কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সিনিয়র সচিব বলেন, কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছি। এটা আজকে সকালে পৌঁছেছে। এটা যদি প্রধানমন্ত্রী দেখেন তবে দুই-এক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত দেবেন। একটি কমিটি হবে। কমিটি সুপারিশ করবে। কমিটির সুপারিশ সরকার অনেক সময় পুরোপুরি রাখে, অনেক সময় আংশিক রাখে, এরপর একটা সিদ্ধান্ত যেটা সবাই চাচ্ছে, আশা করি সেটা হবে।
মোজাম্মেল হক খান বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল নাকি সংস্কার হবে এ কমিটি সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। পরে সেটা সবাইকে (প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে) জানিয়ে দেয়া হবে। তবে কবে হবে সেটা বলতে পারব না।
প্রস্তাবিত এ কমিটির নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রস্তাবিত কমিটি কত সদস্যের জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব বলেন, আমি যদি বলি পাঁচ, ছয়ও তো হতে পারে। চার-পাঁচ জন সদস্য এটা বলা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে- সামগ্রিক বিষয়, আইন-কানুন বিবেচনা করে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তারা প্রতিবেদনে সুপারিশ করবে। সরকার সেটাকে কতটুকু বিবেচনায় নেবে…। আমি আগেই বললাম, সরকার পুরোপুরি বিচেনা করতে পারে, আংশিক করতে পারে। যতটুকু গ্রহণযোগ্য ততটুকু নেবে।
‘কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন ওইটা আমাদের মাথায় রাখা ভালো। পরে বাস্তবে কি ঘটবে সেটা পরে দেখা যাবে’ বলেন মোজাম্মেল হক খান।
বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএস নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এ ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সে ক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী নিয়োগের বিধান রয়েছে।
উল্লেখ্য, কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছিলেন শিক্ষার্থীরা। কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করছিলেন তারা।
৯ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনকারীরা। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ৭ মে পর্যন্ত সময় নেন ওবায়দুল কাদের। কিন্তু এরপরের দিনও আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।
কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল বুধবার জাতীয় সংসদে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনও কোটারই দরকার নেই। যারা প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদের আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেব।’
কিন্তু এরপর প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য অনুযায়ী কোটা নিয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ফের স্বোচ্চার হন শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থায় গত ২৭ এপ্রিল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানকের সঙ্গে বৈঠক করেন।
অস্টেলিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে- এ আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ওই বৈঠকে ৭ মে পর্যন্ত কোটাবিরোধী আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু ৭ মে’র মধ্যে কোটার প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় ফের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

পুরস্কৃত অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন, সাতক্ষীরা সদর থানার এস আই বিপ্লব কুমার কান্তি ও মনির হোসেন, কলারোয়া থানার এসআই সোলায়মান আক্কাস, শরিফুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন ও এএসআই আহসান হাবিব, পাটকেলঘাটা থানার এএসআই হারুনর রশিদ, তালা থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান, আশাশুনি থানার এএসআই উস্তার আলী ও জহুরুল ইসলাম, কালিগঞ্জ থানার এস আই সোহরাব হোসেন, শ্যামনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) শরিফুল ইসলাম, এসআই শংকর কুমার ঘোষ, ইমদাদুল হক, এএসআই আমিরুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ, ফজলুল হক ও তরিকুল(২)।
