সর্বশেষ সংবাদ-
এখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে– এড.সৈয়দ ইফতেখার আলীসাতক্ষীরায় মিষ্টি পানির ছোঁয়া: শ্যামনগরে ঘুচল হাজারো মানুষের পানিকষ্টসাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরেরসাতক্ষীরা সদরের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমির গাছ কাটার অভিযোগতালায় মাছ চুরির অভিযোগে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগসাতক্ষীরায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস উদযাপিতশ্যামনগরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে চাচিকে হ#ত্যা: ঘাতক আটকভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন

প্রত্যেক জেলার একটি মাধ্যমিক স্কুলে চালু হচ্ছে ‘একীভূত শিক্ষা’

দেশের খবর: দেশের প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিশুদের জন্য চালু হচ্ছে ‘একীভূত শিক্ষা’ কার্যক্রম। প্রত্যেক জেলায় একটি করে বাছাই করা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই লেখাপড়া করবে প্রতিবন্ধী শিশুরা। প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে ক্লাস ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম।
এই কার্যক্রম (একীভূত শিক্ষা) চালু করতে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাছাই করছে সরকার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় উচ্চমাত্রার প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘বিশেষায়িত শিক্ষা’ কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রয়েছে। দেশব্যাপী এ বিশেষায়িত শিক্ষার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে।
এছাড়া মৃদুমাত্রার প্রতিবন্ধী বা বিশেষায়িত শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষা অর্জন করা শিক্ষার্থীদের জন্য ‘একীভূত শিক্ষা’ চালু করা হচ্ছে। এর আগে দেশের আটটি মহানগরের আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘একীভূত শিক্ষা’ কার্যক্রম শুরুর পদক্ষেপ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এসব বিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিশুরা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়।
আর মাঝারি মাত্রার প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘সমন্বিত শিক্ষা’র কোনও স্কুল চালু নেই। সমন্বিত শিক্ষার জন্য স্কুল চালু করতে হলে বিদ্যালয়ে আলাদাভাবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষক দরকার। অন্যদিকে সব ধরনের প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় জাতীয় পর্যায়ে ‘সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা’ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা প্রস্তুত করেছে। এই নীতিমালার আওতায় সব ধরনের প্রতিবন্ধীদের জন্য সমন্বিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় লেখাপড়ার জন্য একটি করে বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। বিশেষায়িত বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা শিশুরা পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর ‘একীভূত’ শিক্ষার আওতায় লেখাপড়া করবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জানা গেছে, ‘একীভূত শিক্ষা’র আওতায় নিতে প্রতিটি জেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাছাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাছাই করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে নির্দেশ দিয়েছে। গত ৪ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, একীভূত শিক্ষার জন্য বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কাছাকাছি একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাছাই করতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) সালমা জাহান বলেন, যেসব শিশুরা বিশেষাতি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হবে তারা ‘একীভূত শিক্ষা’র আওতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লেখাপড়া করবে। অনেক শিক্ষার্থী আগে থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয় বাছাইয়ের পর একীভূত শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে চালু করা হলে আগে থেকে যারা লেখাপড়া করছে তাদের ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে। বিদ্যালয়ের বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিশুদের লেখাপড়া করানো হবে। ইতোমধ্যে দেশের অনেক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য শিক্ষকদেরও এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, সারাদেশে অটিস্টিক শিশুদের জন্য রয়েছে ৬২টি স্কুল। এর মধ্যে সুইড বাংলাদেশ পরিচালত ৫০টি, কল্যাণী ইনক্লুসিভ স্কুলের সাতটি এবং সেনাবাহিনীর ‘প্রয়াস’ নামের একটি। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে রাজধানীসহ সারাদেশেই অটিস্টিক শিশুদের স্কুল গড়ে উঠেছে।
২০১১ সালে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ অবৈতনিক একটি ‘স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজম’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে মিরপুর, লালবাগ, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী এবং ছয়টি বিভাগীয় শহরসহ গাইবান্ধা জেলায় একটি অর্থাৎ মোট ১১টি স্কুল চালু করা হয়েছে। এসব স্কুলে মোট ১৪৪ জন অটিজম বৈশিষ্টের শিশু বিনামূল্যে লেখাপড়া করছে। এসব স্কুল পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলায় সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ফাউন্ডেশনের আওতায় পরিচালিত ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে একটি করে অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে। ওইসব কেন্দ্রে অটিজম শিশু ও ব্যক্তিদের কাউন্সেলিংসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়।
এছাড়া বর্তমানে ৬৪ জেলায় একটি করে সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, সাতটি শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং পাঁচটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাংবাদিকদের গ্রেফতারে পুলিশের ক্ষমতা বেড়েছে: সম্পাদক পরিষদ

অনলাইন ডেস্ক: পরোয়ানা ছাড়াই সাংবাদিকদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
পরিষদ জানায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের শেষ মুহূর্তে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে সংবাদপত্রের কার্যালয় ও সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলোর দফতরে প্রবেশ করা, তল্লাশি চালানো, বন্ধ করে দেয়া, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক জব্দ করা, এমনকি পরোয়ানা ছাড়াই সাংবাদিকদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতা আরও বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদক পরিষদের লিখিত বক্তব্য পড়েন শোনান ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্ত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান প্রমুখ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সংবাদ মাধ্যমের বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পরিপন্থী কালাকানুন আখ্যায়িত করে সম্পাদক পরিষদ জানায়, এটিকে আইনে পরিণত করায় আমরা যারপরনাই হতাশ, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। এটি মুক্তিযুদ্ধের অন্তর্নিহিত চেতনার পরিপন্থী।

শ্যামল দত্ত বলেন, আমাদের মৌলিক আপত্তি, দফায় দফায় আলোচনা ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে দুইবার বৈঠক সত্ত্বেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস করা হয়েছে।

আইনটি নিয়ে পরিষদ জানায়, তিন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রহণযোগ্য পরিবর্তন, পরিমার্জনের লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করা হবে। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, এসবের কিছুই করা হল না।

‘সম্পাদক পরিষদকে তিনজন মন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা মনের করি, এটি সেই প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ।’

সম্পাদক পরিষদ আরও জানায়, শুরু থেকেই সম্পাদক পরিষদ এ আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল, যেগুলো স্বাধীন সাংবাদিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

শ্যামল দত্ত বলেন, আমরা কয়েকবার আইনমন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আমাদের বক্তব্য সুবিবেচনা পাবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিল যখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সামনে পেশ করা হয়, তখন সম্পাদক পরিষদ, বিএফইউজে ও অ্যাটকোর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উভয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই আমরা উপস্থিত ছিলাম।
‘সেসব বৈঠকে আমাদের আপত্তির জায়গাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরি এবং আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিশদভাবে বর্ণনা করি।’

সম্পাদক পরিষদের এ সদস্য বলেন, আমাদের তৃতীয় একটি বৈঠকের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে সহায়ক হতে পারত। কিন্তু সে বৈঠকটি কী কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি, তা আমাদের আজও অজানা।

‘এভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া বিলটি চূড়ান্ত করা হয় এবং আমাদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ ও সম্মতি ছাড়াই সংসদে পেশ করা হয়। এর ফলাফল হিসেবে, বিলটি চূড়ান্ত করা হল এবং আমাদের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ ও সম্মতি ছাড়াই তা সংসদে উপস্থাপন করা হল।’

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলো, বিশেষত, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা বিষয়ক ধারাগুলোতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছাড়াই আইনটি সংসদে পাস করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, আমরা আইনটি বাতিল চাইনি। কতগুলো বিশেষ ধারার আমূল পরিবর্তন চেয়েছি। এই পরিবর্তন সম্ভব। আমরা আশা করব, ওই ধারাগুলো সংশোধন করে আইনটি সংশোধন করা হবে।’

সম্পাদক পরিষদের দাবিগুলো হলো—

• সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা অবশ্যই যথাযথভাবে সংশোধন করতে হবে।
• এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে আনতে হবে।
• পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদের শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেয়ার অনুমতি দেয়া যাবে; কিন্তু কোনো কম্পিউটারব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেয়া যাবে না। তারা শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে, যখন সংশ্লিষ্ট সংবাদপ্রতিষ্ঠানের সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেয়া উচিত, সে বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে।
• কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কোনো কমপিউটারব্যবস্থা আটকে দেয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই উচ্চ আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে।
• সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে (যেমনটা বর্তমান আইনে আছে) এবং সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেফতার করা যাবে না।
• সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা, তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করা উচিত। এই লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পারে।
• এই সরকারের পাস করা তথ্য অধিকার আইনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেয়া উচিত। ওই আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবার ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নেইমারদের ম্যাচ নিয়ে

খেলার খবর: ফিক্সিংয়ের কালো থাবা ফুটবলে ছিল অনেক আগে থেকেই। তবে ফিফাসহ ফুটবলের সংস্থাগুলোর কঠোর আইন ও নীতির কারণে অনেকটাই কমিয়ে আনা গেছে। তবুও থেমে নেই ফিক্সিং। এবার সেই ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠলো খোদ ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার ডি সিলভার জুনিয়রের ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের খেলা একটি ম্যাচ নিয়ে। যেন-তেন কোনো ম্যাচে ছিল না সেটা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে। তবে অভিযোগটা উঠেছে, পিএসজির প্রতিপক্ষ রেড স্টার বেলগ্রেডের বিপক্ষে।

ইউরোপসহ পৃথিবীর নানা দেশেই জুয়া বৈধ। তবে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্যারিসের পার্ক ডি প্রিন্সেসে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ অক্টোবর সার্বিয়ান ক্লাব রেড স্টার বেলগ্রেডের মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজি। ওই ম্যাচে সার্বিয়ানদের ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল নেইমার-কাভানিরা।
জুয়ার নিয়ন্ত্রণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পিএসজি-রেড স্টারের ম্যাচ নিয়ে ৫০ লাখ ইউরোর লেন-দেন হয়েছিল। সেখানে শর্ত ছিল রেড স্টার বেলগ্রেডকে অন্তত ৫ কিংবা তার বেশি গোলে হারতে হবে।

পিএসজির ওই ম্যাচ নিয়ে জুয়ার অস্বাভাবিক লেন-দেন চোখে পড়ার পরই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। এরপরই অবশ্য ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ ম্যাচটি নিয়ে তদন্তে নেমে পড়েছে। তার আগেই ইউরোপিয়ান ফুটবল কর্তৃপক্ষ উয়েফা সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে ফ্রান্স ন্যাশনাল ফাইনান্সিয়াল প্রসিকিউটরস অফিসে (পিএনএফ)। কারণ, জুয়ার ওই লেনদেনই বলে দিচ্ছে, সম্ভবত ম্যাচের ফলাফলে তা প্রভাব ফেলেছে।

ফ্রান্সের এল’ইকুইপে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, ৫০ লাখ ইউরো লেনদেনের বিষয়ে কর্মকর্তাদের জিজ্ঞসাবাদও করা হয়েছে। শুক্রবার পিএনএফ এপিকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে, তারা ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছে। তবে এর চেয়ে বেশি কোনো তথ্য দিতে তারা অপারগতা প্রকাশ করে।

এল’ইকুইপে এটাও জানাচ্ছে যে, ৩ অক্টোবর ম্যাচের আগেরদিনই পিএনএফসে সম্ভাব্য ফিক্সিংয়ের বিষয়ে তথ্য জানিয়েছিল উয়েফা। অভিযোগ রয়েছে, ম্যাচের আগেরদিন বিকেল থেকে রাতের মধ্যে রেড স্টার বেলগ্রেডের কয়েকজন ফুটবলারের কথাবার্তা এবং আচরণ সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও বলা হচ্ছে, ওই রাতেই বেলগ্রেডের কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল পিএসজির সিইও এবং চেয়ারম্যান নাসের আল খেলাইফির সঙ্গে। যদিও শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

শুক্রবার ফ্রান্স দৈনিক এল ইকুইপে পত্রিকার ওয়েবসাইটে ফিক্সিংয়ের এই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর নেইমারের ক্লাব পিএসজি বাধ্য হয়েছে এ নিয়ে কথা বলতে। শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতিতে পিএসজি বলেছে, ‘এটা খুব হতাশাজনক যে, পিএসজি জেনেখে, এল ইকুইপে ওয়েবসাইটে শুক্রবার একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে লেখা হয়েছে পিএসজি-রেড স্টার বেলগ্রেড ম্যাচটিতে নাকি ফিক্সিং হয়েছিল। তবে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডটা পরিচালিত হয়েছে বেলগ্রেড থেকে। জুয়াড়িরা সেখান থেকেই জুয়া ধরেছে বলে জানা গেছে।’

পিএসজি জানাচ্ছে, তারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষাভাবে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কখনোই জড়িত নয়। শুধু তাই নয়, ন্যাশনাল ফাইনান্সিয়াল কোর্ট যদি এ নিয়ে কখনো কোনো কিছু জানতে চায় আমাদের কাছ থেকে তাহলে আমরা বিনা দ্বীধায় তাদেরকে যে কোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।

পিএসজি সেই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সম্পর্কে বলেছে, ‘ক্লাব চায় এই অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। পিএসজি তাদের সুনামের কোনো ক্ষতি হয় কোনো কিছুর সঙ্গে বিন্দু পরিমাণ বরদাস্ত করবে না। সর্বশেষ এটাও আমরা বলতে চাই, ক্লাব যে কোনো সময় যে কারও বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ারও ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। যদি ক্লাবের বিরুদ্ধে কেউ কখনও বাজে মন্তব্য করে কিংবা দুর্নাম ছড়াতে চায়।’

রেড স্টার বেলগ্রেডের পক্ষ থেকেও ফিক্সিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এল ইকুইপে পত্রিকার পক্ষ থেকে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ড্রাগন জাযিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সম্পূর্ণ বিষয়টা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম আমি এমন অভিযোগের কথা শুনলাম। সত্যিই আমি এ ধরনের কিছু শুনিনি। এটা কখনোই সম্ভব নয়। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

রেড স্টারের ডেপুটি মুখপাত্র নেবোজা তোদোরোভিক এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এ নিয়ে মন্তব্য করার আসলে কোনো রাস্তাই খোলা নেই আমার সামনে।’ এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল সার্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র মিলান ভুকোভিকের সঙ্গে। কিন্তু ফিক্সিংয়ের বিষয়ে একটি বক্তব্যও নেয়া সম্ভব হয়নি তার কাছ থেকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ড. কামাল দেখা দিলেন না বি. চৌধুরীকে, সন্ধ্যায় দুই পক্ষের সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক: ড. কামাল হোসেনের আমন্ত্রণে তার বাসায় এলেও দেখা না পেয়ে ফিরে গেছেন যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি. চৌধুরী)। শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে তারা বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় এলেও তিনি ওই সময় বাসায় ছিলেন না। এ ঘটনার পর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ভাঙনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ শনিবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছে উভয় পক্ষ। বি.চৌধুরীর পক্ষে বারিধারায় তার বাসভবনে এবং ড. কামালসহ বাকি নেতাদের পক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন দুটি অনুষ্ঠিত হবে।

ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসা থেকে ফিরে যাওয়ার সময় বি.চৌধুরীর ছেলে মাহী বি. চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ড. কামাল হোসেনের আমন্ত্রণে তার বাড়িতে এসেছিলাম। কিন্তু বাসার দরজা খোলেননি কেউ। বি. চৌধুরীর মতো একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে ডেকে এনে তার সঙ্গে দেখা না করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। এখন বোঝা যাচ্ছে যে ঐক্য কাদের কারণে হচ্ছে না, কেন হচ্ছে না?’
এদিকে, দুপুর থেকেই মতিঝিলে নিজের চেম্বারে ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
বাসায় বি.চৌধুরীকে ডেকে কেন দেখা করেননি সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গণফোরামের যুগ্ম সম্পাদক আ ও ম শফিকুল্লাহ জানান,‘ ড. কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে বি. চৌধুরীকে জানানো হয় তিনি (ড. কামাল) এখন মতিঝিলের অফিসে রয়েছেন, তিনি যেন সেখানে আসেন। কিন্তু, তারা মতিঝিলে না এসে বেইলি রোডে তার বাসায় গিয়েছেন। সেসময় তিনি বাসায় ছিলেন না।’

এদিকে ঐক্য প্রক্রিয়ার বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর থেকেই ড. কামাল হোসেন তার মতিঝিলের চেম্বারে দফায় দফায় বৈঠক করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন ঐক্য প্রত্যাশী নেতার সঙ্গে।
ঐক্য প্রক্রিয়ার একজন নেতা জানান, বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেখানে বিকাল তিনটার দিকে এসে সাড়ে তিনটায় বেরিয়ে যান। এরপর তিনি পাশেই ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের চেম্বারে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে বিকাল চারটার দিকে মির্জা ফখরুল আবার ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে প্রবেশ করেন।
এদিকে মাহী বি. চৌধুরী জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে আজ সন্ধ্যায় বারিধারায় বি.চৌধুরীর বাসভবনে বিকল্প ধারার পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে কথা বলবেন বিকল্পধারা সভাপতি ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান বি.চৌধুরী।
অন্যদিকে, জাতীয় প্রেস ক্লাবের তিন তলায় সন্ধ্যা ৬টায় পৃথক সংবাদ সম্মেলন করবে ঐক্য প্রক্রিয়ার বাকি নেতারা।
জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন এ তথ্য জানান।

উল্লেখ্য, সরকারবিরোধী বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের জন্য সমমনা দলগুলোর প্রতি ড. কামাল হোসেন সম্প্রতি আহ্বান জানালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার এসংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেন যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা সভাপতি বি.চৌধুরী। ওই অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির স্থায়ী কমিটির আরও কয়েকজন নেতাও ড. কামাল হোসেনের আহ্বানে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মূলত সেদিনই বোঝা যায় বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে এরপর বি. চৌধুরীর বাসায় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের এক বৈঠকে ডেকে বি. চৌধুরীর ছেলে মাহী বি. চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী কোনও দলের সঙ্গে তারা নির্বাচনকালীন ঐক্য গড়বে না। এক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বিএনপিকে এই জোটে আসতে হলে জামায়াতসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দলগুলোকে ছেড়েই আসতে হবে। একইসঙ্গে জোট গড়ার আগেই আসন ভাগাভাগি ও সরকার গঠন করলে কার কী ভূমিকা থাকবে তা স্পষ্ট করার দাবিও ছিল তাদের। তবে সেদিনের বৈঠকে উপস্থিত এক নেতার ফোন লন্ডনের একটি ফোনে সংযুক্ত রয়েছে মাহী বি. চৌধুরীর দেওয়া এমন খবরে তড়িঘড়ি বৈঠক শেষ করে দেন বি. চৌধুরী। তখন থেকে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার বিষয়টি নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়। এদিকে, ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে বিএনপিকে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে জোটভুক্ত দলগুলো। তখন পরবর্তীতে বিএনপি যা করবে জোটের সবার সঙ্গে কথা বলে করবে বলে তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর দুইবার বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার বিষয়ে জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ আজ শনিবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে ড. কামাল হোসেনের বাসায় বৃহত্তর ঐক্যের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও দুপুরে তা বাতিল করেন তিনি। আর বি.চৌধুরীর সঙ্গে বাসাতেই পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাতের কথা থাকলেও সেসময় মতিঝিলের অফিসে থাকায় তার বাসার দোরগোড়া থেকে ফিরে যান যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অবস্থার উন্নতি, দেশে ফিরছেন সাকিব

খেলার খবর: অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসা শেষ করে দেশে ফিরে আসছেন সাকিব আল হাসান। হাসপাতাল ছেড়ে এর আগে তিনি এক বন্ধুর বাসায় ওঠেন। এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর একদিন ছিলেন বন্ধুর বাসায়। আজ (১৩ অক্টোবর) তিনি রওয়ানা দেবেন দেশের উদ্দেশ্যে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল(১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় তাঁর ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে।

সুখবর হল, সাকিবের বাঁ-হাতের কনিষ্ঠায় ইনফেকশন কেটে গেছে অনেকটাই। তার অবস্থা এখন ভালোর দিকে। আপাতত বিশ্রামেই থাকবেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ধীরে ধীরে শুরু করবেন পূর্নবাসন প্রক্রিয়া। ব্যথা কমলে শুরু করবেন ব্যাটিং। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে মাঠে ফিরতে তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে।

এর আগে বাঁ হাতের কনিষ্ঠা থেকে যে পরিমাণ পুঁজ আর দূষিত রক্ত বের করা হয়েছে, তাতে শঙ্কিত ছিলেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। শঙ্কা ছিল আঙুলের সংক্রমণ আবার না হাড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তবে মেলাবোর্নের হাসপাতালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে আছে।

এরই মধ্যে সাকিবের ক্ষত আঙুলে চামড়া উঠতে শুরু করেছে। ক্ষত স্থানটিও শুকিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত উন্নতি হওয়ায় সাকিব নিজেও স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, তিন মাসের মধ্যে ব্যাট তোলা যাবে না। তিন মাসের মধ্যে আঙুলে কোনো ব্যথা অনুভব না করেন, তাহলে হয়তো আর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও হবে না। তবে যদি ব্যথা অনুভব করেন তাহলে অস্ত্রোপচার বাধ্যতামূলক। অস্ত্রোপচার করালে ছয় মাস মাঠের বাইরেও থাকতে হতে পারে তার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ব্রেক্সিটের কারণে এবার শুক্রাণু সংকটে পড়বে ব্রিটেন

অনলাইন ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি ছাড়া বের হয়ে এলে নানা ধরনের মূল্য দিতে হবে ব্রিটেনকে৷ ইইউ দেশগুলো থেকে বিদ্যমান আইন মেনে শুক্রাণু আমদানি করে থাকে দেশটি৷ তাই চুক্তি না হলে এক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে৷ খবর ডয়চে ভেলের।
ব্রিটেনে অনেক দম্পতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্ম দিতে অপরাগ৷ তাই কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হয় তাদের৷ এজন্য অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় শুক্রাণুর৷
চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ডেনমার্কের একটি বাণিজ্যিক স্পার্ম ব্যাঙ্ক থেকে ৩ হাজার শুক্রাণু আমদানি করেছিল ব্রিটেন৷ এছাড়া একই বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪ হাজার স্যাম্পল আমদানি করেছিল৷ ‘ক্রাইওস’ নামের বিশ্বের বৃহত্তম স্পার্ম ব্যাংকটি ডেনমার্কে৷
২০০৫ সালে এক আইনের কারণে বর্তমানে ব্রিটেনে স্পার্ম দিতে কোনো ডোনার আগ্রহী নয়৷ কেবল শুক্রাণু নয়, ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে ডিম্বাণু এবং ভ্রুণও আমদানি করে দেশটি৷ গত বছর অন্তত ৫০০ ডিম্বাণু এবং ভ্রুণ আমাদানি করেছে তারা৷ ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ব্রেক্সিট আলোচনা সফল না হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ‘ইইউ অর্গান ডাইরেক্টিভস অ্যান্ড ইউ টিস্যুস অ্যান্ড সেলস ডাইরেক্টিভস’ আইন কাজ করবে না৷ ফার্টিলিটি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে ব্রিটেনকে৷
হার্লে স্ট্রিট ফার্টিলিটি ক্লিনিকের পরিচালক গীতা ভেঙ্কট জানান, অনেক দম্পতি আতঙ্কে ভুগছেন৷ আইনে কোনো ধরনের পরিবর্তন হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করতে হবে এবং সেজন্য কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷ অথচ ডেনমার্ক থেকে বর্তমানে এটি আমদানি করতে মাত্র এক সপ্তাহ সময় লাগে৷
আগামী ১৮ অক্টোবরের বৈঠককেই ব্রেক্সিট নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর শেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে৷ ব্রেক্সিট চুক্তি হয়ে গেলে আগামী বছর ১ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে৷ চুক্তি হলে তা বাস্তবায়নের আগে ইইউ পার্লামেন্টের পাশাপাশি সব সদস্য দেশের পার্লামেন্ট ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তার অনুসমর্থন হতে হবে৷
ব্রেক্সিট নিয়ে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হচ্ছে যুক্তরাজ্যের অংশ হয়ে থাকা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার সীমান্ত কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন হবে৷

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের সাথে জিপির সাক্ষাৎ

 

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলামের সাথে নবনিযুক্ত জিপি এড. সরকার জামিনী কান্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের নিজস্ব বাসবভনে উপস্থিত হয়ে তিনি এ সাক্ষাৎ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা ও প্রবীন রাজনীতিবিদ আকবর আলী, জিপি সহকারী এবং শিবপুর ইউনিয়ন তাঁতীলীগের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। সাক্ষাৎকালে নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে সদয় প্রস্তুত থাকতে হবে। কোন ভাবেই যেন প্রভাবশালীরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাত করতে না পারে। সে বিষয়ে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন; সম্পাদক পরিষদের মানববন্ধন সোমবার

দেশের খবর: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত নয়টি ধারা সংশোধনের দাবিতে আগামী সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে সম্পাদক পরিষদ। মানববন্ধনে শুধু পরিষদের সদস্যরাই অংশ নেবেন।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি ঘোষণা করেন সম্পাদক পরিষদের সদস্য দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

এই কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল গত ২৯ সেপ্টেম্বর। সে সময় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এই কর্মসূচি স্থগিত করে সম্পাদক পরিষদকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর তথ্যমন্ত্রীসহ সরকারের তিন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ওই আলোচনায় তিন মন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে এ নিয়ে আরও আলোচনা করা হবে। কিন্তু গত দুটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শ্যামল দত্ত বলেন, তাঁরা মনে করেন, এটি প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ। সম্পাদক পরিষদ স্থগিত মানববন্ধনটি ১৫ অক্টোবর পালন করবে।

সম্পাদক পরিষদ বলছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারাগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সম্পাদক পরিষদ কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে এই ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা আইনটি বাতিল চাইনি। কতগুলো বিশেষ ধারার আমূল পরিবর্তন চেয়েছি। এই পরিবর্তন সম্ভব। আমরা আশা করব, ওই ধারাগুলো সংশোধন করে আইনটি সংশোধন করা হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest