ভারত নিয়ন্ত্রিত জুম্মু কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন জঙ্গিসহ ২০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ সেনা সদস্যও রয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে ৪ সাধারণ নাগরিকেরও।
উপত্যকার সোপিয়ান জেলার ড্রাগড় ও কাচদুড়া এবং অনন্তনাগ জেলার দিয়ালগাম এলাকায় তিনটি জায়গায় সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে এদিন জঙ্গিদের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদেরও সামলাতে হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীকে। দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা যখন ইঁট-পাথর ছোঁড়ে তখন নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকেও ফাকা গুলি ছোঁড়া হয় এবং পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। এতে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়।
পুলিশ সূত্রের খবর শনিবার মধ্য রাত থেকে অনন্তনাগের পেঠ দিয়ালগাম এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলা বর্ষণ শুরু হয়, তা চলে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। জঙ্গিদের অবস্থানের কথা জানার পরই ওই তিন জায়গায় যৌথ অভিযান চালায় জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)-এর সদস্যরা। দিনের শেষে ১৩ জন জঙ্গি সহ বিশ জন নিহত হয়। অনন্তনাগের দিয়ালগাম এলাকা থেকে এক জঙ্গিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন নিহত ১৩ জঙ্গির মধ্যে সোপিয়ান জেলার ড্রাগড়ে সাত জন এবং ওই জেলারই কাচদুড়া এলাকায় পাঁচ জন এবং বাকীজন নিহত হয়েছে অনন্তনাগ জেলার দিয়ালগামে। সংঘর্ষে তিন সেনাসদস্যও শহীদ হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে বহু মানুষ ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসার কারণে ড্রাগড়ে একজন এবং কাচদুড়াতে তিন জন সাধারণ নাগরিক গুলি বিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
সন্ধ্যায় পুলওয়ামায় অবন্তীপোরাতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে সেনাবাহিনীর শ্রীনগর ভিত্তিক ১৫ কর্পসের কমান্ডার লে. জেনারেল এ.কে.ভাট জানান ‘আজকের দিনটি আমাদের সকল নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বিশেষ দিন’।
এদিকে ১৩ জঙ্গি ও ৪ সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় আগামীকাল উপত্যাকায় হরতালের ডাক দিয়েছে উপত্যাকার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি। এদিন সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে হুরিয়ত সংগঠনের মুখপাত্র জি.এ.গুলজার জানান ‘দক্ষিণ কাশ্মীরে নিহত ও মানুষের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় আগামীকাল আমাদের যৌথ নেতৃত্ব সম্পূর্ণ বন্ধের ডাক দিয়েছে। বুলেট ও পেলেট গানে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে’।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত ২৬ মার্চ সাতক্ষীরা নিউ মার্কেটে পৌর আওয়ামীলীগের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য প্রদানের জন্য পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নানের নাম প্রস্তাব করেন। এসময় পিছন দিক থেকে কতিপয় নেতা উস্কানী ও কুটুক্তিমূলক কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে আব্দুল মান্নানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এর জের ধরে দু-গ্র“পের নেতাকর্মীদের মধ্যে চেয়ার ছুড়াছুড়ি হয়। এসময় পৌর যুবলীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন অনু, সাধারণ সম্পাদক তুহিনুর রহমান তুহিন, মিলন, ইয়ারুলসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। সেখানে ককটেল বা কোন কিছু বিস্ফোরণের ঘটনার কোন প্রমাণ নেই। যা নিউ মার্কেট মোড়ের সিসি টিভির ফুটেজ দেখলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। এছাড়া ধীরে ধীরে পত্রিকায় ওই দিনের সত্য ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে। উক্ত ফুটেজ দেখে এবং তদন্তপূর্বক জেলা যুবলীগের আহবায়ক মান্নানকে মুক্তিসহ সকল নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন, শ্যামনগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি গোলাম মোস্থফা সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, কালিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিজয় ঘোষ, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সাধারন সম্পাদক প্রভাষক মইনুল ইসলাম, কলারোয়া যুবলীগের সভাপতি কাজী সাহাজাদা, তালা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার জাকির ও কাজী সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হিল্ললসহ সকল উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।
