সর্বশেষ সংবাদ-
সংগ্রামের গল্পে ঢাবি জয় দিহানেরতালায় লার্নিং শেয়ারিং ওয়ার্কশপসাতক্ষীরায় ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার : ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৮সাতক্ষীরায় খাদ্য মোড়কে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবিতে স্মারকলিপিসাতক্ষীরায় দুর্ধর্ষ ডাকাত ইয়ার আলীর দুই সহযোগী গ্রেফতারসাতক্ষীরা‌র গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে‌ পিআইবির দুই দিনের নির্বাচনকালীন প্রশিক্ষণসাতক্ষীরায় -৭নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৮ দফার বার্তাসাতক্ষীরা জেলা রোভার স্কাউটসের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতাসাতক্ষীরায় তারেক রহমানের ৮ দফার লিফলেট ছড়িয়ে দিল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’সাতক্ষীরায় রাইচ মিলের কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে অতীষ্ট এলাকাবাসী: ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সড়ক অবরোধ

আবারও রোনালদোর ঝলকে কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল

চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ চার বছরে তিনবার শিরোপা জেতা রিয়াল মাদ্রিদকে থামাতে পারলো না প্যারিস সেন্ত জার্মেই। তাদেরকে বিদায় করে টানা অষ্টমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা।

রিয়ালের মাঠে প্রথম লেগ হারলেও ঘুরে দাঁড়াতে মানসিকভাবে সব ধরনের বন্দোবস্ত করে রেখেছিল উনাই এমেরির দল। প্রাণভোমরা নেইমারের শূন্যতা যেন চাপ না ফেলে, সেই প্রস্তুতিও ছিল তাদের। দর্শক সমর্থকদের উত্তাপের আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল ম্যাচের  একদিন আগে থেকেই। কিন্তু কোনও কিছুতেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৩-১ গোলে হারের ক্ষত সারাতে পারলো না পিএসজি। আবারও তারা দেখলো রোনালদোর ঝলক। মঙ্গলবার পার্ক দে প্রিন্সেসে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগ রিয়াল জিতলো ২-১ গোলে। দুই লেগে ৫-২ গোলের অগ্রগামিতায় চ্যাম্পিয়নস লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো গত দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।
প্যারিসে প্রথম ৪৫ মিনিট তেমন ভালো কাটেনি স্বাগতিকদের। রিয়ালের বিপক্ষে মাত্র তিনটি শট নিতে পেরেছে তারা, যেটা ঘরের মাঠে ২০১৫ সালের অক্টোবরের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে কম।

এগিয়ে না থাকায় আফসোস নিয়ে বিরতিতে যেতে হয় কাইলিয়ান এমবাপেকে। ৪৩ মিনিটে ডিবক্সে ঢুকে মাঝে থাকা এদিনসন কাভানিকে পাস না দিয়ে নিজেই শট নেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। তাকে লক্ষ্যভেদ করতে দেননি কেইলর নাভাস। কয়েক মুহূর্ত আগে আনহেল দি মারিয়ার প্রচেষ্টা বিফল করে দেন রিয়াল গোলরক্ষক।

পিএসজির মতো সুযোগ নষ্টের মাশুল দিয়েছিল রিয়ালও। ১৮ মিনিটে কর্নার থেকে মার্কো আসেনসিও বল পাঠান স্বাগতিকদের গোলপোস্টের বেশ কাছে। তীব্র গতির শট নেন সের্হিয়ো রামোস, কিন্তু রিয়াল অধিনায়কের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন আরেওলা। পিএসজির এই গোলরক্ষকের কারণে করিম বেনজিমা ৩৮ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। ৩৮ মিনিটে মার্সেলোর দূরপাল্লার শট স্বাগতিকদের রক্ষণ ফাঁকি দেয়, বেনজিমা একা আরেওলাকে পেলেও ব্যর্থ হন। পিএসজি গোলরক্ষক বাঁ পা বাড়িয়ে দিয়ে বলের গতিপথ পাল্টে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি নতুন উদ্যোমে খেলা শুরু করে। ৫০ মিনিটে কাভানির বাঁ পায়ের শট ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে। পরের মিনিটেই স্বাগতিক দর্শকদের নিস্তব্ধ করে দেন রোনালদো। ৫১ মিনিটে দানি আলভেস পায়ে বল রাখতে পারেননি। আসেনসিও বল দেন ভাসকেসকে, তার বিপজ্জনক ক্রস থেকে ব্যাকপোস্টের সামনে দাঁড়ানো রোনালদো শক্তিশালী হেডে জালে জড়ান।

এই গোলেই চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৯ ম্যাচে গোল করলেন রোনালদো। ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রুড ফন নিস্টলরয় একই কৃতিত্ব গড়েছিলেন। ডাচ ফুটবলারের গোল ছিল ১২টি, আর পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর ১৪টি।

পিছিয়ে পড়া পিএসজি ৬৬ মিনিটে হয়ে যায় ১০ জনের। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয় মার্কো ভেরাত্তিকে। একজন কম নিয়ে খেললেও ৫ মিনিট পরই আশা জাগানিয়া গোল পায় স্বাগতিকরা। ৭১ মিনিটে পাস্তোরের হেড রিয়ালের ডিফেন্ডার রুখে দিলেও ফিরতি শটটি কাভানির গায়ে লেগে জালে জড়ায়। তার দুই মিনিট আগে মার্সেলোর ক্রসে আসেনসিওর ভলি গোলপোস্টে লাগলে রিয়ালের ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি।

অবশ্য ৮০ মিনিটে রিয়াল পিএসজির শেষ আশাও ভেস্তে দিয়েছে আরেকবার এগিয়ে গিয়ে। কাসেমিরোর ক্রস র‌্যাবিওট বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হন, রোনালদো আলতো ছোঁয়ায় ফিরতি পাস দেন তাকে। এবার ঠিক লক্ষ্যভেদ করেন কাসেমিরো। ৮২ মিনিটে রোনালদোর শট পোস্টে লাগলে প্রথম লেগের মতো ৩-১ গোলে জিততে পারেনি রিয়াল।রিয়ালের সঙ্গে একই দিন কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিভারপুল। এনফিল্ডে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগ তারা গোলশূন্য ড্র করেছে পোর্তোর সঙ্গে। প্রথম লেগ ৫-০ গোলে জেতায় এই ড্র কোনও বাধা তৈরি করেনি তাদের সামনে। দুই লেগে ৫-০ গোলের অগ্রগামিতায় ২০০৯ সালের পর প্রথমবার শেষ আটের টিকিট কাটলো ইংলিশ ক্লাবটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারির পরও সহিংসতা অব্যাহত

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারির পরও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মধ্য শ্রীলঙ্কার একটি দোকান ও একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মুখে সহিংসতা ঠেকাতে ক্যান্ডিতে কারফিউ জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। তারপরও ক্রমবর্ধমান সহিংসতার আশঙ্কায় সারাদেশে ১০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংঘাতকবলিত ক্যান্ডি শহরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

কান্ডি শহরের পাশের মাদাওয়ালা গ্রামে এক বাসিন্দা বলেন, প্রেসিডেন্ট মাথ্রিরিপালা সিরসেনা জরুরি অবস্থা ও কারফিউ জারি করার কয়েক ঘণ্টা পরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার সময় তিনি একটি দোকান পুড়তে দেখেন। মোহাম্মদ মানাজির নামে ওই ব্যক্তি আল জাজিরাকে বলেন, একটি ভবনে আগুন দেওয়ার খবর শুনে আমি বাইরে বিষয়টি দেখতে যাই। আমি সেখানে বিশাল অগ্নিশিখা দেখতে পাই। দোকানটি একজন মুসলিম বাসিন্দার ছিল।

মানাজির আরও বলেন, মাদাওয়ালা আর কোনও বড় ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এখন পুলিশ ও সেনাবাহিনী ওই এলাকার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দল আগুন নিভিয়ে ফেলেছে।

স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দাঙ্গাকারীরা কান্ডির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওয়াত্তেগামা গ্রামে একটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে।

কলম্বোভিত্তিক ওই অনলাইন সংবাদমাধ্যমটি টুইটারে দরজার ভাঙা কাঁচ ও ভাঙা চেয়ারের কিছু ছবি পোস্ট করেছে। তারা একটি অডিও বার্তাও প্রকাশ করেছে, যেখানে এক ব্যক্তি দাবি করছেন হামলার সময় তিনি মসজিদের ভেতরে ছিলেন। কন্ঠটি বলছিল, দাঙ্গাকারীরা মসজিদটিতে হামলা করেছে। পুলিশ গুলি করছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কোনও মন্তব্য করেনি।

শ্রীলঙ্কার কান্ডিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সিনহালা সম্প্রদায়ের দাঙ্গাকারীরা মসজিদ, মুসলিমদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানগুলোতে হামলা শুরুর পর সরকার সেখানে সেনা মোতায়েন করেছে। এক সপ্তাহ আগে মুসলিমদের পিটুনিতে এক বৌদ্ধ নাগরিকের ‍মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতা শুরু হয়।

সংঘর্ষ ঠেকাতে সোমবার কান্ডিতে কারফিউ জারি করেছিল পুলিশ। বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়। এরপর মঙ্গলবার একটি পুড়ে যাওয়া ভবন থেকে এক মুসলিম নাগরিকের লাশ উদ্ধারের পর ১০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট সিরসেনা।

প্রেসিডেন্ট সিরসেনা বলেন, জরুরি অবস্থায় দেশের কিছু অংশে বিরাজমান অসন্তোষজনক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। সমাজে অপরাধ কর্মকাণ্ড মোকাবিলা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় ২ কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার ৭৫ শতাংশ বৌদ্ধ, ১০ শতাংশ মুসলিম ও ১৩ শতাংশ হিন্দু। এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালের জুনে দেশটিতে মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারণার কারণে রক্তক্ষয়ী আলুথগামা দাঙ্গা শুরু হয়। ওই সময়ে শত শত মুসলমান গৃহহীন হয়ে পড়েন। তাদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাথ্রিপালা শিরসেনা ২০১৫ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর ওই ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই তদ্ন্ত প্রতিবেদনের কোনও অগ্রগতি হয়নি।

শ্রীলঙ্কার উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের অভিযোগ, দেশটিতে মুসলমানরা বৌদ্ধদের বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করছে। তারা বৌদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোতে ভাঙচুর করছে। কিছু পর্যবেক্ষক চলমান সহিংসতার জন্য কট্টর বৌদ্ধ সংগঠন বোদু বালা সেনা’কে (বিবিএস) দায়ী করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় ট্রাকচাপায় কিশোর নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ট্রাকের চাপায় মো. আব্দুল্লাহ (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাবুলখালি বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আব্দুল্লাহ একই উপজেলার উত্তর ক্ষেত্রপাড়ার মো. বাবলুর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে জয়নগরে যাত্রা দেখে বাড়ি ফেরার পথে বাবুলখালি বাজারে পৌঁছলে পাথর বোঝাই একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এ সময় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার আমজাদ আ.লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য হলেন

কলারোয়া প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য মনোনীত হয়েছেন কলারোয়ার সন্তান ও বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম আমজাদ হোসেন।
সোমবার আওয়ামীলীগের সভেনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক পত্রে এসএম আমজাদ হোসেনকে কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এসএম আমজাদ হোসেন কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের নাকিলা গ্রামের মৃত দাউদ আলী সরদারের পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন যাবত আ.লীগ এবং দলটির অংগ ও সহযোগি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে রয়েছেন।
এদিকে, সাবেক ছাত্রনেতা এসএম আমজাদ হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লী‌গের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-ক‌মি‌টির সদস্য মনোনীত করায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান তুহিন, সেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক শেখ আশিকুর রহমান মুন্না, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতা এ্যাডভকেট আশরাফুল আলম বাবু, জাহাঙ্গীর আলম লিটন, কেরালকাতা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ সরদারসহ কেরালকাতা ইউনিয়নের আ.লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য সংগঠন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অতিরিক্ত সচিব দস্তগী‌র ও তার স্ত্রী সাতক্ষীরার বিচারক হোস‌নে আরার সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুদক

ন্যাশনাল ড‌েস্ক: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এএসএম এমদাদুদ দস্তগীর ও সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তারের কাছে সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (৬ মার্চ) দুদকের উপ-পরিচালক ঋত্বিক সাহা স্বাক্ষরিত আদেশে তাদের সম্পদের বিবরণী জমা দিতে বলা হয়। ইতোমধ্যে এই দম্পতির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দুদকের আদেশে উল্লেখ রয়েছে, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে নিজের ও তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্থাবর ও অস্থাবর সব সম্পদের বিবরণী দুদকে জমা দিতে হবে এএসএম এমদাদুদ দস্তগীর ও হোসনে আরা আক্তারকে। নির্ধারিত সময়ে তা দিতে ব্যর্থ হলে কিংবা মিথ্যা তথ্য দিলে আইনের ধারা ২৬-এর ২ উপধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এএসএম এমদাদুদ দস্তগীর ও হোসনে আরা আক্তারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আসার পর প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে। এবার তাদের সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়েছে। হোসনে আরা আক্তার নারায়ণগঞ্জের জেলা জজ ছিলেন।’

আদেশ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সচিব এএসএম এমদাদুদ দস্তগীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুদকের নোটিশ আমি এখনও হাতে পাইনি। এটি দেখলে জানতে পারবো কী চাওয়া হয়েছে। নোটিশ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনও কথা বলা ঠিক হবে না।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন এখনো চলছে: জাতিসংঘ কর্মকর্তা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞ এখনো চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের এক ঊর্ধ্বতন মানবাধিকার কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব অ্যান্ড্রু গিলমুর বলেন, ছয়মাস আগে রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমনাভিযানের মুখে দলে দলে রোহিঙ্গারা গ্রামছাড়া হওয়ার পর আজো সেই ভয়াবহতায় ছেদ পড়েনি। রোহিঙ্গাদের অনাহারে রেখে মারা হচ্ছে।

কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে টানা চারদিনের পরিদর্শন শেষে তিনি কথাগুলো বলেন।

এক বিবৃতিতে গিলমুর বলেন, ”রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার এখনো জাতিগত নিধন ও সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি নিজের চোখে যা দেখেছি এবং শরণার্থী শিবিরে আশ্রিতদের মুখ থেকে যা শুনেছি, তারপর আমার মনে হয় না যে একথা বলা ছাড়া আর কিছু বলার আছে।”

শরণার্থী শিবিরগুলোতে মিয়ানমার থেকে সদ্য পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার পর গিলমুর বলেন, “শুধু নির্যাতনের ধরন পাল্টেছে। গত বছর রাখাইনে উন্মত্ত রক্তপাত, হত্যা ও ধর্ষণযজ্ঞ চলেছিল। আর এখন সেখানে রয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জোর করে অনাহারে রেখে, ভয়ভীতি দেখিয়ে ও ত্রাস সৃষ্টি করে মিয়ানমার তাদেরকে বাংলাদেশে পালাতে বাধ্য করার ফন্দি এঁটেছে বলেই মনে হচ্ছে।”

বাংলাদেশের সঙ্গে গতবছর নভেম্বরের একটি চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত বলে আসলেও রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের খুব শিগগিরই নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে এবং স্থায়ীভাবে সেখানে প্রত্যাবাসন ‘অসম্ভব’ বলেই মনে করেন জাতিসংঘের এ মানবাধিকার কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “মিয়ানমার সরকার খুব করিৎকর্মা হয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত বলে জানাচ্ছে। অথচ,  তাদের সেনারা এখনো ঠিকই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালাতে বাধ্য করে যাচ্ছে।”

মিয়ানমারে গত বছর ২৫ অগাস্ট সীমান্তের ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে সেনা অভিযান শুরু হয়।

মিয়ানমার সরকার একে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান’ বললেও জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা দেশগুলো একে ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান বলে আসছে।

এ অভিযান শুরুর পর গত ছয় মাসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের কেউ কেউ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বা পোড়া ক্ষত শরীরে বয়ে নিয়ে এসেছে।  কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া এসব রোহিঙ্গার ভাষ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক নির্যাতন-নিপীড়নের চিত্র উঠে আসে।

মিয়ানমারের সেনা এবং স্থানীয় বৌদ্ধরা সেখানে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট চালানোসহ বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন মিনায়মার সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল ঘোষণার প্রথম ৭ই মার্চ আজ

আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা অবিস্মরণীয় গৌরবের এক অনন্য দিন। সুদীর্ঘকালের আপসহীন আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক উত্তাল জনসমুদ্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বঙ্গবন্ধুর এই তেজদৃপ্ত ঘোষণাই ছিল প্রকৃতপক্ষে আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে গত বছর অক্টোবরে জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই এবার অনেকটা জাঁকজমকপূর্ণভাবে দিবসটি পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

দিবসটি পালনে আজ বুধবার অপরাহ্নে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, এবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চে আরেকটি ইতিহাস গড়তে চায় আওয়ামী লীগ। ভাঙতে চায় লোক সমাগমের অতীতের সকল রেকর্ড। এজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি ক্ষমতাসীনদের। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভাও এটি। এ জনসভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দিক-নির্দেশনামূলক বার্তা দিবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল নেতাকর্মীদের গাইডলাইনও দেওয়া হবে। জানা গেছে, এবারের জনসভায় ১৫ লাখ মানুষের উপস্থিতির টার্গেট নেওয়া হয়েছে। জনসভা সফল করতে গত তিন দিন ধরে ঢাকা মহানগরীতে লিফলেট বিতরণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এছাড়া আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতি-বিজড়িত ৭ই মার্চ উপলক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ ভোর সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণ থেকেই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ১৯৬৬’র ৬-দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচনের পর যখন বাংলার জনগণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনা শুনতে অধীর আগ্রহে বসেছিল, তখনই ১৯৭১ সালের এই দিনে তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত করার জন্য দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। সেদিন উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাংলার মুক্তিকামী জনতার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু- আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ভাষণে বঙ্গবন্ধু আরো বলেন, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক রেসকোর্সে এ ভাষণ যখন দিচ্ছিলেন ঠিক ওইদিনই ঢাকায় এসে পৌঁছান জেনারেল টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আলোচনার অন্তরালে সামরিক প্রস্তুতিই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সেই ভাষণ এ দেশের জনগণকে দারুণভাবে আন্দোলিত করে। ৭০’র ঐতিহাসিক নির্বাচনে বাংলার মানুষের ভোটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনার আড়ালে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহার কারণে বাংলার মুক্তকামী মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সামরিক বাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ৬ মার্চ পর্যন্ত ঘোষিত হরতাল, অসহযোগ আন্দোলন চলে। ৩রা মার্চ অনুষ্ঠিত পল্টনের জনসমাবেশে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ৬ মার্চের মধ্যে যদি সরকার তার অবস্থান পরিবর্তন না করে তাহলে ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পরাধীনতার দীর্ঘ প্রহর শেষে পুরো জাতি যখন স্বাধীনতার জন্য অধীর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই ঘোষণা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক সেই ৭ই মার্চের জনসভা। গত ৪/৫ দিনের ঘটনাবলীতে বিক্ষুব্ধ মানুষ নতুন কর্মসূচির অপেক্ষায় ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু জনসভায় আসতে একটু বিলম্ব করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হবে কি হবে না, এ নিয়ে তখনো রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে নেতৃবৃন্দের মধ্যে। বেলা ঠিক সোয়া ৩টায় সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি ও মুজিব কোট পরিহিত বঙ্গবন্ধু যখন মঞ্চে ওঠেন তখন বাংলার বীর জনতা করতালি ও স্লোগানের মধ্যে তাঁকে অভিনন্দন জানান। মঞ্চ থেকে বঙ্গবন্ধু যখন জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন তখন পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লাখ লাখ বাঙালির ‘তোমার দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ, তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। এরপর বঙ্গবন্ধু ২২ মিনিট তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠতম এবং ঐতিহাসিক ভাষণ শুরু করেন।

আজ থেকে ৪৬ বছর আগে অগ্নিঝরা একাত্তরের এইদিনে বঙ্গবন্ধুই ছিলেন একমাত্র বক্তা। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পূর্বে আ স ম আব্দুর রব, নুরে আলম সিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজ, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ নেতা মঞ্চ থেকে মাইকে নানা ধরনের স্লোগান দিয়ে উপস্থিত জনতাকে উজ্জীবিত রাখেন।

বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের বয়স ৪৬ বছর। সময়ের বিবর্তনে অনেক কিছুই কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। বিকৃতির নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রের আবহে বদলে ফেলার চেষ্টা হয়েছে স্বাধীনতার অনেক ইতিহাস। কিন্তু এ ৪৭ বছরে অনেক কিছুই বদলে গেলেও বদলানো যায়নি শুধু ২২ মিনিটের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সেই ভাষণটি। বিশ্বের অনেক মনীষী বা নেতার অমর কিছু ভাষণ আছে। বিশ্বের মধ্যে এই একটি মাত্র ভাষণ, যা যুগের পর যুগ, বছরের পর বছর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেজে চলেছে কিন্তু ভাষণটির আবেদন এতটুকু আজও কমেনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভারতকে  হারিয়ে শুরু শ্রীলঙ্কার

জয়ের জন্য লক্ষ্য ১৭৫ রান। জমজমাট লড়াইয়ের ইঙ্গিত। তবে ভারতের বিপক্ষে এই রান তাড়া করা শ্রীলঙ্কার জন্য বর্তমান সময়ে অনেকটাই অসম্ভব ব্যাপার বলে মনে হওয়ার কথা; কিন্তু চন্ডিকা হাথুরুসিংহের অধীনে যে দলটা বদলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে, সেটা তো দেখাই যাচ্ছে। সুতরাং, লড়াই হলো এবং সেই লড়াইয়ে জিতলো স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাই। জয়ের জন্য ১৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৯ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের ব্যবধানে জয় তুলে নিল লঙ্কানরা।

৭০তম জাতীয় দিবসকে সামনে রেখে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড আয়োজন করেছে এই নিদাহাস ট্রফি। যেখানে স্পষ্ট ফেভারিট ভারত। বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনিসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার ছাড়াও রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন দলটি সত্যিই অনেক শক্তিশালী।

কিন্তু শ্রীলঙ্কাও যে কম যায় না সেটা দেখিয়ে দিল তারা। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শিখর ধাওয়ানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান করে ভারত। ৪৯ বলে ৯০ রানের ইনিংস খেলেন ধাওয়ান। ৬টি করে বাউন্ডারি এবং ছক্কার মার মারেন তিনি।

এছাড়া মানিস পান্ডে করেন ৩৫ বলে ৩৭ রান। ঋষাভ পান্ত করেন ২৩ বলে ২৩ রান। দিনেশ কার্তিক ৬ বলে করেন ১৩ রান। লঙ্কানদের মধ্যে দুষ্মন্তে চামিরা নেন ৩৩ রান ২ উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন নুয়ান প্রদীপ, জীবন মেন্ডিস এবং গুনাথিলাকা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে কুশল মেন্ডিস শুরুতেই আউট হয়ে যান। দানুসকা গুনাথিলাকা এবং কুশল পেরেরা ভালো জুটি গড়েন। যদিও ১২ বলে ১৯ রান করে আউট হন গুনাথিলাকা। ৩৭ বলে ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন পেরেরা। ৬টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৪টি ছক্কার মার ছিল তার ব্যাটে।

এছাড়া চান্ডিমাল ১৪, থারাঙ্গা ১৭ রান করে আউট হন। দাসুন সানাকা ১৮ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ মুহূর্তে ভারতীয় বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন থিসারা পেরেরা। ১০ বলে তিনি করেন ২২ রান। ২টি বাউন্ডারির সঙ্গে ১টি ছক্কাও মারেন তিনি। মূলত তার এই ছোট্ট ঝড়ই শ্রীলঙ্কাকে জয় এনে দেয়। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ওয়াশিংটন সুন্দর এবং ইউযবেন্দ্র চাহাল নেন ২টি করে উইকেট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest