সাতক্ষীরায় কন্যা শিশু পাচারের অভিযোগে এক নারীর যাবজ্জীবন

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরায় প্রথম শ্রেণীতে পড়–য়া কন্যা শিশুকে পাচারের অভিযোগে এক নারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত নারী আসামী হলেন, মোছাঃ আফরোজা ও ওরফে তাছলিমা খাতুন। তিনি শ্যামনগর উপাজেলার পরানপুর গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে। বর্তমানে তারা কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর গ্রামে বসবাস করেন।
মামলার বিবরনে জানা যায়, পাচারের শিকার শিশু কন্যাটি শ্যামনগর উপাজেলার ৮৬নং পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীতে পড়তো। ২০০৩ সালের ৬ মার্চ সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে স্কুলে যায় সে। স্কুল শেষে সে আর বাড়ি ফেরেনি। সহপাঠি ময়না ও টুম্পার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে যে স্কুল শেষে তাকে খালা পরিচয়ে এক নারী মাঠ থেকে ডেকে নিয়ে যায়। জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আব্দুল করিম বিভিন্ন মসজিদে মাইকিং করে শিশুটির সন্ধান নেয়ার চেষ্টা করেন। রাত ১০টার দিকে স্থানীয় বৈশখালি গ্রামের লোকজন পাচারকারী আফরোজাকে আটক করলেও তার সঙ্গীরা পালিয়ে যায়। এ সময় উদ্ধার করা হয় ওই শিশুটিকে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ওই শিশুর দাদা বারী সরদার বাদি হয়ে পাচারকারী আফরোজা খাতুন, রতনপুর গ্রামের বাবু, বাবলু ও আবু হান্নানের নাম উল্লেখ করে পরদিন শ্যামনগর থানায় একটি পাচারের মামলা দায়ের করেন। ২০০৩ সালের ৩০ জুন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক ফয়সাল জামান এজাহারভুক্ত আসামীদের নামে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
১০জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে বুধবার আসামী আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করেন। একই সাথে অপরাধ প্রমানিত না হওয়ায় এ মামলার অপর তিন আসামীকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। তবে, এ রায়ের সময় পাচারকারী আসামী আফরোজা পলাতক ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাড. জহুরুল হায়দার বাবু।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক ৬০

আসাদুজ্জামান: সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ১২ মাদক ব্যবসায়ী ও জামায়াতের একজন কর্মীসহ ৬০ জনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল পযর্ন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে ১৯ বোতল ভারতীয় মদসহ বেশ কিছু মাদক দ্রব্য। এসময় বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১৮ জন, কলারোয়া থানা থেকে ৬ জন, তালা থানা ৪ জন, কালিগঞ্জ থানা ১০ জন, শ্যামনগর থানা ৮ জন, আশাশুনি থানা ৮ জন, দেবহাটা থানা ২ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিজের গাছের একটি মরিচ খেলেও তৃপ্তি আসে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর: দেশের জনগণকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজের লাগানো গাছের একটি মরিচ খেলে তাতে ঝাল লাগলেও তৃপ্তি আসে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা, ২০১৮ উপলক্ষে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক, অফিস-আদালত, সরকারি ভবন, পার্ক, নদীতীর, লেক, জেলা মাঠ, খেলার মাঠ, কবরস্থান, পতিত জমি, এমনকি বাড়ির ছাদ বা ব্যালকনি- সব জায়গায়ই কিন্তু গাছ লাগানো যায়। যদি ইচ্ছা করেন আপনারাও পারেন। এভাবে আপনারা একটি সবুজ বেষ্টনির সৃষ্টি করতে পারেন।’

‘বাড়ির ব্যালকনিতেও যদি আপনি একটা গাছ লাগান, মনে করেন একটা মরিচ গাছ লাগালেন, নিজের গাছের একটা মরিচ ছিঁড়ে যদি খাবার টেবিলে খান, খুব ঝাল লাগলেও তাতে একটা তৃপ্তি আসবে।’

ঠিক একইভাবে যেখানে জায়গা পাওয়া যায়, বা নিজের কোনো পরিত্যক্ত জায়গা থাকলে সেটি পতিত ফেলে না রেখে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, পরে সেই গাছ বিক্রি করেও ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন সম্ভব। একইসঙ্গে পরিবেশও রক্ষা হবে।

এজন্য দেশের প্রত্যেক জনগণকে একটি বনজ, একটি ফলজ ও একটি ভেষজ গাছ, অর্থাৎ অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। বলেন, প্রত্যেকে যদি অন্তত তিনটি করে গাছ লাগান তবে প্রত্যেকেই সুফল পাবেন, একই সঙ্গে দেশ উপকৃত হবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষা ও বনায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

প্লাস্টিক দূষণ ও পাট
এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Beat plastic pollution. If you can’t beat it, refuse it.’ অর্থাৎ ‘আসুন প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি। যদি না পারি, তবে তা বর্জন করি।’ এটি অত্যন্ত যুগোপযোগী প্রতিবাদ্য বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক একটি অপচনশীল দ্রব্য। প্লাস্টিকের প্রভাব অনেক বেশি। কারণ একে অনেকদিন ব্যবহার করা যায়। এই প্লাস্টিক এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা। বিভিন্ন জায়গায় প্লাস্টিক ফেলার ফলে সাগর-মহাসাগরে গিয়ে এসব জমা হচ্ছে। এ কারণে অনেক জায়গায় এখন জাহাজ চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

‘আমরা এখনো অতটা খারাপ অবস্থায় যাইনি। তবে বিশ্বব্যাপীই এটা এখন বিরাট একটা সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।’

পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে দেশে পলিথিনসহ প্লাস্টিক পণ্য রিসাইকেল বা নবায়নযোগ্য ব্যবহারের ব্যবস্থা চালু করতে এবং ধীরে ধীরে এসব ব্যবহার বন্ধ করতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেশি, আমাদের বিভিন্ন জিনিসের প্রয়োজন হয়। সাধারণ স্বল্প আয়ের মানুষও প্লাস্টিক ব্যবহার করে থাকে। তাই রিসাইকেলের দিকে আমাদের বেশি ব্যবস্থা নেয়া উচিত,’ বলেন তিনি।

এক্ষেত্রে প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। বাংলাদেশ পাট উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। গবেষণার মাধ্যমে পাটের একটি পলিমারও বর্তমানে তৈরি হয়েছে। এটি দিয়ে বানানো ‘সোনালি ব্যাগ’ পচনশীল এবং পরিবেশবান্ধব। এটি একসময় পচে যাবে এবং পরিবেশ দূষণ করবে না।

দৈন্দিন প্রয়োজন ছাড়াও পাটের ব্যাগ ব্যবহারের কথা বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। ‘আমি যে ব্যাগটি ব্যবহার করছি সেটাও কিন্তু পাটেরই ব্যাগ,’ বলেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি ছাতিম গাছের চারা রোপন করেন। এর মধ্য দিয়ে সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩০ লাখ চারা রোপণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

এরপর শেরেবাংলা নগরে বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সানির বায়োপিক রিলিজ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

বিনোদন সংবাদ: সানি লিওনের বায়োপিক ‘করণজিৎ কউর: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ মুক্তি পেয়েছে। প্রিয় অভিনেত্রীর জীবনের নানা দিক জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন তার ভক্তরা। কিন্তু বায়োপিক সামনে আসতে না আসতেই বিতর্ক তুঙ্গে। সরাসরি জিহাদ ঘোষণা করছে ভারতের রাজনৈতিক দল ‘অকালি’।

সোমবার ‘অকালি’র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই ওয়েব সিরিজটি বাজারে চালাতে গেলে হয় ছবির নাম বদলাতে হবে, নয়তো বড় ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হতে হবে। তাদের আপত্তি ‘কউর’ পদবীটির ব্যবহার নিয়ে।

সর্ব ভারতীয় সংবাদ সংস্থার কাছে অকালি দলের সদস্য মনজিন্দর শীর্ষ তোপ বলেছেন, ওর পেশা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। ওটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ। কিন্তু ও নিজেই যেহেতু ‘কউর’ পদবীটিকে এক সময় বাতিল করেছে, এখন এটি ব্যবহার করছে কেন? আমরা এসেল গ্রুপের চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রকে জানিয়েছি হয় এই নাম বদলাতে হবে, না হলে বড় ঝামেলা হবে।

সানি ভক্তরা সকলেই জানেন, সানির আসল নাম করণজিৎ কউর। তার বাবা-মা দু’জনেই আসলে শিখ সম্প্রদায়ভুক্ত।

প্রসঙ্গত, সানি করণজিৎ কউর ভোরা থেকে নিজের নাম বদল করে সানি লিওন হলেও তার দত্তক কন্যার নামে কিন্তু সানি কউর পদবীটি রেখেছেন। সানির বায়োপিকে থাকছে তার জীবনের অনেক না জানা কথা, যে আর্থিক টানাপোড়েন তাকে পর্নস্টার হতে বাধ্য করেছে তার ফিরিস্তি, একই সঙ্গে বলিউডে জমি পেতে তার কঠিন লড়াইয়ের আখ্যানও।

বিতর্কের তুঙ্গেই থাকেন সানি। এখন দেখার, তাকে নিয়ে তৈরি ওয়েব সিরিজটি ঘিরে আর কত জলঘোলা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আগামিকাল প্রকাশিত হবে এইচএসসির ফল

শিক্ষা সংবাদ: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামিকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।

ওই দিন সকাল ১০টায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষা বোর্ডের প্রধানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফল হস্তান্তর করবেন। পরে দুপুর ১টায় শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করবেন।

আজ বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা অফরাজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

অফরাজুর রহমান জানান, এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

সারা দেশের দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

গত ২ এপ্রিল শুরু হয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলে ১৩ মে পর্যন্ত। আর ১৪ থেকে ২৩ মের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রুটের টানা সেঞ্চুরি, সিরিজ হারল ভারত

খেলার খবর: আর ৪টা রান হলেই খেলা শেষ। কিন্তু তাতে দল জিতলেও রুটের অসাধারণ ইনিংসটা পূর্ণতা পাবে না! তার যে আরও ৬টা রান চাই সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে। পান্ডিয়ার ওভারের প্রথম বলে ২ নিয়ে তখন খানিকটা এগোলেন রুট। পরের বলটা ডট। পরে বলে ওয়াইড করে রুটের কাজটা কঠিন করে তুললেন ভারতীয় পেসার! তবে অসম্ভব নয়। তাইতো তৃতীয় বলটি মিড উইকেটে ঠেলে চার হাঁকিয়েই ইংল্যান্ডকে জয় ও সিরিজ এনে দিলেন ইংলিশ ডানহাতি। সঙ্গে পূর্ণ করলেন নিজের শতকটাও। সিরিজে টানা দুই ম্যাচে।

মঙ্গলবার হেডিংলিতে সমতা রেখে তিন ম্যাচের সিরিজের শেষটি খেলতে নামে মরগান ও কোহলির দল। শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ২৫৬ রান জমা করে ভারত। পরে ৩৩ বল আর ৮ উইকেট হাতে রেখে রানতাড়া করে ফেলে ইংল্যান্ড।

সফরের শুরুতে টি-টুয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ভারত। ঠিক একই ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতল স্বাগতিকরা।

জো রুট আগের ম্যাচেই অপরাজিত ১১৩ রানের ইনিংস খেলে সিরিজে সমতা এনেছেন। এবার ঠিক ১০০তে অপরাজিত থাকলেন। ১০ চারে ১২০ বলের ইনিংস। ক্যারিয়ারের ১৩তম ওয়ানডে শতক।

রুটের ১৮৬ রানের জুটি সঙ্গী ইয়ন মরগান অপরাজিত থাকেন ৮৮ রানে। অধিনায়কের ইনিংসটি ৯ চার ও এক ছয়ে ১০৮ বলে সাজানো।

ইনিংসের শুরুতে জেমস ভিন্স ২৭ ও জনি বেয়ারস্টো ৩০ রান করে যান। একটি উইকেট নেন শার্দূল ঠাকুর। অন্যটি রানআউট।

আগে রোহিতের (২) বিদায়ের পর ধাওয়ানের (৪৪) সঙ্গে জুটি জমিয়ে দারুণ শুরু এনে দেন কোহলি। দ্বিতীয় উইকেটে ৭১ রান যোগ করেন দুজনে। ধাওয়ান রানআউট হওয়ার পর কার্তিক ২১ রানে ফিরে যান।

কোহলি থামেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৭১ রানে। ৮ চারে ৭২ বলের ইনিংস অধিনায়কের। রায়না (১) ব্যর্থ হলেও ধোনির লড়াকু ৪২ ভারতকে পথে রাখে। শেষদিকে ভুবনেশ্বর ২১, হার্দিক ২১ আর ঠাকুর ১৩ বলে অপরাজিত ২২ রান করলে লড়ার পুঁজি পায় সফরকারীরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রবার্ট মিলার বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত

বিদেশের খবর: বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আর্ল রবার্ট মিলারকে মনোনীত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) এই কূটনীতিকের নাম ঘোষণা করেন।
বতসোয়ানায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মিলার বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্সিয়া বার্নিকাটের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
তবে বাংলাদেশে যোগদানের আগে মিলারের মনোনয়নের বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটের অনুমোদন লাগবে।
বতসোয়ানায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে মিলার ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে কনস্যুল জেনারেল ছিলেন। তিনি নয়াদিল্লি, বাগদাদ ও জাকার্তায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি মিশনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করাসহ কূটনীতিক নিরাপত্তা সেবা বিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন মিলার।
১৯৮১ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মিলার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন সেনা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং ইউনাইটেড স্টেটস মেরিন কর্পস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি স্টেট ডিপার্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ফর হিরোইজমসহ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন। সামরিক বাহিনীর একাধিক পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।
মিলার ইংরেজি ছাড়াও ফরাসি, স্প্যানিশ ও ইন্দোনেশীয় ভাষা জানেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোমাঞ্চকর ম্যাচে ২ রানে লঙ্কানদের হারাল বাংলাদেশ ‘এ’

খেলার খবর: তিন বলের মধ্যে যখন অষ্টম ও নবম উইকেটের পতন হলো, জয় তখনও ৩৭ রান দূরে। সেই ম্যাচেও নাটকীয়ভাবে জয়ের দুয়ারে চলে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা ‘এ।’ শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর চাপকে জয় করে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

তিন ম্যাচের আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে ২ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ।’

সিলেটে মঙ্গলবার বাংলাদেশের ২৮০ রান তাড়ায় লঙ্কানরা গুটিয়ে যায় ২৭৮ রানে।

শেষ বলে লঙ্কানদের প্রয়োজন ছিল ৩ রান। স্ট্রাইকে ছিলেন তিন ছক্কায় দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যাওয়া শেহান মাদুশঙ্কা। কিন্তু এই লঙ্কান পেসারকে আউট করেন সিলেটের পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ।

‌আনঅফিসিয়াল টেস্ট সিরিজে ভালো করা লাহিরু থিরিমান্নে, শেহান জয়াসুরিয়াদের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজে লঙ্কানরা আরও শক্তি বাড়িয়েছে থিসারা পেরেরা, উপুল থারাঙ্গা, দাসুন শানাকাদের মতো ক্রিকেটারদের যোগ করে। জয়টা শেষ পর্যন্ত কষ্টের হলেও তাই কৃতিত্ব প্রাপ্য বাংলাদেশের।
শেষ ভাগের মতো পুরো ম্যাচই ছিল উত্থান-পতন আর নাটকীয়তায় ঠাসা। ইনিংসের অর্ধেকের বেশি জুড়ে বাংলাদেশের ইনিংস ছিল গতিহারা। সেখান থেকে দল ঘুরে দাঁড়ায় মিডল অর্ডারে। শেষ দিকে ঝড় তোলেন আরিফুল হক। শেষ ৯ ওভারে ১০৬ রান তুলে বাংলাদেশ যেতে পারে ২৮০ পর্যন্ত।

লঙ্কানরা রান তাড়ায় ৭২ রানে হারিয়েছিল ৪ উইকেট। সেখান থেকে পরে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। তবে আবার খেই হারায় ৪০ ওভারের পর। শেষ দিকে আবার ম্যাচ জমিয়ে দেয় শেষ জুটি। তার পর শেষ বলে রূদ্ধশ্বাস সমাপ্তি।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিল মন্থর। সৌম্য সরকার ক্রিজে ছিলেন, উইকেট পড়েনি একটিও, তার পরও ১২ ওভারে রান ছিল ৪২।

সৌম্যর বিদায়েই ভেঙেছে জুটি। ১টি করে চার ও ছক্কায় ৩৪ বলে করেছেন ২৪।

মিজানের সঙ্গে জাকির হাসানের দ্বিতীয় উইকেট জুটিও খুব বাড়াতে পারেনি গতি। ২৬ বলে ১৮ রান করে ফেরেন বাঁহাতি জাকির।

ঘরোয়া লিগে দারুণ মৌসুম কাটানো মিজান এদিন হিমশিম খেয়েছেন রানের গতি বাড়াতে। চারটি চার ও তিনটি ছক্কা মারলেও ৬৭ রান করতে বল খেলেছেন ১০৭টি। মাদুশঙ্কার বলে যখন তিনি বিদায় নিলেন, দলের রান তখন ৩০ ওভারে ১২০।
দলের ইনিংস গতিময় হয় চতুর্থ উইকেট জুটিতে। মোহাম্মদ মিঠুন ও ফজলে মাহমুদ রাব্বি ৯৫ রানের জুটি গড়েন ৮৭ বলে।

দুটি করে চার ও ছক্কায় ৬৩ বলে ৫৯ করে ফেরেন বাঁহাতি ফজলে রাব্বি। অধিনায়ক মিঠুন ৪৪ করেন ৪৪ বলে।

শেষ দিকে সহজাত আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে আরিফুল করেন ২২ বলে ৪৭। তিনটি চারের সঙ্গে ইনিংসে ছক্কা চারটি। শেষ ৫ ওভারে বাংলাদেশ ‘এ’ তোলে ৬২ রান।

শেষের ব্যাটিংয়ে উজ্জীবিত বাংলাদেশ বোলিংয়ে শুরুটাও করে ভালো। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সাদিরা সামারাবিক্রমাকে ফেরান তরুণ বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। পরের ওভারেই অভিজ্ঞ উপুল থারাঙ্গাকে বোল্ড করে দেন খালেদ।

তৃতীয় ওভারে লাহিরু থিরিমান্নে ও শেহান জয়াসুরিয়ার ৫২ রানের জুটি ভাঙে জয়াসুরিয়ার রান আউটে।

থিরিমান্নে ও আশান প্রিয়াঞ্জন থিতু হয়ে গিয়েছিলেন। ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও জ্বলে ওঠা আরিফুল ফেরান এই দুজনকেই।
সেই চাপ সরিয়ে দলকে এগিয়ে নেন দাসুন শানাকা ও থিসারা পেরেরা। দুই আগ্রাসী ব্যাটসম্যান উল্টো চাপে ফেলে দেন বাংলাদেশকেই।থিসারার ঝড় অবশ্য খুব বেশি স্থায়ী হয়নি। ফিরেছেন দুই চার ও ১ ছক্কায় ২০ রান করে। তবে শানাকা ঘাম ঝরিয়ে ছাড়েন বাংলাদেশের। ৭৮ বলে ৭৮ করেছেন ৬টি ছক্কায়!

৪৬তম ওভারে তাকে থামান বোলিং আক্রমণে ফেরা খালেদ। পরের ওভারে শরিফুল তিন বলের মধ্যে নেন দুটি উইকেট। ২৪৪ রানে নেই শ্রীলঙ্কার ৯ উইকেট, বাংলাদেশ অপেক্ষায় আনুষ্ঠানিকতার।

কিন্তু মাদুশঙ্কা হাল ছাড়েননি। তিন ছক্কায় আশা দেখায় লঙ্কানদের। শেষ ব্যাটসম্যান নিশান পেইরিস সঙ্গ দিয়েছেন দারুণ। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ বল স্বস্তি দিয়েছে বাংলাদেশকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ‘এ’: ৫০ ওভারে ২৮০/৭ (মিজানুর ৬৭, সৌম্য ২৪, জাকির ১৮, ফজলে রাব্বি ৫৯, মিঠুন ৪৪, আরিফুল ৪৭, আল আমিন ৮*, সানজামুল ০, নাঈম ১*; মাদুশাঙ্কা ১/৬১, শানাকা ০/২৪, জয়াসুরিয়া ১/৩৯, থিসারা ১/৪৪, পুস্পকুমারা ১/৪৪, পেইরিস ০/৬৭)।

শ্রীলঙ্কা ‘এ’: ৫০ ওভারে ২৭৮ (সামারাবিক্রমা ৩, থারাঙ্গা ১০, থিরিমান্নে ২৯, জয়াসুরিয়া ২০, প্রিয়াঞ্জন ৪২, শানাকা ৭৮, থিসারা ২০, শাম্মু ২৮, মাদুশঙ্কা ২১, পুস্পকুমারা ০, পেইরিস ১১*; খালেদ ১০-০-৭২-৪, শরিফুল ১০-০-৫৪-৩, আল আমিন ৩-১-১৩-০, নাঈম ৫-০-১৩-০, আরিফুল ৮-০-৪২-২, সানজামুল ৬-০-২৯-০, সৌম্য ৮-০-৫০-০)
ফল: বাংলাদেশ ‘এ’ ২ রান জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ‘এ’ ১-০তে এগিয়ে

ম্যান অব দা ম্যাচ: আরিফুল হক

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest