সর্বশেষ সংবাদ-
ভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেনসাতক্ষীরা সদরে ইউনিটি গ্রুপের ‘বিজনেস অপরচুনিটি’ সম্মেলন অনুষ্ঠিতসাংবাদিক সুজন ওসুজয়ের মায়ের ইন্তেকাল:প্রেসক্লাবের শোকশ্যামনগরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আহতের একদিন পর এক ব্যক্তির মৃত্যুকপ৩১-কে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা: ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবিসাতক্ষীরার সুন্দরবন রেঞ্জের ৬৮টি খালে বিভিন্ন মাত্রায় বিষ প্রয়োগের তথ্য গবেষণায় উঠে এসেছেসাংবাদিক হাফিজুর রহমানের মায়ের ইন্তেকাল,প্রেসক্লাবের শোকঅসুস্থ ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আমিরুল ইসলামকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন জেলা কৃষক দল নেতা রবিতালার ধানদিয়ায় ত্রাস সৃষ্টি করে ২লক্ষ টাকা মূল্যের গাছ কাটার অভিযোগসাতক্ষীরা জেলা জাসদের আলোচনাসভা ও সম্মেলন

হজ ফ্লাইট নিয়ে শঙ্কা

দেশের খবর: আর কয়েক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইটের কার্যক্রম শেষ হবে। পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় এরই মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আরও কমপক্ষে ৮টি ফ্লাইটের টিকিট অবিক্রীত রয়েছে এয়ারলাইন্সটির। এসব ফ্লাইটের টিকিট যথাসময়ে বিক্রি না হলে ঝুঁকিতে পড়বেন কমপক্ষে ১ হাজার হজ গমনেচ্ছু।
জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে ১৬ আগস্ট হজযাত্রী নিয়ে শেষ ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৪ ও ১৫ আগস্টের ৮টি ফ্লাইটের টিকিট এখনও অবিক্রীত রয়েছে। হজ এজেন্সিগুলো হজযাত্রীদের সৌদি আরবে বাড়িভাড়া ও ভিসা জটিলতায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, ‘হজযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বিমানের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। এ বছর সৌদি সরকার অতিরিক্ত হজ ফ্লাইটের অনুমোদন দেবে না। ফলে এখনও নির্ধারিত যেসব ফ্লাইটের টিকিট অবিক্রীত রয়েছে, সেগুলো বিক্রি না হলে অনিশ্চতায় বাড়বে।’
হজ অফিস জানিয়েছে, ৯ আগস্ট সকাল ৯টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৫১ হাজার ২৮৪ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সে পৌঁছেছেন ৪৮ হাজার ৭৯ জন।
হজ অফিস জানিয়েছে, এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। এরমধ্যে ৯ আগস্ট সকাল ৯টা পর্যন্ত ১লাখ ১৯ হাজার ২০ জন সৌদি আরবের ভিসা পেয়েছেন।
জানা গেছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার সম্ভাব্য হজের তারিখ ২১ আগস্ট। ১৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে হজ ফ্লাইট। ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রীর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার ৭৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার জন সৌদি আরব যাচ্ছেন। হজ শেষে হাজিদের ফিরিয়ে আনতে ফ্লাইট শুরু হবে ২৭ আগস্ট।
হাব মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, ‘এ বছর যারা হজে যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন সবাই যেতে পারবেন। কেউ বাদ পড়বেন না। শঙ্কার কোনও কারণ নেই। বিমানের যদি কোনও টিকিট অবিক্রীত থাকে সেটি তাদের তাদের সমস্যা, এজন্য হজযাত্রায় কোনও সমস্যা হবে না।’
এ প্রসঙ্গে হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখনও সুষ্ঠুভাবে সব হজযাত্রীকে সৌদি আরবে পাঠাতে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি কোনও সমস্যা হবে না।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির পথ খুলল

বিদেশের খবর: নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করতে এবং বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দেশটির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বর্ষা মান পুন অনন্ত এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন।
আজ শুক্রবার দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে স্বাক্ষরিত সমঝোতার আওতায় নেপাল থেকে ভারত হয়ে জলবিদ্যুৎ আমদানি ও বিদ্যুৎখাতে উভয় দেশের সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানির বিনিয়োগের খুটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে। নেপালের জ্বালানি, পানি ও সেচ মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে ওই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির পরে নসরুল হামিদ বলেন, দুই দেশেরই উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বাড়ানো দরকার। বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ সব ক্ষেত্রেই এই সহযোগিতার প্রয়োজন।
হিমালয়কন্যা খ্যাত নেপালে ৪০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে সে বিদ্যুৎ দেশে নিয়ে আসতে পারবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঈদে হচ্ছে ‘সালমান শাহ উৎসব’

বিনোদনের খবর: সালমান শাহ। বাংলা সিনেমার রাজপুত্র। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎ চলে যান না ফেরার দেশে। রেখে গেছেন ২৭টি চলচ্চিত্র।
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর এই নায়কের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিবসকে সামনে রেখে আয়োজন করা হচ্ছে ‘সালমান শাহ উৎসব’। আসন্ন ঈদুল আজহায় নাগরিক টিভিতে এটি অনুষ্ঠিত হবে। চ্যানেল সূত্র জানায়, ঈদের সাতদিনে সালমান শাহ অভিনীত ৮টি জনপ্রিয় সিনেমা নিয়ে এই উৎসবের আয়োজন করা হবে।
এরমধ্যে ঈদের দিন সকাল ১০টায় ‘মহামিলন’ এবং দুপুর ১টায় প্রচার হবে ‘সত্যের মৃত্যু নেই’। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে ৭ম দিন পর্যন্ত দুপুর ১টায় প্রতিদিন প্রচারিত হবে যথাক্রমে ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘জীবন সংসার’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘স্নেহ’, ‘প্রিয়জন’ ও ‘বিক্ষোভ’।
সালমান শাহ উৎসব করার বিষয়ে নাগরিক টিভির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান কামরুজ্জামান বাবু বলেন, ‘যেহেতু বাংলা সিনেমায় সালমান শাহ অসম্ভব জনপ্রিয় একজন নায়ক। আমরা তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেই দর্শকদের জন্য এই উৎসব করছি। সালমানের প্রায় প্রতিটি ছবিই দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেছিল। গত ২২ বছরে অনেক নতুন দর্শক তৈরি হয়েছে, যারা সালমানের নাম শুনেছেন কিন্তু তার সবগুলো সিনেমা দেখা হয়ে ওঠেনি। তাই আমরা এমন একটি উৎসবের আয়োজন করেছি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালেবান হামলায় ১৪ সেনা সদস্য নিহত

বিদেশের খবর: আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় গজনি শহরে তালেবান হামলায় কমপক্ষে ১৪ সেনা নিহত এবং আরো ২০ জন আহত হয়েছে। এ হামলায় আরও ৩৯ জন তালেবান নিহত হয়েছে ।
শুক্রবার (১০ আগস্ট) রাতে রাজধানী গজনিতে হামলা চালায় তালেবান জঙ্গিরা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা দখলে নেয়ার দাবি করে তারা। তবে মার্কিন বিমান বাহিনীর সহায়তার জঙ্গিদের প্রতিরোধ করে আফগান বাহিনী।
পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রাদমানিশ জানান, ওই শহরটিতে নিয়ন্ত্রণ পুনপ্রতিষ্ঠা করেছে সরকারি সেনা ও পুলিশ। তবে গজনির কয়েকটি চেক পয়েন্ট এখনও তালেবান জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, এখনও সেগুলোর দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই চলছে।
গজনি সিটি হাসপাতালের প্রশাসক বাজ মোহাম্মদ হেমেত জানান, তালেবানদের সঙ্গে লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমপক্ষে ১৪ জন সদস্য নিহত হয়েছে। তবে এ লড়াইয়ে বহু তালেবান নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে রয়টার্স ও এপি।
তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স জানায়, গজনি হামলায় প্রায় দেড়শ হামলাকারী নিহত হয়েছে। আর এপি বলেছে, শহরের এক ব্রিজের নিচ থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে তালেবান জঙ্গিদের ৩৯ মরদেহ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যশোর সীমান্তে ৭৩ কেজি স্বর্ণসহ একজন আটক

দেশের খবর: ভারতে পাচারের সময় যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার শিকারপুর সীমান্ত থেকে ৬২৪টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এ সময় মহিউদ্দিন (৩৫) নামের এক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ শুক্রবার ভোরে উদ্ধার হওয়া এসব স্বর্ণের বারের ওজন ৭৩ কেজি।
আটক মহিউদ্দিন শার্শা উপজেলার শিকারপুর গ্রামের বাসিন্দা। যশোর সীমান্তে এটাই সবচেয়ে বড় ধরনের সোনা আটকের চালান বলে বিজিবি জানায়।
৪৯ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল হক জানান, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার শিকারপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে—এমন ধরনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির টহল দল শিকারপুর নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় চোরাচালানি মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৬২৪টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়। জব্দ করা স্বর্ণের মূল্য ৩৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বলে বিজিবি জানায়। আটক স্বর্ণের বারগুলো বেনাপোল কাস্টম হাউসে জমা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সরকারকে সামাজিক চাপে রাখার কৌশলে বিএনপি

দেশের খবর: দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে সরকারকে চাপে রাখা কৌশল থেকে কিছুটা সরে এসেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, প্রথমদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ছিল। তখন আন্দোলনে সাধারণ মানুষেরও সমর্থন ছিল। তবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা বেড়ে যাওয়ায় আন্দোলনে কিছুটা ভাটা পড়ে। ফলে এখন সরকারকে চাপে রাখতে মাঠের আন্দোলনের চাইতে কূটনৈতিক ও সামাজিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বেশি। এর অংশ হিসেব কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক এবং সংবাদ সম্মেলনে করে সরকারের বিভিন্ন ‘অনিয়ম ও নিপীড়নের’ চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে।
গত ৮ আগস্ট খালেদা জিয়ার কারাবাসের ৬ মাস পূর্ণ হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাগারে যাওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে মানবন্ধন, প্রতীকী অনশন, স্মারকলিপি প্রদান, প্রতিবাদ সমাবেশসহ বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। কিন্তু গত ২ মাসে আন্দোলন কর্মসূচিতে অনীহা দেখা যায় দলটির। সর্বশেষ গত ২০ জুলাই তার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টন দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিএনপি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে। আন্দোলন অংশ হিসেবে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অংশ নেওয়া কর্মসূচি কিছুটা কম ছিল। কারণ নেতারা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিল। এরপর নির্বাচনের সরকারের অনিয়মের প্রতিবাদে একদিনের কর্মসূচিও ছিল। এখন আবারও কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
বিএনপির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন সরাসরি গণমানুষের কোনও আন্দোলন নয়। এটা প্রকৃতপক্ষে বিএনপির একার আন্দোলন এবং দলের নেতাকর্মীদের তা করতে হচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে জনগণের যে রকম সমর্থন পাওয়া গেছে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সেই রকম পাওয়া যায়নি। ফলে বিএনপিকে সরকারকে চাপে রাখার কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এরমধ্যে গত ৭ আগস্টও কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বৈঠক করে খালেদা জিয়ার জামিনে সরকারের হস্তক্ষেপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সামাজিকভাবে সরকারেকে চাপে রাখতে সরকার বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে কথা বলছেন দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা। তবে আগামী দিনে আন্দোলনের পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকে নজর দিচ্ছে দলের হাইকমান্ড।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি লড়াই পাশাপাশি আন্দোলনও করা হচ্ছে। এছাড়াও সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কূটনীতিকদের বিফ্র করে থাকি। তারই অংশ হিসেবে ৭ আগস্ট বৈঠক করেছি কূটনীতিকদের সঙ্গে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, চলতি মাসে আর বড় ধরনের কোনও আন্দোলন করার পরিকল্প নেই দলের। তাই এখন কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং সংবাদ সম্মেলনে করে সরকারের বিভিন্ন অনিয়মগুলো তুলে ধরবে বিএনপি। যাতে করে সরকারকে কূটনৈতিক ও সামাজিক চাপে রাখা যায়।
এদিকে, শুক্রবার (১০ আগস্ট) সকালে সংবাদ সম্মেলনে করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছে বিএনপির একটি সূত্র।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সৌদি জোটের হামলায় ইয়েমেনে ২৯ শিশু নিহত

বিদেশের খবর: সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিমান হামলায় ইয়েমেনে ২৯ শিশু নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ৩০ জন।
সাদা প্রদেশের দাহিয়ান এলাকায় বাসে করে শিশুরা ভ্রমণ করছিল। এ সময় হামলা চালানো হয়।
হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতদের সংখ্যা ৪৩ বলে জানিয়েছে।
সৌদি জোট বলছে, তাদের বিমান হামলা যৌক্তিক বা বৈধ। এই জোটের সমর্থন রয়েছে ইয়েমেনের সরকারের ওপর।
সৌদি জোট বলছে, তারা কখনই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালায় না। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বাজার, স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।
এর মধ্যে ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক মার্টিন গ্রিফিথস যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে নিয়ে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে তাদের জেনেভায় আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
মার্টিন গ্রিফিথস বিবিসিকে বলেন, সংঘর্ষের সমাধান না হলে ইয়েমেনের পতন ঘটবে।
ইয়েমেনের স্থানীয় লোকজন বলছেন, দাহিয়ান মার্কেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বাসটি হামলা শিকার হয়। বাসে স্থানীয় লোকজন ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা ছিল।
শিশুবিষয়ক দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, পিকনিক থেকে শিশুরা স্কুলে ফিরছিল। মার্কেটের সামনে চালক বাস থামিয়ে পানীয় নিচ্ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সেই আগের অবস্থা রাজধানীর সড়কে

দেশের খবর: সেই আগের অবস্থা রাজধানীর সড়কে। আগে যাওয়া নিয়ে বাসের রেষারেষি, মাঝখানে দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা, যত্রতত্র থামানো, চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার- সবই চলছে। ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্যেও ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় বাস রাস্তায় দেখা গেছে। অপরদিকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে পথচারী পারাপারের প্রবণতাও আছে আগের মতোই।
উল্টোপথে বা ট্রাফিক সিগন্যাল ভেঙে গাড়ি চালানোর ঘটনাও থেমে নেই। অথচ ৫ দিন আগে শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে ছিল, তখন রাজধানীজুড়ে ছিল ভিন্ন চিত্র। নিয়ম মানার প্রবণতা তৈরি করেছিল শিক্ষার্থীরা। তারা ক্লাসে ফিরে যাওয়ার পর সড়কে সেই আগের বিশৃঙ্খলাই ফিরে আসছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় হাইকোর্টের মোড়ে দেখা যায়, সিগন্যাল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারটি বাসের মধ্যে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিআরটিসিরই দুটি বাসের মধ্যে আগে যাওয়া নিয়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ নিয়ে দুই বাসের চালকদের মধ্যে তর্কও হয়।
এ সময় পেছনে থাকা অন্য বাসগুলো বিকট শব্দে হর্ন বাজাতে থাকে। শিক্ষা ভবনমুখী সড়কের আইল্যান্ডে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে একজন সার্জেন্ট দুটি বাসের রেষারেষির এ দৃশ্য দেখিয়ে বলেন, এভাবেই দুই বাসের প্রতিযোগিতা ও ঘষাঘষিতে প্রথমে হাত হারায় কলেজছাত্র রাজিব। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ফার্মগেট, পল্টন, কুড়িলসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্পট ঘুরে দেখা যায় আগের মতোই রেষারেষি করে বাস চলছে। বেশি যাত্রী পেতে একটি বাস আরেকটি বাসের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিও করছে। পুলিশের সামনেই ভাঙাচোরা বাসও চলাচল করছে। শুধু তা-ই নয়, সিটিং সার্ভিসের নামে যেসব গাড়ি চলে সেগুলো দাঁড়িয়ে যাত্রী নিচ্ছে।
এসব দেখে হতাশার কথা জানান সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সড়ক নিরাপত্তাকর্মী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ। তারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন সবার মনে ধাক্কা দিয়েছে। আন্দোলন চলাকালে সবার চেতনায় শানিত ভাব লক্ষ করা যায়, কিন্তু কয়েক দিনেই যেন তা ভোঁতা হয়ে যেতে শুরু করেছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একেবারেই হতাশ নন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। সমাজচিন্তক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুদের আন্দোলনে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লাভ হয়েছে। সবচেয়ে বড় লাভ হয়েছে, তারা যে জেগে আছে, সে বার্তা। এদেশ নিয়ে বড়দের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে দিয়েছে তারা। বাচ্চারা বড়দের কাজ করে ক্লাসে ফিরে গেছে। এখন বড়দের প্রত্যয় নিয়ে বাচ্চাদের চিন্তা ধার করে বাস্তবায়ন করতে হবে। সড়কে দিন দিন আগের পরিস্থিতি ফিরছে- এমন মন্তব্য আমি করব না। কেননা চালকদের আগের চেয়ে সচেতন মনে হচ্ছে। আগের মতো পাগলাটে প্রতিযোগিতা নেই। তবে যেটুকু বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে, সেটা বাড়তে না দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। পাশাপাশি মালিকরা অতিমুনাফার চিন্তা বাদ দিলে আর শ্রমিকরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে পরিবহন খাতে সমস্যা একসময় দূর হবে।’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘শিশুদের মুখে উঠে আসা দাবিগুলো এদেশের গণমানুষেরই দাবি। তারা শুধু দাবি তুলেই ক্ষান্ত হয়নি, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কী করে আইন বাস্তবায়ন করতে হয়। শিশুরা তাদের স্বপ্নের কথা জানিয়ে দিয়ে গেছে। জাতি ও দেশের প্রতি তাদের আস্থা ও শ্রদ্ধা অটুট রাখতে এখন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও যথাযথ উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কী করতে হবে, সেটা সরকার জানে।’
সড়কে আগের সেই চিত্র ফিরে আসার বিষয়ে হাইকোর্ট মোড়ে কর্মরত পুলিশের এসআই মেহেদী ও কুড়িলে কর্মরত এএসআই আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফিটনেস সনদ থাকলে এসব গাড়ি আমরা জব্দ করতে পারি না। তবে বিভিন্ন ত্র“টির কারণে মামলা দিচ্ছি। আসলে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে সকলের সচেতনতা দরকার।’
আলাপকালে পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিবহন খাতে নানা নৈরাজ্যের জন্য বিআরটিএর অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেকটা দায়ী। রাজধানীর তিনটি স্পটে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা লক্কড়ঝক্কড় বাস দেখিয়ে বলেন, এসব বাস কীভাবে ফিটনেস সনদ পেল। কোনো বাসের পেছনের সিগন্যাল লাইট নেই, আবার কোনোটির সামনের লাইট নেই। প্রায় সব বাসেই নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে বেশি আসন বসানো হয়েছে। অনেক গাড়ির সিটও ভালো নয়। কিছু গাড়ির ইঞ্জিনও ভালো নয়; প্রায়শ রাস্তায় নষ্ট হচ্ছে। অথচ ফিটনেস সনদ থাকায় এসব গাড়ি আমরা জব্দ করতে পারছি না।’
জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সচিব মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, ‘মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ অনুযায়ী প্রতি বছর একবার গাড়ি পরীক্ষা করে ফিটনেস সনদ দেয় বিআরটিএ। বাকি দিনগুলো গাড়ি ফিট রাখা মালিক ও চালকের দায়িত্ব। তবে আমরা সারা বছরই ৫-৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করে থাকি। আমি মনে করি, এ ব্যাপারে পুলিশেরও দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা উচিত।’
বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রুট পারমিটসহ অন্যান্য কাগজপত্র পরীক্ষা চলছে। তাই আগের চেয়ে যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার হার দ্বিগুণ বেড়েছে। পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার বাড়াতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিআরটিএ বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।
বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (এআরআই) অধ্যাপক মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘আন্দোলনের পরপরই ট্রাফিক সপ্তাহে মামলা, ডাম্পিং আর জরিমানার ঘটনা বেশি ঘটছে। আন্দোলনের আগে পরিবহন খাতে যে বিশৃঙ্খলা ছিল, তা এখনও আছে। পরিবহন খাতের উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা আনতে পরিকল্পিত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দরকার।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর পরিবহন দুর্ঘটনা কমাতে বৃহস্পতিবার থেকে চালককে চুক্তিতে বাস চালাতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু বেশিরভাগ বাস ওই সিদ্ধান্ত মেনে চলেনি। এ কারণে ৫টি কোম্পানির সমিতির সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।
এদিকে সড়কে বিশৃঙ্খলার জন্য পথচারীও কম দায়ী নন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নানা পদক্ষেপের পরও ঝুঁকি নিয়ে চলছেন যাত্রীরা। বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, ১০ গজ দূরে ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও হাতে গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। কোথাও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরও এমন কাজ করতে দেখা গেছে। অনেক স্থানে দৌড়ে বাসে উঠছেন যাত্রীরা। বিপরীত দিকে বাসের হেলপাররাও রাস্তার পাশে না থামিয়ে সড়কের ভেতরে রাখছেন গাড়ি। সেখানে যাত্রী তুলছেন। চলন্ত অবস্থায় যাত্রী টেনে তুলতেও দেখা যাচ্ছে। চলন্ত অবস্থায় মোবাইলে কথা বলতেও দেখা গেছে চালকদের।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পথিকৃৎ চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, চালক, মালিক, পথচারী যার ব্যাপারেই বলেন না কেন, অনেক অনিয়ম আমাদের মজ্জাগত হয়ে গেছে। এটা দূর হতে সময় লাগবে। তবে শিশুরা ওই মজ্জায় আঘাত করে গেছে। চেতনা কিছুটা ফিরেছে। বাকিরা আইন প্রয়োগ করে বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে পথচারীকে জরিমানার আওতায় আনতে হবে। বাকিদের ব্যাপারে আইন তো আছেই। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেন কলেজ শিক্ষক আকলিমা বেগম। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় দেখেছি, একজন মানুষ জেব্রা ক্রসিংয়ে নামলেই গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। আমাদের দেশেও চালকদের প্রশিক্ষণে এই বিষয়টা বলতে হবে যে, সবার আগে মানুষ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest