সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ: সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলাআদালতে মামলা করার ৭ মাস পর সাতক্ষীরার ফিংড়িতে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগদেবহাটায় ৩০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারসাতক্ষীরা প্রি-ক্যাডেট স্কুলে বিজ্ঞান মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিতবাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চরিত্রহনন ও ইয়েলো জার্নালিজম নিয়ন্ত্রণও জরুরি: সাতক্ষীরায় আইনমন্ত্রীআইনমন্ত্রীর সাথে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নেতৃত্বের সৌজন্য সাক্ষাৎতালায় বিএনপি নেতার বসতবাড়িতে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাট: সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনদেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১০ বোতল কেরেক্সসহ মাদক ব্যবসায়ী আটকজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ: থানায় জিডি

দেবহাটার হান্নান অভিনীত ছবি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়ন আঃলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট যাত্রা অভিনেতা নায়ক আব্দুল হান্নান অভিনীত সামাজিক যাত্রাপালা নিয়তি কাদছে ভাগ্যের কারাগারে শুক্রবার জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে সন্ধ্যা ৭ টায় অনুষ্ঠিত হবে। ভোমরার মাস্টার শফিকুল ইসলামের রচনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত যাত্রাপালায় নায়কের অভিনয় করবেন আব্দুল হান্নান। এছাড়া আরো অভিনয় করবেন বকুল, সুকুমার, মনা, গোবিন্দ, দেবব্রত, অমিত, তরিকুল, পবিত্র, শহিদুল, মাখন, মনোরমা, শেফালী ও কল্পনা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি থাকবেন যথাক্রমে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মহসীন আলী ও সাতক্ষীরা জেলা আঃলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আহমেদ। উক্ত সামাজিক যাত্রাপালায় সকলকে উপস্থিত হতে আব্দুল হান্নান অনুরোধ করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে গ্রাম পুলিশদেরকে ওসির নির্দেশনা

কে.এম রেজাউল করিম, দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটায় আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে গ্রাম পুলিশদেরকে দেবহাটা থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলী বৃহষ্পতিবার দুপুর ১ টার দিকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। থানা অভ্যন্তরে উপজেলার সকল ইউনিয়নের চৌকিদার ও দফাদারদেরকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব আসন্ন দূর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ন ও নির্বিঘেœ করার লক্ষ্যে গ্রাম পুলিশরা যাতে তাদের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করে সে লক্ষ্যে ওসি সৈয়দ মান্নান আলী তাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নাশকতা, সন্ত্রাস সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড বন্ধ করতে এবং প্রতিরোধ করতে তিনি গ্রাম পুলিশদের নির্দেশনা দেন। ওসি সৈয়দ মান্নান আলী এসময় বলেন, এলাকার মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেজন্য পুলিশ সদা তৎপর। কেউ যদি এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করার অভিপ্রায় চালায় সেটা পুলিশ কঠোর হস্তে দমনে তৎপর। নাশকতাকারী ও সন্ত্রাসীদের কোন ছাড় নেই উল্লেখ করে ওসি জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু বিশৃঙ্খলাকারী অপচেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের সে তৎপরতা কিছুতেই সফল হবেনা। সকল প্রকারের অপরাধমূলক কর্মকান্ড বন্ধ রাখতে পুলিশ সর্বদা কাজ করছে এবং এটা অব্যাহত থাকবে। এসময় দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) উজ্জ্বল কুমার মৈত্র, সেকেন্ড অফিসার এসআই ইয়ামিন আলী, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব আর.কে.বাপ্পা, সাংবাদিক কে.এম রেজাউল করিম, এএসআই মাছুম বিল্লাহ, সহ থানার বিভিন্ন অফিসারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশ এখন পিছিয়ে পড়া প্রতিবেশী নয় : ভারতীয় মিডিয়া

বিশেষ ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার পাওয়ারহাউস খ্যাত দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশের তকমা এখন ভারতের। তবে বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে থাকা ভারত খুব শিগগিরই প্রতিবেশী বাংলাদেশের কাছে এই তকমা হারাতে যাচ্ছে। সামাজিক বিভিন্ন সূচকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পেছনে ফেলেছে ভারতকে। ছোট প্রতিবেশী বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তেও রয়েছে।

এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) তথ্য বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। এই সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

একই সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ভারতের মাথাপিছু আয়ের গতির প্রায় তিনগুণ। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভারতের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ, বাংলাদেশের বেড়েছে ৩৯ শতাংশ।

বেশ কিছু পূর্বাভাস বলছে, আগামী দুই বছর যদি স্থুল জাতীয় আয় (জিএনআই) ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির বর্তমান গতি ধরে রাখতে পারে বাংলাদেশ, তাহলে ২০২০ সালের মধ্যে মোট মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে দেশটি।

এক দীর্ঘযাত্রা

পাকিস্তানের দারিদ্রপীড়িত একটি অঞ্চল থেকে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার মাইনাস ১৪ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছিল। দুই বছর পর বাংলাদেশ ৯ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হারের সাথে এগিয়ে চলছিল। কিন্তু এই সময়ে এক প্রলয়ঙ্করী দুর্ভিক্ষে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ফলে আবারো মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার মাঝে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয় মাইনাস ৪ শতাংশ।
দুর্ভিক্ষের পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তায় পুনরায় দেশের উন্নয়ন কাজ শুরু করে সরকার। এনজিওগুলোও উন্নয়নকাজে সহায়তায় এগিয়ে আসে। ১৯৭০ সালে উচ্চ-ফলনশীন ধান ও গম চাষ শুরুর মাধ্যমে দেশের কৃষি প্রবৃদ্ধিতে বিপ্লব ঘটে।

বাংলাদেশের আজকের যে শক্ত অবস্থান এর পেছনে ১৯৮০ সালের গোড়ার দিকে শুরু হওয়া ক্ষুদ্র-ঋণ ব্যবস্থার অবদান রয়েছে। এই ক্ষুদ্র-ঋণ পরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নে সরকার শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) অর্থনীতিবিদ ও জ্যেষ্ঠ ফেলো জয়শ্রী সেনগুপ্ত বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।

এছাড়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানি আয়ও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভারতের মতো শ্রমশক্তিপূর্ণ একটি দেশ বাংলাদেশ; তবে ভারতের মতো কঠোর শ্রম আইন নেই।

১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার আগে ভারত শিল্প বিরোধ আইন পাস করে। কিন্তু বাংলাদেশ যখন পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয় তখন দেশটিতে এধরনের কোনো আইন ছিল না। আর এটিই সস্তা শ্রম ও বর্ধনশীল উৎপাদন ঘাঁটি হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী চালিকাশক্তিগুলোর একটি পোশাক শিল্প। ১৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষের ২.৭ শতাংশ (৪৪ লাখ) এই খাতের কর্মে নিয়োজিত; এর ৭০ শতাংশই (৩০ লাখ) নারী। সস্তা শ্রমশক্তির সহজলভ্যতার কারণে বাংলাদেশে বৈশ্বিক বিনিয়োগও বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজকের ভারত

ভারতে তেলের উচ্চমূল্য, দুর্বল রফতানি ও রূপির অবমূল্যায়নের ফলে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবাহকে ধীরগতি করে তুলেছে। চলতি সপ্তাহে রূপির দাম এ বছরের সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে নেমে এসেছে। ডলারের বিপরীতে রূপির দাম রেকর্ড ৭৪ এ নেমে এসেছে সোমবার।

এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তা অভিজিত সেন গুপ্ত বলেন, আমরা চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ৮ দশমিক ২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দেখেছি এবং এতে মূলত গত বছরের অর্থনৈতিক প্রভাব ছিল। তবে পরবর্তীতে আমরা এই প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হতে দেখেছি।

সেন গুপ্তের মতে, ভারত যদি তার প্রতিবেশীর অর্থনীতির সঙ্গে টেক্কা দিতে চায় তাহলে অবকাঠামো, উৎপাদন, সেবা ও রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে মনযোগ দেয়া উচিত। কেননা এসব খাতে কর্মসংস্থান তৈরির অবস্থা সঙ্কটজনক। তিনি বলেন, বিনিয়োগের পাশাপাশি রফতানি বৃদ্ধির জন্য উচ্চ প্রবৃদ্ধির হার ধরে রাখতে হবে।

সামাজিক অগ্রগতি

আয়ু বৃদ্ধি, শিশু মৃত্যুর হার এবং লিঙ্গ সমতার মতো সামাজিক উন্নয়ন সূচকের অগ্রগতির জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। মেডিক্যাল জার্নাল দ্য ল্যান্সেটের প্রকাশিত মানব সম্পদ সূচকে বাংলাদেশের নিচে অবস্থান করছে ভারত। ১৯৯০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মানুষের শিক্ষার হার ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর ভিত্তি করে এই সূচক তৈরি করেছে ল্যান্সেট।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে শিশু মৃত্যুর হার বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের বেশি। গত বছর বাংলাদেশে ১০০০ হাজার শিশুর জন্মের প্রথম এক বছরের মধ্যে মারা গেছে মাত্র ২৭ জন। কিন্তু ভারতে এই হার ৩২। বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২.৫৮ বছরে। অন্যদিকে, ভারতে মানুষের গড় আয়ু ৬৮.৮ বছর।

বাংলাদেশের অগ্রগতির নেপথ্যে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের এসব অগ্রগতির নেপথ্যে রয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক এবং ব্র্যাকের মতো বেসরকারি সংস্থার নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ। ক্ষুদ্র-ঋণের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত গ্রামীণ ব্যাংক। এর প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। বিশ্বের শতাধিক ব্যাংকটি তাদের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে; যা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।

দারিদ্র দূরীকরণে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বল্পসুদে ঋণ-দান করে এই ব্যাংক; যারা প্রথাগত অন্যান্য ব্যাংক থেকে এই ঋণ পান না। ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য বলছে, প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহককে স্বল্পসুদে সমবায়ের ভিত্তিতে ঋণ দিয়েছে; এই ঋণগ্রহীতাদের ৯৭ শতাংশই নারী।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারী ডিজিটাল লেনদেন করেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় এই লেনদেনের গড় হার ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের ব্যয় ভারতের চেয়ে কম হলেও দেশটির সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়ায় শিক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নে অনেক এগিয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার দেশটিতে বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। ৪ থেকে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি, বিধবা ও বয়স্ক নারীদের জন্য ভাতা ব্যবস্থার মাধ্যমে শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা তৈরি করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মজীবীদের ৭০ শতাংশ এবং মৎস্য চাষীদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি নারী।

উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের লিঙ্গ সমতা সূচকে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে শীর্ষে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের লিঙ্গ বৈষম্য সূচকে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভারতের (১৫তম) চেয়ে আট ধাপ এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ (৭ম)। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে ৫০টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত; যা মোট আসনের প্রায় ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ভারতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে ৫৪৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধি রয়েছে ৬২ জন। সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রেখে এখনো আইন পাসই হয়নি দেশটিতে।

উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. এ কে শিব কুমার বলেন, বাংলাদেশের উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য টেকসই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে।

২০১৭ সালের মধ্যে প্রায় শতভাগ স্যানিটারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ প্রশংসিত হয়েছে। ভারত এই সময়ে সবে মাত্র স্বচ্ছ ভারত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০১৫ সালে মধ্যে খোলা আকাশের নিচে মলমূত্র ত্যাগ ৪২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে কমিয়ে এনেছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে, খোলা আকাশের নিচে মলমূত্র ত্যাগ ঠেকাতে ২০১৪ সালের শুরুতে নরেন্দ্র মোদির সরকার ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’ প্রকল্প চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় চলতি অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের ৭৬ শতাংশ গ্রামকে উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগমুক্ত ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশে ১৯৯৯ সালে চালু হওয়া কমিউনিটিভিত্তিক শতভাগ স্যানিটেশন মডেলকে অনুকরণ করে স্বচ্ছ ভারত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ভারত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাংবাদিকরাই পারে মানবিকতাকে জাগিয়ে তুলতে-সাতক্ষীরার নবাগত ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর পরেই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল সাংবাদিকদের। সাংবাদিকরাই পারে মানবিকতাকে জাগিয়ে তুলতে। দেশ স্বাধীনের সময় পাকিস্তানের অপপ্রচারকে রুখে দিয়েছিল সাংবাদিকরাই। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সেই সব ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশায় যারা নতুন আসছে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে আরো বেশি দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে দেশ,জাতি ও জাতির ইতিহাস গঠনে তারা বলিষ্ট ভূমিকা রাখতে পারবে।
সাতক্ষীরায় “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা : ঝুকি চিহ্নিতকরন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রনয়ন ও দায়মুক্তি” বিষয়ক পাঁচ দিনের সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শহীদ স.ম আলাউদ্দিন মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নিউজ নেটওয়ার্কের আয়োজনে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় গত ৭ অক্টোবর রোববার সকালে উক্ত কর্মশালাটির উদ্বোধন করা হয়েছিল।
নিউজ নেটওয়ার্কের সম্পাদক শহীদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নিউজ নেটওয়ার্কের সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়কারী এটিএন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার, ভয়েস অব সাতক্ষীরার সম্পাদক এম কামরুজ্জামান।
কর্মশালায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ঝুকি চিহ্নিতকরন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রনয়ণ ও দায়মুক্তি, সাংবাদিকদের নৈতিকতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য, সাংবাদিকদের মৌলিক মূল্যবোধ ও তাদের সুরক্ষাসহ নানা বিষয় নিয়ে পাঁচদিন ব্যাপী এই কর্মশালায় বিস্তর আলোচনা করা হয়।
প্রথম পর্বের এই সাংবাদিক কর্মশালায় সাতক্ষীরায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার ২৫ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
সমপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন।
প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে নিউজ নেটওয়ার্কের “ সাপোটিং হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ওয়ার্কিং ফর উমেনস অ্যান্ড গার্লস রাইটস ইন বাংলাদেশ ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরাতে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। নিউজ নেটওয়ার্ক আগামী তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ করে নারী ও বালিকাদের মানবাধিকার রক্ষায় স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, সব ধর্মের ধর্মীয় নেতা, এনজিও ও সিভিল সোসাইটির নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে বিভিন্ন সময়ে মতবিনিময় সভা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেশের ৪১ ভাগ পানিতে ডায়রিয়া ও জন্ডিসের জীবাণু

দেশের খবর: বাংলাদেশে ব্যবহার করা ৪১ ভাগ পানিতে ই. কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ কারণে ডায়েরিয়া, জন্ডিস ও কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানী সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি ও দারিদ্র্য সংক্রান্ত’ বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর শিরিন ঝুমা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রুখসানা কাদের উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পাইপলাইনে সরবরাহ করা পানি, পুকুরের পানি, কুয়া ও টিউবওয়েলসহ সব ধরনের পানিতে এই ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। এ কারণে নানা রোগ হচ্ছে।

এছাড়াও বাংলাদেশের পানিতে আর্সেনিক ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পানিতে ই. কোলাই ব্যাক্টেরিয়া থাকায় এবং স্যানিটেশন সমস্যার কারণে এক-পঞ্চমাংশ দরিদ্র মানুষ পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দরিদ্র, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, শহর ও গ্রামের সবাই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে শহরের বস্তিতে বাস করা লোকজন আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যায় বেশি।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এখন ৯৮ শতাংশ মানুষের কাছে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু প্রধান সমস্যা হলো সবার কাছে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, সেটি সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানানো হয়েছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের পাঁচ কোটি মানুষ টয়লেট শেয়ার করেন। অর্থাৎ একাধিক পরিবারের লোকজন একটি টয়লেট ব্যবহার করেন। এ সংখ্যা গ্রামে যেমন রয়েছে, তেমনি শহরেও রয়েছে। তবে শহরের বস্তি এলাকায় টয়লেট শেয়ারের সংখ্যা গ্রাম এলাকার লোকজনের তুলনায় তিনগুণ বেশি। ফলে এসব লোকজন নানা প্রকার রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানির ১৩ শতাংশে আর্সেনিক রয়েছে। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে এ আর্সেনিকের সংখ্যা বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পানিতে আর্সেনিকের সংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশে দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে। তাই দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি জরুরি নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর শিরিন ঝুমা বলেন, স্যানিটেশন ও পানিজনিত সমস্যার কারণে বাংলাদেশের অনেক শিশু যথাযথভাবে বিকশিত হচ্ছে না। পাঁচ বছর বয়সের নিচের শিশুরা সবচেয়ে বেশি পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এ জন্য বিশ্বব্যাংক সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এড. আব্দুর রহমানের ৫৯তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমানের ৫৯তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা বিনেরপোতায় অবস্থিত এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাসের ৩য় তলায় এই আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আব্দুল মজিদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডা: মালিকা পারভিন। প্রধান অথিতির বক্তব্যে ডা: মালিকা পারভিন ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী। তিনি সারা জীবনের মানুষের কল্যানে কাজ করে গেছেন। তার জীবনী হতে পারে আমাদের জন্য অনুসরণীয়। তিনি ছাত্র ছাত্রীদের জীবনে এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমানের আদর্শকে দারণ করার কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মো: মাহাফিজুর রহমান আলমগীর, অব্দুল হোসেন,মো: আব্দুর রহমান, ইজ্ঞি: ফিরোজ রহমান, সহকারী অধ্যাপক পাল শুভাশীয, প্রভাষক শেখ আবু সাঈদ, প্রভাষক মো: জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমানের স্মরণে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালা করেন হযরত মাওলানা আব্দুল কাদের। দোয়া ও মোনাজাত শেষে সকলের মাঝে তাবারক বিতরণ করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দর্শন বিভাগের প্রভাষক সুশান্ত কুমার মন্ডল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেষ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার বৈঠক স্থগিত

রাজনীতির খবর: ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তুলতে নিজেদের অভিন্ন দাবিদাওয়া এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করতে ফের বৈঠকে বসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করেছেন বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতারা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৭টায় এ বৈঠকটি প্রথমে বিশিষ্ট আইনজীবী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও গণফেরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বেইলী রোডের বাসায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তিনি অসুস্থ থাকায় তা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় স্থানান্তর করা হয়। রাত ৯টায় আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে তা স্থগিত করা হয়।

দু’দফায় স্থান নির্ধারণ করেও শেষ মুহূর্তে এসে কেন বৈঠকটি স্থগিত করা হলো সে বিষয়ে যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা কিছু বলতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন বৃহস্পতিবার বলেন, সন্ধ্যায় ড. কামাল হোসেনের বাসায় তিন পক্ষের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তিনি অসুস্থ থাকায় এটি রাত ৯টায় আ স ম আবদুর রবের বাসায় স্থানান্তর করা হয়। পরে এই বৈঠকটি স্থগিত করা হয়।

কেন স্থগিত করা হলো- এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘এত কিছু বলতে পারব না। শুধু এটুকু জানি বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। সুবিধাজনক সময়ে আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দিন-তারিখ-স্থান ঠিক হলে তখন মিডিয়াকে জানানো হবে’।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তফ্রন্টের এক নেতা বলেন, আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠকে বসার আগে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের কাছে খবর আসে যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ভূমিকাপালনকারী বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বাসভবন পুলিশ ঘিরে রেখেছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, কী ঘটতে যাচ্ছে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ভাগ্যে- তা বোঝার জন্য শেষ মুহূর্তে এসে তিন পক্ষের নেতারা বৈঠকটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র জানায়, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে যাওয়ার আগে বিএনপির সঙ্গে আন্দোলন, আসন ভাগাভাগি ও নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশ পরিচালনার বিষয়টির চূড়ান্ত ফয়সালা করতে চান যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। এ লক্ষ্যে তিন পক্ষ আলাদা আলাদাভাবে দাবি এবং লক্ষগুলোর একটি প্রাথমিক খসড়াও তৈরি করে। এখন এসব দাবিদাওয়া এবং লক্ষ্যগুলো সমন্বয় করার কাজ চলছে। প্রাথমিকভবে সাত দফা দাবি এবং ১১ দফা লক্ষ্য ঠিক হয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত হলেই আন্দোলনে নামবে বিএনপি-যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। এছাড়াও তিনপক্ষ মিলে যে জোট হচ্ছে, সেই জোটের নাম কী হবে, সেটাও চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু বৈঠক বাতিল হওয়ায় বিষয়টি ঝুলে গেল নতুন করে।

এছাড়া বিএনপি-যুক্তফ্রন্ট-ঐক্যজোটের নেতাদের মধ্যেও মতের অমিল এবং সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র। বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় ঐক্যপ্রক্রিয়ার বৈঠকের আগের দিন অর্থাৎ বুধবার যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা, বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান পরবর্তী বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। বৈঠকে অংশ নেয়া থেকে পিছিয়ে যান সাবেক রাষ্ট্রপতি, যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীও। এ অবস্থায় আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে এই বৈঠকও স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে কোনো পক্ষই মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তফ্রন্টের এক নেতা জানান, ড. কামাল হোসেনসহ তিন পক্ষের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকটি হতে আরও সময় লাগতে পারে। এর আগেই দাবি ও লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে। এরই মধ্যে খসড়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বিএনপির সঙ্গে আসন্ন জোটের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’। সাত দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে। যদিও যুক্তফ্রন্টের আরেক শীর্ষ নেতার মতে, নাম ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’ও হতে পারে। তবে সবকিছুই চূড়ান্ত হবে শীর্ষনেতাদের বৈঠকে।

প্রাথমিকভাবে যেসব দাবিকে সামনে রেখে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।

যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা ও নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব কালো আইন বাতিল করতে হবে। নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনো ধরনের মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

প্রাথমিকভাবে যেসব লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা। সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনাসহ প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ ও ন্যায়পাল নিয়োগ করা। ৭০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের সংশোধন করা। সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, সৎ-যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দানের জন্য ‘সাংবিধানিক কমিশন’ গঠন করা।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন করা। দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা। সব নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চয়তার বিধান করা। কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা। নারীর সমতা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।

জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করা। রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনগণের আর্থিক স্বচ্ছতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত, জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বণ্টন ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

নিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবনমান নিশ্চিত করা এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন-মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল ও কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়া। ‘সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’- এই নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সৎ প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নেয়া।

বিশ্বের সব নিপীড়িতদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সংগ্রামের প্রতি পূর্ণসমর্থন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফেরত ও পুনর্বাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা। একইসঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণ দেয়া। প্রযুক্তি ও সমর-সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক ট্যাংক-লরী, ট্রাক্টর ও কাভার্ট ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘সড়ক পরিবহন শ্রমিক আইন ২০১৮’ এর ৮ টি ধারা সংশোধনের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার নারকেলতলা মোড়ে ‘জেলা ট্রাক ট্যাংক-লরী, ট্রাক্টর ও কাভার্ট ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন নারিকেলতলা (রেজিঃ ৭৬৪)’ এ কর্মসূচির আয়োজন করে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক ইউনিয়নটির সভাপতি মো. আব্দুর রকিব। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’র শ্রমিক স্বার্থ পরিপন্থী ধারাগুলি বাতিল করতে হবে। নতুন এ শ্রমিক আইনে শ্রমিক স্বার্থে অনেক ধারা সংযোজিত হলেও এমন কিছু ধারা আছে যা সড়ক পরিবহন শ্রমিকের জীবন-জীবিকাকে চরমভাবে জটিল করে তুলবে। যা মেনে নেওয়া কোন ভাবেই আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই আমাদের দাবি শ্রমিক স্বার্থ পরিপন্থী সকল ধারার সংশোধন করতে হবে।’ মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের কাদু, সহ সাধারণ সম্পাদক, শেখ জাকির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মো. আশারাফুজ্জামান ময়না, দপ্তর সম্পাদক মো. সেলিম আহম্মেদ প্রমুখ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সদস্য কবিরুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল কাদের, আবু সিদ্দিক, আক্তার হোসেন, আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, শহিদুল ইসলাম, আয়ুব আলী, বাবুল প্রমুখ।
শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের কাদু বলেন, ‘শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের একমাত্র হাতিয়ার হলো সংগ্রাম। আমাদের জীবন-জীবিকার প্রশ্নে আমরা সেই অস্ত্র প্রয়োগ করছি। আপনারা জানেন মে দিবসে শ্রমিকরা বুকের তাজা রক্ত ঝরিয়ে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছে। প্রয়োজন হলে অধিকার আদায়ে আমরাও রক্ত দেব। আমরা জানি সমাজের প্রয়োজনে আইনের পরিবর্তন আসে, আইনের প্রয়োজনে সমাজের পরিবর্তন আসে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি সড়ক-পরিবহন আইনের যে ধারাগুলি শ্রমিক স্বার্থের বিরোধী সেগুলো অবিলম্বে সংশোধন করুন।’ ইউনিয়নের সহ-সাধারণ শেখ জাকির হোসেন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখে জামিনের ব্যাবস্থা করতে হবে। কারণ কেউ ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা সৃষ্টি করে না। শ্রমিকের দ- ৫ লক্ষ টাকার পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে করতে হবে। সড়কে কাগজ-পত্র চেকিং এর নামে পুলিশি হয়রাণী বন্ধ করতে হবে।’ মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন মো. আশারাফ আলী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest