সর্বশেষ সংবাদ-
৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়াসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভাতালা থেকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ পাইকগাছায় উদ্ধারসাতক্ষীরা জেলা এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর এসোসিয়েশনের সভাসাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইড কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময়৯০ দশক ছাত্রদল প্লাটফর্ম এর সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠনসাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান চেয়ারম্যান আলিমেরএসএসসি ২০০০ সালের ব্যাচের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাতক্ষীরায় সিলভার জুবিলি “মেঘা মিটআপ-২০২৫” অনুষ্ঠিততালার সুভাষিনী গ্রামে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ চুরি : নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটসাতক্ষীরা জেলা আইনজীবি সমিতির ১১ সদস্য বিশিষ্ট্য আহবায়ক কমিটি গঠন

শহিদুল আলমের মুক্তির দাবি জানালেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক

অনলাইন ডেস্ক: কারান্তরীণ ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলমের মুক্তি দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ২৮ আগস্ট মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের আম‌লে শহিদুল আলমের আটক থাকা ‘খুবই উদ্বেগজনক এবং অবিলম্বে এই পরিস্থিতির ইতি ঘটা উচিত’ বলে মনে করেন টিউলিপ সিদ্দিক। দ্য টাইমস বলছে, শহিদুল আলমকে আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে অনেকেই নিন্দা জানিয়েছেন। এই তালিকায় যুক্ত হলেন টিউলিপ সিদ্দিকও। এর আগে শহিদুলের কারামুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল বিজয়ী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেত্রী, শিল্পী, লেখক ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা।
প্রতিবেদনে বলা হয় টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে তার নিজের নাগরিকদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। আশা করি আমাদের পররাষ্ট্র দফতর বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কাছে এ ব্যাপারে দৃঢ় বার্তা পাঠাবে।’ এর আগে ড. মোহাম্মদ ইউনুস এবং অর্মত্য সেনসহ ১১ জন নোবেলজয়ী গত সপ্তাহের শেষের দিকে শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন। তবে দ্য টাইমসে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, টিউলিপ সিদ্দিকের এই আহ্বানের বিষয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লী‌গের কোনও শীর্ষ‌ পর্যায়ের নেতা মন্তব্য কর‌তে রা‌জি হন‌নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অ্যালার্জি মুক্ত রাখলেও, দাঁতে নখ কাটা ভালো নয়!

স্বাস্থ্য কণিকা: দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই রয়েছে। সাধারণত এটি একটি বদ অভ্যাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শিশুকালে দাঁত দিয়ে নখ কাটার কিছু সুফলও রয়েছে এমন মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব শিশুরা দাঁত দিয়ে নখ কাটে এবং বৃদ্ধাঙ্গুল মুখে রাখে পরবর্তী জীবনে তাদের অ্যালার্জি হয় না।
ইউনিভার্সিটি অব ওটাগো’র গবেষকরা ১৯৭২-৭৩ সালে জন্ম নেওয়া ১ হাজার ৩৭টি শিশুর বড় হওয়ার পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে এ মত দিয়েছেন। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
দাঁত দিয়ে নখ কাটলে নানা ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ হাত থেকে আমাদের শরীরে জীবাণু প্রবেশ করে।
এর আগে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আবেগ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রাপ্ত বয়সীরা দাঁত দিয়ে নখ কেটে থাকেন।
গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৩ বছর বয়সীদের যাদের শিশুকাল থেকে এ দু’টি অভ্যাস রয়েছে তাদের ৩৮ শতাংশ সাধারণ অ্যালার্জি রয়েছে। অন্যদিকে ৪৯ শতাংশের কোনো অ্যালার্জি নেই। এর কারণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষক হ্যানকক্স। তিনি বলেন, এই অভ্যাসকে উৎসাহিত করার কোনো কারণ নেই। তবে যাদের শিশুকাল থেকে এই অভ্যাস রয়েছে তাদের পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এসব শিশুরা বড় হওয়ার পরে তারা অ্যালার্জি মুক্ত। এমনকি অ্যাজমা ধরনের রোগও তাদের কম হয় না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জামাই-শ্যালক নিয়ে রেলওয়েকে গ্রাস করছেন মহাপরিচালক!

দেশের খবর: জামাই-শ্বশুরের ইচ্ছায়ই এখানে সব হয়! এই দুজন ছাড়া রেলের কোনো কাজ হয় না। বদলি, পদোন্নতি, পদায়ন, বিদেশ সফর—সব কিছুতেই তাঁদের হাত থাকবে। এর বাইরেও একজন আছেন। তিনি রেলের কেউ নন, কিন্তু দুলাভাই রেলের বড়কর্তা হওয়ার সুবাদে একের পর এক কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন। বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে গত তিন বছরে শতাধিক কিলোমিটার রেলপথ মেরামতের কাজ করেছেন শ্যালক। সোমবার বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে রাজধানীর রেল ভবনে গেলে একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বজনপ্রীতি আর অনিয়মের ফলে রেল বড় রকমের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন ইঞ্জিন ও বগি কেনার মাধ্যমে রেলে যাত্রীসেবার মান বহুগুণ বাড়ানো যায়। কিন্তু এদিকে কর্তৃপক্ষের নজর নেই। তাদের যত আগ্রহ ‘লাভজনক’ প্রকল্পের দিকে। এই কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘এ মুহূর্তে খুলনা রেলস্টেশনে আধুনিক ভবনের চেয়ে ইঞ্জিন দরকার, কিন্তু জোর দেওয়া হচ্ছে ভবন নির্মাণে।’

আরেকজন কর্মকর্তা রেলের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে বলেন, ‘শ্বশুর বা জামাইয়ের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না রেলে। কারণ তাতে চাকরিজীবনে অনিশ্চয়তাসহ অন্যান্য হয়রানির ভয় রয়েছে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বর্তমান দায়িত্বে আছেন ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। এরপর তিন বছর আট মাসে রেল সামনে না এগিয়ে পিছিয়েছে, বেগতির রেলে গতি আসার বদলে আগের চেয়েও স্থবির হয়েছে—এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ পাওয়া গেছে, প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া, কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, বদলি, সাজা পাওয়া কর্মচারীদের শাস্তি কমানো থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন মহাপরিচালক। কেউ তাঁর মেয়ে জামাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই ‘শাস্তির ভয়’ দেখানো হয়। মেয়ে জামাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর পশ্চিম রেলে তাঁকে বদলির জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, নানা অজুহাতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ‘বাণিজ্য’ করা হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে কলকাঠি নাড়ায় মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গড়ে তোলা সিন্ডিকেট। ‘কর্মকর্তা-কনসালট্যান্ট-কন্ট্রাক্টর’ নামের ত্রিশক্তির সিন্ডিকেটের প্রধান সমন্বয়ক এখন আমজাদ। জানা যায়, আমজাদ হোসেন নিজে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। এই সুবাদে রেলের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রকৌশল বিভাগ) বিভাগের কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। কনসালট্যান্সি সার্ভিসের নামে সাবেক কর্মকর্তারা প্রকল্প মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই বর্ধিত মূল্যের কাজ যাতে শুধু দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কেউ না পেতে পারে সে কাজটিও এই কনসালট্যান্টদের মাধ্যমে করা হয়। প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প ছকে (ডিপিপি) এমন সব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যাতে এই দুটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ না পায়।

রেলের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি বিভাগ ট্রেন চলাচলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এর মধ্যে আছে পরিবহন, সিগন্যাল ও টেলিকম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, যান্ত্রিক, স্টোর ও বৈদ্যুতিক বিভাগ। দীর্ঘদিন অবহেলিত রেলের সুষম উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সব বিভাগের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এগুলোর ৫০টিই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এবং তা মোট প্রকল্প মূল্যের ৮৫ শতাংশ। আর এই প্রকল্পগুলোর ৯৫ শতাংশই ম্যাক্স লিমিটেডসহ আরো একটি প্রতিষ্ঠানকে ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে। অথচ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ শুধু পূর্ত কাজ, রেললাইন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। তারা ট্রেন পরিচালনা, যাত্রীসেবা, পণ্য পরিবহন, রাজস্ব আয়, ইঞ্জিন, কোচ, ওয়াগন সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি কোনো কাজে জড়িত নয়।

রেলের কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৬০ জনকে ডিঙিয়ে জামাতা মামুনুলকে পদোন্নতি দিয়ে পরিচালকের (সংগ্রহ) মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন মহাপরিচালক। সব দরপত্র আহ্বান ও মালপত্র কেনা হয় মামুনুলের দপ্তর থেকে। জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামুনুলের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। আমজাদ তা ধামাচাপা দিয়েছেন। আমজাদ দায়িত্ব নেওয়ার পর মামুনুল রেকর্ডসংখ্যকবার বিদেশ সফরে গিয়েছেন। গত ৩ থেকে ১২ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে তাঁকে জাপান পাঠানো হয়।
জানা গেছে, মামুনুলের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী অপপ্রচার এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর রেল ভবনে এক সভায় রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক মামুনুলকে রেল ভবন থেকে পশ্চিমাঞ্চলে বদলি করার তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

মামুনুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ৯ মাস ধরে বর্তমান পদে কাজ করছি। তদবির, সুপারিশের অভিযোগ তোলা হচ্ছে যোগ্য মহাপরিচালক ভালো কাজ করছেন বলে। রেলে মহাপরিচালকের সমান্তরাল কেউ নেই। আমার চেয়ে বেশি বিদেশ ভ্রমণকারী অনেক জুনিয়রও আছেন।’

আমজাদের শ্যালক ঠিকাদার মো. বদরুল আলমের বাড়ি সিরাজগঞ্জের নতুন ভাঙ্গাবাড়ীতে। জানা যায়, বদরুলকে কাজ দেওয়ার জন্য মহাপরিচালক নিজে বারবার কর্মকর্তাদের ফোনে নির্দেশনা দেন। পশ্চিমাঞ্চলের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মকর্তাদের সহায়তায় বদরুল গত তিন বছরে শতাধিক কিলোমিটার রেলপথ মেরামতের কাজ করেন। যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে তিনি কাজ করেন এর মধ্যে আছে—১. মো. বদরুল আলম, নতুন ভাঙ্গাবাড়ী, সিরাজগঞ্জ, ২. মেসার্স এইচ কে ট্রেডিং, হাউস নং-১৪৪, শিরোইল ঘোড়ামারা, রাজশাহী, ৩. মো. আব্দুল কাইয়ুম, পাকশী, পাবনা, ৪. এশিয়া এন্টারপ্রাইজ, গৌরহাংগা, ঘোড়ামারা, রাজশাহী, ৫. মেসার্স মামুন ট্রেডিং, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী ও ৬. মেসার্স জারমান আলী, শিরোইল কলোনি, ঘোড়ামারা, রাজশাহী।

অভিযোগ রয়েছে, বদরুল রেলের বাতিল বা স্ক্র্যাপ মালামাল সংগ্রহ করেন ঢাকার মেসার্স হামিদ স্টিল করপোরেশন, দ্য ন্যাশনাল আয়রন স্টিল ওয়ার্কস ও মেসার্স মাসুদ ইস্পাত ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে এবং এগুলো দিয়েই রেললাইন মেরামতের কাজ করে থাকেন। ফলে কাজের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হচ্ছে।

তবে বদরুল আলম বলেন, ‘দুলাভাই ডিজি হওয়ার পর আমি তাঁর অফিসে যাইনি। কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করিনি যাতে আমার দাপট প্রকাশ পায়। আমি ২৮ বছর ধরে রেলে ঠিকাদারি করছি। পাথর, স্লিপার সরবরাহ করি। এখন নাটোরে তেলের গাড়ি রাখার লুপ লাইন তৈরির কাজ ও খুলনায় গ্রিড-৪-এর কাজ করছি। তার আগে সিরাজগঞ্জে স্টেশন ভবন করেছি। আমি কখনো স্ক্র্যাপ কিনিনি, ব্যবহার করিনি। যারা অভিযোগ দিচ্ছে তারা মিথ্যা বলছে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণে ২০১৬ সালের অক্টোবরে ১৫০টি মিটার গেজ কোচ কিনতে উন্নয়ন প্রকল্প ছক তৈরি করা হয় রেলভবন থেকে। কর ও ভ্যাট ছাড়া এগুলোর দাম ধরা হয় ৬৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অথচ এডিবির ঋণে একই ধরনের কোচ কেনায় ব্যয় হয় ৫২৭ কোটি টাকা। কোচগুলো কেনায় ১৫১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়। রেলের কোচ কেনায় ভ্যাট ও কর বাবদ ৪০ শতাংশ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। এ হিসাবে ১৫০টি কোচ কেনায় ভ্যাট-কর দিতে হবে ৬০ কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২১১ কোটি টাকা। প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে মহাপরিচালকের নির্দেশনানুসারে। এ বিষয়ে রেলের পরিকল্পনা শাখার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তাঁর নির্দেশ ছাড়া কোনো কাজ করি না। তিনি অনুমতি দিলেই তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাই।’

রেলভবন ঘুরে জানা যায়, ডিজির জামাতা ‘ম্যানেজ’ হলে আর কোনো কর্মকর্তাকে পেছনে তাকাতে হয় না। উচ্চাভিলাষী অনেক কর্মকর্তা এ সুযোগটি নিচ্ছেনও। প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য ৪০ লাখ, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদের জন্য ৩০ লাখ, বিভাগীয় প্রকৌশলী পদের জন্য ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার অলিখিত নিয়ম চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য পদভেদে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ আছে।

ডিজি যা বললেন : এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) আমজাদ হোসেন অস্বীকার করেন। মো. আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি কোনো সিন্ডিকেট গড়েননি। মেয়ের জামাইয়ের কোনো প্রভাব নেই। বরং মেয়ের জামাইয়ের পদোন্নতি তিনি আটকে রেখেছেন নিজে ‘নিরপেক্ষ’ থাকার জন্য। শ্যালক বদরুল আলম ৩০ বছর ধরেই ঠিকাদারি করছে দাবি করে তিনি বলেন, বদরুল গত পাঁচ বছরেও তাঁর দপ্তরে আসেনি। তাঁর ভাষায় : ‘আমার মেয়ের জামাইকে দেখলে কেউ বলবে না সে কোনো অনিয়ম করছে।’

তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর সিন্ডিকেট গড়েছেন কি না জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, ‘বিনিয়োগের বড় অংশ চলে যায় পাথর আমদানি, পরামর্শকদের পেছনে ব্যয়ের আয়কর ও ভ্যাট আর ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ। পাথরে শুল্ক দিতে হয় ৭৪ শতাংশ, বিদেশি ও দেশি পরামর্শক ব্যয়ে যাথাক্রমে ৩৫ ও ২৭ শতাংশ আয়কর দিতে হয়। বিনিয়োগ প্রকল্পের ৪০-৫০ শতাংশই চলে যায় ভ্যাট-ট্যাক্সে। আমি কেন সিন্ডিকেট করব? আমি রেলের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সব বিভাগের কাজেই আন্তরিক।’

একটি নতুন ইঞ্জিনের দাম ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ১০০টি ইঞ্জিন কিনতে দরকার মাত্র তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা। অথচ এই ১০০টি নতুন ইঞ্জিন কেনা হলে বাংলাদেশ রেলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কয়েক গুণ বেড়ে যেত। তা কেন করা হয়নি জানতে চাইলে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘৪৬টি ইঞ্জিন কেনা হয়েছে। আরো ১০০টি আসবে। ২৭০টি কোচ আমদানি করা হয়েছে। আরো ১০০০টি আসবে। তখন রেলের চেহারা পাল্টে যাবে।’ কেন ইঞ্জিন ও কোচ আনার প্রকল্প কম তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একা প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে জড়িত নই।’ বদলি বাণিজ্যের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন আমজাদ।

তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সিনিয়রদের ডিঙিয়ে পদোন্নতি দেওয়ার পর আবারও পদোন্নতির সুযোগ আছে মামুনুুলের জন্য, কিন্তু রেলভবনে কমিশন বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতেই পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে এ অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমাকে দুর্বল করার জন্য অবসরে যাওয়া একটি মাফিয়া চক্র আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিচ্ছে। আমি আজই অবসরে যাওয়ার আবেদন করছি।’
সূত্র: যুগান্তর অনলাইন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
খুশকি তাড়াতে ঘরোয়া উপায়

লাইফস্টাইল সংবাদ: খুশকি তাড়াতে কত কিছুই না করে থাকেন আপনি। খুশকি তাড়াতে বাজারে নানা ধরনের শ্যাম্পু পাওয়া যায়। কিন্তু এসব শ্যাম্পু খুশকি তাড়াতে সাহায্য করলেও শ্যাম্পুতে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় বলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে আপনার চুলের অনেক ক্ষতি হয়।

তাই কিছু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে নিজেই বানিয়ে নিন প্রাকৃতিক হেয়ার মাস্ক।ঘরোয়া উপায়ে দুর করুন চুলের খুশকি।

আসুন জেনে নেই ঘরোয়া উপায়ে কীবাবে তাড়াবেন চুলের খুশকি।

দই, মধু ও লেবুর মাস্ক

যা লাগবে

আধাকাপ টক দই, এক টেবিল চামচ লেবুর রস আর এক টেবিলচামচ মধু।

যেভাবে বানাবেন

সবকয়টা উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে একটা মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন। চুলের গোড়াসহ পুরো চুলে ভালো করে মেখে আধ ঘণ্টা রাখুন। সালফেট বিহীন কোমল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার থেকে দুইবার করলেই ফল পাবেন।

কেন উপকারী

লেবুর রসের অ্যাসিড মাথার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স আর তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে রাখে, মধু আর দই আর্দ্রতা জোগায়।

নারিকেল তেল

যা লাগবে

শুধু তিন টেবিল চামচ নারিকেল তেল

যেভাবে বানাবেন

নারিকেল তেলটা একটু গরম করে নিন। মাথায় আঙুল দিয়ে ধীরে ধীরে মাসাজ করুন। অন্তত ১০-১৫ মিনিট মাসাজ করবেন। পুরো মাথা তেল দিয়ে মাসাজ করা হয়ে গেলে বাকি তেল চুলে লাগিয়ে নিন। আধঘণ্টা তেল চুলে বসতে দিন। তারপর কোমল সালফেট বিহীন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কেন উপকারী

নারিকেল তেলের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ রয়েছে। নারিকেল মাথার ত্বকের গভীরে ঢুকে তা খুশকি কমিয়ে থাকে।

জবাফুল আর মেথি

যা লাগবে

১০-১২টা জবাপাতা, এক টেবিলচামচ মেথি আর আধকাপ টক দই।

যেভাবে বানাবেন

মেথি সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ভেজানো মেথি আর জবাপাতা একসঙ্গে বেটে নিন। এই মিশ্রণে মেশান টক দই। এবার পুরো মাথা আর চুলে ভালো করে মেখে আধঘণ্টা রাখুন। কোমল সালফেট বিহীন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই তিনবার করতে হবে।

কেন উপকারী

জবাপাতা খুশকির অব্যর্থ ওষুধ, একইসঙ্গে চুলের শুষ্কতা কমাতেও কার্যকর। মেথির গুণের সঙ্গে জবাপাতার গুণ মিশলে খুশকি তো যাবেই, চুলও হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হানিমুন থেকে পালিয়েছিলেন অজয়!

বিনোদন সংবাদ: বলিউডের হ্যাপি কাপল অজয় দেবগান এবং কাজল। ১৮ বছর আগে ঘর বাঁধেন তারা। এরপর হানিমুন। তবে এই হানিমুন ছিল একটু ভিন্ন। কারণ তাদের ইচ্ছে ছিল বিয়ের পর দু’জন পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখবেন। কিন্তু সেই হানিমুনের মাঝ পথে জল ঢালেন অজয়! ১৯৯৯ সালে সেই ঘটনা ১৮ বছর পর প্রকাশ করলেন কাজল।

সম্প্রতিক একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বিয়ের পর ৬০ দিনের জন্য বেরিয়ে পড়েন তারা। অস্ট্রেলিয়া থেকে লস অ্যাঞ্জেলস হয়ে লাস ভেগাসে ঘুরছিলেন এই দম্পতি। তবে হঠাৎ ঠুনকো অজুহাতে সেখান থেকে পালিয়ে যান অজয়।

কাজলের বলেন, ‘আমরা তখন গ্রিসে। ৪০ দিন হয়েছে ঘুরছি। অজয় একটু ক্লান্ত ছিল। একদিন সকালে আমাকে বলে, ওর জ্বর হয়েছে, মাথাব্যথা, আমি বলেছিলাম ওষুধের ব্যবস্থা করছি। কিন্তু ও সমানে বলে যাচ্ছিল, ওর শরীর খুব খারাপ। তখন আমি জানতে চেয়েছিলাম, কী করলে ঠিক হবে? সঙ্গে সঙ্গে ও বলেছিল, বাড়ি চল।

কাজল বলেন, মাথাব্যথার জন্য গ্রিস থেকে বাড়ি আসার কথা কেন বলেছিলেন অজয় তা তিনি বুঝতে পারেননি। হঠাৎ সে হনিমুনের মাঝপথে পালিয়ে এসেছিলেন!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জামায়াতকে ফেলে বাম-ডান সব নিয়ে ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’ করছে বিএনপি!

দেশের খবর: জামায়াতকে বাদ দিয়ে ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’ করছে বিএনপি। এই ঐক্যে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম থেকে শুরু করে অধ্যাপক ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারাসহ বাম, ডান সব ধরনের রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করে বৃহত্তর এই রাজনৈতিক ও নির্বাচনী জোটের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে চারটি জোট ‘জাতীয় এই ঐক্যফ্রন্টে’ যুক্ত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জোট চারটি হচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, বিকল্পধারার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি নেতৃত্বাধীন বাম মোর্চা এবং চরমোনাইর পীরের ইসলামী শাসনতন্ত্র নেতৃত্বাধীন অপর একটি ইসলামিক মোর্চা (খুব শিগগিরই আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে)।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আন্দোলনসহ ন্যায়পরায়ণ ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচনী জোটই হতে যাচ্ছে এই ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’।

এ সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের এই বৃহত্তর ঐক্যে সব দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীকে স্বাগত। আমরা স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করে একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করব। যেখানে আইনের শাসন থাকবে, সর্বস্তরের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও জনগণের ভোটাধিকারসহ সব মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে কাজ করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই ঐক্যফ্রন্ট গঠনে সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে আসছেন। তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খানসহ আরও কয়েকজন সদস্য। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট ছাড়া ইতিমধ্যেই প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব। তাদের সবারই মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন তিনি। তারমধ্যে গণফোরাম ৭টি, বিকল্পধারা ১১টি, নাগরিক ঐক্য ৬টি, জেএসডি ১৫টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৯টি, প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়াও ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর কাছ থেকেও মতামত নিয়েছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতেই বিএনপি মোট ১০ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। বিএনপির তৈরি ১০টি প্রস্তাব ইতিমধ্যেই উল্লিখিত সব দলই গ্রহণ করেছে। এখন শুধু ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতাটুকু বাকি আছে। গত শনিবার রাজধানীর নাজিম উদ্দীন রোডের পুরনো জেলখানায় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের বিষয়ে তার চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে এসেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া বৃহত্তর এই নির্বাচনী ঐক্য গঠনের ক্ষেত্রে যে কোনো বাধা অতিক্রম করে তা বাস্তবায়নেরও নির্দেশনা দেন।

তবে জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারে এতদিন যুক্তফ্রন্টসহ বেশ কয়েকটি দলের আপত্তি থাকলেও দলগতভাবে জামায়াত এই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে না থাকায় সংশ্লিষ্ট বাম ও ডানপন্থি সব দলের পক্ষ থেকেই সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে দলগতভাবে জামায়াত এই বৃহত্তর ঐক্য না থাকলেও ইসলামিক এই দলটির কমপক্ষে ২০ জন নেতা ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে মনোনয়ন চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মতে, জামায়াত তো বিএনপির সঙ্গে আছে। বিএনপি কী করবে, সেটা তারাই ঠিক করুক। তবে বৃহত্তর এই ফ্রন্টের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। সময়মতো আপনারা সবই জানতে পারবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, বৃহত্তর এই রাজনৈতিক ঐক্যের জন্য জামায়াত কোনো বাধা নয়। নির্বাচনী কাজেও জামায়াতকে প্রয়োজনে সম্ভাব্য জোট নেতাদের আসনের বাইরে রাখা হবে। আর আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে যার যে এলাকা থেকে পাস করার অধিক সম্ভাবনা রয়েছে তাকেই মনোনয়ন দেবে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’।

অধ্যাপক ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, একমাত্র ভারসাম্যের রাজনীতিই স্বেচ্ছাচারমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে পারে। নির্বাচনে কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে দেশে স্বেচ্ছাচারী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, ইতিহাস আমাদের এ শিক্ষা দেয়। স্বেচ্ছাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই আমরা এই বৃহত্তর ঐক্য গঠনের চেষ্টা করছি।
এদিকে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রস্তাব এবং মতামতের ভিত্তিতে তৈরি বিএনপির ১০টি প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্যই হলো- ‘বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা’।

প্রস্তাবগুলো যথাক্রমে : ‘১. বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা। ২. একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। ৩. সব রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান। ৪. রাষ্ট্রকে দলীয়করণের ধারার বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠা। ৫. রাষ্ট্রক্ষমতার গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য। ৬. স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা। ৭. দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে কার্যকর করা। ৮. সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান। ৯. সর্বনিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবন নিশ্চিত করে আয়ের বৈষম্যের অবসান। ১০. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসনের প্রতিষ্ঠা।’

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- এই ১০টি প্রস্তাবের ভিত্তিতেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি। গত ১১ ও ১৩ আগস্ট দলের স্থায়ী কমিটির দুই দিনের টানা বৈঠকের পর এই ১০ দফা প্রস্তাব চূড়ান্ত করে বিএনপি। এরপর এই প্রস্তাবের কপি ড. কামাল হোসেন এবং বিকল্পধারা, নাগরিক ঐক্য, জেএসডিসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের দেওয়া হয় এবং তারা সবাই এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন বলে জানা যায়।
সূত্র: বাংলঅদেশ প্রতিদিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমায় খেজুর

স্বাস্থ্য কণিকা: আমাদের অনেকেরই পছন্দের ফলের তালিকায় থাকে খেজুর। তবে খেজুর যারা ভালোবাসেন তারা হয়ত খেজুর খেলে কী কী শারীরিক সমস্যা দূর হয় এই বিষয়টি জানতেন না? আর যারা পছন্দ করেন না তারাও আজ থেকে খেতে শুরু করুন খেজুর। কারণ খেজুরের উপকারিতা গুলো জানলে অবশ্যই আপনি খেজুর খেতে না করবেন না। এক নজরে দেখা নিন সেই গুণাবলী-
১। বহু যুগ ধরেই কার্যকরী ল্যাক্সাটিভ হিসেবে খেজুর ব্যবহার করা হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা ছাড়াও বদহজম, অ্যাসিডিটি এমনকি পাকস্থলীর আলসারেও উপশম আনে খেজুর।
২। রক্তে খারাপ কোলেস্টোরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়। এছাড়া সোডিয়ামের মাত্রা (একশো গ্রামে মাত্র ২ মিলিগ্রাম) কম থাকায় এবং পটাসিয়ামের মাত্রা (প্রতি একশো গ্রামে ৬৫৬ মিলিগ্রাম) বেশি থাকায় হৃদযন্ত্রের পেশির সক্রিয়তা বাড়িয়ে তোলে খেজুর।
৩। উচ্চমাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম থাকার কারণে শরীরে জলের ভারসাম্য রক্ষা করে খেজুর। স্নায়ুবিক দুর্বলতার সমস্যা কাটাতে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার।
৪। প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকায় দাঁতের রোগে উপকার করে খেজুর। নাইট ব্লাইন্ডনেস বা রাত্রিকালীন অন্ধত্বের সমস্যা মেটায়।
৫। জৈব সালফার থাকার কারণে বিভিন্ন ভাইরাল, ফাঙ্গাল, ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রমণ দূর করে খেজুর। বিভিন্ন ফুসফুসের সংক্রমণও মোকাবিলা করতে সাহায্য করে খেজুর।
৬। যারা সারাদিন শুধু খাই খাই রোগে ভোগেন, এক সঙ্গে বেশি খাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায় নিয়মিত খেজুর খেলে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১৬ বছর বয়সে বাল্য বিয়ে করেছিলেন মোসাদ্দেক!

খেলার খবর: বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী সামিনা শারমিন (সামিয়া)।

২২ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডারের মামলার কারণে কাবিননামা সূত্রে জানা গেছে, মোসাদ্দেক বিয়ে করেছেন আরও ৬ বছর আগে ২০১২ সালের ২৮ অক্টোবর। সেই হিসেবে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এ ক্রিকেটার।

তাহলে কি মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাল্যবিবাহের অপরাধ করেছিলেন মোসাদ্দেক? আপাতদৃষ্টিতে এই বিয়েকে বাল্যবিবাহই বলা যায়। কারণ ২০১২ সালে মোসাদ্দেক বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এমনকি বিয়ের ঠিক আগে যুব দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরও করেছিলেন তিনি।

এছাড়া দেশে ফিরে বিয়ে করতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। এমনটাই দাবি সামিয়া শারমিনের বড় ভাইয়ের (সম্পর্কে মোসাদ্দেকেরও খালাতো ভাই)। অভিযোগপত্র তিনি জানান বাল্যবিবাহের বৈধতা দিতে তখন নিজের বয়স বাড়িয়ে ২২ বছর লিখে দেন মোসাদ্দেক। কিন্তু কাগজপত্র অনুযায়ী ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ২২ বছর পূর্ণ হয়েছে তার।

শুধু বিয়ের কাগজে বয়স লুকিয়েই নয়, মোসাদ্দেক ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে বিসিবির সাথেও, এমনটাই জানান মোজাম্মেল কবির। এতো অল্প বয়সে জাতীয় দলে কোন বিবাহিত ক্রিকেটার নেয়া হবে না জানিয়ে মোসাদ্দেক নিজের বিয়ের খবরটি গোপন রেখেছিলেন বলে জানান মামলার প্রধান সাক্ষী ও সামিয়া শারমিনের বড় ভাই মোজাম্মেল কবির।

মামলার বিবরণীতে সামিয়া বলেন, আমার স্বামী বাংলাদেশ জাতীয় দলের একজন নিয়মিত ক্রিকেটার। সে খেলার অজুহাতে বেশির ভাগ সময় ঢাকার বাসায় বসবাস করতেন। মাঝে মধ্যে ময়মনসিংহে আসত। এই অবস্থায় আমি স্বামীর সংসার করতে থাকি।

জাতীয় দলের খেলোয়ার হিসাবে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করতেন। সে সুবাদে বিভিন্ন মেয়েদের সাথে তার পরিচয় হয়। বিভিন্ন জনের মাধ্যমে আমার স্বামীর পরকীয়া ও অবাধে মেলামেশার কথা জানতে পারি। পরে পরকীয়া ও অবাধে মেলামেশার কথা জানতে চাইলে, সে আমাকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত। এরই মধ্যে সে (মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত) ঢাকায় একটি ব্যবসা করবে বলে আমাকে বাবার বাড়ি থেকে দশ লাখ টাকা যৌতুক বাবদ এনে দেয়ার কথা বলে। টাকা না দিতে পারায় শাশুড়ির প্ররোচনায় মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আমার উপর শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। নির্যাতন সহ্য করে এ ভাবেই সংসার করতে থাকি। এর মধ্যে আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি বাবার বাড়িতে আসি। ১৪ আগস্ট আমাকে মোবাইল ফোনে তাদের বাড়িতে যেতে বলে। ১৫ আগস্ট দুপুরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও শাশুড়ি বলেন এক সপ্তাহের মধ্যে দশ লাখ টাকা না দিতে পারলে দশ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করবে বলে আমাকে জানায়।

পরে এর প্রতিবাদ করতেই আমার চুল ধরে নাকে-মুখে মারতে মারতে রক্তাক্ত করে ও বুকে-পেটে লাথি মেরে আমাকে ফেলে দেয়। আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন টের পেয়ে রক্ষা করে। পরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আমার বাবার বাড়িতে ফোন করে খবর দেয়। আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পরে আমার ভাই এনামুল হক সুমনের সাথে আমি বাবার বাড়িতে চলে আসি। এ অবস্থায় আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে মামলা করি।

অন্যদিকে স্ত্রী সামিরার মামলার বিষয়ে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ও আমাকে আলাদা সংসার গড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু আমার বাবা নেই, যে মায়ের কারণে আমি আজ ক্রিকেটার। সেই মাকে ছেড়ে কিভাবে আলাদা থাকি? এটা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমি ওকে এটা নিয়ে অনেক বুঝিয়েছি।’

সৈকত আরও বলেন, ‘আমি যখন খেলার কারণে ট্যুরে থাকতাম তখন ও আমার মার সঙ্গে ঝগড়া করত। মাকে একাধিকবার মেরেছেও। এসব কারণে আমি গত ১৬ আগস্ট তাকে কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স দেই।’

স্ত্রীর যৌতুকের অভিযোগ নিয়ে এ ক্রিকেটার বলেন, ‘দেখেন ওকে আমি গত ১৬ আগস্ট তালাক দিয়েছি। তার আগে ও কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। তালাক দেয়ার পর ও নাটক শুরু করেছে। আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসের চক্রান্ত করছে।

মোসাদ্দেক আরও বলেন, ‘আমি মনে করি যে এত খারাপ সময় আমার আসেনি যে যৌতুক নিয়ে আমার চলতে হবে। আমি শুনেছি যে ডিভোর্স দিলে নাকি এমন নারী নির্যাতন বা যৌতুকের একটা মামলা করা হয়। তারাও হয়তো তাই করেছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সাথে তার আপন খালাতো বোন সামিয়া শারমিনের বিয়ে হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest