সর্বশেষ সংবাদ-
দুটি মামলায় দেবহাটার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর কারাগারেকাঁধে কফির ফ্লাস্ক, চোখে স্বপ্ন—রূপসী ম্যানগ্রোভে আকাশের জীবনসংগ্রামশ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ৫০ হাজার টাকা জরিমানাদেবহাটায় বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযানবিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতক্ষীরায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহসাতক্ষীরায় ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজআশাশুনির মহিষকুড় মৎস সেট সংলগ্ন সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধনশ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন : সভাপতি মনির- সাধারণ সম্পাদক লিটনঅবৈধভাবে বালু উত্তোলন: সাতক্ষীরার গাবুরায় লাখ টাকা জরিমানা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় করলা

স্বাস্থ্য কণিকা: করলা এক প্রকার ফল জাতীয় সবজি। এলার্জি প্রতিরোধে এর রস দারুণ উপকারি। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি উত্তম। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে করলার রস খেলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। করলায় যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন ছাড়াও এতে রয়েছে বহু গুণ। এবার জেনে নিন, করলার আরো পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা-

ব্রকলি থেকেও দ্বিগুণ পরিমানে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে এতে। দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে বিটা ক্যারোটিন উপকারী। করলায় প্রচুর পরিমানে আয়রণ রয়েছে। আয়রণ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। পালংশাকের দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ও কলার দ্বিগুণ পরিমান পটাশিয়াম করলায় রয়েছে। দাঁত ও হাড় ভাল রাখার জন্য ক্যালসিয়াম জরুরি। ব্লাড প্রেশার মেনটেন করার জন্য ও হার্ট ভাল রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন।
করলায় যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন-সি রয়েছে। ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের জন্য একান্ত জরুরি।

ভিটামিন সি আমাদের দেহে প্রোটিন ও আয়রন যোগায় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তোলে। ফাইবার সমৃদ্ধ করলা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমায়। করলায় রয়েছে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক এসিড, জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম।

অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে। ডায়বেটিসের পেশেন্টের ডায়েটে করলা রাখুন। করলায় রয়েছে পলিপেপটাইড পি, যা ব্লাড ও ইউরিন সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলার রস ও করলা সিদ্ধ খেতে পারেন। নানা রকমের ব্লাড ডিজঅর্ডার যেমন স্ক্যাবিজ, রিং ওয়র্ম এর সমস্যায় করলা উপকারি। ব্লাড পিউরিফিকেশনে সাহায্য করে। স্কিন ডিজিজ ও ইনফেকশন প্রতিরোধে সাহায্য করে।

করলা পাতার রসের উপকারিতা
করলা পাতার রস খুবই উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, নানা ধরনের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এনার্জি ও স্টেমিনা বাড়িয়ে তুলতেও করলা পাতার রস সাহায্য করে। অতিরিক্ত এলকোহল খাওয়ার অভ্যাস থেকে লিভার ড্যামেজড হলে, সে সমস্যায় করলা পাতার রস দারুন কাজে দেয়। ব্লাড ডিজঅর্ডার সমস্যায় লেবুর রস ও করলা পাতার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। করলা পাতার রসে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, ফেরেনজাইটিসের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে সোরিয়াসিসের সমস্যা, ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মির্জা ফখরুলসহ ৫৫ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা, রিমান্ডে ৭ জন

রাজনীতির খবর: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির প্রায় সব সিনিয়র নেতাসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। এরমধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সোমবার (০১ অক্টোবর) আদালতে সোপর্দ করে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহার ও হাতিরঝিল থানা পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। হাতিরঝিল থানার এসআই শরিফ বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে দেখা য়ায়, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। ২ নম্বর আসামি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ৩ নম্বর ড. মঈন খান, ৪ নম্বর নজরুল ইসলাম খান, ৫ নম্বর আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ৬ নম্বর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ; ৭ নম্বর আমান উল্লাহ আমান, ৮ নম্বর রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, ৯ নম্বর রুহুল কবির রিজভী ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪৫ জন নেতাকে আসামি করা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- রাজধানীর মগবাজার রেলগেট এলাকায় রবিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন, পুলিশকে আক্রমণ করেছেন, যানবাহন ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করেছেন। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বাঁশের লাঠি, পেট্রোল বোমা, বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ, কাচের টুকরা ও ইটের টুকরা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন- বাড্ডার ৪১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সামছুল হক (৪০), একই ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন (৪০), গুলশান ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশেদ বিন সোলায়মান (৪৪), গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার শফিউদ্দিন (৪৩), ময়মনসিংহের ভালুকা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন (৫৩), কুমিল্লা জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া (৪৮) ও কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব খন্দকার (৩৫)।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মো. ফজলুল করিম বিএনপির রবিবারের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সাতজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সুন্দরী প্রতিযোগিতার রাজনৈতিক অর্থনীতি- ফাহমিদুল হক
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যায়, টিভি চ্যানেলগুলো ব্রাউজ করতে করতে, চ্যানেল আইতে একটা লাইভ প্রোগ্রামে নজর দিতেই দেখলাম, এক সুন্দরী প্রতিযোগিতা সেটা। একজন নারী-এ্যাঙ্কর দর্শকদেরও রায় নিচ্ছেন, কে হবেন সেরা সুন্দরী। বিরাট দর্শকসমাগম, দর্শকদের খানিক মতামত নিয়ে অবশেষে একজনকে সেরা সুন্দরী ঘোষণা করা হলো, বিজয়-মুকুট পরিয়ে দেয়া হলো।
এখন তো ট্যালেন্ট হান্ট আর বিউটি কনটেস্টের ছড়াছড়ি — সুপারস্টার, ফটোজেনিক — এরকম নানা নামে বিউটি কনটেস্ট চলছে। এসব আয়োজনে থাকে কোনো একটা মিডিয়া হাউস, সঙ্গে থাকে একটা কর্পোরেট ব্র্যান্ড, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে থাকে একটা মার্কেটিং কোম্পানি। যেমন সবচেয়ে আলোচিত ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় যুক্ত থাকে ইউনিলিভার, চ্যানেল আই ও এশিয়াটিক মার্কেটিং লি.। ইহা কোন প্রতিযোগিতা, এরকম আগ্রহ থেকে একটু মনোনিবেশ করলাম। নির্বাচিত সেই সুন্দরী হলেন সেরা ‘আদিবাসী প্রিয়দর্শিনী’। সুন্দরীর টাইটেল বেশ কৌতূহলোদ্দীপক, তিনি প্রিয়দর্শিনী কিন্তু আদিবাসী! যাহোক এসব প্রতিযোগিতায় যেহেতু আগ্রহ ও আকর্ষণ কম থাকে আমার, তাই অন্য কোনো চ্যানেলে লাফ দিলাম। লাফিয়ে লাফিয়ে ক্লান্ত হয়ে, অবসাদগ্রস্ত হয়ে টেলিভিশন বন্ধও করলাম।
তবে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় আমার আগ্রহ কম থাকলেও, এর পেছনের রাজনীতিকে বুঝতে অনাগ্রহ নেই আমার। তাই টেলিভিশন বন্ধ করার পরও সেদিন রাতে ঘুমাবার এবং পরদিন মাঝে মাঝেই মনে এই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছিল যে, আদিবাসীদের মধ্য থেকেও সেরা সুন্দরী নির্বাচনের প্রয়োজন কেন পড়ে? পরদিন সকালে প্রথম আলোর প্রতিবেদনের শিরোনাম দেখলাম: ‘আদিবাসী তরুণ-তরুণীদের নাচে-গানে মুখরিত সৈকত’। সেই প্রতিবেদনে অবশ্য ‘আদিবাসী প্রিয়দর্শিনী’ সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া গেলনা। জানা গেল, সেটা ছিল মূলত আদিবাসী মেলা। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন ছিল দ্বিতীবারের মতো। ২০০৯ সালে প্রথম আদিবাসী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধিরা ঐ মেলায় অংশ নেয় এবং ‘নাচে-গানে সৈকত মুখরিত’ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেছিলেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, চ্যানেল আইয়ের শীর্ষ দুই কর্তা ব্যক্তি, স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা
বাংলাদেশের সবচেয়ে ‘এক্সোটিক ডেস্টিনেশন’ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আদিবাসীদের এই সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশকে সাদা চোখে সদর্থক দৃষ্টিতে দেখার বিস্তর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দু’টি বিষয় আমাকে আরও ভাবিয়ে তোলে, ইস্যুর গভীরে নামতে উস্কে দেয় — প্রথমত, ঐ প্রশ্নটি মনে ঘুরপাক খায় যে কেন আদিবাসীদের মধ্য থেকেও সুন্দরী বাছতে হয় এবং দ্বিতীয়ত, দুই কলামের আদিবাসী মেলার সংবাদের পাশেই প্রথম আলোতে প্রকাশিত আরেকটি এক-কলাম সংবাদ: ‘মন্ত্রণালয়ের গোপন চিঠি: উপজাতিদের আদিবাসী হিসেবে অভিহিত করার অপতৎপরতা চলছে’। কী আছে ঐ এক-কলামের সংবাদে? সেখানে বলা হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্রসচিব ও তিন পার্বত্য জেলা প্রশাসককে দেওয়া গোপন চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘উপজাতীয় কতিপয় নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, পাহাড়ে বসবাসরত শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ এমনকি সাংবাদিকেরাও ইদানীং উপজাতীয় সম্প্রদায়গুলোকে উপজাতি না বলে আদিবাসী হিসেবে অভিহিত করছেন। বিভিন্ন এনজিও, বিদেশি সংবাদমাধ্যম, জাতিসংঘের আড়ালে থাকা খ্রিস্টান রাষ্ট্রসমূহ ঐ ব্যক্তিবর্গের সহাযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে’ (প্রথম আলো, ১৩ ফেব্র“য়ারি, ২০১০, পৃ ২১)।
আদিবাসী মেলার সংবাদের একেবারে পাশ ঘেঁষে প্রকাশিত এই সংবাদ দগদগে বৈপরীত্য নিয়ে আমাদের চোখে ধরা দেয়। এই ‘গোপন সংবাদ’ আমাদের অবহিত করছে সরকার ও আমলাতন্ত্র আদিবাসীদের কী দৃষ্টিতে দেখে। সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার ও তার আমলাতন্ত্র সংখ্যালঘুদের সাধারণ নাগরিকের স্বীকৃতি দিতে কীরকম সংরক্ষণবাদী তা স্পষ্ট হয় এই সংবাদে। ১৯৯৭ সালের চুক্তির ন্যূনতম বাস্তবায়ন এত বছরেও কেন হচ্ছে না, তারও একটা ব্যাখ্যা এই মানসিকতার প্রকাশের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। সরকার পরিবর্তন হয়, কিন্তু সংখ্যালঘুদের অধিকারের ব্যাপারে সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকারের অবস্থান তেমন হেরফের হয়না। কিন্তু সেই সরকারেরই একটি প্রতিষ্ঠান পর্যটন করপোরেশন যখন আদিবাসী মেলায় যুক্ত হয়, তখন এটাও স্পষ্ট হয় যে এটা কোনো আদিবাসী-দরদী অনুষ্ঠান নয়, বরং আদিবাসীদের জাতিবৈচিত্র্য, তাদের নৃত্য-গীত, তাদের জীবন-যাপন-সংস্কৃতি এখানে ‘এক্সোটিক কমোডিটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে দেশি-বিদেশি সম্ভাব্য-পর্যটকদের কাছে। চ্যানেল আইয়ের পৌরহিত্যে ‘আদিবাসী প্রিয়দর্শিনী’ বাছাবাছিও, সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে প্রাথমিক যে অভিযোগ — নারীকে পণ্যকরণ — তার সঙ্গে বাড়তি মাত্রায় হাজির হচ্ছে। একে বলা যায় আদিবাসী নারীর পণ্যকরণ হিসেবে। দ্বিস্তরের এই পণ্যকরণ প্রক্রিয়ায় চ্যানেল আই ও পর্যটন কর্পোরেশন উভয়কেই দায়ী করতে হয়। তবে প্রথম স্তরের পণ্যকরণ প্রক্রিয়া, সুন্দরী-প্রতিযোগিতা নিয়ে আরেকটু বিশদ বাগ্বিস্তার ঘটাতে চাই।
১৯২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক সিটির হোটেলসমূহের কর্তৃপক্ষরা হোটেলগুলোতে ভ্রমণকারীদের আরও অধিক সময় আটকে রাখার মার্কেটিং উপায় হিসেবে মেয়েদের সুইমস্যুটনির্ভর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এটাই সুন্দরী প্রতিযোগিতার আদি নিদর্শন। এরপরে নারীর সৌন্দর্য ও শরীরনির্ভর প্রতিযোগিতার বুম হয়। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা হতে থাকে। এরপর একে একে বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রথম সুন্দরী প্রতিযোগিতা শুরু হয় মিস ওয়ার্ল্ড (১৯৫১ সালে), মিস ইউনিভার্স (১৯৫২ সালে), মিস ইন্টারন্যাশনাল (১৯৬০ সালে) নামে। এইসব বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য জাতীয় প্রতিযোগী নির্বাচনের জন্য আবার জাতীয় পর্যায়ে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা হয়, ভারতে যেমন আছে ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’। তবে মিস ওয়ার্ল্ড বা মিস ইউনিভার্সের জাতীয় প্রতিনিধি নির্বাচনই তো মূল কথা নয়, পণ্যের প্রসার-প্রচারের জন্য কর্পোরেশনগুলোর প্রতিনিয়ত দরকার হয় সুন্দর দেহের নতুন নতুন নারীমুখ, এজন্য নিয়মিতভাবে এইসব প্রতিযোগিতার আয়োজন চলে। একই নারী(দেহ) র‌্যাম্প, সিনেমা, সিরিয়ালে যুক্ত হয়ে তারকা-ইমেজ বলবৎ রাখে এবং পণ্যের মডেলিং-এ নারীর বিক্রিমূল্য অটুট রাখে। তাই ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’ ছাড়াও আমরা দেখি ‘সানন্দা তিলোত্তমা’ প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশে যেমন রয়েছে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতা। আগেই বলেছি যে এইসব প্রতিযোগিতায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকে একটি মিডিয়া হাউস। ফেমিনা হলো ভারতের অন্যতম বৃহৎ টাইমস অব ইন্ডিয়ার অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান।
এইসব সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজকরা ‘নারীকে বস্তুকরণ’-এর অভিযোগ এড়াতে অন্তঃত দু’টি বিষয় সামনে এনে অভিযোগের ঘায়ে মলম দিতে চায় — প্রথমত, এটি নারীর ক্ষমতায়ন ঘটায়; দ্বিতীয়ত, এখানে দৈহিক সৌন্দর্যই মূলকথা নয়, তার বুদ্ধিমত্তা বা ট্যালেন্টই তাকে জিতিয়ে দেয়। এই আলোচনায় ফিরে আসা যাবে, তার আগে আমি সুন্দরী প্রতিযোগিতার পেছনের যে রাজনৈতিক-অর্থনীতি, সেদিকে আলোকপাত করতে চাই।
ভারতীয় নারীরা একসময় বিশ্বসুন্দরীর খেতাব পাওয়া শুরু করেন এবং পেতেই থাকেন। এযেন সুন্দরী হবার জোয়ার, ভারতীয় নারীরা হঠাৎ করে যেন সুন্দরী হয়ে গেছেন। ১৯৯৪ সালে সুস্মিতা সেন মিস ইউনিভার্স হন এবং ঐশ্বরিয়া রাই মিস ওয়ার্ল্ড হন। এরপর ডায়ানা হেইডেন মিস ওয়ার্ল্ড হন ১৯৯৭ সালে। যুক্তা মুখী মিস ওয়ার্ল্ড হন ১৯৯৯ সালে। ২০০০ সালে মিস ইউনিভার্স হন লারা দত্ত এবং মিস ওয়ার্ল্ড হন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ১৯৯৪ সালের আগে একমাত্র ভারতীয় বিশ্বসুন্দরীকে (রিটা ফারিয়া) দেখা যায় বহু পূর্বে ১৯৬৬ সালে। ১৯৬৬-১৯৯৪ সময়কালে, ২৮ বছরে কোনো ভারতীয় বিশ্বসুন্দরী পয়দা হননি, কিন্তু ১৯৯৪-২০০০ সময়কালে, ৬ বছরে আমরা পাচ্ছি ৬ জন বিশ্বসুন্দরীকে। আবার ২০০০ সালের পর থেকে ৯ বছরে আর একজনও বিশ্বসুন্দরীর খেতাব পেলনা ভারত থেকে।
নব্বই দশকে ভারতে বিশ্বসুন্দরীদের এই সমাগমের পেছনের রাজনৈতিক-অর্থনীতি হলো, নরসীমা রাওয়ের সরকার থেকেই একসময়ের-সোভিয়েত-ঘেঁষা ভারত অর্থনৈতিক উদারীকরণের সিদ্ধান্ত নেয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরে যে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া তাতে বহু-ভোক্তার দেশ ভারত একটা বিরাট বাজার হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই বাজারে মাল বেচতে প্রয়োজন একগুচ্ছ সুন্দরী, যারা পণ্যের বহিরঙ্গের পণ্য হিসেবে বিকোবেন। সেই সুন্দরীকে হতে হবে অবশ্যই স্থানীয় — থিঙ্ক গ্লোবালি, এ্যাক্ট লোকালি — এই সমীকরণে। আর এক ভারতীয় বিশ্বসুন্দরী দিয়ে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল বাজারে প্রবেশ সম্ভব। সুস্মিতা-ঐশ্বরিয়া-প্রিয়াঙ্কা তো কেবল ভারতীয় আইকন নন, তারা দক্ষিণ এশীয় আইকন হয়ে ওঠেন বিশ্বসুন্দরী খেতাব পাবার সঙ্গে সঙ্গে।
আরেকটি মজার রাজনীতি হয়েছে মুসলিম দুনিয়া নিয়ে। অপেক্ষাকৃত সংরক্ষণবাদী হিসেবে পরিচিত মুসলিম দেশগুলো থেকে বিশ্বসুন্দরী দেখা যায়না। তবে ২০০১ সালে টুইন-টাওয়ারে হামলার পরে যখন পশ্চিমা বিশ্বের কাছে মুসলিম-আইডেন্টি একটা রেসিস্ট্যান্স বা বিরোধী-পক্ষ হিসেবে হাজির হয়, তার ঠিক পরের বছরেই আমরা দেখতে পাচ্ছি মুসলিম দেশগুলো থেকে বিশ্বসুন্দরী খেতাব দেয়া হয়েছে। ২০০২ সালে মিস ওয়ার্ল্ড হন তুরস্ক থেকে এবং মিস ইন্টান্যাশনাল হন লেবানন থেকে। ব্যাপারটা কাকতালীয় ভাবলে ভুল হবে। বরং শত্র“পক্ষীয় কনজারভেটিভ মুসলিম দেশগুলোর সংস্কারে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট খোলাপোশাকের একজন স্বদেশী বিশ্বসুন্দরী। আবার সেই সুন্দরীর মাধ্যমেই পণ্য ও ভোক্তাসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ নিরবে মুসলমানদের সংরক্ষণবাদকে নষ্ট করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচক, লাতিন আমেরিকার নেতা, সমাজতন্ত্রী হুগো শভেজের দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে বেশ কিছু বিশ্বসুন্দরী নির্বাচনের পেছনেও রয়েছে প্রায় একই রকম রাজনীতি। ২০০৮ ও ২০০৯ সালের মিস ইউনিভার্স, ২০০৩ ও ২০০৬-এর মিস ইন্টারন্যাশনাল নির্বাচিত হয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধি। ২০০৩ সালে চীন থেকে মিস ওয়ার্ল্ড একই রাজনীতির আওতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাই বলা যায় ‘সৌন্দর্য ও ট্যালেণ্টের সমন্বয়’-এর আপ্তবাক্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কার্যকর নয়। বরং বিশ্বায়নকালে মুক্তবাজার অর্থনীতির দূত হিসেবে এইসব সুন্দরীদের নির্বাচন করা হয়, এবং মোটামুটি হিসেব কষে সুন্দরীদের মুকুট ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়া হয়। এমনকি বর্ণবাদী এই প্রতিযোগিতা শ্বেতাঙ্গ বা বাদামি-ফর্সা সুন্দরীদের অবশ্যম্ভাবী বর্ণ হিসেবে একটা মানদণ্ড ঠিক করে দেবার পরও মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রম ঘটানো হয়, ‘কালোদের-জন্য-একজন-এ্যাম্বাসেডর’ খোঁজার স্বার্থে। এই বিবেচনাতেই ২০০১ সালে নাইজেরিয়া থেকে একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে দেয়া হয় মিস ওয়ার্ল্ড-এর খেতাব।
একই বিবেচনায় আমাদের দেশে আয়োজন করা হয়েছে ‘আদিবাসী প্রিয়দর্শিনী’ প্রতিযোগিতা, যে-প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কথা আমি এই রচনার শুরুতেই বলেছি। অর্থাৎ আদিবাসীদের মধ্য থেকেও একজন সুন্দরী বেছে নেয়া, যাকে দিয়ে পণ্যের প্রমোশন করা যাবে এবং আদিবাসীদের কাছে পণ্যের বার্তা নিয়ে সহজে পৌঁছা যাবে। কেবল বর্ণ নয়, সব বয়সের প্রতিনিধিও খোঁজার দৃষ্টান্ত রয়েছে। একবার আমাদের দেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল চল্লিশোর্ধ নারীদের প্রতিযোগিতা। স্মৃতি প্রতারক না হলে, সেই প্রতিযোগিতার নাম ছিল ‘প্যান্টিন ইউ গট দ্যা লুক’। এই হলো ভোক্তা-সংস্কৃতির নমুনা। তুমি মুসলিম হলেও মডেলিং করো, না হয় পোশাকটা একটু লম্বাই রাখো। তুমি একটু বয়েসী হলেও সেজেগুজে প্রতিযোগিতায় নামো। তুমি আদিবাসী হলেও র‌্যাম্পে আসো।
এবার আসা যাক নারীর ক্ষমতায়ন ও সুন্দরী একইসঙ্গে ট্যালেন্টও — এই ধারণার আলোচনায়। নৃবিজ্ঞানী সুসান রাঙ্কল (রাঙ্কল, ২০০৪) গবেষণা করেছেন মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতার পূর্বে নির্বাচিত ২৬ জন প্রতিযোগীর জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ-প্রক্রিয়া নিয়ে। তিনি লক্ষ করেছেন নির্বাচিত ২৬ জনকে যেভাবে ঘষেমেজে সম্ভাব্য মিস ইন্ডিয়া বা মিস ওয়ার্ল্ড-ইউনিভার্স হিসেবে তৈরি করা হয়, তাতে প্রতিযোগীর অবদান সামান্যই। তার ভাষায়, ‘‘মিস ওয়ার্ল্ড হয়ে-ওঠার প্রক্রিয়াটাতে তিনি নিজে অবদান রাখেন সামান্যই। বরং, ‘এক্সপার্ট’রাই হচ্ছেন আসল লোক যারা মোট কাজের বেশিরভাগটা সম্পাদন করেন। খোদাই করে করে তারা তাকে একজন মিস ওয়ার্ল্ড যেমন হওয়া উচিত সেরকম আদর্শ-বস্তুতে রূপান্তর করে ফেলেন’’ (রাঙ্কল, ২০০৪: ১৪২)। এই পুরো ‘গ্র“মিং’-প্রক্রিয়া দেখে সুসান রাঙ্কলের ধারণা হয়েছে, ‘শরীর এমন একটা যন্ত্র যার বিভিন্ন পার্টস মেরামত করা যায়’ (রাঙ্কল, ২০০৪: ১৩৯)। এই মেরামতিতে ডায়েট, ভাষাভঙ্গী, ত্বক, ফ্যাশন ইত্যাদি নানা বিষয়ের এক্সপার্ট যুক্ত হন। দেখা যাচ্ছে প্রতিযোগীর সৌন্দর্য ও ট্যালেন্ট উভয়ই নির্মিত হচ্ছে অন্যের দ্বারা। আর তার ট্যালেন্টের বহর উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন রাঙ্কল। একজন প্রতিযোগী সবচেয়ে পছন্দের নারী হিসেবে হিলারি ক্লিনটনের নাম বলেছিলেন — ‘কারণ তিনি হচ্ছেন প্রেম, ক্ষমতা আর দৃঢ়তার আদর্শ, যদিও তাঁর ছিল একটা দুর্যোগপূর্ণ ব্যক্তিগত জীবন’ (দেখুন রাঙ্কল, ২০০৪: ১৫০)। স্বামীর প্রকাশিত অনৈতিক সম্পর্কের পরও যিনি তার প্রেম ও দৃঢ়তা দিয়ে বিয়ে-রাজনৈতিক ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখেন তিনিই সুন্দরীর আদর্শ হবেন, এতে অবশ্য আশ্চর্য হবার কিছু নেই।
তথ্যসূত্র:
সুসান রাঙ্কল (২০০৪), ‘সৌন্দর্য উৎপাদন’, সেলিম রেজা নিউটন অনূদিত, চন্দ্রাবতী, সুস্মিতা চক্রবর্তী সম্পা., রাজশাহী, ২০০৬।
২০১০ সালে লিখিত (লেখকের ‘অসম্মতি উৎপাদন’ [২০১১] গ্রন্থে প্রকাশিত)
লেখক: চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম বিষয়ক লেখক, গবেষক এবং ছোটগল্পকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি যোগাযোগ ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা যোগাযোগ-এর সম্পাদক তিনি।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পুলিশের উপর হামলা, মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনতাই

দেশের খবর: রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের দুই সদস্যকে পিটিয়ে এক মাদক বিক্রেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (০১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালী থানার মধ্যচরে এ ঘটনা ঘটে।

এদের মধ্যে একজন ডিবি পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক অপরজন কনস্টেবল। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মাদক উদ্ধারে মধ্যচরে অভিযান চালায়। এ সময় মাদকসহ একজনকে তারা আটক করে। খবর পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা দলবল নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা দুই পুলিশকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে খবর পেয়ে কাটাখালি থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

রামেক হাসপাতাল ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, রাত ৮টার দিকে এএসআই মাহাবুবকে ৩১ নং ওয়ার্ডে ও কনেস্টেবল সুজন ৮ নং ওয়ার্ড ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শরীরে কয়েকটি ধারলো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এর মধ্যে এএসআই মাহবুবের অবস্থা গুরুতর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পদ্মা সেতু আমার নামে হবে না- শেখ হাসিনা

দেশের খবর: পদ্মা সেতুর নামকরণ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের প্রস্তাবে ‘না’ করে দিয়েছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি এই সেতু বঙ্গবন্ধু কন্যার নামে হবে জানালেও দলীয় বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেন, তিনি রাজি নন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে ফেরার পর সোমবার (১ অক্টোবর) সকালে গণভবনে ওবায়দুল কাদের পদ্মা সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা সেতু’ হবে-এমন প্রস্তাব করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, না, পদ্মা সেতুর নাম পদ্মা সেতুই হবে। পদ্মাসেতু আমার নামে হবে না। অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে অনেক কষ্ট করে, দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি নিজের নামের জন্য নয়। এই সেতু হবে দেশের মানুষের জন্য।

ওই বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে বলেছেন, পদ্মা সেতু করব বলছি, পদ্মা সেতুই হবে। কিন্তু সেতুর নাম শেখ হাসিনা সেতু হবে না। এটা পদ্মা সেতুই হবে।

ওই নেতা আরও জানান, এই সেতু তার নামে হবে বলে বক্তব্যে খুশি হননি শেখ হাসিনা। এই কথা সামনে আনায় তিনি অসন্তোষও জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে ওই বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের আরও একজন নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আনঅফিসিয়ালভাবে কথা বলেছেন। আমাদের একজন নেতা বলেছিলেন, এই সেতু আপার নামে করা হোক। পরে নেত্রী অসন্তোষ জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি নাম চাই না। মানুষের জন্য করেছি। বিশ্বব্যাংক অর্থ বরাদ্দ বাতিল করেছে। তারপরেও আমি এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এই সেতুর নাম আমার নামে হবে না’।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে শরীয়তপুরের সিনোহাইড্রোর জাজিরা ঘাট এলাকায় পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন গিয়ে পদ্মা সেতুর নাম বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নামে করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাংলাদেশের শুরু লাওসকে ১-০ গোলে হারিয়ে

খেলার খবর: বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবলে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে লাল-সবুজ দল ১-০ গোলে হারিয়েছে লাওসকে।

স্বাগতিকদের জয়ের নায়ক বিপলু আহমেদ। তার শট গোলকিপারের পায়ে লেগে পোস্টে গেলেও অফিসিয়ালি গোলদাতা বিপলুই। এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। গ্রুপের অন্য দল ফিলিপাইন।

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ৪-৪-২ ফর্মেশনে খেলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে জেমি ডের শিষ্যরা। শুরু থেকে আক্রমণত্মাক ফুটবল খেললেও দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে প্রথমার্ধে গোল পাননি সুফিল-জীবনরা।

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে সুফিলের ডিফেন্স চেরা পাস বিপলু ধরতে পারেননি। ১১ মিনিটে ওয়ালি ফয়সালের লম্বা পাস ধরে নাবীব নেওয়াজ জীবন বক্সের প্রান্ত থেকে জোরালো শট নিলেও তা দূরের পোস্ট দিয়ে বেরিয়ে যায়।

২২ মিনিটে বিপলুর ক্রস থেকে লাফিয়ে উঠে ঠিকমতো হেড করতে পারেননি আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষিক্ত রবিউল হাসান। তিন মিনিট পর সুফিল বক্সে ঢুকে পোস্টে শট নিতে ব্যর্থ হন। ২৯ মিনিটে বিপলুর পাস ধরে জীবন আলতো শটে গোলকিপারের হাতে বল তুলে দেন।

প্রথমার্ধে লাওস পাল্টা আক্রমণ থেকে দুটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। ১৫ মিনিটে চানথাপোনের ক্রসে বাউনথাভি সিপাসংয়ের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। আর ৩৬ মিনিটে বোনপাচানের শট ধরে ফেলেন গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা।

বিরতির পরও আক্রমণে ভাটা পড়েনি বাংলাদেশের। ৪৭ মিনিটে জীবনের স্কয়ার পাস থেকে সুফিলের জোরালো শট বারের পাশ দিয়ে যায়। ৪৯ ও ৫৪ মিনিটে দুটি সুযোগ নষ্ট করেছেন লাওসের সোকচিন্দার নাতফাসুক। প্রথমবার তার জোরালো শট ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে যায়। আর পরেরবার তার হেড চলে যায় ক্রসবার উঁচিয়ে।

৫৮ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। জীবনের হেড গোলকিপার ফিস্ট করার পর ক্রস বারে লেগে ফিরে আসে। এরপর এক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করার চেষ্টা করলে জীবনেরই পায়ে লেগে বল চলে যায় ডান দিকে থাকা বিপলুর কাছে। এই ফরোয়ার্ডের শট গোলকিপারের পায়ে লেগে পোস্টে জড়ালে গ্যালারি ভেসে যায় আনন্দে।

এরপর দুই দল কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পায়নি। তাতে অবশ্য বাংলাদেশের ক্ষতি হয়নি। তিন পয়েন্ট নিয়ে স্বাগতিকরা এখন শেষ চারের অপেক্ষায়।

বাংলাদেশ দল: আশরাফুল ইসলাম রানা, ওয়ালি ফয়সাল, তপু বর্মণ, টুটুল হোসেন বাদশা, জামাল ভূঁইয়া, নাবীব নেওয়াজ জীবন, বিশ্বনাথ ঘোষ, বিপলু আহমেদ (মামুনুল), মাহবুবুর রহমান সুফিল ( মোহাম্মদ ইব্রাহিম), মাশুক মিয়া জনি ও রবিউল হাসান (জাফর ইকবাল)।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ২

দেশের খবর: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটী ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ফকিরের টর্চার সেলে নিয়ে মারপিটে ও গুলিতে আওয়ামী লীগের দুই নেতা নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদার (৫৩) ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য শেখ শুকুর আলী (৪৫)।
হামলায় তাঁতীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বাবুল শেখ গুরুত্বও আহত হয়েছেন। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা আনসার আলীরসহ দুটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটী বাজারে আধিপত্যে বিস্তার নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দৈবজ্ঞহাটী ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ফকিরকে আটক করেছে।
গুরুত্বর আহত তাঁতীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বাবুল শেখ বাগেরহাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, সোমবার বিকালে মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটী বাজার এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আনসার, শুকুরসহ তাকে ধরে এনে তাদের ‘বোরকা পরিয়ে’ ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রেখে গুলি করে। কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ফকির ও তার লোকজন এই ঘটনার নেতৃত্ব দেয়। এভাবে ইউপি চেয়ারম্যানের টর্চার সেলে আধা ঘণ্টা নির্যাতনের পর খবর পেয়ে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ সময়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শেখ রিয়াদুজ্জামান যুবলীগ নেতা শুকুরকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুই আহত আনসার আলী ও বাবুলের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আনসারকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহত দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী মোরেলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটী এলাকার আবির শেখের ছেলে ও যুবলীগ নেতা শুকুর আলী মোরেলগঞ্জের জোকা গ্রামের মোসলেম শেখের ছেলে ও প্রায়ত আওয়ামী লীগের এমপি আব্দুল লতিফ খাঁনের খালাতো ভাই। হতাহতরা সবাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট- ৪ (মোড়েলগঞ্জ-শরনখোলা) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগের সমর্থক।
এদিকে, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতার মৃত্যুর ঘটনা সন্ধ্যায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লোকজন আতংকিত হয়ে পড়ে। এসময়ে ওই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে বাগেরহাট শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময়ে হতাহতদের সমর্থকদের হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ফকিরের ভাগ্নে মিল্টন খাঁন (৪০) আহত হন। তাকে সন্ধ্যায় উদ্ধার করে পুলিশ বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থানার ওসি কেএম আজিজুল হক জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের হিসেবে দৈবজ্ঞহাটীতে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ফকিরকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের জন্য এলাকায় অভিযান চলছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় ৭ম শ্রেণির কন্যাকে ধর্ষনের ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মা’য়ের সংবাদ সম্মেলন

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
সাতক্ষীরার তালায় এক লম্পট কর্তৃক বিয়ের আশ্বাসে সপ্তম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীর সাথে দৈহিক সম্পর্কের পর বিয়ে না করে উল্টো ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদেরক বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তালা উপজেলার মুড়াকলিয়া গ্রামের ফিরোজ সরদারের স্ত্রী নারগীস খাতুন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জীবিকার তাগিদে মেয়েকে (টুম্পা খাতুন-১৩) আমার বৃদ্ধা মাতা শরবানুরএর জিম্মায় রেখে স্বামীর সাথে ভারতে কাজ করতে যাই। আমার মা ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে। ভিক্ষা করতে মাঝে মধ্যে তিনি অনেক দূরে যান। মেয়ে তার নানীর কাছে থেকে পার্শ্ববর্তী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। কিন্তু আমার মেয়ে উপর কু-নজর পড়ে একই এলাকার আসির উদ্দীন গাজীর লম্পট ছেলে শাহিন গাজীর। লম্পট শাহিন দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। কিন্তু তার কু প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখাতে থাকে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে শাহিন ঘরে ঢুকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার মেয়ের মাথায় হাত রেখে প্রতিজ্ঞাপূর্বক তার সাথে দৈহিক মেলামেশা করে। রাতে শাহিন বাড়িতে না যওয়ায় খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে তার চাচী শিখা খাতুন জানতে পারে শাহিন আমার মেয়ের ঘরে রয়েছে। পরে শাহিনের বাড়ির লোকজনের উপস্থিতিতে গ্রামবাসী ঘরের দরজা ভেঙ্গে শাহিন ও মেয়েকে বের করে। এসময় সময় লম্পট শাহিন ও তার বাড়ির লোকজন সকলের সামনে আমার মেয়েকে সামাজিকভাবে বিয়ের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী শাহিনকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাকালে শাহিন তার পূর্বের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গপূর্বক আমার মেয়েকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যৎসামান্য অর্থের বিনিময়ে মিমাংসার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমরা রাজি না হলে শাহিন আমার মেয়ের সাথে দৈহিক মেলামেশার বিষয়টি স্বীকার করে প্রকাশ্যে আমাদের মারপিটসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির হুমকি প্রদর্শন করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি ভারত থেকে দেশে ফিরে এঘটনায় লম্পট শাহিনের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে খবর পেয়ে শাহিন ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনার স্বাক্ষীদের নামে হত্যা, গুম, নাশকতাসহ বিভিন্ন হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা করার হুমকি প্রদর্শন করে। এতে স্বাক্ষীগণ ভীতুহয়ে পড়েছে। এছাড়া শাহিনের পরিবার প্রভাবশালী ও অর্থসম্পদের মালিক হওয়ার কারণে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এঘটনায় থানায় মামলা না নেয়ায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করবেন।
তিনি লম্পট শাহিন ও তার মদদদাতা পিতা আসির উদ্দীন ও চাচী শিখা খাতুনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest