সর্বশেষ সংবাদ-
আইনমন্ত্রীর সাথে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নেতৃত্বের সৌজন্য সাক্ষাৎতালায় বিএনপি নেতার বসতবাড়িতে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাট: সংবাদ সম্মেলনসাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনদেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১০ বোতল কেরেক্সসহ মাদক ব্যবসায়ী আটকজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ: থানায় জিডিসাংবাদিক আলিমের মৃত্যুতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শোকসাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম আর নেইস্মার্ট মেডিকেল সেন্টারে ডাঃ শিহাবের তত্ত্বাবধানে শুরু হলো অত্যাধুনিক লিভারের পরীক্ষা ফাইব্রোস্ক্যানসাতক্ষীরায় পাঁচ দিনে ৭২ ডেঙ্গু রোগী, সচেতনতায় বাড়ি বাড়ি স্বেচ্ছাসেবকবিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় মাছের পোনা অবমুক্ত

ঢাকার সড়ক যেই সেই

দেশের খবর: রাজধানীর এয়ারপোর্ট রোডের এই জায়গার কাছাকাছিই ঘাতক বাস পিষে মারে মীম-রাজীবকে। সেই ঘটনার জের ধরে খুদে শিক্ষার্থীরা এক সপ্তাহ সড়ক নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কাঁপিয়ে রাখে দেশ। গতকাল (মঙ্গলবার) সেই সড়কেই পুলিশের গাড়ি উল্টো পথে চলতে দেখা যায়।
লেনবিধি মেনে গাড়ি চলেনি কোথাও। ডান দিকে মোড় নেওয়া নিষেধ থাকলেও সেদিকেই মোড় নিচ্ছে একের পর এক প্রাইভেট কার। অনেক শিশু বা কিশোর চালককে লেগুনা বা হিউম্যান হলার নিয়ে রাজধানীর সড়কে নামতে দেখা গেছে গতকাল মঙ্গলবার। রংচটা, অনুপযুক্ত কিছু বাসও আগের মতোই বেপরোয়া গতিতে চলছিল। স্থানে স্থানে দেখা যায় যানজট। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এসব দৃশ্য দেখা যায়।
রাজধানীর কুর্মিটোলায় গত ২৯ জুলাই দুপুরে বেপরোয়াভাবে বাস চালিয়ে দুই শিক্ষার্থীর প্রাণ কাড়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবি জোরালো হতে থাকে। ওই দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নামে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। কয়েক দিন ধরে তারা মন্ত্রীসহ প্রভাবশালী অনেকের গাড়ির উল্টোযাত্রা রুখে দেয়। পুলিশের গাড়ির লাইসেন্সও পরীক্ষা করে তারা। সড়কে আলাদা লেনে রিকশা, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহন চালাতে লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করে সুন্দর উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীদের এসব কাজের জন্য অভিনন্দন জানায় বিভিন্ন মহল। তবে শিক্ষার্থীদের ওই ‘অভিযান’ বন্ধ হওয়ার পর আবার বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে সড়কে।
গত ৫ আগস্ট দুপুরে রাজধানীর জিরো পয়েন্টে ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার। এবারের ট্রাফিক সপ্তাহে মূল স্লোগান হলো ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি জাতীয় সভ্যতার প্রতীক, সবাই ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করুন’। এই স্লোগান সামনে রেখে ট্রাফিক পুলিশ বিশেষ অভিযানে নামে।
ট্রাফিক সপ্তাহ চললেও লাইসেন্সহীন চালক ও ফিটনেসহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানেই ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশ। সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার দিকে নজর নেই তেমন। বিআরটিএর অভিযানও লাইসেন্স-ফিটনেস পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এসব অভিযানের কারণে অবশ্য রাজধানীতে গতকাল যানবাহন চলেছে ৫০ শতাংশের মতো। অভিযানের ফাঁক গলেও চলেছে ফিটনেসহীন লেগুনা, বাস, মোটরসাইকেল।
মতিঝিল, গুলিস্তান, পল্টন, দৈনিক বাংলা এলাকায় গতকাল লেন মেনে গাড়ি চলতে দেখা যায়নি। ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ চললেও এসব এলাকায় পুলিশকে তেমন তৎপর দেখা যায়নি। গুলিস্তানে দুজন সার্জেন্টকে সড়কদ্বীপে দাঁড়িয়ে গল্প করতে দেখা গেছে দুপুরে। ট্রাফিক সপ্তাহ পালন উপলক্ষে পল্টনে মুক্তাঙ্গনের উল্টোদিকে সচিবালয়ের পাশে বানানো ক্যাম্পটি গতকাল দুুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে দেখা গেছে খালি।
দুপুর সোয়া ১টায় মতিঝিলে গিয়ে দেখা গেছে, শাপলা চত্বরের পাশে রোভার স্কাউট সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিল। তাদের একজন ডেমরার গোলাম মস্তুফা মডেল কলেজের ছাত্র রেদওয়ান কবীর। সে জানায়, মতিঝিল এলাকায় ১৪০ জন রোভার স্কাউট সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। তারা পুলিশকে সহযোগিতা করছেন। ট্রাফিক সপ্তাহ পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে এই রোভার স্কাউট বলেন, ‘আমরা জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছি।’
দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে জিরো পয়েন্টের পাশে দেখা যায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের বন্ধন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৩০০৫) জিরো পয়েন্টের দিকে চলছিল। একই সময় বাসটির পাশে তেলবাহী ট্যাংকলরিও (ঢাকা মেট্রো ঢ ৪১-০০৬৮) চলছিল। আর ট্যাংকলরির ডানদিকে সড়কদ্বীপ ঘেঁষে চলছিল কয়েকটি রিকশা। নির্দিষ্ট কোনো লেনে যানবাহন চলতে দেখা যায়নি। কিছুক্ষণ পরই দুটি মোটরসাইকেল উল্টোপথে চলতে দেখা যায়।
দুপুর ২টা ১০ মিনিটে গুলিস্তানের দিক থেকে আকাশ সুপ্রভাত স্পেশাল সার্ভিস নামের একটি বাস দ্রুতগতিতে পল্টন মোড় পেরিয়ে কাকরাইলের দিকে যাচ্ছিল। মোড় পেরোতেই বাসটি প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দেয় একটি রিকশাকে। রিকশাটি আটকে যায় বাসের সামনের বাম্পারে।
দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে মতিঝিলে শাপলা চত্বরের পাশে দায়িত্ব পালন করছিলেন সার্জেন্ট মাহবুব শিকদারসহ আরো দুজন। একটি এফজেড নতুন মোটরসাইকেল চালিয়ে সেখানে যান এএসআই ওসমান। মোটরসাইকেলের পেছনে কোনো নম্বর প্লেট ছিল না। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা একজন চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। চেকপোস্টে ধরা পড়েছে।’ মালিক কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাগজপত্র আনতে গেছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে সার্জেন্ট মাহবুব শিকদার বলেন, মামলা দেওয়া হবে।
‘শৃঙ্খলা সম্ভব নয়’ : স্কুলশিক্ষার্থীরা যে শৃঙ্খলা রাজধানীর সড়কে দেখিয়েছে তেমনটি পুলিশের পক্ষে করা সম্ভব কি না জানতে চাইলে কয়েকজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, তা সম্ভব নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সার্জেন্ট বলেন, রাস্তার চেয়ে গাড়ি বেশি। কেউ কারো কথা শুনতে চায় না। কে কার আগে যাবে তা নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা। আরেক সার্জেন্ট বলেন, ‘ঢাকা শহরে যে পরিমাণ রিকশা, যদি এক লাইনে করা হয় তাহলে যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুর পর্যন্ত লাইন হয়ে যাবে। এর পরও শেষ হবে কি না সন্দেহ।’ সার্জেন্ট মাহবুব শিকদার বলেন, ‘লাখ লাখ ছাত্র নেমে রাস্তায় দায়িত্ব পালন করেছে। আমাদের ট্রাফিক পুলিশ কতজন? তারা যখন রাস্তায় নেমেছিল তখন ঢাকায় ৪০ ভাগের বেশি গাড়ি চলেনি। এ কারণে পেরেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তবে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব। এ জন্য গাড়িচালক ও রাস্তায় চলাচলকারীদের সচেতন হতে হবে। যত দিন সচেতন হবে না তত দিন সম্ভব নয়।’
ওভারব্রিজ নয় রাস্তাই পছন্দ : দুপুর সোয়া ২টার দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে অনেক নারী-পুরুষকে দেখা যায় বাসের ফাঁক গলে রাস্তা পার হতে। ওই সময় আবদুর রহিম নামের এক পথচারী অন্যদের সঙ্গে রাস্তা পেরিয়ে হাউস বিল্ডিংয়ের দিকে যান। ওভারব্রিজ ব্যবহার না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভ্যাস হয়ে গেছে ভাই। ওভারব্রিজে উঠতে ইচ্ছা করে না। ওভারব্রিজে ছিনতাই হয়। ছিনতাইকারী, মাদকাসক্তরা শুয়ে থাকে।’
সিগন্যাল বাতি জ্বলে না : মতিঝিল, দৈনিক বাংলা মোড়ে সিগন্যাল বাতি ছিল। কিন্তু গাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কোনো সিগন্যাল বাতি জ্বলতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিলে দায়িত্ব পালনকারী সার্জেন্ট মাহবুব শিকদার বলেন, ‘আমরা ম্যানুয়ালি ট্রাফিক কন্ট্রোল করছি। এসব লাইটের বিষয়ে সিটি করপোরেশন বলতে পারবে।’ পল্টন এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী সার্জেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পল্টনে আমরা ম্যানুয়ালি ট্রাফিক কন্ট্রোল করছি।’
মতিঝিলে রাস্তা দখল করে পার্কিং : দুপুর দেড়টায় ৬৯-৭০ মতিঝিলে পাঠ্যপুস্তক ভবনের সামনে রাস্তায় দেখা গেছে উন্নয়নের জন্য একদিকের রাস্তা কেটে রাখা। সেখানে চারটি লেনের মধ্যে দুটি বন্ধ। কাটা অংশের সামনে ঢাকা মেট্রো গ-১৯-৪৭৪৪ নম্বর প্রাইভেট কারসহ বেশ কিছু গাড়ি পার্ক করে রাখা ছিল। বেশির ভাগ গাড়ির চালককে পাওয়া যায়নি। এক গাড়িচালকের কাছে পার্কিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।
বিমানবন্দর সড়কে সকাল সাড়ে ১১টায় বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের সামনে কোনো যানবাহন তল্লাশি করতে দেখা যায়নি পুলিশকে। অন্যান্য দিন তা করা হয়। বিমানবন্দরের পাশাপাশি উত্তরায়ও ছিল একই অবস্থা। তবে হাউস বিল্ডিংয়ের সামনে পুলিশের অভিযান ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা আদায় করা হচ্ছিল। গাড়ির কাগজপত্রে ত্রুটি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ১৯টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা এবং দুই হাজার ৯৪০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
আগের দুই দিন উত্তরা ও বিমানবন্দর এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের অভিযান ছিল জোরালো। তবে গতকাল ঢিলেঢালাভাব ছিল অভিযানে। সকালে উত্তরায় হাউস বিল্ডিংয়ের সামনে দেখা গেছে, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্টরা বিভিন্ন যানবাহন আটকে কাগজপত্র পরীক্ষা করছিলেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের আরোহীদের বেশি তল্লাশি করা হয়। মোটরসাইকেলের পেছনে সহযাত্রী থাকলে তার মাথায় হেলমেট না থাকলে মামলা ঠুকে দেন সার্জেন্টরা। এ নিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীদের সঙ্গে পুলিশ সার্জেন্টদের কথাকাটাকাটি হতেও দেখা গেছে। তা ছাড়া সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতও ছিলেন। এক সার্জেন্ট জানান, সড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা ও অবৈধ যানবাহন বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছেন ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার অপরাধে ১৭টি মামলা এবং দুই হাজার ৯৪০ টাকা জরিমানা আদায় করেন আদালত। ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার দায়ে তিনজন চালক এবং ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করায় ১৯ জন পথচারীকে দণ্ড প্রদান করা হয়। এ ছাড়া কাগজপত্র না থাকায় আটক করা হয় একটি বাস। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত ট্রাফিক উত্তর বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান ওই অভিযান পরিচালনা করেন।
মোটরসাইকেল আরোহী জুলহান মিয়া বলেন, ‘আমার মোটরসাইকেলের পেছনে এক আত্মীয় ছিল। কিন্তু তার মাথায় হেলমেট ছিল না। ট্রাফিক পুলিশ আটকে এর কারণ জানতে চায়। পুলিশের কাছে ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পাইনি। সাজেন্ট নাছোড়বান্দা। মামলা দিয়েই ছাড়ল। ২০০ টাকার জরিমানা করা হয়েছে। ব্যাংকে টাকা জমা দিতে বলেছে।’ তবে মামলা করলেও কোনো রাগ-অভিমান নেই তাঁর। শিক্ষার্থীরা যে পথ দেখিয়েছে তা যেন কার্যকর হয় সেই কামনা করেন তিনি।
অন্যদিন জসীমউদদীন রোডের সামনে অভিযান চালানো হলেও গতকাল তা দেখা যায়নি। এ প্রসঙ্গে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ফারুক আহমেদ বলেন, ‘ট্রাফিক সপ্তাহে পুলিশ কঠোর আছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভিআইপি-সিআইপিও আইন অমান্য করলে কোনো রেহাই দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীরা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। সবাই যদি আমাদের সহায়তা করে তাহলে অল্প সময়েই ট্রাফিক সিস্টেম ভালোভাবেই চলবে। হাউস বিল্ডিংয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসায় এখানে অভিযানের চাপ কিছুটা কম। তবে অভিযান চলছে।’
বিমানবন্দর গোলচত্বরের সামনে ট্রাফিক পুলিশ পাওয়া যায়নি। তবে সার্জেন্টরা ব্যস্ত ছিলেন যানজট কমাতে। বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের এক সার্জেন্ট বলেন, ‘লেন বাই লেন যানবাহন চালানো হচ্ছে না। এটা বাংলাদেশ। শিক্ষার্থীরা যা শিখিয়ে দিয়ে গেছে তা আমরা ভুলতে বসেছি। ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে গতকাল অভিযান ছিল ঢিলেঢালা তা সত্য। তবে আমরা সক্রিয় আছি। মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে।’ এক ট্রাফিক কনস্টেবল বলেন, ‘আজ তেমন অভিযান হয়নি। অভিযানের মধ্যেই পথচারীরা ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে টালবাহানা করেছে। সবার মধ্যে সচেতনতা আসতে হবে। তাহলেই ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত হবে।’
দুপুর ১টায় কাকরাইল মোড়ে ট্রাফিক কনস্টেবল আনোয়ারের হাতের ইশারায় শত শত গাড়ি থেমে যায়। সবাই ট্রাফিক সিগন্যাল মানছিল। ব্যতিক্রম ছিল শুধু সিগন্যাল ছেড়ে দেওয়ার পর বাসে যাত্রী ওঠানামায়। বাসে উঠতে গিয়ে একজনকে রাস্তায় পড়ে গিয়ে ব্যথা পেতে দেখা গেল। তাঁর নাম শরিফুল আলম। তিনি জানান, অনেকক্ষণ বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকার কারণেই তিনি ৬ নম্বর রুটের বাসে ঝুঁকি নিয়ে উঠতে গিয়েছিলেন।
দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে এ রকম আরো দৃশ্য চোখে পড়ে। তবে ট্রাফিক সার্জেন্ট বা ট্রাফিক ইনন্সপেক্টরকে এ ব্যাপারে তেমন ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। দুপুর ১২টার দিকে মগবাজার মোড়সহ আশপাশের ট্রাফিক মোড়েও দেখা যায় একই রকম দৃশ্য। যদিও ট্রাফিক সার্জেন্ট গাড়ির কাগজপত্র চেক করতে ব্যস্ত ছিলেন। কাকরাইলে ট্রাফিক ইনস্পেক্টর আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস বাড়ছে। তবে যাত্রীরা বাসে ওঠার সময় নিষেধ করার পরও ঝুঁকি নিচ্ছে। কিছু সমস্যা এখনো ঠিক করা যায়নি। তবে দ্রুতই এগুলো ঠিক হয়ে যাবে। এখন বেশির ভাগ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গাড়ির কাগজপত্র ঠিক আছে।
কাকরাইল মোড়ে বিজয়নগরের দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী ৬ নম্বর বাসে রাস্তার মাঝখান থেকে যাত্রী ওঠাতে শুরু করে। যাত্রীরাও দৌড়াদৌড়ি করে ঝুঁকি নিয়ে বাসে ওঠে। বাসটির (ঢাকা মেট্রো-ল-১৮৬৯-২৩) চালক রমিজ উদ্দিন ও হেলপার সুলতান। চালক বলেন, সিগন্যাল ছাড়ার পরই তিনি গাড়ি ছেড়েছেন। গাড়ি ‘সাইড’ করার আগেই যাত্রীরা উঠে পড়েছে। হেলপার বলেন, যাত্রীদের নিষেধ করলেও শোনে না। এর পরই আল মক্কা ট্রেডার্স নামের একটি বাসসহ (ঢাকা মেট্রো-ব ১১৮০-৮৩) আরো অনেক যাত্রীবাহী বাসে একইভাবে যাত্রী ওঠাতে দেখা যায়। সেখানে রিকশা নিয়ে এলোমেলে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ জানতে চাইলে রিকশাচালক মো. আলী জিন্নাহ বলেন, ‘আমরাও যাত্রী ওঠানোর জন্য আছি। আসলে আমরা নিজেরাই আইন মানি না। রিকশাওয়ালারা বেশি খারাপ।’
‘শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা চলছে’ : ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রধান, অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম বলেন, ‘বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহের তিন দিন গেল। এখন আমরা আইনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছি। লেন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা এখনই সম্ভব না। লাইসেন্স থেকে প্রতিটি আইনগত বিষয় যাচাই করছি আমরা।’ তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে অনেক কিছু সহজভাবে দেখা গেছে। তবে যখন বেশি গাড়ি থাকে তখন সামলানো কঠিন। একই সঙ্গে গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, আবার কাগজপত্রও যাচাই করতে হয়। এখন প্রতিটি পয়েন্টে রোভার স্কাউটে ছেলেরা সহযোগিতা করছে। মোবাইল কোর্টও চালানো হচ্ছে। আশা করছি বিশেষ সপ্তাহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।’
কাগজপত্র যাচাইয়ে তৎপর পুলিশ : বিকেল ৩টায় রাজধানীর ব্যস্ততম শাহবাগ মোড়ে দেখা যায়, গাড়ির চাপ অন্য দিনের চেয়ে তুলনামূলক কম। মাইকে বাজছে রাস্তায় গাড়ি চলাচলে বৈধ কাগজপত্র রাখার নির্দেশনা। ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে রোভার স্কাউট সদস্যরাও গাড়ি আটকে দলবেঁধে কাগজপত্র পরীক্ষায় সহযোগিতা করছে। বৈধ কাগজ না থাকলে মামলা দিচ্ছে পুলিশ। আবার কেউ কেউ মামলা না দিতেও অনুরোধ জানাচ্ছে। কড়াকড়িতে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না—এমন কথা বলে মামলা দিচ্ছে পুলিশ।
সরেজমিনে রাজধানীর মৎস্য ভবন, শাহবাগ মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি ঘুরে দেখা যায়, গণপরিবহন, প্রাইভেট কার, সিএনজি ও মোটরসাইকেল ধরতে তৎপর পুলিশ। সাতটি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা চলছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর কাউকে মামলা দিচ্ছে আবার বৈধ কাগজে ছেড়ে দিচ্ছে পুলিশ। আর রোভার স্কাউট সদস্যরা যানবাহনের ভেতর দিয়ে না চলতে জনগণকে সচেতন করছে। এদিন অন্যান্য দিনের চেয়ে গণপরিবহন চলাচল অনেক কম ছিল।
শেকৃবি প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকেলে রাজধানীর কলেজগেট, আসাদগেট, সংসদ ভবনসংলগ্ন আড়ংয়ের মোড়, খামারবাড়ি ও ফার্মগেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে আগের চেয়ে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও শিক্ষার্থীদের দেখানো পথ পুরোপুরি মানছে না ছোট-বড় গাড়ির চালক, পথচারী এমনকি ট্রাফিক পুলিশ। প্রাইভেট কার, সিএনজি ও রিকশাকে সড়কের যেখানে-সেখানে পার্কিং করতে দেখা গেছে। রিকশাচালকদের বেশির ভাগই পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের অর্ধেকের বেশি জায়গা দখল করে আছে রিকশাচালকরা। এ ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল কমেছে। তবে তারা মামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে আড়ংয়ের মোড়ে সার্জেন্ট আল আমিন বলেন, ‘লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন কিছু গাড়ি এখনো চলছে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ জন চালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মোটরসাইকেল আরোহীরা ট্রাফিক রুলস মানতে চায় না।’ তবে আইন প্রয়োগে ভিআইপিদের দ্বারা আগের মতো বাধাগ্রস্ত না হওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
বিকেল সোয়া ৫টায় ফার্মগেট এলাকায় এ্যালাইক ট্রান্সপোর্টের ঢাকা মেট্রো ব-১৩-০০৫৪ নম্বর গাড়ির চালক মো. ওয়ালিউল্লাহ জানান, ট্রাফিক পুলিশ দ্বারা আগের মতো চাঁদাবাজির শিকার হতে হচ্ছে না। মনজুর হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সড়কের অবস্থা সাময়িক ভালো হয়েছে। তবে এমন অবস্থা সব সময় থাকবে কি না সে ব্যাপারে তিনি শঙ্কাও প্রকাশ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আহত কর্মীদের দেখতে গেলেন ডা: রুহুল হক এমপি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ অফিসে দুর্বৃত্তদের হামলায় দলের আহত কর্মীদের দেখতে হাসপাতালে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আহতদের দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ.ফ.ম রুহুলসহ উদ্ধর্তন নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় শের এ বাংলা নগর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হসপিটালে যান। হাসপাতালে দুর্বৃত্ত্বদের হামলায় এক চোখ বিকল হয়ে যাওয়া সেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আরাফাতুল ইসলাম বাপ্পি সহ চার জনের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে বিদেশ পাঠাতে নির্দেশ দেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সড়ক ও জনপদ কর্মকতাদের স্বেচ্ছাচারীতায় পথে বসতে চলেছে ছয়টি পবিরার

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারীতায় পথে বসতে চলেছে ছয়টি পবিরার। মঙ্গলবার দুপুরে ইটাগাছা পুলিশ ফাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীরা জানায়, ইটাগাছা সুরাত আলীর বোবা (প্রতিবন্ধী) কন্যাকে বিয়ে দেয় আঃ রউফের সাথে। সেই সুবাদে আঃ রউফকে রাস্তার ধারে দোকান করার জন্য জায়গা দিয়েছিল। বিয়েরপর থেকে প্রায় ২৬ বছর যাবত আঃ রউফ সেখানে দোকান করে আসছে।
এছাড়াও মোঃ মিন্টু হোসেন, আসলাম, ইব্রাহিম ও ইয়াছিন ওয়ার্কশপের দোকান করে আসছিলাম। উক্ত ব্যক্তিরা সুরাত আলীর পুত্র রফিকুল, নজরুল ও মঞ্জুয়ারার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ওয়ার্কশপের দোকান পরিচালনা করে আসছিলো।
ভুুক্তভোগীরা আরো জানায়, সড়ক ও জনপদের কর্মচারীরা আমাদের কোনো নোটিশ ছাড়াই মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় এতদিনের দোকানঘর গুলো ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা মেইন রাস্তা থেকে প্রায় ৩০ গজ দুরে দোকান করে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমাদেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুরো ভেঙে দেওয়ায় আমরা এখন পথে বসে গেছি। তারা আরো জানায়, রাস্তার ১০ গজ দুরে অনেকেই বিভিন্ন দোকান করে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে সড়ক বিভাগের লোকজন তাদের কিছুই বলছে না।
এ বিষয় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ গিয়াস উদ্দীন বলেন, এঁটা সড়ক বিভাগের জায়গা। আমরা ইচ্ছা করলেই যেকোনো সময় এই জায়গা উদ্ধার করতে পারি। কারন এাঁ সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ওই জায়গা নিয়ে দুদকেও অভিযোগ রয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকেও উক্ত জায়গা উদ্ধার করার নির্দেশ রয়েছে। এঁ উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে পর্যায়ক্রমে সকল সরকারি জায়গা উদ্ধার করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তিন দিনে সাতক্ষীরায় পুলিশ ও বিআরটিএ’র যৌথ অভিযানে ৭৩২ টি মামলা, ৪৭ টি যান জব্দ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরায়ও গত রবিবার থেকে ‘ ট্রাফিক সপ্তাহ’ শুরু হয়েছে। আর এই ট্রাফিক সপ্তাহে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে পুলিশ ও বিআরটিএ’র যৌথ আভিযানিকদল। “ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করুন, ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি জাতির সভ্যতার প্রতীক।’ এই শ্লোগান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গত রবিবার থেকে এই ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হয়।
সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট, খুলনা রোড মোড়, বিনেরপোতা, পালিটেকনিক মোড়সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ ও বিআরটিএ যৌথ অভিযান চালিয়ে যানবাহনে ব্যাপকভাবে কাগজপত্রে তল্লাশি চালাচ্ছে। ট্রাফিক সপ্তাহের তৃতীয় দিনে মঙ্গলবার সকাল থেকে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান শহরের বিভিন্ সড়ক-মহাসড়কে দাড়িয়ে এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তিনি নিজেই যাবাহনের কাগজ পত্র চেক করেছেন।
সাতক্ষীরা বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক প্রকৌশলী তানভির আহমেদ ও জেলা পুলিশের তথ্য কর্মকর্তা এস.আই মিজান জানান, ফিটনেস, রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় গত তিন দিনে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ৭৩২ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে । এছাড়া কোন কাগজপত্র না থাকায় মোটরসাইকেল, পিকআপ ও বাসসহ বিভিন্ন প্রকার ৪৭ টি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। তারা আরো জানান, তাদের এ অভিযান আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় প্রধান মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কেবিএ কলেজের শুভেচ্ছা মিছিল

দেবহাটা প্রতিনিধি: ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে নেওয়ায় প্রধান মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা মিছিল ও পথসভা করেছেন দেবহাটার খান বাহাদুর আহছান উল্লা কলেজ। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলার সখিপুরস্থ কেবিএ কলেজের আয়োজনে শুভেচ্ছা র‌্যালী শেষে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে শুভেচ্ছা র‌্যালীটি কলেজ ক্যাম্পাস হতে বের হয়ে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সখিপুর মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কলেজের অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি। বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্নুর, সাধারণ সম্পাদক বিজয় ঘোষ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান সবুজ, কেবিএ কলেজ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আসিফ মাহমুদ, জাকির হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক আকরম হোসেন, শাহনুর রহমান, সঞ্জয় কুমার, শচিন্দ্র নাথ, হাসান কবীর, তৌহিদুজ্জামান, আবু তালেবসহ বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিআরটিএতে উপচেপড়া ভিড়, সক্রিয় দালাল চক্র

দেশের খবর: যানবাহনের লাইসেন্স, ফিটনেস সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র ঠিক করাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে এখন গাড়ির চালক ও মালিকদের উপচেপড়া ভিড়।
মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় সেবা নিতে বুথগুলোতে লম্বা লাইন ধরে আছেন সেবাপ্রার্থীরা। কথা বললে তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। জানান, কার্যালয়ের সামনে সক্রিয় দালাল চক্রের কথাও।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, ‘ভাই আমরা তো অনেক কাজ ফালাইয়া রাইখা আসি। আমাদের যদি আর দুইটা কাউন্টার বাড়াইয়া দিত, তাইলে তো আমাদের এই সিরিয়ালে পড়তে হকো না।’
আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কারণে ভিড় বাড়ছে, সবাই সচেতন হচ্ছে। বাট মনে হয়, আধা ঘণ্টা অলরেডি হয়ে গেছে। সামনে অন্তত হাজার খানেক লোক আছে সামনে।’
এদিকে, শুধু নতুন লাইসেন্স নয় গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নবায়নেরও ধুম পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণের জন্য। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ ফিটনেসের লাইনে এখন সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের যানবাহন।গাড়ির ফিটনেস ঠিক করতে আসা খাজা বাবা পরিবহনের এক বাসচালক বললেন, ‘আমরা আসছি ফিটনেস করার জন্য গাড়ির। গাড়ির ফিটনেসের ডেটটা ঠিক ছিল না। ওইডা আরকি ঠিক করানোর জন্য আসছি।‘
তবে বিআরটিএতে সেবাগ্রহীতাদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে দালালদের তৎপড়তাও। বাড়তি টাকা দিলেই দ্রুত কাজ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন সাধারণ লোকজন।
একজন বলেন, ‘যত ভালো ড্রাইভার হোক, সে যদি ১০০ বছর বয়স্কও হয়, ফেল। পাস করে ওই যে যারা টাকা দেয়। ওই ভাবে দালাল আছে।’
কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, দালালদের সক্রিয় অবস্থান। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে থাকা অতিষ্ঠ মানুষদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন নিজেই। কেউ আবার প্রকাশ্যেই চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে গেছেন। টাকা খরচ করে দ্রুত কাজ করিয়ে নিতে মানুষই চলে যাচ্ছে তাদের কাছে।
চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে থাকা একজনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তারা মানুষের কাজগুলো সহজ করে দিয়ে বিনিময়ে কিছু বকশিশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘মনে করেন, ব্যাংকের টাকা জমা দিয়া যেইভাবে যেইভাবে সিস্টেম হয়। ওইটা তো বললামই। সাড়ে তিন হাজার পরীক্ষা-টরীক্ষা ওইখানে লাগে তো। ওই জন্য।’
তবে, জানতে চাওয়া হলে দালালদের বিরুদ্ধে কাজ করছেন বলে দাবি করেন বিআরটিএর মিরপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মাসুদ আলম।
মাসুদ আলম বলেন, ‘দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আমরা কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতেছি। দালালের কাছ থেকে সতর্ক থাকার জন্য সবাইকে সর্বোচ্চ ইয়া দিছি। পাশাপাশি দালাল, বা দালালের সঙ্গে সখ্যতা কোনো আনসার বা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিব।’
তবে, লম্বা সময় লাগলেও কেউ কেউ টাকা ছাড়াই কাজ করিয়ে নিচ্ছেন বিআরটিএ থেকে।
এক নারী বলেন, ‘দালাল ধরলে এক মাসের মধ্যে করা যায়, সেটা আমরা করি নাই। আমরা লিগ্যাল ওয়েতে করছি। আট মাস লাগছে।’
এদিকে, বাড়তি চাপ সামলাতে এখন শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে বিআরটিএ কার্যালয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারত থেকে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে চার কিশোরকে

দেশের খবর: চারজন বাংলাদেশি কিশোরকে ভারত থেকে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর ধরা পড়ে ওই চার কিশোর।
মঙ্গলবার হিলি সীমান্ত দিয়ে ওই চার কিশোরকে দেশে আনা হয়। ধরা পড়ার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের সরকারি শুভায়ন হোমে ছিল ওই চার কিশোর।
জানা যায়, বাংলাদেশি ওই চার কিশোরই অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের। তারা মূলত কাজের সন্ধানে দালালের হাত ধরে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। ওই চার কিশোর হচ্ছে, মহম্মদ আরিফ, উজ্জ্বল বর্মণ ওরফে মহম্মদ আজাদ, চঞ্চল মালি এবং মুহম্মদ হাবিব। তাদের প্রত্যেকের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
মুহম্মদ আরিফ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার হবিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। উজ্জ্বল বর্মণ রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সন্যাসীবাজার গ্রামের বাসিন্দা। চঞ্চলের বাড়ি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার চাকনিরকিন গ্রামে। হাবিবের বাড়ি বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ময়ুরবাগ গ্রামে। তারা প্রত্যেকে ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে ভারতে কাজের খোঁজে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে প্রবেশ করে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) উপস্থিতিতে ওই চার কিশোরকে তাদের পরিবারের হাতে তুলে ধরা হয়।
ভারতেরে দিনাজপুর জেলার ‘চাইন্ড লাইনে’র সমন্বয়ক সুরজ দাস বলেন, ‘আমরা ওই নাবালকদের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশের তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারপর দুই দেশের সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিজের দেশের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলো। এখনো পশ্চিমবঙ্গের শুভায়ন হোমে ২২ জন বাংলাদেশি কিশোর আছে বলে জানান সুরজ দাস। তাদেরকেও বাংলাদেশে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। দুই দেশের মধ্যে আইনি জটিলতা মিটলেই ঘরে ফিরবে তারা।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আ’লীগ কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে সদর উপজেলা যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামাত-শিবির ও বিএনপি দ্বারা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় শহরের কামালনগর এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে নিউ মার্কেটস্থ শহীদ আলাউদ্দিন চত্বরে এক প্রতিবাদে সমাবেশের আয়োজন করেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নান। সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ময়নুল ইসলামের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, আগরদাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সামসুর রহমান, আলীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মহিবুল্লাহ সরদার, সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ইনজামুল হক, খোরশেদ আলম রিপন, সোহাগ হোসেন প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশকে আবারো অশান্ত করার উদ্দেশ্যে কমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আর ওই অসৎ উদ্দেশ্যে সফল করার জন্য তারা কমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে জামায়াত-বিএনপির ক্যাডাররা আওয়ামীলীগের অফিসে হামলা করেছিলো। কিন্তু বাংলাদেশে যতদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন রয়েছে ততদিন ওই স্বাধীনতা বিরোধীরা তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে সফল করতে পারবে না। অবিলম্বে ওই হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest