সুবর্ণা মৃত্যুর আগে খুনিদের নাম বলে গেছেন

অনলাইন ডেস্ক: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা আক্তার নদী মৃত্যুর আগেই তার ওপর হামলাকারীদের নাম বলে গেছেন।
সাবেক স্বামী রাজীব কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সুবর্ণাকে কুপিয়েছেন বলে হাসপাতালে আহতাবস্থায় সুবর্ণা জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার মা ও মেয়ে।
সুবর্ণার মা মর্জিনা বেগম বলেন, মেয়ে মৃত্যুর আগে হাসপাতালে হামলাকারীদের নাম আমাদের জানিয়ে গেছে। রাজীব ও তার সহকারী মিলনসহ কয়েকজন তাকে কুপিয়েছে। আমার মেয়ে তাদের চিনেছিল। র‌্যাব ও পুলিশকে আমি সব তথ্য জানিয়েছি।
নিহত সুবর্ণার মেয়ে জান্নাতও (৭) একই তথ্য পুলিশকে জানিয়েছেন।
জানা যায়, বছর দেড়েক আগে রাজীবের সঙ্গে নদীর ডিভোর্স হয়। এই ডিভোর্সের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতে একটি মামলাও চলছে।
নিহত সুবর্ণা আকতার নদীর বোন চম্পা খাতুন বলেন, আমার বোন তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে গত বছরের ৪ জুন থানায় মামলাটি করেছিলেন। মামলা আদালতে বিচারাধীন। তার সাবেক স্বামী রাজিবের লোকজন নিশ্চিত ছিলেন যে তারা মামলায় হেরে যাবেন। আর এই কারণেই সুবর্ণা নদীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার বড় বোন।
তিনি আরো বলেন, আবুল হোসেনের ছেলে রাজীবের সঙ্গে বছর দুয়েক পূর্বে বিয়ে হয়। বছর দেড়েক আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এর পর সুবর্ণা নদী পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেন। এ মামলায় সুবর্ণা তার সাবেক স্বামী রাজীব ও তার বাবা আবুল হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করেন।
মঙ্গলবার এ মামলার সাক্ষ্য দেয়ার দিন ছিল। এতে সুবর্ণা আদালতে সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন। মামলায় ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সুবর্ণাকে হত্যা করেছে বলে দাবি তার পরিবারের।
তারা জানান, ইতিপূর্বেও সুবর্ণা নদীকে বিভিন্ন ভাবে শহরে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হয়। গত বছরের জুনে তার গলায় চাকু চালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় তারা। পরে সুবর্ণা নদী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পাবনা সংবাদপত্র পরিষদ মিলনায়তনে গত ২২ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে ওই বছরেই ৩ অক্টোবর একই দাবিতে ঢাকার ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের রাধানগর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিজ বাসার সামনে খুন হন সুবর্ণা নদী।
এ ঘটনায় মামলা নিহত সাংবাদিকের মা বুধবার বিকাল ৩টায় পাবনা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সুবর্ণার সাবেক শ্বশুর আবুল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়।
এদিকে মামলার পরই পুলিশ আবুল হোসেনকে (৬০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা স্পিনার অশ্বিন’

খেলার খবর: ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ক্রিকেটার গ্রায়েম সোয়ানের দৃষ্টিতে টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা স্পিনার হচ্ছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
বৃহস্পতিবার ভারত-ইংল্যান্ডের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে চতুর্থ টেস্ট। এর আগে অশ্বিনকে এই বিশেষ ‘সার্টিফিকেট’ দিলেন সোয়ান।
সিরিজের তৃতীয় টেস্টে জয়ী ম্যাচে ভারতের হয়ে খুব বেশি ভূমিকা রাখতে পারেননি অশ্বিন। তবে বার্মিংহামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ৭ উইকেট শিকার করেন অশ্বিন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত ৬১ টেস্টে ২৫ দশমিক ৪৫ গড়ে মোট ৩২৪ উইকেট শিকার করা ৩১ বছর বয়সী অশ্বিন রোজ বোলে শুরু হওয়া চতুর্থ ম্যাচেও ভারতের সেরা একাদশে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোয়ান বলেন, ‘উপমহাদেশে তার রেকর্ড অসাধারণ এবং এজবাস্টনে তার বোলিং আমার খুব ভালো লেগেছে।’
তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার নাথান লিঁও এ পর্যন্ত খুবই ভালো করে আসছেন এবং নিজ মাঠে তার সাফল্য দেখে সত্যিই আমি দারুণ অনুপ্রাণীত। তবে ইংল্যান্ডের মাটিতে তিনি ততটা কার্যকর নন এবং ভিন্নতা ও ধারাবাহিকতার দিক থেকে আমি অশ্বিনকেই এগিয়ে রাখব।’
সম্প্রতি কাউন্টি ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরমেন্সের সুবাদে অলরাউন্ডার মঈন আলী পুনরায় ইংল্যান্ড দলে জায়গা পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। তিনি ফিরলে ইংল্যান্ডের সেরা একাদশ থেকে বাদ পড়তে পারেন আদিল রশিদ।
সোয়ান আরো বলেন, ‘হ্যাঁ আমাদের সমস্যা হচ্ছে। তবে মঈন একজন ভালো স্পিনার। তবে আমার মনে হয় সে একজন ভালো স্পিনার সেটা সে নিজেই বিশ্বাস করে না। লাল বলে নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত টেস্টে সে কখনোই ভালো করতে পারবে না। ব্যাটসম্যানদের আউট করতে তাকে আরো বেশি রিভার্স সুয়িং পেতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নাটকীয়তায় ভরপুর সানির বায়োপিকের ২য় পর্ব

বিনোদন সংবাদ: তার নাম করেনজিত কৌর ভোরা। তবে পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই তাকে সানি লিওন নামেই চেনে। অনেক নাটকীয়তায় ভরপুর সানির জীবন। তার নাম যে করেনজিত কৌর, এই সেদিনও তা কেউ জানতেন না। এক সাধারণ ঘরেই জন্ম হয়েছিল করেনজিতের। কিন্তু ঘটনাচক্রে অ্যাডাল্ট দুনিয়ায় এসে পড়েন তিনি। জীবনের এসব গল্পের প্রথম পর্বে সামনে এসেছে সবার। এবার প্রকাশ্যে আসছে আরও একটি পর্ব। সম্প্রতি তারই ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে।

ইরোটিক ইন্ডাস্ট্রি থেকে তাকে যখন তুলে এনেছিল ভাট ক্যাম্প, তখনও তার পরিচয় পর্নস্টার। তিনি যতই নিজেকে মডেল হিসেবে তুলে ধরুন না কেন, পর্ন ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর নায়িকাকে কেউই সহজে গ্রহণ করতে পরছিল না। সেখান থেকে অভিনেত্রী হয়ে উঠতে সানিকে পেরোতে হয়েছে সামাজিক ও মানসিক বাধা। পর্ন দুনিয়াকে পেছনে ফেললেও, সে দুনিয়ার বাইরে তাকে কেউই ভাবতে নারাজ। ধীরে ধীরে নিজেকে প্রমাণ করেন সানি লিওন।

‘করেনজিত কৌর : দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ সানি লিওন’-এর প্রথম সিজনে নিজের পরিবারের সঙ্গে করেনজিতের লড়াইয়ের কথা দেখা গিয়েছিল। স্কুল জীবনে অনেক সময় হাসির খোরাক হতে হয়েছিল তাকে। বাড়িতেও শান্তি ছিল না। এই অশান্তিই তাকে এনে ফেলেছিল ইরোটিক পৃথিবীতে। সানির সেই ছোটবেলার গল্প স্থান পেয়েছিল প্রথম সিজনে।

এবার দ্বিতীয় পর্বে দেখা যাবে করেনজিতের সানি হয়ে ওঠার গল্প। অ্যাডাল্ট ইন্ডাস্ট্রিতে যখন তিনি পা রাখেন, স্বাভাবিকভাবেই আপত্তি ওঠে পরিবারে। দুর্ঘটনার শিকার হন মা। সবাই ভুল বোঝে সানিকে। এই সময়ই তার জীবনে আসেন ড্যানিয়েল ওয়েবার। সানিকে ভালোবাসতে শেখান তিনি। এই সব নিয়েই সেকেন্ড সিজনের গল্প।

‘করেনজিত কৌর: দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ সানি লিওন’ ওয়েব সিরিজটি পরিচালনা করেছেন আদিত্য দত্ত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এমপি নির্বাচন করতে চান হিরো আলম

বিনোদন সংবাদ: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচিত ও সমালোচিত আশরাফুল আলম। যিনি হিরো আলম নামেই সবার কাছে পরিচিত। এবার বগুড়া-৬ আসন থেকে এমপি নির্বাচন করতে চান তিনি।

এর আগে ২০১৬ সালের ৪ জুন বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও বেশ ভালোই ভোট পেয়েছিলেন তিনি।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে কয়েকটি গণমাধ্যমকে হিরো আলম বলেন, আমি জনগণের ভালোবাসা ও প্রত্যক্ষ ভোটে বগুড়া-৬ আসনের এমপি হতে চাই। সেই মনোবল থেকেই আমার উঠে আসা। চেহারা দেখে মানুষের যোগ্যতার বিচার করা যায় না। প্রতিটি সফলতার ধাপে ধাপে থাকতে হয় প্রতিভা। আমার গর্ব আমি বগুড়ার সন্তান। তাই বগুড়া নিয়েই আমার স্বপ্ন বেশি।

বলিউডে অভিনয় নিয়ে তিনি বলেন, আমি বলিউডে সুযোগ পেয়েছি। সত্যিই এটা স্বপ্নের মতো। মিডিয়া আর জনগণের ভালোবাসায় আমার স্বপ্ন পূরণের পথে।

হিরো আলম এর আগে ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দুইবার নির্বাচন করেছেন। এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করতে চান। তবে কোনো রাজনৈতিক দল তাকে মনোনয়ন দেয়ার প্রস্তাব দিলে ভেবে দেখবেন।

প্রসঙ্গত, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আকস্মিকভাবে আলোচনায় উঠে আসেন হিরো আলম। এরপর বগুড়া থেকে ঢাকায় এসে একের পর মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন। ‘মার ছক্কা’ নামের একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয়ের সুযোগ মেলে তার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বঙ্গবন্ধুর গোসল-দাফনে অংশ নিয়েছিলাম- স্মৃতিচারণে সাতক্ষীরার রজব আলী

আসাদুজ্জামান : রাতে পড়তে পড়তে ঘুম আসতো। পরীক্ষার সময় ঘুম ঠেকাতে পাশে থাকা রেডিওটি অন করতাম। আর এই রেডিওতেই সে রাতে শুনেছিলাম ‘আমি মেজর ডালিম বলছি, শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে’।
বারবার এই বুলেটিন প্রচারে সেদিন আমার ঘুম আর হয়নি। আতংকে কেটেছে রাত। পরদিন সকালে ঢাকায় কী ঘটেছে সে খবর চারিদিকে ভেসে বেড়ায়। আমি তখন মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র। সবকিছু বুঝে ওঠার ক্ষমতাও আমার হয়নি।শুধু জানলাম বঙ্গবন্ধু আর নেই।
দুদিন পর সেই টুঙ্গিপাড়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে দাফনের আগে বঙ্গবন্ধুকে গোসল দেওয়ার কাজে আমি সাহায্য করেছিলাম। মনে আছে তিব্বত ৫৭০ ব্র্যান্ডের কাপড় কাচা সাবান এনে পাশের একটি পুকুর থেকে পানি নিয়ে গোসল করানো হয়েছিল তাকে। আমি বঙ্গবন্ধুর গায়ে জমাট বাধা রক্ত ভেজা গেঞ্জি দেখেছিলাম। গুলিতে ঝাঝরা হয়ে গিয়েছিল তার বুক। সে এক দুঃসহ স্মৃতি।
অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই কথাগুলি বলেন, সাতক্ষীরার মওলানা রজব আলি মোল্লা। স্মৃতির অতল তলে হাতড়ে তিনি এখনও আপন মনে সেকথা ভাবেন। ঘাতকদের গুলিতে বঙ্গবন্ধুর মত এক বিশাল হৃদয়ের নরশার্দুলের ঝাঁঝরা হওয়া বুকের দুঃসহ দৃশ্যের স্মৃতি ভুলতেই পারেন না তিনি। কথা গুলো বলতে বলতে তিনি বারবার আবেক আপ্লুত হয়ে পড়ছিলেন। অঝোরে কাঁদাছিলেন তিনি।
সাতক্ষীরা শহরতলির মেহেদীবাগের টিনে ছাওয়া মাটির বাড়ির বারান্দায় বসে এই প্রতিনিধির সাথে শোকাবহ সেই স্মৃতির কথা বলছিলেন তিনি। তিনি বলেন, আগস্ট যায়, আগস্ট আসে, আসুক আগস্ট, কিন্তু ১৫ই আগস্ট যেন আর দেখতে না হয় এই জাতিকে।
রজব আলী মোল্লা শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়লিনী ইউনিয়নের ৯নং দাতনেখালি গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি স্ত্রী সন্তান নিয়ে শহরের মেহেদীবাগে বসবাস করেন।
রজব আলি মোল্লা ১৯৭৫ সালে গোপালগঞ্জের গোবরা কওমী মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। কিছুদিন বাদে তিনি গোবরা ছেড়ে একই এলাকার গওহরডাঙা মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার একদিন পর টুঙ্গিপাড়ায় একজন দফাদার এসে সবাইকে খবর দিল গোপালগঞ্জ শহর আর্মিতে ভরে গেছে। আপনারা কেউ কোন কথা বলবেন না। আর্মি যা বলে তাই শুনবেন। স্মৃতিচারন করতে গিয়ে তিনি বলেন গোসল শেষে আর্মিতে ঘেরা ময়দানে বঙ্গবন্ধুর নামাজে জানাযায় ২৫ থেকে ৩০ জন মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। তাতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গওহরডাঙা মাদ্রাসার কলাখালি হুজুর। এরপর তার কবর খোড়া হয়। সেখানেই শায়িত হলেন মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন মনে হয়েছিল বাংলার এক বিশাল মহীরুহকে হারালো বাঙ্গালি। যেনো একটি ইতিহাসের যবনিকা পড়লো। রজব আলি মোল্লা জানান, বঙ্গবন্ধুকে গোসলের কাজে অনেকের মধ্যে আরও যারা সহায়তা করেছিলেন তারা হলেন, গোপালগঞ্জের দিঘলিয়ার মোঃ জালাল উদ্দিন এবং পাটগাতি গ্রামের বেলায়েত হোসেন। এই জালাল উদ্দিন সাতক্ষীরার কামালনগর মসজিদের ইমাম ছিলেন। আর বেলায়েত হোসেন ছিলেন সাতক্ষীরা আনসার ক্যাম্প মসজিদের ইমাম। দুজনেই আজ প্রয়াত। তাদের স্মরন করে তিনি বলেন, আমরা সবাই একসাথে থাকতাম। একসাথে বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফর রহমান ও তার মায়ের কুলখানিতে অংশ নিয়েছিলাম ১৯৭৩ সালে। আমরা ছাত্র হিসাবে সেখানে পৌঁছানোর পর বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে শুনেছিলাম ‘কি রে তোরা খেয়েছিস ? খেয়ে নে’। মনে আছে তিনি আমাদের একসাথে বসিয়ে খাবার হুকুম দিয়েছিলেন।
আমি তখন গোপালগঞ্জের সিঙ্গিপাড়ায় একটি বাড়িতে লজিং থাকতাম। বাড়ির মালিকের ছেলের নাম ছিল আতাউল গনি বাদশা। তিনি একসময় সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পরে খুলনার পুলিশ সুপার ছিলেন।
সেদিনের বর্ননা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে মাঠে বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী হেলিকপ্টার নামলো। সেখানে এলেন গোপালগঞ্জের এসডিও। গোসল এবং জানাযার সময় সেনাবাহিনীর ভয়ে সামনে আসতে সাহস করেননি অনেকে। সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০ জন আমরা অংশ নিয়ে তাকে শায়িত করেছিলাম। তখন আমার ছেলেবেলা। অনুভবে আসেনি‘ এতোবড় ঘটনার সাক্ষী হলাম আমিও’।
স্মৃতিচারন করতে যেয়ে রজব আলি আরও বলেন, ১৯৮০ সালে তিনি দাওরায়ে হাদিস শেষ করে কুষ্টিয়ায় দুই বছর শিক্ষকতা করেন। এরপর চলে আসেন সাতক্ষীরায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতাউল গনি বাদশার সহযোগিতায় পুলিশ লাইনস মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পান তিনি। টানা ৩২ বছর ইমামতির পর তিনি অবসরে গেছেন। এখন তার বড় ছেলে মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাতক্ষীরার সদর থান মসজিদের ইমাম ও ছোট ছেলে মাওলানা শরিফুজ্জামান পুলিশ লাইন মসজিদে ইমামতি করেন। তার একমাত্র মেয়ে মুসলিমা খাতুনকে বিয়ে দিয়েছেন শহরের মধ্যেই।
রজব আলির একটাই প্রত্যাশা, ‘আমি শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সামনে যেতে চাই, তার সঙ্গে দেখা করতে চাই, বলতে চাই আমার হাতে বঙ্গবন্ধুর বুকের ছোঁয়া, আমার কানে এখনও বঙ্গবন্ধুর কথা বাজে, ‘কিরে তোরা আসছিস না কেন?’।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘বিয়ের দাওয়াত রইলো’ মিথিলার!

বিনোদন সংবাদ: বিয়ের কথা মনে হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে উৎসবে ঘেরা কোনো এক রঙিন ছবি। আর বিয়ের বিয়ের দাওয়াতের কথা শুনলে কি মনে হয় সেটা আর নাই বা বললাম।

আর সত্যিকারের এমনই এক বিয়ে বাড়ির গল্প নিয়ে মারুফ রেহমানের রচনায় রেদওয়ান রনি নির্মান করেছেন টেলিছবি ‘বিয়ের দাওয়াত রইলো’। ।

টেলিছবিটিতে কনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। মজার ব্যাপার হল এখানে দেখা যাকে একজন পাত্রিকে তিন জন পাত্র পছন্দ করেছেন। এর মধ্যে একজন মোশাররফ করিম।

মোশাররফ করিম-মিথিলা ছাড়াও টেলিফিল্মটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, মনোজ কুমার, সুমন পাটোয়ারী, মুকিত জাকারিয়া, শামীম জামান, চৈতী, নাফা, সোহেল খান প্রমুখ।

টেলিফিল্মে দুটি গান ব্যবহার করা হয়েছে। হৃদয় খান ও স্টুডিও ফিফটি এইটের গাওয়া একটি রোমান্টিক গান এবং একটি আইটেম সং রয়েছে। আইটেম সং-এ অভিনয় করেছেন হালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্পর্শিয়া।

৩১ আগস্ট রাত ১১টায় এনটিভিতে টেলিফিল্মটি প্রচারিত হবে। এছাড়া বাংলালিংক গ্রাহকরাও একই সময়ে টেলিফিল্মটি দেখতে পাবেন বাংলালিংকের জনপ্রিয় অ্যাপ বাংলাফ্লিক্সে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ক্ষমতা ভোগের নয়, মানুষের সেবার জন্য- গণভবনে প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: ক্ষমতা ভোগের জন্য নয়, ক্ষমতা হলো মানুষের সেবার জন্য। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (২৯ আগস্ট) গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট এবং ৮ জেলার ২০ উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘৮১ সালে আওয়ামী লীগ আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে। আমি যখন দেশে আসি তখন বঙ্গবন্ধুর খুনিরা ছিলেন পুরস্কৃত। তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই বিচার বন্ধ করে যুদ্ধাপরাধীদের ভোটের অধিকার দেওয়া হয়েছে। তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে আমি দেশে আসি।’

৭৫ এর দুঃসহ সময়ের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার ৯ মাসের মাথায় একটি সংবিধান জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বেশিদিন সময় পেলেন না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখলাম প্রতিটি ক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধুর অবদান রয়েছে। যা ভাবলে সত্যিই অবাক লাগে। তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোট দেওয়া না দেওয়া জনগণের অধিকার। কিন্তু জনগণের সেবা করেই যাব। জনগণকে উন্নত জীবন দেব, খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এটা আমাদের অঙ্গীকার। আর এই অঙ্গীকার আমাদের পূরণ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ক্ষমতা আমার কাছে কোনো ভোগের বস্তু না, ক্ষমতা হচ্ছে দায়িত্ব পালন। কাজেই সেই দায়িত্বটাই পালন করতে চাই। আমি সব সময় মনে রাখি যে আমার বাবা দেশটাকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছে, তাই জনগণের সেবা করাটা আমার প্রথম কর্তব্য।’

‘কিন্তু কী অদ্ভুত চরিত্র আমাদের এ দেশের মানুষের। কারণ আমরা জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করি কিন্তু পরে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছিল’ বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

জনগণের সেবা করার জন্যই ক্ষমতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলায়ও আইক্যাম্প করে চিকিৎসা দেয়া হবে। দরিদ্ররা যাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নিতে পারে তারও ব্যবস্থা করা হবে।’

পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক চিকিৎসা সেবা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে সরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি শুধু হাসপাতাল করে ছেড়ে দেওয়া নয়, বিশেষজ্ঞ তৈরি করে তাদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ করে দিয়েছি। দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দিয়েছিলাম। দুটো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এরইমধ্যে করা হয়েছে। আরও একটা করার পরিকল্পনা আছে।’

পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টারে একটা করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোনালদোর সেই ‘বাইসাইকেল কিক’ হলো উয়েফার সেরা গোল

খেলার খবর: বাইসাইকেল কিকে করা গোলটির জন্য উয়েফা বর্ষসেরা গোলের পুরস্কার জিতলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বর্তমান ক্লাব জুভেন্টাসের বিপক্ষে গোলটি করেছিলেন তিনি। গত বছর এই পুরস্কার জিতেছিলেন জুভেন্টাস-সতীর্থ মারিও মানজুকিচ।

গোলটির পক্ষে এক লাখ ৯৭ হাজার ৪৯৬টি ভোট পান রোনালদো। যা মনোনীত অন্য যে কোনো গোলের পাঁচগুণের বেশি।

দ্বিতীয় সেরা গোল নির্বাচিত হয়েছে ইউরোপা লিগের শেষ আটে লাইপজিগের বিপক্ষে মার্সেইয়ের দিমিত্রি পায়েতের করা গোলটি। পুরস্কার জয়ের পর সবাইকে ধন্যবাদ জানান রোনালদো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest