সর্বশেষ সংবাদ-
নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছাদেবহাটায় পুলিশের অভিযানে চোরাই গরুসহ আটক ১, থানায় মামলাআশাশুনিতে বিএনপির সাবেক আহবায়কের নেতৃত্বে সরকারি ইজারাকৃত জলমহল অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ: প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনউন্নয়ন প্রচেষ্টার উদ্যোগে কলারোয়ায় খামারিদের জলবায়ু বিপন্নতা বিষয়ক প্রশিক্ষণতালার নুরু বিশ^াস ও যুব জামায়াতের নেতা ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে অন্যের ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল চেষ্টার অভিযোগজেলা পরিষদের প্রশাসক কে সারসা বাহারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার শুভেচ্ছাসাতক্ষীরায় জেলা যুবদলের শুভেচ্ছা মিছিললেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ সাতক্ষীরায় : শোকের ছায়াসাতক্ষীরায় সীমানা পিলার উদ্ধার আটক -৪সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সামনে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দোকান ঘর দখলের অভিযোগ 

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি : আটক ২

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ক’ ইউনিটের অধীনে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির দায়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- ভর্তিচ্ছু হৃদয় জামান ও ঢাবির বহিষ্কৃত ছাত্র সাদমান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দু’জনকে আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আজ শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ ভর্তিযুদ্ধ চলে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের মোট ৮৪টি কেন্দ্রে একযোগে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাবিতে ‘ক’ ইউনিটে এ বছর ১ হাজার ৭৫০টি আসনের জন্য ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার ৯৬ জন। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে আগে থেকেই ছাত্রছাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের পরীক্ষার হলে মোবাইল বা টেলিযোগাযোগ করা যায় এমন সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস/যন্ত্র আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।
এর আগে গত দুই সপ্তাহে ঢাবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে যথাক্রমে কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিট ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীন ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে গত দুই পরীক্ষায় কোনো জালিয়াতি বা অসদুপায়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফাইনালে যে ৫ কারণে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ

খেলার খবর: এশিয়া কাপের ফাইনালে শুক্রবার বিকালে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে নামবে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপজয়ী দলটির বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা আছে টাইগারদের। তবে সাফল্যর ঊর্ধ্বগামী রেখায় হাঁটা মাশরাফীর দল মাঠে ছেড়ে কথা বলার নয়।

আরব আমিরাতে চলতি আসরেই নানা চরাই-উতরাই আর কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশ। এই ভারতের কাছে, আফগানিস্তানের কাছেও হেরেছে। আবার সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করে ফাইনালের টিকিটও কেটেছে। শিরোপার মঞ্চে নিশ্চিতভাবেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়বে টাইগাররা।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের চোখে দেখে নেয়া যাক এমন ৫টি কারণ, যা ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে এগিয়ে রাখবে বাংলাদেশকে-

তারুণ্যের শক্তি
আঙুলের চোটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই নেই তামিম ইকবাল। পাকিস্তান ম্যাচের আগে ছিটকে গেছেন সাকিব আল হাসানও। ভারতের বিপক্ষে তাহলে কী নিয়ে ফাইনালে লড়বে বাংলাদেশ? উত্তরটা হল- অভিজ্ঞ বাকি সিনিয়রদের সঙ্গে একঝাঁক তরুণই হবেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার তুরুপের তাস!

তারুণ্য পেরোয়নি, তবে ক্রিকেটে ছাপ রাখার শুরুটা হয়ে গেছে। মাঠের খেলায় পরিপূর্ণতার ছাপ পাওয়া যাচ্ছে তরুণ টাইগারদের মাঝে। পেসার মোস্তাফিজুর রহমান জাতীয় দলে আছেন সেই ২০১৫ সাল থেকে। দলের পেস আক্রমণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়ানডে দলে জায়গাটা পাকা করছেন ব্যাটে-বলে। এরইমধ্যে প্রমাণ করেছেন স্পিন দক্ষণক। ভারতের বিপক্ষে সাকিববিহীন বাংলাদেশের স্পিন ভরসা হবেন তিনিই। সঙ্গে ব্যাটেও রাখতে পারেন অবদান।

তরুণ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান লিটন দাস এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত ব্যাট হাতে উজ্জ্বল নন। তার কাছে একটা দুর্দান্ত ইনিংসের পাওনা আছেই। আরেক উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ মিঠুন ব্যাটহাতে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ভারতের বিপক্ষে আরেকবার জ্বলে ওঠার পালা তার। সঙ্গে সৌম্য-মুমিনুলদের কাছেও একটা ঝলমলে ইনিংস পাওনা হয়ে আছে বাংলাদেশের। এই তরুণদের যে কেউ আলো কাড়তে সক্ষম ফাইনালে।

অভিজ্ঞ মিডলঅর্ডার
তামিমের অনুপস্থিতিতে পুরো এশিয়া কাপ জুড়েই ওপেনিংয়ে ব্যর্থ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, সৌম্য সরকাররা হয়ত এখনও অভিজ্ঞদের অভাবটা পূরণ করতে পারেননি। এরপরও ফাইনাল পর্যন্ত আসার পেছনে বোলারদের পাশাপাশি কৃতিত্বটা নিশ্চিতভাবেই মিডলঅর্ডার ও লোয়ার মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের।

ক্যারিয়ারের মধ্যগগণে আছেন মুশফিকুর রহিম। পাঁজরের চোট আর ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলেও একটি শতক, একটি ৯৯ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস উপহার দিয়েছেন মুশফিক। ৪ ম্যাচে ৭০ গড়ে ২৯৭ রান করেছেন টাইগার উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। দলের আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ১৫০ রান রসদ যুগিয়েছে মিডলঅর্ডারে।

জরুরী তলব পেয়ে উড়ে গিয়েই ম্যাচ পাল্টে দেয়া অপরাজিত ফিফটি করেছেন ইমরুল কায়েস। ব্যাটিংয়ে শেষদিকে তরুণ মিরাজের সঙ্গে অধিনায়ক মাশরাফীর ছোট ছোট ঝড়ো ইনিংস বাংলাদেশকে দিচ্ছে লড়াইয়ের পুঁজি। নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে মাশরাফী তাই বাড়তি পাওয়া। সবমিলিয়ে অভিজ্ঞ এই সিনিয়রদের যে কোউ দাঁড়িয়ে গেলে দিনটি যে বাংলাদেশের হত পারে সেটির প্রমাণ মিলেছে বহুবার। শিরোপার মঞ্চে টাইগার দলও আরেকটি সিনিয়ে-শোর দিকে তাকিয়ে থাকবে।

ম্যাজিশিয়ান মোস্তাফিজ
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ দলের পেস ভরসা তিনি। ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজুর রহমান ফিরেছেন চেনা ফর্মে, চেনা ছন্দে। চোট ও পুনর্বাসন ধকল পেরিয়ে গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকেই সেরাটা দিতে শুরু করেছিলেন ফিজ, এশিয়া কাপে যেন সেটার পুনর্জন্মই ঘটিয়েছেন। ৪ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে চলতি আসরে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সেরা বোলার বাঁহাতি এ টাইগার পেসার।

এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত ৩২ ওভার বল করেছেন মোস্তাফিজ। এই ৩২ ওভারে রান দিয়েছেন ১৪৭ রান। গড় পাঁচেরও কম। অভিজ্ঞ মাশরাফীর সঙ্গে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে অবধারিতভাবে মোস্তাফিজই সেনাপ্রধান। সঙ্গে গড়ে তিন রান দেয়া মিরাজের কিপ্টে বোলিং ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশকে যোগাচ্ছে ভরসা।

ফিজ সুপর ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওভারে ম্যাজিক দেখিয়েছেন। আফগানদের জিততে লাগত ৮ রান, মোস্তাফিজ দেন মাত্র ৪ রান। যার দুটি আসে বাই থেকে। পাকিসস্তানের ব্যাটসম্যানদের তো নাচিয়েই ছেড়েছেন! ৪ উইকেট দখলে গেছে তার। শিরোপার মঞ্চে আরেকবার ম্যাজিশিয়ান ফিজের দেখা মিললেই বাংলাদেশের কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

একজন মাশরাফী, এবং…
মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নিয়ে আসলে নতুন কিইবা লেখার আছে! বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা, টুকটাক ব্যাটিংয়ে কার্যকরী অবদান, ফিল্ডিংয়ে বুড়ো হাড়ের ভেল্কি; কোথায় নেই তার ছাপ। আবার দলে মাস্টারমাইন্ড যে বাংলাদেশ অধিনায়কই, সেটা না বললেও চলে। তীক্ষ্ণ ক্ষুরধার নেতৃত্ব এবং দলকে উজ্জীবীত করার সহজত ক্ষমতাটা তো মাশরাফীর আছেই, এই এশিয়া কাপেই বারবার সেটি নতুন করে চোখে পড়েছে ক্রিকেটবোদ্ধাদের।

মাশরাফী বুদ্ধিদীপ্ত এই অধিনায়কত্বই বাংলাদেশ দলের সেরাটা বেরিয়ে আনতে সাহায্য করে। কি তামিম, কি সাকিব, কি মুশফিকের মতো অভিজ্ঞরা; সেরাটা দেয়ার পর অনুপ্রেরণার নামটির জায়গান অকপটে বলেন মাশরাফির কথা। তরুণরা যে শাণিত হচ্ছে, সে তো এই মাশরাফীর ছাতাতলেই।

পাকিস্তানের বিপক্ষে পেসারদের না এনে প্রথমে মিরাজকে দিয়ে বল করিয়েছিলেন মাশরাফী। মিরাজ এসে প্রথম ওভারেই তুলে নিয়েছেন ফখর জামানকে। আসিফ আলীকে সঙ্গে নিয়ে যখন ম্যাচটা বেরই করে নিচ্ছিলেন ইমাম-উল-হক, তখন মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহকে ব্যবহার করে সেই কাটাও দূর করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

এশিয়া কাপের শিরোপা থেকে যখন একহাত দূরে টিম টাইগার্স, মাশরাফী প্রস্তুত সেরাটা দিতে। বিশেষত বিপক্ষ দল যখন তার প্রিয় প্রতিপক্ষ ভারত! ২০০৪ ও ২০০৭ সালে ভারতকে একা হাতেই গুঁড়িয়ে ছিলেন মাশরাফী। বাংলাদেশের ট্রফি কেসে যখন প্রথম বড় কোনো শিরোপার হাহাকার, মাশরাফী প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করতে তো চাইবেনই, তার অনুপ্রেরণা টনিক হয়ে সেরাটা বের করে আনবে সতীর্থদেরও। তাতে দারুণ কিছুর অপেক্ষা করতেই পারে টাইগারপ্রেমীরা।

শিরোপা ক্ষুধা
২০১২ ও ২০১৬। চোখের সামনে থেকেও এশিয়া কাপের ট্রফিটা অধরাই রয়ে গেছে। এরপর নিধাস ট্রফিতে শেষ বলের নাটকে আরেকবার শিরোপা হাতছাড়া হওয়া। এইসব স্বপ্নভঙ্গের বেদনা তীব্র, তাতে একটি ট্রফির জন্য বাংলাদেশের ক্ষুধাটা অবশ্য কমেনি, বরং বেড়েছে দিন দিন।

শিরোপার পথে ভারত নামটাই জাগিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশকে। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৬ এশিয়া কাপের ফাইনাল, ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল, আর ২০১৮ নিধাস ট্রফির ফাইনাল। সবগুলো ম্যাচে একটাই প্রতিপক্ষের কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। প্রতিপক্ষটা ভারত!

এইসব হারের ক্ষত কেবল একটা ম্যাচ দিয়েই ভোলা সম্ভব। সেটা দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল দিয়ে। টাইগারদের একটা শিরোপার ক্ষুধা সেরাটা বের করে আনলে শুক্রবার রাতে উল্লাস ছড়িয়ে পড়তে পারে লাল-সবুজের প্রান্তরজুড়ে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আমি নিজেকে এত সস্তা ভাবি না : মাশরাফি

খেলার খবর: বাংলাদেশের ক্রিকেটে গত কয়েক বছরে যত বড় অর্জন সবই মাশরাফির হাত ধরে। ভক্তরা ভালবেসে মাশরাফিকে বলে থাকেন ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক’। আর প্রতিবারই সেই ভালবাসার প্রতিদান দিয়েছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ খ্যাত এই বোলার।

এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন মাশরাফি। কণ্ঠে ঝড়েছে ট্রফি জয়ের দৃঢ় প্রত্যয়। তবে একই সঙ্গে ভক্তদের প্রতি নিজের কিছু প্রত্যাশার কথা বলেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন-

প্রথমত, আমি নিজেকে খুব সস্তা মনে করি না। তাই নিজেকে কখনো একটা ট্রফি দিয়ে বিচার করতে চাই না।

দ্বিতীয়ত, আমি শুধুমাত্র একটা ট্রফি পাওয়ার জন্য ক্রিকেট খেলিনা। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে বাংলাদেশের জন্য একটা ট্রফি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবং আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ একদিন ট্রফি জিতবে। তরুণ প্রজন্ম, যারা ক্রিকেটের দিকে আসতে চাচ্ছে বা যারা দলে আছে বা যারা অনূর্ধ্ব-১৯ কিংবা অনূর্ধ্ব-১৬ খেলছে, একটা ট্রফিতে তারা আরও উজ্জীবিত হবে।’

মাশরাফি আরও বলেন, ট্রফির সংখ্যা দিয়ে বিচার করে নিজেকে অতটা সস্তা বানাতে চাই না। ব্যক্তি মাশরাফিকে আপনি ট্রফি দিয়ে বিচার করলে সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু আমি নিজেকে এত সস্তা ভাবি না।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে। ২০১৬ সালে এই দলের বিপক্ষেই ৮ উইকেটে হেরে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। আরেকটি ফাইনালের আগে মাশরাফি টপঅর্ডার নিয়ে চিন্তায়, আমাদের টপঅর্ডার যেভাবে খেলছে, তাতে ভালো রান দাঁড় করানো কঠিন। ভারতের বিপক্ষে লড়াই করতে হলে কেমন স্কোর দরকার সেটিরও একটা ধারণা দিয়েছেন অধিনায়ক, তাদের যে শক্তি তাতে ২৬০-২৭০ করতে পারলে লড়াই হবে। এটা যে জেতার স্কোর, তা বলছি না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রিয়েল ভিউ ডিটিএইচ সেবা

অনলাইন ডেস্ক: সেবা বৃদ্ধির কারণে আগামী ১ অক্টোবর থেকে স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি সংকেত গ্রহণের মাধ্যমে টেলিভিশন দেখার প্রযুক্তি সেবা ‘রিয়েল ভিউ’ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রিয়েল ভিউ কর্তৃপক্ষ আজ শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি মেসেজ গ্রাহকদের মোবাইলে পাঠিয়েছে।

মেসেজে বলা হয়েছে, ‘Dear Subscriber, due to service enhancemengt RealVU will be discontinued from 01-10-18 onwards, to know refund policy, call us on 16442’.

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মাত্র দুই দিন আগে মেসেজ দিয়ে রিয়েল ভিউ বন্ধ করার ঘোষণা দেবে সেটা খুবই দুঃখজনক। কবে নাগাদ চালু হবে সেটা মেসেজে উল্লেখ না করে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলেও জানান তিনি।

রিয়েল ভিউ কাস্টমার প্রতিনিধি তানভীর বলেন, আগামী ১ অক্টোবর থেকে আমাদের সকল সার্ভিস আমরা বন্ধ করছি। কারণ রিয়েল ভিউয়ের সাথে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে সংযোগ স্থাপনের জন্য আমাদের সেবার মানোন্নয়নের কাজ চলবে।
এটা কতদিন বন্ধ থাকবে? প্রশ্ন করা হলে তানভীর বলেন, আমাদের কাজটি সম্পন্ন হতে আনুমানিক ছয় মাস সময়ের প্রয়োজন হবে। এই সময়ে পূনরায় সম্প্রচার করতে প্রস্তুত হওয়ার জন্য বড় ধরনের প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। এজন্য আপনারা চ্যানেলগুলো উপভোগ করতে পারছেন না।
রিফান্ড পলিসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে যদি আপনি আপনার সেট টপ বক্স ফেরত দিতে চান। সেক্ষেত্রে আমাদের রিফান্ড পলিসি রয়েছে। রিফান্ড পলিসি জানার জন্য আগামী ১৫ অক্টোবরের পর অনুগ্রহপূর্বক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

‘লাইফ এখন রিয়েলি রঙিন’ এই স্লোগান নিয়ে বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস ২০১৬ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ডিরেক্ট টু হোম (ডিটিএইচ) সেবা ‘রিয়েল ভিউ’ নিয়ে আসে। মাসে ৩০০ টাকায় বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোসহ ১০০টিরও বেশি চ্যানেল দেখা যেত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ পটভূমি ও লোকজ ধারার ছবি

বিনোদনের খবর: একসময় বাংলাদেশে গ্রামীণ পটভূমি ও ফোক তথা লোকজ ধারার চলচ্চিত্র ছিল বেশ জনপ্রিয়। নব্বই দশকেও এ ধরনের চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। ব্যবসায়িক লাভের কথা চিন্তা করে নির্মাতারা বেশ আগ্রহ নিয়ে এ ধরনের ছবি নির্মাণ করতেন।

কিন্তু কালক্রমে লোকজ ধারার ছবি ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে লুপ্তপ্রায়। কালেভদ্রে দু-একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হলেও এখনকার দর্শকরা সেভাবে এসব চলচ্চিত্র নিচ্ছেন না। কিন্তু কেন?

বাংলাদেশি তথা সার্বজনীন চলচ্চিত্রের বিভিন্ন রকমভেদ রয়েছে। যেমন- সামাজিক, অ্যাকশন, কমেডি কিংবা ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র। এর মধ্যে কিছু তৈরি হয় শহরকেন্দ্রিক। আবার কিছু গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত।

এরকম ভেদে একসময় সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র। এ ধরনের চলচ্চিত্রে নিখুঁতভাবে সমাজ ও পরিবেশ-মাটি ও মানুষের কথা চিত্রাকারে নিহিত থাকে।

গ্রামীণ মানুষের জীবনীগাথা এসব চলচ্চিত্রে দুঃখ-কষ্ট-সুখের সঙ্গে দর্শকরা নিজেদের একাত্ম করে নেন বলেই এসব ছবির জনপ্রিয়তা নব্বইয়ের দশকেও ছিল তুঙ্গে। ওই সময় ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে ১০টি ব্যবসাসফল ছবির মধ্যে অন্তত ৬টিই ফোক ধাঁচের চলচ্চিত্র। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ছবির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এর বড় একটা অংশজুড়ে আছে ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র। এক সময়কার জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের তালিকা করলে লোকজ ঘরানার নামই আসবে আগে।

বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের সূচনা যুগ অর্থাৎ ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত যেসব ছবি নির্মিত হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাই সে সময়কার গ্রামীণ আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্মিত।

এ সময়কার চলচ্চিত্রগুলোকে একার্থে সামাজিক ফোক ধাঁচের চলচ্চিত্র বলা যায়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ লোকজ ধারার চলচ্চিত্রের ধারা প্রচলিত হয় ‘রূপবান’ দিয়ে। ১৯৬৫ সালে পরিচালক সালাহউদ্দিন নির্মাণ করলেন বহুল প্রচলিত লোকগাথা নিয়ে চলচ্চিত্র ‘রূপবান’।

এটি বাংলা ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোকে ব্যর্থতার গহ্বর থেকে টেনে তুললেন এক নিমিষে। এ দেশের লোককাহিনী, কথামালা, লোকসঙ্গীত ও লোক বিশ্বাসগুলোই এ দেশের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। অসংখ্য লোকগানের মধ্য দিয়ে বিধৃত এ কাহিনী ছিল বাংলার প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে।

১২ বছরের রূপবানের সঙ্গে রাজপুত্র রহিম, যে কিনা সদ্য জন্মলাভ করেছে, তার বিয়ের মাধ্যমে এ কাহিনীর বিস্তৃতি লাভ ঘটে। তারপর দৈব বাণীর কল্যাণে ১২ দিনের স্বামী রহিমকে নিয়ে ১২ বছরের রূপবানের বনবাস। রূপবানের বনসংগ্রামী জীবন, রহিম বাদশার বেড়ে ওঠা, অপর রাজকন্যা তাজেলের প্রেমে পড়া, পরিশেষে অমোঘ সত্য প্রকাশিত হওয়ার বিষয়াদিই রূপবান লোককাহিনীর উপজীব্য।

রূপবানের সফলতায় শুরু হয় বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন একটি অধ্যায়। ১৯৬৬ সালে ইবনে মিজান ‘রূপবান’ চলচ্চিত্রের সিক্যুয়ালের মতো করে আবার ‘বনবাসে রূপবান’ নির্মাণ করেন ও ব্যবসায়িক সাফল্য পান।

ঠিক তখন থেকেই চলচ্চিত্রে কিস্তি অর্থাৎ সিক্যুয়াল ধারা শুরু হয়। আবার এ ধারাটির জন্মও কিন্তু লোকজ ঘরানার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এর পর ১৯৬৬ সালে নজরুল ইসলাম ‘আপন দুলাল’, ইবনে মিজান ‘জরিনা সুন্দরী’, সৈয়দ আউয়াল ‘গুনাই বিবি’, আলি মনসুর ‘মহুয়া’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। রূপবান ছবির অর্থনৈতিক সাফল্যের কারণে পরে ফোক ও ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসে একটি স্বকীয় জায়গা করে নিতে সমর্থ হয়েছে।

পরে ১৯৮৬ সালে নির্মিত মতিউর রহমান বাদলের ‘দুলারী’, জিল্লুর রহমানের ‘আয়নামতি’, আবদুস সামাদের ‘শিরি ফরহাদ’, মতিউর রহমান পানুর ‘নাগমহল’, ১৯৮৭ সালে নির্মিত এমএ মালেকের ‘চাঁদ সওদাগর’, এফ কবীর চৌধুরীর ‘বাহাদুর মেয়ে’, আবুল খায়ের বুলবুলের ‘জারকা’, মাহমুদ হান্নানের ‘মালা বদল’, মতিউর রহমান বাদলের ‘চন্দ্রাবতী’, নুর হোসেন বলাইয়ের ‘নাগ কন্যার প্রেম’, ইবনে মিজানের ‘রঙিন রাখাল বন্ধু’, ‘রাজবধূ’, এমএ মালেকের ‘রাজমাতা’, রফিকুল বারী চৌধুরীর ‘চণ্ডীদাশ রজকিনী’, শেখ নজরুল ইসলামের ‘দিদার’, ইবনে মিজানের ‘বাহাদুর নওজোয়ান’, ‘বসন্ত মালতী’, শামসুদ্দিন টগরের ‘সতী কমলা’, মিজান চৌধুরীর ‘রঙিন সাত ভাই চম্পা’, মতিউর রহমান বাদলের ‘শাহ জামাল’, শামসুদ্দিন টগরের ‘মহুয়া সুন্দরী’, আজিজুর রহমানের ‘কাঞ্চন মালা’, শফিউল আলমের ‘অরুণ বরুণ কিরণ মালা’, ১৯৮৮ সালে নির্মিত চাষী নজরুলের ‘বেহুলা লখিন্দর’ ১৯৮৯ সালে একই নির্মাতার ‘সোনার নাও পবনের বৈঠা’, সাইদুর রহমানের ‘আলোমতি প্রেম কুমার’ চলচ্চিত্রগুলোও দর্শকনন্দিত ও ব্যবসাসফল।

তবে তারও আগে, ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশি বাংলা ভাষার রোমান্টিক ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র ‘সুজন সখী’ ব্যবসায়িকভাবে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছবিটির কাহিনী ও সংলাপ লিখেছেন আমজাদ হোসেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে দুই ভাইয়ের আলাদা হয়ে যাওয়া ও তাদের মিলনের গল্প তুলে ধরা হয় এ চলচ্চিত্রে।

এতে নাম চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক ও কবরী। গ্রামীণ লোকগাথায় মৌলিক গল্পভিত্তিক নির্মিত এ চলচ্চিত্রের ‘সব সখীরে পার করিতে নেব আনা আনা’ গানটি এ চলচ্চিত্রকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়। এটি আজও দর্শক মহলে সাড়া জাগানোর দাবিদার।

উল্লেখ্য, ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরকে নিয়ে পরিচালক শাহ আলম কিরণ ১৯৯৪ সালে ছবিটি পুনর্নির্মাণ করেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের গল্পে নির্মিত হয় ‘সারেং বউ’।

চলচ্চিত্রটিকে ফোক ঘরানার ছবির তালিকায় সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ছবি বলেও থাকেন অনেকে। ছবিতে অভিনয় করেছেন ফারুক, কবরী, আরিফুল হক, জহিরুল হক, বিলকিস, বুলবুল ইসলাম, ডলি চৌধুরী প্রমুখ।

এ ছবিতে আবদুল জব্বারের গাওয়া ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি আজও মানুষের মুখে মুখে মুখরিত। তবে উপমহাদেশে সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যবসাসফল লোকজ ঘরানার চলচ্চিত্র হচ্ছে তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’।

এটি বাংলাদেশের নির্মল প্রেম ও ফোক ঘরানার চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এক বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ইলিয়াস কাঞ্চন ও অঞ্জু ঘোষ অভিনীত এ চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ব্যবসাসফল ছবি। তা ছাড়া উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসেও ব্যবসাসফল প্রথম দশটি চলচ্চিত্রের মধ্যে একটি।

পরে আরও বেশ কিছু ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। গল্প ও কাহিনীর দুর্বলতার কারণে অনেক চলচ্চিত্র তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। তবুও কিছু চলচ্চিত্র দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও লোকজ ঘরানার চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ছিল।

২০০৫ সালে জনপ্রিয় নাট্যনির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু নির্মাণ করেন গ্রামীণ মানুষদের সাধারণ জীবনযাপন ও লোকগাথা নিয়ে ‘মোল্লা বাড়ির বউ’ নামে ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র। সম্পূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক কুসংস্কার বেড়াজালের গল্প নিয়ে নির্মিত হয় এটি।

ছবিতে প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেন এটিএম শামসুজ্জামান, মৌসুমী, রিয়াজ, শাবনূর ও প্রাণ রায়। এতে হাসি আর কান্নার কিছু রেশ থাকার কারণে, বাংলাদেশের কৌতূহলী দর্শকদের দারুণ আনন্দ দিতে সক্ষম হয়।

২০০৭ সালে একে সোহেল পরিচালিত ‘খাইরুন সুন্দরী’ নামে ফোক ঘরানার একটি চলচ্চিত্রও দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন মৌসুমী। তার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস। ছবিটি ওই সময় রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করে।

একই সঙ্গে ছবিতে মমতাজের গাওয়া ‘খাইরুন লো তোর লম্বা মাথার কেশ’ শিরোনামের গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। অজপাড়া গাঁয়ের একজন নারীর প্রতি তার স্বামীর ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিয়ে নির্মিত এ ছবিতে গ্রামীণ নারীরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কেমন করে স্বামীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে করুণ পরিণতি বরণ করে নেয় তারই একটি গল্প ছিল এখানে।

২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ চলচ্চিত্রটিও লোকজ ধারার চলচ্চিত্রের ইতিহাসের আরেকটি মাইলফলক। গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটিও ব্যাপক ব্যবসাসফল হয়। এতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও ফারহানা মিলি।

এ চলচ্চিত্রের আরেক অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর কণ্ঠে ‘নিথুয়া পাথারে’ গানটিও এখনও শ্রোতাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়। বলা চলে, ৬০ থেকে ৯০ দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের এমন কোনো জনপ্রিয়, সফল তারকা নেই, যিনি ফোক ঘরানার ছবিতে অভিনয় করেননি। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে যত নায়কই সুখ্যাতি অর্জন করেছেন তার অধিকাংশই ফোক ঘরানার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে লোকজ সংস্কৃতি নেই বললেই চলে। কিছু কিছু চলচ্চিত্রে কয়েকটি দৃশ্যে সামাজিক চালচিত্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেখা গেলেও সেটা একেবারেই অপ্রতুল। গ্রামের সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় বেঁচে থাকা রূপকথাগুলোও গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ, মন ও সমাজতাত্ত্বিক নানা ব্যাখ্যা থাকলেও এসব চলচ্চিত্র নির্মাণ ও এর চাহিদা এ দেশে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

কিন্তু এ ধরনের ছবি নির্মাণে বর্তমান নির্মাতাদের মধ্যে কোনো আগ্রহই লক্ষ্য করা যায় না। দু-একটি যা-ও নির্মিত হয় সেগুলোও দেখার মতো হয় না। এখন বাংলাদেশে লোকজ ধাঁচের চলচ্চিত্র নির্মাণের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়। চলচ্চিত্রের বর্তমান যুগকে লোকজ ঘরানার চলচ্চিত্রের আকাল বলেও উল্লেখ করেছেন অনেকেই।

লোকজ ধারার চলচ্চিত্রের প্রতি নির্মাতা এবং দর্শকদের অনাগ্রহ কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে গুণী নির্মাতা ছটকু আহমেদ বলেন, ‘লোকগাথা ছবি মানে প্রাণের ছবি। এমন ছবি এখন নির্মাণ করার মতো নির্মাতা বা মানসিকতা কারও আছে বলে মনে হয় না। সবাই আধুনিক হয়ে গেছে।

ফোক ধাঁচের ছবি এখনকার দর্শকের কাছে হাস্যকর মনে হয়। এ ধরনের ছবি নির্মাণ করা মানে রীতিমতো গবেষণা করা। আর গবেষণা করার সময় এখন মানুষের নেই। সবাই এখন কপি পেস্টের মধ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে ফেলেছে। বর্তমানে যেসব ছবি নির্মিত হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে মাটির গন্ধ, জীবনের রস একেবারেই শূন্যের কাছাকাছি।

এ প্রসঙ্গে ইতিহাস সৃষ্টিকারী ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ ছবির নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘একটা ছবির গল্প এবং সে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে কয়েকটি গান একটি ছবিকে সব দিক দিয়ে সফলতা এনে দেয়। আর যে ছবি মাটি মানুষের কথা বলবে সে ছবি অবশ্যই মানুষ দেখবে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মানুষ ফোক ঘরানার ছবিই বেশি দেখে। আর এ যাবৎ জনপ্রিয় অভিনেতারা কিন্তু ফোক ঘরানার ছবিতে অভিনয় করেই খ্যাতি অর্জন করেছেন।

বর্তমানে নির্মাতাদের উচিত প্রযুক্তিগত সহজলভ্যতা কাজে লাগিয়ে মৌলিক ফোক ফ্যান্টাসি ছবি বানানো। নির্মাতাদের ভাবা উচিত আমাদের দেশে গ্রামের মানুষ এখনও ছবি দেখেন। আর গ্রামের মানুষ মূলত ফোক এবং এ ঘরানার প্রেমের ছবি দেখেন। দর্শকদের চাহিদার কথা ভেবে ফোক ঘরানার ছবি নির্মাণের দিকে নজর দিতে হবে সবাইকে।’

লোকজ ঘরানার ছবি প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘যুগ বদলে গেছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বেড়েছে। সে সঙ্গে ছবির ধারাও বদলে গেছে। সবাই এখন মুনাফার চিন্তা করেন। কিন্তু আমি বলব, ব্যবসা সফল ছবি মূলত ফোক ঘরানার ছবিই। হিসাব করলে দেখা যাবে, বেশিরভাগ পরিচালক ও নায়ক-নায়িকা ফোক ঘরানার ছবিতে কাজ করেই সুপরিচিত হয়েছেন। প্রযোজক তার লগ্নি করা টাকা ফোক ছবির মাধ্যমে উঠিয়েছেন।

এসব গোপন কিছু নয়। তবুও চলচ্চিত্রে ফোক ছবির আকাল পড়েছে। এখন লোকগাথা ছবি নির্মাণ করার মতো উপযুক্ত গল্পকার নির্মাতারও অভাব রয়েছে। দর্শকদের চাহিদা থাকলেও লোকগাথা ছবি নির্মিত না হওয়ার এটিও একটি কারণ।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
থানকুনি পাতা খেলে ১০টি রোগের উপশম হয়

স্বাস্থ্য কণিকা: থানকুনি পাতা। আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। এর ল্যাটিন নাম (centella aciatica)। গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার আদি আমল থেকেই চলে আসছে। ছোট্ট প্রায় গোলাকৃতি পাতার মধ্যে রয়েছে ওষুধি সব গুণ। থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময়ে অতুলনীয়।প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বহু রোগের উপশম হয় এর ভেষজ গুণ থেকে। খাদ্য উপায়ে এর সরাসরি গ্রহণ রোগ নিরাময়ে থানকুনি যথার্থ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলাবেগুন, নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে সবাই চেনে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করে, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন ধরুন…

১. চুল পড়ার হার কমে:
নানা সময়ে হওয়া বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে ২-৩ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে চুল পড়ার মাত্রা কমতে শুরু করে। চুল পড়ার হার কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। কীভাবে? পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা নিয়ে তা থেঁতো করে নিতে হবে। তারপর তার সঙ্গে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা এবং আমলা মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। সবশেষে পেস্টটা চুলে লাগিয়ে নিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ১০ মিনিট পরে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে কম করে ২ বার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

২. টক্সিক উপাদানেরা শরীর থেকে বেরিয়ে যায়:
নানাভাবে সারা দিন ধরে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে, রক্তে প্রবেশ করে। এইসব বিষেদের যদি সময় থাকতে থাকতে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ! আর এই কাজটি করে থাকে থানকুনি পাতা। কীভাবে করে? এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বেরিয়ে যায়। ফলে একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়।

৩. ক্ষতের চিকিৎসা করে:
থানকুনি পাতা শরীরে উপস্থিত স্পেয়োনিনস এবং অন্যান্য উপকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এবার থেকে কোথাও কেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অল্প করে থানকুনি পাতা বেঁটে লাগিয়ে দেবেন। দেখবেন নিমেষে কষ্ট কমে যাবে।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:
থানকুনি পাতা হজম ক্ষমতারও উন্নতি হবে। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে টিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।

৫. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:
থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্য়াটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

৬. আমাশয়ের মতো সমস্যা দূর হয়:
এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে হবে। এমনটা টানা ৭ দিন যদি করতে পারেন, তাহলেই কেল্লাফতে! এই ধরনের সমস্যা কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। প্রথমে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা বেটে নিন। তারপর সেই রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মেশান। এই মিশ্রনটি দু চামচ করে, দিনে দুবার খেলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

৭. পেটের রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে:
অল্প পরিমাণ আম গাছের ছালের সঙ্গে ১ টা আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা ভাল করে মিশিয়ে ভাল করে বেটে নিন। এই মিশ্রনটি নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই যে কোনও ধরনের পেটের অসুখ সেরে যায়। সেই সঙ্গে ক্রিমির প্রকোপও কমে।

৮. কাশির প্রকোপ কমে:
২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যায়। আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে কাশির কোনও চিহ্নই থাকবে না।

৯. জ্বরের প্রকোপ কমে:
সিজন চেঞ্জের সময় যারা প্রায়শই জ্বরের ধাক্কায় কাবু হয়ে পারেন, তাদের তো থানকুনি পাতা খাওয়া মাস্ট! কারণ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে জ্বরের সময় ১ চামচ থানকুনি এবং ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরা যায়। সেই সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতাও কমে।

১০. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়:
অসময়ে খাওয়ার কারণে ফেঁসেছেন গ্যাস্ট্রিকের জালে? নো প্রবেলম! থানকুনি পাতা কিনে আনুন বাজার থেকে। তাহলেই দেখবেন সমস্যা একেবারে হাতের মধ্যে চলে আসবে। আসলে এক্ষেত্রে একটা ঘরোয়া চিকিৎসা দারুন কাজে আসে। কী সেই চিকিৎসা? হাফ লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রন তৈরি করে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রন থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা এক সপ্তাহ করলেই দেখবেন উপকার মিলবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দিশার ক্যারিয়ারের সিঁড়ি সালমান

বিনোদনের খবর: এখন পর্যন্ত ৫টি সিনেমা ক্যারিয়ারের ঝুলিতে জমা পড়েছে দিশা পাটানির। এরমধ্যে ‘ভাগি টু’ দিয়ে ক্যারিয়ারের মোড় কিছুটা ঘুরেছে তার। তবে বলিউড নায়িকাদের ক্যারিয়ারে ওপরে ওঠার অন্যতম সিঁড়ি ‘খান’রা।
আমির খান, শাহরুখ খান বা সালমান খান, যে কারো সাথে পর্দা ভাগাভাগি মানে ক্যারিয়ারে বাজীমাত। দিশারও ক্যারিয়ারের ৬ নম্বর ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে সালমান খানের সাথে। আর এ নিয়ে শুরু থেকেই দিশার কদর যেন বেড়ে গেল। সালমান খানের পরবর্তী সিনেমা ‘ভারত’-এ দেখা যাবে দিশাকে। সিনেমার শুটিংয়ে সালমানের সাথে অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে দিশা বলেন, ‘সালমান খান অসাধারণ একজন মানুষ। এছাড়াও দারুণ একজন সহ-অভিনেতা। পুরো শুটিং থেকে তার কাছ থেকে শেখার অনেককিছু ছিল। এটা এক কথায় চমৎকার অভিজ্ঞতা।’ ‘ভারত’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন আলী আব্বাস জাফর। যেখানে দিশা ছাড়াও আরো দেখা যাবে ক্যাটরিনা কাইফকে।
নিজের অভিনয় প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে দিশা বলেন, ‘আমি নিজের অভিনয় বিচার করতে পারবো না। অভিনয় নিয়ে কথা বলতে আমার লজ্জাও করে। তাই সবার সাথে বসে আমার সিনেমাও দেখি না।’ গণমাধ্যমে দেওয়ার এই সাক্ষাৎকারে দিশা তার ফ্যাশন বিষয়েও কথা বলেন। দিশা বলেন, ‘আমি ফ্যাশন সচেতন নই। যা পরে আরাম পাই সেটিই পরি। এ নিয়ে আমার বাড়তি কোনো সময় ব্যয় করি না।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গা নির্মূলকে গণহত্যার স্বীকৃতি দাবি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের

অনলাইন ডেস্ক: মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও সরকার কর্তৃক সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংস অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি করেছেন মার্কিন আইন প্রণেতারা।
রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের দুদিন পর বুধবার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি এ আহ্বান জানান মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্যরা। কারণ ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরোচিত ও নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ওপর শুনানিকালে কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়সি বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে এ অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া। আন্তর্জাতিক গণসচেতনতা বৃদ্ধি, সমর্থন ও তাদের থামাতে এ নৃশংসতাকে সংজ্ঞায়িত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শুনানিতে এড রয়সির বিবৃতির ওপর মন্তব্য জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া দেয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের দুদিন পর বার্মিজ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা শিরোনামে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যা, গণধর্ষণ ও অন্যান্য নৃশংসতার জন্য সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযান চালিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। দেশটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ন্যায্যতা হিসেবে ওই প্রতিবেদন ব্যবহার করার সম্ভাবনা থাকলেও তাতে রাখাইনে অভিযানকে গণহত্যা কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি।
প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ইলিয়ট অ্যাঞ্জেল বলেন, মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বিচারের সুপারিশসহ প্রশাসনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
চলতি মাসের শুরুতে আইসিসি জানিয়েছে, জোরপূর্বক দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধ কিংবা গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানসহ কংগ্রেসের বহু সদস্য এ সংকটে জোরালোভাবে সাড়া দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন সরকার এ অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ওয়াশিংটনের আইনগত উপলক্ষ তৈরি হবে। কিন্তু এ ধরনের মূল্যায়ন দাঁড় করাতে ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকেই বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
কিন্তু প্রশাসনের ওপর কংগ্রেস সদস্যদের পক্ষ থেকে চাপ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রয়সির মতো রিপাবলিকানরা এ সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করতে সাহায্য করতে পারেন।
এ ছাড়া রয়টার্সের দুই প্রতিবেদক ওয়া লোন ও কেইয়াও সোকে মুক্তি দিতে চাপ প্রয়োগ করতে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
ঔপনিবেশিক আমলের গোপনীয়তা আইনে এ দুই সাংবাদিককে দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মিয়ানমারের একটি আদালত। যে ঘটনাকে দেশটির গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করা ওই সাংবাদিক বলেন, গ্রেফতার করার আগে পুলিশ তাদের হাতে কয়েকটি কাগজ ধরিয়ে দিয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ সাক্ষাও দিয়েছে যে এটি ছিল সাজানো ঘটনা।
বিদ্রোহীদের হামলার সামরিক বাহিনীর জবাবে ১০ রোহিঙ্গা পুরুষ ও কিশোরকে হত্যার ঘটনায় ওই দুই সাংবাদিক তদন্ত করেছিলেন।

গত বছরের ২৫ আগস্টের পর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছেন। কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন সময়ে আসা আরও চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest