সর্বশেষ সংবাদ-

কালিগঞ্জে বাল্যবিবাহ রোধে দিনব্যাপী কর্মশাল অনুষ্ঠিত

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে ১৮’র আগে বিয়ে নয়, বাল্যবিবাহ রোধে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০ টায় কালিগঞ্জ উপজেলা অফিসার্স কল্যাণ ক্লাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নুর আহম্মেদ মাছুমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ ইফতেখার হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ ওয়াহেদুজ্জামান, থানা অফিসার ইনচার্জ হাসান হাফিজুর রহমান প্রমুখ। নবযাত্রা প্রকল্পের আয়োজনে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিবাহ রেজিস্ট্রারগন, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও এনজিও কর্মকর্তাগণ এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি নায়িকা ববিতা

বিনোদন সংবাদ: তার নামের আগে পরে কোনো বিশেষণ লাগে না। এ দেশে একটাই ববিতা যিনি চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দায় মুগ্ধ এক কবিতা হয়ে আছেন। তার অভিনয়ের আলোয় দীর্ঘদিন ধরেই উদ্ভাসিত ঢাকার সিনেমা। তার হাসিতে, তার সৌন্দর্যের মুগ্ধতা ছড়িয়েছে দেশ ছেড়ে বিদেশেও।

আজ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী সেই ববিতার জন্মদিন। আর এই দিনটি এবার মহাসুখে পালন করছেন তিনি। গত সপ্তাহে ছুটে গেছেন কানাডায় একমাত্র পুত্র অনিকের কাছে। ববিতার একমাত্র পৃথিবী এখন আদরের অনিক। তাকে ছাড়া সব আনন্দ-আয়োজন বৃথা। তারপরও মন চাইলেই অনিকের কাছে ছুটে যাওয়া যায় না।

ববিতার ছেলে অনিক সেখানে ওয়াটার লু ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা, শিক্ষকতা এবং গবেষণা কর্মে ব্যস্ত। তাই তারও ছুটে আসা সব সময় সম্ভব হয় না। গত রমজানের ঈদটা মা দেশে আর পুত্র বিদেশে একাকী কাটিয়েছেন। একটা চাপা কষ্ট ভর করেছিলো দুজনের মনেই। তবে নিজের জন্মদিনে সেই কষ্টটাকে আর বাড়তে দিলেন না ববিতা। ছুটে গেছেন ছেলের কাছে। সেখানে কোরবানির ঈদও কাটাবেন।

ববিতার পুরো নাম ফরিদা আক্তার পপি। ১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা নিজামুদ্দীন আতাউব একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতা বি. জে. আরা ছিলেন একজন চিকিৎসক।

বাবার চাকরি সূত্রে তারা তখন বাগেরহাটে থাকতেন। তবে তার পৈতৃক বাড়ি যশোর জেলায়। শৈশব এবং কৈশরের প্রথমার্ধ কেটেছে যশোর শহরের সার্কিট হাউজের সামনে রাবেয়া মঞ্জিলে।

তিন বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়বোন সুচন্দা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, বড়ভাই শহীদুল ইসলাম ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মেজভাই ইকবাল ইসলাম বৈমানিক, ছোটবোন গুলশান আখতার চম্পা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং ছোটভাই ফেরদৌস ইসলাম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় দুই শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন ববিতা।

ববিতার চলচ্চিত্রে শুরুটা হয়েছিল ষাটের দশকের শেষ দিকে। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী পপি (ববিতার ডাক নাম) ‘সংসার’ ছবিতে রাজ্জাক ও সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবির নির্মাতা ছিলেন জহির রায়হান। ছবিটি মুক্তি পায়নি। জহির রায়হান ববিতাকে নিয়ে ‘জ্বলতে সুরুজ কা নিচে’ নামে একটি উর্দু ছবির কাজ শুরু করেন। মাঝপথে থেমে যায় এই ছবিটিরও কাজ। এরপর জহির রায়হান রাজ্জাক ও ববিতাকে নিয়ে তৈরি করেন চলচ্চিত্র ‘শেষ পর্যন্ত’। আর এটিই ছিল ববিতার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র। তারপর থেকেই ঢাকাই ছবিতে এই নক্ষত্রের উত্থান। আজও তিনি আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন অভিনয়ে।

ববিতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসিত হন। তিনি পরপর তিন বছর একটানা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নিয়ে রেকর্ড করেন। ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে ‘অনঙ্গ বউ’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বেঙ্গল ফ্লিম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় শ্রেষ্ঠ নায়িকার পুরস্কার পান।

এছাড়াও সরকারি এবং বেসরকারি অসংখ্য পুরস্কার তিনি লাভ করেছেন। এজন্য তাকে ‘পুরস্কার কন্যা’ বলা হতো। তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সবচেয়ে বেশিবার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় ববিতাকে।

ববিতা অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে অশনি সংকেত, রামের সুমতি, নিশান, মন্টু আমার নাম, প্রতিজ্ঞা, বাগদাদের চোর, লাভ ইন সিঙ্গাপুর, চ্যালেঞ্জ, হাইজ্যাক, মায়ের জন্য পাগল, টাকা আনা পাই, স্বরলিপি, তিনকন্যা, লটারী, শ্বশুরবাড়ি, মিস লংকা, জীবন সংসার, লাইলি মজনু, বসুন্ধরা, গোলাপী এখন ট্রেনে, নয়নমনি, সুন্দরী, অনন্ত প্রেম, লাঠিয়াল, এক মুঠো ভাত, মা, ফকির মজনু শাহ, জন্ম থেকে জ্বলছি, বড় বাড়ির মেয়ে, পেনশন, দহন, চন্ডীদাস ও রজকিনী, দিপু নাম্বার টু ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

আমরাও চাই আরো অনেকদিন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকুন ববিতা। অভিজ্ঞতার ছায়া দিয়ে যান ঢাকাই চলচ্চিত্রে এই ক্রান্তিলগ্নের প্রতিটি মুহূর্তে। শুভ জন্মদিন নায়িকা!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শাজাহান খানকে সংযত হয়ে কথা বলতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

দেশের খবর: নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে সংযত হয়ে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (৩০ জুলাই) রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে ডেকে নিয়ে তিনি এই নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক মন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কথা বলেন নৌমন্ত্রী। ভারতের মহারাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হওয়ার সঙ্গে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে তুলনা করেন তিনি। এ কারণে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আর এতে বিব্রত হয়েছে সরকার।

নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে আরও সংযত হয়ে কথা বলার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকার বিব্রত হয় এমন যেকোনও মন্তব্য পরিহার করতে হবে। কথা বলার সময় আরও সতর্ক থাকতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ না করে মহারাষ্ট্রের সড়ক দুর্ঘটনার রেফারেন্স দেওয়া ঠিক হয়নি।’

শাজাহান খান যা বলেছিলেন

রবিবার সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মোংলা বন্দরের জন্য একটি মোবাইল হারবার ক্রেন ক্রয়ের বিষয়ে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শাজাহান খান বলেন, ‘ভারতের মহারাষ্ট্রে এক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা গেছে, তা নিয়ে কোনও হইচই নেই। অথচ বাংলাদেশে সামান্য কোনও ঘটনা ঘটলেই হইচই শুরু হয়ে যায়।’

মহারাষ্ট্রের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে কুর্মিটোলার সড়ক দুর্ঘটনাকে স্বাভাবিক বলছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘আগে চুক্তিটা হোক, তারপর বলছি।’ চুক্তি শেষে তিনি এ বিষয়ে আর কোনও কথা না বলে বেরিয়ে যান।

নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

এদিকে একইসঙ্গে এই ঘটনায় এমন আচরণ ও আপত্তিজনক মন্তব্য করায় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এরপর সচিবালয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ সমাধান নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করাই প্রধান কাজ। সরকার সেটাই করবে।’

সোমবার বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে রয়েছে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের ক্ষমাপ্রার্থনা, বাসচালকদের গ্রেফতার, লাইসেন্সবিহীন চালকদের গাড়ি চালানো বন্ধ ইত্যাদি। এসব দাবি বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছে তারা।

রবিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টো দিকে) বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো দিয়া আক্তার মীম ও আব্দুল করিম সজীব। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে ভর্তি করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষার্থী নিহত: ২ বাসের চালক-হেলপার গ্রেফতার

দেশের খবর: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় দুই বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার চারজনকে গ্রেফতারের খবর জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, রাতভর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

রবিবার কুর্মিটোলায় বাস চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এদিকে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনের রাস্তায় মানববন্ধনে দাঁড়াতে গেলে পুলিশের বাধায় শুরুতে তাদের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। সেখান থেকে সরে এসে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে রাস্তা অরবোধ করতে গেলে সেখানেও শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় উত্তরাগামী বাস থামিয়ে বেশকিছু শিক্ষার্থীকে পুলিশ সদস্যরা জোর করে বাসে তুলে দেয় বলে অভিযোগ করেছে তারা। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের সামনে ফের জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

‘ছাত্র হত্যার বিচার চাই/ উই ওয়ান্ট জাস্টিস/ চলার পথটা যদি বিপদজনক হয় তাহলে দেশ সামনে এগুবে কী করে? বাস নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ড্রাইভিং বন্ধ করুন/ ক্ষমতার জোরে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা’- এমন লেখাযুক্ত বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন হাতে নিয়ে স্লোগান দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি কাজী শাহান হক জানান, শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় রবিবার রাতে থানায় একটি মামলা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আসামে ৪০ লাখ মানুষকে বাদ দিয়ে নাগরিকত্ব তালিকা

বিদেশের খবর: ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত খসড়া তালিকা থেকে অাসামের প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে প্রদেশের সরকার। সোমবার আসামের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন (এনআরসি) কর্তৃপক্ষ এ তালিকা প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসামে পাড়ি জমানো অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ১৯৫১ সালের পর এই প্রথম নাগরিকত্বের তালিকা হালনাগাদ করলো আসাম।

এনআরসির কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি খসড়া তালিকা মাত্র। সুতরাং এখনই কাউকে গ্রেফতার অথবা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে সমালোচকরা বলেছেন, নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অধিকাংশই প্রদেশের সংখ্যালঘু মুসিলম জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।

এনআরসি কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে ৩ কোটি ২৯ লাখ আবেদন জমা পড়েছিল। এরমধ্যে যাচাই-বাছাই উতড়ে নাগরিকত্বের উপযুক্ত হিসেবে ২ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। তবে যথাযথ নথি ও তথ্য-উপাত্ত দিতে না পারায় ৪০ থেকে ৪১ লাখ আসামিজ ভারতীয় নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।

এনআরসির একজন সমন্বয়ক জোর দিয়ে বলেছেন, এটি একটি খসড়া তালিকা মাত্র এবং চূড়ান্ত তালিকা নয়। তালিকায় যারা জায়গা পাননি, তারা আবারও আবেদন করতে পারবেন।

ভারতের আসামই একমাত্র রাজ্য যেখানকার বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বিভিন্ন-নথিপত্র জমা দেয়ার পাশাপাশি নিবন্ধিত হতে হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর একদিন আগে অর্থাৎ ২৪ মার্চের পূর্বে আসামিজদের বংশধররা যে সেখানে বসবাস করতেন সেই দাবির পক্ষে কাগজপত্র জমা দিতে হয়েছে এবারের এনআরসিতে জায়গা পাওয়ার জন্য। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুদ্ধ শেষে জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের।

এর আগে ১৯৫১ সালে এক জরিপ চালানোর পর প্রথমবারের মতো এনআরসি তালিকা প্রস্তুত করে আসাম। ওই সময় আসামের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৮০ লাখ। পরে ২০০৫ সালে রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার এবং অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় এক চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই তালিকা হালনাগাদ করা হয়। ১৯৮৫ সালের আসাম অ্যাকর্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

২০০৫ সালের পর আবারো এনআরসি তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হলেও রাজ্যের বিভিন্ন অংশে প্রায়ই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর জেরে বিভিন্ন সময় হালনাগাদ কাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরে ২০০৯ সালে আসাম পাবলিক ওয়ার্ক নামের একটি বেসরকারি সংস্থা রাজ্যের অবৈধ বাংলাদেশিদের সনাক্ত করার কাজ অব্যাহত রাখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

পরে সুপ্রিম কোর্ট নির্বিঘ্নে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ কাজ চালু রাখতে আসাম সরকারকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়। এর তিন বছর পর আসামে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত খসড়া তালিকা সোমবার প্রকাশ করা হলো।

এদিকে, নাগরিকত্বের দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে আসামের সীমান্তলাগোয়া মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ ও মনিপুর রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আধা-সামরিক বাহিনীর ২২ হাজার সদস্য আসাম এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে ভারতে পাড়ি জমানোর পর যে সংখ্যালঘুরা সেখানে ছয় বছর অতিবাহিত করেছেন; তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবেন বলে কেন্দ্র থেকে একটি আইনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু আসামসহ অন্যান্য রাজ্য সরকার এই আইনের বিরোধিতা করেছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদি নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের অঙ্গীকার করেছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর ২০১৬ সালে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকার নাগরিকত্ব সংশোধন বিল-২০১৬ সালে পাস করে।

কিন্তু বিজেপির এই প্রস্তাবে আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও মনিপুরের কিছু রাজনৈতিক দল নাখোশ; যারা ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জোট গঠন করে সরকারে রয়েছে। এই ইস্যুতে বিজেপির ওপর থেকে তারা সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়ারও হুমকি দিয়েছে।

এনআরসি প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হীমান্ত বিশ্ব শর্মা। অতীতে তিনি বলেছেন, তালিকায় যাদের নাম থাকবে না তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

অন্যদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোওয়াল বলেছেন, এনআরসির খসড়া তালিকায় যদি কারো নাম না থাকে তাহলে তাকে বিদেশি হিসেবে মনে করা যাবে না। কারণ এই তালিকা প্রকাশের পর বাদ পড়া মানুষজন তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণের যথেষ্ট সুযোগ পাবেন এবং আবেদনের মাধ্যমে তারা তালিকাখভুক্ত হতে পারবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা হাসপাতালের দুর্নীতবাজ কর্মচারী আক্তারের শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের অফিস সহকারি আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ডাক্তারি সনদ জালিয়াতি, প্রতারনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা সচেতন নাগরিক মঞ্চের ব্যানারে এ কর্মসুচি পালিত হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা নাগিরক মঞ্চের আহবায়ক অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসুল, সদস্য সচিব আলী নুর খানর বাবুল, সাতক্ষীরা মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, স্বদেশ পরিচালক মধাব চন্দ্র দত্ত, প্রকৌশলী আবিদার রহমান, মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ, শ্রমিক নেতা মোমিন হাওলাদার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন,সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার এনায়েতপুর শানতলা গ্রামের শাহাবাজ হোসেনের মেয়ে বেবী নাজমিন ও তার বোন মারুফা প্রতিপক্ষের হামলায় জখম হয়ে গত ২৮ মে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। তারা ৩১ মে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। সার্জারী কনসালট্যান্ট ডাঃ শরিফুল ইসলাম তাদেরকে চিকিৎসা দেন। একই গ্রামের মাস্টাররোলে কর্মরত রুবেল ওরফে শামীমের মাধ্যমে হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারি কাম ওয়ার্ড মাষ্টার আক্তার হোসেনের সঙ্গে বেবী, বোন মারুফা ও তাদের মা সাবিনা খাতুনের পরিচয় ঘটে। তবে ২৯ মে ডাঃ শরিফুল ইসলাম তাদের দু’ বোনকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা বললে তারা আপত্তি জানায়। বেবীর মাথায় মাথায় ছয়টি সেলাই ও বোন মারুফার মাথায় গভীর ক্ষতের ফলে চারটি সেলাই দেওয়া অবস্থায় ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই ডাঃ শরিফুল ইসলাম ২৯ মে তাদেরকে ছাড়পত্র দিতে চাওয়ায় বিষয়টি অঅক্তার হোসেনকে অবহিত করা হয়। ডাক্তারের দেওয়া এক্সরে স্লিপ নিয়ে ৩০ মে আক্তার হোসেন একজন নার্স বা আয়াকে ডেকে তাদেরকে নিয়ে ১২৫ নং কক্ষে এক্স-রে করে আসতে বলেন। আক্তার হোসেনের কথামত দু’ বোনের এক্স-রে বাবদ ৭০০ টাকা তাদের সঙ্গে পাঠানো নার্সকে দিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ৩০ মে সন্ধ্যায় ভূয়া এক্সরে প্লেট দিয়ে পরদিন ছাড়পত্র দেওয়ার পর এক্স-রে প্লেট, এক্স-রে স্লিপ নিয়ে ছাড়পত্রে কাটাকাটি করে ৩০ মে লিখে তাদেরকে ফেরৎ দেন। ওই দিন মাষ্টার রোলে কর্মরত শামীমের মাধ্যমে বেবী ও মারুফা জানতে পারে যে জামিন পাওয়ানোর সুবিধার্থে তড়িঘড়ি করে দুর্বল ডাক্তারি সনদ দেয়ার জন্য আসামী আব্দুর রহমানের কাছ থেকে৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন আক্তার হোসেন। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শাহাদাতুল আলম আবেদন করার আগেই তড়িঘড়ি করে আক্তার হোসেন ২৩ জুন এমসি পাঠিয়ে দেন। দু’ বোনের মাথায় গভীর ক্ষত হওয়ার কারণে কয়েকটি সেলাই দেওয়ার পরও এমসিতে ছেলা জখম বলে উল্লেখ করায় তারা অবাক হন। হাসপতালে তারা ডাঃ শরিফুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা নিলেও তাকে বাদ দিয়ে এমসিতে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক হিসেবে ডাঃ পরিমল কুমার বিশ্বাস, ডাঃ মোঃ মাহাবুবর রহমান ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফরহাদ জামিল সাক্ষর করেছেন। এমসিতে এক্স-রে করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়। সাংসদ অ্যাড. মোস্তফা লুৎফুল্লাহের কথা মত বিষয়টি নিয়ে নাগরিক মঞ্চের আহবায়ক অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসুল একজন সাংবাদিককে নিয়ে গত ১৭ জুলাই সিভিল সার্জনের কাছে গেলে তিনি ৩০ মে ওই ওয়ার্ডে কর্মরত দু’ নার্সকে না ডেকে একজনকে ও সংশ্লিষ্ট ডাঃ শরিফুল ইসলামকে সামনে না রেখে চেষ্টা করেন সিভিল সার্জন ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফরহাদ জামিলকে সামনে রেখে আক্তারের পক্ষ নিয়ে বেবী, মারুফা ও তার মা সাবিনা এক্সরে না করার স্বপক্ষে টিপসহি দিয়েছেন বলে দাবি করে প্রয়োজনে মামলা করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন । এটা দুর্ভাগ্যজনক।
বক্তারা আরো বলেন, আশাশুনি উপজেলার সুভদ্রকাটি গ্রামের অষ্টম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ২০১৬ সালের ২০ আগষ্ট শহরতলীর এল্লারচরে এনে সুভদ্রকাটি গ্রামের আওয়ামী লীগ সভঅপতি সোহরাব হোসেনসহ পাঁচজন গণধর্ষণ করে। তাকে পুলিশ উদ্ধার করে পরদিন সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়। পরবর্তীতে সদর হাসপাতালে পাঠানো এমসিতে ধর্ষণের কোন আলামত মেলেনি ও তার শারিরিক অবস্থা স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হলেও মহাখালির ফরহেনসিক প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। সদর হাসপাতালের ডাক্তারি সনদ প্রতিবেদন পরিবর্তণ করতে প্রভাবশালী আসামী সোহরাব হোসেনের কাছ থেকে আক্তার হোসেন এক লাখ টাকা গ্রহণ করে বলে একাধিক দায়্তিশীল সূত্রে জানা যায়। এ ছাড়াও দুর্বল এমসি দেওয়ার জন্য ও এমসি গ্রিভিয়াস করার জন্য সদর হাসপাতালের সবচেয়ে বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে আক্তার হোসেন পরিচিতি লাভ করেছেন। এ ছাড়া গত বছরের নভেম্বর মাসে কালিগঞ্জের চণ্ডীতলা গ্রামের এক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় আলামত পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে আক্তারের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সাধারণ ডাক্তারি সনদ গ্রিভিয়াস হিসেবে লিখিয়ে নেওয়া, গ্রিভিয়াস সনদ সিমপিল ইন নেচার হিসেবে লিখিয়ে নেওয়া ব্যাপারে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আক্তারের বিরুদ্ধে। ফলে এক সময়কার জিরো আক্তার এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। ডাাক্তারদের অনিয়মে বাধ্য করতে ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কতিপয় উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে আক্তার হোসেন মাষ্টার রোলে কর্মরত কয়েকজন অসহায় মেয়েকে ব্যবহার করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্যাথলজি বিভাগের রবিন, ওয়ার্ড মাষ্টার হয়েও স্টোর কিপার হিসেবে কামরুল ও স্বাস্থ্য সহকারি হিসেবে আক্তার হোসেন পুরো হাসপাতালটাকে জিম্মি করে ফলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছেন। ডাক্তারি সনদে অনিয়মের ক্ষেত্রে আক্তার হোসেনের নেওয়া আর্থিক সুবিধা সিভিল সার্জন ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ভাগাভাগি করে নিয়ে থাকেন।
আর্থিক সুবিধা নিয়ে কোন রোগীর ডাক্তারি সনদ জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে সদর হাসপাতালের অফিস সহকারি আক্তার হোসেন বলেন, মাষ্টার রোলে কর্মরত কোন নারীকে তার ইচ্ছা মত ব্যবহার করার প্রশ্নই ওঠে না। তাকে অহেতুক জড়ানো হচ্ছে। কারণ কোন ডাক্তারি সনদে তার সাক্ষর থাকে না।
তবে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাক্তার তওহিদুর রহমান ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফরহাদ জামিল হাসপাতাল সংক্রান্ত কোন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বেবী ও মারুফার অভিযোগের ভিত্তিতে আক্তারের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তিন সিটিতে ভোট শেষে চলছে গণনা

দেশের খবর: বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগর পিতা নির্বাচনে ভোট দেন তিন সিটির ভোটাররা। এখন ফলাফলের অপেক্ষা। চলছে ভোট গণনা।

তিন সিটিতে মোট ১৪টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হয়েছে। তিন সিটি কর্পোরেশনে মোট ভোটার প্রায় ৯ লাখ।

সকাল ৮টায় ভোট শুরুর পর থেকেই কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়া, এজেন্টদের ঢুকতে না দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ করতে থাকেন বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, বদরুদ্দিন আহমেদ কামরান ও সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং নিশ্চিত পরাজয় জেনে এসব অভিযোগ করছে।

দুপুরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ইসলামীয়া কলেজ ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নেন। তার অভিযোগ- ওই কেন্দ্রে মেয়র প্রার্থীর ব্যালট শেষ হয়ে গেছে। বুলবুল প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে ব্যালটের হিসাব চান। তিনি বলেন, ব্যালটের হিসাব না পেলে তিনি সেখান থেকে যাবেন না।

রাজশাহীতে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেছেন, ৭৬টি কেন্দ্রে অনিয়ম ও জালভোটের ঘটনা ঘটেছে।

নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপিসহ চারটি দলের মেয়র প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির মজিবর রহমান সরওয়ার, ইসলামী আন্দোলনের ওবাইদুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মনীষা চক্রবর্তী ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আবুল কালাম আজাদ। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে পৃথকভাবে এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তারা।

অপরদিকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরিশাল নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোডে নিজ বাস ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। তিনি নতুন তফসিল দিয়ে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

সিলেটে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ভোট বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন। এতে তিনি ৪১টি কেন্দ্রের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন। এর আগে নগরের কাজী জালালউদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে নিজ কার্যালয়ে গিয়ে বলেন, এবার ভোট চুরির ঘটনা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এমনটা সিলেটে আগে কখনো হয়নি। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মেয়র পদে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী মো. আবু জাফর ‘নজিরবিহীন কারচুপির’ অভিযোগ এনে সব কেন্দ্রের ভোট বাতিলের আবেদন করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামানের কাছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাকায় ৬ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিল শিক্ষার্থীরা

দেশের খবর: রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়েছে। এতে করে সোমবার বিকেল চারটা থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

আজ সকাল থেকে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে রাখলেও দুপুর দেড়টার দিকে শেওড়া রেলগেটে এলাকায় অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। নিরাপত্তাজনিত কারণে দুপুর দেড়টা থেকে ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের রেল চলাচল বন্ধ রাখে রেল কর্তৃপক্ষ। পরে দুপুর সাড়ে তিনটার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোজাম্মেল হোসেন।

এরপর হোটেল র‌্যাডিসনের সামনে থেকে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়া হলে বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিকেল চারটা থেকে বিমানবন্দর সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল শুরু হয় বলে জানিয়েছেন ডিসি ট্রাফিক প্রবীর কুমার রায়।

এর আগে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং বেপরোয়া গাড়ি চালকদের ফাঁসির দাবিসহ ৯ দফা দাবি জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি হলো-
১. বেপোরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।
২. নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর গতকালের বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাতে স্পিড ব্রেকার দিতে হবে।
৫. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।
৬. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে, থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে।
৭. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবে না।
৯. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest