সর্বশেষ সংবাদ-
তালায় খালে মাছ ধরতে এসে বৃদ্ধের মৃত্যুদেবহাটার সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যুসাতক্ষীরা কম্পিউটার সমিতির নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর ও সংবর্ধনাসাতক্ষীরায় পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কালিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যদেবহাটায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন পত্রিকা বিক্রেতা আলাউদ্দিনসাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষককের সাথে অশালিন আচরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : কোচিং সীলগালাআশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসিদেবহাটা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিমের মৃত্যুরেকর্ডীয় সম্পত্তিতে জোর পূর্বক ঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের অধীনে প্রথম বর্ষ বিএফএ সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদসহ ক্যাম্পাসের মোট ১৯টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষা চলবে ১১টা পর্যন্ত।
এবার ‘চ’ ইউনিটে ১৩৫টি আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৮০ জন।
পরীক্ষা চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করছে।
সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের অঙ্কন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রেকর্ডের অপেক্ষায় মাশরাফি

খেলার খবর: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টের ১৪তম আসরের। শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটায়।
এশিয়া কাপে রেকর্ডের হাতছানি দিচ্ছে দেশসেরা পেসার ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। তিন উইকেট পেলে ছাড়িয়ে যাবেন পাকিস্তানি বোলার শোয়েব আখতারকে, আর পাঁচ উইকেট হলে নাম লেখাবেন আড়াইশ’ উইকেট শিকারীর ক্লাবে।
১৯০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ২৪৫ উইকেট শিকার করেছেন ম্যাশ। ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় তার অবস্থান ২৭। ২৪৭ উইকেট নিয়ে মাশরাফির উপরে শোয়েব আখতার। ৩ উইকেট হলে মাশরাফি উঠে যাবে ২৬’এ, ৫টি হলে পূরণ করবেন ২৫০ উইকেটের মাইলফলক।
২৪৫ উইকেট নেয়ার পথে মাশরাফি ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন একবার। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে সে ম্যাচে করা মাশরাফির ২৬ রানে ৬ উইকেটের বোলিং ফিগার এখনো পর্যন্ত দেশের ইতিহাসের সেরা। এছাড়া ম্যাচে ৭ বার ৪ উইকেট করে নেয়ার রেকর্ড রয়েছে ডানহাতি এই পেসারের।
এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বেই অন্তত ২টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। পরে সুপার ফোরের টিকিট পেলে অন্তত আরও ৩টি ম্যাচে পাবে টাইগাররা। সবমিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে ৫টি উইকেট পেলেই ওয়ানডে ইতিহাসের ২৫তম বোলার হিসেবে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবেন মাশরাফি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সবশেষ সিরিজের ৩ ম্যাচে ৭ উইকেট নেয়া মাশরাফির জন্য কাজটা খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বরাবরই রেকর্ডের ব্যাপারে অনুৎসাহী মাশরাফি।
দুবাই আসার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, আমার নিজের কোন লক্ষ্য থাকে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজেও লক্ষ্য নিয়ে যাইনি, এখানেও যাবো না। কখনও এমন লক্ষ্য নিয়ে যাই না। আমি চেষ্টা করব অবদান রাখার, যতটুক পারি।
তিনি আরও জানিয়েছিলেন, এটা খারাপও হতে পারে ভালোও হতে পারে। এটা নিয়ে আসলে এত মাথা ব্যথা নেই। আর টুর্নামেন্টের শুরুতে তো থাকেই না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মেসি না হলে মদ্রিচই সেরা: রাকিতিচ

খেলার খবর: রাশিয়া বিশ্বকাপে ফুটবল জগতের নজর কেড়েছে ক্রেয়েশিয়া। সেই দলের অন্যতম একজন সদস্য ইভান রাকিতিচ। জাতীয় দলে খেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা লুকা মদ্রিচের সঙ্গে। অন্যদিকে, স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় রাকিতিচের সঙ্গী লিওনেল মেসি। আর রাকিতিচের মতে, এবার ব্যক্তিগত পুরস্কার মেসি জিততে না পারলেও মদ্রিচই সবগুলোর যোগ্য।
সম্প্রতি মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে রাকিতিচ বলেন, ‘এবার ব্যক্তিগত কোনো পুরস্কার মেসি না জিতলে তা নিঃসন্দেহে বলা যায় এ মৌসুমটি মদ্রিচের জন্য। সে বেশি ভোট পেলে তা আমাকে অবাক করবে না। এটা তার বছর এবং আমি সত্যিই এজন্য আনন্দিত। মেসি না হলে মদ্রিচই সেরা।’
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে উয়েফার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছে মদ্রিচ। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জয়ী এ তারকা এবার ফিফার বেস্ট মেনস প্লেয়ারের সংক্ষিপ্ত তিনের তালিকায় রয়েছেন। মেসি এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এবার এখানে সেরা হওয়ার জন্য রোনালদো ও মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে লড়তে হবে মদ্রিচকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্রীলঙ্কা বধে আজ মাঠে নামবে মাশরাফিবাহিনী

খেলার খবর: সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে আজ শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়া কাপের ১৪তম আসর। উদ্বোধনী ম্যাচেই শ্রীলঙ্কা বধে আজ মাঠে নামবে টাইগাররা। যদিও বাংলাদেশের চেনা প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। দু’দলেরই পরস্পরের নাড়ি-নক্ষত্র জানা।
এবারের আসরে টাইগারদের আসল চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে অন্য জায়গায়। আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়েও বড় প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈরী কন্ডিশন ও টুর্নামেন্টের অবিশ্বাস্য ঠাসা সূচি। ওয়ানডে ফরম্যাটের একটি টুর্নামেন্টে ১৪ দিনে ১৩টি ম্যাচ। অবশ্য এই সূচি আসরের ৬টি দলের জন্যই সমান বিড়ম্বনার।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাঘ-সিংহের লড়াই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ বিকেল সাড়ে ৫টায়।
এশিয়া কাপ সামনে রেখে টাইগারদের প্রস্তুতিটাও বেশ ভালো হয়েছে। অপরদিকে, গত বুধবার বিপক্ষ দল শ্রীলঙ্কাও দুবাই পৌঁছেছে।
তবে শ্রীলঙ্কান দল একের পর এক দুর্ঘটনার খবর শোনা যাচ্ছে। এশিয়া কাপের দলে থাকা দীনেশ চান্ডিমাল চোটে পড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের যেতেই পারেননি। এছাড়া অনুশীলনে চোট পাওয়ায় দানুস্কা গুনাতিলাকাকে ইতোমধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আকিলা ধনঞ্জয়াও গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচ থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলেও চোটের ধাক্কাটা লেগেছিল। সাকিবের আঙুলে পুরনো চোটের ব্যথা, তামিমেরও একই দশা। দেশে থেকেই চোট নিয়েই এশিয়া কাপ খেলতে গেছেন নাজমুল হাসান শান্ত। বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর, সবাই কাটিয়ে উঠেছেন চোট শঙ্কা থেকে। তাই বলা যেতেই পারে বাংলাদেশ এই ম্যাচে ভালো কিছু করবে।
১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবগুলো খেলাই হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই শহর দুবাই ও আবুধাবিতে। বাংলাদেশকে গ্রুপ স্টেজের দুই খেলায় ভালো করে যেতে হবে সুপার ফোরে।

শ্রীলঙ্কা সম্ভাব্য একাদশ: অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস (অধিনায়ক), নিরশন ডিকওয়েলা (উইকেটরক্ষক), উপল থারাঙ্গা, কুশল পেরেরা, কুসল মেন্ডিস, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, থিসারা পেরেরা, দাসুন শানাকা, দিলরুয়ান পেরেরা, সুরাঙ্গা লাকমল ও লাসিথ মালিঙ্গা।

বাংলাদেশ সম্ভাব্য একাদশ: মশারাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, মেহেদি হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মলদ্বারে ব্যথা ও এনাল ফিশার

স্বাস্থ্য কণিকা: ফিশার মানে মলদ্বারে ঘা অথবা ফেটে যাওয়া। এটি দুই ধরনের হয়। তীব্র (একিউট) ফিশার হলে রোগীর মলদ্বারে ব্যথা হয়। দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) ফিশারে ব্যথার তারতম্য হয়। এটি যে কোনো বয়সে হতে পারে।
উপসর্গ : লক্ষণ ব্যথা ও রক্তক্ষরণ। এ ধরনের ব্যথা সাধারণত মলত্যাগের অব্যহিত পরে হয় এবং কয়েক মিনিট থেকে ঘণ্টা ধরে ব্যথা হতে থাকে। ‘প্রকটালজিয়া ফুগাক্স’ নামক এক ধরনের রোগেও মলদ্বারে ব্যথা হয়, কিন্তু সে ব্যথা মলত্যাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে না। রক্তজমাট বাধা পাইলসেও ব্যথা হয়, কিন্তু তখন রোগী মলদ্বারে চাকা আছে বলে অভিযোগ করে।
এই রোগে রক্তক্ষরণের পরিমাণ সাধারণত কম। কারও কারও অতিরিক্ত রক্ত যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) এনাল ফিশারের রোগী একটু ভিন্ন ধরনের উপসর্গের কথা বলে। মলদ্বারে অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড, পুঁজ পড়া, চুলকানি এসব একত্রে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে।
ব্যথা সাধারণত তীব্র হয় না অথবা অনেক সময় ব্যথা থাকেই না। ফিশারের রোগীরা অনেক সময় প্রস্রাবের সমস্যায় ভোগেন এবং মহিলারা কখনও কখনও শারীরিক মিলনে ব্যথা অনুভব করেন; যদিও রোগীরা বুঝতে পারেন কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণেই এমন হয়েছে তবুও যখন ব্যথা শুরু হয় তখন রোগী ভয়ে টয়লেটে যেতে চান না এবং মলত্যাগের বেগ হলে তাতে ব্যথার ভয়ে সাড়া দিতে চান না।

প্রতিরোধ : কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করা উচিত এবং বেশি শক্তি প্রয়োগ করে মলত্যাগ করা উচিত নয়। বারে বারে মলত্যাগের অভ্যাস ত্যাগ করা এবং ডায়রিয়ায় দ্রুত চিকিৎসা করা উচিত।
চিকিৎসা : একিউট ফিশার শুরুর অল্পদিনের মধ্যেই চিকিৎসা শুরু হলে বিনা অপারেশনে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। সিজ বাথ নিলে উপকার হয়। এটির নিয়ম হচ্ছে আধ গামলা লবণ মিশ্রিত হালকা গরম পানির মধ্যে নিতন্ব ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হয়। স্থানিক অবশকারী মলম ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়।
এতে যদি পুরোপুরি না সারে এবং রোগটি যদি বেশি দিন চলতে থাকে তাহলে অপারেশন ছাড়া ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কমতে থাকে।
সার্জিক্যাল চিকিৎসা : মলদ্বারের মাংসপেশির সম্প্রসারণ করা (এনাল ডাইলেটেশন)-এ পদ্ধতিটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য বেশির ভাগ সার্জন এটির বিপক্ষে।
মলদ্বারের স্ফিংটারে অপারেশন : এই অপারেশনে মলদ্বারের অভ্যন্তরীণ স্ফিংটার মাংশপেশিতে একটি সূক্ষ্ম অপারেশন করতে হয়। অজ্ঞান করার প্রয়োজন নেই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ আন্তর্জা‌তিক গণতন্ত্র দিবস; বিশ্বজু‌ড়ে ধুঁক‌ছে গণতন্ত্র

অনলাইন ডেস্ক: বিগত শতাব্দীগুলোতে নিজ দেশে গণতন্ত্র চর্চার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রসারে উৎসাহিত করে এসেছে আমেরিকানরা। বিদেশে গণতন্ত্র প্রসারে তাদের সেই চেষ্টা এখনো আছে। কিন্তু তাদের নিজ দেশের গণতন্ত্রই এখন হুমকিতে পড়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত সপ্তাহে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, ট্রাম্প আজ যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি। কেবল বারাক ওবামার মুখেই নয়, ট্রাম্পের সমালোচনা এখন বিশ্বজুড়ে। সুশৃঙ্খল বিশ্বব্যবস্থা এবং বিশ্ব নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত তিনি মুহূর্তেই ছুড়ে ফেলছেন। গণতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সংবাদ মাধ্যমকেও তিনি প্রকাশ্য শত্রু বানিয়ে ফেলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দেড় শ বছরের বেশি পুরনো ম্যাগাজিন দি আটলান্টিক তার অক্টোবর সংস্করণ সাজিয়েছে দেশটির সংকটাপন্ন পরিস্থিতি নিয়ে। ‘দি আমেরিকান ক্রাইসিস’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে সাময়িকীটি লিখেছে, ‘গণমাধ্যমের ওপর আঘাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মধ্যে গণতন্ত্র সংকটে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কি তার চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে?’
গণতন্ত্র ও এর মূল্যবোধ সংকটে পড়েছে সারা বিশ্বেই। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ শনিবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে, ‘গণতন্ত্র চাপে পড়েছে। গণতন্ত্রই পরিবর্তনশীল বিশ্বের জন্য সমাধান।’ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গতকাল শুক্রবার এক বাণীতে বলেছেন, ‘বিগত শতাব্দীগুলোর যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন গণতন্ত্র অপেক্ষাকৃত বেশি চাপের মধ্যে আছে। এ কারণে এই আন্তর্জাতিক দিবসে আমাদের উচিত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার সম্ভাব্য উপায় এবং যে পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জগুলো গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে সেগুলোর সমাধান খোঁজা।’
জাতিসংঘ মহাসচিব গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য মোকাবেলার তাগিদ দিয়েছেন। বিশেষ করে, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গণতন্ত্রকে আরো উদ্ভাবনী ও ইতিবাচকভাবে ক্রিয়াশীল করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে, আসুন, আমরা গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করি।’
জাতিসংঘ বলছে, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ৭০তম বার্ষিকীর এই বছরে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি, মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরার সুযোগ এনে দিয়েছে। গণতন্ত্রের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হলো মানবাধিকার। টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডায়ও ষোড়শ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য হিসেবে গণতন্ত্রকে রাখা হয়েছে। সেখানে শান্তিপূর্ণ সমাজ এবং কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সংযোগের কথা বলা হয়েছে।
সারাবিশ্বে গত বছরের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ বছরের শুরুর দিকে ইকোনমিক ইনটেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) যে বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, বিশ্বের মাত্র ১৯টি দেশে পূর্ণ গণতন্ত্র রয়েছে। ‘ত্রুটিপূণর্’ গণতন্ত্র আছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৫৭টি দেশে। ৩৯টি দেশে ‘হাইব্রিড’ গণতন্ত্র এবং ৫২টি দেশে কর্তৃত্বপরায়ণ শাসনব্যবস্থা আছে। ইআইইউ তার প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে গণতান্ত্রিক মান আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে।
ইআইইউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের অবস্থান ১০ ধাপ পিছিয়ে ৭৩-এ নেমেছে। যুক্তরাজ্য, কানাডায় ‘পূর্ণ’ গণতন্ত্র আর যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে ‘ত্রুটিপূণর্’ বলেছে ইআইইউ। ভারতও আছে ‘ত্রুটিপূণর্’ গণতন্ত্রের তালিকায়।
ইআইইউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের তুলনায় গত বছর বাংলাদেশ গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ পিছিয়েছে। ১৬৫টি দেশ ও দুটি ভূখণ্ড নিয়ে গড়া তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯২তম। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ছিল ৮৪তম স্থানে।
ইআইইউ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ‘হাইব্রিড’ নামে অভিহিত করেছে। ‘হাইব্রিড’ বলতে এমন ব্যবস্থা বোঝায় যেখানে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনব্যবস্থা প্রায়ই ব্যাহত হয়। এ ছাড়া বিরোধীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ, দুর্নীতি, আইনের শাসন ও নাগরিক সমাজব্যবস্থা দুর্বল।
গণতন্ত্রবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার বিচারে বাংলাদেশ আংশিক স্বাধীন। স্কোর ১০০ নম্বর হলে যেখানে পুরোপুরি স্বাধীনতা আছে বোঝায় সেখানে বাংলাদেশের স্কোর ৪০।
এদিকে গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা কমছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
স্মার্ট এনআই‌ডি‌তে ভু‌লের ছাড়াছ‌ড়ি!

দেশের খবর: ‘এই ঘোড়ার ডিমের কার্ড আমার কোনো কাজে আসবে না।’ ক্ষোভ ঝেড়ে এই কথাটি যিনি বলেন তাঁর নাম আলম হোসেন। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নূরনগর কলোনির বাসিন্দা। কলোনির ভোটাররা কয়েক দিন আগেই স্মার্ট কার্ড পেয়েছে এবং অনেকের কার্ডেই ধরা পড়ছে অদ্ভূতুড়ে ভুল। আলম হোসেনের কার্ডে বাবা রবিউল ইসলামের নামের আগে এসেছে ‘মোছা.’। মায়ের নাম বরকতী খাতুনের নামের আগে লেখা আছে ‘মো.’। তিনি রেগেমেগে বলেন, ‘বাবা-মায়ের নাম আবেদনপত্রে লেখার সময় কোনো সন্তান এমন ভুল করতে পারে?’ একই ক্ষোভ কলোনির রশিদারও, ‘স্মার্ট কার্ড পাব, এই খুশিতে সকাল থেকে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কার্ড নিয়ে বাড়ি এসে দেখার পর নিজের মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করছিল। আমার স্বামী মো. রেজাউল হক আমার চেয়ে ১০ বছরের বড়। কিন্তু কার্ডে এসেছে আমার স্বামী আমার চেয়ে পাঁচ বছরের ছোট। তাঁর জন্ম তারিখ ৮ এপ্রিল ১৯৮৩, আমার ১ জানুয়ারি ১৯৭৮।’

সম্প্রতি দেশের যেসব জেলায়ই স্মার্ট এনআইডি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে সেখানেই দেখা যাচ্ছে ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি। চুয়াডাঙ্গা, মৌলভীবাজার, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর জেলার বহু মানুষ তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছে, বলেছে ভুলের কারণে সমূহ বিপদের আশঙ্কার কথাও। এর মধ্যে এলাকা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পড়েছে মৌলভীবাজার সদর ও কুলাউড়ার ভোটাররা। সদরের দুই লাখ ২২ হাজার ৮৫২টি স্মার্ট কার্ডের সব কটিতেই জেলার নাম ভুল এসেছে। জন্মস্থানে (ইংরেজিতে) Moulvibazar-এর স্থলে Maulvibazar লেখা হয়েছে। প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজারবাসী লেখাপড়ার জন্য তাদের সন্তানদের বিদেশ পাঠাতে কিংবা নিজেরা বিদেশ যাওয়ার সময় বিপাকে পড়বে। জামালপুর পৌরসভার পিটিআই কেন্দ্রে পাওয়া গেছে জন্মস্থান ‘পাকিস্তান’ লেখা তিনটি স্মার্ট কার্ড। নির্বাচন কর্মকর্তারা কার্ডগুলো তাঁদের তত্ত্বাবধানে রেখে দিয়েছেন। এ নিয়ে বাইরে অতটা জানাজানি না হলেও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ স্মার্ট কার্ড বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জন্মস্থান ‘পাকিস্তান’ লেখা স্মার্ট কার্ড তিনটি নিয়ে বেশ বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন।

সেই সঙ্গে দুঃসংবাদ হচ্ছে, প্রায় আট কোটি ১১ লাখ নাগরিকের এনআইডি কার্ডের (জাতীয় পরিচয়পত্র) মূল তথ্য ফরমের সন্ধান এখন পাওয়া যাচ্ছে না। এসব নাগরিক ২০০৭-২০০৮ সালে নিজেদের ছবিসহ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন এলাকার নির্বাচনী অফিসে এসব ফরম সংরক্ষিত ছিল। অনেক ক্ষেত্রে উইপোকা ও ইঁদুর ফরম নষ্ট করে ফেলেছে। কোথাও পানিতে নষ্ট বা নাশকতার আগুনে পুড়ে গেছে। এ কারণে ভুল নাগরিকদের, না নির্বাচন কমিশনের তা যাচাই করার উপায় নেই।

ভুলে ভরা ওই সব এনআইডি সংশোধন করতে গেলে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীদের জানাচ্ছেন, ওই সময় তাদের পূরণ করা ২ নম্বর ফরম (এনআইডির জন্য বিশেষ ফরম) পাওয়া যাচ্ছে না। এই আট কোটি নাগরিক ছবিসহ ভোটার তালিকা করার উদ্যোগের প্রথম ধাপে তথ্য দিয়েছিল। ফরম নষ্ট হওয়ার দায়টি যদিও নাগরিকদের নয়, তবে তথ্য সংশোধন করতে হলে তাদের আড়াই শ টাকার মতো ফি দিতে হবে। তবে ২০০৮ সালের পরে যারা ভোটার হয়েছে তাদের এনআইডির ভুল সংশোধন প্রথমবারের মতো নিখরচাতেই করার সুযোগ রয়েছে।

কয়েক দিন আগে এনআইডির প্রধান কার্যালয়ে সবুজবাগ থানার পূর্ব বাসাবো এলাকার সাহানা হোসেনের এনআইডির তথ্য সংশোধনের জন্য গেলে সংশ্লিষ্টরা জানান, সাহানা হোসেন ভোটার হয়েছেন ২০০৮ সালে। এ কারণে তাঁর ২ নম্বর ফরম পাওয়া সম্ভব না। তাঁকে টাকা দিয়েই তথ্য সংশোধন করতে হবে। সাহানা হোসেনের নামের বাংলা বানান ঠিকই রয়েছে। কিন্তু ইংরেজি বানান লেখা হয়েছে সানা হোসেন। সাহানা হোসেনের মেয়ে সামিমা সাবাবী অর্পি ভোটার হয়েছেন ২০১০ সালে। তাঁর জন্ম তারিখ ২৪ নভেম্বর। কিন্তু কার্ডে ছাপা হয়েছে ১৪ নভেম্বর। নামের ইংরেজি বানানেও ভুল। এনআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সামিমা সাবাবী অর্পির সার্ভার থেকে ২ নম্বর ফরম বের করে দেখেন সেখানে কোনো ভুল নেই। ভুল হয়েছে ডাটা এন্ট্রির সময়। ওই কর্মকর্তারা জানান অর্পির কার্ডের ভুল সংশোধন নিখরচাতেই করা যাবে। এ রকম সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন অনেকেই সেখানে ভিড় করছে।

এনআইডি উইংয়ের কারিগরি কর্মকর্তাদের কাছে জানা যায়, দেশে এখন ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখের মতো। এর মধ্যে দুই কোটির কিছু বেশি ভোটারের ওই বিশেষ তথ্য ফরম থাকলেও বাকিদের ফরম সার্ভারে নেই। ২০০৮ সালের ওই সব ফরম সংগ্রহ করে পিডিএফ আকারে সার্ভারে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সব ফরম না পাওয়ার কারণে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

অবশ্য এ তথ্য পুরোপুরি সঠিক নয় বলে দাবি এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের। যোগাযোগ করা হলে গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ২ নম্বর ফরম পাওয়া যাচ্ছে না—এ তথ্য পুরোপুরি ঠিক নয়। যাঁরা এসব বলছেন তাঁরা ভুল বলছেন। ওই সময়ে ভোটার হওয়াদের ২ নম্বর ফরম না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য জানালে তিনি বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।

ভুলের কারণে বিপদে: মো. জাহাঙ্গীর আলম। মেহেরপুর পৌরসভার দীঘিরপাড়া এলাকার মো. জাহান আলীর ছেলে। তিনি ১০ বছর ধরে সৌদি আরবে আছেন। ছুটিতে দেশে এসে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করার পর তিনি দেখেন, যেখানে পাসপোর্ট ও জন্মসনদে তাঁর জন্ম তারিখ রয়েছে ০১-০১-১৯৮৩, স্মার্ট আইডি কার্ডে এসেছে ০৯-০১-১৯৮২। কোথায় স্বজনদের সময় দেবেন! দেশে থাকতেই জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য তিনি ধরনা দিচ্ছেন নির্বাচন অফিসে। সংশোধন না হলে পাসপোর্ট নবায়নই আটকে যাবে।

এ বছরই এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মোছা. সামসুন্নাহার। বাবা মেহেরপুর সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের মো. মইনদ্দীন। স্মার্ট কার্ডে নামের ইংরেজি বানানে একটি বর্ণ বেশি আসায় ভয়ে আছেন তিনি। কারণ উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলে সেই বিড়ম্বনাটি বাধা হয়ে যেতে পারে। বানান সংশোধনের জন্য তিনিও গেছেন উপজেলা নির্বাচন অফিসে।

জামালপুর পৌরসভার মো. শহীদুল্লাহর ছেলে রোকনুজ্জামান বললেন, ‘আমার বাবার স্মার্ট কার্ডে তাঁর নামের ইংরেজি বানান ভুল আসছে। আমার বাবা হজে যাবেন। পাসপোর্ট করতে গেলে তো স্মার্ট কার্ডের নামের বানানের সঙ্গে মিলবে না। তখন তো সমস্যা হবে। স্মার্ট কার্ড বিতরণকারী কর্মীদের দেখালাম। তাঁরা বললেন যে পরে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।’

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নূরনগর কলোনির রফিকুল ইসলাম একজন ছাত্র। প্রথমবারের মতো আইডি কার্ড কোথায় তাঁকে উল্লসিত করবে, উল্টো তিনি ব্যথিত ও দুঃখভারাক্রান্ত। কারণ স্মার্ট কার্ডে ভুল করে জন্ম তারিখ ২২ নভেম্বর ১৯৯৬-এর পরিবর্তে লেখা হয়েছে ২৬ নভেম্বর ১৯৯৬।

মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয় বিদ্যালয়ের সামনে ভুল স্মার্ট কার্ড হাতে হতাশ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন আনছার আলী। তিনি বলেন, জন্মসনদের সঙ্গে আমার স্মার্ট কার্ডের কোনো মিল নেই। এখন এই ভুলের মাসুল নাকি আমাকে গুনতে হবে ২৫৩ টাকা। কেন, ভুল কি আমি করেছি?’ তবে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, ফরম থেকে তথ্য টাইপ করতে গিয়ে কিছু ভুল হয়েছে। তবে তা খুবই সামান্য। অনেকে ভুল তথ্য দেওয়ার কারণেও ভুল হয়ে গেছে। ভুল সংশোধনের জন্য নিয়মানুযায়ী ২৩০ ও ভ্যাট ২৩ টাকা মোট ২৫৩ টাকা জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। তবে পুরুষের নামের আগে মোছা. এবং নারীর নামের আগে মো. লেখা সংশোধনের জন্য কোনো টাকা জমা দিতে হবে না।

মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদের কিছু ভুল হয়ে থাকতে পারে। তবে বেশির ভাগ ভুল লক্ষ করা গেছে বিশেষ বিশেষ সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে জন্ম সনদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার, বিশেষ করে এসএসসি সনদ অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে পুরো নাম ভুল বা জন্ম তারিখ ভুল হলে এবং সে ক্ষেত্রে এসএসসি সনদ ও জন্ম সনদের সঙ্গে মিল না থাকলে সংশোধন করার সুযোগ থাকছে না।

জামালপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘সংশোধনী স্মার্ট কার্ডসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দেশনা আসবে। পরবর্তী সময়ে আমরা সেই অনুসারে স্মার্ট কার্ড সংশোধনের সময় নির্ধারণ করে ঘোষণা দিয়ে জানানো হবে।’ তিনি জানান, স্মার্ট কার্ডের ভুল সংশোধনের জন্য কেউ আবেদন করলে সংশোধন করা যাবে যেকোনো সময়। এ ক্ষেত্রে সার্ভারে ভোটার তথ্য সংশোধন করে তাকে একটা অস্থায়ী লেমিনেটেড করা কার্ড দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে সেগুলোর তালিকা ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। সেখান থেকে স্মার্ট কার্ড হয়ে এলে তা বিতরণ করা হবে।

মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমরা সদরের সব কার্ডে জেলার নামের ইংরেজি বানানে ভুল দেখে ওপর মহলে যোগাযোগ করছি। এই ভুলে আঞ্চলিক কার্যালয়ের কোনো দায় নেই। কুলাউড়া উপজেলার কার্ডও তৈরি হয়ে গেছে বলে ভুল বানান এসেছে।’

এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, দেশের নাগরিকদের জন্য এই এনআইডি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা একটি বিশাল কাজ। এতে কিছুটা ভুল হতেই পারে। নির্বাচন কমিশন থেকে অনেকবার এই ভুল সংশোধনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সুযোগ থাকার পরও কেউ কেউ সংশোধন করে নেয়নি।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা ও এনআইডি প্রস্তুত হওয়ার পর অনলাইনে তা যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু এ ব্যবস্থা ঢাকার আংশিক এলাকায় শুরু করার পরপরই নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়। উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট এনআইডি কার্ড প্রস্তুতের আগে ভুল তথ্য সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও নির্বাচন কমিশন থেকে বলে আসা হচ্ছিল। এরপর ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে সংশোধন সেবা চালু করে। তাতেও তেমন সাড়া মেলেনি। এরপর ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সংশোধনে ফি নেওয়া শুরু হয়।
জানা যায়, এরই মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলা ও গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভুল সংশোধনের জন্য আড়াই হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। কারণ চাকরির আবেদনপত্র, সুযোগ-সুবিধা থেকে শুরু করে ব্যাংক, বীমা—এমনকি ব্যাবসায়িক কাজেও মানুষকে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে ত্রুটিযুক্ত কার্ড নিয়ে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সরকার‌বি‌রোধীরা সংগ‌ঠিত হ‌চ্ছে; আ‌লো দেখ‌ছে বিএন‌পি

দেশের খবর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ধীরে ধীরে সংগঠিত হচ্ছে বিএনপিসহ সরকারের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও এসব দলের মধ্যে সবাই এখনই নির্বাচনী জোট গড়ে তুলতে যাচ্ছে না। তবে ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন আদায়ের প্রশ্নে দলগুলোর পক্ষ থেকে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে সাদৃশ্য ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে।
কর্মসূচির এ সাদৃশ্যকে ঐকমত্য হিসেবে গণ্য করে বিএনপি মনে করছে, এই ‘ঐকমত্যই’ একসময়ে রাজপথে সরব আন্দোলনে রূপ নেবে। ফলে রাজপথের সবচেয়ে বড় এই দলটির মধ্যে এক ধরনের আশাবাদ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও দলটির তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের নামে নতুন করে আবার ব্যাপক হারে মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে।
বিএনপি আরো মনে করে, নির্বাচন প্রশ্নে বর্তমান সরকারের ‘নেতিবাচক উদ্দেশ্য’ও তারা বহির্বিশ্বে ঠিকমতো প্রচার করতে পেরেছে। সে কারণে বিএনপির প্রতিনিধিদলকে ডেকে দেশের নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি জেনেছে জাতিসংঘও। গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক সময় সকালে (বাংলাদেশ সময় রাতে) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থার সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসব তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত সরকার চাপের মুখে পড়বে বলে মনে করে বিএনপি ও এর মিত্ররা।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের নেতিবাচক অবস্থানের কারণেই রাজনৈতিক দলগুলো একসুরে কথা বলছে। এখন সবার কমন দাবি হলো সুষ্ঠু নির্বাচন। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক মহলও এ দেশের নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’ তাঁর মতে, এটি বিএনপির আশাবাদের কারণ হতে পারে। তবে তাদের দাঁড়াতে হবে নিজের শক্তির ওপর ভর করে।
বিএনপিসহ যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত তিনটি দল (বিকল্পধারা, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য), জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া (গণফোরামসহ দু-একটি দল) এবং আটটি দলের সমন্বয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের ঘোষিত কর্মসূচি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোটা দাগে তাদের সবার মূল দাবিগুলো প্রায় একই এবং তা বিএনপির দাবির কাছাকাছি।
সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপি যেসব দাবি তুলছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সরকারের পদত্যাগ তথা সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন, আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইভিএম বাতিল। প্রায় এই একই রকম পাঁচটি দাবি ও ৯ দফা লক্ষ্য নিয়ে আজ শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যৌথ ঘোষণা দেবে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপির ১৫ দফা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে সাম্প্রতিককালে সিপিবি-বাসদ ও গণসংহতি আন্দোলনসহ বামপন্থী আটটি দলের সমন্বয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের কর্মসূচিও প্রায় একই রকম। নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশিশক্তি বন্ধ করাসহ আরো কিছু দাবি বামপন্থী দলগুলোর কর্মসূচিতে থাকলেও নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপি ও ‘উদারপন্থী’ (যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া) দলগুলোর উত্থাপিত দাবির সঙ্গে কোনো অমিল নেই। তবে বিএনপির ১৫ দফায় দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অন্য দলগুলোর কর্মসূচিতে তা নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার বিষয়ে ‘উদারপন্থী’ দলগুলোর কর্মসূচির সঙ্গে মিল রয়েছে বিএনপির ১৫ দফার।
রাজনৈতিক সংকট উত্তোরণে গত বৃহস্পতিবার গণসংহতি আন্দোলন যে নতুন জাতীয় সনদ ও অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে তাতেও এসব দাবির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে রেখে ঐকমত্যের সরকার হবে না। এ ছাড়া আগামী তিনটি নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধাপরাধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবেলার কথাও বলা হয়েছে গণসংহতির প্রস্তাবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন এবং সংসদ ভেঙে নির্বাচন দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি মুহাম্মদ রেজাউল করীম। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সংকট উত্তোরণ করা না গেলে বিশ্বের অনেক সংঘাতপূর্ণ দেশের মতো বাংলাদেশেও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।
যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সবাই এক জায়গায় আসার চেষ্টা করছি, দেখা যাক কী হয়!’ তিনি আরো বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আদায়ের প্রশ্নে বিভিন্ন দলের ঘোষিত কর্মসূচিতে অনেক মিল রয়েছে। কিন্তু এটি বৃহত্তর ঐক্যের জায়গায় নিয়ে যাবে কি না তা পরিস্থিতি বলে দেবে।
এ প্রসঙ্গে যুক্তফ্রন্টের মুখপাত্র নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে ঐক্য হওয়ায় আমরা আশাবাদী হয়ে উঠেছি। আশা করছি এই ঐক্যই বৃহত্তর ঐক্যের সিঁড়ি তৈরি করবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী জোট গঠনের বিষয়টি পরের আলোচনা। কিন্তু সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায়ের আন্দোলনে সবাইকে দরকার। আর বিষয়টি সবাই উপলব্ধি করেছেন বলেও মনে হয়।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির মতে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এ মুহূর্তে দেশের বেশির ভাগ দল ও মানুষের দাবি বলেই জনমত সংগঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এ দাবির কথা ২০১৪ সাল থেকে আমরা বলে আসছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী জোট একটি ইস্যু, কিন্তু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দাবিদাওয়া ভিন্ন ইস্যু। আমরা এখন সকলে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আন্দোলন করছি। ফলে সব দলের ভাষা তো এক হবেই।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আসলে সরকারের বিরুদ্ধে নয়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ের ইস্যুতে সবাই যে যার অবস্থান থেকে মাঠে নেমেছে। এতে মনে হচ্ছে সবাই সংগঠিত হচ্ছে।’ তাঁর মতে, বিএনপির সঙ্গে ঐকমত্য বড় কথা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, এখন যেভাবে নির্বাচন হচ্ছে সেটি কেউ মানতে রাজি নয়। নির্বাচন প্রশ্নে তাই কতগুলো কমন ইস্যু সামনে এসেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest