সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় উৎসবমুখর আবহে এশিয়া পোস্টের যাত্রা শুরুসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে তালায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ  কোমরপুর দাখিল মাদ্রাসার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন  সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মৌয়াল আহততালায় খালে মাছ ধরতে এসে বৃদ্ধের মৃত্যুদেবহাটার সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যুসাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কালিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যদেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিন

ওয়ানডেতে শোয়েব আখতারকে টপকে গেলেন নড়াইল এক্সপ্রেস

খেলার খবর: ১৪তম এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের খেলা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এখন চলছে সুপার ফোরের খেলা। এরই মধ্যে ২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে ৭ উইকেটে পরাজিত হলেও একটি মাইলফলকের দেখা পান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। দলীয় ৩৫.৩ ওভারের সময় ভারতীয় সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে আউট করার মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে উইকেট সংখ্যার দিক দিয়ে পাকিস্তানের গতির দানব শোয়েব আখতারকে ছাড়িয়ে যান মাশরাফি।
রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস খ্যাত পাকিস্তানের সাবেক স্পিড স্টার শোয়েব আখতার ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৬৩টি ম্যাচ খেলে নিজের ঝুলিতে নিয়েছিলেন ২৪৭টি উইকেট।
অন্যদিকে, ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৯৩টি ম্যাচ খেলে নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা নিজের ঝুলিতে নিয়েছেন ২৪৮টি উইকেট।
এশিয়া কাপ শুরুর আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারি বোলারদের তালিকায় ২৬তম অবস্থানে থেকে এশিয়া কাপ শুরু করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) তিনি এক ধাপ এগিয়ে বর্তমানে এ তালিকায় ২৫তম স্থানে অবস্থান করছেন।
পাকিস্তানের সাবেক স্পিড স্টার শোয়েব আখতারকে টপকানোর পাশাপাশি এবার ২৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ মাশরাফির সামনে। এর মাধ্যমে সুযোগ রয়েছে কপিল দেব, চামিন্দা ভাস, মাখায়া এনটিনি, জেমস অ্যান্ডারসন, হরভজন সিং, অ্যালান ডোনাল্ড, জ্যাক ক্যালিসদের মতো বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের ছাড়িয়ে যাওয়ার।
প্রসঙ্গত, একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৫৩৪ উইকেট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার স্পিন কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরণ। পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম তার পরের অবস্থানে রয়েছেন। এ দুই বোলার ছাড়া আর কোনো বোলারই একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০ উইকেট শিকার করতে পারেনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চলচ্চিত্র নির্মাতার মায়ের কিডনি গায়েব, দুটি তদন্ত কমিটি

বিনোদনের খবর: কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা রওশন আরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে ঘটেছে ভয়াবহ এক কাণ্ড। এক কিডনি সারাতে গিয়ে মায়ের আরেক কিডনিও হারাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন রফিক শিকদার।
তার অভিযোগ, তার মায়ের বাম কিডনিটি অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর সিটি স্ক্যান করে দেখা যায়, মায়ের শরীরে ডানের কিডনিটিও নেই। তার মায়ের অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে। মায়ের এমন পরিণতির জন্য যারা দায়ী তাদের শাস্তি দাবি করেন রফিক শিকদার।
তবে বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বলছেন, কিডনি কোনো কারণে নন-ফাংশনাল হলে সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ে না।
তবে চিকিৎসকের এই যুক্তি মিথ্যে বলে দাবি করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদার। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক যা বলছেন তা পুরোপুরি মিথ্যে। আমি অন্য কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নিশ্চিত করেছেন, দৃশ্যমান জিনিস পেটের মধ্যে থাকলে তা কাজ করুক বা না করুক দেখা যাবেই।
রফিক শিকদার বলেন, ‘আমার মা রওশন আরার (৫৫) বাম কিডনিতে সমস্যা ছিল। মূত্রনালীতে ইনফেকশন ছিল। কিন্তু ডানের কিডনিটি পুরোপুরি ভালো ছিল, ঠিক সুস্থ মানুষের মতো। তার ডায়বেটিস নাই, হাই প্রেসার নাই, বাড়তি কোনো রোগ নাই। বাম কিডনির যে ইনফেকশন ছিল তা সার্জারি করা হলে মা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যান। ইনফেকশন অপসারনের পর মা সুস্থভাবে চলাফেরা করছিলেন।
এরপর ঈদুল আজহায় আমারা তখন মাকে নিয়ে পাবনায়। ঈদের পরে হঠাৎ করে পিজি হাসপাতাল (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাসপাতাল) থেকে ফোনে করে জানানো হলো, আপানার মায়ের বাম কিডনিটা ফেলে দিতে হবে। ফেলে দিলে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন। তা না হলে পরবর্তী সময়ে সমস্যা হতে পারে। আমরাও রাজি হই। কারণ, চিকিৎসক তো ভালোর জন্যই বলবেন।
অস্ত্রোপচারের পর মা হাসপাতালে ছিলেন। এ সময় চিকিৎসকরা বলেন, আপনার মাকে আইসিইউতে নিতে হবে। তখন মায়ের জ্ঞান আছে, কথাও বলছে। আমি বললাম, তাকে দেখে তো মনে হচ্ছে না, আইসিইউতে নিতে হবে। এসময় চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নেওয়ার জন্য আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। বিএসএমএমইউতে আইসিইউ খালি না থাকায় মাকে মগবাজারের ইনসাফ কিডনি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। ওই হাসপাতালের প্রফেসর ছিলেন ফখরুল সাহেব। তিনি বললেন, আপনার মায়ের কিডনি কেন ফাংশন করছে না তা জানা দরকার। তিনি ল্যাবএইড হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠালেন।
সিটি স্ক্যানের পর ল্যাবএইডের চিকিৎসকরা বলেন, আগের কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে আপনার মায়ের বাম কিডনি কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার পর দেখা যাচ্ছে ডানের কিডনিও নেই। কিডনিটা কোথায় গেল? ওটা কি ফেলে দেওয়া হয়েছে? আমি বললাম, তাতো জানি না!’
রফিক শিকদার বলেন, ‘সব রিপোর্ট দেখার পর ইনসাফ হাসপাতালের চিকিৎসক ফখরুল স্যার মাকে আর তার হাসপাতালে রাখতে চাইলেন না। পরে মাকে আবার বিএসএমএমইউতে নিয়ে আসলাম। সেখানকার চিকিৎসক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, আমার হাসপাতালের আইসিইউ খালি নেই তা আমাকে ফোনে বলতে পারতো। কেন তাকে (রোগীকে) প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানো হলো? আমি বললাম, আপনার হাসপাতালে রাখলে কি লাভ হতো, যদি দুটি কিডনিই না থাকে? তখন তিনি বলেন, আপনি কারও কথায় কান দিবেন না। আপনার মায়ের পেটে কিডনি আছে। কিন্তু ফাংশনাল না, দেখা যাবে না।’

বিএসএমএমইউ এর চিকিৎসা ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, ‘আমরা বাম দিকের কিডনি অস্ত্রোপচার করেছি। ডান দিকের কিডনি নিতে চাইলে আমাকে ডান দিকের কিডনি অস্ত্রোপচার করতে হবে। আর আমি নিয়েই বা কি করবো? রফিক আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, ‘স্যার আপনি চলে আসার পর কেউ কেটে নিয়েছে কি-না।’ কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব! আমি নিজে একজন কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টার। আমি কিডনি নিয়ে কী করবো? এটা তো কোনও কাজে লাগবে না।’

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি এই রোগীর সব রিপোর্ট দেখে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তিনি বলেন, কমিটির একটি ঘটনার তদন্ত করবে এবং অপরটি রওশন আরার চিকিৎসা করবে।

রওশন আরার ডান কিডনিটি অস্ত্রোপচারের সময় কেটে ফেলা হয়েছে কিনা তা তদন্তে গঠিত কমিটিতে সাত জন সদস্য রয়েছেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হারুন অর রশিদকে। এছাড়াও কমিটিতে আছেন– বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম খুরশিদুল আলম, নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক অসীম কায়েস, রেডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, সার্জারি বিভাগের ডিন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বিএসএমএমইউ’র অ্যাডিশনাল রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আসাদুল ইসলাম।

এদিকে রওশান আরার চিকিৎসায় গঠিত ছয় সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডে আছেন– বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম সেলিম। সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌহিদুল আলম, কার্ডিয়োলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিফুল হক, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক জলিল চৌধুরী এবং ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।

কমিটি গঠন করা প্রসঙ্গে রফিক শিকদার বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্টের ব্যাপারে আমার কোনো বিশ্বাস নেই আর। আমি রোববার আদালতে একটি রিট আবেদন করবো। মায়ের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার চাই আমি। প্রয়োজনে সেই চিকিৎসকের চিকিৎসা কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার জন্য বলবো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পথে ডা: রুহুল হক

তোষিকে কাইফু: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে সপ্তাহব্যাপী সরকারি সফরে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্য রওনা হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট শুক্রবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। নিউইয়র্কে যাওয়ার পথে লন্ডনে যাত্রাবিরতি করবেন প্রধানমন্ত্রী। লন্ডন থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি নিউইয়র্ক যাবেন। রোববার স্থানীয় সময় ১টা ৪০ মিনিটে নিউইয়র্কের লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে তার।
অন্যদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশ্য গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি,আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা: আ ফ ম রুহুল হক এমপি,সেলিনা বেগম স্বপ্না এমপি সহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগামী ১ অক্টোবর সকালে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন হয়ে দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে বলে তার প্রেস সচিবের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বাসস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিয়ের আগেই গর্ভবতী হয়েছিলেন নেহা

বিনোদনের খবর: খুব চটে গিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া। যখন তার বিয়ের পরপরই খবর প্রকাশ হলো যে বিয়ের আগেই তিনি গর্ভবতী হয়েছেন। বলেছিলেন, ‘এই ধরনের অপপ্রচার তিনি মোটেও পছন্দ করেন না।’
কিন্তু সত্য তো চাপা থাকে না। কয়েক মাসের ব্যবধানেই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল। বিয়ের আগেই প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন নেহা। আর তাই গর্ভবতীও হয়েছিলেন তিনি। আর এই সত্যটা স্বীকার করে নিলেন নেহার সেই প্রেমিক ও বর্তমান স্বামী অঙ্গদ বেদী।
গত ১০ মে বিয়ে হয়েছিল নেহা আর অঙ্গদের। তাদের বিয়ের খবরটি টেরই পাপারাৎজিরা। তখনই গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, নেহা নাকি গর্ভবতী। তখন সেটি নিয়ে দুজনেই বিরক্তি প্রকাশ করলেও মাস তিনেক পরে অঙ্গদই সবাইকে জানিয়ে দেন, গুজবটা সত্যি। মা হতে চলেছেন নেহা। সঙ্গে নেহা ও তার একটি ছবি। যেখানে নেহার ‘বেবি বাম্প’ স্পষ্ট। নেহাও ছবিটি শেয়ার করেছিলেন নিজের ইনস্টাগ্রামে। ‘নতুন শুরু’ বলে উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে নেহা জানিয়ে দিয়েছেন, কেন নিজের গর্ভধারণের বিষয়টি তিনি গোপন করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, তার ভয় ছিল তিনি মা হতে চলেছেন, এই খবর চাউর হয়ে গেলে তার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতো। সেসময় তিনি ‘হেলিকপ্টার ইলা’ ছবির শুটিং করছিলেন। পাশাপাশি চলছিল তার চ্যাট শো ‘নে ফিল্টার নেহা’র শুটিংও।
নেহা জানিয়েছেন, ‘আমি ভয় পেতাম কেউ যদি আমাকে কাজ না দেয়। এটা ভাল বিষয় ছিল যে, আমার বেবি বাম্প ৬ মাসের আগে বোঝাই যায়নি। ভাগ্যিস, কেননা অ্যাপিয়ারেন্সই তো মুখ্য আমাদের কাজে। গর্ভবতী হয়ে পড়লে অনেকেরই কাজ করার সামর্থ্য থাকে না। কিন্তু আমার এনার্জি লেভেল বেশ হাই-ই ছিল।’
তাঁর মাতৃত্বকালীন ছুটিরও কোনও প্রয়োজন নেই বসে সাফ জানিয়ে দেন নেহা।
‘বেবি বাম্প’ নিয়েই নেহা দিল্লি ও মুম্বইতে দু’টি জন্মদিনের পার্টিতে গিয়েছেন। এমনকী, সম্প্রতি একটি ফ্যাশন শোয়ের র্যাম্পেও হাঁটতে দেখা গিয়েছে তাকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এক ম্যাচই সবকিছু বদলে দিতে পারে : মাশরাফি

খেলার খবর: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ রানের বিশাল জয়ে শুরু হয়েছিল টাইগারদের এশিয়া কাপ মিশন। এরপরই যেন স্বর্গ থেকে মর্ত্যে পতন। গ্রুপের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অলআউট ১১৯ রানে, হার ১৩৬ রানের। সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে অলআউট ১৭৩ রানে, পরাজয়ের ব্যবধান ৭ উইকেট।
পরপর দুই ম্যাচে হারলেও এখনো বেঁচে আছে টাইগারদের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা। তবে জিততে হবে নিজেদের পরের দুই ম্যাচ, মেলাতে হবে কিছু সমীকরণ। তবেই তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে খেলতে পারবে বাংলাদেশ দল।
কিন্তু এজন্য আগে দরকার দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও স্মার্ট ক্রিকেটের প্রদর্শনী। প্রথম তিন ম্যাচের একটিতেও স্বস্তির ব্যাটিং করতে পারেনি বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনের জুটি না হলে সেদিনও দেখা মিলতো ব্যাটিং বিপর্যয়ের। তবে এসব নিয়ে আর ভাবতে রাজি নন টাইগার অধিনায়ক।
এরই মধ্যে টানা দুই ম্যাচ হেরে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। রোববার সুপার ফোর রাউন্ডে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হয়ে যাবে টাইগারদের ভাগ্য। হেরে গেলে কঠিনতর হয়ে যাবে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফিও জানেন আফগানিস্তান ম্যাচের গুরুত্ব। এই এক ম্যাচ জিততে পারলেই বদলে যাবে দলের পরিস্থিতি, বদলে যাবে পারিপার্শ্বিক সমীকরণও। ম্যাচ শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও সে কথাই জানান মাশরাফি বিন মর্তুজা।
তিনি বলেন, ‘একটা ম্যাচই সবকিছু বদলে দিতে পারে। আমরা এখনো টুর্নামেন্টে টিকে আছি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরের দেখায় আমাদের ভালো করতে হবে। শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের কারণে তাদের হারানো কঠিন। তবে আমরা যদি ২৬০-২৭০ রান করতে পারি তাহলে অবশ্যই তাদের হারাতে পারবো। আমাদের বোলিং এখনো পর্যন্ত ঠিক আছে, ব্যাটিংটাই মূল চিন্তার বিষয়।’
অধিনায়কের ব্যাটিং চিন্তা লাঘবে দেশ থেকে দুই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারকে দুবাই পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তিন ম্যাচেই ওপেনারদের ব্যর্থতার কারণেই তড়িঘড়ি করে উড়িয়ে নেয়া হচ্ছে এ দুজনকে।
তবে এ ব্যাপারে জানতেন না টাইগার অধিনায়ক। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাকে এটি জানানো হলে বলেন, ‘ আমি মাঠে ছিলাম। কাদের নেয়া হয়েছে তা জানিনা এখনো। স্কোয়াডে দুইজন খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও পরিষ্কার নয় আমার কাছে। শুনেছিলাম এ রকম কথা, তবে জানতাম না যে হয়ে গিয়েছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আইনগত ভিত্তি পেলেই ইভিএম ব্যবহার : সিইসি

দেশের খবর: আইনগত ভিত্তি পেলেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং ইভিএম ব্যবহার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ইভিএম অতিরিক্তভাবে চাপিয়ে দেয়া যাবে না। যতটুকু নিখুঁতভাবে ব্যবহার করা যাবে ততটুকুই ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ইভিএম নিয়ে মানুষের মাঝে সন্দেহ থাকবে, প্রশ্ন থাকবে। আমরা সেগুলো দূর করার চেষ্টা করব। পরিপূর্ণভাবে ইভিএম ব্যবহার করব। কোনো ধরনের ত্রুটি থাকলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না।’
‘আইনগত স্বীকৃতি পেলেই এটি (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। এ যন্ত্র ব্যবহার করলে ভোট গ্রহণ সহজ হবে, কষ্ট কমে যাবে, ভোট গণনা সহজ হবে এবং ভোট কারচুপি হবে না’ বলেন নুরুল হুদা।
রাজনৈতিক দলের নেতাদের ইভিএম সম্পর্কে ভালোভাবে জানার পরামর্শ দিয়ে সিইসি বলেন, ‘জানার পর মন্তব্য করলে ভাল হয়। আমাদের অবশ্যই আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ধাবিত হতে হবে। নির্বাচনের ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।’
২০১৮ সালের শেষে অথবা ২০১৯ সালের শুরুতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান সিইসি।
নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। কর্মশালায় ৫০ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নেবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সংসার ফে‌লে কাঠ‌মি‌স্ত্রির ফাঁ‌দে ইং‌রে‌জি স্কু‌লের শি‌ক্ষিকা

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানা এলাকার বাসিন্দা সোনিয়া সিকদার (ছদ্মনাম)। একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা। লেখাপড়া করেছেন দুবাইয়ে। তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী মোজাম্মেল সিকদার (ছদ্মনাম) লন্ডন থেকে এমবিএ পাস করে ব্যবসা করছেন দেশে। সোনিয়া-মোজাম্মেল দম্পতির সংসারে এক সন্তান।
এই উচ্চশিক্ষিত এবং বিত্তশালী পরিবারের গৃহবধূ সোনিয়া সিকদার হঠাৎ নিরুদ্দেশ। আনুমানিক ৩০ বছর বয়সের এই স্কুলশিক্ষিকাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। গত বছরের নভেম্বর মাসে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রীকে হারিয়ে গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হন স্বামী মোজাম্মেল সিকদার। এরপর শুরু হল গোয়েন্দা অভিযান।
অভিযানের শুরুতেই গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে, ওই শিক্ষিকা চট্টগ্রামে নেই। প্রযুক্তিগত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারা আরও বুঝতে পারেন, শিক্ষিকা সোনিয়া চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়ার সময়ই তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন।
প্রযুক্তির সহায়তায় সোনিয়ার অবস্থান সম্পর্কে অনেকটা নিশ্চিত হওয়ার পর গোয়েন্দা দল যশোর যাত্রা করে। সেখানে পৌঁছে একটি আবাসিক হোটেল থেকে ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করতে সমর্থ হন গোয়েন্দারা।
চট্টগ্রাম ছেড়ে যশোর কেন?-এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে যশোরের যুবক কাঠমিস্ত্রি তারিকুল ইসলামের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এই ফেসবুক তারিকুলের ডাকে তিনি সাড়া দিয়েছেন। চলে গেছেন যশোর। তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা জানার চেষ্টা করেন গোয়েন্দারা। পরে জানতে পারেন, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা সোনিয়া মার্জিত ও ভদ্র পরিবারের নারী। আর তিনি পড়েছেন একজন কাঠমিস্ত্রির খপ্পরে! তারিকুল প্রায়ই নানা অজুহাতে সোনিয়ার কাছ থেকে টাকা চাইতেন, আর সোনিয়া টাকা পাঠাতেন। একপর্যায়ে নিজেই চলে যান বখাটে তারিকুলের কাছে। অবশ্য, তারিকুলই যশোর যাওয়ার জন্য সোনিয়ার টিকিটের ব্যবস্থা করেছেন। সেই টাকা সোনিয়া আগেই তারিকুলের কাছে পাঠিয়েছিলেন।
যশোর নিয়ে যাওয়ার পর তারিকুল ইসলাম একটি আবাসিক হোটেলে রাখেন সোনিয়াকে। আর পরিকল্পনা করছিলেন ভারতে পাচার করে দেওয়ার। কিন্তু গোয়েন্দারা এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে সোনিয়াকে উদ্ধার করায় তাঁকে আর পাচার করা যায়নি। তবে ঘটনায় জড়িত তারিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয় গোয়েন্দারা। ওই ঘটনায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তারিকুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দীন বলেন, ‘স্কুল শিক্ষিকার বয়স ছিল প্রায় ৩০ বছর। তিনি ফেসবুকে বন্ধুত্ব তৈরি করেন ১৮ বছরের এক কাঠমিস্ত্রির সঙ্গে। যশোর পৌঁছার পর যখন ওই যুবকের সঙ্গে দেখা হয়, তখনই তিনি বুঝতে পারেন তিনি ফাঁদে পা দিয়েছেন। যে তরুণকে তিনি ফেসবুকে দেখেছিলেন, সেই যুবক আর সামনে দেখা যুবকের অনেক তফাৎ। অর্থাৎ, ওই যুবক ছদ্মপরিচয়ে শিক্ষিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করেছিল।’ তিনি জানান, ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করতে আর কিছুটা বিলম্ব হলে ভারতে পাচার করে দেওয়া হতো। সব আয়োজনই শেষ হয়েছিল। পাচারের আগেই তিনি ভাগ্যক্রমে উদ্ধার হন।
এ বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব করতেও সঠিক বিচার বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সুযোগ সন্ধানীরা ভার্চুয়াল বন্ধু হয়ে স্বার্থ হাসিল করতে পারে। এতে বাস্তব জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই সবারই আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।’
তাঁর মতে, যদি সোনিয়া পাচার হয়ে যেতেন, তাহলে তাঁকে উদ্ধার করা কঠিন হত। এতে সন্তান মা হারাত, স্বামী হারাতেন স্ত্রী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘জাতীয় ঐক্য’ কতটা জাতীয়?

অনলাইন ডেস্ক: অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে যুক্তফ্রন্ট নামের নতুন এক রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। শুরুতেই এই জোট ব্যাপক আলোচনায়। গণমাধ্যম সহ রাজনৈতিক মহলে তাদের নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই রাজনৈতিক জোট কতখানি প্রভাব বিস্তারকারী হতে পারে এনিয়ে নির্মোহ বিশ্লেষণের দাবি রাখলেও আদতে সেটা হচ্ছে না।
যুক্তফ্রন্ট জাতীয় ঐক্যের উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয়েছে বলে জোটের শীর্ষনেতারা দাবি করলেও তাদের বক্তৃতা বিবৃতিতে যা পরিস্কার তা হচ্ছে এটা সরকারবিরোধি এক জোট, এবং উদ্দেশ্যই তাদের সরকার পরিবর্তনের। এই জোট আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে, এবং সেটা সকল দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে তারাও আগ্রহী নয়, কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আগামী নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। সে লক্ষে প্রস্তুতিও নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশন। কয়েকটি মিটিং আর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেই গড়ে ওঠা এই জোটের এখন পর্যন্ত দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে তারা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বাইরে অন্য সরকার চাইছে সেটা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
‘জাতীয় ঐক্য’ যারা করবেন বলে জানাচ্ছেন তাদের সকলেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি চরমভাবে বিরক্ত, অথবা আরও একটু খোলাসা করলে বলা যায় তারা সরকারের প্রতি চরম বিদ্বেষপোষণকারী। যেকোনো মূল্যে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে তারা অন্য কাউকে ক্ষমতায় দেখতে চান- এটাই উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্যপূরণে তারা নিজেরা কতখানি দায়িত্ব নিতে আগ্রহী কিংবা সক্ষম এনিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে জাতীয় ঐক্য কেবল আওয়ামী বিরোধি ঐক্যের যে প্রক্রিয়া সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
যুক্তফ্রন্ট নামের যে রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছে তার নেতৃত্বে আছেন ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। আছেন ড. কামাল হোসেন, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নার মত নেতারা। বদরুদ্দোজ্জা চৌধুরী বাদে বাকি সকল নেতারা পূর্বে আওয়ামী লীগ থেকে বিভিন্ন সুবিধাদি প্রাপ্ত। এবং একটা সময়ে সেসব সুবিধা ভোগের পর আওয়ামী লীগ তাদের সরিয়ে দিয়েছে অথবা নিজেরা সরে গেছেন। এরপর থেকে তাদের রাজনীতির প্রধানতম লক্ষ্য আওয়ামী লীগ বিরোধিতা এবং সেটা দিবালোকের মত স্পষ্ট। আর বদরুদ্দোজা চৌধুরী নিজে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনীতিবিদ এবং একটা সময়ে বিএনপির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সেই দলের কারণেই তাকে সে পদও ছাড়তে হয়। তবে বিএনপি তার প্রতি নানা অবিচার আর অসম্মান করলেও এখনও তিনি বিএনপির প্রতি দুর্বল।
দেশে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এই দুই দলের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিমান হওয়ার কারণে দু’দলের যেকোনো একদলে আশ্রয় নিতে হয় অধিকাংশকেই। সে হিসেবে তার প্রতি বিবিধ অবিচার করা হলেও বি চৌধুরী বিএনপিকে ছাড়তে পারেন নি। ডানধারার রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া তার পক্ষে আওয়ামী লীগের প্রতি হেলে যাওয়ার সুযোগ সামান্যই। তাই বিএনপি যাই করুক না কেন বিএনপি তাকে ছাড়লেও তিনি দলটিকে ছাড়তে পারছেন না। আ স ম আব্দুর রব জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের প্রধান। পঁচাত্তরের বিয়োগান্তক ঘটনার পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ফের ক্ষমতায় আসার পর তিনি সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন। এরপর একটা সময়ে আওয়ামী লীগ ও তার মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। জাসদ অপর অংশের নেতা হাসানুল হক ইনুকে কাছে নিয়ে আসলে আরও দূরে সরতে থাকেন রব; এবং দলীয় শত্রু-খণ্ডাংশের বন্ধুকে নিজের শত্রু হিসেবেও জ্ঞান করতে শুরু করেন। মাহমুদুর রহমান মান্না আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন কিন্তু একটা সময়ে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে জেলেও যেতে হয় তাকে। ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে দূরে সরতে সরতে একটা সময়ে গণফোরাম নামের একটা পৃথক রাজনৈতিক দল গঠন করেন, এবং তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও আওয়ামীবিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এ নেতাদের রাজনীতি দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের বিরোধি শিবিরে। পাঁচ বছর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট যখন সরকার পতনের লক্ষে পেট্টোলবোমা-নাশকতার রাজনীতি করছিল, তখন একা আওয়ামী লীগ সরকারকেই এ দুঃসহ পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে হয়েছে। ওই সময়েও তারা সে সব নাশকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন নি। উলটো সরকারের নাশকতা দমনের লক্ষে চালিত বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। আওয়ামীবিরোধিতাই যে তাদের প্রকৃত লক্ষ সে নিয়ে তাই কোন প্রশ্ন নাই।
এই নেতারা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যের কথা বলছেন, এবং সেটা জাতীয় ঐক্যের নামে, কিন্তু জাতীয় ঐক্য যারা গড়তে চাইছেন তারা আগে থেকেই একটা পক্ষের বিপক্ষে। এই পক্ষ হচ্ছে সরকারপক্ষ। তাই তাদের জাতীয় ঐক্যের ধারণাটিকে জাতীয় ঐক্য বলা যায় না। কারণ তারা নিজ থেকেই সরকারকে এই ঐক্যের বাইরে রেখেছেন, অথবা ঐক্যের মধ্যে আনতে চান নি।
যুক্তফ্রন্টের দাবিকৃত জাতীয় ঐক্য তখনই জাতীয়ভাবে সমাদৃত হতো যখন তারা এই প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ ও শরিক দলগুলোকে একই প্ল্যাটফরমে নিয়ে আসতে চাইত। কারণ তারা স্বীকার করুক কিংবা নাই করুক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং তাদের বৃহৎ এক ভোটারশ্রেণি রয়েছে। এই বিশাল ভোটারশ্রেণিকে বাইরে রেখে কীভাবে জাতীয় ঐক্য হয়? এটা বড়জোর সরকারবিরোধি ঐক্য, জাতীয় ঐক্য নয় কোনোভাবেই।
যুক্তফ্রন্ট যারা গঠন করেছেন তাদের লক্ষ আওয়ামী লীগকে হটিয়ে নতুন সরকার। কী পরিকল্পনা তাদের এনিয়েও কিছু জানায় নি তারা। ফলে এই জোট উদ্দেশ্যবিহীন। দেশশাসনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নাই যাদের তারা কীভাবে আশা করে সরকার গঠনের? এছাড়া এই জোটের নির্দিষ্ট ক’জন ব্যক্তি ছাড়া সারাদেশে কি কোন নেতা-কর্মী-সমর্থক আছে? উত্তর- নাই! তাহলে? আর যারা কেন্দ্রে বিভিন্ন আলোচনা সভা আর সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন তারাও বা কতটুকু জনসম্পৃক্ত- এটাও প্রশ্নসাপেক্ষ। এই জোটের নামে নেতাদের কেউ যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করে তাহলে তাদের সম্ভাবনাই বা কতখানি? এসব ব্যাপারও আলোচনার দাবি রাখে, মূল্যায়নের দাবি রাখে।
যুক্তফ্রন্ট নামের জোট গঠনের পর তাদের কয়েকটি আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছেন বিএনপি নেতারা। ফলে ধারণা করাই যায় এই জোট আদতে বিএনপির একটা শাখা হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। অথচ তারা জাতীয় ঐক্যের নামে শুরু করেছিল।
যদি বিএনপির ২০ দলীয় জোটের সাথে তারা ঐক্য করে নির্বাচনে অংশ নেয় তবে মূল দল বা জোট হবে কোনটা? কারা এক্ষেত্রে আসন ভাগাভাগিতে মুখ্য ভূমিকায় থাকবে? যুক্তফ্রন্ট কি বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করবে, নাকি বিএনপি যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করবে? সেক্ষেত্রে কে কত আসন পাবে?
বিএনপি ও যুক্তফ্রন্টের ঐক্য হলে বাস্তবতা বিবেচনায় মূল দলের ভূমিকায় থাকবে বিএনপি। ফলে এই জাতীয় ঐক্য এক ফাঁপা বুলি ছাড়া আর কিছুই নয়। মিডিয়ায় কভারেজ পাওয়া বড় বড় নেতারা ও তাদের জোট মূলত নামসর্বস্ব এক জোটে কিংবা খণ্ডাংশে পরিণত হবে।
আগামির সরকার নিয়ে যুক্তফ্রন্টের বাস্তবতাভিত্তিক কোন কর্মসূচি না থাকলেও ওই জোটের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না জানিয়েছেন, তারা অন্তত দুই বছর ক্ষমতায় থাকতে চান। বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হচ্ছে এটা ধরে নিয়েই তিনি একথা বলছেন। তার দাবি, দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে এই দুইবছর তারা ক্ষমতা চান। অর্থাৎ বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট হয়ে নির্বাচিত হলে তারা বাকি তিন বছর বিএনপিকে দিতে চান। সরকারে এই ভাগাভাগি বিএনপি কতখানি মানবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না, তবে এরআগে তারা বিএনপির কাছে কত সংখ্যক আসন চান এবং পান সেটাও দেখার বিষয়।
যুক্তফ্রন্ট-বিএনপির ঐক্য হলে এটা আদতে বাংলাদেশের রাজনীতির কোন পরিবর্তন করবে না। দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার অবর্তমানে বিএনপি গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন এনে যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানিয়েছে সেই তারেক রহমান বাংলাদেশের একাধিক আদালত থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং আইনের দৃষ্টিতে তিনি পলাতক আসামি। নিকট ভবিষ্যতে তার দেশে ফেরার সম্ভবনাও কম। এই মামলাগুলো বাদেও তিনি বিতর্কিত ‘হাওয়া ভবন’-এর কর্ণধার, এবং নানা কারণে চরমভাবে বিতর্কিত। এই বিতর্কিত একজনকে নেতৃত্বে রেখে যুক্তফ্রন্টের সুশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলাটা রীতিমত স্ববিরোধিতা।
বিএনপির ২০ দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামি সহ এমন অসংখ্য দল রয়েছে যাদের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন নেই। এমন অনেক দল রয়েছে যাদের নাম পর্যন্ত অনেকেই জানে না। আগে থেকেই তারা ভোটের মাঠে কোনরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারে না, পারার কথাও না। এই দলগুলোর সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট নামের জোট অন্তর্ভুক্ত হলে সেটা আগের অবস্থার কোন পরিবর্তন আনতে পারবে বলে মনে হয় না। ভোটের মাঠের এই হিসাবেই বাইরে এই অন্তর্ভুক্তিতে লাভ যে একেবারে নাই, তা নয়। লাভ আছে, তবে সেটা স্রেফ মিডিয়া কভারেজের ক্ষেত্রেই।
তাই যতই ঢাকঢোল পেটানো হোক না কেন, কেবল আলোচনায় থাকা ছাড়া যুক্তফ্রন্টের রাজনৈতিক কোন সম্ভাবনা আদতে নাই। জাতীয় ঐক্য তাই কেবল ফাঁপা বুলি।সরকারি দল আওয়ামী লীগ, তাদের শরিক দলগুলো ও আওয়ামী লীগের বর্তমান মিত্র হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিও আসবে না এই জাতীয় ঐক্যে; ফলে জাতীয় ঐক্যের নামে যে আলোচনা হচ্ছে তা মূলত আওয়ামী লীগবিরোধি জোট।
স্রেফ সরকারবিরোধি কিছু দল আর জোটকে নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্যের’ নামে যে জোট গঠনের চেষ্টা চলছে সেটা কোনোভাবেই ‘জাতীয় ঐক্য’ নয়; এটাকে বড়জোর সরকারবিরোধি ঐক্য বলা যেতে পারে, জাতীয় নয়। এই জোট আলোচনায় না থাকা নামে বৃহৎ কতিপয় রাজনৈতিক নেতার আলোচনায় আসা ছাড়া আর কিছু নয়, তাদের রাজনৈতিক সম্ভাবনাও তাই শূন্য!
লেখক- কবির আহমদ,

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest