সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তিন নেতা গ্রেফতারসাতক্ষীরায় প্রভাষকের পদোন্নতিতে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হলেন ঝাউডাঙ্গা কলেজ অধ্যক্ষগণঅভ্যুত্থান স্মরণে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের স্মরণসভামাদকের আখড়ায় অতিষ্ঠ ঝাউডাঙ্গার দত্তবাগ এলাকাবাসীচলতি মাসেই হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি : আলোচনায় যারাপেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটসহ নিহত ১৩সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা : এনডিসির উদ্ধতপূর্ণ আচরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দাসাইবার দলের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাতক্ষীরায় কেক কাটা ও বৃক্ষরোপণঢাকাস্থ দেবহাটা উপজেলা সমিতির ৩২ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনজলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনরুদ্ধারের দাবি : সাতক্ষীরায় নাগরিক পরামর্শ সভা

স্কুলের সামনে ট্রাফিক পুলিশ স্পিডব্রেকার থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় নিহত কলেজ শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও আবদুল করিম রাজীবের পরিবারকে বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে ডেকে সান্ত্বনা এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এ সময় নিহতদের দুই পরিবারের হাতে অনুদান হিসেবে ২০ লাখ টাকা করে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র তুলে দেন।
তাঁদের সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকের বলেন, ‘সব স্কুলের সামনে স্পিডব্রেকার স্থাপন, সব স্কুলের সামনে প্ল্যাকার্ডধারী বিশেষ ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন বিমানবন্দর সড়কে আন্ডারপাস নির্মাণ এবং ওই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য পাঁচটি বাস প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
প্রেস সচিব বলেন, ‘রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল নূর নাহার ইয়াসমিন প্রধানমন্ত্রীকে জানান, নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানরা তাঁর ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে আসে। তাদের যাতায়াতের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাস দেওয়ার অনুরোধ করেন।’প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর মীমের বাবা জাহাঙ্গীর ফকির এবং রাজীবের মা মহিমা বেগম সাংবাদিকদের মাধ্যমে রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছেন। মীম ও রাজীব নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত রবিবার থেকে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় আন্দোলনে নেমে রাজধানী কার্যত অচল করে রেখেছে। গত দুই দিনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য জেলায়ও।
মীমের বাবা জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবার কাছে আমার অনুরোধ, যার যার সন্তান, আমরা অভিভাবকরা বুঝিয়ে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাই। আমরা একটা শক্ত বিচার পাব, আশা করি। এটা প্রধানমন্ত্রীর নিজের মুখের কথা।’
রাজীবের মা মহিমা বলেন, ‘সবাই আমার সন্তানের জন্য রাস্তায় নেমেছে। সবই হয়ে গেছে। এখন তোমরা যে যার ঘরে উঠে যাও। তোমাদের সবার কাছে অনুরোধ, তোমরা ঘরে ফিরে যাও।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মীমের বাবা জাহাঙ্গীর ফকির, ভাই-বোন, মা এবং রাজীবের মা মহিমা বেগম, বোন ও পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রিন্সিপাল নূর নাহার ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বুধবার আমাদের বাসায় গিয়েছিলেন সমবেদনা জানাতে। তিনিও দোষীদের বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘এটা কেউ চাপিয়ে রাখতে পারবে না। এর বিচার হবেই। বিচার হলে আমরা দেশের মানুষ সবাই শান্তি পাব।’ সন্তানহারা এই বাবা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের সান্ত্বনা দিয়েছেন। আমরা খুব কৃতজ্ঞ।’
এ সময় মহিমা বেগমের পাশে থাকা রাজীবের বোন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের সান্ত্বনা দিয়েছেন। আমরা স্যাটিসফাই হয়েছি। তোমরাও স্যাটিসফাই হও। আমরা দোয়া করি, তোমরাও দোয়া করো তোমাদের বন্ধুদের জন্য। সবাই ঘরে ফিরে যাও।’
গত রবিবার ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস চাপা দিয়ে হত্যা করে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী মীম ও রাজীবকে। ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বায়োগ্যাসচালিত গাড়ি চলবে রাজধানীতে

দেশের খবর: রাজধানী ঢাকার বর্জ্য থেকে এবার বায়োগ্যাস উৎপাদনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে সিএনজিচালিত যেকোনও পরিবহন চলবে। জানা গেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ পেয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লৌহজং বায়োগ্যাস সিএনজি ফিলিং স্টেশন লিমিটেড। প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসাবাড়ির ফেলা দেওয়া বর্জ্য সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি এই গ্যাস উৎপাদন করবে। বায়োগ্যাস ছাড়াও এ প্রকল্পের মাধ্যমে মেডিক্যালে ব্যবহৃত গ্যাস মিলবে, একইসঙ্গে পাওয়া যাবে বিদ্যুৎ ও জৈব-সার।
ঢাকার বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের জন্য অনুমতি চেয়ে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ডিএসসিসি দফতরে আবেদন করে লৌহজং বায়োগ্যাস সিএনজি ফিলিং স্টেশন লিমিটেড। গত ২৫ জুলাই এক বোর্ড সভায় এ আবেদনে অনুমোদন দেয় ডিএসসিসি।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, তাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার নওয়াপাড়া লৌহজং রোডে অবস্থিত লৌহজং বায়োগ্যাস সিএনজি ফিলিং স্টেশন লিমিটেড যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে দৈনিক ৬০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করার অনুমোদন পেয়েছে। এই বর্জ্য থেকে প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক চার হাজার ৬৯৫ দশমিক ৬২ কিউবিক মিটার বিদ্যুৎ ও ১৮ হাজার ৬৩০ কেজি জৈব-সার উৎপাদন করবে। এভাবে রাজধানীর বর্জ্য থেকে বছরে ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ কিউবিক মিটার গ্যাস ও ৬৮ লাখ কেজি জৈব-সার উৎপাদিত হবে। প্রতিদিন যে পরিমাণ বায়োগ্যাস উৎপাদিত হবে তা দিয়ে ১৫০টির মতো গাড়ি চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত গ্যাস সিলিন্ডারজাত করে বাসাবাড়িতেও ব্যবহার করা যাবে।
লৌহজং বায়োগ্যাস সিএনজি ফিলিং স্টেশন লিমিটেড সূত্র জানায়, ফিনল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও জৈব-সার উৎপাদন করা হবে। এ ধরনের প্রকল্প ফিনল্যান্ডেও রয়েছে। আর এ প্রকল্পের মাধ্যমে সে দেশের সরকার বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস ও সার উৎপাদনের জন্য অর্থ খরচ করে বর্জ্য উৎপাদন করছে। তারা বর্জ্য পাচ্ছে না। কিন্তু বাংলাদেশে বর্জ্যের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাই এই বর্জ্যকে ব্যবহার করে সম্পদে পরিণত করতে চায় তারা।
এ কোম্পানির অন্য এক সূত্র জানায়, কোম্পানির নিজস্ব বিনিয়োগ ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিডেটের আর্থিক সহায়তায় ফিনল্যান্ডের বায়োজিট কোম্পানির যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। সব ঠিক থাকলে প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের শেষের দিকে উৎপাদনে যাবে।
এ সূত্র আরও জানায়, এই শিল্প প্রকল্প স্থাপনের ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ ‍দূষণ বন্ধ হবে, অন্যদিকে প্রচলিত জ্বালানিতে যানবাহন চলাচলের মাধ্যমে সৃষ্ট কার্বন-ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ছড়ানোও বন্ধ হবে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া, জৈব-সারের মাধ্যমে একদিকে ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে কেমিক্যালমুক্ত ফলনও বৃদ্ধি পাবে।
সূত্র জানায়, পাশের দেশ ভারতেও বায়োগ্যাস থেকে গাড়ি চালানো হয়। তবে সে বায়োগ্যাস ভারতের বীরভূমের দুবরাজপুরের কারখানায় গোবর থেকে উৎপাদন করা হয়, যা পরে ট্যাঙ্কারে করে কলকাতা নিয়ে আসা হয়। গোবর থেকে উৎপাদিত বায়োগ্যাসের চেয়ে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বায়োগ্যাসের চাপ অনেক বেশি। বর্তমানে ভারতের বীরভূমের দুবরাজপুরের কারখানায় গোবর থেকে প্রতিদিন একহাজার কেজি বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হয়। প্রতিকেজি ২০ টাকা দামের প্রতিকেজি বায়োগ্যাসে একটি বাস প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে।
এ ব্যাপারে লৌহজং বায়োগ্যাস সিএনজি ফিলিং স্টেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, প্রকল্পটি দেশের জন্য একটি অতীব প্রয়োজনী ও কল্যাণকর শিল্প প্রকল্প হিসেব আত্মপ্রকাশ করবে। অচিরেই এই প্রকল্পের অনুকরণে দেশে অনেক শিল্প প্রকল্প গড়ে উঠবে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে।’
ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আ.হ.ম আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, ‘আমাদের বর্জ্য ব্যবহার করে গ্যাস ও সার উৎপাদন করার জন্য লৌহজং বায়োগ্যাস সিএনজি ফিলিং স্টেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে অনুমোদন দিয়েছি। বিষয়টি ইতিবাচক। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ডিএসসিসির এলাকায় যেমন বর্জ্যের স্তুপ কমবে, তেমনি গ্যাস ও সার উৎপাদিত হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাজধানীর রাস্তা ছোটদের নিয়ন্ত্রণে

দেশের খবর: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার জের ধরে বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনের মতো সড়কে বিক্ষোভ-অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হলেও রাজধানীতে এর ফল হয়েছে উল্টো। বৃহস্পতিবার আরো বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয় বিক্ষোভে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে যানবাহনের লাইসেন্স যাচাই শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ে এমন কার্যক্রম। শহরের শতাধিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সড়কে নেমে আসে। শহরের প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন সংযোগ সড়ক, এমনকি পাড়া-মহল্লার অলিগলিতেও শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অনিয়ম যাচাই করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কার্যত অচল হয়ে পড়ে ঢাকা শহর।
দিনভর চালকদের লাইসেন্স যাচাই ছাড়াও সারিবদ্ধভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে চালকদের ভর্ৎসনা করে গাড়ি আটকে ফেলে শিক্ষার্থীরা। তাদের তল্লাশি থেকে রেহাই পায়নি পুলিশসহ প্রশাসনের লোকজনও। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়িও আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত বেশির ভাগ সড়ক দখলে রাখে তারা। রাজধানীর প্রগতি সরণিসহ কয়েকটি রাস্তায় তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল।
সরকার শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে, এর পরও আন্দোলন কেন—জানতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বলে, তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। সরকারের আশ্বাস তারা বিশ্বাস করতে পারছে না বলেও জানায়। বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও কয়েকটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। মিরপুর-১৪ নম্বরে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা করে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় কাগজপত্র দেখা নিয়ে বাগিবতণ্ডার জের ধরে ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টকে পিটিয়ে আহত করে কিছু তরুণ। তারা দাবি করে, ওই সার্জেন্ট আগে ছাত্রদের মারধর করেন। এ কারণেই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া শান্তিনগরে কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বাংলামোটর, মগবাজার, শান্তিনগর ও ধানমণ্ডিতে শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়।
অন্যদিকে পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, শিশু-কিশোরদের আন্দোলনকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। এ কারণে তাদের ওপর চড়াও না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের। তবে পুলিশের গাড়িসহ যানমালের ক্ষতি হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেন, শিশুদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ভুয়া ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে একটি মহল। এসব অপপ্রচারে কান না দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করার অনুরোধ জানান তাঁরা।
গত রবিবার দুপুরে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মীমকে হত্যার দিন থেকেই প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ আজ শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানকার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে বাধাও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে থামানো যায়নি ছাত্র আন্দোলন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষার্থীদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের খবর: নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যে ৯ দফা দাবি জানিয়েছিল, এর সবগুলোই যৌক্তিক এবং সবগুলোই বাস্তবায়নের জন্য তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। টার্মিনালে চালকদের সনদপত্র পরীক্ষা ও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন পাস করা হবে। সেই আইনে জাবালে নূরের চালকদের শাস্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরমধ্যে দুই-একটি দাবি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি আরো বলেন, বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনায় দেশজুড়ে চলা আন্দোলনে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রদল ও শিবির নেতাদের এ বিষয়ে উসকানি দিতে দেখা গেছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সব কর্মসূচি প্রত্যাহার আহবান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে আমার অনুরোধ, যথেষ্ট হয়েছে, তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও, বাসায় ফিরে যাও।
শিক্ষার্থীরা ফিরে গেলে পরবর্তীতে তাদের কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না। এমনকি তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের শাস্তি কিংবা ছাড়পত্র না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
শিক্ষার্থীরা যে ৯ দফা দাবি করেছে সেগুলো হচ্ছে–

১. বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।

২. নৌপরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

৩. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না।

৪. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না।

৫. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬. প্রত্যেক সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে।

৭. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

৮. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের নিতে হবে।

৯. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কোহলির অসাধারণ ইনিংসে ম্যাচে থাকল ভারত

খেলার খবর: ৫ টেস্ট, ১৩৪ রান, গড় ১৩.৪০। ২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফরে বিরাট কোহলির পরিসংখ্যান। গত চার বছরে নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। কিন্তু উজ্জ্বল ক্যারিয়ারে একমাত্র দাগ হয়ে ছিল ওই সংখ্যাগুলো। এবার প্রথম ইনিংসেই যেন মাটিচাপা দিলেন সেবারের বিভীষিকা। ইংলিশ পেসারদের সুইং বোলিংয়ে যখন কাঁপছে দল, ব্যাটিং মাস্টারক্লাস দেখিয়ে ভারতীয় অধিনায়ক খেললেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস।

পেসারদের দারুণ বোলিংয়ে এজবাস্টন টেস্টে বড় লিড নেওয়ার পথে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু কোহলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরি প্রথম ইনিংসে দু্‌ই দলকে রেখেছে প্রায় সমতায়। ইংলিশদের ২৮৭ রানের জবাবে ভারত করেছে ২৭৪।

মাত্র ১৩ রানে এগিয়ে থেকে শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড হারিয়েছে অ্যালেস্টার কুককে। বৃহস্পতিবার দিন শেষ করেছে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ৯ রান নিয়ে। দুই দিন শেষে এগিয়ে তারা ২২ রানে।

ভারতের ইনিংসের অর্ধেকের বেশি রান একাই করেছেন কোহলি। ১৪৯ রানের ইনিংসটির অর্ধেকর বেশি রানই আবার করেছেন শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে!

স্যাম কারান, জেমস অ্যান্ডারসনদের দারুণ বোলিংয়ে একসময় ভারত ছিল দুইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়। ১৮২ রানে যখন পড়ল অষ্টম উইকেট, কোহলির রান তখন ৬৭।

সেখান থেকে শেষ দুই উইকেটে ভারত যোগ করেছে ৯২ রান, কোহলি একাই করেছেন ৮২।

কোহলির অসাধারণ ব্যাটসম্যানশিপের পাশাপাশি ইংলিশরা নিজেদের দুর্দশার দায় দিতে পারে নিজেদেরই। ২১ ও ৫২ রানে স্লিপে কোহলির ক্যাচ ছেড়েছেন ডাভিদ মালান। প্রথম ক্যাচটি ছিল একদমই সহজ। জীবন পেয়ে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন ভারত অধিনায়ক।

দিনের শেষের মতো শুরুটাও ছিল ভারতের। ৯ উইকেটে ২৮৫ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। ইনিংস শেষ হয় আর মাত্র ২ রান যোগ করেই।

ভারতের দুই ওপেনার দলকে এনে দেন ভালো শুরু। গতবারের ইংল্যান্ড সফরে ৫ টেস্টেও একটি অর্ধশত রানের উদ্বোধনী জুটি পায়নি ভারত। এবার মুরালি বিজয় ও শিখর ধাওয়ান প্রথম ইনিংসেই এনে দেন ফিফটি জুটি।

এরপরই স্যাম কারানের ছোবলে এলোমেলো ভারত। মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা তরুণ বাঁহাতি পেসার ফেরান দুই ওপেনারকেই। মাঝে ফিরিয়ে দেন তিনে নামা লোকেশ রাহুলকে। ৯ রানের মধ্যে ভারত হারায় ৩ উইকেট।

অজিঙ্কা রাহানেকে নিয়ে কোহলি চেষ্টা করেছিলেন প্রতিরোধের। রাহানেকে ফিরিয়ে ৪১ রানের সেই জুটি ভাঙেন বেন স্টোকস। এই অলরাউন্ডার নিজের পরের ওভারে উপড়ে ফেলেন দিনেশ কার্তিকের মিডল স্টাম্প। ভারতের রান তখন ৫ উইকেটে ১০০।

আরেক পাশে খুব সাবলীল ছিলেন না কোহলিও। অসাধারণ এক স্পেলে ভারতীয় অধিনায়কের দারুণ পরীক্ষা নেন অ্যান্ডারসন। এই সময়টায়ই কোহলি জীবন পান প্রথমবার। তবে হাল না ছেড়ে চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় এগিয়ে নেন দলকে। পরে খেলেছেন চোখধাঁধানো সব শট।

হার্দিক পান্ডিয়া ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনরা চেষ্টা করেছেন সঙ্গ দিতে। খুব বেশি সময় পারেননি টিকতে। ইংলিশরা তখন ছিল বড় লিডের আশায়। শেষ দুই জুটিতে সেই আশা গুঁড়িয়ে দেন কোহলি।
নবম উইকেট জুটিতে এসেছে ৩৫ রান, তাতে ইশান্ত শর্মার অবদান ৫। ইনিংসের সর্বোচ্চ ৫৭ রানের জুটি শেষ উইকেটে, তাতে উমেশ যাদবের অবদান কেবল ১! দারুণ বুদ্ধিমত্তায় স্ট্রাইক ধরে রেখে খেলেছেন কোহলি। দুর্দান্ত সব শটে বাড়িয়েছেন রান।

১৭২ বলে স্পর্শ করেছিলেন ২২তম টেস্ট সেঞ্চুরি। ভারত অধিনায়কের কাছে এই সেঞ্চুরি কতটা, সেটি বুঝিয়ে দিয়েছেন নজরকাড়া উদযাপনেও।

শেষ পর্যন্ত তার বিদায়েই ইনিংসের সমাপ্তি। নামের পাশে তখন ২২৫ বলে ১৪৯ রান। এক ইনিংসেই গতবারের গোটা সিরিজের চেয়ে ১৫ রান বেশি!

ভারত অধিনায়কের হাসি আরও চওড়া শেষ বেলায়। ঠিক যেন প্রথম ইনিংসের রিপ্লে দেখিয়ে অ্যালেস্টার কুককে বোল্ড করে দিলেন অশ্বিন। সেখানেই সমাপ্তি দিনের খেলা। দুই দিন শেষে দুই দলই সমানে সমান!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৮৭

ভারত ১ম ইনিংস: ৭৬ ওভারে ২৭৪ (বিজয় ২০, ধাওয়ান ২৬, রাহুল ৪, কোহলি ১৪৯, রাহানে ১৫, কার্তিক ০, পান্ডিয়া ২২, অশ্বিন ১০, শামি ২, ইশান্ত ৫, উমেশ ১*; অ্যান্ডারসন ২/৪১, ব্রড ০/৪০, কারান ৪/৭৪, রশিদ ২/৩১, স্টোকস ২/৭৩)।

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৩.৪ ওভারে ৯/১ (কুক ০, জেনিংস ৫*; শামি ০/০, অশ্বিন ১/৫)।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হাসি-কান্না ও বেফাঁস কথার নৌমন্ত্রী!

দেশের খবর: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ‘চওড়া হাসি’ দিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় এসেছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, দলীয় নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পদত্যাগের দাবির চাপে পড়ে ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নৌমন্ত্রী।

পরে সচিবালয়ে তিনি বলেন, সেই দিন ওই ঘটনার পরে আমার হাসিমুখের অভিব্যক্তির জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আপনারা যারা আমার এই আচরণে দুঃখ পেয়েছেন তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাই। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে আমি মর্মাহত। ব্যথিত এবং শোকাহত। আর যেন কোনও মায়ের বুক খালি না হয় আমরা সেই পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমিও সন্তানের পিতা। আমি কথা দিচ্ছি, অভিযুক্ত চালকদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা আমার হাসির ছবি দেখিয়েছেন, সে কারণে আমার নিজেরও খারাপ লেগেছে। কারণ, শিক্ষার্থীদের প্রতি আমারও সহমর্মিতা আছে। সুতরাং এই ছবি দেখার পরে আমি নিজেও মর্মাহত হয়েছি। এটা সিচুয়েশনের সাথে যায় না।

তবে, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান যে বক্তব্য দিয়েছে এটা তার নিজস্ব বক্তব্য এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ একমত নয় বলে জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বেপরোয়া গাড়ি চালানোর দৌরাত্ম্যে বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর’।

এরপর নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে আরও সংযত হয়ে কথা বলার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকার বিব্রত হয় এমন যে কোন মন্তব্য পরিহার করতে হবে। কথা বলার সময় আরও সতর্ক থাকতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ না করে মহারাষ্ট্রের সড়ক দুর্ঘটনার রেফারেন্স দেওয়া ঠিক হয়নি।’

পরে বুধবার (১ আগস্ট) বিকেলে নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিমের (১৬) বাসায় গিয়ে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন নৌমন্ত্রী।

যদিও সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকনেতা ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগসহ ৯টি দাবির বাস্তবায়ন চেয়ে গত পাচঁদিন ধ‌রে আন্দোলন কর‌ছে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে নৌমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি নিশ্চয়তা দেয় তিনি পদত্যাগ করলে দুর্ঘটনা কমবে, তাহলে তার পদত্যাগে আপত্তি নেই।

এই আন্দোলনের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। এর আগেও সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। তবে তা গত এক বছর ঝুলে থাকার পর আবার নতুন সড়ক পরিবহন আইনের অনুমোদন দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এটি তোলা হবে জাতীয় সংসদে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরের দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। নিহত দুই শিক্ষার্থী হলো শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) ও একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম ওরফে মিম (১৬)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন শিক্ষার্থী।

সড়ক দুর্ঘটনার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী হেসে বলেন- যারা যেটুকু অপরাধ, তার শাস্তি হবে ততটুকু। কিন্তু মন্ত্রীর মুখে ছিল চওড়া হাসি। এসময় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নৌমন্ত্রী ভারতের মহারাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হওয়ার সঙ্গে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে তুলনা করেন। এই বক্তব্যের কারণে উঠেছে তুমুল সমালোচনা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অসুস্থ রিকশাচালককে নিয়ে হাসপাতালে ছুটল শিক্ষার্থীরা

ভিন্ন স্বাদের সংবাদ: রাজধানীর ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীরা সমবেত আন্দোলন করছিল। এসময় এক রিকশাচালক অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীরা রিকশাচালককে তার রিকশায় উঠিয়ে নেয় দুই ছাত্র। এরপর আরেক ছাত্র রিকশা চালাতে শুরু করে। আরও দুইজন ছাত্র রিকশাকে সাইড দেওয়ার জন্য চিল্লাতে থাকে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এমনই একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আহত রিকশাচালকের নাম জানা যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার মিরপুর রোডে অবস্থিত ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কাছে। তবে কীভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে রিকশাচালক তা জানা যায়নি। কিশোর শিক্ষার্থীদের অসুস্থ রিকশাচালককে হাসপাতালের নেওয়ার তৎপরতা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা পাচ্ছে।

বুধবারও শিক্ষার্থীদের এমন কর্ম তৎপরতা চোখে পড়ে। রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও ধানমন্ডি এক নম্বর রোডে রিকশাকে সারবদ্ধ চলাচল করতে বাধ্য করে। পরে দেখা যায় শৃঙ্খল হয়ে রিকশা চলাচল করছে। ঢাকার বুকে এমন দৃশ্য বিরল। কোথাও কোথাও উল্টোপথের গাড়িকে আটকে দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। সোজা ও সঠিক পথে চলতে বাধ্য করা হয়। লাইসেন্স বিহীন গাড়ি চলতে বাধা দেওয়া হয়। এমন নানা ঘটনা চোখে পড়ে বুধবার।

এর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা চোখে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। যখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একের পর এক গাড়ি আটকে দিচ্ছিল, অবরোধ করছিল- তখন একদল শিক্ষার্থী দায়িত্ব নিয়ে অসুস্থ ও বয়স্ক নারী পুরুষের রিকশা এসকর্ট করে পার করে দিচ্ছিল। এমন বোধ কিংবা মানবিকতা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

অসুস্থ রিক্সাওয়ালা মামাকে ছাত্ররা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।আর কি দেখাবি তোরা ভাই? তোরাই এদেশের সম্পদ

Posted by Maruf Hossain on Thursday, 2 August 2018

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১৬ লাখ অবৈধ চালক রাস্তায় : পুলিশ ব্যর্থ, ধরছে শিক্ষার্থীরা

দেশের খবর: মোটরযান অধাদেশ অনুসারে গাড়ি চালাতে গেলে লাইসেন্স থাকতেই হবে, চালক সে যেই হোন না কেন। ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত তদারকি চালিয়ে নিশ্চিত করবে, লাইসেন্সহীন কোনো চালক গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে নেই। কিন্তু রাজধানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন ও ঢাকা মহানগর পুলিশের লাইসেন্স ধরার অভিযান নেতিয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন—যে পুলিশ লাইসেন্স ধরবে, সেই পুলিশের গাড়িরও লাইসেন্স থাকে না। শৃঙ্খলাহীনতার এই চিত্রটি বুধবার কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামা শিক্ষার্থীরা মানুষের প্রাণ বাঁচাতে গতকাল লাইসেন্সহীন চালকদের গাড়ি আটকে দেয়। তারা যেন নেমেছে পুলিশের ভূমিকায়। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ধানমণ্ডিতে হারুন আই হাসপাতালের সামনে পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের একটি পিকআপ চালকের কাছে শিক্ষার্থীরা ‘লাইসেন্স’ পায়নি। গাড়িচালক পুলিশ কনস্টেবল অরবিন্দ সমাদ্দার অবশ্য জবাব দেন—‘কাজের সময় আমরা লাইসেন্স নিয়ে বের হই না। কাগজ অফিসে থাকে।’ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পিকআপটি ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

গতকাল ধানমণ্ডি, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, ফার্মগেট, বিমানবন্দর সড়কের খিলক্ষেত, মিরপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা অভিযান চালায়। মিরপুর-২ নম্বর থেকে সকাল ১১টায় মোটরসাইকেলে রওনা দিয়ে বিকেল ৪টায় কুড়িল পর্যন্ত আসতে পারেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, পথে কমপক্ষে ২০টি স্থানে শিক্ষার্থীরা তাঁর লাইসেন্স চায়।

বিআরটিএর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশে ১৬ লাখ ৩৬ হাজার যানবাহন চালানো হচ্ছে বৈধ চালক ছাড়া। একটি গাড়িতে একজন চালক থাকবে—এ হিসাব করে এ তথ্যটি বের করা হয়েছে।

বিআরটিএ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত জুন পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত গাড়ি দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭০টি। অথচ বিআরটিএ থেকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৯ লাখ। সে হিসাবে সাড়ে ১৬ লাখের কাছাকাছি গাড়ি চলছে বৈধ চালক ছাড়া। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চালকের সহকারী গাড়ি চালায়।

এ ছাড়া রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী, মিরপুর-১০, ফার্মগেট, জিগাতলাসহ বিভিন্ন স্থানে কিশোর চালকরা লেগুনা চালায়। আইন অনুসারে ১৮ বছর না হলে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায় না। অথচ ১৮ বছরের নিচের শিশু-কিশোররা যাত্রী পরিবহন করছে। তাদের একজন জসিম উদ্দিন গতকাল মহাখালী মোড়ে আলাপকালে বলে, লাইসেন্স লাগে না, পুলিশ ধরলে ৩০০ টাকা দিলেই হয়।

২০০৯ সালে প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯৭ শতাংশ চালক ওস্তাদের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করে গাড়ি চালানো শিখেছে। তাদের ১৩ শতাংশ নিরক্ষর, ৪৭ শতাংশের প্রাথমিক শিক্ষা ও ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে। পরীক্ষা না দিয়েই ৬১ শতাংশ চালক লাইসেন্স নেয়। ওই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রেজাউল হক। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক আমাদের বহুদিনের দাবি। এবার সাধারন শিক্ষার্থীরা জেগেছে।’

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য দিলেই তা লুকিয়ে রাখতে চায় সরকার। আসলে লুকিয়ে রেখে লাভ হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এরই মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’

বিআরটিএর সচিব শওকত আলী বুধবার দুপুরে জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ লাখ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে নিবন্ধিত প্রায় ৩৫ লাখ গাড়ির বিপরীতে। অনেক লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। নবায়ন করা হলে চালক বৈধ হবে।

রাজধানীতে প্রায় আট হাজার বাস চলাচল করে। এসব গাড়ির চালকের বৈধ লাইসেন্স নেই প্রায় ৪০ শতাংশের। এসব বাসের ৮৮ শতাংশেরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বহু বছর আগে। এসব বাসের বেশির ভাগ চালাচ্ছে ভুয়া চালকরা, কখনোবা অল্পবয়সী কিশোর। বাসগুলোর অর্ধেকের নেই উপযুক্ততার সনদ—কোনোটির সামনের আয়না নেই, ব্রেক নেই, ইঞ্জিন চলতে চলতে বন্ধ হয়ে যায়। এসব বাসের চালকদের প্রশিক্ষণও নেই। মালিকের সঙ্গে দৈনিক চুক্তিতে বেশির ভাগ বাস চালানোয় মুনাফার জন্য যাত্রীর দিকেই চোখ থাকে চালকদের।

র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার শিক্ষার্থী হত্যায় জড়িত জাবালে নূর পরিবহনের তিন বাসচালক মাসুম বিল্লাহ, জুবায়ের ও সোহাগের লাইসেন্স যথাযথ ছিল না। দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ক্ষেত্র তৈরি করে এ তিন চালক। মিরপুর ও বরগুনা জেলায় অভিযান চালিয়ে জাবালে নূরের তিনটি বাসের তিন চালক এবং তাদের দুই সহযোগী এনায়েত ও রিপনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

জাবালে নূরের তিন বাসের রেষারেষিতে গত রবিবার দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটে। তিন চালক মাসুম বিল্লাহ, জুবায়ের ও সোহাগকে বিআরটিএ অপেশাদার চালকের লাইসেন্স দিয়েছিল। কিন্তু তারা পেশাদার চালক হিসেবে ভারী যান চালিয়ে আসছিল। তাদের লাইসেন্সগুলো যাচাই করতে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বাস তিনটি হলো—ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯২৯৭, ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৬৫৭ ও ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৫৮০।

বাসচালকদের রেষারেষিতে চলতি বছর যেন হত্যার মৌসুম শুরু হয় রাজধানীতে। গত এপ্রিলে প্রতিযোগিতা করে চলা দুই বাসের চাপায় হাত হারান সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেন, পরে তাঁর প্রাণটিও যায়। বাসচাপায় মেরুদণ্ড ভেঙে চিরতরে পঙ্গু হন গৃহিণী আয়েশা খাতুন। ফার্মগেটে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা রুনি আক্তারের ওপরও বাস তুলে দেওয়া হয়েছিল। গত রবিবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা দেশের সব মানুষকে নাড়া দিয়েছে। সেই থেকে রাজধানী অচল হয়ে আছে শিক্ষার্থীদের অবরোধে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest