনো পরিচয় (স্ট্যাটাস) নেই। আমি শুধুমাত্র একজন আশ্রয়প্রার্থী। তাই আমি এখানে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
ওই অনুষ্ঠানে সিনহা দাবি করেন, তাকে হাউস অব কমন্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণে তিনি যাননি।
তিনি বলেন, ‘আমি নিরাপদ বোধ করছি না। আমি ভীত থাকি, ২৪ ঘণ্টা বাসাতেই থাকি। গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা আমার বাসা সব সময় মনিটরিং করে এবং যারা আমার বাসায় যায় তাদের ছবি তোলা হয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পদ্মাসেতুর নামফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: পদ্মাসেতুর নামফলক উন্মোচন, রেল সংযোগসহ বেশকিছু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় তিনি এ উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহু প্রতীক্ষিত মেগাপ্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে রোববার মুন্সীগঞ্জের মাওয়া, শরীয়তপুরের জাজিরা ও মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় যান।-খবর বাসস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফ্রিতে বার্সা ছাড়ছেন মেসি

খেলার খবর: বার্সেলোনার সঙ্গে ২০২১ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন লিওনেল মেসি। গেল বছর করা নতুন চুক্তিতে তার বাইআউট ক্লজ ৭০০ মিলিয়ন ইউরো। সে অনুযায়ী তাকে কিনতে হলে কোনো ক্লাবকে সমপরিমাণ অর্থ বা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাত হাজার কোটি টাকা গুনতে হবে।
তবে আশ্চর্যের বিষয়, বার্সাকে কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই মেসিকে ডেরায় ভেড়াচ্ছে একটি ক্লাব। গুঞ্জন, তাতে নাকি রয়েছে ছোট ম্যাজিসিয়ানের সদয় সম্মতি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এলো মুন্ডোর রিপোর্ট, ২০২০ সালেই বার্সা ছাড়ছেন মেসি। কোনো অর্থকড়ি না নিয়েই কাতালান ক্লাবটি ত্যাগ করছেন তিনি। তাও আবার অখ্যাত, অপ্রতিষ্ঠিত দলে নাম লেখাচ্ছেন।
এর মানে সাবেক সতীর্থ জাভি ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার দেখানো পথে হাঁটছেন এমএলটেন। বার্সা ছেড়ে জাভি কাতারের ক্লাব আল সাদ ও ইনিয়েস্তা জাপানি দল ভিসেল কোবের হয়ে খেলছেন।
এমন গুঞ্জন চাউর হওয়ার পর মেসির সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে বার্সা। কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে ২০২২-২৩ সাল পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে। ওই সময় আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের বয়স হবে ৩৬ বছর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মুখ খুললেন মন্দানা

মুখ খুললেন মন্দানা

কর্তৃক daily satkhira

অনলাইন ডেস্ক: বলিউডের ইরানি অভিনেত্রী মন্দানা করিমিও মুখ খুললেন। অভিযোগ আনলেন ‘কেয়া কুল হ্যায় হাম ৩’ পরিচালক উমেশ গার্গের বিরুদ্ধে। পরিচালক নাকি তাঁকে আগেভাগে সেটে ডাকতেন, অন্যদের ডাকতেন আরো পরে। তখনই করিমিকে স্বল্পবসনা হওয়ার প্রস্তাব দিতেন।
প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় গানের শুটিংয়ে তাঁর নাচের মুদ্রা বদলে দিতেন, এমনকি অন্যদের দিয়ে করাতেন। মন্দানার মতে, এমন ঘটনা বলিউডে নিত্যনৈমিত্তিক, “শুরুতে এসব নিয়ে সোচ্চার হতাম বলে অনেকে ‘ড্রামা কুইন’ ট্যাগ দিয়েছিল। পরে আর কাউকে কিছু বলতাম না, নিজের মতোই প্রতিবাদ করে যেতাম। নারীদের আসলে সোচ্চার হতে নেই।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘ভুলে ভরা’ জবির বাণিজ্য অনুষদের প্রশ্নপত্র

অনলাইন ডেস্ক: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ‘ইউনিট-৩’ (বাণিজ্য শাখা)-এর ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অসংখ্য বানান ভুল এবং বাক্যগঠনে অসঙ্গতি দেখা গেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার সকাল ১০টায় জবির বাণিজ্য শাখার ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসব ভুল নজরে আসার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকরা বলছেন, প্রশ্নপত্রে এমন ভুল কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রশ্নপত্রে এত ভুল থাকলে এই পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কী লাভ হবে?
জবি বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. একেএম মাহবুবুল হক ফেসবুকে লেখেন, এটি দেশের একটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যাতে মুদ্রণ ও ভাষাগত বিভ্রাট আছে কমপক্ষে ৩০টি !!! তদুপরি ছাত্র-ছাত্রীদের ভাষাজ্ঞান যাচাই করার জন্য শ্রম-বিভাজন, একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার ইত্যাদি ব্যবসায়-শিক্ষা সম্পর্কিত প্রশ্ন এবং বাংলা-ইংরেজির জগাখিচুড়ি দিয়ে এক নিদারূণ রসিকতা করা হয়েছে এই প্রশ্নপত্রে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, পরীক্ষার্থীদের ভাষাজ্ঞান যাচাই করার আগে প্রশ্নকর্তার বা দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাষাজ্ঞান নিয়ে সন্দেহ ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শওকত জাহাঙ্গীর বলেন, আসলে যে ভুল ধরেছে তারই ভুল। আমরা এ প্রশ্নপত্রটা ২০ বার আমি যাচাই করেছি সেখানে ভুল খুঁজে পাইনি। এখন বানানে ‘ণ’ ও ‘ন’ বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে লিখে। এখানে ভুল বলার কোন কারণ নেই। আর এত ভুল খুঁজতে গিয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষক এনে প্রশ্ন ফাঁস করতে পারিনা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিজের মৃত্যুর মুহূর্ত নিজেই রেকর্ড করেন সাংবাদিক খাসোগি!

অনলাইন ডেস্ক: ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে নিজের মৃত্যুর মুহূর্ত নিজেই রেকর্ড করেন সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি। সেদিন কনস্যুলেটে ঢোকার পরই তাকে আটক করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের এক পর্যায়ে হত্যা করা হয়।

২ অক্টোবর কনস্যুলেটের প্রবেশের আগে নিজের অ্যাপল ঘড়িতে রেকর্ডিং চালু করেন খাসোগি। প্রবেশের পর তাকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন ও সবশেষে হত্যার ঘটনা সবই ওই ঘড়িতে রেকর্ড হয়। পরে সেগুলো তার ব্যবহৃত আইফোন ও তথ্য সংরক্ষণের অনলাইন স্টোরেজ ‘আইক্লাউডে’ জমা হয়। শনিবার তুর্কি দৈনিক ডেইলি সাবাহের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সিএনএন।

এসব রেকর্ডিং এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, এই অডিও দিয়ে সহজেই খাসোগির হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করা যাবে। ডেইলি সাবাহের খবরে বলা হয়, কনস্যুলেটে প্রবেশের সময় খাসোগি তার মোবাইল ফোন বাইরে অপেক্ষমাণ বাগদত্তার কাছে রেখে যান। খাসোগি কনস্যুলেট থেকে আর বের না হওয়ায় ওই মোবাইল ফোন নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী।

তুর্কি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দূতাবাসে ঢোকার পর কিছুক্ষণ পরই জামালকে সৌদির গোয়েন্দারা খুন করে এবং তারপর তার দেহ টুকরো টুকরো করে লোপাট করে দেয়। অডিও ফুটেজে শোনা গেছে, যে দূতাবাসের ভিতর ঢোকার পর কীভাবে আরবি ভাষায় অনেকে মিলে খাশোগিকে প্রশ্ন করছে। তারপর তাকে অত্যাচার করে খুন করছে। এমনকি অডিও রেকর্ডিং–এ খাশোগিকে মারধরের আওয়াজ, তার আর্তনাদও স্পষ্ট শোনা গেছে।
গত সপ্তাহে তিনি বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের সৌদি কন্স্যুলেটে যান কিন্তু ভবনে প্রবেশের পর তিনি আর বের হন নি। সৌদি সরকার দাবি করছে, ভবন থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছেন খাশোগি। কিন্তু তুর্কি সরকার বলছে, তাদের হাতে প্রমাণ রয়েছে যে, সৌদি আরব খাশোগিকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় সৌদি সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপের মুখে পড়েছে।
এদিকে খাসোগিকে হত্যার আদেশ সৌদি আরব দিয়েছে, এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। এ অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ আবদুল আজিজ বিন সৌদি বিন নাইফ বিন আবদুল আজিজ। খাসোগির গুমের ১১ দিন পর এমন মন্তব্য করেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রিয়াদ থেকে একটি প্রতিনিধি দল তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছেছে। সৌদি প্রতিনিধি দল যৌথ তদন্তে অংশ নেয়ার জন্য তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: এবার নজর হাইকোর্টে

অনলাইন ডেস্ক: কোনো পক্ষ আপিল করলেও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে মৃত্যুদণ্ডের মামলা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হয় অনুমোদনের জন্য। সে অনুসারে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার সমস্ত প্রসিডিংস ও হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারিক আদালত।
তবে আসামিপক্ষ রায়ের পরে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষও বলছে রায় খতিয়ে দেখে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী কিংবা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় কি-না তা ভেবে দেখবেন।
এদিকে হাইকোর্টে মামলাটি এলে আদালতের প্রয়োজনীয় কাজ শেষে দ্রুত শুনানিতে পদক্ষেপ নেওয়ারও কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

গত ১০ অক্টোবর (বুধবার) বর্বরোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার দায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। একইসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে অপর ১১ আসামিকে।

রায়ে আদালত বলেছেন, মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিগণ ইচ্ছা করলে অত্র রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন -২০০২ এর ১৪ ধারা অনুসারে হাইকোর্ট ডিভিশনে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে পারবেন। …অত্র মোকাদ্দমার সমস্ত প্রসিডিংস ফৌজদারি কার‌্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করা হোক।

এ রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সমিতির সভাপতি জয়নুল অবেদীন বলেন, ‘এ মামলায় তারেক রহমান ন্যায়বিচার পাননি। এমনকি যাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে তারাও ন্যায়বিচার পাননি। এই মামলায় সাজা দেওয়ার মতো কোনো ইনগ্রেডিয়েন্ট (উপাদান) নাই। …এই সাজা দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মামলায় যেহেতু কোনো ইনগ্রেডিয়েন্ট নাই, আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো। সর্বোচ্চ আদালত থেকে ইনশাল্লাহ আমরা খালাস পাবো আল্লাহর রহমতে।’

অপরদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘রায়ের কাগজপত্র পাওয়ার পরে আমরা চিন্তা-ভাবনা করবো, এই রায়ে তারেক রহমান এবং আরও দু’জন- কায়কোবাদ ও হারিছ চৌধুরীকে যে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে, সেটার জন্য আমরা উচ্চতর আদালতে গিয়ে তাদের ফাঁসির জন্য (এনহ্যান্সমেন্ট) আপিল করবো কি-না।’
আপিলের প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যতোক্ষণ পর্যন্ত রায় না পাচ্ছি, ততক্ষণ পর্যন্ত যদি বলি আপিল করবো, আমার মনে হয় এটা প্রি-ম্যাচিউরড। আমরা রায় পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেখার পরে সেই ব্যবস্থা নেবো।’

অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘রায়ে যাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে তাদের আদালত থেকে বিনা খরচে রায়ের কপি দেওয়া হয়। আর তারা যদি আপিল ফাইল করেন, তবেও সেটা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য) হিসেবে হাইকোর্টে আসবে। সেক্ষেত্রে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব শুনানির জন্য পদক্ষেপ নেবো। তবে এটাতে পেপারবুক তৈরি করার বিষয় রয়েছে, সেগুলো আদালতের বিষয়। মামলার আপিল শুনানিতে আমাদের পদক্ষেপগুলো আমরা নেবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ মামলায় তারেক রহমানকে যদি নাটের গুরু বলা হয়ে থাকে, তবে সেটা রায় পর্যালোচনা করে দেখবো। রায় পড়ে যদি দেখি তারও মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিৎ ছিলো তবে তার দণ্ড বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিল করবো। কিন্তু সবটাই নির্ভর করবে রায়টি পড়ার পর।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আব্দুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জল, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, হানিফ পরিবহনের মালিক বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ।

পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম মাওলাদার,মো. আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু।

তাদের দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ডিজিএফআইয়ের মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, ডিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, আরেক সাবেক উপ-কমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোদা বক্স চৌধুরী, সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার মো. রুহুল আমিন,সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমানকে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরেকটি ধারায় খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমিন, আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানকে তিন বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ঘটনা ও বিচারপ্রক্রিয়া
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলাটি চালানো হয়। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তবে হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি (প্রয়াত) জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতা-কর্মী। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন।
তদন্ত শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। তখন জানা যায়, শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হামলার ছক করা হয়েছিল। পাকিস্তান থেকে এসেছিল হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দুই বছর তদন্তের পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর ফলে এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা হয় ৫২। সম্পূরক চার্জশিটে যে আরও তারেক-বাবরসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
মোট ৫২ আসামির মধ্যে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও মুফতি হান্নান এবং তার সহযোগী শাহেদুল ইসলাম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড অন্য মামলায় কার্যকর হয়। তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯ জনে।
আদালত রায়ে দণ্ডিতদের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ দেন। এছাড়া এ মামলায় পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আদেশ দেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest