সর্বশেষ সংবাদ-
ঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিতআশাশুনিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলার তদন্তে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারদেবহাটায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের মতবিনিময়৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়াসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভাতালা থেকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ পাইকগাছায় উদ্ধারসাতক্ষীরা জেলা এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর এসোসিয়েশনের সভাসাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইড কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময়৯০ দশক ছাত্রদল প্লাটফর্ম এর সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠনসাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান চেয়ারম্যান আলিমের

শরীরে রোদ লাগালে বাড়বে শক্তি, ঝরবে মেদ

সবসময় ছায়া বা ছাতা খুঁজবেন না৷ দিনে অন্তত দু’ঘণ্টা রোদ লাগান৷ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় আসা তথ্য অনুযায়ী, রোদ নাকি যৌনক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারে দারুণ ওষুধ৷

চিকিৎসকরা বলছেন, পুরুষের রক্তে যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরন ভিটামিন ডি’র মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়। আর ভিটামিন ডি’র প্রধান উৎস হল সূর্যালোক। ত্বকে সূর্যালোকের প্রভাবে রক্তে ভিটামিন ডি’র মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, রক্তে প্রতি মিলিলিটারে ভিটামিন ডি’র পরিমাণ যত বেশি হবে পুরুষের যৌন ক্ষমতা তত বাড়বে!

এছাড়াও শরীরে রোদ লাগানোর উপকার রয়েছে আরও অনেক। রোদে কিছু সময় হাঁটলে খুব ঘাম হতে থাকে। সেই সঙ্গেও পিপাসাও পায়। আর তখন আমরা প্রচুর পানি খেয়ে থাকি। যত বেশি করে পানি খাই, তত বেশি বেশি প্রস্রাব হয়। ফলে শরীরের ভিতরে জমে থাকা টক্সিন বেরিয়ে যায়।

সেই সঙ্গে ঘামের মাধ্যমে ত্বকের ছিদ্রে জমে থাকা ময়লাও বেরিয়ে যায়। ফলে ত্বক এবং শরীর, উভয়ই সুন্দর হয়ে ওঠে। তবে তাই বলে ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে হাঁটবেন না যেন, শরীর খারাপ হয়ে যাবে।

টানা চার সপ্তাহ অল্প সময়ের জন্য সূর্যের আলো গায়ে লাগালে সোরিয়াসিসসহ একাধিক ত্বকের রোগ সেরে যায়। তবে বেলা ১২টার আগে এই কাজটা করবেন। কারণ বেলা বাড়লে রোদের তেজও বেড়ে যায়। ফলে এমন সময় সূর্য়ের আলো গায়ে লাগাতে কষ্ট হতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
উচ্চ আদালতে গড়াচ্ছে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে যে ঘোষণা দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত তা উচ্চ আদালতে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পৃথকভাবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীও রিট আবেদন করবে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোটা পদ্ধতি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত সংবিধানে বিদ্যমান প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আদালতে গেলে কোটা পদ্ধতি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত টিকবে না। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা সাংঘর্ষিক হয়, এমন কিছু উচ্চ আদালত গ্রহণ করেন না।

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে সুযোগের সমতা অংশের ১৯-এর (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।’ একইভাবে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা অংশের ২৯-এর (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সমতা থাকিবে।’ অনুচ্ছেদ (২)-এ বলা হয়েছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।’

অনুচ্ছেদ (৩)-এ ‘এই অনুচ্ছেদের কোন কিছু—(ক) নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করা হইতে, (খ) কোন ধর্মীয় বা উপ-সম্প্রদায়গত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মালম্বী বা উপ-সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধানসংবলিত যে কোন আইন কার্যকরা করা হইতে, (গ) যে শ্রেণীর কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তাহা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেইরূপ যে কোন শ্রেণীর নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হইতে, রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানে সব নাগরিকের সমতা নিশ্চিতের জন্য বলা হয়েছে। তিনি সংবিধানের ৭-এর (২) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন, কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত সংবিধানে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোটা যদি শূন্য হয়ে যায়, তাহলে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সমতা লাভের যে সুযোগ, সেটা থেকে তারা বঞ্চিত হতে পারে। কাজেই সংবিধানের সমতার ধারণার সঙ্গে কোটা পদ্ধতি বাতিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

সংবিধানের ৭-এর (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল হইবে।’

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর আমরা অপেক্ষা করছি বিষয়টি কোন দিকে যায়। সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের (উপজাতি) জন্য শতকরা ৫ ভাগ কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই অধিকার খর্ব অর্থাৎ যদি কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির মহাসচিব আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী গতকাল বলেন, এক শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীর দাবির মুখে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সব কোটা প্রথা বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের শতকরা ৩০ ভাগ কোটা বহাল করেন। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো আপত্তি নেই। শেষ পর্যন্ত এটা বাতিল করা হলে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’

বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিসিএসে মেধাতালিকা থেকে ৪৫ শতাংশ নিয়োগ হয়। বাকি ৫৫ শতাংশ আসে কোটা থেকে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য (ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনি) ৩০, মহিলা ১০, জেলা ১০ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (উপজাতি) ৫। এ ছাড়া এসব কোটা পূরণ না হলে সেখানে ১ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রতিবন্ধীদের জন্য। আর যদি সংশ্লিষ্ট চাকরির ক্ষেত্রে এসব প্রাধিকার কোটা পূরণ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে মেধাতালিকা থেকে প্রতিবন্ধীর কোটা পূরণ করা হয়। নন-ক্যাডার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও একই কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

এদিকে কোটা পদ্ধতি বাতিলের প্রতিবাদে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটি আজ শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ আহ্বান করেছে। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে গতকাল ঢাকার জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মা-বাবা মৃত্যুর ৪ বছর পর জন্ম নিল শিশু!

পৃথিবীতে প্রতিদিনই কিছু না কিছু আজব ঘটনা ঘটছে। এর কোনওটা কাকতালীয়, আবার কোনওটা চোখ ভড়কে যাওয়ার মতো। আবার এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর। সম্প্রতি চীনে এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হল মানুষ। গাড়ি দুর্ঘটনায় মা-বাবার মৃত্যুর চার বছর পর জন্মালো শিশু।

স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, চীনের জিয়াংশু প্রদেশের ইয়েশিংয়ে ২০১৩ সালের মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন শেন লি এবং লিউ শি নামের এক দম্পতি। কিন্তু মৃত্যুর আগে নিজেদের ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু আইভিএফ এর মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের জন্য সংগ্রহ করে রেখেছিলেন। আইভিএফ মানে হলো ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন, যে প্রক্রিয়ার ডিম্বাণু ও শুক্রাণু আলাদা করে সংগ্রহ করে বাইরে টেস্টটিউবের মাধ্যমে অথবা গর্ভ ভাড়া করে অন্য একজনের গর্ভে প্রতিস্থাপন করে সন্তান জন্মদান করা।

আইনি জটিলতার কারণে শিশুটি চীনের কোনো নারীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করতে পারেনি। তবে জন্মদান প্রক্রিয়াটির অনুমতি পাওয়ার জন্য দম্পতির পিতা-মাতাকে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন মামলা লড়তে হয়েছিল। মামলা লড়তে হয়েছিল কারণ চীনে এ সংক্রান্ত কোনও আইন এখনো চালু হয়নি। আর চীনে গর্ভ ভাড়া করা যেহেতু আইনত দণ্ডনীয়, তাই দম্পতির পিতামাতারা পার্শ্ববর্তী দেশ লাওস থেকে ২৭ বছর বয়স্ক এক নারীর গর্ভ ভাড়া নেন।

ছেলে সন্তানটির নাম রাখা হয়েছে শিয়ায়েনশিয়ান, মান্দারিন ভাষায় যেটার অর্থ মিষ্টি।

ছেলেটির জন্মের পর মৃত ওই দম্পতির পিতা-মাতা খুবই খুশী হন। ছেলেটির নানী হু শিংশিয়াং সংবাদমাধ্যমকে জানান, সে সবসময়ই হাসিমুখে থাকে। তার চোখ হয়েছে আমার মেয়ের মতো তবে দেখতে বাবার মতো হয়েছে। শিশুটি বড় হলে তার জন্মের এই ঘটনাটি জানাবেন বলে জানালো তার দাদা-দাদীরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ধর্ষকদের বিচার চেয়ে জনতার মিছিলে রাহুল গান্ধী

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী ও দলের সিনিয়র নেতারা ধর্ষকদের বিচার চেয়ে জনতার সঙ্গে মিছিলে অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের সেই মিছিলে হাজির ছিলেন রাহুলের অসুস্থ মা সোনিয়া গান্ধীও।

জম্মু ও কাশ্মীরে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার আসিফা (৮) ও বিজেপির আইনপ্রণেতার হাতে ধর্ষিত উন্নাওয়ের (১৬) জন্য বিচার চেয়ে দিল্লির ইন্ডিয়া গেট অভিমুখে মিছিলটি করা হয়।

রাহুল সন্ধ্যাতেই টুইট করে জানিয়েছিলেন, নারী নির্যাতন এবং নির্যাতিতাদের জন্য বিচার চেয়ে মধ্যরাতে মিছিল এগোবে ইন্ডিয়া গেটের দিকে। সময় মতোই শুরু হয়েছিল মিছিল। সেই মিছিলে নির্ভয়ার বাবা-মায়ের যোগ দেওয়া অন্য মাত্রা যোগ করে। মিছিলে ছিল ২০১২ সালের ডিসেম্বরে নির্ভয়া গণধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদের আবহ।

ধস্তাধস্তি করেও রাহুলদের মিছিল আটকাতে পারেনি পুলিশ। তাদের গড়া ব্যারিকেড ভেঙেই মিছিল পৌঁছে যায় ইন্ডিয়া গেটে।মিছিলে যোগদানকারীদের হাতের মোমবাতির আলোয় তখন উজ্জ্বল হয়ে উঠে গোটা চত্বর। আর সেখানেই রাস্তার উপর প্রতিবাদ জানিয়ে বসে পড়নে রাহুল। তার দেখাদেখি অন্যরাও।

রাহুলের নেতৃত্বে ক’দিন আগে কংগ্রেসের অনশনকে টেক্কা দিতে বিপুল প্রচার করে সরকার পক্ষ থেকে এ দিন পাল্টা অনশনে বসলেও সেটা তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি।

১০ জানুয়ারি বাড়ির পাশে ঘোড়া চরানোর সময় অপহৃত হয় আসিফা। শরীরে মাদক প্রবেশ করিয়ে তাকে গণধর্ষণ করা হয় যে দলে একজন পুলিশ অফিসারও ছিলেন। তিনি আসিফার হত্যাকারীকে একটু সময়ক্ষেপণের অনুরোধ করেছিলেন যাতে তিনি আরও একবার ধর্ষণ করতে পারেন।

আর ধর্ষণের শিকার উন্নওয়ের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্ণৌ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের একটি জেলার। তাকে ধর্ষণ করেন বিজেপি সাংসদ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাংসদকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। কেন গ্রেফতার করা হয়নি এমন প্রশ্নে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত করছে সিবিআই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বাঙালিদের ‘শুভ নববর্ষ’ জানালেন ট্রাম্প

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বাঙালিদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে দেশটির ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সেক্রেটারি জন জে সুলিভান এক বিবৃতিতে এ শুভেচ্ছা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে সব বাঙালিদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে বাংলাদেশ, ভারত এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে যারা একত্রিত হচ্ছেন তাদের জানাই শ্রদ্ধা।

মাতৃভাষায় যারা বাংলায় কথা বলেন পহেলা বৈশাখ তাদের সুন্দর শোভাযাত্রা, মেলা ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংষ্কৃতি উদযাপনের সুযোগ করে দেয়।

নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, জাতি এবং সংস্কৃতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটিকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া বাংলায় ‘শুভ নববর্ষ’ জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা শেষ করা হয়।

শনিবার বাংলা নতুন বছর শুরু হবে। দিনটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে দিনটি পালন করবে বাঙালিরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শরীরের হরেক সমস্যার সমাধান করবে ডাবের পানি

খাতায়-কলমে এখন এপ্রিল মাস। আর মাত্র একটি দিন পরেই বৈশাখ এসে পড়বে। তখন তো গরমের জ্বালায় ঘরবন্দী হয়ে থাকলে চলবে না। অফিস-বাজার সবই করতে হবে। আবার মোকাবিলাও করতে হবে গরমের।

গরম মোকাবিলায় সবচেয়ে উপকারী হল পানীয়। তার মধ্যেও সবচেয়ে উপকারী কচি ডাবের পানি। গরম সংক্রান্ত বেশিরভাগ অসুখও প্রতিরোধ করতে ডাবের পানির জুরি মেলা ভার। কী কী উপকার করে ডাবের পানি, দেখে নেওয়া যাক এক নজরে-

১। গরমে শরীর ডি-হাইড্রেট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এই সমস্যার সমাধান হবে ডাবের পানিতে। সোডিয়াম-পটাসিয়াম মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে ডাবের পানি।

২। ডাবের পানিতে থাকে ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশায়াম। যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

৩। ডায়বেটিক রোগীদর জন্য খুবই ভাল এই পানি। রক্তে চিনির পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এটি।

৪। প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে ডাবের পানিতে। ফলে তা খাবার হজম করতে সাহায্য করে।

৫। ডাবের পানিতে সুগার কনটেন্ট হয় খুব কম। এছাড়াও এতে প্রচুর ফাইবার থাকে। ফলে ওজন কমাতে সাহায্য করে ডাবের পানি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজ চৈত্র সংক্রান্তি

আজ চৈত্র সংক্রান্তি

কর্তৃক Daily Satkhira

আজ চৈত্র সংক্রান্তি। ঋতুরাজ বসন্তের বিদায়ের মধ্য দিয়েই বর্ষবিদায়ের আয়োজন শুরু হচ্ছে। চৈত্র সংক্রান্তি মানেই বাংলা বছরের বিদায়ের সুর। আর কোনও দেশে বোধহয় এত আয়োজন করে বছর বিদায় দেওয়া হয় না। গ্রাম-বাংলায় বর্ষ শুরুর মতোই গুরুত্ব দিয়ে আয়োজন করা হয় চৈত্র সংক্রান্তির। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ উৎসবের আয়োজনের জৌলুস কমেছে। বিবর্ণ হচ্ছে ঋতুরাজ বসন্ত বিদায়ের রঙ।

লোক সংস্কৃতির গবেষকদের মতে, চৈত্র সংক্রান্তি প্রধানত হিন্দু সম্প্রদায়ের শাস্ত্রীয় উৎসব, যা ক্রমেই লোক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে এই দিনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মকে পুণ্যজনক মনে করা হয়।

সংক্রান্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব চড়কপূজা ও গাজন। গাজন মূলত কৃষকদের উৎসব। চৈত্রের দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে বৃষ্টির জন্য চাষিরা পালার আয়োজন করে থাকেন। এটিই গাজন।

বলাই বাহুল্য, বাঙালির যে কোনও উৎসবের সঙ্গে খাওয়া দাওয়ার আচার ওতপ্রতোভাবে জড়িত। এই দিনেও তার ব্যতিক্রম হয় না। এই দিনের খাবার প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৪ রকমের শাক ও তিতা-মিঠা দিয়ে সংক্রান্তি আয়োজন করা হয়। এই ১৪ রকম শাক হতে হবে বাড়ির আশপাশে বেড়ে ওঠা নানাপদের শাক। গ্রামাঞ্চলের গৃহস্থরা বিশ্বাস করেন, এই ১৪ রকমের শাক-পাতা পাওয়ার বিষয়টি প্রাকৃতিকভাবে শুভ। এরমধ্য থেকে কোনও শাক না পাওয়া গেলে প্রকৃতির কোনও অসঙ্গতিতেই পাওয়া যায়নি বলে ধরে নেওয়া হয়। বলা হয়, এতে বেশি রোদ পড়তে পারে, অতিবৃষ্টি হতে পারে, যা কৃষির জন্য ক্ষতিকর। শাকপাতাই জানান দেবে আসন্ন প্রকৃতির রঙ।

চৈত্র সংক্রান্তির ইতিহাস নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন কবির বলেন, ‘ভারতবর্ষের ইতিহাসে কৃষি দেবতা হিসেবে বিবেচিত হন শিব। শিবের পূজা, শিবের অর্চনাই চৈত্র সংক্রান্তির মূল আয়োজন। ধীরে ধীরে শিব পূজা, চড়ক গাজন কমে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু সামাজিকভাবে কেন, পাঠ্যক্রমে চৈত্র সংক্রান্তি ও শিবের বিষয়টি উপেক্ষিত। যেখানে নাট্যকলার ইতিহাস হিসেবে আমরা গ্রিক নাট্য শিল্পের ইতিহাস, গ্রিসের কৃষি দেবতার ইতিহাস পড়ে আসছি, অথচ তার চেয়েও বহু পুরনো কৃষি দেবতা শিব। ভারতবর্ষে চৈত্র সংক্রান্তি উৎসবই গড়ে উঠেছে এই শিবের গাজন হিসেবে। সংক্রান্তিতে যে গাজন, পালা, গীত হয়ে থাকে এটিই বাংলা নাট্যসাহিত্যের মূল ভাণ্ডার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহুরে কর্পোরেট সংস্কৃতির চাপে সংক্রান্তির আয়োজন রঙ হারাচ্ছে।’

তবে এখনও বিশাল আয়োজন করে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা পালন করেন বিজু। বৈশাখের ঝড়ের পরেই জুম চাষ শুরুর প্রত্যাশা নিয়ে চৈত্রকে বিদায় দেন তারা। পানিতে ফুল ভাসিয়ে বিদায় দেন বসন্তকে, একইসঙ্গে বিদায় দেন পুরনো বছরকে। তেমনি সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরাও পালন করেন হুতুম পূজা, সংক্রান্তি পূজা।

সংক্রান্তির পালা, গাজন, চড়ক বা মেলাতে ঘাটতি পড়লেও তিতা-মিঠা খাওয়ার চল রয়েই গেছে। তিতকুটে নানা পদের শাকের ঝুড়ি ভাজা, সঙ্গে কাঁচা সরিষার ভর্তা, ধোয়া ওঠা লালচে আউশ  চালের ভাত আর শুকনো মরিচ ভাজা। চৈত্রের শেষদিন নাকি তিতকুটে আর ভর্তা খেতে হয়। এতে সমস্ত রোগ বালাই বৈশাখের প্রথম ঝড়ের সঙ্গে চলে যাবে–এমনটিই বিশ্বাস করা হয়। সঙ্গে থাকে কড়া আমের ডাল, কিংবা বড়ই দেওয়া ডাল।

বাংলা একাডেমির সহপরিচালক ও লোক গবেষক ড. সাইমন জাকারিয়া বলেন, ‘শহরে চৈত্র সংক্রান্তির জৌলুস না থাকলেও গ্রাম-বাংলায় এর ঘাটতি পড়েনি। যুগে যুগে বাংলার হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে সংক্রান্তি উৎসব পালন করে এসেছে। এখনও তাই হয়। গ্রামে গ্রামে সংক্রান্তির আয়োজন গত একমাস ধরেই শুরু হয়ে গেছে। গত একমাস ধরে ঢাকার খুব কাছের জেলা বিক্রমপুরে চৈত্র সংক্রান্তির মেলা হচ্ছে। একই জিনিস দেখা গেছে নরসিংদীতে। হচ্ছে মুখোশে ঢাকা হরগৌড়ি নাচ, বাইদান নাচের পালা। সব ধর্মের মানুষ নির্বিশেষে অংশ নিচ্ছে। হালখাতার শুরুটিও হচ্ছে এই সংক্রান্তিকেই ঘিরে। সংক্রান্তিতে হালখাতা শুরু হয়ে বৈশাখ বরণেও চলে।’

তবে আগে যেমন সংক্রান্তি ঘিরে দীর্ঘদিন মেলা হতো, ষাড়ের লড়াই, লাঠি খেলা হতো– সেসবে একটু ভাটা পড়েছে স্থানের অভাবে। এখন আর আগের মতো খোলা মাঠ পাওয়া যায় না, বা ধান কাটা শেষে ক্ষেত খালি পড়ে থাকে না। ১২ মাসই ধান চাষ হচ্ছে কিংবা ফসল বা অন্যান্য আয়োজনের ফলে সংক্রান্তি আয়োজনে একটু ঘাটতি পড়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জেলা পরিষদ সদস্যদের তোপের মুখে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেন দুর্নীতিবাজ মাহাবুব

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহাবুববর রহমান অবশেষে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। জেলা পরিষদের পুকুর ও খেয়াঘাট ডাকে অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতির প্রতিবাদে সদস্যদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার এক পর্যায়ে বৃহষ্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি পরিষদ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী শাহানা পারভিনের কাছে এ পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাড. শাহানাজ পারভিন মিলি জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মাহাবুবর রহমানকে বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনের পরদিন স্থানীয়রা অফিসে এসে লাঞ্ছিত করে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে আব্দুর রউফ কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জেলা পরিষদের টাকা খরচ করার অভিযোগে তদন্ত হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে নেমেছ দুদক। বদলি সংক্রান্ত হাইকোর্টের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে মাহাবুবর রহমান সুপ্রিম কোর্টে গেলে কোন সুবিধা করতে না পেরে আবারো বহাল থাকেন সাতক্ষীরা অফিসে। একপর্যায়ে বৃহষ্পতিবার দুপুর ২৯টি পুকুর ইজারা সংক্রান্ত টে-ার ও বিকেল চারটায় মাসিক মিটিং আহবান করেন মাহাববুর রহমান। শ্যামনগরের নওয়াবেকী খেয়াঘাট ইজারার নামে ছয় লাখ টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন খেয়াঘাট ও পুকুর ইজারা দেওয়ার নাম করে বহু টাকা নিয়ে তিনি তার ব্যক্তিগত খরচ করেছেন এমন বিষয় জানতে পেরে বৃহষ্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে সদস্যদের সঙ্গে তার বচসা হয়। এসময় তার উপর চড়াও হলে তিনি ক্ষমা চেয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে মাহাবুবর রহমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারীর কাছে তার ইস্তফা পত্র জমা দিয়ে চলে যান। তবে আগামী মাসিক সভায় আব্দুর রউফ কমপ্লেক্সে জেলা পরিষদের টাকা বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।
জানতে চাইলে জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবু মোবাইল ফোনে মাহাবুবর রহমানের ইস্তফার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, সদর উপজেলার মাটিয়াডাঙা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের ছেলে এস,এম মাহবুবুর রহমান ১৯৯০ সালের ২৯ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে ষাটলিপিকার (টাইপিষ্ট) হিসাবে অস্থায়ী নিয়োগ পান। পরবর্তীতে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে একই অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পেলে তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০০১ সালের ২৬ জুন পঞ্চগড় জেলা পরিষদে বদলী করেন। হাইকোর্টে বদলী আদেশ স্থগিত হলেও পরবর্তীতে তিনি প্রত্যাহার করে নেন।
২০০৫ সালের ১৪ জুন তাকে জামালপুর জেলা পরিষদে বদলী করলে তার যোগদানপত্র গৃহীত হয়নি। অপরদিকে গত ২০০৫ সালের ১৯ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলার চার জন সংসদ সদস্য এস, এম মাহবুবের বিরুদ্ধে শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ৬৪টি গৃহ বন্দোবস্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্ধ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, জেলার বিভিন্ন খেয়াঘাট লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে পূর্ববর্তী ডাকের চেয়ে কম ডাকে ইজারা দেওয়া, নিজের এলাকার ও নিজ আত্মীয় স্বজনদের জেলা পরিষদে চাকুরি দিয়ে সি-িকেটের মাধ্যমে গডফাদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ, একজন নিম্নমানের কর্মকর্তা হয়েও প্রধান নির্বাহীর মত উচ্চ মানের কর্মকর্তাকে হয়রানি ও হেনস্তার মধ্য দিয়ে বদলী করার কথা তুলে ধরে স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেন।
সাংসদরা আরো উল্লেখ করেন যে, অনেকগুলো অভিযোগকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জসিমউদ্দিন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এক প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। ডিও লেটারে মাহাবুবর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা তার বিরুদ্ধে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে তদন্ত করার জন্য দাবি জানানো হয়। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ২০০৫ সালের ১৪ জুন বদলি আদেশ চ্যালেঞ্জ ও একই বছরের ১৯ আগস্ট চার সাংসদের উদ্দেশ্য প্রণোদিত ডিও লেটারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাহবুবর রহমান হাইকোর্টে -৬৯১৭/২০০৫ নং রিট পিটিশন দায়ের করেন। সেখানে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ভুইয়া মোঃ আতাউর রহমানের ২০০৩ সালের ১৭ জুনের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে সাতক্ষীরা জেলা ন্যাপ এর সাধারণ সম্পাদক কাজী সাঈদুর রহমানের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর আদালত শুনানীন্তে উক্ত আদেশের উপর রুল জারী করেন এবং বদলী আদেশ স্থগিত করেন। স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় পরবর্তীতে তিনি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ থেকে তাহার বেতন ভাতা এবং রীট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চাকুরীতে যাহাতে স্থিতিবস্থা বজায় থাকে সে জন্য তিনি ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর একটি আবেদনপত্র দাখিল করেন এবং তা’ মঞ্জুর হয়। যাহা পরবর্তীতে খারিজ হয়ে যায়।
এদিকে বদলী সংক্রান্ত একটি রীট পিটিশনের কার্যক্রম চালু থাকার পরও ২০০১ সালের ৮ মে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস,এম মাহবুবুর রহমানকে বগুড়া জেলা পরিষদে বদলী করেন। একটি বদলীর আদেশের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের কার্যক্রম চালু থাকার পরও নতুন করে দেওয়া বদলি আদেশেকে চ্যালেঞ্জ করে এসএম মাহবুবর রহমান বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবহিত না করে পুনরায় ৭৩৩৩/২০১৬ নং রিট পিটিশন দায়ের করেন। যা’ ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই খারিজ হয়ে যায়।
এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১৮ আগষ্ট ‘গৃহ নির্মাণের তালিকা তৈরিতে দুর্নীতির অভিযোগ’ অনিয়ম সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে জলবায়ু ট্রাস্ট ফা-ের আওতায় গৃহণির্মাণের তালিকা তৈরিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট জেলা পরিষদের আওতাধীন এডিবি ও নিজস্ব অর্থায়নে মন্দির, মাদ্রাসা, স্কল ভবনসহ জেলায় এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি প্রতিষ্ঠান তৈরির জন্য উৎকোচের মাধ্যমে দরপত্র দলিল আহবানের ক্ষেত্রে তঞ্চকতা করেছেন মাহাবুবর রহমান। ফলে হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া দু’ শতাধিক ঠিকাদার দরপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি।
এ ব্যাপারে এসএম মাহাবুবর রহমানের কাছে বৃহষ্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জানতে চাইলে তার ০১৭১১-৩৫২৭২০ মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest