সর্বশেষ সংবাদ-
উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে দায়িত্ব হারালেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকযুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ইউনিভার্সিটি অব মায়ামিতে পিএইচডি ও ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন করল সাতক্ষীরার শিহাবনেপালে পাহাড়ি ঢলে বিপর্যয়, নিহত বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ ৪০০সাংবাদিক মারুফকে প্রাণনাশের হুমকি : থানায় অভিযোগসাতক্ষীরার শিকারি ব্র্যান্ড বিডির ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনদেবহাটা সরকারি বি বি এম পি ইনস্টিটিউশনে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী পালিতসাতক্ষীরায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রাজ্যেশ্বর দাশ গ্রেপ্তারভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা কমিটি নির্বাচন: সভাপতি হোসেন-সম্পাদক ইব্রাহিমকারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নিয়োগ ও এমপিও নিয়ে অভিযোগ : তদন্তে শিক্ষা কর্মকর্তাবুশরা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে ডিসির কাছে আমানতকারীদের আবেদন

দেবহাটায় অবৈধ মোটরযানের বিরুদ্ধে অভিযান

কে.এম রেজাউল করিম,দেবহাটা : দেবহাটায় ট্রাফিক সপ্তাহ-১৮ উপলক্ষ্যে অবৈধ মোটরযানের বিরুদ্ধে সোমবার সকাল ১০ টা থেকে উপজেলার সখিপুর খানবাহাদুর আহছানউল্লাহ কলেজ সম্মুখে সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার দেবহাটা সার্কেল ইয়াছিন আলী ও দেবহাটা থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলীর নেতৃত্বে দেবহাটা থানার পুলিশের এই অবৈধ মোটরযান অভিযান পরিচালনা করা হয়। ট্রাফিক সেবা সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষ্যে সেবা প্রদান, রাস্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারন মানুষ ও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার লক্ষ্যে পরিচালিত এই অভিযানে চেকিং সহ মামলা প্রদান করা হয়। এসসময় সঠিক কাগজপত্র না থাকায় মোট ২২ টি মোটরযানের বিরুদ্ধে মামলা প্রদান করা এবং সকলকে গাড়ীর কাগজপত্র সাথে রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া জীবনের মূল্যবোধে হেলমেট পরিধান করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।
পরে সেখানে জেলা আঃলীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ মুনসুর আহমেদ উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সকল দাবী মেনে নিয়েছেন এবং আগামী সংসদ এই অধিবেশনে এগুলো পাশ করা হবে বলে জানিয়ে সকল শিক্ষার্থীদেরকে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহবান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ছাত্রলীগ(জাসদ)কলারোয়া উপজেলার প্রতিনিধি সভা

 

৬ আগস্ট সোমবার সকাল ১১টায় কলারোয়া পাবলিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ(জাসদ) কলারোয়া উপজেলা শাখার প্রতিনিধি সভা কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রুহুল কুদ্দুস রনির সভাপতিত্বে ও রাসেল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধি সভার শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিরাবতা পালনের মাধ্যমে দিয়ে প্রতিনিধি সভা শুরু হয়।
প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা-১ আসনের জাসদ মনোনীত ও ১৪ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- সম্পাদক, সাতক্ষীরা জেলা জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ওবায়েদুস সুলতান বাবলু। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কলারোয়া উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সভাপতি মুনসুর আলী, মোরতাজুল হক, সহ-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ, দপ্তর সম্পাদক নূরুল আলম, হেলাতলা ইউনিয়ন জাসদ সভাপতি আব্দুল গফফার, সহ-সভাপতি আব্দুল আলিম, তালা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম আব্দুল আলিম, নগরঘাটা ইউনিয়ন সভাপতি সাইদুজ্জামান শুভ, কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা নয়ন হোসেন, আজমল হোসেন, রিপন হোসেন, আলী আহছান, আবু সাঈদ প্রমুখ। প্রতিনিধি সভায় ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলারোয়া উপজেলার ১২ ইউনিয়নের সাংগঠনিক কমিটি গঠন পূর্বক সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। প্রতিনিধি সমাবেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তালা- কলারোয়া সাতক্ষীরা-১ আসনে নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতির অংশ হিসাবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলারোয়া উপজেলার ৭০টি ভোটকেন্দ্রের কেন্দ্র কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং আগামী সংসদ নির্বাচনে জাসদ মনোনীত ও ১৪ দল মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ ওবায়দুস সুলতান বাবলু কে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া শিক্ষা,শান্তি, প্রগতিকে মুল মন্ত্র এবং এক দেশ এক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু, ডাকসুসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও পাঠ্যসুচিতে সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে দেশের সকল সচেতন ছাত্রসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ট্রাফিক আইনে সক্রিয় পুলিশ, বেড়েছে হেলমেটের ব্যবহার

দেশের খবর: নিরপাদ সড়কের আন্দোলনের পর রাজশাহীতে ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে চলছে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ। বর্তমানে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিশ।
আর দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকতে রাজশাহীতে হঠাৎ করেই মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে হেলমেট ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। যা কয়েকদিন থেকে বেশ লক্ষণীয়৷
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বাংলানিউজকে জানান, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বর্তমানে কাউকেই যানবাহন চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্সকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বেশি।
সোমবার (০৬ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে মহানগরীর ব্যস্ততম পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক বিষয়ক সচেতনতামূলক ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়। পাশাপাশি মহানগরীর জিরোপয়েন্ট, লক্ষ্মীপুর ও গোরহাঙ্গা মোড়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে আরএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সচেতনতামূলক স্টিকার লাগান।
ট্রাফিক সপ্তাহ সফল করার লক্ষ্যে মহানগরীর জিরোপয়েন্ট, লক্ষ্মীপুর ও গোরহাঙ্গা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের মোটরযান আইনে মামলা দেওয়ার পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেটও দেওয়া হয়।
এ সময় রোভার স্কাউট, গালর্স গাইড ও কমিউনিটি ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা এ কাজে আরএমপি পুলিশকে সহযোগিতা করেন বলেও জানান মহানগর পুলিশের এ কর্মকর্তা।
এদিকে, দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকতে রাজশাহীতে হঠাৎ করেই মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে হেলমেট ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তাই হঠাৎ করেই বেড়েছে মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা। মোটরপার্সের দোকানে বেড়েছে হেলমেট বিক্রি।
রাণীবাজার এলাকার সাজ্জাদ মোটর্সের সত্ত্বাধিকারী সাজ্জাদ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থা কড়াকড়ি হওয়ায় ক’দিন থেকেই হেলমেটের বিক্রি বেড়েছে। মামলা এড়াতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তাই মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করছেন। এটি চলমান থাকলে দুর্ঘটনার হার কমবে বলেও মন্তব্য করেন এ ব্যবসায়ী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনির বড়দলে চড়া সুদের ছোবলে নিঃশ্ব বহু অসহায় পরিবার

আশাশুনি ব্যুরো : আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে চড়া সুদের ছোবলে একাধিক অসহায় পরিবার নিঃশ্ব হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুদের টাকা যোগাড় করতে সহায় সম্বল এমনকি সর্বশেষ বসত ভিটা খুয়িয়েও শেষ রক্ষা না পেয়ে জন্মস্থান ছাড়তে বধ্য হয়েছে একাধিক পরিবার। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অভিযুক্ত এলাকায় সুদে মহাজনদের একটা সেন্ডিকেট কাজ করছে। একজনের টাকা সুদে দেওয়া হচ্ছে একাধিক ব্যক্তির হাত দিয়ে নতুন নতুন ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্প ও চেকের মাধ্যমে চড়া থেকে চড়া সুদে। বড়দলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও একাধিক ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, এক লক্ষ টাকা সুদে নিলে প্রতিদিন ২২০০ টাকা সুদ দেয়া লাগে সুদে মহাজনকে। সুদের টাকা দিতে সময় ক্ষেপন করলে সুদের টাকারও সুদ গুনতে হয় দ্বিগুন হারে। এমনই এত চড়া সুদের ছোবলে নিঃশ্ব হয়ে জন্মস্থান ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ফকরাবাদ গ্রামের দাউদ সরদারের পুত্র আছাদুল সরদার। আছাদুল সরদারের স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন(৩৫) এ প্রতিবেদককে জানান, তার স্বামী ৬ মাস পূর্বে গোয়ালগাংগা বাজারের গীতাঞ্জলী জুয়েলার্সের মালিক বিশ্বনাথ শীল থেকে তার দোকানের ব্যবসার জন্য কিছু টাকা সুদে নেন। সময় মত সুদের কাটা দিতে না পারায় সুদে মহাজন বিশ্বনাথের থেকে চড়া সুদে আরও টাকা নিয়ে তার সুদের টাকা দিতে থাকেন। মাস খানেক পরে বিশ্বনাথের সুদের টাকা যোগান দিতে তার স্বামী (আছাদুল) পর্যায়ক্রমে বাজারের তোহা টেলিকমের মালিক তোহা গাজী, গোয়ালডাংগা গ্রামের আনন্দ বিশ্বাসের পুত্র নিত্য বিশ্বাস, মোক্তার সরদারের পুত্র শামিম, কেয়ারগাতী গ্রামের অমেদ আলীর পুত্র বাজারের সানমুন টেলিকমের মালিক আছাফুরের থেকে চড়া সুদে টাকা নিতে শুরু করেন। এভাবে ৬ মাস যেতে না যেতেই আমাদের শেষ সম্বল ৩ বিঘা জমি বিক্রি করে সুদের টাকা দিয়েও আজ আমার স্বামীর ঘাড়ে ১২ লক্ষ সুদের টাকার ঘাণী নিয়ে বাড়ি ছাড়া। তিন সন্তান ও শ্বাশুড়ী নিয়ে আজ আমি পথের ভিখারী। ফকরাবাদ গ্রামের শহিদ বিশ্বাসের পুত্র ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস(৩৩) জানান, আমি প্রথমে খোকন গাজীর পুত্র বাজারের তোহা টেলিকমের মালিক তোহা গাজীর থেকে ২০ হাজার টাকা সুদে নেই। পরে তার সুদের টাকা সময় মত না দিতে পারায় সে আমাকে অন্য এক জনের কাছে পাঠিয়ে দেয় যেখানে জামানত হিসাবে লাগবে ব্লাঙ্ক চেক ও স্ট্যাম্প এবং সুদের হারও বেশি। এভাবে সুদের টাকা যোগাতে এক মহাজন থেকে অন্য মহাজন ঘুরে সুদের হার বাড়াতে বাড়াতে আজ আমি ১০ লক্ষ সুদের টাকার ঘানী টানতে ব্যর্থ হয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। অভিযুক্ত আছাফুর এ প্রতিবেদককে জানান, তার সাথে আছাদুলের কোন লেনদেন নাই এমনকি তার(আছাদুলের) কোন স্ট্যাম্প বা চেক তার কাছে নেই। তবে তোহা গাজী এবং বিশ্বনাথ শীলের সাথে আছাদুলের লেনদেন আছে যে কারনে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তোহা গাজী জানান, আছাদুলের সাথে তার কোন লেনদেন নেই। বিশ্বনাথ শীলের ব্যবহৃত মোবাইল নং ০১৭৪৮-৯৬৮২৮৫ ও ০১৯৩৯-৪২০০২০ তে বহুবার রিং দিয়েও ফোন রিসিভ হয়নি। এলাকার সচেতন মহলের দাবি উল্লেখিত সুদখোরদের বাহিরে বুড়িয়া গ্রামের মগর গাজীর পুত্র সিরাজুল গাজী ছাড়াও বহু ছোট বড় সুদখোর বর্তমানে বড়দলের বিভিন্ন এলাকায় তাদের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। এ সুদের টাকা আদাই করাকে কেন্দ্র করে বহু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে এলাকায়। বিষয়টি আমলে নিয়ে এ এলাকার সুদখোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

০৬.০৮.২০১৮

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের শাস্তির বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন

দেশের খবর: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহাণির ঘটনায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এই অনুমোদনের কথা জানান।
রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানী জুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল আইনটি। দেড় বছর আগে খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা।
যা ছিল খসড়া আইনে
খসড়া আইনানুযায়ী, গাড়ি চালানোর সময় কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে আইনে।
আইন অনুযায়ী, সড়কের ফুটপাতের উপর দিয়ে কোনো ধরনের মোটরযান চালাচল করতে পারবে না। যদি করে, তবে তিন মাসের কারাদণ্ড বা ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
আগে গাড়ি চালকদের লেখাপড়ার বিষয়ে কিছু না থাকলেও নতুন আইন অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে।
কন্ডাক্টর বা চালকের সহযোগীকে কমপক্ষে লেখা ও পড়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত তার লেখাপড়া থাকতে হবে।
যদি কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালায়, তবে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কেউ এই অপরাধ করলে, তাকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করা যাবে। এক্ষেত্রে বর্তমানে ৩ মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
চালকের সহকারীর লাইসেন্স লাগবে। কন্ডাক্টারের লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা হবে।
জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করলে আগে শাস্তি ছিল সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা। প্রস্তাবিত আইনে মূল শাস্তি কারাদণ্ড আগের মতোই আছে, জরিমানা ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে।
ফিটনেস না থাকা মোটরযান চালালে আগে শাস্তি সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা রয়েছে। সেখানে এখন শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা। এ শাস্তি পাবে মূলত গাড়ির মালিক।
দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দণ্ডবিধিতে যে শাস্তি রয়েছে, সেই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। দুর্ঘটনার মাধ্যমে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নরহত্যা হয়, তবে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা প্রযোজ্য হবে। শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। হত্যা না হলে, ক্ষেত্রে ৩০৪ ধারা প্রযোজ্য হবে। সেক্ষেত্রে শাস্তি যাবজ্জীবন। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা হলে ৩০৪ এর (বি) অনুযায়ী ৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
গাড়ি ওজন সীমা অতিক্রম করলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানা। এখানে মালিক ও ড্রাইভার দুই গ্রুপকেই যুক্ত করা হয়েছে, তারা দায়ী হবে।
বেপরোয়া গাড়ি চালানো, দুই গাড়িতে পাল্লা দেয়ার কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা হবে।
বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং এতে দুর্ঘটনা না ঘটলেও ২ বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছিল প্রস্তাবিত আইনে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কিশোর আন্দোলনের সমর্থনে রাজপথে কলকাতার ছাত্রসমাজ

বিদেশের খবর: বাংলাদেশে চলমান নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর-কিশোরীদর আন্দোলন ক্রমশ সহিংস রূপ নিচ্ছে। জিগাতলায় গত শনিবার সংঘর্ষের পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে রাজপথ ছেড়ে দিলেও মাঠে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
সোমবারও রাজধানীর শাহবাগ, রামপুরা কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ এবং অস্ত্রধারী হেলমেট পরা যুবকদের হামলার শিকার হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনের সমর্থনে গর্জে উঠেছে ওপার বাংলার ছাত্র-ছাত্রীরা। বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের এই অভূতপূর্ব আন্দোলনে কলকাতার সোশ্যাল দুনিয়া উত্তাল। তবে অনলাইনে প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত নয় তারা; রীতিমতো রাজপথে মিছিল করেছে। যাদবপুর, প্রেসিডেন্সী, সি.ইউ, রবীন্দ্রভারতীসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা । সোমবার বিশাল মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তাদের কয়েকজন প্রতিনিধি গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করে। এরপর মিছিল সহকারে কলকাতা নগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়। কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।কিশোর আন্দোলনে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা কিছু স্লোগান ফেস্টুনে লিখে রাস্তায় নেমেছিল কলকাতার শিক্ষার্থীরা। যার মধ্যে ছিল বিখ্যাত সেই স্লোগান, ‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমিই বাংলাদেশ।’ উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা এলাকায় ‘জাবালে নূর’ নামের দুই বাসের রেষারেষিতে নিহত হন দুই কলেজ শিক্ষার্থী। এর পর থেকেই প্রায় ৮দিন রাজধানীসহ প্রায় সারাদেশের রাজপথ অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্র-ছাত্রীরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিক্ষার্থীদের ওপর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস

দেশের খবর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। রাজধানীর শাহবাগে সোমবার বিকাল তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল শাহবাগের দিকে আসার সময় পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পরে লাঠিপেটা শুরু করে।
সকাল থেকে শাহবাগ এলাকায় পুলিশের অবস্থান ছিল। বেলা একটার দিকে ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত এসেছে মিছিল আসলে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়। বিকাল তিনটার দিকে মিছিলটি শাহবাগমুখী হলে থানার সামনে এসে বাধার মুখে পড়ে। পুলিশি বাধার মুখে শিক্ষার্থীরা পিছু হটে যায়। পুলিশ এখনও ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের বিচার ৩০২ ধারায় সম্ভব

দেশের খবর: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের বিচার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় সম্ভব বলে মনে করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধরে নিয়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় বিচারের সুযোগ রয়েছে।’ আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ওই সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি নতুন আইনে বিচারের সুযোগ নেই। বিদ্যমান আইনেই সেটা হবে। আর বিদ্যমান আইনে পেনাল কোডের ৩০২ ধারার অধীনে এ ঘটনার বিচারের সুযোগ রয়েছে।’
সোমবার সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইনের বিভিন্ন ধারা ও তার শাস্তির বিধান ব্যাখ্যা করেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্টে স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চালকের শাস্তির বিধানের ব্যাখ্যা দেন।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইন প্রসঙ্গে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘এই আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এটা কিন্তু অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ শাস্তি যদি বলুন, তাহলে হত্যার উদ্দেশ্যে যানবাহন চালানো বা ডেলিভারেট ক্লিলিং (ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকাণ্ড) হয়, তাহলে সেই অবস্থায় এই মামলাটি চলে যাবে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায়। আর এই ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। অর্থাৎ তদন্তে যদি প্রমাণিত হয়, হত্যার উদ্দেশ্যের যানবাহন চালানো হয়েছে, তাহলে সেই মামলা পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় চলবে।’
রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর বাসচাপায় নিহতের বিচার পেনাল কোডের ৩০২ ধারা প্রযোজ্য হতে পারে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘যে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে, সে ঘটনায় বাসচালক রিমান্ডে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তার ওই স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, এটা একটা ডেলিভারেট ক্লিলিং, তাহলে সেই অবস্থায় এই মামলাটি চলে যাবে পেনাল কোডের ৩০২ ধারার অধীনে। যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’ তবে, এই দুই শিক্ষার্থী নিহতের মামলা সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইনে হবে, না বিদ্যমান আইনে হবে, তা পরিষ্কার করে বলেননি ওবায়দুল কাদের।
এদিকে, এ বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের সামনে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে নতুন আইন কার্যকর হবে না। নতুন আইনের আগেই ঘটনা ঘটেছে। তাই ঘটনার সময় যে আইন রয়েছে, সেই আইনটি এক্ষেত্রে কার্যকর হবে। তবে, নতুন আইনে যেমনটি হত্যার উদ্দেশ্য গাড়ি চালনাকে ৩০২ ধারার অধীনে বিচারের কথা বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনেও সেই সুযোগ আছে। এর অর্থ সড়ক পরিবহনমন্ত্রী যেটা বলেছেন তা হচ্ছে, যে আইন এখন বলবৎ রয়েছে সেই আইনেও এটা ৩০২ ধারার অধীনে বিচার হতে পারে। তবে এটা সম্ভব কিনা, তা তদন্ত প্রতিবেদন এলেই বলা যাবে।’ তদন্ত প্রতিবেদনে যদি সুস্পষ্টভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ি চালানোর বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে ওই ধারায় চলবে বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম সজীব ও দিয়া খানম মীম নিহত হন। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিসহ নয় দফা দাবিতে রাজধানীতে আন্দোলন শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৬ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর অনুমোদন দেওয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest