জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চাওয়া হয়েছে হাইকোর্টে। ওই জামিন আবেদনের ওপর রোববার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

হাইকোর্টের রোববারের কার্যতালিকায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি ৩৬ নম্বরে রয়েছে। দুপুর ২টায় আপিল ও জামিন আবেদনের শুনানি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। পাশাপাশি স্থগিত করেন তার অর্থদণ্ড।

হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। খালেদার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এ জে মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

এর আগে, ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল (আপিল নম্বর ১৬৭৬/২০১৮) করেন। আপিলের ফাইলিং আইনজীবী আবদুর রেজাক খান। ৪৪টি যুক্তি তুলে ধরে এ আপিল করা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

রায় ঘোষণার ১১দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পায়। অন্যদিকে, রোববার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার হাজিরার জন্য আবেদন করা হয়েছে। এ মামলায় তিনি রোববার পর্যন্ত জামিনে রয়েছেন।

খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে গত বৃহস্পতিবার বিচারিক আদালতে আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী। কিন্তু আবেদনের বিষয়ে আদালত কোনো আদেশ দেননি। আদালতের আদেশ না পাওয়ায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে পুলিশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেনি।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরের জন্য আবেদন করেছি। এখন তাকে হাজির করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

আদালতের পেশকার মোকাররম হোসেন বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুদক আবেদন করেছে। তবে আদালত এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরের জন্য বিচারকের অনুমতি লাগবে। তবে আদালত এখনও এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি বলেই জানি।

এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিয়ের সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পাকেলঘাটায় দু‌টি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১,আহত ৩

ন‌িজস্ব প্রতিবেদক:  পাকেলঘাটায় দু‌টি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে লিটন হোসেন (৩৫) নামে এক হেলপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়া‌রি) দিবাগত রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের তালা উপজেলার কুমিরা কলেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত লিটন হোসেন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার জুরকাটি গ্রামের মৃত খালিদ মৃধার ছেলে। আহতদের প‌রিচয় তাৎক্ষ‌ণিক পাওয়া যায়‌নি।

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের কুমিরা কলেজ এলাকায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠান। পতিমধ্যে চালকের সহকারী লিটনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফরহাদ জামিল বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত লিটনের মৃত্যু হয়েছে। আহত তিনজনের চিকিৎসা চলছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রখ্যাত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর অকাল মৃত্যু

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীদেবী আর নেই। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৫৪ বছর।

শনিবার দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে মারা যান জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

হিন্দি চলচ্চিত্রে প্রথম নারী সুপারস্টার হিসেবে বিবেচিত শ্রীদেবী ১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুরের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

মাওয়ালি, মিস্টার ইন্ডিয়া, চাঁদনী, তোহফাসহ বিপুল সংখ্যক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য বিপুল প্রশংসা পেয়েছেন শ্রীদেবী।

১৯৬৭ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় শ্রীদেবীর। এরপর তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র ছাড়াও তামিল, তেলুগু, মালয়ালম এবং কিছু সংখ্যক কন্নড় চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

২০১৩ সালে ভারত সরকারের তরফ থেকে তাকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস আজ

২৫ ফেব্রুয়ারি, আজ পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) হত্যা দিবস। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর-এর বিপথগামী সদস্যরা কতিপয় দাবি-দাওয়ার নামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্মম হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে পিলখানায় নারকীয় তাণ্ডব চালায়। ওই দু’দিনে তারা বাহিনীর তখনকার মহাপরিচালকসহ (ডিজি)৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও নারী ও শিশুসহ আরও ১৭ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর বাহিনীর নিজস্ব আইনে  বিচার করে অনেককেই বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ছাড়াও আরও  ৪২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। পরে গত বছরের (২০১৭) ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়। ৮ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চার জনকে খালাস দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। হাইকোর্টে আপিল চলার সময়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় দু’জনের মৃত্যু হয়। খালাস পান ১২ জন আসামি। নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে আপিল করেছিল, তাদের মধ্যে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া সাত বছর করে চারজনকে কারাদণ্ড এবং ৩৪ জনের খালাসের রায় বহাল রাখা হয়। এ মামলার সাড়ে ৮০০ আসামির মধ্যে আরও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন জজ আদালত। তাদের মধ্যে ১৮২ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, আট জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড, চার জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ২৯ জনকে খালাস দেন হাইকোর্ট।
বিভাগীয় মামলায় চাকরিচ্যুতসহ সাজা দেওয়া হয় আরও  অনেককে। ২০০৯ সালের নির্মম এ হত্যাযজ্ঞের পর পুরো বাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তবে বাহিনীর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কলঙ্কিত সেই ইতিহাস ও ক্ষত ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে এখনও। বিদ্রোহীদের হাতে নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচি
পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ ব্যক্তিদের স্মরণে রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শাহাদাত বার্ষিকী পালন করবে বিজিবি। দিনের কর্মসূচিতে রয়েছে, পিলখানাসহ বিজিবি’র সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় বাদ ফজর খতমে কোরান, বিজিবির সব মসজিদে এবং বিওপি পর্যায়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সকাল ৯টায় বনানীর সামরিক কবর স্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক (একত্রে) শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে  পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
পরদিন সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ আসর পিলখানার বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে শহীদ ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এছাড়া, স্বরাষ্ট্র সচিব, বিজিবি মহাপরিচালক, শহীদ ব্যক্তিবর্গের নিকটাত্মীয়, পিলখানায় কর্মরত সব অফিসার, জুনিয়র কর্মকর্তা, অন্যান্য পদবীর সৈনিক এবং বেসামরিক কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রাখাইনে রয়েছে মাত্র ৭৯ হাজার রোহিঙ্গা, বাংলাদেশে দশ লাখ
 মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের সহিংসতায় বিধ্বস্ত রাখাইন প্রদেশে দেশটির সেনাবাহিনীর ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে’ প্রায় ৯০ শতাংশ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। গত আগস্টে রাখাইন সঙ্কট শুরুর আগেও সেখানে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮ জন রোহিঙ্গা অবস্থান করেছিল। তবে রাখাইনে বর্তমানে মাত্র ১০ শতাংশ; অর্থাৎ ৭৯ হাজার ৩৮ জন রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সমন্বয়কারী সংস্থা ও রাখাইনের স্থানীয় প্রশাসনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিয়ানমারের স্থানীয় দৈনিক দ্য ইরাবতি বিশেষ এক প্রতিবেদনে শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

দ্য ইরাবতি বলছে, গত বছরের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলার পর রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের মুসলিম অধ্যুষিত মংডু, বুথিডং শহরের পাশাপাশি রাথেডং শহর থেকে রোহিঙ্গাদের ঢল প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে অাশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা রাখাইনে নিরাপত্তাবাহিনীর ধর্ষণ, হত্যা, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করছেন।

রাখাইনের মংডু, বুথিডং ও রাথেডং শহরের সাধারণ প্রশাসনিক বিভাগ (জিএডি) ও জাতিসংঘের শরণার্থী কল্যাণবিষয়ক সমন্বয়কারী সংস্থা ইউএনওসিএইচএ’র সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে রাখাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পরিসংখ্যান তৈরি করেছে ইরাবতি। মিয়ানমারের সেনা নিয়ন্ত্রিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে জিএডি। স্থানীয় প্রশাসনের তৈরিকৃত রাখাইনের রোহিঙ্গা পরিসংখ্যানে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত হিসেব রাখা হয়েছে।

ইউএনওসিএইচএ বলছে, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে নতুন করে ৬ লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন করা হয়েছে। এছাড়া মিয়ানমারে সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে গত তিন দশকে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে। এ রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছে।

রাখাইনে রয়েছে মাত্র ৭৯ হাজার রোহিঙ্গা

মংডু, বুথিডং ও রাথেডং শহরের সাধারণ প্রশাসনিক বিভাগ (জিএডি) বলছে, সর্বশেষ সঙ্কট শুরুর আগে রাখাইনে রোহিঙ্গা ছিল ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮ জন। মংডু জেলার জিএডি’র জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেছেন, রোহিঙ্গা ব্যাপারে এ পরিসংখ্যান ২০১৬ সালে সংগ্রহ করা হয়েছিল। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় মংডুর এই কর্মকর্তা নাম প্রকাশে রাজি হননি।

জিএডি ও ইউএনওসিএইচএ’র রোহিঙ্গা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রাখাইনের প্রায় ৯০ শতাংশ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে। এছাড়া পশ্চিম মিয়ানমারের তিনটি শহরে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ (৭৯ হাজার ৩৮ জন) রোহিঙ্গা।

তবে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা যে ৯০ শতাংশ রোহিঙ্গার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে; তার মধ্যে নিহত, নিখোঁজ অথবা গ্রেতারকৃতদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া দেশটির সেনা অথবা নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে অভ্যন্তরীণ বাস্ত্যুচুত, নিহত রোহিঙ্গা, আহত হিন্দু অথবা রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর মানুষকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এ পরিসংখ্যানে।

গত বছরের ৩১ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী ঘোষণা দেয়, তারা বিদ্রোহীগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সন্দেহভাজন ৩৭০ সদস্যকে হত্যা করেছে।

রাখাইনের সাধারণ প্রশাসনিক বিভাগের (জিএডি) পরিসংখ্যান বলছে, ‘মডু ও বুথিডংয়ের মোট জনগোষ্ঠীর যথাক্রমে ৯৩ ও ৮৪ শতাংশ রোহিঙ্গা। তবে রাথেডং শহরে মাত্র ৬ শতাংশ রোহিঙ্গার বাস।

রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলায় মংডু জেলার উপজাতি গোষ্ঠী ম্রো, থেট, হিন্দুসহ দেইঙ্গিত আরাকানিদের প্রায় ৩০ হাজার সদস্য গৃহহীন হয়েছে। তবে বৌদ্ধসহ বাস্ত্যুচুত অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা ইতোমধ্যে মংডু শহরে ফিরে গেছে। অন্যদিকে, বাস্ত্যুচুত হিন্দুরা এখনো সরকারি পুনর্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছে।

পরিচয়হীন রোহিঙ্গারা

জিএডি’র প্রতিবেদনে বাঙালি অথবা রোহিঙ্গা শব্দ দুটির কোনোটিই ব্যবহার করা হয়নি। এমনকি প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের রাখাইনের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী হিসেবেও উল্লেখ করেনি রাখাইনের এ স্থানীয় প্রশাসন। ২০১৬ সালে দেশটির নেত্রী অং সান সু চি রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের প্রতি আহ্বান জানান।

সু চির আহ্বানের পর জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান নেতৃত্বাধীন রাখাইনের অ্যাডভাইসরি কমিশনের প্রতিবেদনেও রোহিঙ্গা শব্দটি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়।

জিএডি’র প্রতিবেদনে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ‘বিদেশি’ এবং ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এছাড়া তাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে পাড়ি জমানো অবৈধ অভিবাসী বলে চিহ্নিত করা হয়। মংডু এবং বুথিডংয়ের জিএডির কর্মকর্তারা ‘বাংলাদেশি’ বলে ‘রোহিঙ্গা’ জনগোষ্ঠীকে নির্দেশ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে মসজিদ
মংডু শহরে প্রায় ৮৩৬টি মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাদরাসা এবং মসজিদ রয়েছে কি-না তা পরিষ্কার করেনি জিএডি। অন্যদিকে সেখানে বৌদ্ধদের ৮৪টি আশ্রম, ৬১টি প্যাগোডা এবং মন্দির রয়েছে।

এছাড়া বুথিডংয়ে মুসলমানদের ৪৪২টি, রাথেডংয়ে ৮৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এ দুই শহরে বৌদ্ধদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫ শতাধিক। মংডু জেলায় হিন্দুদের ১৭টি মন্দির ও খ্রিষ্টানদের একটি চার্চ রয়েছে।

বিশ্বাস নেই কারো ওপর

গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করেছেন মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লে. জেনারেল কিয়াও সোয়ে। বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিকভাবে তার হাতে ৮ হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা তুলে দিয়েছে; যাদেরকে ফেরত নেয়া হতে পারে। তবে এ তালিকায় আরসার কোনো সদস্য আছে কি-না তা শনাক্ত করতে চিরুনি চালাচ্ছে মিয়ানমার সরকার।

বিপরীতে রাথেডং এবং বুথিডংয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো লড়াই চলছে। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে থেকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মংডুর দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৩ হাজার ২০৬ জন। এছাড়া সমুদ্রের পাশে অপেক্ষা করছে আরো ৮০৪ জন।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশমুখী ঢল অব্যাহত রয়েছে; তারপরও রাখাইনের কিছু কিছু রোহিঙ্গা সেখানে অবস্থান করছেন। আব্দুল ওয়াহিদ তাদেরই একজন। রাখাইনের দুস্কৃতিকারীদের আগুনে তার বাড়ি-ঘর পুড়ে যাওয়ার পর বুথিডংয়ের দু ওও থ্যা মা গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। সরকারের তৈরি নতুন প্রকল্পে পুনর্বাসন মিলবে এমন আশায় এখনো সেখানে রয়েছেন এ রোহিঙ্গা।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাসঘাতক নই এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাথেডংয়ে বসবাস করছি। আমরা নিজেদের গ্রামে ফিরে যেতে চাই।’

তার মতো আরো ১৬০ রোহিঙ্গা দু ওও থ্যা মা গ্রামে বাঁচার লড়াই করছেন। গ্রামটিতে ৭০০ বাড়ি-ঘর রয়েছে। গত কয়েকমাসে সেখানে নতুন করে আরো প্রায় ৪০০ রোহিঙ্গা পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আব্দুল ওয়াহিদ বলছেন, তারা ছয়মাসে মাত্র দু’বার খাদ্য সহায়তা পান। এর মধ্যে একবার পান আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা রেডক্রস ও অন্যবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে। 

বাঁচার আকুতি জানিয়ে রাখাইনের বাস্ত্যুচুত আব্দুল ওয়াহিদ নামের এ রোহিঙ্গা বলেন, ‘অামরা এখানে খুবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। আপনি কি দয়া করে কর্তৃপক্ষকে একটু জানাবেন?

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনি প্রতাপনগরের গৃহবধু শরিফার মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনিতে ধর্মান্তরিত ওয়ালিউর রহমানের স্ত্রী শরিফা খাতুন (৩২) মৃত্যুবরণ করেছেন। শরিফা খাতুন আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের প্রতাপনগর গ্রামের আতিয়ার রহমানের কন্য।
নিহতের পিত্রালয় সূত্রে জানা গেছে, স্ট্রোক জনিত কারণে শনিবার বিকাল ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ৫ বছর পূর্বে শরিফার দ্বিতীয় বিয়ে হয় ধর্মান্তরিত মুসলিম ওয়ালিউর রহমানের সাথে। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও প্রথম স্বামীর সংসারের ১২ বছরের প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে পিত্রালয়ে বসবাস করে আসছিলেন।
জানা গেছে, শরিফার মৃত্যুর আগে সকালের দিকে তার চাচা ওয়াজিহার গাজী, (ওয়াজিহার গাজীর পুত্র) চাচাতো ভাই ও (ওয়াজিহার গাজীর স্ত্রী) চাচীর সাথে তার ঝগড়া হয়। তাদের ঝগড়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে শরিফার মৃত্যু হওয়ায় এলাকায় বিভিন্ন মহলে গুনজন শুরু হয়েছে। মৃত্যু স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে দেখা গেছে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত আমার কাছে কোন অভিযোগ আসে নাই।
নিহত শরিফার মামা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী জানান, “স্ট্রোক জনিত কারনে শনিবার বিকাল ৪টার দিকে তার ভাগনি শরিফার মৃত্যু হয়। শরিফার ভাই তার ভাগনা মাদ্রাসা সুপার ওবায়দুল্লাহকে কয়েক বছন পূর্বে তার চাচা ওজিয়ার গাজী দা নিয়ে মারার জন্য তাড়িয়ে নিয়ে যান। ঘটনার ২/ত বছর পরে স্ট্রোক জনিত কারনে শরিফার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। এর পর থেকেই তাদের পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল। সে কারনে হয়তো এ মৃত্যু নিয়ে এলাকায় গুনজন হচ্ছে।”
বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য শরিফার স্বামী নব মুসলিম ওয়ালিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৯৮৭-০৩৭৩৮২ তে একাধিক বার কল দিলেও ফোন রিসিভ হয়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়া বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের প্রয়াত অধ্যক্ষের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের প্রয়াত অধ্যক্ষ নজিবুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। শনিবার এ উপলক্ষে কলেজের আয়োজনে কলেজ চত্ত্বরে এক আলোচণা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কলেজ প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এমএ ফারুকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রয়াত অধ্যক্ষের বড় ভাই আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা আ.লীগের সদস্য আ.হ.ম. তারেক উদ্দীন, জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন, কলারোয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আরাফাত হোসেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা বাকশিসের সভাপতি তালা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান, কাজীরহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহবুবর রহমান, অধ্যাপক শাহিনুর রহমান,অসীম কুমার, প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক রামাকান্ত সরকার।
আলোচনা শেষে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাছির উদ্দীন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ভোটার ২৮৫ ভোট পড়েছে ৩০৩, গোয়ালডাঙ্গা বাজার কমিটির নির্বাচন!

আশাশুনি ব্যুরো/বড়দল প্রতিনিধি: আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন ব্যপক অনিয়মের মধ্য দিয়ে সম্পর্ণ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২ট পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও ভোট গ্রহণ করা হয়েছে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। ভোটার তালিকায় ২৮৫ জনের তালিকা থাকলেও ভোট পোল হয়েছে ৩০৩। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে নতুন ট্রেড লাইসেন্স করে ভোট দিয়েছে অনেকেই। সর্বশেষ দেখানো হয়েছে ৩০৩ জন ভোটারের সবাই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচনে পদাধিকার বলে বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান আঃ আলিম মোল্যা সভাপতি ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বি¦তায় মহিউদ্দীন ফকির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সহ-সভাপতি পদে মজিদ মোড়ল চেয়ার প্রতীকে ১৫২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল হান্নান ছাতা প্রতীকে পেয়েছেন ১৪৯ ভোট । অর্থ সম্পাদক পদে রফিকুল ইসলাম ফল্টু আনারস প্রতিক নিয়ে ২১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস গাজী হরিণ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯২ ভোট। সদস্য পদে মুকুল হোসেন জাম্বু ভ্যান প্রতীকে ২৬২ ভোট, শামিম রেজা ফুটবল প্রতীকে ২৬০ ভোট, হোসেন আলী খোকন আম প্রতীকে ২১৯ ভোট, শরিফুল ইসলাম ফুল মাছ প্রতীকে ১২৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইদ্রিস সানা টিউবওয়েল ১১১ ভোট ও রুহুল আমিন মোরক প্রতীকে ৯৫ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন প্রভাষক শান্তিলাল বিশ্বান ও প্রবীর বৈরাগী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন আশাশুনি থানার এসআই শাহ আব্দুল আজিজ ও এএসআই জহুরুল ইসলাম। এসময় বড়দল ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের, হাফেজ রুহুল আমিন, জিএম মোফিজুল ইসলাম, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, বি এম আলাউদ্দীন, মুকুল শিকারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা আশাশুনি থানার এসআই শাহ আব্দুল আজিজ জানান, প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের পরে ভোট গ্রহণ এবং নির্বাচন চলাকালে ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযুক্তির প্রস্তাব আসলে আমি সকল প্রার্থীদেরকে একত্রে ডেকে বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিলাম। পরবর্তীতে সকল প্রার্থীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের পরে ভোট গ্রহণ এবং নির্বাচন চলাকালে ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest