সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় মাদক এবং মাদক বিক্রির অবৈধ টাকাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারতালায় বাস মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিতআশাশুনিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলার তদন্তে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারদেবহাটায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের মতবিনিময়৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়াসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভাতালা থেকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ পাইকগাছায় উদ্ধারসাতক্ষীরা জেলা এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর এসোসিয়েশনের সভাসাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইড কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময়

ড. গোপালকে মাধবকাটি সাহিত্য পরিষদের সংবর্ধনা

জি.এম আবুল হোসাইন : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা কলেজের উপাধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র সরদারকে পি.এইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

মাধবকাটি সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি কবি ও নাট্যকার ডা. মো. সামছুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বেতারের কবি ও নাট্যকার বিশ্বজিৎ ঘোষ। সিকান্দার আবু জাফর সম্পর্কে ড. গোপাল চন্দ্র সরদারের লেখার উপরে আলোচনা করেন, বিশিষ্ট কথাশিল্পী মো. আমিনুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন, তালা সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ ও পঙ্কজ সাহিত্য মজলিসের সভাপতি প্রফেসর মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. খলিলুর রহমান সানা, সাংবাদিক প্রভাষক অহিদুজ্জামান লাভলু, মাষ্টার মফিজুর রহমান, জুলফিকার আলী প্রমুখ।

গোপাল চন্দ্র সরদার “লোক ধর্ম ও মতুয়া সম্প্রদায়” নামে একটি সমাজতাত্বিক সমীক্ষা শীর্ষক অভিসন্দর্ভের উপর ২০১৮ সনের ২৯ জুলাই তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এক আদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধীনে ড. নেহাল করিমের তত্তাবধানে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ‘সমাজ বিক্ষণ গবেষনা’ পত্রিকা নিয়মিত সম্পাদনা করে আসছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ড. কামাল, বি. চৌধুরী, রব, কাদের সিদ্দিকী ও মান্নাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্যাটায়ার

রাজনীতির খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বরাবরই ভিন্ন আমেজ লক্ষ করা যায়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কথার জাদুতে অতিথিদের যেমন হাসান, তেমনি হাসেন নিজেও। রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।

এদিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারবিরোধী জোটের পাঁচ নেতাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন। তার মন্তব্যে উপস্থিতি অতিথিদের তিনি হাসিয়েছেন, হেসেছেন নিজেও। এই পাঁচ নেতা হলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী বিএনপি থেকে বের হয়ে বিকল্পধারা নামে দল গঠন করলেন। এখন সেই দল স্বকল্পধারা হয়ে গেছে। একসময় তার বাবা কফিলউদ্দিন সাহেব ৫৬ সালে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের ক্যাবিনেটে একসঙ্গে ছিলেন। আমার আব্বাও ছিলেন। তিনি একসময় আমাদের খুবই ঘনিষ্ঠ। স্বাধীনতার পরপর আপনার ডাক্তার প্রোগ্রাম টিভিতে হতো, এটা বঙ্গবন্ধু তাকে করতে বলেছিলেন। সেখান থেকে তিনি খুব ভালো জনপ্রিয়তা পান। পঁচাত্তরের পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপি করতে যান। খালেদা জিয়াও তো তাকে সম্মান দেননি। তাকে বঙ্গভবন থেকে বের করে রেললাইনেরও ওপর দৌড় দেখালেন। তার ভাগ্যে সেটাই জুটলো।’

ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী আছেন, তিনি বলেছেন আদৌ নির্বাচন হবে কিনা? ড. কামাল হোসেন যে প্রশ্নটা করেছেন, সেখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে, তিনি নিজে আদৌ নির্বাচন চান কিনা? ড. কামালের সঙ্গে যারা এক হয়েছেন, তারা আদৌ নির্বাচন চান কিনা? এখানেই আমার প্রশ্ন। কারণ বাংলাদেশে তো একটা শ্রেণি বসেই থাকে, তারা মনে করে কোনও অসাংবিধানিক, অনির্বাচিত কিছু যদি ক্ষমতা দখল করতে পারে, তাহলে তারা একটা পতাকা পেতে পারে। তাদের একটু গুরুত্ব বাড়ে। আনকনটেস্টের কথা যিনি বলছেন, তিনি তো আনকনটেস্টে জিতে এসেছিলেন। জাতির পিতা একটি সিট তার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। সেই আসনে তিনি নির্বাচন করলেন। সেখানে আর কেউ নমিনেশন পেপার সাবমিট করেননি। তিনি নিজেও আনকনটেস্টেড। সেই আনকনটেস্টেড এমপি, যিনি নিজেকে সংবিধান প্রণেতাও বলেন, এখন দেখি তিনি সেই সংবিধানও মানতে চান না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারপরও সাধুবাদ জানাই, তারা কয়েকজন—ড. কামাল হোসেন, বদরুদ্দৌজা, তারপর আমাদের মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আবদুর রব। তারপর কাদের সিদ্দিকীও বসতেছেন। তারা সবাই মিলে একটা জোট করছেন। এটা ভালো। কারণ বাংলাদেশে তো পার্টি হচ্ছে দুটি। একটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ আরেকটি এন্টি অওয়ামী লীগ। তো আওয়ামী লীগবিরোধীদের তো একটা জায়গা লাগবে যাওয়ার। এজন্য তারা যে ঐক্য করছে, তাকে আমি সাধুবাদ জানাই। এই ঐক্যটা থাক। ভালো হোক। আমিও জিজ্ঞাসা করেছিলাম, রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত যে মিটিংটা হয়েছে নিশ্চয়ই ভালো খানাপিনা হয়েছে। মেনুটা কী ছিলো? এটা তো আপনারা কেউ লিখতে পারলেন না, বলতে পারলেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘‘একটা ঐক্য হচ্ছে ভালো। আর একটা বিষয় আপনারা জানেন যে, ড. কামাল হোসেনের পকেটে সবসময় টিকিট থাকে। আর তিনি যদি খুব গরম বক্তব্য দেন যে, ‘এখন থেকে সব কাজ বন্ধ’, তখন ধরে নেবেন যে তার প্লেন রেডি। বাক্সটা গাড়িতে। তিনি আমাদের সঙ্গে যখন ছিলেন আমরা দেখেছি তাকে।’’

কাদের সিদ্দিকী সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনিও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ৯৬ সালের পার্লামেন্টে হঠাৎ তার মাথায় কে কী ঢুকালো জানি না। এই মাকাল ফলটা তাকে কে দেখালো, আমরা জানি না। তিনি রিজাইন করে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে এলেন যে, আওয়ামী লীগের এমপিরা তাকে ভোট দেবেন। বিএনপির এমপিরা তাকে ভোট দেবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেই আশা নিয়ে পদত্যাগ করলেন। কিন্তু নির্বাচন করে আর জিতে আসতে পারলেন না।’

জাসদ একাংশের সভাপতি আ স ম রব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন অনেকেই তাকে বলতেন, ‘অসময়ে নীরব, সময়ে সরব, তার নাম আসম রব’। অবশ্য তিনি ছাত্রলীগও করেছেন। তিনি এখন সরব হচ্ছেন খুবই ভালো কথা।’’

সরকারবিরোধী জোটের আরেক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মান্নাও আমাদের দলে ছিলো। সে ভালো লিখতো। তবে বেশিরভাগ সময়ই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লিখতো। পরে আমাদের দলে যোগ দিলে আমাদের পক্ষে লিখতে তাকে বলা হয়। পক্ষে লিখতে বললে মান্না জুড়ে দেয় কান্না।’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ‘বে অব বেঙ্গল ইনেশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশ’ (বিমসটেক) সম্মেলনে যোগ দিতে দুদিনের সরকারি সফরে নেপাল যান। শুক্রবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দেশে ফেরেন তিনি।তার এই সফর নিয়ে রবিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার সারাদেশে বৃষ্টি

দেশের খবর: বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সারাদেশেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান।

রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এছাড়া রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৮ মিলিমিটার, রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৫৪ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৩ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৮ মিলিমিটার, সিলেটে ২ মিলিমিটার, রংপুর ও বরিশালে ১ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ঢাকায় সন্ধ্যার পর থেকে গুঁ‍ড়ি গুঁ‍ড়ি বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। আর বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে এসেছে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এ সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। আর বর্ধিত পাঁচদিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়, এই সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতের বিপক্ষে দারুণ জয়ে সিরিজ জিতলো ইংল্যান্ড

খেলার খবর: বিরাট কোহলি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আবারও। প্রতিরোধ গড়েছিলেন অজিঙ্কা রাহানে। কিন্তু এই দুজনের লড়াই শেষ হতেই যেন শেষ ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দম। মইন আলির স্পিন ভেঙে দিল প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড। সঙ্গত ধরলেন পেসাররাও। দুর্দান্ত এক জয়ে ইংল্যান্ড নিশ্চিত করল সিরিজ জয়ও।

সাউথ্যাম্পটন টেস্টে ভারতকে ৬০ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চারটি শেষেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে জিতে নিয়েছে সিরিজও।

টেস্টের চতুর্থ দিনে রোববার জয়ের জন্য ভারতকে ২৪৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল ইংলিশরা। কোহলিরা থমকে যান ১৮৪ রানেই।

ভারতের এই রানেও শতরানের জুটি গড়েছেন কোহলি ও রাহানে। কিন্তু বাকিরা হতাশ করেছেন দলকে।

ইংল্যান্ড দিন শুরু করেছিল দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৬০ রান নিয়ে। শেষ দুই উইকেটে যোগ করতে পারে তারা আর কেবল ১১ রান।

শুরুতেই স্টুয়ার্ট ব্রডকে ফিরিয়ে মোহাম্মদ শামি ধরেন চতুর্থ শিকার। ৪৬ রানে স্যাম কারানের রান আউটে শেষ হয় ইনিংস।

লক্ষ্য আড়াইশর নিচে। কিন্তু উইকেটের অবস্থা আর শেষ ইনিংসের চাপ মিলিয়ে কাজটা ছিল কঠিন। সেটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভারতের রান তাড়ার শুরুতেই। ইংলিশদের দারুণ বোলিংয়ে এলোমেলো হয়ে যায় টপ অর্ডার।

স্টুয়ার্ট ব্রডের নিচু হওয়া বলে শূন্য রানেই বোল্ড ওপেনার লোকেশ রাহুল। জেমস অ্যান্ডারসনের দারুণ ডেলিভারি ফেরায় প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান চেতেশ্বর পুজারাকে। আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ানও অ্যান্ডারসনের শিকার। ভারতের রান তখন ৩ উইকেটে ২২।
সেই বিপর্যয় থেকেই দারুণ ব্যাটিংয়ে জয়ের আশা জাগান কোহলি ও রাহানে। জুটির শুরুতে দুজনই বেশ ভুগেছেন। তবে হাল না ছেড়ে লড়াই করেছেন। সময়ের সঙ্গে নিয়েছেন নিয়ন্ত্রণ। ভারত তখন ছিল জয়ের পথে। জুটির রান ছাড়িয়ে যায় একশ। কোহলি পেরিয়ে যান সিরিজে ৫০০ রান। প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে স্পর্শ করেন ৪ হাজার টেস্ট রানও।দৃশপটে মইনের আবির্ভাব তখনই। ইংল্যান্ড ও জয়ের মাঝে সবচেয়ে শক্ত দেয়াল হয়ে থাকা কোহলিকে ফেরান ৫৮ রানে। ইংলিশদের উল্লাস বলে দিচ্ছিল, তাদের জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে ওই উইকেটেই।

সময়ে সেটিই সত্যি প্রমাণ হয়। ১৫৯ বলে মাত্র ১ চারে ৫১ রানের ইনিংস খেলা রাহানের প্রতিরোধও ভাঙেন মইন।

প্রথম ইনিংসে ২৯ বলে শূন্য করা রিশাভ পান্ত এবার ছিলেন ভিন্ন রূপে। শুরু থেকেই চেষ্টা করেছেন আক্রমণের। তার ১২ বলে ১৮ রানের ইনিংসও থামিয়েছেন মইন।

৪০ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে ভারত চলে যায় পরাজয়ের কিনারে। শেষ দিকে ২৫ রানের ইনিংসে ব্যবধান কিছুটা কমান রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ছোট স্কোরের ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়ের ব্যবধানকে তবুও বলতে হবে যথেষ্টই বড়।

প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৪টি নিয়ে ম্যাচের সেরা এই টেস্টে দলে ফেরা মইন আলি।

তবে ম্যাচের প্রেক্ষাপটে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না স্যাম কারানের অবদান। প্রথম ইনিংস দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলা ৭৮ রানের ইনিংস, বল হাতে প্রথম ইনিংসে কোহলির উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও ৪৬ রানের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস, আর বল হাতে ভারতের শেষ উইকেট নিয়ে ম্যাচের যবানিকা, তরুণ অলরাউন্ডার কাটিয়েছেন অসাধারণ এক ম্যাচ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৪৬

ভারত ১ম ইনিংস: ২৭৩

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ২৭১

ভারত ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৪৫) ৬৯.৪ ওভারে ১৮৪ (ধাওয়ান ১৭, রাহুল ০, পুজারা ৫, কোহলি ৫৮, রাহানে ৫১, পান্ডিয়া ০, পান্ত ১৮, অশ্বিন ২৫, ইশান্ত ০, শামি ৮, বুমরাহ ০*; অ্যান্ডারসন ২/৩৩, ব্রড ১/২৩, মইন ৪/৭১, স্টোকস ২/৩৪, কারান ১/১, রশিদ ০/২১)।

ফল: ইংল্যান্ড ৬০ রানে জয়ী

সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজের ৪টি শেষে ইংল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে

ম্যান অব দা ম্যাচ: মইন আলি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেসির নৈপুণ্যে বার্সেলোনার বিশাল জয়

খেলার খবর: ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আলো ছড়ালেন লিওনেল মেসি। জোড়া গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদেরকে দিয়ে করালেন দুটি। গোল উৎসবে যোগ দিলেন লুইস সুয়ারেস, উসমান দেম্বেলেরা। তাতে প্রথমবারের মতো লা লিগায় উঠে আসা সোসিয়েদাদ দেপোর্তিভা হুয়েস্কাকে উড়িয়ে দিল বার্সেলোনা।

ঘরের মাঠে রোববার স্থানীয় সময় বিকালে শুরু হওয়া ম্যাচটি ৮-২ গোলে জিতেছে এরনেস্তো ভালভেরদের দল।

কাম্প নউকে স্তব্ধ করে দিয়ে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় হুয়েস্কা। ডান দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো ক্রসে সামুয়েলে লঙ্গোর হেডের পর গোলমুখ থেকে টোকা দিয়ে বল জালে পাঠান কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড কুচো এরনান্দেস।

দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া বার্সেলোনা পাল্টা জবাব দিতে একটুও দেরি করেনি। ষোড়শ মিনিটে ইভান রাকিতিচের পাস পেয়ে এক জনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে আরেক জনকে কোনো সুযোগ না দিয়ে জোরালো শটে দলকে সমতায় ফেরান মেসি।

২৪তম মিনিটে জর্দি আলবার নিচু ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে ঠেলে দেন অতিথিদের স্প্যানিশ ডিফেন্ডার হোর্হে পুলিদো। আর ৩৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে আলবার বাড়ানো বল গোলমুখে পেয়ে অনায়াসে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সুয়ারেস।

৪২তম মিনিটে ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৩-২ করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড আলেহান্দ্রো গাইয়ার।

প্রথমার্ধে বেশ লড়াইয়ের আভাস দেওয়া হুয়েস্কা বিরতির পর আর পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অল্প সময়ের মধ্যে আরও তিন বার জালে বল পাঠিয়ে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেয় বার্সেলোনা।

৪৭তম মিনিটে মেসির একটি প্রচেষ্টা পোস্টে বাধা পায়। পরের মিনিটে সুয়ারেসের রক্ষণচেরা পাস ডি-বক্সে পেয়ে কোনাকুনি শটে ব্যবধান বাড়ান দেম্বেলে। গত সপ্তাহে রিয়াল ভাইয়াদলিদের বিপক্ষে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

৫২তম মিনিটে মেসির বাড়ানো বল ডান দিকে পেয়ে হাফ-ভলিতে দলের পঞ্চম গোলটি করেন রাকিতিচ। আর ৬১তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে দারুণ ক্ষিপ্রতায় ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি।

চলতি লিগে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের এটা চতুর্থ গোল। আলাভেসকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে লিগ শুরুর ম্যাচেও জোড়া গোল করেছিলেন তিনি।

৮১তম মিনিটে মেসির পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে বাঁ পায়ের শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আলবা। এরই সঙ্গে দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। একবিংশ শতাব্দীর লা লিগায় প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১৫০ গোলে সহায়তা করলেন তিনি।

শেষ দিকে হ্যাটট্রিক পূরণের সুযোগ এসেছিল মেসির সামনে। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে একা ডি-বক্সে ঢুকে পড়া সুয়ারেসকে গোলরক্ষক ছুটে গিয়ে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। তবে স্পট কিক না নিয়ে সতীর্থকে ছেড়ে দেন অধিনায়ক। সফল স্পট কিকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের অষ্টম গোলটি করেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার।

তিন ম্যাচে তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে বার্সেলোনা। সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বান কি-মুন চ্যান্সেলর, ডিগ্রি পাসে ভিসি!

দেশের খবর: প্রতিষ্ঠাতা সূত্রে নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।এফিডেভিট করা একটি ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে তা চূড়ান্তও করেছেন। নিজেই বানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আইন। শুধু তাই নয়, উপাচার্য নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চ্যান্সেলর নিয়োগ দিয়েছেন। সেই চ্যান্সেলর দেশের রাষ্ট্রপতি নন, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন!

শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়টি নোবেল পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছে বলে দাবি রাজশাহীর বাগমারায় অবস্থিত অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম ইসলামি ইউনিভার্সিটির স্বঘোষিত উপাচার্য রফিকুল ইসলামের।

তার দাবি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও বাংলাদেশ সরকার এর অবকাঠামো উন্নয়নে কোনো অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে না। এ কারণে গত ১৩ আগস্ট স্থানীয় ভবানীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় চিঠি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টির নামে মঞ্জুরকৃত এক হাজার ৩৫০ কোটি টাকা থেকে স্থানীয় ভবানীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক রাজশাহী শাখায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সঞ্চয়ী হিসাব নং-০১০২৪৮৬৩ এর অনুকূলে ৬০ লাখ টাকা জমা দেয়া হোক।’

ওই চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক, এমনকি সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়েও।

২০১৬ সালের মে মাসে রফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য বলে দাবি করেন। একই বছরের ২০ জুলাই একটি লিফলেটে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং তৎকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের ছবি ব্যবহার করেন তিনি।

একই বছরের ১২ জুন ইউজিসি’র পক্ষ থেকে রাজশাহী বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর চিঠি দিয়ে নামধারী বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বঘোষিত উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ২৮ জুলাই রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ইজিসিকে জানানো হয়, ‘গত ২১ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব কোনো অবকাঠামো পাওয়া যায়নি। তবে অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদরাসা নামে সাইনবোর্ড ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো দেখা গেছে।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সাধারণ মানুষের বরাত দিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘ওই প্রতিষ্ঠানটিকে অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম ইসলামি দাখিল মাদরাসা হিসেবে চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয়রা রফিকুল ইসলামের ভুয়া প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কথিত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১৪ সালের ২৩ আগস্ট জাতীয় সংসদে প্রাথমিক অনুমোদন পায়। একই সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকেও চিঠি দিয়ে অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম ইসলামি ইউনিভার্সিটি নামে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের কথা জানানো হয়। বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও জানানো হয়।’

এদিকে রফিকুল ইসলামের এমন প্রচারণা বন্ধ না হওয়ায় ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট ইউজিসি রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর এক চিঠিতে জানায়, অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম ইসলামি ইউনিভার্সিটি নামধারী প্রতিষ্ঠানটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নয়। প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম অবৈধ ও বেআইনি। প্রতিষ্ঠানটির এমন কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম ইসলামি ইউনিভার্সিটি আগে একটি মাদরাসা ছিল। ২০১১ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে ফাজিল ও কামিল মাদরাসাগুলোকে অ্যাফিলিয়েট ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কুষ্টিয়ায় অবস্থিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারে মাদরাসাকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। পরে আবেদন করায় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের মাদরাসাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। জাতীয় সংসদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদন দেয়ার পর সরকার ও বিশ্বব্যাংক ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিশ্ববিদ্যালয়টির নামে অনুদান দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অর্থ ছাড় করছে না।’

রফিকুল ইসলামের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি জানায়, প্রতিষ্ঠানটির স্বঘোষিত উপাচার্য রফিকুল ইসলামের কর্মকাণ্ডে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থায় নামধারী ওই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ এবং উচ্ছেদ করে কমিশনকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এরপর মঞ্জুরি কমিশনকে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে উচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গত বছরের ২২ অক্টোবর রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার বারবার এক চিঠিতে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইউজিসির পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়। একই বছরের ২২ অক্টোবর জাতীয় দৈনিকে তথাকথিত বিশ্ববিদ্যালয়টির অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে ইউজিসি।

চলতি বছরের ১৩ আগস্ট স্বঘোষিত উপাচার্য রফিকুল ইসলাম স্থানীয় ভবানীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখা বরাবর একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামে মঞ্জুরকৃত এক হাজার ৩৫০ কোটি টাকা থেকে স্থানীয় ভবানীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক রাজশাহী শাখার বিশ্ববিদ্যালয়টির সঞ্চয়ী হিসাব নং-০১০২৪৮৬৩ এর অনুকূলে ৬০ লাখ টাকা জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠির অনুলিপি দেয়া হয় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক, এমনকি সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়েও।
রফিকুল ইসলামের দাবি, ‘আমি এই মাদরাসার প্রিন্সিপাল ছিলাম, আমি ডিগ্রি পাস। যখনই এই মাদরাসাকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয় তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। আমি যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন নিয়ে গবেষণা করেছি তাই আমাকে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেন। আমি এখন আমার নামের পাশে ড. লিখতে পারি।’

‘মাদরাসাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়া এবং ডক্টরেট স্বীকৃতি দেয়াসহ সব ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করতে গিয়ে জেলও খেটেছি। আমাকে পুলিশ ধরেও নিয়ে যায়। পরে গত বছর ছাড়া পেয়ে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেই।’

তিনি দাবি করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেলেও আমাকে টাকা দেয়া হচ্ছে না। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণকাজ সম্ভব হচ্ছে না, শিক্ষার্থীও ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও ইউজিসি থেকে ছয়বার চিঠি দিয়ে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করে আড়াই মাস জেলেও রাখা হয়।’

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষার্থী আছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন তো ছাত্র-ছাত্রী নেই, কারণ অবকাঠামো নেই, বসার জায়গা নেই, শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন নেই; তাহলে কে ভর্তি হবে এখানে? সোনালী ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, দ্রুত আমাদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেয়ার জন্য। টাকা দিলে ৬০০ একর জায়গার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউজিসি আইন বোঝে না, কাগজপত্রও বোঝে না। যদি বুঝতো তবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বান কি-মুন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে পুলিশে দিতে পারতো না। বিষয়টি আমি লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতি ও বান কি-মুনকে জানিয়েছি। তারা এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনে সার্বিক সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

রফিকুল ইসলামের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘অর্জুনপাড়া মদিনাতুল উলুম ইসলামি ইউনিভার্সিটি নামধারী প্রতিষ্ঠানটির স্বঘোষিত উপাচার্য রফিকুল ইসলাম নামে জনৈক ব্যক্তি ইউজিসিতে গত কয়েক বছর ধরে চিঠি দেয়। এটা একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান। এ নামে দেশে কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেই। দুই বছর আগে রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছিল। এরপর তারা একটি রিপোর্টও দেয়। সম্প্রতি আবার একটি চিঠি পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এরা সম্ভবত সংঘবদ্ধ কোনো চক্র। গত বছর তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য ইউজিসি পত্রিকায় একটি গণবিজ্ঞপ্তি দেয়। বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতারণার সম্ভাবনা থেকেই আমরা ওই বিজ্ঞপ্তি দেই। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাল থেকে দশ টাকা কেজি চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে

দেশের খবর: খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আগামীকাল সোমবার থেকে ৫০ লাখ পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম আজ সাংবাদিকদের বলেন, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটিসহ ৩ দিন বন্ধ থাকায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবে ৫০ লাখ পরিবার।

২০১৬ সাল থেকে পরিবারপ্রতি ৫জন হিসেবে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ বছরের ৫ মাস এই সুবিধা পেয়ে আসছেন। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর- অক্টোবর ও নভেম্বর এই ৫ মাস ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হয়ে থাকে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৮৪ লাখ মেট্টিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এরমধ্যে চাল ১৩ দশমিক ৩৪ লাখ মেট্টিক টন ও গম ২ দশমিক ৫০ লাখ মেট্টিক টন। সেপ্টেম্বর ,অক্টোবর ও নবেম্বর এই তিন মাসে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিক টন চাল প্রয়োজন হবে।

কামরুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে চাল বিক্রির জন্য উপকারভোগীর ৫০ লাখ কার্ড প্রদান করা হয়েছে। কার্ডধারী ব্যক্তিদের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করা হবে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০ লাখ দরিদ্র মানুষ বছরে পাঁচ মাসের জন্য এ কর্মসূচির সুফল পেয়ে আসছেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। কমিটিতে জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তাঁরাই হতদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা ঠিক করে তাদের কার্ড দেয়া হয়েছে। কার্ডধারীদের নীতিমালা অনুযায়ী চাল দেয়া হয়।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিরন্ন মানুষের জন্য ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নতুন রাজনৈতিক জোটকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত নতুন রাজনৈতিক জোটকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল দলের অংশগ্রহণেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে তো রাজনৈতিক দল দুইটি। একটি আওয়ামী লীগ অপরটি আওয়ামী লীগ বিরোধী। আওয়ামী লীগ বিরোধীদের তো একটা জায়গা লাগবে। এ জন্য তারা যে ঐক্য করেছে আমি তাদের সাধুবাদ জানাই যে, ঐক্যটা থাক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন এবং অন্যদের নিয়ে নতুন জোট গঠন সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তার দলও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য একটি ভালো বিরোধী জোট প্রত্যাশা করে।

অতীতে জোটের নেতৃবৃন্দের কেউ কেউ সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি আশা করবো তাদের জোট নির্বাচন বানচালের জন্য নয় বরং সংঘবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্যই হবে।

বিমসটেক সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পর সেই বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন হলেও আগামী নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার, খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং রোহিঙ্গা সমস্যার মত বিষয় সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থান করে নেয়।

শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে ইভিএম’র আংশিক ব্যবহারকে সমর্থন করে বলেন, জাতীয় নির্বাচনে এর ব্যাপক ব্যবহারের জন্য আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, কিন্তু বিএনপি ইভিএম পদ্ধতির বিরোধিতা করছে। কারণ কি তাদের জাল ভোট প্রদানের নীল-নকশা বানচাল হয়ে যাবে, এই ভয়ে।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যারা অতীতে ভোট চুরি ও ভোটের কারসাজিতে অভ্যস্ত ছিল তারাই কিনা এখন নির্বাচনের অনিয়মের বড় বড় কথা বলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ, জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেয়ার রাজনীতি আমরা করি না। জনগণ যদি ভোট দেয় তবেই আমরা ক্ষমতায় থাকবো, না হলে নয়। আর আমার বিশ্বাস থেকেই আমি কথাগুলো বলছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারো ক্ষমতা নেই এই নির্বাচনকে বানচাল করার। কারণ, এটাই দেশকে এগিয়ে নেয়ার একমাত্র পথ এবং জনগণও এটা জানে যে, দেশে কেবল গণতান্ত্রিক সরকার থাকলেই দেশ উন্নত হতে পারে।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রই যেন দেশে এক সময় একটা প্রচলিত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ’৭৫-এ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর। তাঁর নিজের ওপরও বেশ কয়েকবার প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে একটি সুবিধাবাদী মহল রয়েছে যাদের দেশে অগণতান্ত্রিক সরকার থাকলে বেশ সুবিধা হয়, তারা কদর পায়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভাগ পায়।

২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে সাংসদরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় দেশের সেই স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনের নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। কিন্তু নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন নিজেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েই জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

তিনি স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া নির্বাচনী আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন।

প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের জন্য কমিশন গঠন হতে পারে বলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের আত্মস্বীকৃত খুনীদের আমরা বিচার করেছি। কিন্তু এর ষড়যন্ত্রকারী যারা তাদের কোন তদন্ত হয়নি বা বিচার হয়নি এবং সেটা হওয়া উচিত এটা হলো বাস্তবতা। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক রিপোর্ট আছে, অনেক গবেষণা হয়েছে। তাই একটা সময় আসবে যখন দেখা যাবে এগুলোও বেরিয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ মাহমুদ আলী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest