সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন  সাতক্ষীরায় মাদক বিরোধী সাইকেল র‌্যালিসাতক্ষীরায় ৩ শতাধিক দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বিএনপির বিনামূল্যে সবজি বিতরণবল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধনশাখরা কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি গঠনসাতক্ষীরাবাসীকে ধর্মান্ধ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ : ডিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশকালীগঞ্জে তাঁতীদলের বিক্ষোভ মিছিলহাওয়ালখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ম্যানেজিং কমিটি গঠনসাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের নিয়ে পিআইবির তিনদিনব্যাপি প্রশিক্ষণ শুরুনিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ কর্মীদের প্রতিহত করতে সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের মোটর সাইকেল শোডাউন

তরমুজ বেশি খেলে যে সমস্যা হয়

এই গরমে ঠান্ডা ঠান্ডা তরমুজ খেতে কে না ভালোবাসে! রসালো এই রঙিন ফলটি সবার কাছেই প্রিয়। তরমুজে রয়েছে ৯২ শতাংশ জলীয় উপাদান যা শরীরের প্রয়োজনীয় জলের চাহিদা পূরণ করে। ফাইবার সমৃদ্ধ তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, বি৬, সি, এবং খনিজ উপাদান পটাসিয়াম যা রোগ প্রতিরোধ করে, ওজন কমাতেও সাহায্য করে। কিন্তু এই তরমুজই বেশি খেতে গেলে কিন্তু হতে পারে বিপদ। ডিহাড্রেশন কাটাতে গিয়ে আরও নানা সমস্যা থাবা বসাবে শরীরে। চলুন জেনে নেয়া যাক-

তরমুজে রয়েছে ফাইবার। তাই অতিরিক্ত তরমুজ খেলে ডায়রিয়াসহ পেটের নানা রোগ দেখা দিতে পারে। এতে রয়েছে সরবিটল (সুগার কমপাউন্ড) যার ফলে অম্বল, বদহজমের মতো সমস্যা হতে পারে।

অতিরিক্ত তরমুজ খেলে শরীরে জলীয় উপাদান অনেক বেড়ে যায়। ‘ওভার-হাইড্রেশন’-এর ফলে কিডনির নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীরও অনেক দুর্বল হয়ে যায়।

তরমুজে থাকে প্রচুর পরিমাণ পটাসিয়াম। এই খনিজ উপাদান আমাদের হার্ট ভালো রাখে, পেশী শক্তি বাড়ায়, হাড়ের গঠন মজবুত করে। কিন্তু, অতিরিক্ত পটাসিয়াম শরীরে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে, পালস রেট কমে যায়।

লাইকোপিন নামক রাসায়নিকের কারণে তরমুজের রং উজ্জ্বল ও গাঢ় হয়। লাইকোপিন এক প্রকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা অধিক মাত্রায় শরীরে গেলে পেটের নানা সমস্যা হতে পারে। হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তরমুজে শর্করার পরিমাণ খুব বেশি। তাই প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে তরমুজ খেলে ডায়বিটিস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে ক্যালোরির পরিমাণ ৩০ ও শর্করার পরিমাণ প্রায় ৬ গ্রাম। একদিনে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত তরমুজ হজম করা সম্ভব, কারণ এতে শরীরে ঢোকে ১৫০ ক্যালোরি। কিন্তু, এর থেকে বেশি তরমুজ খেলে সেটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গত বছরের চেয়ে খাদ্যশস্যের মজুদ এবার দ্বিগুণ

বর্তমানে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এখন সরকারি গুদামে মোট চাল ও গমের মজুদ ১১ লাখ ৫০ হাজার টন। গত বছর এই সময়ে মজুদ ছিল ৫ লাখ ১৩ লাখ টন।

সরকারি মজুদ সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে গত বছর চালের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলেছিল অসাধু ব্যবসায়ীরা। সরকারের নানান উদ্যোগ ও মজুদ বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক মাস ধরে চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, বর্তমান সাড়ে ১১ লাখ টন মজুদের মধ্যে চাল ৮ লাখ ২১ লাখ টন এবং গম ৩ লাখ ২৯ লাখ টন। এছাড়া বন্দরে ভাসমান অবস্থায় প্রায় ৫০ হাজার টন চাল ও গম রয়েছে।

গত বছর এই সময়ে মোট মজুদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ লাখ ১৩ হাজার ২৩ টন। এর মধ্যে চাল ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ৮ টন ও গম ছিল এক লাখ ৯৩ হাজার ১৫ টন।

খাদ্য অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত বছর মূলত অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে বোরো সংগ্রহের ব্যর্থতার কারণে সরকারি মজুদ তলানিতে গিয়ে দাঁড়ায়। তাই এবার আমন সংগ্রহের সময় সতর্ক ছিল সরকার। আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ হয়েছে।

গত ৭ মার্চ আমন সংগ্রহ কার্যক্রম শেষ হয়। এই সময়ে ৬ লাখ ১ হাজার ৯৮৪ টন আমন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া গত ৮ এপ্রিল খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় বোরোতে ৮ লাখ টন সিদ্ধ চাল, এক লাখ টন আতপ চাল এবং দেড় লাখ টন বোরো ধান (দেড় লাখ টন ধানে ১ লাখ টন চাল পাওয়া যাবে) সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ৩৮ টাকা কেজি দরে চাল এবং ২৬ টাকায় এই ধান কেনা হবে।

গত ২ মে থেকে বোরো সংগ্রহ শুরু হয়েছে, আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তা চলবে বলে খাদ্য অধিদফতর থেকে জানা গেছে।

সরকারি বাণিজ্য সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর শুক্রবারের হিসাব অনুযায়ী, বাজারে মোটা চালের কেজি ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিখোঁজ বিমান খুঁজতে গিয়ে জাহাজের সন্ধান!

মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান এমএইচ ৩৭০ অনুসন্ধানে উনিশ শতকের এক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলেও পাওয়া যায়নি বিমানটি। তবে খোঁজ মিলেছে নিখোঁজ ‍দুটি জাহাজের।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া থেকে ২৩০০ কিলোমিটার দূরে এই দুটি জাহাজের সন্ধান পাওয়া যায়। ভারত মহাসাগরে ২০১৫ সালে চীন ও অস্ট্রেলিয়ার যৌথ অভিযানে এই দুটি জাহাজের সন্ধান মিলে। তবে এতোদিন তা প্রকাশ করা হয়নি। চার বছর আগে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে অজ্ঞাত স্থানে বিধ্বস্ত নিখোঁজ হয়েছিল এমএইচ৩৭০ বিমানটি। দুটি জাহাজের মধ্যে একটির সন্ধান মিলে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে।

মেরিটাইম আর্কিওলোজির কিউরেটর ড. রস অ্যান্ডারসন জানিয়েছেন, সন্ধান পাওয়া এই জাহাজ ওয়েস্ট রাইজ (নিখোঁজ ১৮৮৩ সালে), কুরিঙ্গা (নিখোঁজ ১৮৯৪ সালে) ও লেক ওনতারিও (নিখোঁজ ১৮৯৭ সালে) এই তিনটি জাহাজের যে কোনো একটি হতে পারে। এর মধ্যে ওয়েস্ট রিজ ২৮ জন নাবিকসহ সাগরতলে ডুবে গিয়েছিল। বৈরি আবহাওয়ার কারণে ১০০০ থেকে ১৫০০ টন কয়লাসহ জাহাজটি অন্তত চার কিলোমিটার নিচে তলিয়ে যায়।

অপর জাহাজটির সন্ধান মিলে ২০১৫ সালের মার্চে। যেটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চল থেকে ৩৬ কিলোমিটার দূরে। ড. অ্যান্ডারসন মনে করছেন, এই জাহাজটি স্কটল্যান্ড থেকে অস্ট্রেলিয়াগামী ডব্লিউ গর্ডন বা ওয়েলস থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী মাগডালা। এসব জাহাজে ১৫ থেকে ৩০ জন করে নাবিক ছিল।

এসব জাহাজ শনাক্তের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র গবেষকরা সোনার প্রযুক্তিতে সমুদ্রতলে নেওয়া জাহাজের ছবি এবং জাহাজ চলাচলের পুরনো তথ্য ব্যবহার করেছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন এ এইচ মাহমুদ আলী

ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। আগামী এক বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আইভরিকোস্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কেল এমন এর স্থলাভিষিক্ত হলেন।

আজ শনিবার সকালে শুরু হওয়া ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫ তম সম্মেলনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য— ‘টেকসই শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নে ইসলামিক মূল্যবোধ’।

ওআইসিভুক্ত ৫৭টি দেশের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনে (সিএফএম) যোগ দিয়েছেন। এবারের সিএফএম সম্মেলনে সব রাষ্ট্র, পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র, ওআইসি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানসহ ছয় শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৪০ জন মন্ত্রী ও সহকারী মন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড, রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল লিওনিদোভিচ বাগানোভওসহ সংস্থার সদস্যরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পিএলও-র নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মাহমুদ আব্বাস

ফিলিস্তিনিদের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-র নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মাহমুদ আব্বাস।

শুক্রবার পিএলওর নির্বাহী কমিটির সদস্যরা আলোচনার ভিত্তিতে মাহমুদ আব্বাসকে কমিটির প্রধান নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের জবাবে আব্বাসের নেওয়া কৌশলই তাকে নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়া আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াসের আবেদ রাব্বো এবং সাবেক প্যালেস্টিনিয়ান কর্তৃপক্ষের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ কুরেয়িকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অবশেষে জয় পেল মুস্তাফিজের মুম্বাই

কিংসদের হারিয়ে নাইটদের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে নামবে রোহিত অ্যান্ড কোং। শুক্রবার হোলকার স্টেডিয়ামে কিংস ইলেভেনের বিরুদ্ধে ১৭৫ রান তাড়া করতে নেমে ছয় উইকেট ম্যাচ জিতে নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

মুম্বাইয়ের জয়ে বড় ভূমিকা নেয় পান্ডিয়া। প্রথমে হার্দিকের ১৩ বলে ২৩ পরে কুণালের ১২ বলে অপরাজিত ৩১ রানের দুরন্ত ইনিংসে একাদশ আইপিএলে লড়াই জারি রাখল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। এর জয়ের ফলে এক লাফে আট থেকে পাঁচ নম্বরে উঠে এল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

রান তাড়া করতে গিয়ে শুরুটা ভালো হয়নি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সেরও। মন্থর পিচে পাওয়ার প্লে-তে লুইসের উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৯ রান তোলে মুম্বাই। তারপর সুর্যকুমার যাদব দুরন্ত হাফ-সেঞ্চুরিতে লড়াইয়ে ফেরে রোহিত অ্যান্ড কোং। কিন্তু হাফ-সেঞ্চুরির পর ডাগ-আউটে ফেরেন সূর্যকুমার। ৪২ বলে তিনটি ছয় ও হাফ-ডজন বাউন্ডারি-সহ ৫৭ রান করেন তিনি। এরপর ইশান কিষান (১৯ বলে ২৫) এবং হার্দিক পান্ডিয়া ১৩ বলে ২৩ রানের ইনিংসে রান ও বলের ব্যবধান কমায় মুম্বাই।

এরপর ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা ও কুনাল পান্ডিয়া দলকে বৈতরণী পার করানোর সংকল্প নেয়। রোহিত শান্ত থাকলেও কুণানের ১২ বলে ৩১ রানের ইনিংসে এক ওভার বাকি থাকতেই ম্যাচ পকেটে পুরে নেয় মুম্বাই। দুটি ছক্কা ও চারটি চার মারেন কুণাল। স্ট্রাইক-রেট ২৫৮.৩৩। ১৫ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন রোহিত।

প্রথমে ব্যাটিং করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সামনে ১৭৫ রানে টার্গেট রাখল প্রীতির পঞ্জাব। শেষ ওভারে মার্কাস স্টইনিসের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে বড় রান তুলল কিংস ইলেভেন। ইনিংসের শেষ ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার বিরুদ্ধে দুটি ছয় ও দু’টি চার হাঁকিয়ে ২২ রান তোলেন স্টইনিস৷

এদিন শুরুতে অবশ্য চেনা ছন্দে দেখা যায়নি কিংস ওপেনিং জুটিকে৷ ২০ বলে ২৪ রান করে ডাগ-আউটে ফেরেন লোকেশ রাহুল৷ শুরুতে শান্ত ছিলেন ক্যারিবিয়ান দৈত্য৷ পাওয়ার প্লে (প্রথম ৬ ওভার) মাত্র ৪৯ রান তোলে পঞ্জাব। তার পরের ওভারেই আউট হন রাহুল।

‘গেইল ঝড়’ উঠলে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। হাফ-সেঞ্চুরির পরই ডাগ-আউটে ফেরেন গেইল। ৪০ বলে দু’টি ছয় ও ছ’টি বাউন্ডারি-সহ ৫০ রান করেন বাঁ-হাতি ওপেনার।

এর পর থেকে নিয়মিত উইকেট হারানোয় চাপে পড়ে যায় কিংস ব্যাটিং। চূড়ান্ত ব্যর্থ যুবরাজ সিং। এদিন মাত্র ১৪ রান করে রান-আউট হন বাঁ-হাতি। চলতি আইপিএলে যুবির সর্বোচ্চ স্কোর ২০। শেষ দিকে করুণ নায়ার ও স্টইনিসের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দেড়শোর গণ্ডি টপকায় পাঞ্জাব। শুধু তাই নয়, শেষ ওভার ২২ রান তুলে মুম্বইকে কঠিন চ্যালেঞ্জ দেয় প্রীতির সৈন্যরা। ১৫ মাত্র ২টি ছয় ও ২টি চার-সহ ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন স্টইনিস৷ আর ১২ বলে ডাবল ছক্কায় ২৩ রান করেন নায়ার।

এই জয়ের ফলে ৯ ম্যাচে তিনটিতে জয় পেল মুম্বাই। আগের ম্যাচে চিন্নাস্বামীতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে হেরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল রোহিতদের। এদিন তাই জয় ছাড়াই কিছু ভাবেনি রোহিতবিগ্রেড।

শেষ পর্যন্ত কিংসদের হারিয়ে লড়াইয়ে ফিরল মুম্বাই। কিংসদের হারিয়ে বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে রবিবার ওয়াংখেড়েয় কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে নামবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাহাড়ের ৬ হত্যায় মামলা হয়নি

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের সামনে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) এর আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমাসহ ৫ জন।

পাহাড়ি দুই আঞ্চলিক দলের এই শীর্ষস্থানীয় দুই নেতাসহ ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির।

তিনি বলেন, রাঙ্গামাটির বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নানিয়ারচর উপজেলায় আঞ্চলিক দুইটি দলের শীর্ষ দুই নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তাই আমরা সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করেছি। এ দুই নেতা হত্যায় এখনও পর্যন্ত তাদের পরিবার কিংবা নিজ দলের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। তবে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

এদিকে পাহাড়ে এ দুই আঞ্চলিক দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাকে হত্যার অভিযোগে ইউপিডিএফকে (প্রসিত) দায়ী করছেন সংগঠন দুইটির নেতরা। তবে এ অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ইউপিডিএফের (প্রসিত) শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে থাকা লিটন চাকমা বলেন, শক্তিমান চাকমাকে হত্যার পর তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাকে হত্যার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে একক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ইউপিডিএফ (প্রসিত) একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে।

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) শীর্ষ নেতা সুদর্শন চাকমা বলেন, আগে থেকেই আমাদের দলের শীর্ষ নেতা শক্তিমান চাকমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে ইউপিডিএফের (প্রসিত) সন্ত্রাসীরা। তারা পাহাড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অবাহ্যত রাখার জন্য মূলত এমন হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে।

অপরদিকে তাদের এই অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট মন্তব্য করে ইউপিডিএফের (প্রসিত) অন্যতম সংগঠক মাইকেল চাকমা বলেন, আমরা মানুষ হত্যায় বিশ্বাসী নয়। কোনো মানুষ এভাবে মৃত্যুবরণ করুক এটা আমাদের কাম্য নয়। এ সকল ঘটনার সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি আরও বলেন, তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মার কোনো দল নেই। সে একজন সন্ত্রাসী। সন্ত্রসী হওয়ার ফলে তার অনেক শত্রু থাকতে পারে। তারাই এমন কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমাদের ধারণা।

অন্যদিকে নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা হত্যার ঘটনাকে তাদের নিজ দলের কাজ বলে মন্তব্য করে মাইকেল চাকমা বলেন, শক্তিমানের অনেক আগে থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিলো। যার প্রমাণ আমরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের মধ্যে পেয়েছি। আমরা শুনতে পেয়েছি বেশ কয়েকদিন আগে এক ইউপি সভায় দলবল নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার কথা ভাবছিলেন শক্তিমান। নিজ দলের ক্ষতি কেউ চাই না। সেজন্য তারা নিজেরা এমন কর্মকাণ্ড করতে পারে বলে আমি মনে করি।

এছাড়া আঞ্চলিক রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে তারা কথা বলছে বলেও মন্তব্য করেন এই শীর্ষস্থানীয় নেতা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কার্ল মার্কস ও মার্কসবাদের প্রাসঙ্গিকতা

‘‘১৪ই মার্চ বেলা পৌনে তিনটায় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ চিন্তানায়ক চিন্তা থেকে বিরত হয়েছেন। মাত্র মিনিট দুয়েকের জন্য তাঁকে একা রেখে যাওয়া হয়েছিল। আমরা ফিরে এসে দেখলাম যে তিনি তাঁর আরাম কেদারায় শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছেন কিন্তু ঘুমিয়েছেন চিরকালের জন্য।’’

এই মানুষটির মৃত্যু ইতিহাস বিজ্ঞানের অপূরণীয় ক্ষতি বলে এঙ্গেলস বর্ণনা করেছিলেন। কেন? তার উত্তরে এঙ্গেলস উক্ত বক্তৃতায় বলেছিলেন-‘‘ডারউইন যেমন জৈব প্রকৃতির বিকাশের নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন তেমনি মার্কস আবিষ্কার করেছেন মানুষের ইতিহাসের বিকাশের নিয়ম, মতাদর্শের অতি নিচে এতদিন লুকিয়ে রাখা এই সহজ সত্য যে, রাজনীতি, বিজ্ঞান, কলা, ধর্ম ইত্যাদি চর্চা করতে পারার আগে মানুষের প্রথমে চাই খাদ্য, পানীয়, আশ্রয়, পরিচ্ছদ। সুতরাং প্রাণধারণের আশু বাস্তব উপকরণের উৎপাদন এবং সেইহেতু কোনো নির্দিষ্ট জাতির বা নির্দিষ্ট যুগের অর্থনৈতিক বিকাশের মাত্রাই হলো সেই ভিত্তি যার ওপর গড়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট জাতির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইনের ধ্যানধারণা, শিল্পকলা, এমনকি তাদের ধর্মীয় ভাবধারা পর্যন্ত এবং সেই দিক থেকেই এগুলির ব্যাখ্যা করতে হবে, এতদিন যা করা হয়েছে সেভাবে উলটো দিক থেকে নয়।’’

১৮৮৩ সালের ১৭ই মার্চ কার্ল মার্কেসর মৃত্যুর ৩দিন পর লন্ডনের হাইগেট সমাধিক্ষেত্রে তাঁর সমগ্র জীবনের বন্ধু ও সহযোদ্ধা ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস বক্তৃতায় উপরোক্ত কথাগুলি বলেছিলেন।

বিগত প্রায় ১৬৯ বছর ধরে সমগ্র পৃথিবীতে মানব চিন্তন প্রক্রিয়াকে সর্বাধিক প্রভাবিত করেছেন যিনি তিনি হলেন কার্ল মার্কস। ১৮১৮ সালের ৫ মে অধুনা জার্মানিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এই বছর সমগ্র দুনিয়ার শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রামরত সমস্ত মানুষ কার্ল মার্কসের দ্বিশততম জন্মদিবস পালন করছেন।

মার্কসের জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

১৮১৮ সালের ৫ই মে প্রুশিয়ার ট্রিয়ের শহরে কার্ল মার্কস জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন ইহুদি। তিনি ছিলেন আইনজীবী।

ট্রিয়ের শহরে শিক্ষালাভের পর মার্কস প্রথমে ‘বন’ পরে ‘বার্লিন’ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন, ইতিহাস ও দর্শন — পড়াশোনা করেন। ১৮৪১ সালে মার্কসের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ হলে ‘এপিকিউরাসের’ দর্শন সম্বন্ধে তিনি একটি ‘থিসিস’ রচনা করেন। এই সময়ে মার্কস হেগেলের মতবাদের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন এবং ‘বামপন্থী হেগেলীয়’ চক্রের সদস্য ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষে মার্কস ‘বন’-এ এলেন অধ্যাপক হওয়ার আশায়। কিন্তু সরকার যেমন আগে ফয়েরবাখ ও ব্রুনোকে অধ্যাপনার অনুমতি দেয়নি, তেমন মার্কসকেও দিলো না। বস্তুবাদের প্রবক্তা ফয়েরবাখের “Principles of Philosophy of the Future” প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কসসহ ‘বামপন্থী হেগেলীয়রা’ ফয়েরবাখের মতবাদের সমর্থক হন। সেই সময় কোলনে যে পত্রিকাটি (Rheinische Zeitung) প্রকাশিত হতো, মার্কস তাতে লিখতে লাগলেন। ১৮৪২-এ মার্কস সে পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হলেন। মার্কসের সম্পাদনায় এই পত্রিকার বিপ্লবী গণতান্ত্রিক ঝোঁক ক্রমশ পরিস্ফুট হতে থাকলে, সরকার এই পত্রিকাটির প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। তখন মার্কস সম্পাদকের দায়িত্ব ত্যাগ করেন।

১৮৪৩ সালে মার্কস জেনিকে বিবাহ করেন। ১৮৪৩ সালের শরৎকালে তিনি প্যারিসে যান একটি পত্রিকা প্রকাশের জন্য। একজন ‘‘বামপন্থী হেগেলীয়’’ আর্নল্ড রির্ডজের সাহায্যে এখান থেকে মার্কস যে পত্রিকাটি প্রকাশ করেন, তার মাত্র একটি সংখ্যাই বেরোয়। কারণ সেগুলি জার্মানিতে গোপনে প্রচার করা অসম্ভব হয়ে ওঠে এবং রির্ডজের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য দেখা দেয়।

১৮৪৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস প্যারিসে আসেন এবং তখন থেকেই মার্কসের সঙ্গে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁরা দুজনে প্যারিসে তদানীন্তন বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সমাজতন্ত্রবাদের নামে যে সব ভুয়ো মতবাদ তখন প্রচলিত ছিল, তার বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত হন। তাঁরা দুজনে তখনই সর্বহারার বিপ্লবী সমাজতন্ত্রবাদের তত্ত্ব ও কৌশল রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।

প্রুশিয়ার সরকারের চাপে ১৮৪৫ সালে মার্কসকে বিপজ্জনক বিপ্লবী এই অজুহাতে প্যারিস থেকে নির্বাসিত করা হয়। তিনি ব্রাসেলসে যান। ১৮৪৭ সালে মার্কস ও এঙ্গেলস ‘কমিউনিস্ট লিগ’ নামে একটি গোপন দলে যোগদান করেন। ১৮৪৭ সালেই ঐ সংগঠনের দ্বিতীয় কংগ্রেস হয় লন্ডনে। সেই কংগ্রেসে মার্কস ও এঙ্গেলসের বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল। এই কংগ্রেসের অনুরোধে তাঁরা ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ রচনা করেন, যা ১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। তাঁদের এই সৃষ্টি এক নতুন চিন্তা, এক নতুন পথের নিশানা সকলের সামনে তুলে ধরে। অসীম প্রতিভাবান এই দুই পুরুষের কাছ থেকে মানুষ পেল : জগত সম্পর্কে এক নতুন ধারণা, বস্তুবাদ সম্পর্কে সঠিক ব্যাখ্যা, সমাজজীবনে বস্তুবাদের প্রয়োগ তত্ত্ব, বিকাশের বৈজ্ঞানিক দ্বন্দ্ব তত্ত্ব, শ্রেণী সংগ্রামের তত্ত্ব এবং সর্বহারার সাম্যবাদী সমাজের গ্রষ্টারূপে ঐতিহাসিক বৈপ্লবিক ভূমিকা।

১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিপ্লবের সূচনাতেই মার্কসকে বেলজিয়াম থেকে নির্বাসিত করা হলো। তিনি প্যারিসে এলেন, তারপর জার্মানির কোলনে গেলেন। সেখানে ‘নিউ জাইটুং’ পত্রিকা তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হলো। মার্কসের নতুন তত্ত্বের সত্যতা নির্ধারিত হলো – ১৮৪৮-৪৯ সালে ইউরোপের বৈপ্লবিক ঘটনাবলীর দ্বারা। প্রতিবিপ্লবীরা শঙ্কিত হলো। তারা প্রথমে মার্কসকে আদালতে হাজির করালো। কিন্তু আদালত মুক্তি দিলে, ১৮৪৯-এর ১৬ই মে জার্মানি থেকে তাঁকে নির্বাসন দেওয়া হলো। প্রথমে মার্কস প্যারিসে গেলেন, সেখানে থেকেও নির্বাসিত হলেন। তারপর গেলেন লন্ডনে। তখন থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত লন্ডনেই তিনি ছিলেন।

মার্কসের রাজনৈতিক নির্বাসিত জীবন খুবই কষ্টকর ছিল। মার্কস এবং তাঁর পরিবারবর্গকে নিদারুণ দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাতে হতো। এঙ্গেলস যদি এই সময়ে মার্কসকে নিয়মিত নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য না করতেন, তাহলে মার্কস শুধু ‘ক্যাপিটাল’ রচনা শেষ করতে পারতেন না, তাই নয়, তাঁকে অভাব-অনটনের মধ্যে ভেঙে পড়তে হতো। মার্কস এই সময়ে তাঁর বস্তুবাদী তত্ত্বের আরও বিকাশ সাধন করেন এবং অনেকগুলি অমূল্য রচনায় ও অর্থনীতি বিষয়ে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। যার ফলে তৈরি হয় : A Contribution to the Critique of Political Economy (১৮৫৯) এবং ক্যাপিটাল, ১ম খন্ড (১৮৬৭)।

পঞ্চম ও ষষ্ঠ দশকে ইউরোপে গণতান্ত্রিক আন্দোলন মাথা তোলে। মার্কস আন্দোলনের কাজে নিজেকে নিয়োগ করেন। ১৮৬৪ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর লন্ডনে International Working men’s Association গঠিত হয়। এটিই হলো প্রথম আন্তর্জাতিক। মার্কসই ছিলেন এই সংগঠনের প্রাণপুরুষ। এই আন্তর্জাতিক সংগঠনের বহু ঘোষণা, প্রস্তাব, ম্যানিফেস্টো প্রভৃতি মার্কসেরই রচনা। এই সময়ে মার্কস যেমন বিভিন্ন দেশের শ্রমিকশ্রেণীর সংগ্রামগুলিকে একই ধরনের কৌশলের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করার প্রাণপণ চেষ্টা করেন, তেমনই ভুল, অবৈজ্ঞানিক মতবাদগুলির বিরুদ্ধেও নিরবচ্ছিন্ন লড়াই চালান। ‘প্যারি কমিউনে’র পতনের পর (১৮৭১) মার্কস তাঁর বিখ্যাত রচনা The Civil War in France প্রকাশ করেন। ১৮৭২ সালে হেগ কংগ্রেসের পর প্রথম আন্তর্জাতিক ‘জেনারেল কাউন্সিল’ নিউইয়র্কে স্থানান্তরিত হয়। মার্কসের নেতৃত্বে এই প্রথম আন্তর্জাতিক এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। এই আন্তর্জাতিক পৃথিবীর সকল দেশের শ্রমিক আন্দোলনে আরও অগ্রগতির পথ রচনা করে। এই আন্তর্জাতিক এমন একটি যুগের সূচনা করে, যে যুগে গণ-সমাজতন্ত্রবাদী দল প্রতিষ্ঠার পথে বিভিন্ন দেশের শ্রমিকশ্রেণী অনেকদূর এগিয়ে যায়। প্রথম আন্তর্জাতিকের এই অবদান অবিস্মরণীয়।

‘আন্তর্জাতিক’-এর জন্য কঠোর পরিশ্রম এবং তত্ত্বগত গবেষণার কাজে অধিকতর কঠোর পরিশ্রমের ফলে মার্কসের স্বাস্থ্য এই সময়ে ভেঙে পড়ে। ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়েও ক্যাপিটালের পরবর্তী খন্ডগুলি সমাপ্ত করার জন্য তিনি এই সময় বিভিন্ন দেশের প্রভূত তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সেগুলি পড়বার জন্য অনেকগুলি ভাষা শিক্ষা করেন। কিন্তু তাঁর জীর্ণ স্বাস্থ্য শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্যাপিটাল সমাপ্ত করতে দেয় না।

১৮৮১ সালের ২রা ডিসেম্বর তাঁর স্ত্রী মারা যান। আর ১৮৮৩ সালের ১৪ই মার্চ তাঁকে তাঁর প্রিয় আরাম-কেদারায় চিরনিদ্রায় শায়িত দেখা যায়।

প্রকৃত সমাজবিজ্ঞানী

মানব সমাজের বিকাশধারাকে বিজ্ঞানের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করার কাজ প্রথম করলেন কার্ল মার্কস। ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের সঙ্গে একযোগে তিনি সমাজের বিকাশধারার চর্চাকে বিজ্ঞানে রূপান্তরিত করলেন। সমাজ সম্পর্কিত রূঢ় নির্মম সত্যগুলিকে আড়াল থেকে প্রকাশ্যে আনলেন কার্ল মার্কস, সেইদিক দিয়ে তিনি ছিলেন প্রথম প্রকৃত অর্থে সমাজবিজ্ঞানী। কমরেড লেনিনের কথায়, ‘‘মানব সমাজের অগ্রণী ভাবনায় যেসব জিজ্ঞাসা আগেই দেখা দিয়েছিল মার্কস তারই জবাব দিয়েছেন।’’

তিনটি উৎসকে ভিত্তি করে মতবাদ প্রতিষ্ঠা করলেন

অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীতে দর্শনের ক্ষেত্রে যে বিপুল অগ্রগতি ঘটেছিল মার্কস ও এঙ্গেলস তাকে আত্মস্থ করেছিলেন। জার্মান চিরায়ত দর্শন বিশেষ করে হেগেলীয় তত্ত্ব ও ফয়েরবাখের বস্তুবাদ মতবাদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উৎসের ভূমিকা পালন করেছে। জার্মান দর্শন প্রধানত হেগেলের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দ্বান্দ্বিক তত্ত্বের কথা এক্ষেত্রে বিশেষ করে উল্লেখ করা প্রয়োজন। দ্বান্দ্বিক তত্ত্ব হলো বিকাশের গভীরতম, পূর্ণতম, একদেশদর্শিতা বর্জিত তত্ত্ব। তবে জার্মান দর্শনে এই দ্বান্দ্বিক তত্ত্ব মাথা নিচে বা পা ওপরে করে দাঁড়িয়েছিল। দ্বান্দ্বিক তত্ত্বকে সঠিক অবস্থানে নিয়ে আসার ঐতিহাসিক ভূমিকা মার্কসই পালন করেছিলেন।

মার্কসের পূর্বে অর্থশাস্ত্রের বিকাশ ঘটেছিল তৎকালীন সর্বাধিক অগ্রসর পুঁজিবাদী দেশ ইংল্যান্ডে। অ্যাডাম স্মিথ ও ডেভিড রিকাডো মূল্যের শ্রম তত্ত্ব প্রকাশ করেন। বুর্জোয়া অর্থনীতিবিদদের সব থেকে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল এই যে তারা পণ্যের সাথে পণ্যের বিনিময়ের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। মানুষের মধ্যেকার সম্পর্কের বিষয়টি তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছিল।

সামন্ততন্ত্রের পতনের পর মুক্ত দুনিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মেহনতী মানুষের ওপর পীড়ন ও শোষণের নতুন ব্যবস্থাই হলো পুঁজিবাদ। সমাজতান্ত্রিক মতবাদ নানাভাবে উপস্থিত হতে শুরু করে। শোষণহীন ও মুক্ত সমাজই হলো সমাজতন্ত্র। কিন্তু এই সমস্তই ছিল ইউটোপীয় সমাজবাদ। পুঁজিবাদী সমাজের সমালোচনা করেছে তার অবসান ঘটিয়ে এক উন্নততর সমাজ ব্যবস্থার কল্পনা করলেও কি উপায়ে তা প্রতিষ্ঠিত হবে সেই পথ দেখাতে পারেনি এই ইউটোপীয় সমাজতন্ত্রের তত্ত্ব।

মার্কসীয় মতবাদের তিনটি অঙ্গ

দর্শন, অর্থনীতি ও শ্রেণীসংগ্রামের তত্ত্ব- এই তিনটি অঙ্গ নিয়ে মার্কসবাদ

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিক থেকে বস্তুবাদই একমাত্র সঙ্গতিপরায়ণ দর্শন হিসাবে দেখা দিয়েছে। বস্তুবাদ প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সমস্ত সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ বিশ্বস্ত এবং কুসংস্কার, ভন্ডামির তা চরম শত্রু। মার্কসীয় দর্শন শুধুমাত্র বস্তুবাদই নয়, দ্বান্দ্বিক তত্ত্বের সাথে তাকে যুক্ত করেছেন। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ হলো মার্কসীয় দর্শন। আধুনিক বিজ্ঞানের সমস্ত আবিষ্কারের দ্বারা দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ সমর্থিত হয়েছে।

মার্কসীয় অর্থনীতির মধ্য দিয়ে কি করে পুঁজিবাদী উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টি হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করে দেখানো হলো। পুঁজির কাছে শ্রমিকদের পরাধীনতা বাড়িয়ে তোলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। তার ফলেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সম্মিলিত শ্রমের শক্তি গড়ে ওঠে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় উৎপাদনের নৈরাজ্য, সঙ্কট, বাজারের জন্য প্রতিযোগিতা এবং জনসাধারণের ব্যাপক অংশের মধ্যে জীবনধারণের অনিশ্চয়তা অবশ্যম্ভাবী। সামাজিক উৎপাদন ও ব্যক্তিগত পুঁজিবাদী মালিকানা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মৌলিক দ্বন্দ্ব।

মার্কসীয় মতবাদকে শ্রেণীসংগ্রামের তত্ত্ব বলেও অনেক সময়ে অভিহিত করা হয়। সমস্ত নৈতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বচন ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতির পেছনে কোন না কোন শ্রেণীর স্বার্থ রয়েছে। শোষকশ্রেণীর স্বার্থ এবং শোষিতশ্রেণীর স্বার্থ। শোষিতশ্রেণীর সংগ্রামই একমাত্র শোষকশ্রেণীর প্রতিরোধকে চূর্ণ করতে পারে। পুরাতনের উচ্ছেদ ও নতুনের সৃষ্টি শ্রেণীসংগ্রামের মধ্য দিয়েই সম্ভব। প্রলেতারিয়েতের জয়লাভ ঘটাবে শ্রেণীসংগ্রাম।

একজন দক্ষ ও বিপ্লবী নেতা

দুনিয়াটাকে পরিবর্তিত করার লক্ষ্য নিয়ে মার্কস তার মতবাদ প্রতিষ্ঠায় অগ্রসর হয়েছিলেন। তাই বিপ্লবী তত্ত্বের সাথে সাথে বিপ্লবী সংগ্রাম সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। কমিউনিস্ট লিগ, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন এই সমস্ত সংগঠন গড়ে তোলা ও তা পরিচালনায় তিনি ছিলেন কর্ণধার। শ্রমিকশ্রেণীকে সংগঠিত করা ছিল তাঁর সমগ্র জীবনের লক্ষ্য।

বর্তমান সময়ে মার্কসবাদের প্রাসঙ্গিকতা

আমরা এই সময়ে কার্ল মার্কসের জন্মের দ্বিশতবর্ষ, ক্যাপিটাল প্রথম খন্ডের ১৫০বছর এবং নভেম্বর বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন করছি। এগুলির ঐতিহাসিক প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা বোঝার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাথায় রাখতে হবে সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের পরিবর্তন ঘটে গেছে। কার্ল মার্কসের সময়কালে অর্থাৎ ঊনবিংশ শতাব্দীতে পুঁজিবাদ ছিল শিল্পপুঁজি নির্ভর। ফরাসি বিপ্লবে সামন্ততন্ত্রকে উচ্ছেদ করে পুঁজিবাদ যখন ক্ষমতায় আসে তখন শিল্পপুঁজি ছিল প্রতিযোগিতামূলক। কিন্তু বিংশ শতাব্দীতে প্রবেশ করে লগ্নিপুঁজির একচেটিয়া যুগ প্রতিষ্ঠা পায়। পুঁজিবাদের সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রের মৌলিক ৫টি বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা করেছিলেন লেনিন। তিনি দেখিয়েছিলেন, সাম্রাজ্যবাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জন্য কেন যুদ্ধ অনিবার্য। তিনি এটাও দেখিয়েছিলেন যে, সাম্রাজ্যবাদী শৃঙ্খলের দুর্বলতম অংশে আঘাত করে অপেক্ষাকৃত পশ্চাৎপদ রাশিয়ায় সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে গৃহযুদ্ধে পরিণত করে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব করা সম্ভব। আর একবিংশ শতাব্দীতে এখন আমরা যে পুঁজিবাদকে দেখতে পাচ্ছি তাকে উগ্র উদারবাদী অর্থনীতি বলতে পারি যেখানে পুঁজি শুধু উদ্বৃত্ত মূল্য আত্মসাৎ করে নয়, সরাসরি লুটের মাধ্যমে মুনাফা করছে। পুঁজিপতি, শাসকদল ও রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে আঁতাত গড়ে এই লুটপাট চলছে যাকে আমরা ক্রোনি ক্যাপিটালিজম বা সোজা কথায় ধান্দার পুঁজিবাদ বলছি। এটাই বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলা প্রবণতা।

আমরা যারা মার্কসবাদী তারা জানি অর্থনীতিই সমাজের মূল কাঠামো তৈরি করে এবং সেই কাঠামোর ওপরে নির্ভর করেই সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি নানা উপরিকাঠামো গড়ে ওঠে। যদিও উপরিকাঠামোও কাঠামোর ওপরে প্রভাব ফেলে। একথা স্পষ্ট করে বলা যায় যে, দুনিয়াজোড়া এই লুটের অর্থনীতির কাঠামোর ওপরেই উপরিকাঠামোয় রাজনীতিতে একটি নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দেশে দেশে চরম দক্ষিণপন্থা ও স্বৈরতন্ত্রের উত্থান দেখা যাচ্ছে। এদের উত্থানকে অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এই চরম দক্ষিণপন্থীরা মানুষের সমর্থন পেতে জনমোহিনী স্লোগান                                                                   ব্যবহার করছে। পোস্ট ট্রুথ যুগে অসত্যের নির্মাণ করা হচ্ছে এই লক্ষ্যে। অসত্য নির্মাণ এমনভাবে করা হচ্ছে যাতে বহু মানুষ কিছু পাওয়ার আশা করছেন, আবার স্বৈরতন্ত্রের বিরোধিতা করলে সেই সুযোগ হারানোরও ভয় করছেন। বিশ্বজুড়ে এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন ধনকুবের কেন মানুষের সমর্থন পেলেন? ব্রিটেনের মানুষ কেন ব্রেক্সিটের পদক্ষেপকে সমর্থন করলেন? এর উত্তর রয়েছে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে। প্রায় এক দশক আগে শুরু হওয়া বিশ্ব আর্থিক সংকট এখনও বহাল রয়েছে। উন্নত পুঁজিবাদীদেশগুলির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার এখনও সংকটের পূর্বের স্তরে পৌঁছাতে সমর্থ হয়নি। আন্তর্জাতিক লগ্নিপুঁজির নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়ন তাই পুঁজিবাদী সঞ্চয়ের বর্বর পদ্ধতিকে তীব্রতর করেছে। একে নয়া উদারবাদের সংকট বলা যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট সমগ্র বিশ্বে এবং দেশে দেশে অর্থনৈতিক অসাম্যকে বৃদ্ধি করেছে। ১৯৮০ সালের তুলনায় বিশ্বের ওপরের ১ শতাংশের আয় দ্বিগুণ হয়েছে। অক্সফামের রিপোর্টে এখন তা ৮২শতাংশ। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হারও নিম্নমুখী। এসবের ফলে ক্রমাগত গণঅসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গণঅসন্তোষ বৃদ্ধি পেলেও শক্তিশালী বাম শক্তির অনুপস্থিতির কারণে দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলিই তাকে কাজে লাগাচ্ছে। মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়, ইউরোপের দেশগুলিতে অতি দক্ষিণপন্থী ও নয়া-ফ্যাসিবাদী শক্তির বৃদ্ধি এই প্রবণতাকে চিহ্নিত করছে। ইউরোপের দেশগুলির পার্লামেন্টের সদস্যদের এক-তৃতীয়াংশ এখন নয়া ফ্যাসিবাদের প্রতিনিধি। অন্যদিকে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব যা স্তিমিত ছিল তাও নতুন করে মাথা চাড়া দিচ্ছে। ফ্রাঙ্কো জার্মান পুঁজির সঙ্গে ব্রিটিশ পুঁজির বিরোধ দেখা দিচ্ছে। ব্রিটেনের ব্রেক্সিটের ঘটনা এই দ্বন্দ্বকে সামনে এনেছে। ট্রাম্পের নীতির সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য পুঁজিবাদী কেন্দ্রগুলির সংঘাতও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে যেখানে বামপন্থীরা সংগ্রামের সামনের সারিতে সেখানে দক্ষিণপন্থী ও নয়া-ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধও দেখা যাচ্ছে।

বামপন্থীদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রিটিশ সংসদীয় নির্বাচনে জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে লেবার পার্টি বাম মঞ্চ গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বার্নি স্যান্ডার্সের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাইপ্রাসে বামপন্থীদের শক্তি বৃদ্ধি ঘটেছে। ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাম মোর্চার প্রার্থীর সমর্থনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রিসে সাইরিজা, স্পেনে পোডেমসের মতো শক্তিগুলির সমর্থন বৃদ্ধি বামপন্থার প্রতি সমর্থন বৃদ্ধিকেই ইঙ্গিত করছে। লাতিন আমেরিকার নিকারাগুয়া থেকে ভেনেজুয়েলা সহ অন্যকিছু দেশে বামপন্থীরা জয়ী হয়েছেন। যদিও সেখানে বামপন্থীরা আগের মতো শক্তিশালী অবস্থানে নেই।

তারপরও মার্কসীয় মতাদর্শের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। কেননা বিপ্লব জরুরি এবং সেটা হতে হবে মার্কসীয়-লেনিনীয় মৌলিকতার উপর ভিত্তি করে আর দেশীয় ইতিহাস, সমাজ এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সমন্বয় করে। পৃথিবীতে আজ সবগুলো সমাজ বিপ্লবের ক্ষেত্রে এই সূত্রায়ন প্রযোজ্য। মার্কসের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকীতে সেই কাজটিকেই এগিয়ে নেওয়া হবেই প্রত্যেক মার্কসবাদী-লেনিনবাদীর কর্তব্য।

-অনিন্দ্য আরিফ

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest