সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় উৎসবমুখর আবহে এশিয়া পোস্টের যাত্রা শুরুসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে তালায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ  কোমরপুর দাখিল মাদ্রাসার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন  সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মৌয়াল আহততালায় খালে মাছ ধরতে এসে বৃদ্ধের মৃত্যুদেবহাটার সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যুসাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কালিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যদেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিন

উচ্চতা বাড়বে খাবারে

উচ্চতা বাড়বে খাবারে

কর্তৃক daily satkhira

স্বাস্থ্য কণিকা: সাধারণত মানুষের দেহের বৃদ্ধি ২১ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর এই বাড়ন্ত সময়ে যদি প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো রাখা যায় তবে দেহের উচ্চতা বৃদ্ধির গতি বৃদ্ধি পাবে।
তাহলে এবার জেনে নেওয়া যাক, কোন খাবারগুলি উচ্চতা বৃদ্ধি করতে বিশেষভাবে সহায়ক।

১) বাঁধাকপি: উচ্চতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে। কারণ বাঁধাকপিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন, প্রোটিন ও ফাইবার আছে।

২) ব্রোকলি: সামান্য তেতো স্বাদের কারণে অনেকে ব্রোকলি পছন্দ করেন না। তবে উচ্চতা বৃদ্ধিতে সবুজ রঙের এই সবজিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ফাইবার, আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা উচ্চতা বাড়াতে সহায়তা করে।

৩) পালং শাক: নিয়মিত পালং শাক খেলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল। আর এই উপাদানগুলি উচ্চতা বৃদ্ধি করে থাকে।

৪) ঢেঁড়স: ঢ্যাড়সে আছে ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট, জল ও ফাইবার যা গ্রোথ হরমোনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে উচ্চতা বাড়াতে সহায়তা করে। আর তাই উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক যে সবজিগুলি আছে, তার মধ্যে ঢ্যাড়স অন্যতম।

৫) মটরশুঁটি: মটরশুঁটি ছোট বড় সবাই বেশ পছন্দ করেন। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, লুটেইন ও প্রোটিন আছে যা শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং উচ্চতা বাড়াতে সহায়ক। তবে শুকনো মটরশুঁটিতে এই সকল উপাদান উপস্থিতি থাকে না।

৬) সয়াবিন: সয়াবিনের প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে যার টিস্যু ও হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিদিন ৫০ গ্রাম সয়াবিন খান আর দেখুন আপানার উচ্চতা কয়েক ইঞ্চি বেড়ে গিয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহেই।

৭) শালগম: শালগম অনেকেরই পছন্দের সবজি। এই শালগমই আপনাকে উচ্চতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। শালগমে আছে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, প্রোটিন, এবং ফ্যাট। এই উপাদানগুলো উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এখনো সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ : যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক: এখনো সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের মাটিতে সংঘটিত জঙ্গি হামলার সংখ্যা কমলেও ‘ইসলামিক স্টেট’ বা আইএসের মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর হামলার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।
প্রতিবেদনটিতে সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রশংসা করা হয়। এ ছাড়া সীমান্ত ও বিদেশে যাওয়া-আসার পয়েন্টগুলোতে বাংলাদেশের কঠোর নজরদারি প্রচেষ্টার প্রশংসা করা হয়। তবে এতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দায়ী করে বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত অন্তত ৪০টি হামলায় ভারতীয় উপমহাদেশীয় আল-কায়েদা (একিউআইএস) এবং আইএসআইএস দায় স্বীকার করেছে।
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‍্যাব) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট যৌথ উদ্যোগে সন্দেহভাজন সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এবং এতে অনেক সময় সন্দেহভাজন সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হত্যাও করা হয়। যেগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর আপত্তিও রয়েছে।
জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী, বাংলাদেশ তাদের সীমান্ত এবং বিমানন্দরের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে আসছে বলেও এতে বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের কট্টর ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে তাদের মতাদর্শ প্রচার করে থাকে। এ দেশের বহু জঙ্গির নাম-পরিচিতি সন্ত্রাসী গঠনগুলোর ভিডিও, ওয়েবসাইট এবং বক্তৃতায় পাওয়া গেছে।
আগের বছরের তুলনায় ২০১৭ সালে সারা দুনিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পরিমাণ ২৩ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়। ২০১৬ সালের প্রতিবেদনেও দেখা যায়, ২০১৫ সালের তুলনায় সন্ত্রাসী হামলার পরিমাণ কম।
গত বছর সর্বমোট ১০০টি দেশে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে, তার মধ্যে ৫৯ শতাংশ হামলা হয়েছে মাত্র পাঁচটি দেশে। এগুলো হলো আফগানিস্তান, ভারত, ইরাক, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন। আর এসব ঘটনায় নিহতদের ৭০ শতাংশই পাঁচটি দেশের নাগরিক। দেশগুলো হচ্ছে আফগানিস্তান, ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ও সিরিয়া।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অর্থপাচার: ২১ দফা অভিযোগের মুখে নাজিব রাজাক

বিদেশের খবর: রাষ্ট্রায়াত্ত বিনিয়োগ তহবিল ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারিতে ফের গ্রেপ্তার মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের ২১ দফা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি-বিরোধী কমিশন (এমএসিসি)।
ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বারহাদ (ওয়ানএমডিবি) থেকে ৬২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের অভিযোগে বুধবার পুত্রাজায়ায় গ্রেপ্তার করা হয় দেশটির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই তহবিল স্থানান্তরের ঘটনায় নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে মোট ২১ দফা আনতে যাচ্ছেন এমএসিসির তদন্তকারীরা।
এর মধ্যে পাচার হওয়া অর্থ গ্রহণের নয়টি, ওই অবৈধ অর্থ ব্যবহারের পাঁচটি, ওই অর্থ অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার সাতটি অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়া পুলিশের উপমহাপরিদর্শক নূর রশিদ ইব্রাহিম।
এর আগে গত জুলাইয়েও একবার নাজিব রাজাককে গ্রেপ্তার করেছিল এমএসিসি। ওই সময় তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ‍সাতটি মামলার তদন্ত চলছে।
বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে মালয়েশিয়াকে শীর্ষ অর্থনীতির দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে নাজিব রাজাক প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ওয়ানএমডিবি তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করেন।
কিন্তু পরে ওই তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে ওই অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। অবশ্য নাজিব রাজাক বরাবরই সেসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।
২০১৫ সালে নাজিব রাজাক যখন প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার আদালত তাকে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছিল। তখন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, সৌদি আরবের রাজ পরিবার নাজিবকে ব্যক্তিগতভাবে ওই অর্থ দিয়েছে।
কিন্তু গত মে মাসের নির্বাচনে সরকার বদলের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় এসে পুনরায় ওই দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দেন।
নাজিবের বিভিন্ন বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারের পর জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দাউদ ইব্রাহীম: ভারতীয় উপমহাদেশের কুখ্যাত মাফিয়া ডন

বিদেশের খবর: তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে অজস্র সিনেমা। তিন দশক যাবত তিনি মুম্বাই পুলিশ তথা ভারতীয় আদালতের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি, অন্যদিকে পাকিস্তানের কাছে একজন সুরক্ষিত মেহমান। করাচির ক্লিফটন বিচের কাছে তার অবস্থানকে প্রায় দুর্ভেদ্য করে রেখেছে পাকিস্তানের আইএসআই। বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত তার মাফিয়া চক্রের জাল। হাজার হাজার কোটি রুপি তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ধার দিয়েছিলেন বলে সন্দেহ পোষণ করেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। পাকিস্তানের নন্দিত ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াদাদের ছেলে জুনায়েদের সাথে নিজের মেয়ে মাহরুখকে বিয়ে দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন তিনি। তাকে ধরার জন্য ভারতীয় পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজেছে দিনের পর দিন; কিন্তুু নাগাল পায়নি। ফোর্বস ম্যাগাজিনে তার নাম উঠেছিলো পৃথিবীর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায়। প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করা কিংবা নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য যেকোনো পদক্ষেপ নিতে জুড়ি নেই তার। তিনিই হলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের অঘোষিত সম্রাট দাউদ ইব্রাহীম হাসান কসকর।

এক সৎ পুলিশ কনস্টেবলের অপরাধী পুত্র
ভারতের সবচেয়ে সম্পদশালী প্রদেশ মহারাষ্ট্রের উপকূলবর্তী অঞ্চল রত্নগিরির মুমকা জেলার অধিবাসী হাসান কসকর বোম্বে নগরীর ডুংরিতে এক সেলুনের দোকান দেন। হাসান কসকরের ছেলে ইব্রাহীম কসকর পড়াশোনা করে বোম্বে পুলিশে ঢোকেন। অনেক বছর চাকরি করার পর তিনি হেড কনস্টেবল পদে উন্নতি লাভ করেন। হেড কনস্টেবল পদটি যথেষ্ট সম্মানের। তাছাড়া মুসলিমদের মধ্যে এই পদে খুব কম পুলিশই যেতে পারতো। অত্যন্ত ধার্মিক ইব্রাহীম কসকর বিশ্বাস করতেন- মুখ দিয়েছেন যিনি, আহার দেবেন তিনি। তাই বিয়ের পর তিনি পরিবার পরিকল্পনাকে আমলে না নিয়ে একে একে ৭ ছেলে ও ৫ মেয়ের জন্ম দেন। এই হেড কনস্টেবল ইব্রাহীম কসকরের দ্বিতীয় ছেলেই হলেন অপরাধজগতের ভয়ঙ্কর ত্রাস, ভারতীয় আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘বাপ কা ডন’ দাউদ ইব্রাহীম।
দাউদ ইব্রাহীম ভেঙে দিয়েছিলেন অপরাধ সংগঠনের চেনা ছক, ক্ষেত্রবিশেষে তিনি ছিলেন ইতালিয়ান ও মেক্সিকান মাফিয়াদের চেয়েও ভয়ংকর; গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই ছিলো তার নেটওয়ার্ক। টাটা, বিড়লা কিংবা আম্বানীদের মতোই তিনি গড়ে তুলেছিলেন হাজার হাজার কোটি রুপির বিশাল এক সাম্রাজ্য।

বোম্বের অপরাধ জগতে দাউদের জড়িয়ে পড়া
বোম্বে নগরী মায়াময়, যাদুর শহর। সব সম্ভাবনা আর স্বপ্নের শহর। তেমনি এ শহর কালো টাকা আর অপরাধমূলক কাজেরও আখড়া। সদাব্যস্ত এ শহরে যে লাইনেই কাজ করা যায়, সেই লাইনেই টাকা। বোম্বে নগরীর দক্ষিণ প্রান্তে বিশাল সংখ্যক মুসলমানদের বাস। আর মুসলমানদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাঠানদের বাস। দেশভাগের পূর্বে তারা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ থেকে সেখানে বসবাস করতে এসেছিলো রোজগারের আশায়। দেশভাগের পরও তারা বোম্বে নগরী ছাড়েনি। কারণ দুর্ধর্ষ পাঠানরা ভয় কী জিনিস তা জানে না। হিন্দুদের তুলনায় মুসলমানরা ছিল শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে। আর অপরাধ প্রবণতায় মুসলমানদের ধারে কাছেও ছিল না হিন্দুরা।
দাউদ ইব্রাহীম সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে বোম্বের মুসলিম মাফিয়াদের সম্পর্কে জানতেই হবে। মুসলমান মাফিয়াদের আদিগুরু হাজী মাস্তান বোম্বের উপকূল জুড়ে চোরাচালানের ব্যবসা করে অঢেল বিত্তের মালিক হন। সঙ্গী শুকুর বখিয়াকে সাথে নিয়ে তিনি মহারাষ্ট্র-গুজরাট জুড়ে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। হিন্দি মুভির নায়িকা মধুবালার ভক্ত ছিলেন হাজী মাস্তান। দিলীপ কুমারের সাথে এক অনুষ্ঠানে দেখাও হয়েছিল তার। হাজী মাস্তানের সমসাময়িক পাঠান মাফিয়া ছিলেন করিম লালা। মারমুখী পাঠানদের নিয়ে তিনি দক্ষিণ বোম্বেতে বাস করে চাঁদাবাজির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। করিম লালা-হাজী মাস্তান জুটি মিলিতভাবে বোম্বের অপরাধ জগতের সম্রাট বনে যান। ঠিক সেই সময়টাতে দাউদ ইব্রাহীমের পিতা ইব্রাহীম কসকর ডুংরিতে বসবাস শুরু করেন।
২৬ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ সাল। জন্ম হয় দাউদ ইব্রাহীমের। তার জন্মের খবর শুনে ইব্রাহীম কসকরের বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে যান করিম লালা। করিম লালা যদি জানতেন, এই ছেলে বড় হয়ে তার অপরাধ সাম্রাজ্য ভেঙে তছনছ করবে- তাহলে নিশ্চয়ই তিনি মিষ্টি নিয়ে তাকে স্বাগত জানাতে যেতেন না।
সে যা-ই হোক, ছোটবেলা থেকেই দাউদ ইব্রাহীম দেখে আসছিলেন পিতার নিদারুণ অভাবের সংসার। কর্মসূত্রে এক ভুল বোঝাবুঝির ঘটনায় দাউদের পিতা চাকরি থেকে অব্যাহতি পান। অভাবের তাড়নায় সপ্তম শ্রেণীতে ওঠার পর দাউদ আর স্কুলে যাননি।
এরপর তিনি জড়িয়ে পড়েন ছিনতাই আর ছিঁচকে চুরিতে। পথচারীদের ভয় দেখিয়ে জিনিসপত্র লুট করার কাজে তার সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল বড় ভাই সাবির ইব্রাহীম। দুই ভাই মিলে ছোঠখাটো একটি দল বানিয়ে ফেললেন। বোম্বে জুড়ে তখন পাঠান মাফিয়াদের একচ্ছত্র রাজত্ব। ধীরে ধীরে সবাই টের পাচ্ছিল, দক্ষিণ বোম্বে থেকে হেড কনস্টেবল ইব্রাহীম কসকরের ছেলেও অপরাধজগতে হাত মকশো করছে।

সাবির ইব্রাহীম খুন: প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত দাউদ
দাউদ-সাবির দুই ভাই যখন ধীরে ধীরে বোম্বের অপরাধজগতে রাজত্ব করতে চাইলো, তখনই নারীঘঠিত কারণে খুন হয় সাবির ইব্রাহীম। এশিয়ার সবচেয়ে বড় পতিতালয় বোম্বের কামাথিপুরায় জনৈক দেহপসারিণীকে ভালো লেগে যায় সাবির ইব্রাহীমের। সেই পতিতাকে আবার নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান পাঠান মাফিয়া আমিরজাদা। এ দ্বন্দের জেরে আমিরজাদা খুন করে সাবিরকে। সঞ্জয় গুপ্তের মুভি ‘শ্যুটআউট এট ওয়াডালা’তে এ বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ঠাণ্ডা মাথায় নৃশংসভাবে শত্রুকে শেষ করার পরিকল্পনা করতেন দাউদ; source: The Logical Indian
আমিরজাদাকে হত্যা করার জন্য হন্যে হয়ে উঠে দাউদ ও তার দলবল। পরিচয় হয় কিলার বড় রাজনের সাথে। বড় রাজন দাউদের খেদমতে এক ভাড়াটিয়া খুনীকে প্রেরণ করে। তার নাম পরদেশী। সাবির হত্যা মামলায় আমিরজাদা তখন জেলে। দাউদ-বড় রাজন-পরদেশী, এই তিনজন মিলে সিদ্ধান্ত নেয় আমিরজাদাকে কোর্ট প্রাঙ্গনে হত্যা করা হবে। যে কথা সে কাজ। আমিরজাদাকে শত শত মানুষের সম্মুখে কোর্ট প্রাঙ্গনে হত্যা করে পরদেশী। কিন্তু সে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। গ্রেফতার হয় দাউদ ও বড় রাজন। যদিও বেশ কিছুদিন পর আবার জামিনে বেরিয়ে পড়ে দাউদ।

পাঠানদের পাল্টা হামলা ও দাউদ ইব্রাহীমের দেশত্যাগ
আমিরজাদা হত্যার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে পাঠানরা। এ হামলার মাস্টারমাইন্ড দাউদের সহচর বড় রাজন তখনও জেলে। বড় রাজনকে ঠিক সেই কায়দায় কোর্ট প্রাঙ্গনে হত্যা করার পরিকল্পনা করে তারা। পাঠান গ্যাং আলমজেব এজন্য আবদুল কুনজুকে ভাড়া করে। নির্ধারিত দিনে বড় রাজনকে কোর্টে তোলা হয়। পুলিশ নিরাপত্তার চাদরে কোর্টপ্রাঙ্গন ঢেকে ফেলে। কিন্তু হায়! আবদুল কুনজুর ভাড়া করা কিলার নৌবাহিনীর ইউনিফর্ম পড়া সাফালিকা ভদ্র মানুষের মতো কোর্ট প্রাঙ্গনে ঘোরাফেরা করতে থাকে। পুলিশের এই ধারণা ছিলো না যে, নৌবাহিনীর সদস্য সেজে কোনো কিলার পুলিশকে বোকা বানাতে পারে। পুলিশের আশেপাশেই কিলার অবাধে ঘুরতে থাকে, যেহেতু তাকে আর কেউ আটকায়নি। একদম কাছে এসে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে কথিত নৌ-সেনা বড় রাজনকে হত্যা করে।
এবার দাউদের পালা। বড় রাজন হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দাউদ পাঠান গ্যাংদের বিরুদ্ধে দাবার গুটি সাজাতে থাকে। উত্থান ঘটে ছোটা রাজনের। ছোটা রাজনের সাথে বিরোধ ছিলো পাঠান গ্যাং আবদুল কুনজুর। আবদুল কুনজু তখন জেলখানায়। ছোটা রাজন আবদুল কুনজুকে আবার কোর্ট প্রাঙ্গনে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। বোম্বে পুলিশ অপরাধীদের এসব প্রতিহিংসাপরায়ণ কাণ্ডকারখানা শক্ত হাতে দমন করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই কুনজুকে কোর্ট প্রাঙ্গনে হত্যা চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ছোটা রাজন অন্য পথ বেছে নেয়। একদিন কুনজুকে চিকিৎসার জন্য জেল থেকে হাসপাতালে আনা হলো। ছোটা রাজন সেই সংবাদ পড়ে আহত হওয়ার ভান ধরে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে পড়ল। চোখের পলকে সবাই দেখলো, হাতে-পায়ে ব্যান্ডেজ করা এক লোক হঠাৎ সুস্থ মানুষের মতো পিস্তল নিয়ে দৌড় দিলো। কুনজুর কেবিনে গিয়ে বৃষ্টির মতো গুলি ছুঁড়তে লাগলো সে। কুনজু খতম।
শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু- এই নীতি ধারণ করে মাফিয়া ডন দাউদ ছোটা রাজনকে তার দলে ভেড়ানোর জন্য উঠেপড়ে লাগলো। ছোটা রাজন দাউদের দলে যোগ দিয়ে দাউদের শক্তি বৃদ্ধি করলো। আরেক দুর্ধর্ষ পাঠান সামাদ খানকে দাউদ ছোটা রাজনের সহায়তায় হত্যা করলো। এভাবে একটার পর একটা খুনখারাবির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় পুলিশের খাতায় তার নাম উঠে গেলো চিরতরে। বোম্বে নগরী আর নিরাপদ মনে হলো না তার কাছে। ১৯৮৬ সালে দাউদ তার জন্মভূমি বোম্বে নগরী ছেড়ে দুবাই পালিয়ে গেলো।

হোয়াইট হাউজ ইন দুবাই: মাফিয়া ডন দাউদের নতুন আস্তানা
দুবাই শহর তখন বিকশিত হচ্ছে। ভারতীয় মাফিয়া ডনদের নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠে দুবাই। বন্দী বিনিময় চুক্তি না থাকায় দুবাইয়ে কোনো ভারতীয় গ্রেফতার হলেও তাকে ভারতে ফেরত আনা যেতো না। স্বর্ণ চোরাচালান, জাল টাকার ব্যবসা, অস্ত্র সরবরাহ, চাঁদাবাজি, কন্ট্রাক্ট কিলিং- এসব কাজ দুবাইতে বসেই করতো দাউদের কুখ্যাত ‘ডি কোম্পানি’। দাউদের দলে যোগ দেয় আবু সালেম, ছোটা রাজন, ছোটা শাকিল, লম্বু শাকিল, টাইগার মেমন- এসব কুখ্যাত ডনরা। পুরো মধ্যপ্রাচ্য আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে ছিলো দাউদের নেটওয়ার্ক। দাউদ নিজেকে মহিমান্বিত করার জন্য দুবাইয়ের জুমেরাহ বিচ সংলগ্ন তার বাসভবনের নাম দিয়েছিল ‘হোয়াইট হাউজ’।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই যে, বলিউডের সাথে দাউদের ছিলো চরম সুসম্পর্ক। বেনামে অনেক সিনেমার প্রযোজনা করতো দাউদ। শুধু তা-ই নয়, বলিউড নায়িকা মন্দাকিনীর সাথে দাউদের রোমাঞ্চের খবরও চাউর হয়েছিলো সিনে পত্রিকায়। হিন্দি সিনেমার পাইরেটেড সিডির ব্যবসাও ছিলো দাউদের নিয়ন্ত্রণে।
ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়, যখন বোম্বে নগরীতে ১৯৯৩ সালে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা হওয়ায় পাকিস্তানের আইএসআইয়ের ছত্রচ্ছায়ায় দাউদ বোম্বেতে বোমা হামলার পরিকল্পনা করে। এ কাজে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে টাইগার মেমন। এই বোমা হামলায় ২৫৭ জন লোক নিহত হয়। দাউদ হয়ে পড়েন ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী। আমিরাত সরকারের সাথে বন্দী বিনিময় চুক্তি করে দাউদকে পাকড়াও করার উদ্যোগ নেয় ভারত। সেই মুহুর্তে দাউদ পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। আইএসআইয়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই দাউদ করাচীতে আছেন বলে ভারতের গোয়েন্দাদের মতামত। ক্রিকেটার জাভেদ মিঁয়াদাদের ছেলের সাথে নিজের মেয়ের বিয়ের সময় দাউদ অনুষ্ঠানস্থল দুবাইয়ে হাজির থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আইএসআই তাকে অনুষ্ঠানে থাকতে নিষেধ করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর ভয়ে।
হাজার হাজার কোটি রুপি অবৈধ পথে আয় করে দাউদ করাচির রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও নাকি টাকা ধার দেন দাউদ! ওদিকে বোম্বে পুলিশ ক্রসফায়ারে প্রায় ১,৫০০ সন্ত্রাসীকে হত্যা করে। ভেঙে যায় বোম্বের মাফিয়াদের নেটওয়ার্ক। দাউদের সাঙ্গপাঙ্গদের মধ্যে কেউ ক্রসফায়ারে নিহত হন আর কেউ বা জেলে বন্দী আছেন। দাউদেরও বয়স হয়েছে। অপরাধী নেটওয়ার্ক গুটিয়ে এনে চুপচাপ পাকিস্তানে বসবাস করছেন তিনি। পাকিস্তান যদিও কখনো তা স্বীকার করে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হঠাৎ সূচি পরিবর্তনে ক্ষুব্ধ মাশরাফি

খেলার খবর: হংকংয়ের বিদায়ের মধ্য দিয়েই এশিয়া কাপের ‘সুপার ফোর’র চার দল নির্ধারিত হয়ে গেছে। তবে বাকি ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ নির্ধারণ। গতকাল ভারত-পাকিস্তান ও আজ বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচের পরই ঠিক হতো দলগুলোর অবস্থান।

যদিও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) সেসবের ধার ধারেনি। গ্রুপপর্বের দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই সুপার ফোর’র সূচি চূড়ান্ত করে ফেলেছে সংস্থাটি। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে এসিসির পাঠানো সূচি অনুযায়ী গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপ হওয়ার মূল্য আর থাকছে না। রাতের আঁধারে টুর্নামেন্টের সূচি বদলের বিরল ঘটনা ঘটালো এসিসি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে হলেও এশিয়া কাপের আয়োজক ভারত। আর তাদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা শুরু থেকেই করে আসছে এসিসি। ভারতীয় দল আবুধাবিতে খেলতে রাজি নয়। ভারতের সুবিধা টিকিয়ে রাখতে নগ্ন হয়ে নেমেছে এসিসি। যা পাড়ার ক্রিকেটেও আজকাল আর দেখা যায় না।

জানা গেছে, ভারতকে এ-১, পাকিস্তানকে এ-২ এবং শ্রীলঙ্কাকে বি-১, বাংলাদেশকে বি-২ ধরেই সূচি করেছে এসিসি। শ্রীলঙ্কা বাদ পড়ায় আফগানিস্তানকে বি-১ ধরা হচ্ছে। আগের সূচি অনুযায়ী গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে বাংলাদেশের সুপার ফোরের তিনটি ম্যাচ হতো আবুধাবিতে। রানার্সআপ হলে একটি দুবাই, দুটি আবুধাবিতে।

কিন্তু ভারত আবুধাবি যাবে না বলে পরিবর্তন এসেছে সূচিতে। এখন বাংলাদেশকে ‘বি-২’ ধরে করা হয়েছে। যেখানে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপের কোনো আলাদা গুরুত্ব নেই। আজ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আবুধাবিতে খেলবে বাংলাদেশ। ঠিক পরদিনই আবার সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে দুবাইয়ে খেলতে হবে ভারতের বিপক্ষে। পরের দুটি ম্যাচ আবার আবুধাবিতে।

সূচির এমন ‘বিস্ময়কর’ বদলে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ দল। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা গতকাল বলেছেন, এসব দেখে পাগলও ভালো প্রতিক্রিয়া দিবে না। আইসিসি একাডেমি মাঠে তিনি আরও বলেছেন, গতকাল সকালে মাঠে এসেই নতুন সূচি জানতে পেরেছেন। যেখানে বাংলাদেশকে ধরা হয়েছে ‘বি-২’ হিসেবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সূচিতে হঠাত্ এমন পরিবর্তন দেখে দারুণ হতাশ মাশরাফি। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সূচি বদল নিয়ে চিন্তা করার সুযোগই পাইনি। তবে অবশ্যই এটা হতাশার। প্রথম থেকেই আমাদের পরিকল্পনায় ছিল যে, আমরা যদি শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ম্যাচে হারাতে পারলে আমরা হয়ত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে যাব। এরপর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে গ্রুপ ‘এ’ রানার্সআপ দলের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ খেলবো সুপার ফোরে। কিন্তু আজকে (গতকাল) সকাল থেকে জানতে পারছি, আমরা আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতি আর হারি, আমরা ‘বি-২’ হয়ে গেছি। এটা অবশ্যই হতাশার।’
দল থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন, ‘জানি না। আমি তো মাঠে এসেই জানলাম। একটু আগেই ম্যানেজারের কাছে শুনেছি। এটা নিয়ে আর দ্বিতীয় প্রশ্ন করিনি।’
এসিসির এহেন কাণ্ডে বাকি দলগুলো বিস্মিত। যার সমালোচনা করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদও। গতকাল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাশরাফিও। তিনি বলেন, ‘একজন পাগলও এটায় ভালোভাবে রিঅ্যাক্ট করবে না। এটা অবশ্যই ঠিক না, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের টুর্নামেন্টে ম্যাচের আগের দিন আপনি শুনছেন যে, গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচের আগেই আমরা ‘বি-২।’
সবমিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখেই বাংলাদেশ দল। মাশরাফি বলেন, ‘এটা যদি বাংলাদেশে হতো, ওখানেও অনেক গরম, তবু ম্যানেজ করা যেত। কিন্তু এখানে শরীর থেকে যে পরিমাণ ঘাম বের হয়, যতটা শক্তি ক্ষয় হয়, সেটা রিকভারির জন্য নির্দিষ্ট একটা সময় দরকার। যেটা হবে না, ২১ তারিখের ম্যাচে অনেক প্রভাব পড়তে পারে।’

এশিয়া কাপের নতুন সূচি

তারিখ, ম্যাচ, ভেন্যু

২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-ভারত দুবাই

২১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান-আফগানিস্তান আবুধাবি

২৩ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তান-বাংলাদেশ আবুধাবি

২৩ সেপ্টেম্বর ভারত-পাকিস্তান দুবাই

২৫ সেপ্টেম্বর ভারত-আফগানিস্তান দুবাই

২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-পাকিস্তান আবুধাবি

২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনাল দুবাই

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আলোচনায় বসতে মোদিকে ইমরানের চিঠি

বিদেশের খবর: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে চেয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন। খুব স্পষ্টভাবে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে বলতে গেলে নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এই মাসের শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কোরেশী এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বৈঠকের কথা বলেছেন তিনি।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের মধ্যে একটা অর্থবহ এবং গঠনমূলক সম্পর্কে তৈরির আগ্রহের প্রেক্ষিতে এ চিঠি দিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এর আগে পাকিস্তানের নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তার বিজয়ী ভাষণে বলেছিলেন দু’দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভারত যদি এক ধাপ এগিয়ে আসে তাহলে পাকিস্তান দুই ধাপ এগিয়ে যাবে।
গত কয়েকসপ্তাহ ধরে এই কানাঘুষা চলছিলো যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সুষমা স্বরাজ এবং মাহমুদ কোরেশী মধ্যে বৈঠক হবে কিনা। গত মাসে পাকিস্তানে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ চিঠির মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনার জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলেন ইমরান খান।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ইমরান খান বলেছেন তিনি দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চান। এর আগে ২০১৫ সালে আলোচনা শুরু হলেও পাঠানকোট হামলার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে ইমরান খান বলেন ভারত এবং পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ এবং কাশ্মিরের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা করতে হবে।
এর আগে ২০১৫ সালে ডিসেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এশিয়া সম্মেলনে যোগ দিতে ইসলামাবাদ সফরে যান। সেটাই দু’দেশের মধ্যে শেষ আনুষ্ঠানিক আলোচনা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চুলে রং করলে যেসব সমস্যা হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক: নারী-পুরুষ উভয়েই নিজের মনের মতো করে চুল সাজিয়ে নেন পছন্দের রঙে। চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে অনেকেই চুল রং করে থাকেন। কিন্তু এতে বেশ কিছু সমস্যা হতে পারে। অনেকে এসব বিষয়ে অবগত না।
আজকের প্রতিবেদনে এমনই কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো:
* অতিরিক্ত চুল ভেঙে পড়া: অতিরিক্ত চুলের রং ব্যবহার করলে চুল ঝরে যাওয়ার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। চুল রঙের ক্ষতিকর রাসায়নিক চুলের ফলিকল একেবারেই নষ্ট করে দেয়।

* অ্যালার্জি: অনেকের ত্বক বেশি সংবেদনশীল হয়ে থাকে। ফলে সামান্য রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা মাত্রই অ্যালার্জির সমস্যা শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ পিপিডি অনেক বেশি অ্যালার্জি উদ্রেককারী রাসায়নিক যার প্রভাবে মাথার ত্বকে চুলকুনি, জ্বালা, ফুলে যাওয়া, র‌্যাশ ওঠা, খুশকি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়াও অ্যালার্জি যদি মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায় তাহলে চোখ ফুলে যাওয়া, চোখ, নাক ও মুখের চারপাশের ত্বকে অ্যালার্জির প্রকোপে র‌্যাশ দেখা দিতে পারে।
ফলে চুলের মাঝখান থেকে চুল ভেঙে যেতে শুরু করে এবং নতুন চুল গজানোতেও বাধা সৃষ্টি করে।

* ক্যান্সার: দ্য অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি-র গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পিপিডি মানুষের ডিএনএ সেল নষ্ট করে ক্যান্সারের কোষ উৎপন্ন করতে পারে। এই রাসায়নিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতেও সক্ষম। যার ফলে স্তন ক্যান্সারের আশঙ্কাও অনেকটাই বেড়ে যায়। যদিও চুল রং করার রাসায়নিক মিশ্রণে এই পিপিডি নামক বস্তুটি পাওয়া গিয়েছে খুবই সামান্য পরিমাণে তা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে আরো সতর্ক হওয়া উচিত।

* হাঁপানি: অবাক হলেও একথা সত্যি যে, চুলের রঙের জন্য হাঁপানির সমস্যা দেখা দিতে পারে বা বাড়তে পারে। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা নিয়মিত চুল রং করেন, তাদের ত্বকে অ্যালার্জি বা হাঁপানি হওয়ার প্রবনতা অনেকটাই বেশি। এখানেও কাজ করে সেই একই ক্ষতিকর রাসায়নিক পিপিডি।

চুলের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। রুক্ষ ও ভঙ্গুর হলে আপনার চুল রং করানোর উপযুক্ত নয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইউএনওদের জন্য উচ্চমূল্যে ১০০ জিপ গাড়ি

দেশের খবর: উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) জন্য উচ্চমূল্যে ১০০ জিপ গাড়ি কেনার প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
প্রতিটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৯১ লাখ টাকা ধরে সরকারি যানবাহন অধিদফতরের প্রস্তাবে আপাতত অনুমোদন দেয়া হয়নি।
সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি যানবাহন অধিদফতরকে এ ব্যাপারে একটি চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে এসব উচ্চ মূল্যের গাড়ি কেনার প্রয়োজনীয়তা এবং ইউএনও’দের বর্তমান গাড়ির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, গাড়ির প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে। কিন্তু ঢাকায় অবস্থান করে সরকারের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এক কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি ব্যবহার করেন না। অথচ উপজেলা পর্যায়ে এত উচ্চ মূল্যের গাড়ি কেনার যৌক্তিকতা দেখছে না মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি কোন প্রক্রিয়ায় গাড়ির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেটিও সুস্পষ্ট নয়। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে উচ্চ মূল্যের এসব গাড়ি কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদন দিলে অহেতুক সমালোচনার মুখে পড়তে পারে সরকার। এসব বিষয় বিবেচনা করে গাড়ি কেনা যৌক্তিকতা সুনির্দিষ্ট করতে বলা হয়েছে অধিদফতরকে। মূলত এ কারণেই গাড়ি কেনা বাবদ প্রায় ৯১ কোটি টাকার প্রস্তাব এই মুহূর্তে অনুমোদন দেয়া হয়নি।

জানা গেছে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি যানবাহন অধিদফতরে একশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মূলত সরকারের প্রয়োজনে মোটরযান ক্রয় করতে এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যানবাহন অধিদফতর ইউএনওদের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। অধিদফতরের গাড়ি কেনা সংক্রান্ত ‘কনডেম কমিটি’র বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এরপর গাড়ি কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। সম্প্রতি অর্থ সচিবকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে সরকারি যানবাহন অধিদফতর।
ওই চিঠিতে যানবাহন অধিদফতরের পরিবহন কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের গতিশীলতা আনতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ব্যবহারের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনা দরকার। এজন্য অধিদফতরের অনুকূলে বরাদ্দ থেকে ৯০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমতি প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হল।’

সূত্রমতে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা গাড়ি ক্রয়ের প্রস্তাবটি বিশ্লেষণ করে এর পক্ষে একমত হতে পারেনি। যে কারণে প্রাথমিকভাবে কেনার অনুমোদন না দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এর যৌক্তিকতার পাঁচটি বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। বিশেষ করে ইউএনওদের ব্যবহৃত গাড়ি অকেজো বলা হয়েছে।
এই অকেজো ঘোষণা সংক্রান্ত বিআরটিএ’র পরিদর্শক দলের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এছাড়া কোন কোন উপজেলায় ইউএনওদের গাড়ি অকেজো হয়েছে সে তালিকাও দিতে বলা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ইউএনওদের ব্যবহৃত গাড়িগুলো কত সালে ক্রয় করা হয়েছিল, গাড়ির মডেল কী এবং গাড়িগুলো কত মূল্যে কেনা হয়েছে- এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়।
এছাড়া গাড়ি কেনার জন্য কনডেম কমিটির বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের রেজুলেশনের অনুলিপি চাওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি গাড়ির মূল্য ৯০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা নির্ধারণের যৌক্তিকতার বিষয়টি সুস্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের জন্য সর্বশেষ ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২০৮টি গাড়ি কেনা হয়। এর আগে অর্থবছরে অর্থাৎ ২০০৬-০৭ সালে কেনা হয় ৪৭টি জিপ গাড়ি। গত ১১ বছর মোট ২৫৫টি গাড়ি কেনা হয় ইউএনওদের জন্য।
সরকারি যানবাহন অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি বিধান অনুযায়ী একটি গাড়ির আয়ুষ্কাল ন্যূনতম ৮ বছর। ইউএনওদের ব্যবহৃত গাড়িগুলোর আয়ুষ্কাল ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।

এছাড়া গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তায় বেশি চলাচল করে ইউএনওদের গাড়ি। যে কারণে গাড়িগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এসব গাড়ি মেরামতে অনেক ব্যয় হচ্ছে। এতে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এসব যৌক্তিকতা থেকে গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
অর্থ সচিবকে পাঠানো সরকারি যানবাহন অধিদফতরের চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কাজের স্বার্থে প্রতিস্থাপক হিসেবে ইউএনওদের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনা দরকার।
এসব গাড়ি কেনার পক্ষে সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকেও। গাড়ি কেনার জন্য প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে প্রাপ্ত দরপত্র চাওয়া হয়।
তাদের দেয়া দরপত্র অনুযায়ী প্রতিটি জিপ গাড়ির ক্রয় মূল্য হবে ৯০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ওই হিসেবে ১০০টি গাড়ি কিনতে ব্যয় হবে ৯০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
চিঠিতে আরও বলা হয়, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কাজের গতিশীলতা আনতে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুতি গাড়িগুলো কেনার প্রয়োজন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest