সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে জনসভা- গণমিছিলের মধ্য দিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুতালা–কলারোয়ার উন্নয়নে ঐক্যের ডাক হাবিবুল ইসলাম হাবিবেরআদালত চত্বরে কেরোসিন ঢেলে মাটি চাপা দেওয়া হলো জব্দকৃত হরিণের মাংসসাংবাদিক আকরামুলের উপর হামলা : সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দাপাইকগাছায় বাসস চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীনের উদ্যোগে দশ গ্রামের দুস্থদের মাঝে তিন সহস্রাধিক কম্বল বিতরণবিএনপি থেকে ডা: শহীদুল আলম বহিস্কারসংগ্রামের গল্পে ঢাবি জয় দিহানেরতালায় লার্নিং শেয়ারিং ওয়ার্কশপসাতক্ষীরায় ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার : ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৮সাতক্ষীরায় খাদ্য মোড়কে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবিতে স্মারকলিপি

পদ্মা সেতুতে বসল তৃতীয় স্প্যান

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর তৃতীয় স্প্যান বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হল এ স্প্যান।

তৃতীয় স্প্যানটি বসানোর কারণে ৪৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতু।

আজ রবিবার সকাল থেকেই শুরু হয় স্প্যান বসানোর আনুষঙ্গিক কাজ। সকাল ৯টার দিকে পিলারের ওপর স্প্যান বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় প্রায় অর্ধ কিলোমিটারের সেতু। এর আগে গতকাল শনিবার বিকেলে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যান নিয়ে ভাসমান ‘তিয়ান ই’ ক্রেনটি ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের কাছে পৌঁছায়। এই ক্রেনের ধারণ ক্ষমতা তিন হাজার ৬০০ টন।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের একটি ভাসমান ক্রেন দিয়ে মাওয়া থেকে জাজিরার প্রান্তে স্প্যানটি আনা হয়। গতকাল শনিবার রাতে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি আসে। এমন ৪১টি স্প্যান জোড়া দিয়েই সেতুটি তৈরি হবে।

ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকেই স্প্যানটি ইয়ার্ড থেকে বের করে রাখা হয় ক্রেনে তুলতে।

তবে সব প্রস্তুতি শেষ করতে আরো কয়েকদিন সময়ের প্রয়োজন ছিলো, তাই মাওয়া থেকে এটি নির্ধারিত পিলারের কাছে নিয়ে যাওয়া শুরু হয় শুক্রবার। ৩২শ টন ওজনের স্প্যানটি নিয়ে যেতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৬শ টন ওজন বহনে সক্ষম ভাসমান ক্রেন।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের মধ্যে পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান এবং ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারের মধ্যে দ্বিতীয় স্প্যানটি বসানো হয়। ৩ মাসের ভেতরই বসলো তৃতীয় স্প্যানটি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্ভেয়ার (সিএসসি) মীর ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, রবিবার ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের উপর তৃতীয় স্প্যানটি বসানো হলো। চতুর্থ স্প্যানটিও বসানোর মতো অবস্থায় আছে। যার মধ্য দিয়ে রচিত হবে ৬.২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতু।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মার্ক্স ভেবে পশ্চিমবঙ্গে মধুসূদনের মূর্তি ভাঙচুর

ভারতে মূর্তি ভাঙা, কালি মাখানো চলছেই। এবার বিশ্ববরেণ্য কমিউনিষ্ট নেতা কার্ল মার্ক্স ভেবে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তর মূর্তিতে কালি লাগিয়ে, নাক ভেঙে দিয়ে গেল দুষ্কৃতকারীরা। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের রাণিগঞ্জের রামবাগান এলাকায়।

গতকাল শনিবার সকালে এ দৃশ্য দেখে হতবাক সেখানকার বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য মাইকেল আবার কী দোষ করলেন! উনি তো কোনও রাজনৈতিক দলের না? কবি মানুষ ছিলেন। এলাকার কয়েকজনের বক্তব্য, মাইকেলকে কার্ল মার্ক্স ভেবে রঙ লাগিয়ে, মূর্তির নাক ভাঙা হয়েছে। একই রকম দাড়ি  দেখে সম্ভবত ভুল করেছে হামলাকারীরা।
রানিগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে কারা এ কাজ করেছে। জানা গেছে, শুক্রবার রাতে কয়েকজন এসেছিল। তারা কারা দেখছে পুলিশ। ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় সিপিএম সরকারের পতনের পর সেখানে লেনিনের মূর্তি ভাঙা দিয়ে শুরু। তারপর কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, কেরলে গান্ধী মূর্তি, উত্তরপ্রদেশে বি আর আম্বেদকরের মূর্তি ভাঙা হয়েছে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আগরদাড়ীতে ইটভাটার লেবারদের মারপিটের ঘটনায় মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ন্যায্য মজুরির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করায় ইটভাটার লেবারদের মারপিটের ঘটনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সকালে আবাদের হাট এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন, শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শওকাত আলী। এসময় বক্তব্য রাখেন, আগরদাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হবি, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক, সদর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পেশাজীবি পরিষদের সদস্য সচিব সেলিম হোসেন প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যারা সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে তাদের নায্যা মজুরি না দিয়ে মারপিট করা কোন মানুষের পরিচয় হতে পারে না। তারাও মানুষ জীবিকার তাগিতে তারা শরীরের রক্ত পানি করে। অথচ তাদের মজুরির বেলায় কেন কৃপণতা। শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি চাওয়ায় তাদের মিথ্যা নাশকতার মামলা দেওয়ার হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা অবিলম্বে শ্রমিকদের মারপিটের ঘটনায় জড়িতে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি ও শ্রমিকদের ন্যায্যা মজুরি প্রদানের জন্য উর্দ্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য : ন্যায্য মজুরির দাবিতে গত ১০ মার্চ স্থানীয় ইটভাটার শ্রমিকরা মিলে ৩০ মিনিটের কর্মবিরতী পালন করে। এসময় ইটভাটা সরদার বাশঘাটা গ্রামের মানু সরদার, গদাঘাটা এলাকার শরিফুল ইসলাম, বেতলা গ্রামের রেজাউল ইসলাম ও বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের জিয়াদ আলীসহ কয়েকজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে শ্রমিকদের উপর হামলা করে। এসময় তারা শ্রমিক জালাল গাজী, বাবলু, সালাউদ্দিন, ইকবাল হোসেনসহ কয়েকজন শ্রমিককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। শ্রমিকদের জামায়াত-শিবিরের নাশকতার মিথ্যা মামলা আটক করার হুমকি প্রদর্শন করে। এঘটনায় সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রবিবার শ্রমিকদের সাথে মানববন্ধন করে। মানববন্ধন শেষে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির জন্য সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পদ্মশাখরা সীমান্ত থেকে ৫ পিস স্বর্ণের বারসহ আটক-১

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতে পাচার কালে সাতক্ষীরার পদ্মশাখরা সীমান্ত থেকে ৫ পিস স্বর্ণের বারসহ এক চোরাবারীকে আটক করেছে বিজিবি। রোববার সকালে সদর উপজেলার পদ্মশাখরা সীমান্ত উক্ত স্বর্ণ চোরাকারবারীকে আটক করা হয়। আটক স্বর্ণ চোরাকারবারীর নাম হাসানুর রহমান (২৩)। তিনি সদর উপজেলার লক্ষিদাড়ী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
ভোমরা বিওপির কমান্ডার সুবেদার শফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভারতে পাচারের জন্য চোরাকারবারীদের একটি গ্রুপ স্বর্ণের একটি চালান পদ্মশাখরা সীমান্তে নিয়ে আসছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে স্বর্ণ চোরাকারবারী হাসানুরকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৫ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো জানান, উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন ৬৫ ভরি ১২ আনা। যার মূল্য ২৯ লাখ ৯১ হাজার ৬২৫ টাকা।
সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল সরকার মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আজও জামিন শুনানি হলো না খালেদার

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামীকাল সোমবার দিন ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন দুপুর ২টা এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জামিনের বিষয়ে আদেশের জন্য করা আবেদনটি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আজকের কার্যতালিকায় ছিল।

হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রোববার সকালে আদেশে বলেন, ‘নট টুডে’।

পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর আদেশের জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আবেদন গ্রহণ করে আজ আদেশের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। তবে নথি না আসায় আদেশের দিন একদিন পেছানো হলো।

আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘পারিবারিক লীগে’ এমপি ফুলে ফেঁপে; কেন্দ্রে দলীয় নেতাদের অভিযোগনামা

অনলাইন ডেস্ক: তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ২৫ বছর ধরে। স্ত্রীকে বানিয়েছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। একমাত্র ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক। ছেলের শ্বশুর অর্থাৎ বেয়াইকে বানানো হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। আর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাঁর ভায়রা।
এই পারিবারিক রাজনীতির কেন্দ্রে যিনি রয়েছেন সেই তিনি বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক তাঁর চাওয়াতেই জেলা, উপজেলা আওয়ামী লীগ কিংবা সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে অনেককে। এর মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে আয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে মালিক হয়েছেন বিপুল বিত্ত-বৈভবের। এমপি শম্ভুর বিরুদ্ধে দলের কেন্দ্রে এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির ২৪টি লিখিত অভিযোগ করেছেন খোদ আওয়ামী লীগের স্থানীয় অন্য নেতারা।
সম্প্রতি এমপি শম্ভুর অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাঁকে বয়কট করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতিসহ জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। আর গত ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে এমপি শম্ভুর অনিয়ম-দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ করেন জেলা আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বরিশাল বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচবার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ এ আসন থেকে চারবার এমপি হয়েছেন অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। একবার খাদ্য উপমন্ত্রী এবং আরেকবার নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
দলীয় নেতাদেরই অভিযোগ, কতিপয় দুর্নীতিবাজ নেতাকর্মীর যোগসাজশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী থেকে শুরু করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এমপি শম্ভু। কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) আর টেস্ট রিলিফসহ (টিআর) ৪০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধ্যতামূলকভাবে মোট বরাদ্দের এক-তৃতীয়াংশ ঘুষ দিতে হয় তাঁকে। আর তাঁর ছেলে সুনাম দেবনাথ জেলার মাদক কারবারের নেতৃত্ব দিয়ে এরই মধ্যে ‘মাদকসম্রাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এলাকায়।
তা ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও পরে উপমন্ত্রী থাকাকালে প্রভাব খাটিয়ে এমপি শম্ভু মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লেখান। ২০০৩ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তিনি সাময়িক সনদ (সনদ নং ম-৩৩৭৭১। স্মারক নং ১৭৮। তারিখ ৪-৮-২০০৩) নেন। তবে মিলিশিয়া ক্যাম্পে তাঁর নাম নেই এবং তাঁকে কেউ মুক্তিযুদ্ধ করতেও দেখেননি বলে মুক্তিযোদ্ধাদেরই ভাষ্য।
দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর লিখিত অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মেয়র ও চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দলীয় নেতাদেরই লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে জেলা সভাপতিকে। ঘুষ না দেওয়ায় দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন সম্ভাবনাময় অনেক যোগ্য নেতা। আবার মনোনয়ন পেয়েও দাবি অনুযায়ী ঘুষ না দেওয়ায় কারচুপির মাধ্যমে তাঁকে পরাজিত করা হয়েছে।
বরগুনা জেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও এমপি শম্ভুর ‘ওপেন সিক্রেট চক্রান্তের’ কারণে ধনাঢ্য এক ব্যবসায়ীর কাছে পরাজিত হন বলে অভিযোগ। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে উপজেলা, এমনকি জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জেলা আওয়ামী লীগের গণ্ডি পেরিয়ে যা দলের কেন্দ্রেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে আমাকে ঠকানো হয়েছে। অথচ এমপি শম্ভুর সব নির্বাচনে প্রধান এজেন্ট হিসেবে শতভাগ বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করে তাঁকে আমরা বিজয়ী করেছি।’
জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক স্বপন বলেন, ‘বরগুনা সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলাম। দলীয় ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে আমাকে সেই নির্বাচনে ঠকানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির চলমান অনিয়ম, দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি দেখা করে আমরা অভিযোগ জানিয়েছি। আমরা সবাই এখন প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছি।’
আওয়ামী লীগ নেতারা আরো অভিযোগ করেন, দেড় কোটি টাকার বিনিময়ে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটিতে ঢাকার বিএনপিপন্থী এক ব্যবসায়ীর নাম অন্তর্ভুক্ত করেন সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক বলেন, ‘বিএনপি হোক আর আওয়ামী লীগ হোক, এমপি শম্ভুর কাছ থেকে টাকা ছাড়া কেউ কোনো বিষয়ে প্রতিকার পায়নি। বিশেষ করে তাঁর ছেলে সুনাম দেবনাথের মাদক বাণিজ্যের বিষয়ে এর আগেও অনেকবার আমরা কথা বলেছি; কিন্তু ক্ষমতার প্রভাবের কারণে আমরা কোনো প্রতিকার পাইনি।’
এমপি শম্ভুর অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও তরুণ শিল্পপতি মশিউর রহমান সিহাব বলেন, এমপি শম্ভু ও তাঁর মাদকাসক্ত পুত্র সুনাম দেবনাথের নজিরবিহীন নিয়োগ বাণিজ্য, মাদক বাণিজ্য আর দখল, জবরদখলসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা বলতে গিয়ে তিনি একাধিকবার শম্ভু বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ালী উল্লাহ অলি বলেন, অনেক বছর ক্ষমতায় থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কলকাতার সল্টলেক এবং ঢাকার গুলশানে একাধিক বাড়ি-গাড়ি করেছেন এমপি শম্ভু। এসব বিষয়ে কথা বললেই ‘সাম্প্রদায়িকতার’ অভিযোগ দিয়ে তিনি তাঁর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা চালান।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, ‘এমপি শম্ভুর দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে এত দিন অভ্যন্তরীণভাবে আমরা কথা বলেছি। কিন্তু যখন দেখলাম জননেত্রী শেখ হাসিনার এত অর্জন, দেশের মানুষের জন্য তাঁর এত সেবা, সব কিছুই ম্লান হয়ে যাচ্ছে একজন ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে। সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের কোনো সেবাই যখন পয়সা ছাড়া পাচ্ছিল না তখন আমরা সবাই একযোগে এর প্রতিবাদ করতে বাধ্য হয়েছি।’
জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও বরগুনা পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান বলেন, ‘এমপি শম্ভুর সব দুর্নীতির বিষয় এখন ওপেন সিক্রেট। তাঁর এসব অনিয়মের দায় আমরা নিতে পারি না। এসব অনিয়মের দায় বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ বা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও নিতে পারে না। তাই বাধ্য হয়ে সাংগঠনিকভাবে আমরা প্রতিবাদ করেছি।’ মুক্তিযুদ্ধে না গিয়েও এমপি শম্ভুর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বরগুনায় আমরা যারা সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধ করেছি তারা কেউই তাঁকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে দেখিনি। তা ছাড়া এমপি শম্ভুও এর আগে কখনো নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো তালিকায় তাঁর নামও ছিল না। পরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কারচুপির মাধ্যমে সর্বশেষ তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব মৃধা বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে হাই স্কুল, কলেজ, এমনকি মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগ থেকেও কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এমপি শম্ভু। কাবিখা, টিআর আর ৪০ দিনের কথা বলাই বাহুল্য।’ তিনি আরো বলেন, ‘এমপি শম্ভুর পোষ্য কতিপয় দুর্নীতিবাজ নেতা রয়েছে, যাদের মাধ্যমে কৌশলে তিনি এসব উেকাচ সংগ্রহ করে থাকেন।’ প্রভাব খাটিয়ে বরগুনা উপজেলা পরিষদের সামনের ঐতিহ্যবাহী একটি দিঘি দখল করে প্রায় এক একর জমিতে এমপি শম্ভু একটি বাংলোবাড়ি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন মোতালেব মৃধা।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ‘এমপি শম্ভু ও তাঁর মাদকাসক্ত ছেলের সব অনিয়ম-দুর্নীতি আর মাদক বাণিজ্যের কথা এখন বরগুনার প্রতিটি বালুকণাও জানে। এত অনিয়ম-দুর্নীতির পরও রহস্যজনকভাবে বারবার মনোনয়ন পেয়ে আসছেন ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা অনেকেই তাঁর সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু এখন তাঁর দুর্নীতির বাঁধ ভেঙে গেছে। বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তির কথা চিন্তা করে এখন আর প্রতিবাদ না করে পারছি না।’
এমপি শম্ভুর বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এমন কোনো সেক্টর নেই যে যেখান থেকে তিনি উৎকোচ নেননি। তাঁর এসব দুর্নীতির কথা বলতে গিয়েই আমি দীর্ঘদিন দলের বাইরে ছিলাম।’ তিনি আরো বলেন, “২০০৭ সালের ‘মাইনাস টু’ পরিকল্পনায় কোরাইশীর পিডিবির সঙ্গে প্রত্যক্ষ লবিং করেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেন শম্ভু।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ হতেই পারে। অভিযোগের সত্য-মিথ্যা থাকতেই পারে। তবে তা সবার আগে জেলা কমিটির সভায় আলোচনা হওয়া উচিত। সেখানে কোনো প্রতিকার না হলে তার পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ যেতে পারে। কিন্তু জেলা কমিটির কোনো সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি অথচ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ হলো। এসব কাদা ছোড়াছুড়ি ছাড়া আর কিছুই নয়। এতে সামগ্রিকভাবে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, যে যা-ই করুক, তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে সম্ভব সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে এমপি শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথ বলেন, ‘এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমাদের পারিবারিক সুনামকে ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি চক্র এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।’ উল্টো তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কয়েক দিন আগে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের নেশাগ্রস্ত অবস্থার একটি ছবি যার প্রমাণ বলে তিনি দাবি করেন।
তবে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসাইন বলেন, ‘এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথের মাদক বাণিজ্যের বিষয়ে কথা বলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁরা আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এমপি শম্ভুর বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বরিশাল বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তবে তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দুই পক্ষকে ঢাকায় ডেকে এনে বিরোধ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় ইউপি সচিব সমিতি’র সভাপতি কালাম, সেক্রেটারি আমিনুর

কলারোয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি’র (বাপসা) নির্বাচন ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সাতক্ষীরা জেলা বাপসা সমিতির সভাপতি সিরাজুর রহমান, সহ.সভাপতি কবিরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান নির্বাচন পরিচালনা করেন।

নির্বাচনের ফলাফলে আবুল কালাম ৫ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আনিছুর রহমান ৪ ভোট পান।
আমিনুর রহমান ৭ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি আজমীর আলম ১ ভোট পান।

এছাড়া কন্ঠভোটে সহ.সভাপতি তাজমীর আলম, কোষাধ্যক্ষ আবু সুফিয়ান নির্বাচিত হয়েছেন।

সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জাহাঙ্গীর হোসেন, আব্দুল হামিদ, রেজাউল ইসলাম ও মনগেষ কুমার সাধু।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
হজযাত্রী সেবার নামে বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ!

হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতিবারই সরকারি চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের কেউ কেউ সৌদি আরব যাওয়ার জন্য অনৈতিক নানা পথ বেছে নেন। কেউ আবার নিজ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। গত বছর এমন পরিস্থিতি নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টি হয়। এবার এমন পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এমনকি প্রথমবারের মতো নিজস্ব মন্ত্রণালয়ের চাকরিজীবীদের জন্য তৈরি করেছে ‘হজযাত্রী স্বাস্থ্যসেবা নীতিমালা-২০১৮’।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি এ হজযাত্রী স্বাস্থ্যসেবা নীতিমালা জারি করা হয়। গত দুই-তিন দিন হলো তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য অধিদপ্তরে জানাজানি হয়।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, “ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘হজ ও ওমরা নীতি’ নামে একটি নীতিমালা রয়েছে। তবু আগের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে হজযাত্রী স্বাস্থ্যসেবা নীতিমালা-২০১৮ প্রণয়ন করেছি। আশা করি, এই নীতিমালার আওতায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপযুক্ত জনবল নিয়েই হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা টিম গঠন হবে।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে এতটাই বিশৃঙ্খলা ছিল যে আমাদের মন্ত্রণালয়ের লোকজন এই মন্ত্রণালয়ের কোনো রকম অনুমোদন না নিয়ে, না জানিয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশে চলে যাচ্ছিল। এটা তো হতে পারে না।’
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে হজযাত্রীরা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ই-মেডিক্যাল প্রফাইল তৈরি, বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক দেওয়া, কারো শারীরিক অযোগ্যতা শনাক্ত হলে সেই যাত্রীকে অনুপযুক্ততার সনদ দেওয়ার কাজগুলো ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ‘হজ ও ওমরা নীতি’ অনুসারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দল গঠনের বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্যসেবা দল’ বলতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মরত সরকারি চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মচারী সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দল বা চিকিৎসা সহায়তা দলকে বোঝাবে। সৌদি আরবে হজযাত্রীর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চাহিদার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা দল গঠন করে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
নীতিমালা অনুসারে এবার থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চাহিদা পাওয়ার পর ১৫ দিনের সময় দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরগুলো নিজ নিজ দপ্তরের আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন জমা দেওয়ার নোটিশ করবে। আগ্রহীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন দাখিল করবেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ওই আবেদন বিবেচনা সাপেক্ষে অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠাবে। পরে একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একটি কমিটি ওই তালিকা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে তা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। ওই কমিটি মনোনীতরা চূড়ান্ত হজ স্বাস্থ্যসেবা দল বলে গণ্য হবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ওই কমিটির সভাপতি, একই বিভাগের যুগ্ম সচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা) সদস্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাদের প্রতিনিধিরা এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।

নীতিমালায় বলা হয়, একবার কেউ হজ স্বাস্থ্যসেবা দলে সৌদি গিয়ে থাকলে তিনি পরেরবার আবেদন করতে পারবেন না। মনোনীত কোনো চিকিৎসক, নার্স বা অন্যরা কোনোভাবেই পরিবারের অন্য কাউকে সঙ্গে নিতে পারবেন না বা একত্রে অবস্থান করতে পারবেন না। আবেদনকারীর বয়স ৩৫-৫৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। আর চিকিৎসকদের মধ্যে উপজেলার বা তার নিচের পর্যায়ে কর্মরতদের এই দলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest