সর্বশেষ সংবাদ-
নেপাল-তিব্বতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবলের ফাইনাল: টাইব্রেকারে চ্যাম্পিয়ন আশাশুনি উপজেলা দলকোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না – ওসি জাহাঙ্গীর আরিফপ্রাণ সায়র খাল ধারে সাতক্ষীরা ল স্টুডেন্টস ফোরামের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচিকলারোয়ায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ: বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশনদেবহাটার খলিশাখালীর চরে সুপেয় পানির সংকট : ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের দাবিসি.আর দত্ত এর ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী এবং রঞ্জন কর্মকারের মৃত্যুতে স্মরণসভাজিএম নূর ইসলাম -দৃঢচেতা এক সফল মানুষ্বিশ^জিৎ সাধুর ভোগ দখলীয় সম্পত্তি দখল চেষ্টার প্রতিবাদে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের বিবৃতিদৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলামের মৃত্যুতে জেলা জাতীয় পার্টির শোক

আশাশুনির বড়দলে চড়া সুদের ছোবলে নিঃশ্ব বহু অসহায় পরিবার

আশাশুনি ব্যুরো : আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে চড়া সুদের ছোবলে একাধিক অসহায় পরিবার নিঃশ্ব হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুদের টাকা যোগাড় করতে সহায় সম্বল এমনকি সর্বশেষ বসত ভিটা খুয়িয়েও শেষ রক্ষা না পেয়ে জন্মস্থান ছাড়তে বধ্য হয়েছে একাধিক পরিবার। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অভিযুক্ত এলাকায় সুদে মহাজনদের একটা সেন্ডিকেট কাজ করছে। একজনের টাকা সুদে দেওয়া হচ্ছে একাধিক ব্যক্তির হাত দিয়ে নতুন নতুন ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্প ও চেকের মাধ্যমে চড়া থেকে চড়া সুদে। বড়দলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও একাধিক ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, এক লক্ষ টাকা সুদে নিলে প্রতিদিন ২২০০ টাকা সুদ দেয়া লাগে সুদে মহাজনকে। সুদের টাকা দিতে সময় ক্ষেপন করলে সুদের টাকারও সুদ গুনতে হয় দ্বিগুন হারে। এমনই এত চড়া সুদের ছোবলে নিঃশ্ব হয়ে জন্মস্থান ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ফকরাবাদ গ্রামের দাউদ সরদারের পুত্র আছাদুল সরদার। আছাদুল সরদারের স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন(৩৫) এ প্রতিবেদককে জানান, তার স্বামী ৬ মাস পূর্বে গোয়ালগাংগা বাজারের গীতাঞ্জলী জুয়েলার্সের মালিক বিশ্বনাথ শীল থেকে তার দোকানের ব্যবসার জন্য কিছু টাকা সুদে নেন। সময় মত সুদের কাটা দিতে না পারায় সুদে মহাজন বিশ্বনাথের থেকে চড়া সুদে আরও টাকা নিয়ে তার সুদের টাকা দিতে থাকেন। মাস খানেক পরে বিশ্বনাথের সুদের টাকা যোগান দিতে তার স্বামী (আছাদুল) পর্যায়ক্রমে বাজারের তোহা টেলিকমের মালিক তোহা গাজী, গোয়ালডাংগা গ্রামের আনন্দ বিশ্বাসের পুত্র নিত্য বিশ্বাস, মোক্তার সরদারের পুত্র শামিম, কেয়ারগাতী গ্রামের অমেদ আলীর পুত্র বাজারের সানমুন টেলিকমের মালিক আছাফুরের থেকে চড়া সুদে টাকা নিতে শুরু করেন। এভাবে ৬ মাস যেতে না যেতেই আমাদের শেষ সম্বল ৩ বিঘা জমি বিক্রি করে সুদের টাকা দিয়েও আজ আমার স্বামীর ঘাড়ে ১২ লক্ষ সুদের টাকার ঘাণী নিয়ে বাড়ি ছাড়া। তিন সন্তান ও শ্বাশুড়ী নিয়ে আজ আমি পথের ভিখারী। ফকরাবাদ গ্রামের শহিদ বিশ্বাসের পুত্র ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস(৩৩) জানান, আমি প্রথমে খোকন গাজীর পুত্র বাজারের তোহা টেলিকমের মালিক তোহা গাজীর থেকে ২০ হাজার টাকা সুদে নেই। পরে তার সুদের টাকা সময় মত না দিতে পারায় সে আমাকে অন্য এক জনের কাছে পাঠিয়ে দেয় যেখানে জামানত হিসাবে লাগবে ব্লাঙ্ক চেক ও স্ট্যাম্প এবং সুদের হারও বেশি। এভাবে সুদের টাকা যোগাতে এক মহাজন থেকে অন্য মহাজন ঘুরে সুদের হার বাড়াতে বাড়াতে আজ আমি ১০ লক্ষ সুদের টাকার ঘানী টানতে ব্যর্থ হয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। অভিযুক্ত আছাফুর এ প্রতিবেদককে জানান, তার সাথে আছাদুলের কোন লেনদেন নাই এমনকি তার(আছাদুলের) কোন স্ট্যাম্প বা চেক তার কাছে নেই। তবে তোহা গাজী এবং বিশ্বনাথ শীলের সাথে আছাদুলের লেনদেন আছে যে কারনে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তোহা গাজী জানান, আছাদুলের সাথে তার কোন লেনদেন নেই। বিশ্বনাথ শীলের ব্যবহৃত মোবাইল নং ০১৭৪৮-৯৬৮২৮৫ ও ০১৯৩৯-৪২০০২০ তে বহুবার রিং দিয়েও ফোন রিসিভ হয়নি। এলাকার সচেতন মহলের দাবি উল্লেখিত সুদখোরদের বাহিরে বুড়িয়া গ্রামের মগর গাজীর পুত্র সিরাজুল গাজী ছাড়াও বহু ছোট বড় সুদখোর বর্তমানে বড়দলের বিভিন্ন এলাকায় তাদের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। এ সুদের টাকা আদাই করাকে কেন্দ্র করে বহু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে এলাকায়। বিষয়টি আমলে নিয়ে এ এলাকার সুদখোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

০৬.০৮.২০১৮

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের শাস্তির বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন

দেশের খবর: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহাণির ঘটনায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এই অনুমোদনের কথা জানান।
রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানী জুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল আইনটি। দেড় বছর আগে খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা।
যা ছিল খসড়া আইনে
খসড়া আইনানুযায়ী, গাড়ি চালানোর সময় কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে আইনে।
আইন অনুযায়ী, সড়কের ফুটপাতের উপর দিয়ে কোনো ধরনের মোটরযান চালাচল করতে পারবে না। যদি করে, তবে তিন মাসের কারাদণ্ড বা ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
আগে গাড়ি চালকদের লেখাপড়ার বিষয়ে কিছু না থাকলেও নতুন আইন অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে।
কন্ডাক্টর বা চালকের সহযোগীকে কমপক্ষে লেখা ও পড়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত তার লেখাপড়া থাকতে হবে।
যদি কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালায়, তবে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কেউ এই অপরাধ করলে, তাকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করা যাবে। এক্ষেত্রে বর্তমানে ৩ মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
চালকের সহকারীর লাইসেন্স লাগবে। কন্ডাক্টারের লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা হবে।
জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করলে আগে শাস্তি ছিল সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা। প্রস্তাবিত আইনে মূল শাস্তি কারাদণ্ড আগের মতোই আছে, জরিমানা ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে।
ফিটনেস না থাকা মোটরযান চালালে আগে শাস্তি সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা রয়েছে। সেখানে এখন শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা। এ শাস্তি পাবে মূলত গাড়ির মালিক।
দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দণ্ডবিধিতে যে শাস্তি রয়েছে, সেই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। দুর্ঘটনার মাধ্যমে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নরহত্যা হয়, তবে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা প্রযোজ্য হবে। শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। হত্যা না হলে, ক্ষেত্রে ৩০৪ ধারা প্রযোজ্য হবে। সেক্ষেত্রে শাস্তি যাবজ্জীবন। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা হলে ৩০৪ এর (বি) অনুযায়ী ৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
গাড়ি ওজন সীমা অতিক্রম করলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানা। এখানে মালিক ও ড্রাইভার দুই গ্রুপকেই যুক্ত করা হয়েছে, তারা দায়ী হবে।
বেপরোয়া গাড়ি চালানো, দুই গাড়িতে পাল্লা দেয়ার কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা হবে।
বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং এতে দুর্ঘটনা না ঘটলেও ২ বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছিল প্রস্তাবিত আইনে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কিশোর আন্দোলনের সমর্থনে রাজপথে কলকাতার ছাত্রসমাজ

বিদেশের খবর: বাংলাদেশে চলমান নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর-কিশোরীদর আন্দোলন ক্রমশ সহিংস রূপ নিচ্ছে। জিগাতলায় গত শনিবার সংঘর্ষের পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে রাজপথ ছেড়ে দিলেও মাঠে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
সোমবারও রাজধানীর শাহবাগ, রামপুরা কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ এবং অস্ত্রধারী হেলমেট পরা যুবকদের হামলার শিকার হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনের সমর্থনে গর্জে উঠেছে ওপার বাংলার ছাত্র-ছাত্রীরা। বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের এই অভূতপূর্ব আন্দোলনে কলকাতার সোশ্যাল দুনিয়া উত্তাল। তবে অনলাইনে প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত নয় তারা; রীতিমতো রাজপথে মিছিল করেছে। যাদবপুর, প্রেসিডেন্সী, সি.ইউ, রবীন্দ্রভারতীসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা । সোমবার বিশাল মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তাদের কয়েকজন প্রতিনিধি গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করে। এরপর মিছিল সহকারে কলকাতা নগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়। কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।কিশোর আন্দোলনে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা কিছু স্লোগান ফেস্টুনে লিখে রাস্তায় নেমেছিল কলকাতার শিক্ষার্থীরা। যার মধ্যে ছিল বিখ্যাত সেই স্লোগান, ‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমিই বাংলাদেশ।’ উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা এলাকায় ‘জাবালে নূর’ নামের দুই বাসের রেষারেষিতে নিহত হন দুই কলেজ শিক্ষার্থী। এর পর থেকেই প্রায় ৮দিন রাজধানীসহ প্রায় সারাদেশের রাজপথ অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্র-ছাত্রীরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষার্থীদের ওপর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস

দেশের খবর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। রাজধানীর শাহবাগে সোমবার বিকাল তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল শাহবাগের দিকে আসার সময় পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পরে লাঠিপেটা শুরু করে।
সকাল থেকে শাহবাগ এলাকায় পুলিশের অবস্থান ছিল। বেলা একটার দিকে ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত এসেছে মিছিল আসলে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়। বিকাল তিনটার দিকে মিছিলটি শাহবাগমুখী হলে থানার সামনে এসে বাধার মুখে পড়ে। পুলিশি বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা পিছু হটে যায়। পুলিশ এখনও ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের বিচার ৩০২ ধারায় সম্ভব

দেশের খবর: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের বিচার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় সম্ভব বলে মনে করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধরে নিয়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় বিচারের সুযোগ রয়েছে।’ আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ওই সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি নতুন আইনে বিচারের সুযোগ নেই। বিদ্যমান আইনেই সেটা হবে। আর বিদ্যমান আইনে পেনাল কোডের ৩০২ ধারার অধীনে এ ঘটনার বিচারের সুযোগ রয়েছে।’
সোমবার সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইনের বিভিন্ন ধারা ও তার শাস্তির বিধান ব্যাখ্যা করেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্টে স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চালকের শাস্তির বিধানের ব্যাখ্যা দেন।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইন প্রসঙ্গে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘এই আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এটা কিন্তু অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ শাস্তি যদি বলুন, তাহলে হত্যার উদ্দেশ্যে যানবাহন চালানো বা ডেলিভারেট ক্লিলিং (ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকাণ্ড) হয়, তাহলে সেই অবস্থায় এই মামলাটি চলে যাবে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায়। আর এই ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। অর্থাৎ তদন্তে যদি প্রমাণিত হয়, হত্যার উদ্দেশ্যের যানবাহন চালানো হয়েছে, তাহলে সেই মামলা পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় চলবে।’
রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর বাসচাপায় নিহতের বিচার পেনাল কোডের ৩০২ ধারা প্রযোজ্য হতে পারে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘যে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে, সে ঘটনায় বাসচালক রিমান্ডে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তার ওই স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, এটা একটা ডেলিভারেট ক্লিলিং, তাহলে সেই অবস্থায় এই মামলাটি চলে যাবে পেনাল কোডের ৩০২ ধারার অধীনে। যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’ তবে, এই দুই শিক্ষার্থী নিহতের মামলা সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইনে হবে, না বিদ্যমান আইনে হবে, তা পরিষ্কার করে বলেননি ওবায়দুল কাদের।
এদিকে, এ বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের সামনে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে নতুন আইন কার্যকর হবে না। নতুন আইনের আগেই ঘটনা ঘটেছে। তাই ঘটনার সময় যে আইন রয়েছে, সেই আইনটি এক্ষেত্রে কার্যকর হবে। তবে, নতুন আইনে যেমনটি হত্যার উদ্দেশ্য গাড়ি চালনাকে ৩০২ ধারার অধীনে বিচারের কথা বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনেও সেই সুযোগ আছে। এর অর্থ সড়ক পরিবহনমন্ত্রী যেটা বলেছেন তা হচ্ছে, যে আইন এখন বলবৎ রয়েছে সেই আইনেও এটা ৩০২ ধারার অধীনে বিচার হতে পারে। তবে এটা সম্ভব কিনা, তা তদন্ত প্রতিবেদন এলেই বলা যাবে।’ তদন্ত প্রতিবেদনে যদি সুস্পষ্টভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ি চালানোর বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে ওই ধারায় চলবে বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম সজীব ও দিয়া খানম মীম নিহত হন। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিসহ নয় দফা দাবিতে রাজধানীতে আন্দোলন শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৬ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর অনুমোদন দেওয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জের ৪ টি ইউনিয়নে পানির ট্যাংক, সোলার ও নগদ টাকা বিতরণ করলেন রুহুল এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কালিগঞ্জের ৪ টি ইউনিয়নে পানির ট্যাংক, সোলার ও নগদ টাকা বিতরণ করছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা: আ.ফ.ম রুহুল এমপি। সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলার নলতা,ভাড়াসিমলা,তারালী ও চম্পাফুল ইউনিয়নের দরিদ্রদের মাঝে ৭৩ টি পানির ট্যাংক, ১৩০ টি সোলার সিস্টেম ও ১ লক্ষ ১১ হাজার ৫০০ নগদ টাকা বিতরণ করেন।
এসময় নলতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আনিছুজ্জামান, তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক ছোট, কালিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফিরোজ শাহরিয়ার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ উজ্জ্বল সহ ৪ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ডা: আ.ফ.ম রুহুল এমপি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। তখন স্বাধীনতা বিরোধীরা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা জনগণকে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করতে চায়। সাতক্ষীরায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাইপাস সড়কের কাজ প্রায় শেষ। অত্র অঞ্চলের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য উপজেলার কয়েকটি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। জেলার শেষ প্রান্তে থেকে মানুষ শহরের সেবা পাচ্ছে। দেশ থেকে অন্ধকার দূর করতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে সোলার প্যানেল বিতরণ করেছেন। যা ইতোপূর্বে অন্য কোন সরকারের আমলে সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

দেশের খবর: নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর জিগাতলা ও সায়েন্স ল্যাব মোড়ে গত শনি ও রোববার সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে প্রায় ২০০ সাংবাদিক অংশ নেন।
এ সময় তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ বলেন, গত কয়েকদিনের আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ১২ জন সাংবাদিককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমরা এসব ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
দীপ আজাদ বলেন, আন্দোলনে গুজব ছড়িয়ে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়া ৩০ জনের নাম, পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে তাদের নাম, পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
নাগরিক টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক দীপ আজাদ বলেন, হামলাকারীদের ছবি এরই মাঝে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও ভিডিও ফুটেজে আছে। তাই এদের চিহ্নিত করতে বেশি কষ্ট হবে না। আমরা চাই এসব হামলাকারীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এই সাংবাদিক নেতা বলেন, আমরা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করি। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ জনগণের কাছে তুলে ধরি। আমরা সরকার বা আন্দোলনকারী কারোই প্রতিপক্ষ নই। কিন্তু বারবারই আমাদের ওপর নগ্ন হামলা হচ্ছে। সরকারকে অবশ্যই এসব হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
মানববন্ধনে একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিল বলেন, বিশ্বের কোথাও যুদ্ধের ময়দানেও সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয় না। কিন্তু ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। এখানে যেকোনো পরিস্থিতিতে হামলার শিকার হয় সাংবাদিকরা। কিন্তু বারবারই এসব হামলাকারীরা পার পেয়ে যায়। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, অতি দ্রুত সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ আইন করা হোক। যাতে আর কেউ সাংবাদিকদের ওপর হামলার সাহস না করে। আর কখনো কেউ সাংবাদিকেদের ওপর হামলা করলে পুলিশ যেন নিজে বাদী হয়ে এর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে সেই বিধান রাখতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফটোসাংবাদিক শহিদুলকে রিমান্ডে চায় পুলিশ

দেশের খবর: আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দশ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।
দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুলকে সোমবার বিকালে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে গোয়েন্দা পরিদর্শক আরমান আলী রিমান্ডের এই আবেদন করেন।
এ বিষয়ে শুনানি হবে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কড়া নিরাপত্তা ও পুলিশি পাহারার মধ্যে খালি পায়ে শহিদুলকে এজলাসের সামনে আনা হয়।
তার পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করতে ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস, জীবানন্দ চন্দ্র জয়ন্তসহ ১০-১২জন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত আছেন।
পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল অধিকার আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রোববার জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেইসবুক লাইভে আসেন তিনি।
ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন। এরপর রোববার রাতে শহিদুল আলমকে তার ধানমণ্ডির বাসা থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়।
সোমবার সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য’ তারা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গেছেন।
শহিদুলকে কেন আটক করা হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ শুরুতে স্পষ্ট কিছু না বললেও বিকালে মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তিনিই একমাত্র আসামি।
তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় করা এ মামলায় ‘কল্পনাপ্রসূত তথ্যের’ মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে ‘মিথ্যা প্রচার’ চালানো, উসকানিমূলক তথ্য উপস্থাপন, সরকারকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর’ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতি ঘটিয়ে’ জনমনে ‘ভীতি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে’ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নে ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest