মহাসাগরে ভাসমান মসজিদ, ৩ মিনিট পরপর খুলে যায় ছাদ

অনলাইন ডেস্ক: অদ্ভুত সুন্দর একটি মসজিদ। এর অবস্থান মরক্কোয়। দূরের কোনো জাহাজ থেকে দেখলে মনে হয়, ঢেউয়ের বুকে যেন মসজিদটি দুলছে আর মুসল্লিরা যেন নামাজ পড়ছেন পানির ওপর। দৃষ্টিনন্দন পানিতে ভাসমান এ মসজিদটির নাম গ্র্যান্ড মস্ক হাসান–২ বা দ্বিতীয় হাসান মসজিদ।
বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান কাসাব্লাঙ্কা শহরে এ মসজিদটি তৈরি করেছেন। মসজিদটির নির্মাণ কাজ করেছেন ফরাসি কোম্পানি বয়গিসের প্রকৌশলীরা। আর এর নকশা তৈরি করেছিলেন ফরাসি স্থপতি মিশেল পিনচিউ। একে ভাসমান মসজিদ বলার কারণ মসজিদটির তিনভাগের একভাগ আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর অবস্থিত।
মসজিদটিতে প্রায় ১ লাখ মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। এর মিনারের উচ্চতা ২০০ মিটার। আর মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা ৬৫ মিটার। মসজিদের ছাদটি প্রতি ৩ মিনিট পরপর যান্ত্রিকভাবে খুলে যায় বলে এর ভেতরে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। তবে বৃষ্টির সময় ছাদটি খোলা হয় না।
২২.২৪ একর জায়গার ওপর অবস্থিত এ মসজিদের মূল ভবনের সঙ্গেই আছে লাইব্রেরি, কোরআন শিক্ষালয়, ওজুখানা এবং কনফারেন্স রুম। ২৫০০ পিলারের ওপর স্থাপিত এ মসজিদের ভেতরের পুরোটাই টাইলস বসানো। মসজিদ এলাকার আশপাশে সাজানো আছে ১২৪টি ঝরণা এবং ৫০টি ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি।
মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৮৭ সালের আগস্ট মাসে। প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক ও কারুশিল্পীর পরিশ্রমে এটি প্রায় সাত বছরে নির্মিত হয়। ১৯৯৩ সালের ঈদে মিলাদুন্নবীর দিনে মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়। সেসময় এটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ৮০ কোটি ডলার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চলে গেলেন ‘একাত্তরের জননী’ রমা চৌধুরী

দেশের খবর: সকল চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরা দেশে চলে গেলেন একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী। সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

১৯৩৬ সালের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন রমা চৌধুরী। ১৯৬১ সালে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বলা হয়ে থাকে- তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম নারী স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রিধারী।

চার ছেলে সাগর, টগর, জহর এবং দীপংকরকে নিয়ে ছিল তার সংসার। কিন্তু একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর হাতে দুই ছেলেকে হারানোর পাশাপাশি নিজের সম্ভ্রমও হারান তিনি। পুড়িয়ে দেওয়া হয় তার ঘর-বাড়ি। তবুও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি এ বীরাঙ্গনা।

শুরু করেন নতুনভাবে পথচলা। লিখে ফেলেন একে একে ১৮টি বই। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘একাত্তরের জননী’। এসব বই বিক্রি করেই চলত তার সংসার। কোমরের আঘাত, গলব্লাডার স্টোন, ডায়াবেটিস, অ্যাজমাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি রমা চৌধুরী ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। রাতেই তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। কিন্তু কোন চেষ্টায় কাজে আসেনি। সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

চট্টগ্রামে রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার জন্য কিছুক্ষণের মধ্যে লাশ নেয়া হবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

রমা চৌধুরী ১৯৬২ সালে কক্সবাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মজীবন শুরু করেন। পরে দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত

কলারোয়া ডেস্ক: কলারোয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীশ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হয়েছে।
রবিবার (২সেপ্টেম্বর) উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, সনাতন ধর্ম স্বেচ্ছাসেবক পরিষদ ও শ্রীকৃষ্ণের দাস সম্প্রদায়ের উদ্যোগে মহাবতার ভগবান শ্রীশ্রী কৃষ্ণের ৫৩৪৪ তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে জন্মাষ্টমী পালন করা হয়।

পৌরসভাধীন তুলসীডাঙ্গার গোয়ালঘাটা পূজামন্ডপ প্রাঙ্গণে সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করে শ্রীশ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাব সম্পর্কিত আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য এড.মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুনিল সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহম্মেদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরাফাত হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য শেখ আমজাদ হোসেন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বুলবুল, পাবলিক ইন্সটিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এড.শেখ কামাল রেজা, শ্রীশ্রী ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুর জন্মভিটা আশ্রমের সভাপতি অধ্যাপক কার্তিক চন্দ্র মিত্র প্রমুখ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি, সুনিল সাহা, নিরঞ্জন পাল, হরেন্দ্র নাথ রায়, নিরঞ্জন ঘোষ, মাস্টার উত্তম কুমার পাল, নিখিল অধিকারী, জয় দাস, রামলাল দত্ত, নিত্যগোপাল রায়, সনাতনধর্ম সেচছাসেবক পরিষদের সভাপতি সন্দীপ রায়, সাধারণ সম্পাদক অর্জুন পাল, মাষ্টার উত্তম পাল, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ মনু, আনন্দ ঘোষ, অধ্যাপক অসিম ঘোষ, অসিম পাল বটু, উজ্জল দাশ, জয় দাস, আনন্দ সরকার, দিলিপ অধিকারী চান্দু, কলারোয়া নিউজের স্টাফ রিপোর্টার মিলন দত্ত ও গোপাল ঘোষ বাবু, পুতুল রানী শিকদার, অর্জুন পাল প্রমুখ।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ পাল।

দুপুরে বর্ণাঢ্য মাঙ্গলিক শোভাযাত্রা কলারোয়া পৌরসদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় হাজার হাজার ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাটকেলঘাটায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

পাটকেলঘাটা ডেস্ক: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মধ্যদিয়ে সারা দেশের ন্যায় পাটকেলঘাটার হিন্দু সম্প্রদায় জন্মাষ্টমী পালন করছে। হিন্দু পুরাণমতে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ জন্ম নেন। সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস, পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিলো।আজ বাংলা ১৬ই ভাদ্র ১৪২৫, ইংরেজি ২রা সেপ্টেম্বর ২০১৮ রোজ রবিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে পাটকেলেশ্বরী তীর্থক্ষেত্র, পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা থেকে লীলা পুরুষোত্তম পরমেশ্বর ভগবান শ্রী কৃষ্ণের ৫৩৪৪তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। উক্ত শোভাযাত্রায় সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের এমপি এডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, তালা উপজেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার রবীন্দ্রনাথ দাস, তালা উপজেলা সহকারি ভুমি কমিশনার অনিমেষ বিশ্বাস, পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম রেজা, বাবু নারায়ণ মজুমদার, সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মোঃ মতিয়ার রহমান, নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপু, সরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস আতিয়ার রহমান, পাটকেলঘাটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই, পাটকেলশ্বরী তীর্থক্ষেত্র উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক গোবিন্দ সাধূ, কোষাধ্যক্ষ হারান পাল, বীরেন্দ্র নাথ মহাতা, নর নারায়ন ঘোষ, সুশান্ত ঘোষ, দেবাশীষ মজুমদার,বিধান কাশ্যপী,সুজল নন্দী, সজয় পাল,মহাদেব চক্রবত্তী, মহানন্দ পাল ,আনন্দ দাশ প্রমুখ।এই সময় বিভিন্ন ব্যাক্তিবর্গসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মন্দির থেকে আগত শিক্ষার্থী ও কৃষ্ণভক্ত মন্ডলীরা মঙ্গল শোভা যাত্রা নিয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে মন্দির প্রঙ্গণে এসে মিলিত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আ. লীগ ক্ষমতায় না আসলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা থাকবে না-জগলুল হায়দার

কালিগঞ্জ ডেস্ক: বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার আগামী নির্বাচনে যদি আবার ক্ষমতায় না আসে তাহলে এদেশে সংখ্যা লঘুদের কোন নিরাপত্তা থাকবে না। বি,এন,পি জামাত জোট ক্ষমতায় আসলে প্রতিদিন এক লক্ষ লোক মারা যাবে। গ্রামে গ্রামে সংখ্যা লঘুদের বাড়িতে ২০০১ সালের মতন আগুন জ্বলবে, এদেশ থেকে সংখ্যা লঘুদের নিশ্চিন্ন করার চেষ্টা অব্যহত থাকবে।

তাই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি ভুলে যেয়ে ধর্ম নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে কাজ করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশকে ক্ষুদা মুক্ত সুখী সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান সরকার জনগণ এবং সংখ্যা লঘুদের জন্য ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে। আমি সংসদ সদস্য থাকাকালীন প্রতিটি মন্দির, গির্জা, মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক অনুদান দিয়েছি। আগামীতে ক্ষমতায় এলে তাদের কে ব্যাপক সাহায্য করা হবে।

তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন যাকে দেক না কেন নৌকা প্রতীক কে জয় লাভ করতে সকল কে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতেহবে। আমি সংসদ সদস্য হিসাবে নয় আমি একজন সেবক হিসাবে সব সময় আপনাদের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চাই। রবিবার কালিগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত জন্মাষ্টমী পালন উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু মুরাল পাদদেশে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এস.এম জগলুল হায়দার এই কথা গুলি বলেন।

শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাব তিথীতে ভক্তরা শুভ জন্মাষ্টমী পালন উপলক্ষ্যে কালিগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদ, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, আমিয়ান, রসিকানন্দ, গৌড়ীয় মঠ সহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক পৃথক ভাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৪৪ তম জন্ম বার্ষিকি পালন করে।

সকাল ১০টায় আমিয়ান, রসিকানন্দ, গৌড়ীয় মঠ আদর্শ সনাতন বিদ্যা পিঠের শিক্ষার্থী বৃন্দ ও জাতীয় হিন্দু মহাজোটের যৌথ আয়োজনে মঠের মহারাজ ভক্তি বৈভব কেশব এবং জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কালিগঞ্জ শাখার সভাপতি ডাঃ প্রতিরাম মল্লিকের নেতৃত্বে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা আমিয়ান মঠ হতে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে মঠ প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। আমিয়ান মঠের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেশব মহারাজ, উক্ত র্যালী মঠ প্রাঙ্গনে ধর্মীয় আলোচনা সভা, ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং অনুষ্ঠান শেষে প্রায় ৩,০০০ ভক্ত বৃন্দের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

অনষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট ও আমিয়ান রসিকানন্দ গৌড়ীয় মঠ যাযাবর মহারাজ, রসময় প্রভু (রবীন্দ্র মাষ্টার), ডা. পতিরাম মল্লিক, মাষ্টার প্রভাষ মন্ডল, গোপাল চন্দ্র সরদার, মনোরঞ্জন সরদার, রনজিত বিশ^াস, বিজিত বর্মন, নিরঞ্জন মন্ডল, শিখা রানী, দেবপ্রসাদ বাবু, গোপাল ভাইয়া, উজ্জ্বল মন্ডল, সুকদেব রায়, মনিন্দ্র মন্ডল, সাগর মন্ডল, প্রকাশ দেবনাথ, সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাষ্টার মৃত্যুঞ্জয় কুমার মন্ডল।

এরপর বেলা ১১টায় আদর্শ সনাতন বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং পুর্ণার্থীদের সমন্বয়ে একটি বিশাল বর্ণাঢ্য র্যালী উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে উত্তর কালিগঞ্জ বেলতলা মন্দিরে এসে শেষ হয়। র্যালী শেষে প্রসাদ বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১২টায় কালিগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের শোভাযাত্রা উত্তর কালিগঞ্জ কালি মন্দির প্রাঙ্গন থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহেদুজ্জামান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা মোহাম্মাদ শাহিন উদ্ধোধন করেন।

পরে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে মুরাল পাদদেশে কালিগঞ্জ পূজা উদযান পরিষদের সভাপতি সনৎ কুমার গাইন এর সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক ডাঃ মিলন ঘোষের স লনায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা মোহাম্মাদ শাহিন, কালিগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ হাসান হাফিজুর রহমান, কালিগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ মোজাহার হোসেন কান্টু, চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান সুমন, কালিগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সহ সভাপতি সজল মুখার্জী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্ঠান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণপদ সরকার, সাধারন সম্পাদক গোবিন্দ মন্ডল, কালিগঞ্জ পূজা উদ্্যাপন পরিষদের সহ সম্পাদক বরুন ঘোষ, রনজিত সরকার প্রমূখ।

আলোচনা সভা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল ছাত্রের মর্মান্তি মৃত্যু, আহত ৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে। রবিবার (০২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াঁবেকী রোডে এ ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নিহত জীবন (১৫) হেঞ্চি বঙ্গবন্ধু হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র। আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট এ সে দর্শক হিসেবে খেলা দেখতে গিয়েছিলো। ফেরার পথে সে সাইকেল চালিয়ে আসছিলো। স্কুলের খেলোয়াড়দের দুটি ভ্যানের দৌরাত্ম্যের বলি হন হেঞ্চি গ্রামের দিনমজুর নিমাই মন্ডল এর ছেলে জীবন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হেঞ্চি গ্রামের ইঞ্জিনভ্যান চালক জামাল গাজী ও মোশাররফ গাজী। তারা প্রতিনিয়ত রাস্তায় হাই স্পীডে ভ্যান চালিয়ে থাকে।এই দুই ভ্যানের রেসারেসির ভিতরে পেস্টি হয়ে পরপারে চলে যায় টগবগে তরুণ যুবক জীবন। তাকে স্থানীয়রা শ্যামনগর সদর হসপিটালে নিয়ে আসে কিন্তু তারা তাকে ফেরত দেয়। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সে পতিমধ্যে নলতায় মৃত্যুবরণ করে।

অন্যান্যদের মধ্যে হেঞ্চি বঙ্গবন্ধু হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র রিপন বিশ্বাসের মাথায় ৫ টি সেলাই ও একই শ্রেণীর জাহিদের ডান হাত ভেঙে গেছে। স্কুল ছাত্র জীবনের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ড. গোপালকে মাধবকাটি সাহিত্য পরিষদের সংবর্ধনা

জি.এম আবুল হোসাইন : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা কলেজের উপাধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র সরদারকে পি.এইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

মাধবকাটি সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি কবি ও নাট্যকার ডা. মো. সামছুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বেতারের কবি ও নাট্যকার বিশ্বজিৎ ঘোষ। সিকান্দার আবু জাফর সম্পর্কে ড. গোপাল চন্দ্র সরদারের লেখার উপরে আলোচনা করেন, বিশিষ্ট কথাশিল্পী মো. আমিনুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন, তালা সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ ও পঙ্কজ সাহিত্য মজলিসের সভাপতি প্রফেসর মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. খলিলুর রহমান সানা, সাংবাদিক প্রভাষক অহিদুজ্জামান লাভলু, মাষ্টার মফিজুর রহমান, জুলফিকার আলী প্রমুখ।

গোপাল চন্দ্র সরদার “লোক ধর্ম ও মতুয়া সম্প্রদায়” নামে একটি সমাজতাত্বিক সমীক্ষা শীর্ষক অভিসন্দর্ভের উপর ২০১৮ সনের ২৯ জুলাই তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এক আদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধীনে ড. নেহাল করিমের তত্তাবধানে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ‘সমাজ বিক্ষণ গবেষনা’ পত্রিকা নিয়মিত সম্পাদনা করে আসছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ড. কামাল, বি. চৌধুরী, রব, কাদের সিদ্দিকী ও মান্নাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্যাটায়ার

রাজনীতির খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বরাবরই ভিন্ন আমেজ লক্ষ করা যায়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কথার জাদুতে অতিথিদের যেমন হাসান, তেমনি হাসেন নিজেও। রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।

এদিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারবিরোধী জোটের পাঁচ নেতাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন। তার মন্তব্যে উপস্থিতি অতিথিদের তিনি হাসিয়েছেন, হেসেছেন নিজেও। এই পাঁচ নেতা হলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী বিএনপি থেকে বের হয়ে বিকল্পধারা নামে দল গঠন করলেন। এখন সেই দল স্বকল্পধারা হয়ে গেছে। একসময় তার বাবা কফিলউদ্দিন সাহেব ৫৬ সালে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের ক্যাবিনেটে একসঙ্গে ছিলেন। আমার আব্বাও ছিলেন। তিনি একসময় আমাদের খুবই ঘনিষ্ঠ। স্বাধীনতার পরপর আপনার ডাক্তার প্রোগ্রাম টিভিতে হতো, এটা বঙ্গবন্ধু তাকে করতে বলেছিলেন। সেখান থেকে তিনি খুব ভালো জনপ্রিয়তা পান। পঁচাত্তরের পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপি করতে যান। খালেদা জিয়াও তো তাকে সম্মান দেননি। তাকে বঙ্গভবন থেকে বের করে রেললাইনেরও ওপর দৌড় দেখালেন। তার ভাগ্যে সেটাই জুটলো।’

ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী আছেন, তিনি বলেছেন আদৌ নির্বাচন হবে কিনা? ড. কামাল হোসেন যে প্রশ্নটা করেছেন, সেখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে, তিনি নিজে আদৌ নির্বাচন চান কিনা? ড. কামালের সঙ্গে যারা এক হয়েছেন, তারা আদৌ নির্বাচন চান কিনা? এখানেই আমার প্রশ্ন। কারণ বাংলাদেশে তো একটা শ্রেণি বসেই থাকে, তারা মনে করে কোনও অসাংবিধানিক, অনির্বাচিত কিছু যদি ক্ষমতা দখল করতে পারে, তাহলে তারা একটা পতাকা পেতে পারে। তাদের একটু গুরুত্ব বাড়ে। আনকনটেস্টের কথা যিনি বলছেন, তিনি তো আনকনটেস্টে জিতে এসেছিলেন। জাতির পিতা একটি সিট তার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। সেই আসনে তিনি নির্বাচন করলেন। সেখানে আর কেউ নমিনেশন পেপার সাবমিট করেননি। তিনি নিজেও আনকনটেস্টেড। সেই আনকনটেস্টেড এমপি, যিনি নিজেকে সংবিধান প্রণেতাও বলেন, এখন দেখি তিনি সেই সংবিধানও মানতে চান না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারপরও সাধুবাদ জানাই, তারা কয়েকজন—ড. কামাল হোসেন, বদরুদ্দৌজা, তারপর আমাদের মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আবদুর রব। তারপর কাদের সিদ্দিকীও বসতেছেন। তারা সবাই মিলে একটা জোট করছেন। এটা ভালো। কারণ বাংলাদেশে তো পার্টি হচ্ছে দুটি। একটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ আরেকটি এন্টি অওয়ামী লীগ। তো আওয়ামী লীগবিরোধীদের তো একটা জায়গা লাগবে যাওয়ার। এজন্য তারা যে ঐক্য করছে, তাকে আমি সাধুবাদ জানাই। এই ঐক্যটা থাক। ভালো হোক। আমিও জিজ্ঞাসা করেছিলাম, রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত যে মিটিংটা হয়েছে নিশ্চয়ই ভালো খানাপিনা হয়েছে। মেনুটা কী ছিলো? এটা তো আপনারা কেউ লিখতে পারলেন না, বলতে পারলেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘‘একটা ঐক্য হচ্ছে ভালো। আর একটা বিষয় আপনারা জানেন যে, ড. কামাল হোসেনের পকেটে সবসময় টিকিট থাকে। আর তিনি যদি খুব গরম বক্তব্য দেন যে, ‘এখন থেকে সব কাজ বন্ধ’, তখন ধরে নেবেন যে তার প্লেন রেডি। বাক্সটা গাড়িতে। তিনি আমাদের সঙ্গে যখন ছিলেন আমরা দেখেছি তাকে।’’

কাদের সিদ্দিকী সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনিও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ৯৬ সালের পার্লামেন্টে হঠাৎ তার মাথায় কে কী ঢুকালো জানি না। এই মাকাল ফলটা তাকে কে দেখালো, আমরা জানি না। তিনি রিজাইন করে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে এলেন যে, আওয়ামী লীগের এমপিরা তাকে ভোট দেবেন। বিএনপির এমপিরা তাকে ভোট দেবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেই আশা নিয়ে পদত্যাগ করলেন। কিন্তু নির্বাচন করে আর জিতে আসতে পারলেন না।’

জাসদ একাংশের সভাপতি আ স ম রব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন অনেকেই তাকে বলতেন, ‘অসময়ে নীরব, সময়ে সরব, তার নাম আসম রব’। অবশ্য তিনি ছাত্রলীগও করেছেন। তিনি এখন সরব হচ্ছেন খুবই ভালো কথা।’’

সরকারবিরোধী জোটের আরেক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মান্নাও আমাদের দলে ছিলো। সে ভালো লিখতো। তবে বেশিরভাগ সময়ই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লিখতো। পরে আমাদের দলে যোগ দিলে আমাদের পক্ষে লিখতে তাকে বলা হয়। পক্ষে লিখতে বললে মান্না জুড়ে দেয় কান্না।’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ‘বে অব বেঙ্গল ইনেশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশ’ (বিমসটেক) সম্মেলনে যোগ দিতে দুদিনের সরকারি সফরে নেপাল যান। শুক্রবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দেশে ফেরেন তিনি।তার এই সফর নিয়ে রবিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest