মোঃ রাসেল ইসলাম, বেনাপোল প্রতিনিধি: ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ভারতে পাচার হওয়া বাংলাদেশী ১৮ তরুনী ও ১ শিশুকে পাচারের দুই থেকে তিন বছর পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ফেরত পাঠিয়েছেন ভারত সরকার। বুধবার ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বিশেষ ট্রাভেল পারমিট প্রক্রিয়ায় বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত বাংলাদেশিরা হলেন, আয়েশা (২৭) স্বপ্না (২৪) সুলতানা (২২) রিনা (২৩) রুমা (২০) শান্তা (১৬) রুপা (১৫) হালিমা (২০) নাজমা (২৪) মারিয়া (১৭) হালিমা বেগম (১৬) ইতি (১৫) রিক্তা (১৭) আশা (২২) নাছিমা (১৭) আদুরী (২৩) ডলি (২৮) রিনা (২৫) ও শিশু আব্দুল্লাহ (২)
ফেরত আসাদের বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইল, বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, যশোর , সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার বিভিন্ন গ্রামে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, এরা সীমান্তের বিভিন্ন পথ দিয়ে গত ২ থেকে ৩ বছর আগে ভারতে পাচার হয়। ভারতের মোম্বাই শহরে এরা বাসাবাড়ির কাজ করার সময় সে দেশের পুলিশের হাতে আটক হয়ে আদালতের মাধ্যমে রেসকিউ ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি শেল্টার হোমে আশ্রয় নেয়। এরপর দুদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় চিঠি চালাচালির এক পর্যায় তাদের বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে দিয়ে ফেরত দিয়েছে ভারত সরকার।
রাইটস যশোরের তথ্য ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা তৌফিদ আহম্মেদ জানান, দুই থেকে তিন বছর আগে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে এরা দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারতে যায়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে অদালতে সোপর্দ করে। সেখান থেকে ভারতের রেসকিউ ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও সংস্থা তাদের ছাড়িয়ে নিজেদের কাছে রাখে। পরে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ক্রমে ট্রাভেল পারমিট প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত আনা হয়।

সেখান থেকে মটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে শহরের নিউ মার্কেটস্থ শহীদ আলাউদ্দিন চত্বরে পৌছে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সদ্য কারামুক্ত জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নান। এসময় তিনি বলেন, “স্বাধীনতা দিবসের জনসভায় এমপি রবির নেতৃত্বে যুবলীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছিলো। এমপি রবি সাতক্ষীরায় যুবলীগকে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এমপি রবি কখনো আওয়ামীলীগের লোক হতে পারে না। সে আওয়ামীলীগের লোক হলে যুবলীগের ছেলেদের বুকে কোপ মারতে পারতো না। আমাকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে এমপি রবি। আমার পরিবারের একটি ব্যক্তিও আওয়ামীলীগের বাইরে অন্য কোন দলের রাজনীতি করে না। আমার বড় ভাই একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা। তিনি শ্রমিকলীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক। আমি ১৯৮২ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, যুবলীগের রাজনীতি করে আসছি। ১৯৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় এমপি রবি’র ভাই মহি আলম স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে ছাত্রসমাজের হয়ে আমাদের ছাত্রলীগ যুবলীগের মিছিলে হামলা চালিয়েছিলো। ১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৭-০৮ সালের আন্দোলনের সময় কোথায় ছিলো এমপি রবি ও তার ভাইয়েরা? আমরা রাজপথে থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার জন্য জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছি। আর আজ এমপি রবি আমাকে যুবলীগ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। আমি তাকে দুইশত বছর সময় দিলাম পারলে আমাকে যুবলীগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখাক। আপনারা সবাই জানেন, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামীলীগের জনসভায় আমি যখন বক্তব্য রাখছিলাম তখন এমপি রবির হুকুমে আমর উপর আক্রমণ করা হয়। অথচ কি নির্লজ্জ্ব, কি বেহায়া আমার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মিথ্যা মামলা করেছে। আমার সাতক্ষীরা জেলার যুবলীগের সকল নেতাকর্মী যারা আমাকে মুক্ত করার জন্য মিছিল করেছেন, মিটিং করেছেন তাদের সকলের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় যুবলীগকে আরো সংগঠিত করুন। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী করার জন্য যুবলীগকে কাজ করতে হবে। সাতক্ষীরায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রী তাকেই মনোনয়ন দেবেন যিনি নেতাকর্মীদের পাশে থাকেন, জনগণের পাশে আছেন। জনবিচ্ছিন্ন কাউকে নেত্রী আর মনোনয়ন দেবেন না।”
