সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় শহরে দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে প্রশাসক হাবিবদেবহাটার আলোচিত শামীম হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তারআশাশুনিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ ওসি শাহিদুরেরসাতক্ষীরা সদরের বড়খামার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জমির গাছ কাটার অভিযোগতালায় মাছ চুরির অভিযোগে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগসাতক্ষীরায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস উদযাপিতশ্যামনগরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে চাচিকে হ#ত্যা: ঘাতক আটকভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেনসাতক্ষীরা সদরে ইউনিটি গ্রুপের ‘বিজনেস অপরচুনিটি’ সম্মেলন অনুষ্ঠিতসাংবাদিক সুজন ওসুজয়ের মায়ের ইন্তেকাল:প্রেসক্লাবের শোক

মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ান-জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলে অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে কার্যকর কিছুই করছে না মিয়ানমার। চুক্তি করেও চুক্তি বাস্তবায়ন করছে না তারা। যেহেতু রোহিঙ্গা সমস্যার উদ্ভব হয়েছে মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও হতে হবে ওই দেশে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ তথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের যে চুক্তি হয়েছে তা অবিলম্বে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সর্বোপরি দেশটির ওপর চাপ আরও বাড়াতে হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (নিউইয়র্কের স্থানীয় সময়) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

এর আগে বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের বৈঠক হয়। এ সময় বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেন মহাসচিব। রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদান করেছে। সাধ্যমতো তাদের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং শিশুদের যত্নের ব্যবস্থা করেছি আমরা। কিন্তু বিশালসংখ্যক জনগোষ্ঠীর ভার বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা দরকার।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় প্রথম থেকেই আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মিয়ানমার মৌখিকভাবে সব সময়ই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলে অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বিপুলসংখ্যক নিপীড়িত ও রোহিঙ্গার মতো নিজ গৃহ থেকে বিতাড়িত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আমার হৃদয়কে ব্যথিত করে। এ জাতীয় ঘটনাকে অগ্রাহ্য করে শান্তিপূর্ণ, ন্যায্য ও টেকসই সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে বিবরণ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাতে আমরা হতভম্ব। একজন মানুষ হিসেবে রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশাকে আমরা যেমন অগ্রাহ্য করতে পারি না, তেমনি পারি না নিশ্চুপ থাকতে। আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ওপর ঘটে যাওয়া অত্যাচার ও অবিচারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা যতদিন নিজ দেশে ফেরত যেতে না পারবেন, ততদিন সাময়িকভাবে তারা যাতে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বসবাস করতে পারেন, সে জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রেখে আমরা নতুন আবাসন নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা যারা সহানুভূতি দেখিয়েছেন এবং সাহায্য ও সহযোগিতা করে চলেছেন তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার সপক্ষে তার অবস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতিসংঘ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তার দৃঢ় সংকল্প তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘মেকিং দ্য ইউনাইটেড নেশন্স রিলেভেন্ট টু অল পিপল : গ্লোবাল লিডারশিপ অ্যান্ড শেয়ারড রেসপনসিবিলিটিজ ফর পিসফুল, ইক্যুইটেবল অ্যান্ড সাসটেইনেবল সোসাইটিজ’- উল্লেখ করে বলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য আমাকে অতীতের কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতির পাতায় নিয়ে গেছে।

তিনি এ সময় ব্যক্তিগত স্মৃতি রোমন্থনে ৪৪ বছর আগে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তার বাবা এবং বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় প্রদত্ত ভাষণটি স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন আজও অব্যাহত রয়েছে যা আমাদের মর্মাহত করে। এ সমস্যার আশু নিষ্পত্তি প্রয়োজন। ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে আমরা ওআইসির মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে তিনটি মৌলিক উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তা হল- শান্তি, মানবতা ও উন্নয়ন। তাই মানব সমাজের কল্যাণে আমাদের মানবতার পক্ষে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জনগণকে সেবা প্রদান এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মানবতা ও সৌহার্দই আমাদের টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৩০ বছরে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অধীনে ৫৪টি মিশনে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১০ জন শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বিশেষ অবদান রেখেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৪৫ জন শান্তিরক্ষী জীবনদান করেছেন। বর্তমানে ১০টি মিশনে ১৪৪ জন নারীসহ বাংলাদেশের মোট ৭ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষী নিযুক্ত রয়েছেন।’

বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদসহ সব সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমরা পরিচালিত হতে দেব না। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় আমাদের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে আমরা জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট রয়েছি। বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালে বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের বিবেচনায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৪৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মাথাপিছু আয় ২০০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮ সালে ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার গত অর্থবছরে ছিল শতকরা ৭ দশমিক ৮৬ ভাগ। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের শতকরা ৪১ দশমিক ৫ ভাগ থেকে শতকরা ২১ দশমিক ৪ ভাগে হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে হতদরিদ্রের হার ২৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলের জন্য সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং এ বিষয়ক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৬ বাস্তবায়নে তার সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ স্যানিটেশন এবং ৮৮ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানির সুবিধা পাচ্ছেন।’

দারিদ্র্য বিমোচনে পদক্ষেপ, সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ৬৫ লাখ বয়স্ক নারী-পুরুষ, বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা বিভিন্ন সামাজিক সূচকে প্রভূত অগ্রগতি অর্জন করেছি। মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি এক লাখে ১৭০ এবং পাঁচ বছর বয়সের নিচে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৮-এ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে।’

২০১০ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর ৪ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ১৯৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বই এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের মাতৃভাষার বই দেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ১ কোটি ৪০ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মায়েদের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত হয়েছে। শিক্ষার হার গত সাড়ে ৯ বছরে ৪৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়নের অন্যতম নিয়ামক হল নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ। নারী শিক্ষার উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন আমরা নিশ্চিত করেছি। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়ে ও ছেলে শিক্ষার্থীর অনুপাত ৫৩:৪৭। ২০০৯ সালের শুরুতে যা ছিল ৩৫:৬৫।’

বাংলাদেশের কৃষি, সেবা ও শিল্প খাতে প্রায় ২ কোটি নারী কর্মরত রয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের রফতানি আয়ের সর্ববৃহৎ উৎস তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪৫ লাখ কর্মীর ৮০ শতাংশই নারী।’ তিনি বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ৩৩ শতাংশ আসন নারীর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদই সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র সংসদ যেখানে সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা, স্পিকার এবং বিরোধীদলীয় নেতা নারী। বর্তমান সংসদে ৭২ জন নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।’

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে সর্বাধিক ঝুঁকির সম্মুখীন পৃথিবীর প্রথম দশটি দেশের একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে আমরা আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের এক শতাংশ ব্যয় করছি এবং জলবায়ু সহায়ক কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করছি। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য-সুন্দরবন সংরক্ষণে ৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।’

তিনি বলেন, অটিজম ও জন্মগত স্নায়ুরোগে আক্রান্ত শিশুদের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে আমরা মহাকাশ প্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করেছি। বস্তুত এটি ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন।

বাংলাদেশের সরকারের প্রতি জাতিসংঘের প্রতি পূর্ণ সংহতি : বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি জাতিসংঘের পূর্ণ সংহতি এবং পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে।’ জাতিসংঘ সদর দফতরে মহাসচিবের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গুতেরেস আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।’

একাধিকবার বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘অনেক দেশ এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা গুতেরেস বলেন, ‘আপনি (শেখ হাসিনা) অনেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের জন্য রোল মডেল হতে পারেন।’

মিয়ানমার সরকারের যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের যথাযথ পুনর্বাসন শুরু করা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ইস্যুতে নেতৃত্ব দেয়া অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করেন। পরে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট পিটার মৌরার জাতিসংঘ সদর দফতরে দ্বিপক্ষীয় সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দ ইস্পিনোসা গ্রাসেসও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

নারীর ক্ষমতায়ন এগিয়ে নিতে ৩টি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে নারীর ক্ষমতায়ন এগিয়ে নিতে তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের গতি ত্বরান্বিত করা নিয়ে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় তিনি বলেন, বদ্ধমূল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সহিংসতাসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নারীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং জীবন ও জীবিকার সব ক্ষেত্রে নারীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে। এই অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উপস্থিত ছিলেন। লিথুনিয়ার প্রেসিডেন্ট ও কাউন্সিল অব উইমেন লিডার্সের সভাপতি দালিয়া গ্রাইবোস্কাইত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়নে নেয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি যে নারীর ক্ষমতায়নের ফলে অর্থনীতিতে এর উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। লিঙ্গ সমতার প্রভাব শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিফলিত হয়, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয় এবং প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইরাকি মডেলকে গুলি করে হত্যা

বিদেশের খবর: ইরাকি মডেল তারা ফারেজকে বাগদাদে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যাম্প সারাহ’য় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন এই সাবেক মিস বাগদাদ। ইরাকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর ইন্ডিপেন্ডেট’র।

ইরাকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাদ মান ইরাকি টেলিভিশনে জানান, ফারেজ একটি গাড়ির ভেতর অবস্থানকালে দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে।

জানা যায়, ২২ বছর বয়সী খ্রিস্টান ধর্মালম্বী ফারেজের বাবা ইরাকি এবং মা লেবানিজ। তিনি এরবিলে বসবাস করলেও মাঝে মাঝে রাজধানীতে আসতেন। সাহসী পোশাক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টের কারণে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আমেরিকায় মামলা হচ্ছে সিনহার বিরুদ্ধে

বিদেশের খবর: বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা হচ্ছে। ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল’ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি’ নামক আত্মজীবনী গ্রন্থে এমন কিছু তথ্য ও মতামত প্রকাশ করা হয়েছে- যাতে ক্ষুব্ধ হওয়া লোকজনের পক্ষে এ মামলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরীর মার্কিন অ্যাটর্নি ২৭ সেপ্টেম্বর এ মামলার কার্যক্রম শুরু করেছেন। খবর : এনআরবি নিউজ’র। নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত একটি ল’ ফার্মের এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, ‘মামলার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই ফেডারেল কোর্টে আবেদন করা হবে।’ জানা গেছে, মামলার গতি-প্রকৃতি নিয়ে এরই মধ্যে মার্কিন অ্যাটর্নিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে- সেটি এই সাবেক বিচারপতির ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার মধ্যদিয়ে ধার্য করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম চৌধুরী বলেন, ‘আমার ল’ ফার্ম কাজ শুরু করেছে। সময় হলেই বিস্তারিত জানাব।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিতর্কিত ফাইনালে কোনোমতে জিতল ভারত

খেলার খবর: এর চেয়ে আর উত্তেজনা ছড়াতে পারে না কোনো ম্যাচ! পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকল নাটক আর রোমাঞ্চ। কে হবে এবারের এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন, বাংলাদেশ না ভারত? অপেক্ষা করতে হলো চিত্রনাট্যের শেষ পর্যন্ত। অবশেষে শেষ হাসি হাসল টিম ইন্ডিয়া। চূড়ান্ত মহারণে টাইগারদের ৩ উইকেটে হারিয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের মুকুট পরল রোহিত বাহিনী। এ নিয়ে সব মিলিয়ে ৭বার এশিয়ার রাজা হওয়ার গৌরব অর্জন করল তারা।

অন্যদিকে, এ নিয়ে তৃতীয়বার স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। এর আগে ২০১২ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটে এবং ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলে টাইগাররা। প্রথমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানের হারে বেদনাদায়ক চিত্রনাট্য রচিত হয়। আর সবশেষ টি-টোয়েন্টি সংষ্করণে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরে দ্বিতীয়বার স্বপ্নভঙ্গ হয়। এবারো তার ব্যত্যয় ঘটল না।

এশিয়া কাপের টানটান উত্তেজনাকর ফাইনালে ভারতের কাছে ৩ উইকেটে হেরে ভেঙ্গে গেল বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন। দুবাই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ২২৩ রানের লক্ষ্যকে ৩ উইকেট হাতে নিয়েই টপকে যায় ভারত। সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেছেন রোহিত শর্মা। এছাড়া ৩৭ রান এনেছে দিনেশ কার্তিকের ব্যাট থেকে।

এর আগে বাংলাদেশের দেয়া ২২৩ রানের সাদামাটা লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা সাবধানে করলেও চাপে পড়ে ভারত। ভালোই শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার। দলীয় ৩৫ রানের মাথায় নাজমুল ইসলামের বলে সাজঘরে ফেরেন ১৫ রান করা শেখর ধাওয়ান। এরপর আমবাটি রাইডুকে মাত্র ২ রানেই বিদায় করেন মাশরাফি। ৪৬ রানে ২ উইকেট হারানো ভারতকে এরপর এগিয়ে নিতে থাকেন অদিনায়ক রোহিত শর্মা ও দিনেশ কার্তিক। তবে ৮৩ রানে রুবেল হোসেন রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দিলে চাপে পড়ে যায় ভারত।

এরপর দিনেশ কার্তিক ও ধোনির জুটিতে এগোতে থাকে ভারত। মাহমুদুল্লাহর বলে কার্তিক আউট হন দলীয় ১৩৭ রানের। ১৬০ রানের মাথায় ধোনিও বিদায় নিলে চাপে পড়ে ভারত। কেদার যাদব আহত হয়ে অবসর নেন একটু পর। ফলে জাদেজা ও ভূবনেশ্বরের উপর এসে পড়ে বিশাল দায়িত্ব। এই দুজন বুঝে শুনে জয়ের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন ভারতকে। জয় থেকে মাত্র ১১ রান দূরে থাকা অবস্থায় রুবেলের অসাধারণ বলে জাদেজার পতন হলে আরো একবার জমে ওঠে খেলা। এরপর মোস্তাফিজের ম্যাজিকে বিদায় নেন ভূবনেশ্বরও। জয়ের জন্য প্রয়োজন ১১ বলে ৯ রান। ভারত। বাকি পাঁচ বলে তিন রান এলে শেষ ওভারে দরকার হয় ৬ রান। মাহমুদুল্লাহর সেই ওভার থেকে প্রয়োজনীয় রান তুলতে শেষ বল পর্যন্ত খেলতে হয় ভারতকে। কেদার যাদব ও কূলদীপের কৃতিত্বে সেই রান পায় তারা।

টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ওপেনিং জুটিতে ১২০ রানের অসাধারণ পার্টনারশিপের পর আর দাঁড়াতে পারেনি সোজা হয়ে। মিডল অর্ডারদের একের পর এক আত্নহত্যায় শেষ পর্যন্ত ২২২ রানে থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২১ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন লিটন। এছাড়া ৩৩ রান করেছেন সৌম্য সরকার। ভারতের পক্ষে ৪৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন কূলদীপ যাদব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২২৫/৭ (৫০ ওভারে)
রোহিত ৪৭, শেখর ধাওয়ার ১৫
রুবেল ২/১৯, মোস্তাফিজ ২/৩৮

বাংলাদেশ: ২২২/১০ (৪৮.৩ ওভারে)
লিটন দাস ১২১, মিরাজ ৩২,
কূলদীপ ৩/৪৫

দুইদলের একাদশ:

বাংলাদেশ:
লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মিথুন আলি, মুশফিকুর রহিম, ইমরুল কায়েস, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হোসেন মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, নাজমুল ইসলাম অপু

ভারত একাদশ:
রোহিত শর্মা(অধিনায়ক), শেখর ধাওয়ান, আমবাটি রাইডু, মহেন্দ্র সিং ধোনি, দিনেশ কার্তিক, কেদার যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা, ভূবনেশ্বর কুমার, কূলদীপ যাদব, যুজবেন্দ্র চাহাল, জসপ্রিত বুমরাহ

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুই পুরস্কার গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি সংকট সামাল দিতে দূরদর্শী ভূমিকার জন্য ইন্টার প্রেস সার্ভিসের ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে বৃহস্পিতবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর পৃথক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কার দুটি তুলে দেওয়া হয়।

পুরস্কার দুটি বাংলাদেশের জনগণকে উৎসর্গ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, সব দেশেরই নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাড়ানো উচিৎ।

মানবিক কারণে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে নজির স্থাপন করায় ইন্টার প্রেস সার্ভিস শেখ হাসিনাকে ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান ও বুট্রোস বুট্রোস-ঘালি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মার্তি আহতিসারি এ পুরস্কার পেয়েছেন।

আর দাতব্য সংগঠন ‘গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন’ শেখ হাসিনাকে ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ সম্মাননা দিয়েছে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে।

জাতিসংঘ সদর দফতরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত ইন্টার প্রেস সার্ভিসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক উইলিয়াম লুসি সুইং। এরপর রাতে নিউইয়র্কের পার্ক এভিনিউয়ে আরেক অনুষ্ঠানে গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকোভা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।

নাইজারের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদু ইসুফু, তিউনেসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেজি সাইদ এসেবসি এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাসও এই পুরস্কার পেয়েছেন।

সম্মাননা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারে; তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে মিয়ানমারে নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির ওপর জোর দেন তিনি। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এসময় উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘পূর্ণ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। নিউইয়র্কে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতিসংঘ সদর দফতর আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে শেখ হাসিনার এই বৈঠক হয়।

শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, তাদের আলোচনায় রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতার কথা বলেছন জাতিসংঘ মহাসিচব। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি তার ভালবাসার কথা তিনি তুলে ধরেছেন।

পররাষ্ট সচিব বলেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও জাতিসংঘ মহাসচিব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকৃত অর্থেই ‘লক্ষণীয় ও শিক্ষণীয়’। বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় শেখ হাসিনাকে নেতৃত্ব ধরে রাখারও অনুরোধ করেছেন তিনি।

শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরা এবং ৭৩তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি মারিয়া ফেরনান্দা এসপিনোসা গার্সিসও বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় আ.লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন

কলারোয়া প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭২ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে কলারোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করা হয়।
শুক্রবার বিকালে উপজেলা উপজেলা আ.লীগের দলীয় অফিসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম দিন উপলক্ষে কেক কেটে ও বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে পালন করা হয়। এসময় অনুষ্ঠনে উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আরাফাত হোসেন, উপজেলা মহিলা আ.লীগের সভানেত্রী প্রভাষক সুরাইয়া ইয়াসমিন রতœা, ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মনিরুল ইসলাম মনি, ইউপি চেয়ারম্যান প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও তরুন ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ইমরান হোসেন, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বুলবুল, প্রধান শিক্ষক বদরুজ্জামান বিপ্লব, উপজেলা আ.লীগের দপ্তর সম্পাদক ও কলারোয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, উপজেলা আ.লীগের সদস্য সরদার আনছার আলী, হেলাতলা ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি আব্দুল মাজেদ বিশ্বাস, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শেখ মাসুমুজ্জামান মাসুম, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান তুহিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক আশিকুর রহমান মুন্না, সাধারণ সম্পাদক রেজুনুজ্জামান লিঠু, উপজেলা মহিলা আ.লীগের যুগ্ম আহবায়ক মনোয়ারা বেগম শিউলী, সদস্য রহিমা বেগম কাজল, মনোয়ারা বেগম, জাহানারা বেগম, মর্জিনা খাতুন, নাছিমা খাতুন, সন্ধ্যা রাণী বর্মণ, রেহেনা বেগম, বিশাখা তপন সাহা, নাইচ আরা খাতুন, তফুরা বেগম, নাছরিন বেগম, মাছুরা ইয়াসমিন হীরা, মনোয়ারা বেগম, নার্গিস বেগম, ফেরদৌসী বেগম, শীলা রানী হালদার, ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ কুমার ঘোষ, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শফিউল আলম শফি, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মজনুর রহমান মজনু, ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা সুলতান, আলমগীর, সেলিম, সাগর, বাবু, নাজমুল, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নয়ন হোসেন সহ উপজেলা আ.লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কেক কাটার পর প্রধানমন্ত্রীর ৭২তম জন্ম দিনে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনি কুল্যায় গৃহবধুকে মারপিট করে মুখে বিষ ঢেলে দেয়ার অভিযোগ

আশাশুনি ব্যুরো : আশাশুনি উপজেলার কুল্যায় স্বামী ও শ্বাশুড়ী কর্তৃক গৃহবধুকে মারপিট করে মুখে কিটনাশক (বিষ) ঢেলে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে। জানাগেছে প্রায় ৪বছর আগে আশাশুনির বুধহাটা গ্রামের মাহবুবর রহমানের সেজ কন্যা আমেনা খাতুন (২৩) এর সাথে একই উপজেলার কুল্যা গ্রামের মৃত শুকুর আলীর পুত্র মোঃ শরিফুজ্জামান শরীফের সাথে বিবাহ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১টি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। গৃহবধুর পিতা মাববুবর রহমান ও শরিফুজ্জামান শরীফের প্রতিবেশীরা জানান, বিবাহের পর থেকে শরীফ বাড়ীতে না থাকার সুবাদে শ্বাশুড়ি আছিরণ বিবি বৌমা আমেনা খাতুনকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করতো। এছাড়া শরীফও ছুটিতে বাড়ীতে আসলে তাকে নির্যাতন করে বলে জানান প্রতিবেশীরা। নির্যাতনের জ্বালা সহিতে না পেরে স্ত্রী আমেনা খাতুন তার স্বামী শরিফুজ্জামান শরীফকে কোর্ট এর মাধ্যমে ডিভোর্স করেন। কিন্তু বছর না যেতেই ডিভোর্স হওয়া স্বামী আবারও হাত, পা ধরে আমেনা খাতুনকে বিবাহ করে। ২য় বার বিবাহের ১বছরের মধ্যেই আবারও শুরু হয় পারিবারিক কলহল ও নির্যাতন। এরই জের ধরে আনছার ব্যাটেলিয়ান সদস্য শরিফুজ্জামান শরীফ তার কর্মস্থল খাগড়াখড়ি জেলার দিঘিনালা উপজেলা থেকে বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়ীতে এসে তার মা আছিরণ বিবির সহযোগীতায় বাড়ীর বারান্দার গেটের তালা লাগিয়ে গৃহবধু আমেনা খাতুনকে মারপিট করতে থাকে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে গেলেও বাড়ীর ভিতরে কেউ ঢুকতে পারিনি বলে জানান তারা। এসময় তারা আমেনা খাতুনের মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে পেছনের গেট দিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানান আহত আমেনা খাতুন ও স্থানীরা। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বাশুড়ী সহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেলেও স্থানীয়রা তার পিতা মাহবুবর রহমানকে খবর দিলে তিনি তাদের সহযোগীতায় কিটশক পান করা আমেনা খাতুনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাকে সাতক্ষীরা সদরে প্রেরণ করা হয় বলে জানাগেছে। এব্যাপারে শরীফুজ্জামান শরীফের বাড়ীতে গেলে গেটে তালা বন্দ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বা আমার মা আমার স্ত্রীকে কোন নির্যাতন করেনি। পারিবারিক অশান্তির কারণে আমেনা সবার অজান্তে ঘরের ভিতরে বসে বিষ খেয়েছিলো। এব্যাপরে আমরা কেউ কিছুই জানিনা। পারিবারিক কলোহলের খরব পেয়ে তার পিতা মাতা আমাদের বাড়ীতে এসে দেখেন তাদের মেয়ে বিষ খেয়েছে। এসময় তারা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করে এবং সর্বশেষ আমেনা সাতক্ষীরাতে চিকিৎসাধীন ও সুস্থ আছে বলে আমি জানি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় আলোচনায় আড্ডায় কবি মৃন্ময় মন্ডলের ‘ইন্দুলেখা আগুনের ফুলকি হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : পড়ন্ত শারদ বৈকালিক শুভ্র আকাশের ফাঁকে মেঘলা প্রকৃতির মাঝে কবিতা কথা আলোচনায় যেনো নতুন প্রাণ স্পন্দন জেগে উঠেছিল। কখনও ছন্দে কখনও গদ্য ভাষায় বারবার উথলে উঠছিল আলোচনার পরিমন্ডল। সাথে কবিতা আবৃত্তি এই স্পন্দনকে নিজেকেও কবি হয়ে উঠতে পুলকিত করে তুলছিল। আলোচনা আবৃত্তি আর আড্ডায় নিমগ্ন হয়ে পড়েছিলেন সাহিত্য প্রেমী শত মানুষ।
শুক্রবার বিকালে ‘ইন্দুলেখা আগুনের ফুলকি হবে’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রাজ্ঞজনরা এভাবেই নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করে গেলেন । তারা বললেন কবি সৃষ্টি, কবি নতুনের পূজারী, কবিতা দ্রোহ, কবিতা আন্দোলন ,কবিতা সংগ্রাম ,কবিতা মানবতার। এই কবিতাই আমাদের নিয়ে যায় এক আলোকিত জীবনে যেখানে আছে প্রশান্তি, যেখানে নেই কোনো অনিয়ম, বিশৃংখলা, আছে যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তির জন্য নিরন্তর সংগ্রাম।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের ভিড়ে ঠাঁসা সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মিলনায়তনে কবি মৃন্ময় মন্ডলের লেখা ৩৬ টি কবিতার গুচ্ছ ‘ইন্দুলেখা আগুনের ফুলকি হবে’ এর অভিষেক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও কবি অধ্যাপক গাজি আজিজুর রহমান। এতে জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় অংশ নেন ভাষাবিদ প্রফেসর কাজী মুহাম্মদ অলিউল্লাহ, প্রফেসর আবদুল হামিদ, প্রফেসর কালিদাস চন্দ্র চন্দ, কবি কিশোরী মোহন সরকার, কবি শুভ্র আহমেদ, কবি আশুতোষ সরকার, হাফিজুর রহমান মাসুম, ইবাইস আহমেদ, বাবলু ভঞ্জ চৌধুরী, শাহজাহান সিরাজ, সায়েম ফেরদৌস মিতুল, সম তুহিন প্রমুখ। কবি মনিরুজ্জামান ছট্টুর সঞ্চালনায় আয়োজক সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু। অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন কবি মৃন্ময় মন্ডল। এতে কবিতা আবৃত্তি করেন মনজুরুল হক, দিলরুবা, মন্ময় মনির, প্রজ্ঞা পারমিতা, তনিমা, অনিষাসহ অনেকেই।
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রাজ্ঞজনরা বলেন প্রমিত ভাষায় রচিত কবিতাগুলি যেমন শক্তিশালী তেমনি এর লেখকও শক্তিমান। অস্ট্রেলিয়ার প্রবাস জীবনে বসে বহু কবিতা যখন লিখছিলেন তখনই তার ‘ইন্দুলেখা আগুনের ফুলকি হবে’ প্রকাশিত হয়। তিনি নিজের লেখায় হতাশা থেকে আশার পথ দেখিয়েছেন। নির্যাতিত মানুষের জাগরনের কথা বলেছেন। তার কবিতায় অনুপ্রাস নেই , আছে উপমা। কবিতায় তিনি কল্পনার গাঁথুনি গেঁথেছেন, অভিজ্ঞতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন, স্বতন্ত্র স্বাদ বিন্যাস করে পাঠকের সামনে তা তুলে ধরেছেন। তার কবিতার ছন্দে তিনি তুলে এনেছেন বাঙ্গালির জাতীয় সংগ্রাম ,মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, গনআন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী আান্দোলনের ইতিহাস। শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শহিদ সন্তানদের প্রতি। তিনি তার কবিতায় সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছেন , আমাদের উন্নত জীবনের ছায়া শীতল বটবৃক্ষ রচনা করেছেন। ভবিষ্যতের মানুষকে তিনি আলোকিত মানুষ হিসাবে দেখতে চেয়েছেন। কবি তার কবিতায় শব্দচয়নে, বাক্যের বিন্যাসে, ভাষার মাধুর্য রক্ষায় নিজের সব উজাড় করে দিয়েছেন। একজন পাঠক হিসাবে যে কেউ এই কবিতাগুচ্ছকে নিজের কথা মনের কথা মানুষের কথা সমাজের কথা এবং সর্বোপরি মানবতার কথা হিসাবে হৃদয়ে ধারন করবেন।
আলোচনায় কবি সাহিত্যকরা আরও বলেন একজন শিক্ষক কেবল শিক্ষাঙ্গনে পাঠ্যসূচির শিক্ষাই দেন না। তিনি তার নিজের অভিজ্ঞতার আলোক রচনা করেন কাব্যের ভূবন। সেই কাব্যই হয়ে ওঠে আমাদের পথ প্রদর্শক, অন্ধকার থেকে আলোর পথ। কবি মৃন্ময় মন্ডল তার কবিতাগুচ্ছ দিয়ে এভাবেই রচনা করেছেন ভবিষ্যতের পথের ঠিকানা। সাথে সাথে তিনি প্রকৃতিকে ভালবেসেছেন, দেশেপ্রেমের পরিক্ষায় উত্তীর্ন হয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest