সর্বশেষ সংবাদ-
ইছামতি নদীতে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা রেজাউলের জীবন যুদ্ধগণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের মিছিল ও সমাবেশসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা : গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণশ্যামনগরে নদীর চরে গাছ হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনকালিগঞ্জে চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়লের বাড়ি থেকে ১২শ লিটার ডিজেল উদ্ধারকলারোয়ায় সাপের কামড়ে তরুণীর মৃত্যুজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাআঙ্গুল : গার্লস স্কুলে ভর্তি নিচ্ছে না প্রধান শিক্ষকজাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা ইউনিটের সদস্য সচিব এবং সদস্য -এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিবৃতিদিবা-নৈশ কলেজের অধ্যক্ষের বাগান বাড়ির চার শতাধিক গাছ কেটে ক্ষতিসাধনআগামীকাল রবিবার থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৩ দিনের ছুটি

কলারোয়ায় নাশকতা মামলায় পিতা-পুত্র গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলারোয়ায় নাশকতা মামলায় পিতা ও পুত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত আজিবর সরদারের পুত্র ওজিয়ার রহমান (৬০) ও ওজিয়ার রহমানের পুত্র আব্দুল আলিম (৩৫)।
থানা সূত্র জানায়- সোমবার (২৫জুন) ভোররাত ৪টার দিকে তাদের বাড়ি থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে কলারোয়া থানায় নাশকতা মামলা (নং-৩/৩১, তারিখ-০২ ফেব্রয়ারী, ২০১৮; জি আর নং-৩১/১৮, তারিখ-০২ ফেব্রয়ারী, ২০১৮) রয়েছে।
গ্রেপ্তারদের সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় এক দিনে বজ্রপাতে নিহত ৪

আব্দুল জলিল : সাতক্ষীরায় বজ্রপাতে চারজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আটজন। সোমবার দুপুর সাতক্ষীরা সদরের বৈকারি ও শ্যামনগরের গুমনতলী গ্রামে এ ঘটনটি ঘটে।
নিহতরা হলেন, সদরের বৈকারি গ্রামের আব্দুস সালামে ছেলে সাজু হোসেন (২৫), ভোমরা উইনিয়নের তেঘোরিয়া গ্রামের আবুল খায়ের, শ্যামনগরের গুমনতলী গ্রামের শ্রীকান্ত দাশের স্ত্রী জোৎসা মন্ডল (৩৫) ও মুজিদ মোল্লার স্ত্রী জিন্নাহতুননেছ (৩২)।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, গুমনতলী মৎস্য সেটে নারী শ্রমিকরা কাজ করছিল। এ সময় আকস্কিক বজ্রপাত হলে দুইজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বৈকারি ইউপি চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান অসলে জানান, তিন চারজন কর্মচারি নিয়ে সাজু তার নিজস্ব মৎস্য ঘেরে কাজ করছিল। এসময় বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হলে সে তার কর্মচারিদের নিয়ে বাড়ি আসছিলেন। পতিমধ্যে আকস্মিক বজ্রপাতে সাজু হোসেন ঘটনাস্থলে নিহত হন। আহত হন দুইজন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বৃষ্টির খেলায় পানিবন্দি কলারোয়ার বিভিন্ন এলাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসলি মাঠসহ অন্যান্য স্থান।
২৫শে জুন সোমবার সকাল ৮টা থেকে মাঝারি,মূসলধারে ও থেমে থেমে বৃষ্টিপাতে জনজীবন সাময়িক স্থবির হয়ে পড়ে।
অনেক মানুষ কর্মসংস্থানে যাওয়ারও সুযোগ পাননি। অনেকটা অলস সময় পার করেছেন তারা।
দিনভর অঝোরে ঝরতেই থাকে হালকা মেঘের বৃষ্টির খেলা।
জানা যায়- কলারোয়া পৌরসদরের বেত্রাবতী হাইস্কুলসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বর, খোরদো বাজার কেন্দ্রিক জামে মসজিদের মেইন সড়ক, গোপিনাথপুর এলাকার ফসলি মাঠ ও অন্যান্য স্থান পানিতে থৈথৈ অবস্থা। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ যেনো এখন পুকুরে রূপ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপ্রতুল্যতা, পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা না থাকা কিংবা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পানি নিষ্কাষন না হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পেেছ এসকল স্থান।
অনেকে জানান- কলারোয়া পৌরসভা ও উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের গুররুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা আছে, সেগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অনেক ড্রেনগুলোর অস্তিত্বও খুজে পাওয়া দায়। আর ফসলি মাঠে যত্রতত্র মাছের ঘের ও মাত্রাতিরিক্ত পানি নিষ্কাষনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে আবাদি জমি। এর সাথে যোগ হয়েছে ভরা বর্ষা মৌসুমেও কলারোয়ার নদ, নদী ও খালগুলোর বেহলা অবস্থাও। কপোতাক্ষ নদ ও বেত্রবতী নদীতে পানি প্রবাহ নেই বললেই চলে। বেত্রবতীর অবস্থা যেন মৃতপ্রায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি খালের নিশানা পাওয়া দূষ্কর। খালগুলো ব্যক্তিস্বার্থে বেদখল হয়ে পড়েছে কিংবা ভরাট হয়ে ড্রেনের মতো গর্তও নেই। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই পানি প্রবাহ ব্যাহত ও বন্ধ হয়ে পড়ায় মাঝারি কিংবা একটু ভারি বর্ষনেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকা।
বছরের পর বছর বর্ষা মৌসুমে এমন ভোগান্তি হওয়ায় সাময়িক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলেও কাজের কাজ বা স্থায়ী ফলপ্রসু সুফল পান না ভূক্তভোগিরা। তাদের দাবি- জলাবদ্ধতা নিরসনে মাস্টার প্লান করে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করা হোক অচিরেই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইকার্দির বিশ্বকাপে না থাকার পেছনে ম্যারাডোনা-মেসি-মাসচেরানো!

খেলার খবর: রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিার চূড়ান্ত দল ঘোষণা পর থেকে একটি নাম না থাকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হচ্ছে। সেটা আরো বেশি আলোচনার জন্ম দিয়ে স্কোয়াডের খেলোয়াড়রা নিজেদের মেলে ধরতে না পারায়। সেই নামটি মাউরো ইকার্দি।

সমাপ্ত ক্লাব মৌসুমে ইন্টার মিলানের হয়ে ৩৬ ম্যাচে লীগের সর্বোচ্চ ২৯ গোল করা মাউরো ইকার্দিকে কেন বিশ্বকাপের দলে রাখা হলো না? আর প্রশ্নটা আরও বেশি উঠছে সেই একই লিগে ২২ গোল করা পাউলো দিবালা এবং ১৬ গোল করা হিগুয়েইন তাহলে কিভাবে ডাক পেলেন বিশ্বকাপ দলে?

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এক্ষেত্রে কোচ নয়, খেলোয়াড়রাই নাকি চাননি ইকার্দি বিশ্বকাপ দলে খেলুক, যার পেছনে আছে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোন্দল। ইকার্দির স্ত্রী হচ্ছেন আর্জেন্টিনার মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ফুটবল এজেন্ট ওয়ান্ডা নারা। তাঁর সঙ্গেই একটা সময় সংসার ছিল আরেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার ম্যাক্সি লোপেজের। কখনো জাতীয় দলে না খেললেও লোপেজ খেলেছেন বার্সেলোনায় ও রিভার প্লেটে। ফলে মেসি এবং মাসচেরানোর সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে লোপেজের।

লোপেজের ঘর ভাঙার কারণে ইকার্দিকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয় আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমে। তাকে বিশ্বাসঘাতক বলেন ম্যারাডোনা, উল্টো ইকার্দিও দু’কথা শুনিয়ে দেন ‘আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর’কে। এসব কারণেই তাকে দলে চাইছিলেন না মেসি ও মাসচেরানোসহ অনেকেই। স্বাভাবিকভাবে তাই ধারণা করা হচ্ছে, খেলোয়াড়দের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়েই ইকার্দিকে দলে রাখেননি কোচ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে বজ্রপাতে ২ নারী শ্রমিক নিহত, আহত ৮

শ্যামনগর প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে দুই নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এসময় ৮ শ্রমিক আহত হয়েছে। সোমবার দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের গুমানতলী গ্রামে হাজী মিজানুর রহমানের মাছের ঘেরে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের শ্রীকান্ত মন্ডলের স্ত্রী জোসনা মন্ডল (৩৫) এবং একই গ্রামে মজিদ মোল্যার স্ত্রী জিন্নাতুন নেছা (৪০)।
আহত ব্যক্তিরা হলেন- একই গ্রামের আনিছুর রহমান, ঝর্ণা পারভীন, আনোয়ারা খাতুন, কুলছুম বিবি, আনোয়ারা বিবি, রহিমা খাতুন, ফুলবাসি মন্ডল এবং জানু।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রাশিদুল ইসলাম জানান, নিহত এবং আহত ব্যক্তিরা মাছের ঘেরে কাজ করার সময় প্রবল বর্ষনের মধ্যে আকর্ষিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে ২ মহিলা নিহত হয়।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে, আহত আনিছুর রহমান, আনোয়ারা খাতুন ও কুলছুম বিবির অবস্থা আশংকাজনক বলে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ রেজওয়ান আহম্মেদ জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রীর ৫ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক: সড়ক দুর্ঘটনারোধে চালক-সহকারীদের প্রশিক্ষণসহ পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ নির্দেশনা হলো :

১. চালক ও হেলপারদের (সহকারী) প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।

২. দূরপাল্লার যাত্রায় বিকল্প চালক রাখতে হবে। পাঁচ ঘণ্টা পর চালক পরিবর্তন করতে হবে।

৩. চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৪. মহাসড়কের পাশে বিশ্রামাগার রাখতে হবে চালকদের জন্য।

৫. সিগন্যাল মেনে চলতে হবে।

সচিব জানান, স্বরাষ্ট্র, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এসব নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে কি না, তা তদারকি করবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পেনাল্টি মিস করায় অলিম্পিক অ্যাওয়ার্ড! (ভিডিও)

ফুটবলে পেনাল্টি পাওয়া এমনিতেই ভাগ্যের বিষয়। কিন্তু এই পেনাল্টি যদি মিস হয়ে যায় তাহলে খেলোয়ারকে ভৎসনা শুনতে হয়। কিন্তু খেলায় পেনাল্টি মিস করে যদি অ্যাওয়ার্ড পাওয়া যায় তাহলে তা আসলেই আশ্চর্যের বিষয়।

খেলায় ইচ্ছাকৃতভাবে পেনাল্টিটি মিস করেন খেলোয়াড়। বল কে গোলবার থেকে অনেক দূরে ঠেলে দেন। ভাবছেন সুযোগ পেয়েও হার না এড়ানো এমন পেনাল্টি কিক করায় হয়তো ডেনমার্ক দলের অধিনায়ককে তুলাধোনা করা হয়েছিল। কিন্তু না, হয়েছে তার উল্টো। ইতিহাসে জায়গা করে নেয় সেই পেনাল্টি। পরে ডেনমার্কের সেই খেলোয়াড়কে অলিম্পিক ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড দেয় সেই পেনাল্টি মিসের জন্য! সেই ফুটবলারকে শ্রদ্ধা জানায় ফুটবলবিশ্ব। এটিই ফুটবল।

এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৩ সালে। তখন দহংকং স্টেডিয়ামে চলছিল ইরান বনাম ডেনমার্কের ফুটবল ম্যাচ। ইতিমধ্যে ইরান ১-০ তে এগিয়ে আছে। খেলাটি ছিল চার জাতি টুর্নামেন্ট। যেখানে উরুগুয়ে ও স্বাগতিক হংকং ছিল। ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ খেলা হচ্ছিল। যে দল জিতবে ফাইনালের টিকিট তার।

ম্যাচের ৪৫ মিনিটের পরও প্রথমার্ধ বিরতি না দিয়ে রেফারি ৩ মিনিট ইনজুরি টাইম দেন। সেই ইনজুরি টাইমে ঘটে যায় একটি ঘটনা। এ সময়ে বল ছিল ইরানের ডি-বক্সে। বাঁশির আওয়াজ শুনে ইরানের রক্ষণভাগের একজন খেলোয়াড় প্রথমার্ধের বিরতি মনে করে নিজেদের গোলরক্ষকের দেয়া পাস থেকে বল হাতে তুলে নেয়। অমনি রেফারির ঠোঁট গলে বেরিয়ে আসে আরেকটি বাঁশির শব্দ।

হ্যান্ডবল বিধান অনুযায়ী পেনাল্টি পেয়ে যায় ডেনমার্ক। গোলরক্ষকসহ হতভম্ব হয়ে পড়ে ইরান শিবির। হাফটাইমের বাঁশি তা হলে বাজাল কে?

প্রথম বাঁশির আওয়াজ তো সবাই শুনেছে। কিন্তু সে বাঁশিতে ফুঁ দেননি রেফারি। সবাই বুঝতে পারেন যে, গ্যালারি থেকে দর্শকদের কারও কর্ম এটি। ইরানের খেলোয়ারটি এ বাঁশি শুনেই ভেবেছিলেন রেফারি প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার বাঁশি দিয়েছেন। তাই সে বলটি হাতে তুলে নেয় এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঘটনাটি ঘটেছে ইরানেরই ডি বক্সের ভেতরে।

এদিকে ফুটবলের নিয়ম ভাঙতে অনড় রেফারি। নিয়মানুযায়ী রেফারি তখন ডেনমার্ককে পেনাল্টি শুটের নির্দেশ দেন। এতে ইরানের খেলোয়াড়রা পড়েন বিপাকে। অথচ তাদের কোনো দোষ নেই। শুরু হয় মাঠেই আলোচনা। দুদলের কোচও শামিল হন এ ঘটনার সুরাহা করতে।

কিন্তু রেফারির নিয়ম যেন ঐশী বাণী। ডি বক্সের ভেতরে হাত দিয়ে বল ধরায় মাসুল গুনতেই হবে ইরানকে। অগত্যা কোনো উপায় না দেখে ডেনমার্ক দলের অধিনায়ক মরটেন উইঘোরস্ট তার কোচের সঙ্গে পরামর্শ করে পেনাল্টি নিতে আসেন। বলে পা ছোঁয়ান এবং ঘটে যায় ঐতিহাসিক এক পেনাল্টি কিক। ডেনমার্কের সেই খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে পেনাল্টিটি মিস করেন। বল কে গোলবার থেকে অনেক দূরে ঠেলে দেন। অথচ সেই ম্যাচে ডেনমার্ক ১-০ গোলে হেরে যায় ইরানের কাছে।

এই খেলা থেকেই ফুটবল বিশ্ব বুঝতে পারে ফুটবল শুধু হার-জিতের ব্যাপার নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। মাঠে ২২ জন বল নিয়ে কাড়াকাড়ি করলেও ফুটবল দুটি দেশের মধ্যে ভাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে দেয়। আত্মার সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে মাত্র ৯০ মিনিটের সাধনায়।

ফুটবল আনন্দের, ফুটবল এ বাসযোগ্য সবুজ গ্রহের বিভিন্ন জাতির মিলনমেলার একটি উপলক্ষ। এটিই ফুটবলের দর্শন। তাই দলমত নির্বিশেষে ফুটবল আমাদের জানায়, এটি ঘৃণা, রেষারেষি বা অপরকে ছোট করার কোনো বিষয় নয়।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন-

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শেষ ম্যাচে সবার দৃষ্টি মেসির ওপর

নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে নামছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। আর বিশ্বকাপে টিকে থাকার শেষ সুযোগের এই ম্যাচে পুরো বিশ্বের সাথে জাতীয় দলের সতীর্থরাও মেসির জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় থাকবে।

গ্রুপ-ডি’র দুই রাউন্ড শেষে গতবারের রানার্স-আপ দলটি বিদায়ের একেবারে শেষ ক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। রাশিয়া বিশ্বকাপে অভিষিক্ত নবাগত আইসল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলে ড্র ও তারকা সমৃদ্ধ ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে আর্জেন্টিনার সামনে এখন পরাজয়ের শঙ্কা।

টুর্নামেন্টের আগেই মেসিকে নিয়ে একটি আলোচনায় সড়ব ছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ কি মেসির জন্য সৌভাগ্যের বার্তা বয়ে আনবে কিনা। ফুটবলীয় ক্যারিয়ারে তার চির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের জন্য ২০১৬ ইউরো শিরোপা উপহার দিয়েছেন। কিন্তু মেসি আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হওয়া সত্তেও জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো সাফল্য এখনো হাতে পাননি।

টিকে থাকার লড়াইয়ে সেন্ট পিটার্সবার্গে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই। একইসাথে ইতোমধ্যেই নক আউট পর্ব নিশ্চিত করা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আইসল্যান্ড যেন কোনো সাফল্য না পায় সেদিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে আলবে সেলেস্তাদের। বৃহস্পতিবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিধ্বস্ত হবার ম্যাচটি যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না আর্জেন্টাইন সমর্থকরা।

১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক ও কিংবদন্তী তারকা দিয়েগো ম্যারাডোনা দলের প্রধান কোচ জর্জ সাম্পাওলি ও তার মেথড নিয়ে প্রচন্ড সমালোচনা করেছেন। এমনকি সারা বিশ্ব জুড়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এমন গুঞ্জনও শোনা গেছে কোচের বিপক্ষে খোদ আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রাই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। যদিও আর্জেন্টাইন ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লডিও টাপিয়া পুরো বিষয়টিকে ভ্রান্ত ধারণা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এ সম্পর্কে আর্জেন্টাইন ফুটবল প্রধান বলেন, সত্যিকার অর্থে সাংবাদিকরা অনেক শক্তিশালী। এটা ভুললে চলবে না যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তারা কাজ করে থাকে। তাদের হাতে সেই ধরনের ক্ষমতা আছে। তবে পুরো বিষয়টি একেবারেই মিডিয়ার তৈরী। তারা কোচিং স্টাফদের সরাসরি অনুশীলনে দেখতে পায়। পুরো দলের অনুশীলন তারা প্রত্যক্ষ করে। সেখানে তাদের চোখে অনেক কিছুই ধরা পড়তে পারে। কিন্তু আমি একটি বিষয় নিশ্চিত করে বলতে পারি এ ধরনের কিছুই জাতীয় দলের মধ্যে ঘটেনি।

টুর্নামেন্টের হট ফেবারিট আর্জেন্টিনা যেখানে বাঁচা মরার লড়াইয়ের মুখোমুখি সেখানে প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়ান পরের রাউন্ডে যেতে হলে ড্র করলেই চলবে। তবে সেক্ষেত্রে আইসল্যান্ড যদি ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দেয় তবে সমীকরণ সম্পণূ পাল্টে যাবে। তবে সবকিছুর পরেও নাইজেরিয়াও ভালভাবেই জানে মেসি জ্বলে উঠলে সেটা তাদের জন্য সমস্যাই বয়ে আনবে। যদিও দলের প্রস্তুতিতে মেসিকে আটকানোর সব ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের ডিফেন্ডার উইলিয়াম ট্রুস্ট-একং।

তিনি বলেন, এই প্রথমবার আমরা এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলছি না যাদের সব খেলোয়াড়ই ভাল। আমরা আমাদের সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ম্যাচে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করবো।

আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আহমেদ মুসার করা দুই গোলের নাইজেরিয়ার জয় নিশ্চিত হয়েছিল। আর তারপর থেকেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে মেসির পাশাপাশি মুসার নামও সকলের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। আর পুরো বিষয়টি বেশ উভোগ করছেন মুসা।

দুই দলের এ পর্যন্ত খেলা আটটি ম্যাচেই চারটি হয়েছে বিশ্বকাপে যার মধ্যে সবকটিতেই জয়ী হয়েছে শক্তিশালী আর্জেন্টিনা। ১৯৯৮ সালের পরে প্রথমবারের মত পরপর দুটি বিশ্বকাপের ম্যাচে জয়ের অপেক্ষায় রয়েছে নাইজেরিয়া।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest